ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w26 মে পৃষ্ঠা ১৪-১৯
  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এক সঠিক সিদ্ধান্ত নাও

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এক সঠিক সিদ্ধান্ত নাও
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তোমার কি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়া উচিত?
  • কেন তুমি অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাও?
  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ভালো দিক ও খারাপ দিক
  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক দৃঢ় রাখো
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • শিক্ষা—তা যিহোবাকে প্রশংসা করতে ব্যবহার করুন
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • এক উদ্দেশ্যসহ শিক্ষা
    ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যুবক-যুবতীরা যারা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
w26 মে পৃষ্ঠা ১৪-১৯

জুলাই ২০-২৬, ২০২৬

গান ১৩৩ যৌবনে যিহোবাকে সেবা করা

অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এক সঠিক সিদ্ধান্ত নাও

“সতর্ক ব্যক্তি প্রতিটা পদক্ষেপের আগে চিন্তা করে।”—হিতো. ১৪:১৫, NW.

আমরা কী শিখব?

অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়া ঠিক হবে কি না, তা বোঝার জন্য আমরা কিছু বিষয় নিয়ে এবং বাইবেলের কিছু নীতি নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো একজন খ্রিস্টানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

১-২. (ক) অল্পবয়সিদের কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয়? (খ) “অতিরিক্ত শিক্ষা” নেওয়া বলতে কী বোঝায়? (“এটার মানে কী?” দেখুন।)

“বড়ো হয়ে তুমি কী হতে চাও?” তুমি যদি একজন অল্পবয়সি হয়ে থাক, তা হলে তোমাকে হয়তো এই প্রশ্নটা অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে। তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো কেরিয়ার হতে পারে পূর্ণসময় যিহোবার সেবা করা। কিন্তু, নিজের খরচ মেটানোর জন্যও তোমাকে কিছু করতে হবে। (২ থিষল. ৩:১০) তুমি নিশ্চয়ই এটা ভেবেছ যে, ভবিষ্যতে তুমি কোন ধরনের কাজ করতে চাও।

২ কিছু অল্পবয়সি ছেলে-মেয়ে চাকরি পাওয়ার জন্য স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর অতিরিক্ত শিক্ষাa নেওয়ার কথা চিন্তা করে আর এর জন্য তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনাও করে। তুমি হয়তো ভাবছ যে, তোমার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়া উচিত হবে কি না। তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাও, তা হলে কোন ধরনের শিক্ষা তুমি নেবে? এই প্রবন্ধে কিছু বাইবেলের নীতি দেওয়া রয়েছে, যেগুলো তোমাকে এই বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। যদিও এই প্রবন্ধটা বিশেষ করে অল্পবয়সিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, কিন্তু এটা সেইসমস্ত খ্রিস্টানকেও সাহায্য করতে পারে, যারা অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে। এ ছাড়া, এই নীতিগুলোর সাহায্যে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারবে।

তোমার কি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়া উচিত?

৩. কেন কিছু খ্রিস্টান অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার কথা চিন্তা করে?

৩ কোনো কোনো জায়গায় চাকরি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আবার কিছু জায়গায় অতিরিক্ত শিক্ষা নিলে একজন ব্যক্তি একটা ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারে অথবা তাকে কম ঘণ্টা কাজ করতে হতে পারে। একজন খ্রিস্টানের জন্য এই ধরনের কাজ ভালো কারণ এটা তাকে প্রচার কাজে এবং যিহোবার সেবার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কাজে আরও বেশি করে অংশ নিতে সাহায্য করবে। কিন্তু, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার জন্য একজন খ্রিস্টানকে বিভিন্ন ত্যাগস্বীকার করতে হবে এবং তাকে কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হবে।

৪. একজন খ্রিস্টান অতিরিক্ত শিক্ষা নেবে কি না, সেই বিষয়ে কে সিদ্ধান্ত নেবে? (পাদটীকাও দেখুন।)

