জুলাই ২৭–আগস্ট ২, ২০২৬
গান ৫৬ সত্য খুঁজে নাও
অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক দৃঢ় রাখো
“আমরা যতটা উন্নতি করেছি, এসো, আমরা ক্রমাগত সেই একই ধারায় চলি।”—ফিলি. ৩:১৬.
আমরা কী শিখব?
তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও, তা হলে বাইবেলের চারটে নীতি যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্ককে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করবে।
১-২. (ক) তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাক, তা হলে তোমাকে কী করে চলতে হবে? (খ) ‘ক্রমাগত সেই একই ধারায় চলা’ বলতে কী বোঝায়? (ফিলিপীয় ৩:১৬)
কিছু যিহোবার সাক্ষি স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা হয়তো এটা চিন্তা করেছে যে, এই ধরনের শিক্ষা নেওয়ার ফলে তারা এমন কোনো কাজ খুঁজে পাবে, যেটা তাদের যিহোবার সেবা করতে সাহায্য করবে। তুমি যদি ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাক, তা হলে কীভাবে নিশ্চিত হতে পার যে, যিহোবার সঙ্গে তুমি এক দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে? (যাকোব ৪:৮ক) এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, তুমি যখন স্কুলে ছিলে, তখন তোমাকে বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এখন তোমাকে ‘ক্রমাগত সেই একই ধারায় চলতে’ হবে অর্থাৎ বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করতে হবে, যেমনটা তুমি এতদিন করে এসেছ।—পড়ুন, ফিলিপীয় ৩:১৬.
২ যে-গ্রিক ক্রিয়াপদকে ‘ক্রমাগত সেই একই ধারায় চলা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সেটা অনেকসময় সৈন্যদের একসঙ্গে মার্চ করে এগিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। তুমি যদি অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাক, তা হলে তোমাকেও যিহোবার সেবায় “এগিয়ে যেতে” হবে, কোনোভাবেই দাঁড়িয়ে বা পিছিয়ে পড়লে চলবে না। এই প্রবন্ধে বাইবেলের চারটে নীতি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যেগুলো এই ক্ষেত্রে তোমাকে সাহায্য করবে। এই নীতিগুলো তোমার কাছে নতুন নয়। তুমি ইতিমধ্যেই এগুলো কাজে লাগিয়েছ আর এখন অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় এবং এটা শেষ করার পরও তোমাকে এগুলো কাজে লাগাতে হবে।
একটা ভালো আধ্যাত্মিক তালিকা বজায় রাখো
৩. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তোমার প্রতিদিনের তালিকা বজায় রাখা কেন কঠিন হতে পারে?
৩ কেন কঠিন হতে পারে? অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তুমি অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়তে পার আর এর ফলে তোমার প্রতিদিনের তালিকা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এই কোর্সে তুমি ভালো রেজাল্ট করতে চাও আর এর ফলে তুমি হয়তো যিহোবার সেবাকে ধীরে ধীরে কম গুরুত্ব দিয়ে ফেলতে পার। তুমি এমনকী সভায় এবং প্রচারে যাওয়া, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করা এবং প্রার্থনা করাকে অবহেলা করে ফেলতে পার।—প্রকা. ২:৪.
৪. ‘প্রভুর সেবায় উপচে পড়া’ বলতে কী বোঝায়? (১ করিন্থীয় ১৫:৫৮)
৪ প্রথম করিন্থীয় ১৫:৫৮ পদ পড়ুন। যেমন, একটা সাইকেল প্যাডেল করতে থাকলে সেটা এগিয়ে যায়, ঠিক একইভাবে তুমি যদি “প্রভুর সেবায় উপচে পড়ো,” তা হলে তুমিও এগিয়ে যেতে পারবে অর্থাৎ যিহোবার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক দৃঢ় হবে। ‘প্রভুর সেবায় উপচে পড়ার’ মানে হল, তুমি যিহোবার সেবায় কতটা সময় ব্যয় করছ সেটা নয় বরং যিহোবাকে তুমি তোমার জীবনে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছ। মনে রেখো, প্রথমে তুমি একজন যিহোবার সেবক, এর পরে তুমি একজন স্টুডেন্ট। (মথি ২২:৩৭) সামান্থা নামে একজন যুবতী বোন বলেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, আমার কোর্স যদি যিহোবার সেবায় কোনোরকম বাধার সৃষ্টি করে, তা হলে আমি সেই কোর্সটাই ছেড়ে দেব।”
৫. যিহোবার সেবায় ব্যস্ত থাকার জন্য তুমি কী করতে পার?
