জুলাই ১৩-১৯, ২০২৬
গান ১২৭ যে-ধরনের ব্যক্তি আমার হওয়া উচিত
বাইবেলের নীতি ব্যবহার করে আপনার বিবেককে প্রশিক্ষিত করুন
“প্রত্যেকে নিজ নিজ ভার বহন করবে।”—গালা. ৬:৫.
আমরা কী শিখব?
আমরা শিখব যে, উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে কীভাবে বাইবেলের নীতি আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারে।
১-২. (ক) আদম ও হবাকে যিহোবা কোন উপহার দিয়েছিলেন? (খ) কীভাবে তারা এটার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারতেন?
পশু-পাখিরা তাদের সহজাত প্রবৃত্তির দ্বারা চলে অর্থাৎ কোনো কিছু করার আগে এদের চিন্তা করতে হয় না। আবার একটা মেশিনকে যেভাবে প্রোগ্রাম করা হয়, সেটা ঠিক সেভাবেই কাজ করে। কিন্তু, আমরা এগুলোর চেয়ে আলাদা। যিহোবা আমাদের একটা বিশেষ উপহার দিয়েছেন, যেটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা হল স্বাধীন ইচ্ছা। এর মানে হল, আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারি। বাইবেল বলে, প্রথম মানুষ আদমকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল। (আদি. ১:২৬, ২৭) তাই, আদম এবং তার স্ত্রী হবা বুদ্ধিমান ছিলেন এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারতেন।
২ যিহোবা আদম ও হবাকে নিয়মের একটা লম্বা তালিকা দেননি। তিনি শুধু তাদের বলেছিলেন, তারা যেন পৃথিবীর যত্ন নেয়, তাদের সন্তানদের দ্বারা পৃথিবী পরিপূর্ণ করে এবং সঠিক ও ভুলের বিষয়ে মান স্থির করার যে-অধিকার যিহোবার রয়েছে, সেটার প্রতি সম্মান দেখায়। (আদি. ১:২৮; ২:১৬, ১৭) যিহোবা তাদের যে-স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছিলেন, সেটার জন্য কীভাবে তারা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারতেন? আদম ও হবা যদি যিহোবার দেওয়া আজ্ঞাগুলো পালন করতেন, তা হলে তারা দেখাতে পারতেন যে, তারা যিহোবাকে ভালোবাসেন, তাঁকে খুশি করতে চান এবং তিনি তাদের যা-কিছু দিয়েছেন, সেগুলোর জন্য তারা কৃতজ্ঞ।—হিতো. ২৩:১৫.
৩. আদম ও হবা তাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে কীভাবে ব্যবহার করেছিলেন?
৩ বাইবেল জানায়, আদম ও হবা তাদের এই স্বাধীন ইচ্ছাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেননি। তারা যিহোবার অবাধ্য হয়েছিলেন। কারণ তারা স্বার্থপর হয়ে উঠেছিলেন এবং যিহোবার প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা ছিল না। (আদি. ৩:১-৭) তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আজও আমরা কষ্টভোগ করছি।—রোমীয় ৫:১২.
৪. (ক) গালাতীয় ৬:৫ পদ অনুযায়ী আমাদের প্রতিদিন কী করতে হয়? (খ) যিহোবার দেওয়া কোন উপহার নিয়ে আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করব?
৪ বর্তমানে আমাদের জীবন অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। (পড়ুন, গালাতীয় ৬:৫.) এর মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ আবার কোনোটা অতটা সহজ নয়। কীভাবে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যেটা যিহোবাকে খুশি করবে? প্রথমে আমাদের এটা স্বীকার করতে হবে যে, এর জন্য আমাদের যিহোবার সাহায্যের প্রয়োজন। (হিতো. ১৬:৩; যির. ১০:২৩) এমনকী যিশুরও যিহোবার সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল, যদিও তিনি একজন নিখুঁত ব্যক্তি ছিলেন। (ইব্রীয় ৫:৭) কিন্তু আমরা নিখুঁত নই, তাই আমাদের আরও বেশি যিহোবার সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। যিহোবা আমাদের আরও একটা উপহার দিয়েছেন, যেটা আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে আর সেটা হল আমাদের বিবেক। আসুন, আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করি।
বিবেক বলতে কী বোঝায়?