৪ বাইবেল বলে, প্রত্যেক ব্যক্তি “নিজ নিজ ভার বহন করবে।” (গালা. ৬:৫) তাই, প্রত্যেক খ্রিস্টানকে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, সে অতিরিক্ত শিক্ষা নেবে কি না।b তবে, বাবা-মায়েদের এটা দেখার দায়িত্ব রয়েছে, তাদের অল্পবয়সি সন্তানেরা কতদূর পর্যন্ত পড়াশোনা করবে। (ইফি. ৬:১) এই ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা সন্তানদের সাহায্য করতে পারে, যাতে সন্তানেরা বড়ো হওয়ার পর অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এক ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।—হিতো. ২২:৬.

৫. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কখন একজন ব্যক্তির চিন্তা করা উচিত এবং কেন? ( ছবিও দেখুন।)

৫ সাধারণত অল্পবয়সিদের স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, তারা অতিরিক্ত শিক্ষা নেবে কি না। আসলে, একজন অল্পবয়সি যদি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আগে থেকে কথা বলে নেয় যে, অতিরিক্ত শিক্ষা সে নেবে কি না আর নিলে কোন ধরনের শিক্ষা নেবে, তা হলে এটা তার জন্য ভালো হবে। এর ফলে, তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে কোর্সের বিভিন্ন অপশন খোঁজার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে। আর তারা স্কুলে এমন সাবজেক্ট বেছে নিতে পারবে, যেটা ভবিষ্যতে তাদের অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে বা চাকরি পেতে সাহায্য করবে। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার আগেই কি একজন অল্পবয়সিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে? না, এমনটা নয়। (হিতো. ২১:৫) অনেক অল্পবয়সি ঠিক করেছে যে, স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তারা কোনো একটা কাজ করবে এবং অগ্রগামী সেবা শুরু করবে আর সেইসময়ে তারা চিন্তা করবে যে, তারা অতিরিক্ত শিক্ষা নেবে কি না। এমনকী স্কুল শেষ করার অনেক বছর পরেও একজন ব্যক্তি এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

একজন অল্পবয়সি বোন এবং তার বাবা-মা অতিরিক্ত শিক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন অপশন নিয়ে আলোচনা করছে। তারা বিভিন্ন স্কুলের ব্রোশার, JW ব্রডকাস্টিং এবং বাইবেল নিয়েও বিবেচনা করছে।

অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে এক বাবা-মা তাদের সন্তানকে সাহায্য করছে (৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৬. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কী একজন ব্যক্তিকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে?

৬ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কী তোমাকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে? সবচেয়ে প্রথমে এই বিষয়ে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করো। (যাকোব ১:৫) এ ছাড়া, দুটো পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করো। প্রথমত, নিজেকে জিজ্ঞেস করো, কেন তুমি অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাও। (গীত. ২৬:২) দ্বিতীয়ত, যে-শিক্ষা তুমি নিতে চাইছ, সেটার ভালো ও খারাপ দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করো। (হিতো. ১৪:১৫) এসো, আমরা এই দুটো পদক্ষেপ নিয়ে এক এক করে আলোচনা করি।

কেন তুমি অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাও?

৭. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের কোন বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে হবে?

৭ তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার কথা চিন্তা করে থাক, তা হলে নিজেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পার: ‘আমি কেন অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাইছি?’ একটা মনের মতো চাকরি বা ভালো বেতনের কাজ পাওয়ার জন্য অনেকেই অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা কি ভুল? না, এমনটা নয়। (১ তীম. ৫:৮) তবে, বাইবেল আমাদের সতর্ক করে দেয়, আমরা যেন টাকাপয়সাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে না দেখি অথবা এটাও চিন্তা না করি যে, একমাত্র টাকাপয়সাই আমাদের সুরক্ষা জোগাবে। (হিতো. ২৩:৪, ৫; ১ তীম. ৬:৮-১০; ১ যোহন ২:১৭) তাই, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার পিছনে যদি তোমার উদ্দেশ্য ধনসম্পদ ও সুনাম অর্জন করা হয়, তা হলে তুমি কখনোই প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারবে না এবং যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৮-৯. (ক) পড়াশোনা একজন খ্রিস্টানের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত? (মথি ৬:৩৩) (খ) বোন জোসেফিনা, মোরিন ও আইরিসের মন্তব্য থেকে তুমি কী শিখেছ?