৫ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগে তুমি কী করতে পার? ভালো করে চিন্তা কর যে, তোমার জীবনে কোন বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে জিজ্ঞেস কর, ‘নিয়মিত সভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং সেখানে যোগ দেওয়া, প্রচারে অংশ নেওয়া এবং ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করার বিষয়ে আমি কী পরিকল্পনা করেছি?’ (যিহো. ১:৮; মথি ২৮:১৯, ২০; ইব্রীয় ১০:২৫) এই বিষয়েও চিন্তা কর, স্কুলে থাকার সময় তুমি কীভাবে এগুলো করতে। তুমি যদি মনে কর, স্কুলে থাকাকালীন তুমি এগুলো আরও ভালোভাবে করতে পারতে, তা হলে এখন তুমি সেই বিষয়ে কোন রদবদলগুলো করতে পার? এই বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হও যে, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি তুমি যিহোবার সেবায় ব্যস্ত থাকবে। অতিরিক্ত শিক্ষার প্রতি যতটা প্রয়োজন, ততটা মনোযোগ দাও, তবে যিহোবার সেবাকে অবহেলা করে নয়।a—মথি ৬:২৪.
৬. নিজেকে পরীক্ষা করার সময় তুমি কোন বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে পার? (ছবিও দেখুন।)
৬ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় নিয়মিতভাবে নিজেকে পরীক্ষা কর। পারলে এক মাস অন্তর অন্তর নিজেকে জিজ্ঞেস কর, ‘আমি কি এখনো যিহোবাকে আমার জীবনে প্রথম স্থানে রেখেছি?’ তুমি হয়তো লক্ষ করেছ যে, তুমি প্রায়ই মিটিং মিস করছ অথবা দেরি করে আসছ, মিটিং চলাকালীন কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে চিন্তা করছ কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই মিটিং-এ যোগ দিচ্ছ। এ ছাড়া, তুমি যদি এটাও দেখ যে, তোমার প্রার্থনা করার এবং বাইবেল পড়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে অথবা প্রচারে যেতে হয় বলে তুমি যাচ্ছ, তা হলে এগুলো তোমার জন্য বিপদসংকেত হতে পারে। তাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলোকে ঠিক করার চেষ্টা করো। তোমার পড়াশোনাকে কখনোই যিহোবার সেবার আগে আসতে দিও না।
তোমার পড়াশোনা যেন যিহোবার সেবার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে ওঠে (৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)
‘চিন্তা করার ক্ষমতাকে রক্ষা কর’
৭. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়া কীভাবে তোমার চিন্তাধারার উপর প্রভাব ফেলতে পারে?