৫. (ক) বিবেক বলতে কী বোঝায়? (খ) বিবেক কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে? (রোমীয় ২:১৪, ১৫)
৫ আমাদের বিবেক হল কোনটা সঠিক ও কোনটা ভুল, তা বোঝার এক অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা। এমনকী একজন ব্যক্তি যিনি ঈশ্বরের আইন সম্বন্ধে কিছুই জানেন না, তারও বিবেক রয়েছে। (২ করি. ৪:২) আমাদের বিবেককে আমরা এমন একজন বিচারকের সঙ্গে তুলনা করতে পারি, যিনি আমাদের বলে দিতে পারেন, আমাদের চিন্তাভাবনা ও কাজ সঠিক কি না। (পড়ুন, রোমীয় ২:১৪, ১৫.) আমরা যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নিতে যাই, তা হলে বিবেক আগে থেকে আমাদের সেই বিষয়ে সতর্ক করে দিতে পারে। (১ শমূ. ২৬:৮-১১) আবার এই বিবেক আমাদের সঠিক কাজ করার জন্যও পরিচালিত করতে পারে। শুধুমাত্র স্বাধীন ইচ্ছা থাকলেই যে আমরা যিহোবাকে খুশি করতে পারব, তা নয়। আমাদের সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল, বিবেক সেটা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে।
৬. আমাদের বিবেক কেন সবসময় সঠিকভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে না?
৬ দুঃখের বিষয় হল, বিবেক সবসময় সঠিকভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে না। আমরা যেহেতু নিখুঁত নই, তাই আমাদের বিবেকও নিখুঁত নয়। আমরা যেভাবে বড়ো হয়ে উঠেছি, আমাদের সংস্কৃতি আর এমনকী আমাদের মন্দ আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের বিবেকের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বাইবেল বলে যে, আমাদের বিবেক “দুর্বল,” “কলুষিত,” “উত্তপ্ত লোহা দিয়ে দাগযুক্ত” আর এমনকী “মন্দ” হয়ে যেতে পারে। (১ করি. ৮:১২; তীত ১:১৫; ১ তীম. ৪:২; ইব্রীয় ১০:২২) ঠিক যেমন, একটা চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে গেলে সঠিকভাবে দেখা যায় না, সেটাকে পরিষ্কার করতে হয়, একইভাবে এই ধরনের বিবেক আমাদের সঠিক পথ দেখাতে পারে না। তাই, আমাদের সবসময় এক উত্তম বিবেক বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে। (১ পিতর ৩:১৬) কীভাবে আমরা সেটা করতে পারি?
কীভাবে আমরা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারি?
৭-৮. (ক) কোন বিষয়টা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে সাহায্য করে? (খ) কীভাবে বাইবেলের নীতি আমাদের সঠিক পথ দেখাতে পারে? একটা উদাহরণ দিন। (ছবিও দেখুন।)
৭ কীভাবে আমরা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারি? এর জন্য আমাদের প্রতিদিন বাইবেল পড়তে হবে এবং যিহোবার দৃষ্টিতে কোনটা সঠিক ও কোনটা ভুল, তা শিখতে হবে। যিহোবার আইনগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করলে আমরা তাঁর চিন্তাভাবনা বুঝতে পারব। কিন্তু, আগের প্রবন্ধে আমরা যেমনটা দেখেছি, সমস্ত পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগ করা যায় না। এই কারণে আমাদের নীতিগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে, যাতে আমরা যিহোবার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।—যিশা. ৫৫:৯.