৮ পড়াশোনা তোমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত? যিহোবার সেবার চেয়ে কোনো কিছুই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত নয়। (মথি ২২:৩৭, ৩৮; ফিলি. ৩:৮) তাই, পড়াশোনাকে আমরা এমনভাবে দেখব যেন এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটায় এবং সম্পূর্ণ হৃদয় দিয়ে যিহোবার সেবা করতে আমাদের সাহায্য করে।—পড়ুন, মথি ৬:৩৩.

৯ লক্ষ করো, কোন বিষয়টা কিছু খ্রিস্টানকে অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে এক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে? বোন জোসেফিনা, যিনি চিলিতে থাকেন, তিনি বলেন: “আমি অতিরিক্ত শিক্ষা নিয়েছি, যাতে এমন একটা চাকরি খুঁজে পেতে পারি, যেটা আমাকে যিহোবার সেবায় আরও বেশি সময় দিতে সাহায্য করবে। আমি সবসময় মনে রেখেছিলাম, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়াটা নয় বরং যিহোবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বই যেন আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়।” মোরিন নামে একজন বোন বলেন, “আমি হেয়ার স্টাইলিস্ট হওয়ার জন্য এক বছরের একটা কোর্স করেছিলাম।” তিনি আরও বলেন: “আমার লক্ষ্য ছিল, যেখানে বেশি প্রয়োজন সেখানে গিয়ে সেবা করা। তাই, আমি এমন একটা কোর্স বেছে নিয়েছিলাম, যেটা আমাকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এই কোর্সটা শেষ করার পর, আমি হেয়ার স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলাম, যাতে আমি কিছু টাকা জমাতে পারি এবং অন্য জায়গায় গিয়ে সেবা করতে পারি। আর যখন আমি যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে গিয়ে সেবা করতে শুরু করি, তখন এই কোর্সটা আমাকে একটা ভালো কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল।” বোন আইরিস, যিনি ডেনটিস্ট হওয়ার জন্য একটা কোর্স করেছিলেন, তিনি বলেন: “অতিরিক্ত শিক্ষা যদিও কিছুটা সাহায্য করে, তবে এটা কখনোই আমাদের প্রকৃত সুখ দিতে পারে না। মূল বিষয়টা হল: আমরা যদি যিহোবাকে আমাদের জীবনে প্রথম স্থান দিই, তা হলে আমরা অবশ্যই সফল হব এবং সুখী হতে পারব।” সত্যিই, আমরা যদি যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখি, তা হলে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারব, যা আমাদের জীবনে চিরস্থায়ী সুখ নিয়ে আসবে।

অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ভালো দিক ও খারাপ দিক

১০. দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:২৯ পদে দেওয়া নীতি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারে?