৭ কেন কঠিন হতে পারে? তুমি যে-কোর্সটা বেছে নিয়েছ, সেটা হয়তো তোমাকে ‘দর্শনবিদ্যা এবং মিথ্যা যুক্তিতর্ক’ শেখাতে পারে। যেমন, তোমাকে শেখানো হতে পারে, ঈশ্বর বলে কেউ নেই এবং মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে। (কল. ২:৮) এ ছাড়া, তোমার মধ্যে নিজের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করার মনোভাবও চলে আসতে পারে। একজন অল্পবয়সি ভাই বলে: “আমাদের শুধু দক্ষতাই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে আমরা কীভাবে চিন্তা করব, সেটাও শেখানো হত, যেটা যিহোবার চিন্তাধারা থেকে একেবারেই আলাদা। যেমন, আমাদের শেখানো হত, আমরা জীবনে সফল হব কি হব না, সেটা আমাদের উপর নির্ভর করে। এর মানে হল, জীবনে সফল হওয়ার জন্য আমাদের যিহোবার সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই। এই ধরনের চিন্তাধারার ফলে যিহোবার উপর নির্ভর করা আমার জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
৮. কেন তোমার “চিন্তা করার ক্ষমতাকে রক্ষা” করা গুরুত্বপূর্ণ? (হিতোপদেশ ৫:১, ২)
৮ হিতোপদেশ ৫:১, ২ পদ পড়ুন। বাইবেল তোমাকে সতর্ক করে, যেন তুমি ‘চিন্তা করার ক্ষমতাকে রক্ষা কর।’ আসলে কোনো কিছু যখন বিপদের মুখে থাকে, তখনই আমরা সেটাকে রক্ষা করার চেষ্টা করি। শয়তান এবং তার জগৎ সবসময় তোমার চিন্তাধারাকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। (১ পিতর ৫:৮) তাই, কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল, জীবন কীভাবে শুরু হয়েছে এবং ঈশ্বর আদৌ আছেন কি না, এই বিষয়ে জগতের চিন্তাধারা তোমার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তুমি বাইবেলের শিক্ষাগুলো নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করতে পার। লোকেরা হয়তো এই বিষয়গুলো এমনভাবে তুলে ধরতে পারে, যেটা দেখে মনে হতে পারে, এগুলো খুবই উচ্চমানের চিন্তাধারা, কিন্তু আসলে তা নয়। এগুলো হল “ঈশ্বরের কাছে মূর্খতা।”—১ করি. ৩:১৮-২০.
৯. তোমার চিন্তাধারাকে রক্ষা করার জন্য তুমি কী করতে পার?
৯ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগে তুমি কী করতে পার? তোমার চিন্তাধারাকে রক্ষা করার জন্য প্রথমে নিশ্চিত হও যে, বাইবেলের শিক্ষাগুলোর উপর তোমার এক দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। আর এটা অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগেই তোমাকে ঠিক করতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞেস কর: ‘আমি কেন ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি? আমি কেন বিশ্বাস করি যে, বাইবেল হল ঈশ্বরের বাক্য? আমি কেন মনে করি, বাইবেল নৈতিক মানের বিষয়ে যা বলে, সেটা জগতের মানের তুলনায় অনেক শ্রেষ্ঠ?’ এটাও চিন্তা করে দেখ, তুমি যখন স্কুলে ছিলে, তখন তুমি নিশ্চয়ই নানা ধরনের জগতের চিন্তাধারার মুখোমুখি হয়েছিলে। স্কুলে থাকাকালীন অন্যেরা যখন বিবর্তনবাদকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করত, তখন কি তোমার বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ত? ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন মন্দ কাজগুলো করত, তখন তুমিও কি সেগুলো করার জন্য প্রলোভিত হতে? তুমি যদি মনে কর, স্কুলে থাকাকালীন তুমি এগুলোর সঙ্গে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারতে, তা হলে তোমার বিশ্বাসকে দৃঢ় করার জন্য এখন তুমি কী করতে পার? তাই, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তোমার চিন্তাধারাকে রক্ষা করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হও।—২ তীম. ২:১৬-১৮.b
১০. তুমি তোমার চিন্তা করার ক্ষমতাকে রক্ষা করার জন্য আর কী করতে পার?
১০ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে নিজেকে পরীক্ষা করে চল। নিজেকে জিজ্ঞেস কর: ‘আমি কি আমার আশেপাশে থাকা লোকদের দেখাদেখি তাদের মতো জীবনযাপন করা শুরু করেছি? আমি কি বুঝতে পারি, আমাকে যা-কিছু শেখানো হচ্ছে, সেগুলো আসলে সত্য নয় বরং সেগুলো শুধুমাত্র মানুষের চিন্তাভাবনা? আমি কি এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, একমাত্র ঈশ্বরের রাজ্যই মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে?’ তোমার চিন্তা করার ক্ষমতাকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বরের বাক্যের একজন উত্তম ছাত্র হওয়ার চেষ্টা কর। তুমি যদি বাইবেল অধ্যয়ন কর এবং সেটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা কর, তা হলে সত্যের প্রতি তোমার নিশ্চয়তা আরও বেশি দৃঢ় হবে।—১ তীম. ৪:১৫.
তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করো
১১. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় ভালোভাবে সময়কে ব্যবহার করা কেন কঠিন হতে পারে?
১১ কেন কঠিন হতে পারে? অতিরিক্ত শিক্ষা তোমার কাছ থেকে অনেক সময় কেড়ে নিতে পারে, বিশেষ করে যখন তোমার পরীক্ষা থাকে বা কোনো প্রজেক্ট নির্দিষ্ট তারিখে শেষ করতে হয়। তুমি যদি তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার না কর, তা হলে তোমার উপর অনেক চাপ আসতে পারে এবং তুমি অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পার। তাই, নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টা অবহেলা কোরো না কারণ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১২. কোন কোন কাজ করার দ্বারা তুমি দেখাতে পার যে, তুমি “সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার” করছ? (ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬)
১২ ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬ পদ পড়ুন। “সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার” করা তোমার জন্য হয়তো কঠিন হতে পারে। এর জন্য তোমাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যেমন, ক্লাসের পড়াশোনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল ভাই-বোনদের এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। (গীত. ১৩৩:১; হিতো. ১৮:১) আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, যিহোবার সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা। (মথি ৬:৩৩) এ ছাড়া, তোমার হয়তো কিছু পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে এবং তোমাকে একটা চাকরিও করতে হয়। আর সেইসঙ্গে তোমাকে শরীরের যত্নও নিতে হবে। তাই, নিয়মিত এক্সারসাইজ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই প্রয়োজন। (উপ. ৪:৬; ১ তীম. ৪:৮) আর এই সমস্ত কিছু করার জন্য তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে।
১৩. তোমার সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করার জন্য তুমি কী করতে পার?
১৩ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগে তুমি কী করতে পার? বাইবেল বলে, পরিকল্পনা করলে সফল হওয়া যায়। (হিতো. ২১:৫) এই কথাটা মনে রেখে, অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগেই একটা ভালো তালিকা তৈরি কর। এটা করার জন্য কী তোমাকে সাহায্য করতে পারে? চিন্তা করো, স্কুলে থাকাকালীন তুমি কীভাবে তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করেছিলে। তুমি যদি মনে কর, সেইসময়ে তুমি আরও ভালোভাবে সময়কে ব্যবহার করতে পারতে, তা হলে এই ক্ষেত্রে উন্নতি করার জন্য এখন তুমি কী করতে পার? তাই এটা দেখো, সময় যেন তোমাকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং তুমি ঠিক করো যে, কীভাবে তুমি তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করবে।c
১৪. নিজেকে পরীক্ষা করার জন্য কোন প্রশ্নগুলো তোমাকে সাহায্য করতে পারে?
১৪ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় নিয়মিতভাবে নিজেকে পরীক্ষা করো। নিজেকে জিজ্ঞেস কর: ‘আমি কি পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়ার এবং এক্সারসাইজ করার সময় পাই? ভাই-বোনদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য আমার কাছে কি যথেষ্ট সময় থাকে? আমি কি আমার হোমওয়ার্ক সময়মতো শেষ করতে পারি? যদি না পারি, তা হলে এর কারণটা কী? আমি কি কাজ ফেলি রাখি, না কি আমাকে অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করতে হয়? আমার বন্ধুরা বা আমার পরিবার কি মনে করে, আমার তালিকায় কিছু রদবদল করার প্রয়োজন?’ যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমার তালিকায় রদবদল করো অথবা তালিকা অনুযায়ী চলার জন্য আরও পরিশ্রম করো। তুমি হয়তো সেই ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলতে পার, যারা তাদের সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।—হিতো. ১১:১৪.
‘বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে চলো’
১৫. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তোমার সামনে কোন বাধাগুলো আসতে পারে?