৮ আমাদের জীবনকে অনেকটা মরুভূমিতে হাঁটার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। কল্পনা করুন, আপনি এমন একটা মরুভূমির মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা বা ল্যান্ডমার্ক নেই। সূর্য বা তারার সাহায্যে আপনি হয়তো কিছুটা দিক নির্ণয় করতে পারবেন। কিন্তু, একটা নির্দিষ্ট ম্যাপ যেটাতে ল্যান্ডমার্ক রয়েছে, সেটা আপনাকে আরও বেশি সাহায্য করবে। এই ম্যাপ আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে এবং আপনি যেন কোনোভাবে ভুল পথে না যান, সেই বিষয়েও সাহায্য করবে। ঠিক একইভাবে, আমাদের জীবনের লক্ষ্য হল যিহোবাকে খুশি করা। বাইবেল হল সেই ম্যাপের মতো, যেটা আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে। আর বাইবেলের নীতিগুলো হল সেই ল্যান্ডমার্কের মতো যেটা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, আমরা সঠিক পথে রয়েছি কি না। আমরা যদি বাইবেলের নীতি অনুযায়ী চলি, তা হলে আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
বাইবেলের নীতিগুলো হল সেই ল্যান্ডমার্কের মতো, যেটা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, আমরা সঠিক পথে চলছি কি না (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৯. রোমীয় ৯:১ পদ অনুযায়ী আর কী আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে সাহায্য করে?
৯ আমাদের বিবেককে সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করার জন্য ঈশ্বরের পবিত্র শক্তির প্রয়োজন। (পড়ুন, রোমীয় ৯:১.) পবিত্র শক্তি আমাদের ঈশ্বরের চিন্তাভাবনা বুঝতে সাহায্য করে। এ ছাড়া, এটা আমাদের যিহোবার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং শক্তি জোগায়। (ফিলি. ২:১৩) কিন্তু, কীভাবে আমরা যিহোবার পবিত্র শক্তির সাহায্য লাভ করতে পারি?
১০. কীভাবে আমরা যিহোবার পবিত্র শক্তির সাহায্য লাভ করতে পারি? (লূক ১১:১০, ১৩)
১০ পবিত্র শক্তি চেয়ে প্রার্থনা করুন। (পড়ুন, লূক ১১:১০, ১৩.) আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, যিহোবা আমাদের প্রচুর পরিমাণে পবিত্র শক্তি দিতে চান। (যোহন ৩:৩৪) আর যারা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে, তাদের তিনি উদারভাবে পবিত্র শক্তি দিয়ে থাকেন। (হিতো. ১:২৩; যাকোব ১:৫) কিন্তু, আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে আর কোন বিষয়টা আমাদের সাহায্য করে?
১১. (ক) আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য কী হওয়া উচিত? (খ) আমাদের বিবেক সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেই বিষয়ে কেন আমাদের নিশ্চিত হতে হবে?
১১ সবসময় যিহোবাকে খুশি করার চেষ্টা করুন। (হিতো. ৮:৩৪, ৩৫) এটাই আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। জীবনের প্রতিটা পরিস্থিতিতে আমরা যদি এই লক্ষ্য মাথায় রাখি, তা হলে সেটা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে সাহায্য করবে। যিহোবার চিন্তাভাবনা কী এবং তিনি কেমন অনুভব করেন, এই বিষয়টা যদি আমরা মাথায় রাখি, তা হলে আমাদের বিবেক সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। আমরা খুবই কঠিন সময়ে বাস করছি, তাই আমাদের এক প্রশিক্ষিত বিবেকের প্রয়োজন। অনেকসময় আমাদের এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেগুলোর বিষয়ে বাইবেলে নির্দিষ্টভাবে বলা নেই। উদাহরণ স্বরূপ, অবসর সময়ে আমরা কী শুনব বা দেখব, কোন ধরনের কাজ বা শিক্ষা গ্রহণ করব এবং কাদের সঙ্গে মেলামেশা করব, এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই, কীভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, এই ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের সিদ্ধান্ত যিহোবাকে খুশি করবে?—২ করি. ১:১২.