১০ তুমি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট কোর্স বা ট্রেনিং নেওয়ার কথা চিন্তা করেছ। কিন্তু, তুমি চাইলে এই ধরনের কোর্স ছাড়াও অন্য কিছু করার কথা চিন্তা করতে পার। (তুলনা করুন, হিতোপদেশ ১৮:১৭) বর্তমানে এমন অনেক কোর্স রয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না, যেমন অনলাইন কোর্স। তবে, অতিরিক্ত শিক্ষা না নিয়েও তুমি নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবে কি না, সেটা নিয়েও চিন্তা করে দেখ। বোন জোয়ানা, যিনি ফিনল্যান্ডে থাকেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত শিক্ষা নেননি। বোন বলেন: “স্কুল শেষ করার পর আমি একটা পার্ট-টাইম কাজ খুঁজে পাই এবং সেইসঙ্গে অগ্রগামী সেবাও শুরু করি। আমি বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি এবং দেখেছি যে, যিহোবা কীভাবে তাঁর লোকদের প্রয়োজন মেটান।” এটা মনে রেখো, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তুমি যেকোনো সিদ্ধান্তই নাও না কেন, এর কিছু ভালো দিক এবং খারাপ দিক রয়েছে। তাই, নিজেকে জিজ্ঞেস কর: ‘আমি যে-কোর্সটা করব বলে ঠিক করেছি, সেটার মধ্যে খারাপের চেয়ে ভালো দিকটা কি বেশি রয়েছে?’ (পড়ুন, দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:২৯; ১ করি. ১০:২৩) এসো, আমরা কয়েকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলো তোমাকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

১১. কোর্সের পিছনে কতটা সময় দিতে হবে, সেটা বিবেচনা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ? (ছবিগুলোও দেখুন।)

১১ কোর্সের পিছনে প্রতি সপ্তাহে তোমাকে কতটা সময় দিতে হবে? প্রতি সপ্তাহে ক্লাস অ্যাটেন্ড করতে, ট্রেনিং নিতে এবং হোমওয়ার্ক করতে তোমার কতটা সময় যাবে, সেটা নিয়ে চিন্তা কর। এগুলো করার পর যিহোবার সেবা এবং পারিবারিক দায়িত্বগুলো পালন করার জন্য তোমার হাতে কি যথেষ্ট সময় থাকবে? (ফিলি. ১:১০) তোমার পড়াশোনা কি তোমাকে এতটাই ক্লান্ত করে দেবে যে, তোমার জন্য ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করা বা সভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে? ভাই জেরজ যিনি ভারতে থাকেন, তার ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার জন্য নিয়মিতভাবে প্রচারে যাওয়া এবং সভাতে মনোযোগ দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল। একেক সময় আমি সভায় যেতেও পারতাম না। পরে আমি চিন্তা করে দেখেছি, যতটা সময় এবং শক্তি আমি এই কোর্সের পিছনে দিয়েছি, সেটা আদৌ আমার কোনো উপকারে আসেনি।” কিন্তু, অন্যদিকে আবার এমন কিছু কোর্সও রয়েছে, যেগুলোর পিছনে বেশি সময় দিতে হয় না। সেগুলো পার্ট-টাইম হিসেবে করা যায় আর বেশি হোমওয়ার্কও করতে হয় না। বোন রেবেকা যিনি মোজাম্বিকে থাকেন, তিনি এমন একটা কোর্স বেছে নিয়েছিলেন, যেটার জন্য তিনি খুশি ছিলেন। তিনি বলেন, “দিনে মাত্র দু-ঘণ্টা আমাকে এই কোর্সের পিছনে সময় দিতে হয়েছিল আর এর ফলে আমি নিয়মিত অগ্রগামী সেবা চালিয়ে যেতে পেরেছিলাম।”

কোলাজ: একজন ভাই চিন্তা করছেন যে, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি তার অন্যান্য দায়িত্বগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন কি না। ১. তিনি সভা চলাকালীন মাইক রোভিং-এর দায়িত্ব পালন করছেন। ২. তিনি ঘরে ঘরে প্রচার কাজে অংশ নিচ্ছেন। ৩. তিনি একটা কফি শপে কাজ করছেন। ৪. তিনি একটা স্কুলে ক্লাস অ্যাটেন্ড করছেন।

তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার কথা ভেবে থাক, তা হলে এই বিষয়টা মনে রেখো যে, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার জন্য তোমার হাতে যেন যথেষ্ট সময় থাকে (১১ অনুচ্ছেদ দেখুন)