১৫ কেন কঠিন হতে পারে? অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তোমার সহপাঠীরা হয়তো প্রায়ই তোমাকে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য ডাকতে পারে। তুমিও হয়তো তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইবে। আর এটাই স্বাভাবিক কারণ তোমরা একই বয়সি এবং তোমাদের পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে হয়তো কিছু মিল রয়েছে আর তোমরা একসঙ্গে অনেক সময়ও কাটাও। আর তোমার এটাও মনে হতে পারে যে, ভাই-বোনদের চেয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তোমার বেশি মিল রয়েছে। তবে, তোমাকে সাবধান থাকতে হবে। এটা মনে রেখো, যদিও তোমাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল রয়েছে, কিন্তু তুমি তাদের থেকে আলাদা কারণ তুমি যিহোবাকে খুশি করতে চাও। তুমি তাদের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবে, তত বেশি তুমি তাদের মতো চিন্তা করতে শুরু করবে। (১ করি. ১৫:৩৩) ভাই মাইকেল, যিনি চার বছরের একটা ইলেকট্রিক্যাল কোর্স করেছিলেন, তার সঙ্গে এমনই কিছু ঘটেছিল। তিনি বলেন: “আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘন্টারও বেশি সময় কাটাতাম। তারা মেয়েদের যে-চোখে দেখত, যে-ধরনের গান শুনত এবং যে-অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করত, সেগুলো আমার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেছিল।”
১৬. ‘বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে চলার’ মানে কী? (হিতোপদেশ ১৩:২০)
১৬ হিতোপদেশ ১৩:২০ পদ পড়ুন। বাইবেল বলে, আমরা যদি খারাপ লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করি, তা হলে আমাদের বিপদ হবে। অন্যদিকে, এটি বলে: “যে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে চলে, সে বিজ্ঞ হয়ে উঠবে।” তাই এটা স্পষ্ট যে, আমরা যাদের সঙ্গে মেলামেশা করি, তারা আমাদের উপর ভালো অথবা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো, যারা তোমার মতোই যিহোবাকে ভালোবাসে এবং তোমার ভালো চায়।—গীত. ১০১:৬, ৭; ১১৯:৬৩.
১৭. কীভাবে তুমি খারাপ লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করা এড়িয়ে চলতে পার?
১৭ অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার আগে তুমি কী করতে পার? এটা স্থির করো যে, তুমি তোমার সহপাঠীদের সঙ্গে কতটা সময় কাটাবে। টোনি নামে একজন সাক্ষি ভাই বলেন: “যদিও সহপাঠীদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু ক্লাসের পরে আমি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতাম না। আমি তাদের শুধুমাত্র আমার সহপাঠী হিসেবে দেখতাম, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে নয়।” তাহলে তোমার সহপাঠীদের সঙ্গে তুমি কতটা সময় কাটাবে বলে ঠিক করেছ? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য চিন্তা করো, স্কুলে থাকাকালীন তুমি সহপাঠীদের সঙ্গে কতটা সময় কাটাতে। তুমি যদি মনে কর, সেইসময়ে তুমি এই ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে পারতে, তা হলে এখন তুমি কী করতে পার? ‘বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে চলার’ জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হও এবং সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করা এড়িয়ে চল, যারা যিহোবাকে ভালোবাসে না।d
১৮. নিজেকে কোন প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করা ভালো? (ছবিও দেখুন।)
১৮ নিয়মিতভাবে নিজেকে জিজ্ঞেস করো, ‘আমি কি আমার সহপাঠীদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করছি? তাদের স্বভাব, কথাবার্তা এবং চিন্তাভাবনা কি আমাকে প্রভাবিত করছে? সহপাঠীদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বকে যিহোবা কীভাবে দেখেন?’ (গীত. ১:১) তুমি যদি মনে কর, এই ক্ষেত্রে তোমার কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে, তা হলে দ্রুত পদক্ষেপ নাও। খেয়াল রেখো, তোমার মতো যারা যিহোবাকে ভালোবাসে, তারাই যেন তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়। আর এর পাশাপাশি তোমার সহপাঠীদের কাছে সাক্ষ্য দিতেও ইতস্তত বোধ কোরো না। তাদের সত্য জানানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ তোমার কাছে রয়েছে।