১২. আমাদের বিবেক সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা বোঝার জন্য কোন বিষয়টা আমাদের সাহায্য করবে? (ইফিষীয় ৫:১০)
১২ ঈশ্বরের বাক্য থেকে যা পড়ছেন, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। (গীত. ৪৯:৩) বাইবেল পড়ার সময় এমন নীতিগুলো খুঁজে বের করুন, যেগুলো আপনাকে যিহোবার চিন্তাভাবনা বুঝতে সাহায্য করবে। (পড়ুন, ইফিষীয় ৫:১০.) আমরা যখন জীবনে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তখন আমরা কী করতে পারি? আমরা বাইবেলের সেই নীতিগুলোর উপর মনোযোগ দিতে পারি, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব যে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বিবেক আমাদের সাহায্য করছে কি না। (হিতো. ২:৪-৯, ১১-১৩) বাইবেলের নীতিগুলো আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে এবং যিহোবা যা চান, সেই অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করবে।—ইব্রীয় ৫:১৪.
১৩. আমাদের কী করা উচিত নয়? একটা উদাহরণ দিন।
১৩ বাইবেলের নীতিগুলো না খুঁজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না। আমরা সেই ইজরায়েলীয়দের মতো হতে চাই না, যারা খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সালে জেরুসালেম নগর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর যিহূদায় বাস করছিল। তারা যিরমিয়কে বলেছিল: “আপনার ঈশ্বর যিহোবা যেন আমাদের বলেন, আমাদের কোন পথে চলা উচিত এবং কী করা উচিত।” (যির. ৪২:৩-৬, NW) কিন্তু, ইজরায়েলীয়েরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল যে, তারা কী করবে। তাই, যখন যিহোবার দেওয়া নির্দেশনা তাদের পছন্দ হয়নি, তখন তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করেছিল। আর এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হয়েছিল। (যির. ৪২:১৯-২২; ৪৩:১, ২, ৪) তাই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আমাদের বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজতে হবে, যাতে আমরা যিহোবার চিন্তাভাবনা বুঝতে পারি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
১৪. কেন আমাদের বাইবেলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত?
১৪ বাইবেলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। (মথি ৭:২৪-২৯; যাকোব ১:২৩-২৫) আমরা যখন বাইবেলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই, তখন আমরা পবিত্র শক্তিকে আমাদের উপর কাজ করতে দিই। এর ফলে, যিহোবা ক্রমাগত আমাদের তাঁর পবিত্র শক্তি দেন। (প্রেরিত ৫:৩২) কিন্তু, আমরা যদি যিহোবার পবিত্র শক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী না চলি, তা হলে আমরা পবিত্র শক্তিকে “দুঃখিত” করতে অথবা সেটার বিরুদ্ধে কাজ করে ফেলতে পারি। (ইফি. ৪:৩০; যিশা. ৬৩:১০; প্রেরিত ৭:৫১) এমনকী যিহোবা আমাদের তাঁর পবিত্র শক্তি দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। (গীত. ৫১:১১; ১ থিষল. ৫:১৯) আর এর পরিণতি খুবই খারাপ হতে পারে, কারণ আমাদের সবসময় পবিত্র শক্তির সাহায্যের প্রয়োজন।—ইফি. ৩:১৬.
কীভাবে আমরা বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজে বের করতে পারি?
১৫-১৬. (ক) কীভাবে আমরা বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজে পেতে পারি? (খ) বাইবেলের কোন নীতিগুলো আপনার ছাত্রকে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে সাহায্য করতে পারে?
১৫ আমাদের অধ্যয়নের প্রকাশনাগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করুন। বাইবেলের কোনো নীতি কাজে লাগানোর আগে আমাদের দেখতে হবে যে, সেটা বাইবেলে কোথায় লেখা রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনার বাইবেল ছাত্র যদি এটা বুঝতে না পারে যে, কেন তাকে ধূমপান বন্ধ করতে হবে, তখন আপনি কী করতে পারেন? তিনি হয়তো আপনাকে এই যুক্তি দেখাতে পারেন: ‘বাইবেলে তো কোথাও ধূমপানের বিষয়ে কিছু বলা নেই। তা হলে আমরা কীভাবে বুঝব যে, এটা করা ভুল?’ আপনি কীভাবে তাকে এই বিষয়ে বাইবেলের নীতি খুঁজে পেতে এবং সেটা তাকে বুঝতে সাহায্য করতে পারেন? এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার বাইবেল ছাত্রকে ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি থেকে সাহায্য করতে পারেন। সেখানে গিয়ে তিনি যদি সার্চ বক্সে “ধূমপান” শব্দটা লিখে সার্চ করেন, তা হলে তিনি “ধূমপান করা কি পাপ?” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখতে পাবেন। এই প্রবন্ধটা পড়ার সময় আপনার ছাত্র এখান থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রপদ এবং নীতি খুঁজে পাবেন, যেগুলো তাকে সাহায্য করবে।
১৬ এই প্রবন্ধে দেওয়া তিনটে নীতি লক্ষ করুন। (১) আমরা আমাদের জীবনের প্রতি সম্মান দেখাতে চাই কারণ এটা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া এক উপহার। (প্রেরিত ১৭:২৪, ২৫) (২) আমরা এমন কিছু করব না, যেটা অন্যদের ক্ষতি করবে। (মথি ২২:৩৯) (৩) আমরা এমন কিছু করব না, যেটা আমাদের শরীরের ক্ষতি করে এবং সেটাকে অশুচি করে। (রোমীয় ১২:১; ২ করি. ৭:১) যদিও বাইবেলে ধূমপানের বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই, তবে এই নীতিগুলো আপনার ছাত্রকে যিহোবার চিন্তাভাবনা বুঝতে সাহায্য করবে।
১৭. কীভাবে এক দম্পতি তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করার সময় বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজে পেতে পারে?
১৭ এক দম্পতি বিয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়ে পরিকল্পনা করার সময় কীভাবে বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজে পেতে পারে, যেগুলো তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? এই ক্ষেত্রেও ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি তাদের সাহায্য করতে পারে। এখানে গিয়ে তারা “বিয়ের অনুষ্ঠান” লিখে সার্চ করলে এমন অনেক প্রবন্ধ খুঁজে পাবে, যেগুলো তাদের বাইবেলের নীতিগুলো বুঝতে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা এইরকম ছ-টা নীতি লক্ষ করি। (১) সমস্ত ব্যবস্থা যেন যিহোবার গৌরব নিয়ে আসে। (১ করি. ১০:৩১, ৩২) (২) আমাদের পোশাক-আশাক যেন উপযুক্ত এবং মার্জিত হয় আর কোনোভাবে যেন উগ্র না হয়। (১ তীম. ২:৯; ১ পিতর ৩:৩, ৪) (৩) আমরা যেন নিজেদের জাহির করার মতো কিছু না করি, যেটা জগতের মনোভাবকে তুলে ধরে। (যোহন ১৭:১৪; যাকোব ১:২৭; ১ যোহন ২:১৫, ১৬) (৪) সমস্ত ব্যবস্থা যেন সুশৃঙ্খলভাবে করা হয়। (১ করি. ১৪:৪০) (৫) সেখানে যেন অতিরিক্ত মদ্যপান বা উচ্ছৃঙ্খলতা না হয়। (গালা. ৫:২১) (৬) সেই অনুষ্ঠানে যেন একজন ব্যক্তিকে সমস্ত কিছু দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।—যোহন ২:৮, ৯.
১৮-১৯. (ক) আর কোন প্রকাশনা আমাদের সাহায্য করতে পারে? (খ) এই বইতে দেওয়া কোন নীতিগুলো আপনাকে উৎসব বা উদ্যাপনগুলোর বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? (“আপনি কি বাইবেলের নীতিগুলো খুঁজে বের করতে পারেন?” শিরোনামের বাক্সও দেখুন।)
১৮ খ্রিস্টান হিসেবে জীবনযাপন করার জন্য বাইবেলের নীতি শিরোনামের বইটাও আমাদের সাহায্য করতে পারে। এই প্রকাশনায় বিভিন্ন ব্যাবহারিক বিষয়ের উপর শাস্ত্রপদের একটা তালিকা রয়েছে। আপনি যদি একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করেন, তা হলে সেখানে আপনি কিছু প্রশ্ন এবং শাস্ত্রপদ দেখতে পাবেন, যেগুলো আপনাকে বাইবেলের নীতিগুলো বুঝতে সাহায্য করবে। উদাহরণ স্বরূপ, একজন খ্রিস্টান হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি বিশেষ কোনো উৎসব বা উদ্যাপনে যোগ দেবেন কি না। তিনি যদি এই বইয়ের “উদ্যাপন; উৎসব” অংশটাতে ক্লিক করেন, তা হলে তিনি এর মধ্যে “খ্রিস্টানদের যে-উদ্যাপনগুলো এড়িয়ে চলতে হবে” উপশিরোনামটা দেখতে পাবেন।
১৯ সেই উপশিরোনামের অধীনে আপনি এই প্রশ্নটা দেখতে পাবেন: “মিথ্যা ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত উদ্যাপনগুলোতে যোগ দেওয়া কেন ভুল?” (১ করি. ১০:২১; ২ করি. ৬:১৪-১৮; ইফি. ৫:১০, ১১) এর মধ্যে কিছু উদ্যাপন সম্বন্ধে বলা হয়েছে। “জাতীয় উৎসব” উপশিরোনামের অধীনে বাইবেলের কিছু নীতি দেওয়া রয়েছে। একজন খ্রিস্টান বিবেচনা করতে পারেন যে, তার সেই উদ্যাপনগুলোতে অংশ নেওয়া উচিত হবে কি না, যেগুলোতে কোনো সরকার অথবা জাতির বিশেষ কোনো কাজকে পালন করা হয়, যুদ্ধ স্মরণ করা অথবা সৈন্যদের সম্মান দেওয়া হয় এবং বিখ্যাত কোনো ব্যক্তিকে উপাসনার মতো করে সম্মান দেখানো হয়। আমরা কতই-না কৃতজ্ঞ যে, যিহোবার সংগঠন এই প্রকাশনাগুলোর মাধ্যমে আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে সাহায্য করছে!
নিশ্চিত হোন যে, আপনার এক প্রশিক্ষিত বিবেক রয়েছে
২০. কীভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, আমরা আমাদের বিবেককে সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করেছি?
২০ যিহোবা আমাদের যে-স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন, সেটার জন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। কিন্তু, আমরা এটাও মনে রাখি, যদি আমরা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করি, তা হলে আমরা আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারব। একটা প্রশিক্ষিত বিবেক আমাদের যিহোবার ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখে সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাঁর নামের গৌরব নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। এটা করার জন্য আমাদের যিহোবার পবিত্র শক্তির প্রয়োজন। তাই, আমাদের যিহোবার কাছে ক্রমাগত পবিত্র শক্তি চাইতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি, বাইবেলের নীতিগুলোও আমাদের বিবেককে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা এই উপহারগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করি এবং দেখি যে, কীভাবে ঈশ্বরের বাক্য আমাদের জীবনে কাজ করে।—২ তীম. ৩:১৬, ১৭; ইব্রীয় ৪:১২.
গান ১৩৫ যিহোবার আন্তরিক অনুরোধ: প্রিয় সন্তানেরা, জ্ঞানবান হও