১২. কোর্স করার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি কীভাবে তার সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করতে পারে? (উপদেশক ১২:১)

১২ কোর্স কতটা দীর্ঘ হবে? চিন্তা করো, এই কোর্সটা শেষ হতে কত মাস বা বছর লাগবে? এই কোর্সটা করার মাধ্যমে তুমি কি তোমার সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করতে পারবে? (ইফি. ৫:১৫-১৭) তুমি যদি অল্পবয়সি হও, তা হলে তুমি কি এই কোর্স করার ফলে তোমার যৌবনকালে আরও বেশি করে যিহোবার সেবা করতে পারবে, যেমন পূর্ণসময়ের সেবা? (পড়ুন, উপদেশক ১২:১.) তুমি কি এই ধরনের অন্য কোনো কোর্সের কথা চিন্তা করতে পার, যেটা শেষ করতে তোমার বেশি সময় লাগবে না? যেমন, তুমি কোনো ইনস্টিটিউট বা কাজের জায়গায় এমন কিছু দক্ষতা গড়ে তুলতে পার, যেটা তোমাকে ভবিষ্যতে কাজ পেতে সাহায্য করবে এবং ইউনিভার্সিটির চেয়ে অনেক কম খরচে ও কম সময়ে তুমি এটা করতে পারবে। ভাই মারিও যিনি চিলিতে থাকেন, তিনি বলেন: “আমি দু-বছরের একটা টেকনিক্যাল কোর্স করেছিলাম, যেটা ইউনিভার্সিটির চেয়ে কম খরচে হয়ে গিয়েছিল। আমাকে সপ্তাহে মাত্র চার দিন ক্লাস করতে হত, যেটা আমাকে কোর্স করার পাশাপাশি অগ্রগামী সেবা করতেও সাহায্য করেছিল।”

১৩. কোর্স করার জন্য তোমাকে যদি পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়, তা হলে কী হতে পারে?

১৩ কোর্সটা করার জন্য তোমাকে কোথায় যেতে হবে? তুমি হয়তো এমন একটা কোর্স খুঁজে পেয়েছ, যেটা তোমার বাড়ির কাছাকাছি। কিন্তু, তুমি যদি এমন একটা কোর্স খুঁজে পাও, যেটা করার জন্য তোমাকে অন্য একটা শহরে যেতে হবে, তা হলে? অথবা এই কোর্সটা করার জন্য তোমাকে যদি ক্যাম্পাসে থাকতে হয়, তা হলে তুমি কী করবে? এটা মনে রেখ যে, পরিবার থেকে দূরে গিয়ে তুমি যদি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকতে শুরু কর, যারা যিহোবার সেবা করে না, তা হলে যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। (হিতো. ২২:৩; ১ করি. ১৫:৩৩) ভাই ম্যাটায়াস যিনি মোজাম্বিকে থাকেন, তিনি কম খরচে এক বছরের একটা কোর্স করেন। তবুও, তিনি তার এই সিদ্ধান্তের জন্য আপশোস করেন। কেন? তিনি বলেন, “আমাকে এই কোর্সটা করার জন্য সবসময় বোর্ডিং-এ থাকতে হত। খারাপ কাজ করার জন্য প্রতিদিন আমাকে প্রলোভিত করা হত। তাই, আমি বলব যে, এমন একটা কোর্স বাছাই কর, যাতে তোমাকে পরিবার থেকে দূরে থাকতে না হয়।” একজন বোন যিনি রাশিয়ায় থাকেন, তিনি বলেন, “আমি অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে না থেকে যেহেতু বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতাম, তাই আমি বিভিন্ন বিপদ এবং প্রলোভন এড়াতে পেরেছিলাম।” তুমি চাইলে অনলাইনেও কোনো কোর্স খুঁজে পেতে পার।

১৪. লূক ১৪:২৮ পদে দেওয়া নীতি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারে?