তোমার সহপাঠীদের কাছে সাক্ষ্য দিতে ইতস্তত বোধ কোরো না (১৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)e
প্রস্তুতি নাও
১৯. অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তুমি কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পার? একটা উদাহরণ দাও।
১৯ একজন বুদ্ধিমান পর্বতারোহী পাহাড়ে ওঠার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেন। যদিও তিনি আগে থেকে সমস্ত কিছু বুঝতে পারেন না যে, পাহাড়ে ওঠার সময় তাকে কোন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে, কিন্তু তিনি তার শরীরকে ফিট রাখেন, উপযুক্ত জামাকাপড় পরেন এবং লক্ষ্যের দিকে স্থির থাকেন। অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তুমি ঠিক একই কাজ করতে পার। বিশ্বাসে দৃঢ় থাকো, “ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত যুদ্ধসজ্জা” পরিধান করো এবং লোকেরা যেটাকে সাফল্য বলে মনে করে সেটার প্রতি নয় বরং যিহোবার নামের গৌরব নিয়ে আসার প্রতি লক্ষ্য রাখো।—ইফি. ৬:১১-১৩; ১ করি. ৯:২৬, ২৭; ১০:৩১.
২০. “বিশ্বাসে আছ কি না,” তা তুমি কীভাবে পরীক্ষা করতে পার?
২০ বাইবেল উৎসাহিত করে: “সবসময় নিজেদের পরীক্ষা করে দেখো, তোমরা বিশ্বাসে আছ কি না; তোমরা কেমন ব্যক্তি, তা প্রমাণ করে চলো।” (২ করি. ১৩:৫) অতিরিক্ত শিক্ষা নেওয়ার সময় তুমিও এগুলো করতে পার। এই প্রবন্ধে যে-বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে নিয়মিতভাবে নিজেকে পরীক্ষা করো। তুমি কি একটা ভালো আধ্যাত্মিক তালিকা বজায় রাখছ? তুমি কি জগতের চিন্তাধারা থেকে নিজের চিন্তাধারাকে সুরক্ষিত রাখছ? তুমি কি তোমার সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করছ? তুমি কি খারাপ লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করা এড়িয়ে চলছ এবং ভাই-বোনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছ? নিজেকে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা তুমি স্কুলে কিংবা কাজের জায়গায়, যেখানেই থাক না কেন। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তোমার বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করো। তুমি যদি তা করো, তা হলে নিশ্চিত থাকতে পার যে, যিহোবা তোমার এই প্রচেষ্টায় আশীর্বাদ করবেন।—হিতো. ৩:৫, ৬.
গান ৮৭ এসো! সতেজ হও
a কীভাবে তুমি যিহোবার সেবায় আরও বেশি করতে পার, তা জানার জন্য jw.org ওয়েবসাইটে দেওয়া “Young People Ask . . . What Will I Need to Do After Baptism?—Part 1: Keep Up Your Activity” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ো।
b কীভাবে তুমি তোমার চিন্তাধারাকে রক্ষা করতে পার, সেই বিষয়ে জানার জন্য ২০১৯ সালের মে মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “‘এই জগতের প্রজ্ঞার’ দ্বারা প্রতারিত হবেন না” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ো।
c কীভাবে তুমি তোমার প্রতিদিনের তালিকা বজায় রাখতে পার, সেই বিষয়ে জানার জন্য “Young People Ask . . . How Can I Manage My Time?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ো।
d কীভাবে তুমি ভেবে-চিন্তে বন্ধু বাছাই করতে পার, তা জানার জন্য চিরকাল জীবন উপভোগ করুন! বইয়ের পাঠ ৪৮, “ভেবে-চিন্তে বন্ধু বাছাই করুন” পড়ো।
e ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা : হেয়ার স্টাইলিস্টের কোর্স করার সময় একজন বোন তার সহপাঠীকে কৌশলতার সঙ্গে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।