১৪ কোর্সটা করতে কত খরচ পড়বে? কিছু কোর্স অল্প খরচেই করা যায় অথবা সরকার এর জন্য টাকা দেয়। এইরকম ক্ষেত্রে তুমি হয়তো কম খরচে অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে পার, যেটা তোমার জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে তুলবে এবং তোমাকে একটা ভালো কাজ পেতে সাহায্য করবে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় এই অতিরিক্ত শিক্ষা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। এ ছাড়া, কিছু কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আবার প্রাইভেট টিউশন নিতে হয় আর এর জন্যও টাকাপয়সা খরচ হয়। এমন কিছু কোর্স আছে, যেটার খরচ মেটাতে ছাত্র-ছাত্রীদের লোন নিতে হয় আর সেই লোন শোধ করতে অনেক বছর লেগে যায়। ভাই অ্যাডিলসন যিনি মোজাম্বিকে থাকেন, তিনি অতিরিক্ত শিক্ষার বিষয়ে যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে আপশোস করে বলেন: “আমার চার বছরের কোর্সের খরচ মেটাতে গিয়ে আমার পরিবারকে খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষেত্রে অনেক ত্যাগস্বীকার করতে হয়েছিল।” তাই, কোনো কোর্স বা ট্রেনিং নেওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস কর, ‘এর জন্য আমাকে কত খরচ করতে হবে? আমার পরিবার অথবা আমি কি এই খরচ মেটাতে পারব? আমি কি কম খরচে অন্য কোনো কোর্স করতে পারি?’ (পড়ুন, লূক ১৪:২৮.) ‘আমি যদি লোন নিই, তা হলে সেটা শোধ করতে আমার কত সময় লাগবে? ভবিষ্যতে আমি যে-কাজ পাব এবং যে-টাকা রোজগার করব, সেটা কি আমাকে নিজের খরচ মেটাতে এবং কোর্সের জন্য যে-লোন নিয়েছিলাম, সেটা শোধ করতে সাহায্য করবে?’—হিতো. ২২:৭.

১৫. কোনো কোর্স করার আগে সেটা তোমাকে কাজ পেতে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৫ কোর্সটা করলে তুমি কি কোনো কাজ পাবে? তুমি যেখানে থাক বা যেখানে থাকার কথা ভাবছ, সেখানে কোন ধরনের কাজ পাওয়া যেতে পারে, সেই বিষয়ে চিন্তা কর। তুমি যে-কোর্সটা করবে, সেটা কি সত্যিই তোমাকে কাজ পেতে সাহায্য করবে? এমন কিছু কোর্স রয়েছে, যেগুলো তোমাকে প্র্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো খুব একটা শেখাবে না, যেটা কাজ পাওয়ার জন্য খুবই দরকার, বরং তোমার জ্ঞান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাড়াবে। (কল. ২:৮) ভারতের একজন বোন বলেন, “আমি যে-কোর্সটা নিয়েছিলাম, সেটা আমাকে কোনো প্র্যাকটিক্যাল বিষয় শেখায়নি, যেটা কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল। এর ফলে, আমি যা-শিখেছিলাম, সেটা আমাকে কোনো কাজ পেতে সাহায্য করেনি।” আবার এমন কিছু কোর্স রয়েছে, যেগুলো করার ফলে তুমি হয়তো কিছু দক্ষতা বা প্র্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো শিখবে, কিন্তু কাজ পাওয়া কঠিন হতে পারে। সাবলিম নামে একজন ভাই, যিনি মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে থাকেন, তিনি এসি মেরামতের একটা কোর্স করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি যেখানে থাকি, সেখানে লোকেরা নিজেদের জিনিস নিজেরাই মেরামত করে। তাই, সেখানে কাজ পাওয়া খুব কঠিন।”

১৬. একটা কোর্স করে তুমি কোন ধরনের কাজ পেতে পার, সেই বিষয়ে চিন্তা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৬ এটাও চিন্তা কর যে, কোন ধরনের কাজ তুমি পেতে পার। তুমি কি সেই কাজটা উপভোগ করবে? (উপ. ৩:১২, ১৩) সেখানকার পরিবেশ কেমন হবে? এটা কি এমন একটা কাজ, যেটার মধ্যে বিপদ রয়েছে, প্রতিযোগিতা রয়েছে অথবা তোমার উপর অনেক চাপ নিয়ে আসতে পারে? এই ধরনের কাজ করে তুমি সাধারণত কত টাকা পেতে পার? তোমার খরচ মেটানোর জন্য সেটা কি যথেষ্ট হবে? এই কাজটা ধরে রাখার জন্য তোমাকে কি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই কাজটা কি যিহোবাকে তোমার জীবনে প্রথম স্থানে রাখতে সাহায্য করবে? (উপ. ১২:১৩) এটা ঠিক যে, যেখানে কাজ পাওয়ার সুযোগ খুবই কম, সেখানে একটা মনের মতো কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। কিন্তু, আজ তুমি যে-কোর্সটা করার কথা ভাবছ, সেটা ভবিষ্যতে তুমি কোন ধরনের কাজ পাবে, সেটার উপর প্রভাব ফেলবে। বোন টাবিথা যিনি ভারতে থাকেন, তিনি ছয় মাসের একটা সেলাইয়ের কোর্স করেছিলেন। তিনি বলেন, “এই সেলাইয়ের কাজ আমাকে অগ্রগামী সেবা করতে সাহায্য করবে। এই কাজটার চাহিদা সবসময় থাকবে, আমি এটা নিজের সময়মতো করতে পারব আর এর জন্য আমাকে বেশি টাকা ইনভেস্ট করতে হবে না।” এই কোর্সটা করার ফলে টাবিথা একটা কাজ খুঁজে পেয়েছিলেন এবং নিজের অগ্রগামী সেবা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।

১৭. (ক) একজন খ্রিস্টান কীভাবে এমন কিছু তথ্য খুঁজে পেতে পারে, যেটা তাকে অতিরিক্ত শিক্ষার বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? (খ) বাইবেলের কোন নীতিগুলো তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? (“বাইবেলের নীতিগুলো বিবেচনা করো” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)

১৭ আমরা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেছি। তুমি কীভাবে এমন কিছু তথ্য খুঁজে পেতে পার, যেটা তোমাকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? বিভিন্ন ইনস্টিটিউশন অথবা তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে তুমি এই বিষয়ে রিসার্চ করতে পার। তুমি যে-ফিল্ডে কাজ করতে চাও, সেখানে কতগুলো জব রয়েছে, সেটা একবার দেখে নাও। এ ছাড়া, তুমি সেই ব্যক্তিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিতে পার, যারা তোমার মতো একই কোর্স করেছে অথবা যারা সেই ফিল্ডে কাজ করছে। (হিতো. ১৩:১০) তাদের জিজ্ঞেস করো, “এই কোর্স বা কাজের ভালো এবং খারাপ দিকগুলো কী?” তাদের সঙ্গেও কথা বলো, যারা আনন্দের সঙ্গে যিহোবার সেবা করছে। (হিতো. ১৫:২২) কোন কোর্সটা অথবা কোন কাজটা তোমার জন্য ভালো হবে, সেই বিষয়ে তারা কী বলে, তা শোনো। তারা হয়তো এমন কোনো কোর্স অথবা কাজের বিষয়ে বলতে পারে, যেটা তুমি আগে কখনো চিন্তাই করনি।

বাইবেলের নীতিগুলো বিবেচনা করো

  • কেন আমি অতিরিক্ত শিক্ষা নিতে চাই? (মথি ৬:৩৩; ১ তীম. ৬:৮-১০)

  • প্রতি সপ্তাহে আমাকে ক্লাস অ্যাটেন্ড করতে এবং হোমওয়ার্ক করতে কত সময় দিতে হবে? (ফিলি. ১:১০)

  • এই কোর্সটা শেষ হতে কত বছর সময় লাগবে? (ইফি. ৫:১৫-১৭)

  • কোর্সটা করার জন্য আমাকে কোথায় থাকতে হবে? (১ করি. ১৫:৩৩)

  • কোর্সটা করতে কত টাকা খরচ হবে? (লূক ১৪:২৮)

  • এই কোর্সটা কি আমাকে নিজের খরচ মেটাতে এবং যিহোবার সেবায় আমার লক্ষ্যগুলোতে পৌঁছোতে সাহায্য করবে? (উপ. ১২:১৩)

১৮. আমাদের কোন বিষয়টা মনে রাখা উচিত?

১৮ আমরা যেমনটা দেখলাম, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার কিছু ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। তাই, তোমার অপশনগুলো নিয়ে প্রার্থনা করো এবং সেই বিষয়ে চিন্তা করো। তবে সবসময় মনে রেখো, অতিরিক্ত শিক্ষা তোমাকে হয়তো আর্থিকভাবে কিছুটা সাহায্য করবে, কিন্তু যিহোবার সঙ্গে তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বই তোমাকে প্রকৃত সুখী করবে। (গীত. ১৬:৯, ১১) যিহোবা সবসময় তাঁর লোকদের যত্ন নেন, তা তারা যতদূর পর্যন্তই পড়াশোনা করুক না কেন। (ইব্রীয় ১৩:৫) কিন্তু, তুমি যদি ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাক, তা হলে? এই শিক্ষা নেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো যিহোবার সঙ্গে তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে? এই বিষয়ে আমরা পরের প্রবন্ধে আলোচনা করব।

আপনি কীভাবে উত্তর দেবেন?

  • গালাতীয় ৬:৫ পদে দেওয়া নীতি কীভাবে তোমাকে অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে?

  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টাকে খ্রিস্টানদের কীভাবে দেখা উচিত?

  • অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগে খ্রিস্টানদের কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?

গান ৪৫ আমার হৃদয়ের চিন্তা

a এটার মানে কী? এই প্রবন্ধে এবং পরের প্রবন্ধে “অতিরিক্ত শিক্ষা” বলতে স্কুলের পড়াশোনা বা সরকারের দ্বারা অনুমোদিত মৌলিক শিক্ষার বাইরে কোনো ট্রেনিং নেওয়া বা আরও পড়াশোনা করাকে বোঝানো হয়েছে। যেমন, কোনো ইউনিভার্সিটি বা কলেজ থেকে ডিগ্রি নেওয়া, কোনো টেকনিক্যাল কোর্স করা বা কোনো কাজের জন্য দক্ষতা অর্জন করা।

b আগে আমাদের প্রকাশনায় খ্রিস্টানদের উচ্চশিক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছিল। উদাহরণ স্বরূপ, ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “বাবামারা—আপনাদের সন্তানদের জন্য আপনারা কোন ভবিষ্যৎ চান?” শিরোনামের প্রবন্ধে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সঙ্গে কোন বিপদগুলো জড়িত, সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল। যদিও এই বিপদগুলো বর্তমানেও রয়েছে, কিন্তু একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত শিক্ষা নেবে কি না, সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাই, অতিরিক্ত শিক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রত্যেক খ্রিস্টানকে এবং অল্পবয়সি সন্তানদের ক্ষেত্রে পরিবারের মস্তককে বাইবেলের নীতিগুলো নিয়ে এবং সেই শিক্ষার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো নিয়ে প্রার্থনা সহকারে চিন্তা করতে হবে। এই বিষয়ে একজন খ্রিস্টান যে-সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সম্বন্ধে কারো এমনকী প্রাচীনদেরও বিচার করা উচিত নয়।—যাকোব ৪:১২.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার