ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w25 নভেম্বর পৃষ্ঠা ১০-১৫
  • আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার সময় আনন্দ বজায় রাখুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার সময় আনন্দ বজায় রাখুন
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের আনন্দ কেন হারিয়ে যেতে পারে?
  • আপনার আনন্দ বজায় রাখার জন্য আপনি কী করতে পারেন?
  • মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
  • বৃদ্ধবয়সে আপনার আনন্দ বজায় রাখুন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া
    ২০১৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবাই আমাদের প্রকৃত আনন্দ দেন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন
    ২০২৫-২০২৬ সালের সীমা সম্মেলনের বিষয়সূচি—সীমা অধ্যক্ষের সঙ্গে
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
w25 নভেম্বর পৃষ্ঠা ১০-১৫

অধ্যয়ন প্রবন্ধ ৪৫

গান ১১১ আমাদের আনন্দের কারণ

আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার সময় আনন্দ বজায় রাখুন

“ যারা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বীজ বুনছে, তারা আনন্দে চিৎকার করতে করতে শস্য কাটবে।”—গীত. ১২৬:৫, NW.

আমরা কী শিখব?

এই প্রবন্ধে সেইসমস্ত ব্যক্তিদের জন্য কিছু ভালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যারা বয়স্ক অথবা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখাশোনা করে। এখানে এও বলা হয়েছে যে, কীভাবে তারা তাদের আনন্দ বজায় রাখতে পারে।

১-২. যারা তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের বিষয়ে যিহোবা কেমন অনুভব করেন? (হিতোপদেশ ১৯:১৭) (ছবিগুলোও দেখুন।)

জিন-এল নামে কোরিয়ার একজন ভাই বলেন, “আমি প্রায় ৩২ বছর ধরে বিবাহিত। আমার স্ত্রী পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং পাঁচ বছর ধরে আমি ওর দেখাশোনা করছি। ও সবসময় বিছানায় শুয়ে থাকে আর একটুও নড়াচড়া করতে পারে না। আমি আমার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসি এবং ওর দেখাশোনা করতে আমার ভালো লাগে। আমি ওর জন্য বাড়িতে একটা হসপিটাল বেডের ব্যবস্থা করেছি। আর ঠিক সেটার পাশেই আমার খাট রয়েছে। আমরা প্রতিদিন রাতে একে অন্যের হাত ধরে ঘুমাই।”

২ আপনি কি আপনার কোনো প্রিয়জন, যেমন বাবা-মা, জীবনসঙ্গী, সন্তান বা বন্ধুর দেখাশোনা করছেন? আমরা জানি, আপনি তাদের খুব ভালোবাসেন আর তাই আপনি ভালোভাবে তাদের যত্ন নেন এবং এটা করতে আপনার খুব ভালো লাগে। আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার মাধ্যমে আপনি এও দেখান যে, আপনি যিহোবাকে ভালোবাসেন এবং তাঁকে খুশি করতে চান। (১ তীম. ৫:৪, ৮; যাকোব ১:২৭) কিন্তু, প্রিয়জনদের দেখাশোনা করা এতটাও সহজ নয়। আপনাকে হয়তো এমন কিছু সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, যেটার বিষয়ে অন্যদের কোনো ধারণাই নেই। আর কখনো কখনো আপনি হয়তো এতটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন যে, আপনার মনে হয়, কেউ আপনার কষ্ট বুঝবে না। আপনি যখন সবার সঙ্গে থাকেন, তখন আপনার মুখে হাসি থাকে, কিন্তু একা থাকার সময় আপনি হয়তো কাঁদেন। (গীত. ৬:৬) হতে পারে, অন্যেরা বুঝবে না যে, আপনি কতটা কষ্টে আছেন, কিন্তু যিহোবা সমস্ত কিছু জানেন। (তুলনা করুন, যাত্রাপুস্তক ৩:৭।) তিনি আপনার প্রতিটা চোখের জলের হিসাব রাখেন এবং যে-ত্যাগস্বীকারগুলো আপনি করেন, সেটাকে তিনি খুবই মূল্যবান বলে মনে করেন। (গীত. ৫৬:৮; ১২৬:৫) আপনি আপনার প্রিয়জনদের জন্য যা-কিছু করছেন, যিহোবা সেগুলো লক্ষ করেন। এর জন্য যিহোবা নিজেকে আপনার কাছে ঋণী বলে মনে করেন আর এই ঋণ তিনি অবশ্যই পরিশোধ করবেন।—পড়ুন, হিতোপদেশ ১৯:১৭.

কোলাজ: বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেই সমস্ত ভাই-বোন, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে। ১. একজন বোন তার বয়স্ক মাকে খাওয়াচ্ছেন, যিনি শয্যাশায়ী। ২. একজন বোন তার স্বামীকে জুতো পরতে সাহায্য করছেন, যিনি হুইলচেয়ারে বসে আছেন। ৩. একজন মা তার ছেলেকে বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলতে যাওয়ার আগে হেলমেটের স্ট্র্যাপ লাগাতে সাহায্য করছেন। ৪. একজন ভাই এক বয়স্ক ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রার্থনা করছেন।

আপনি কি আপনার কোনো প্রিয়জনের দেখাশোনা করছেন? (২ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৩. অব্রাহাম ও সারার পক্ষে তেরহের দেখাশোনা করা কেন কঠিন ছিল?

৩ বাইবেলে এমন অনেক ব্যক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, যারা তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করেছিল। যেমন, অব্রাহাম ও সারার উদাহরণ লক্ষ করুন। ঊর নগর থেকে বেরিয়ে আসার সময় অব্রাহামের বাবা তেরহের বয়স প্রায় ২০০ বছর ছিল। এত বয়স হওয়া সত্ত্বেও তেরহ তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। হারণে যাওয়ার জন্য তাদের প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার (৬০০ মাইল) পথ যাত্রা করতে হয়েছিল। (আদি. ১১:৩১, ৩২) অব্রাহাম ও সারা তেরহকে খুব ভালোবাসতেন। একবার ভেবে দেখুন, তাদের পক্ষে বয়স্ক বাবার দেখাশোনা করা কতটা কঠিন ছিল। সেই সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া ততটা সহজ ছিল না। সাধারণত লোকেরা তখন উট ও গাধায় চড়ে যাওয়া-আসা করত আর এই কারণে বৃদ্ধ তেরহের পক্ষে যাত্রা করা খুবই কষ্টকর ছিল। সেই বৃদ্ধ বাবার দেখাশোনা করতে করতে অনেকসময় অব্রাহাম ও সারা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন। কিন্তু, আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, এই সমস্ত কিছু করার জন্য যিহোবা তাদের শক্তি জুগিয়েছিলেন। যিহোবা যেভাবে তাদের সাহায্য করেছিলেন, ঠিক একইভাবে তিনি আপনাকেও সাহায্য করবেন এবং আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার জন্য শক্তি জোগাবেন।—গীত. ৫৫:২২.

৪. এই প্রবন্ধে আমরা কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব?

৪ যখন একজন ব্যক্তির মনে আনন্দ থাকে, তখন তার পক্ষে প্রিয়জনদের দেখাশোনা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে। (হিতো. ১৫:১৩) পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, সে তার আনন্দ বজায় রাখে। (যাকোব ১:২, ৩) কিন্তু প্রশ্ন হল, এইরকম আনন্দ পাওয়ার জন্য আপনি কী করতে পারেন? একটা উপায় হল, যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন। তাঁকে বলুন, তিনি যেন আপনাকে আনন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করেন। এই প্রবন্ধে আমরা জানব, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা তাদের আনন্দ বজায় রাখার জন্য আর কী করতে পারে। আমরা এটাও জানব, কীভাবে অন্য ভাই-বোনেরা তাদের সাহায্য করতে পারে। তবে, আসুন প্রথমে আমরা লক্ষ করি, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের জন্য আনন্দ বজায় রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ আর কোন কোন কারণে তাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে।

যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের আনন্দ কেন হারিয়ে যেতে পারে?

৫. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের জন্য নিজেদের আনন্দ বজায় রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

৫ যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা যদি নিজেদের আনন্দ হারিয়ে ফেলে, তা হলে খুব সহজেই তারা হাল ছেড়ে দিতে পারে এবং ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। (হিতো. ২৪:১০) আর তারা যদি নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তা হলে তারা যেমনটা চায়, সেইভাবে তাদের প্রিয়জনদের যত্ন নিতে বা সাহায্য করতে পারবে না। তাই, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা কোন কোন কারণে তাদের আনন্দ হারিয়ে ফেলতে পারে? আসুন, তা দেখি।

৬. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা কেন অনেকসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে?

৬ হতে পারে, আপনি পুরোপুরিভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। লিয়া নামে একজন বোন বলেন: “যে-দিন সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকে, সেদিনও আমি ভিতর থেকে খুব ক্লান্তবোধ করি। দিনের শেষে যেন মনে হয়, আমার শরীরে কোনো প্রাণই নেই। কখনো কখনো তো মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার মতো শক্তিও আমার থাকে না।” এমন অনেক ভাই-বোন আছে, যারা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও পায় না, আবার অনেকে রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। ইনেস নামে একজন বোন বলেন: “আমি রাতে ভালোভাবে ঘুমাতেও পারি না। আমাকে প্রতি দু-ঘণ্টা অন্তর শাশুড়িকে দেখার জন্য উঠতে হয়। আমি এবং আমার স্বামী অনেক বছর কোথাও বেড়াতে যাইনি।” কিছু ভাই-বোনকে সারা দিন ধরে তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করতে হয়। তাই তারা কারো বাড়ি যেতে পারে না, এমনকী তারা মণ্ডলীর দায়িত্বগুলো নিতেও পিছিয়ে যায়। এই কারণগুলোর জন্য তারা দুঃখ পেতে পারে অথবা নিজেদের অসহায় বলে মনে করতে পারে।

৭. যারা তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের মধ্যে কিছু লোক কেন কষ্ট পায় অথবা নিজেদের দোষী বলে মনে করে?

৭ হতে পারে, আপনার দুঃখ হয় বা নিজেকে দোষী বলে মনে করেন। বোন জেসিকা বলেন: “আমার প্রায়ই মনে হয়, আমার বাবার আরও বেশি করে যত্ন নেওয়া উচিত। আমি যদি নিজের মতো করে একটু সময় কাটাই বা বিশ্রাম নিই, তা হলে আমার খুব খারাপ লাগে।” অনেকে আবার এটা ভেবেও কষ্ট পায় যে, তারা যতটা করতে চায়, ততটা তাদের প্রিয়জনদের জন্য করে উঠতে পারে না। কিছু লোক মনে করে যে, তারা এর চেয়ে বেশি তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করতে পারবে না আর এর জন্য তারা নিজেদের দোষী বলে মনে করে। অতিরিক্ত ক্লান্ত হওয়ার ফলে, অনেকে তাদের প্রিয়জনদের উপর রেগে যায় এবং উলটোপালটা কথা বলে থাকে। পরে তারা এরজন্য খুবই আপশোস করে। (যাকোব ৩:২) অনেকে আবার এটা দেখেও কষ্ট পায় যে, একসময় তাদের প্রিয়জনেরা কত সুস্থসবল ছিল, কিন্তু দিনের পর দিন তাদের শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বোন বারবারা বলেন: “আমার বন্ধু যেভাবে দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখে আমার খুবই কষ্ট লাগে।”

৮. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের যখন প্রশংসা করা হয়, তখন তাদের কেমন লাগে? একটা অভিজ্ঞতা বলুন।

৮ হতে পারে আপনার মনে হয়, কেউ আপনার কাজের মূল্য দিচ্ছে না। কেন আপনার এমনটা মনে হতে পারে? আপনি যে-পরিশ্রম করেন অথবা যে-ত্যাগস্বীকার করেন, সেটার জন্য কেউ হয়তো আপনাকে ধন্যবাদ দেয় না বা আপনার প্রশংসা করে না। প্রশংসায় ভরা দুটো কথা আপনাকে অনেক উৎসাহিত করতে পারে। (১ থিষল. ৫:১৮) বোন মেলিসা বলেন: “কখনো কখনো আমি এতটাই উদ্‌বিগ্ন হয়ে পড়ি যে, আমি কেঁদে ফেলি। কিন্তু, আমি যার দেখাশোনা করি, তিনি যখন আমাকে বলেন, ‘তুমি আমার জন্য যা-কিছু করো, তার জন্য থ্যাঙ্ক ইউ,’ তখন আমার মন আনন্দে ভরে ওঠে। পরের দিন সকালে উঠে আমি আরও উদ্যোগের সঙ্গে তার দেখাশোনা করতে পারি।” ভাই আমাদু জানান, কেউ যখন তার প্রশংসা করে, তখন তার কেমন লাগে। তিনি এবং তার স্ত্রী তাদের বোনঝির দেখাশোনা করেন। সেই মেয়েটি তাদের সঙ্গে থাকে এবং তার মৃগী রোগ আছে। ভাই বলেন, “আমরা ওর জন্য যে-ত্যাগস্বীকার করি, সেটা ও পুরোপুরি না বুঝলেও, যখন ও আমাদের থ্যাঙ্ক ইউ বলে বা কাগজে ‘আই লভ্‌ ইউ’ লিখে আমাদের দেয়, তখন আমাদের যে কী আনন্দ হয়, সেটা আমি বলে বোঝাতে পারব না।”

আপনার আনন্দ বজায় রাখার জন্য আপনি কী করতে পারেন?

৯. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা কীভাবে দেখাতে পারে যে, তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝে?

৯ নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা করুন। (হিতো. ১১:২) আমরা হয়তো অনেক কিছু করতে চাই, কিন্তু সেইসমস্ত কিছু করার জন্য আমাদের কাছে সময় বা শক্তি থাকে না। এইজন্য আমাদের ঠিক করে নেওয়া উচিত, কোনটা আমরা করতে পারব এবং কোনটা করতে পারব না। কখনো কখনো কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের হয়তো সরাসরি ‘না’ বলতে হতে পারে। ‘না’ বলার মধ্যে কোনো ভুল নেই। এর থেকে বোঝা যায় যে, আপনি আপনার সীমাবদ্ধতা বোঝেন। এ ছাড়া, কেউ যদি আপনাকে সাহায্য করতে চায়, তা হলে আনন্দের সঙ্গে তার সাহায্য গ্রহণ করুন। ভাই জয় বলেন, “আমাদের কাছে যতটা সময় আছে, আমরা ততটাই করতে পারি। আমরা যখন এই বিষয়টা বুঝি, তখন আমরা আমাদের সীমার অতিরিক্ত কাজ করার চেষ্টা করি না আর এইভাবে আমরা আমাদের আনন্দ বজায় রাখি।”

১০. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করছে, তাদের জন্য পরিস্থিতি বোঝা কেন গুরুত্বপূর্ণ? (হিতোপদেশ ১৯:১১)

১০ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১৯:১১.) আপনি যখন পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন, তখন অন্যের কথাকে আপনি খারাপভাবে নেবেন না এবং নিজেকে শান্ত রাখতে পারবেন। আপনি এটা বুঝতে পারবেন যে, কেন একজন ব্যক্তি আপনার সঙ্গে এইরকম ব্যবহার করছে। একজন ব্যক্তি যখন অনেক দিন ধরে অসুস্থ থাকে, তখন সে এমন কিছু করে ফেলতে পারে, যেটা সে সাধারণত করে না। (উপ. ৭:৭) যেমন, ধরুন একজন ব্যক্তি হয়তো সাধারণত প্রেমের সঙ্গে কথা বলে, কিন্তু অসুস্থতার কারণে সে হয়তো একটা ছোটো বিষয় নিয়ে তর্ক বা ঝগড়া করতে পারে। এটাও হতে পারে যে, সে অনেক অভিযোগ করতে পারে বা কথায় কথায় রেগে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভালো হবে, আপনি যদি তার রোগের বিষয়ে একটু খোঁজখবর নেন। যতবেশি আপনি তার রোগ সম্বন্ধে জানবেন, ততবেশি আপনি তার পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন। এভাবে, আপনি বুঝতে পারবেন যে, সে খারাপ ব্যক্তি নয়, কিন্তু অসুস্থতার জন্যই সে খারাপ ব্যবহার করছে।—হিতো. ১৪:২৯.

১১. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য সময় বের করে নেওয়া উচিত? (গীতসংহিতা ১৩২:৪, ৫)

১১ যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে দৃঢ় করার জন্য সময় বের করুন। আপনাকে হয়তো কিছু কাজ সরিয়ে রেখে “বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো” করার জন্য সময় বের করতে হবে। (ফিলি. ১:১০) যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে দৃঢ় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটা। রাজা দায়ূদের কথা চিন্তা করুন। তার কাছে করার জন্য অনেক কাজ ছিল, কিন্তু তিনি যিহোবার উপাসনাকে তার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১৩২:৪, ৫.) ঠিক একইভাবে, আপনারও বাইবেল পড়ার ও প্রার্থনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বোন ইলিসা বলেন: “আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি, গীতসংহিতার কিছু উৎসাহজনক পদ পড়ি এবং সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। এগুলো করে আমি অনেক আনন্দ পাই। আমি বলে বোঝাতে পারব না যে, প্রার্থনা করে আমি কতটা সাহায্য পেয়েছি! আমি দিনে অনেক বার যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেন।”

১২. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১২ আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য সময় বের করে নিন। অন্যদের দেখাশোনা করতে করতে আপনার এতটাই সময় চলে যায় যে, আপনি নিজের জন্য ফল, সবজি অথবা পুষ্টিকর খাবার কেনার সময়ই পান না। কিন্তু, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং এক্সারসাইজ করা শরীর ও মনের জন্য খুবই উপকারী। তাই, চেষ্টা করুন যেন আপনি ভালো খাবার খান এবং এক্সারসাইজ করেন। (ইফি. ৫:১৫, ১৬) এ ছাড়া, ভালোভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। (উপ. ৪:৬) কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক কিছুটা আরাম পায় আর এর ফলে এটা ভালোভাবে কাজ করতে পারে। স্বাস্থ্যের উপর গবেষণা করে এমন একটা সংস্থা, কয়েক বছর আগে তাদের প্রবন্ধের মাধ্যমে জানায়, “কীভাবে ঘুম মানসিক চাপ কমাতে পারে।” এটা জানায়, আমাদের যদি ভালোভাবে ঘুম হয়, তা হলে আমাদের মানসিক চাপ হবে না এবং আমরা সমস্যার মধ্যেও শান্ত থাকতে পারব। ঘুমানো ছাড়া, আনন্দ করার জন্যও কিছু সময় বের করে নিন। (উপ. ৮:১৫) একজন বোন যিনি অন্যদের দেখাশোনা করেন, তিনি বলেন যে, কীভাবে নিজের আনন্দ বজায় রাখেন: “যখন আবহাওয়া ভালো থাকে এবং চারিদিকে রোদ ঝলমল করে, তখন আমি বাইরে ঘুরতে যাই। মাসে অন্তত এক বার আমি এবং আমার বান্ধবী, আমরা দু-জনে মিলে এমন কিছু করার চেষ্টা করি, যেটা করতে আমাদের দু-জনেরই খুব ভালো লাগে।”

১৩. একটু হাসাহাসি করা কেন শরীরের জন্য ভালো? (হিতোপদেশ ১৭:২২)

১৩ হাসতে ভুলে যাবেন না। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১৭:২২; উপ. ৩:১, ৪) হাসলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে এবং মানসিক চাপও কিছুটা হলেও কম হয়ে যায়। যখন আপনি কারো দেখাশোনা করেন, তখন সবসময় আপনি যেমনটা আশা করেন, তেমনটা না-ও হতে পারে। আপনি এইরকম সময়ে এমন কোনো বিষয় খুঁজে নিতে পারেন, যেটা আপনাকে হাসতে সাহায্য করবে। এমনটা করলে, পরিবেশ অনেকটাই ভালো থাকবে এবং আপনার পক্ষে সেই চাপপূর্ণ পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা কিছুটা সহজ হয়ে উঠবে। আপনি যার দেখাশোনা করেন, তার সঙ্গেও যদি একটু হাসাহাসি করেন, তা হলে আপনাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

১৪. আপনার কাছের বন্ধু কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন?

১৪ আপনার কোনো কাছের বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। আপনি যতই আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন না কেন, কখনো কখনো আপনার মনে দুশ্চিন্তা আসবেই। এই অবস্থায় আপনি আপনার কোনো কাছের বন্ধুকে আপনার দুশ্চিন্তার বিষয়ে বলতে পারেন, যিনি আপনাকে ভুল বুঝবেন না এবং তিলকে তাল করবেন না। (হিতো. ১৭:১৭) যখন আপনার বন্ধু আপনার কথা মন দিয়ে শুনবেন এবং আপনাকে উৎসাহ দেবেন, তখন আপনি আপনার আনন্দ আবারও ফিরে পাবেন।—হিতো. ১২:২৫.

১৫. ভবিষ্যতের আশা নিয়ে কল্পনা করার মাধ্যমে কীভাবে আপনি আনন্দ পেতে পারেন?

১৫ কল্পনা করুন, আপনারা নতুন জগতে একসঙ্গে কী কী করবেন। যিহোবা কখনোই চাননি, কোনো মানুষ অসুস্থ বা বৃদ্ধ হোক। তাই, মনে রাখবেন আপনাকে চিরকাল আপনার প্রিয়জনদের দেখাশোনা করার প্রয়োজন হবে না। (২ করি. ৪:১৬-১৮) এখন আমরা যে-জীবন কাটাচ্ছি, সেটা “প্রকৃত জীবন” নয়। প্রকৃত জীবন আমরা খুব শীঘ্রই পেতে চলেছি। (১ তীম. ৬:১৯) তাই, আপনি যার দেখাশোনা করছেন, তার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলুন যে, আপনারা দু-জনে মিলে নতুন জগতে কী কী করবেন। এটা করলে, আপনি অনেক আনন্দ পাবেন। (যিশা. ৩৩:২৪; ৬৫:২১) হেদার নামে একজন বোন বলেন: “আমি যার দেখাশোনা করি, তাকে আমি প্রায়ই বলি, খুব শীঘ্রই আমরা একসঙ্গে মিলে কাপড় সেলাই করব, দৌড়াব এবং সাইকেল চালাব। আর যখন আমাদের প্রিয়জনদের পুনরুত্থিত করা হবে, তখন আমরা তাদের জন্য ব্রেড তৈরি করব এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করব। আমরা একসঙ্গে মিলে যিহোবাকে ধন্যবাদ দিই যে, তিনি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কতই-না চমৎকার এক আশা দিয়েছেন!”

মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

১৬. আমরা সেই ভাই-বোনদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে? (ছবিও দেখুন।)

১৬ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, যাতে যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সময় পান। মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা বয়স্ক অথবা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখাশোনা করার জন্য সাহায্য করতে পারে। এর ফলে, যিনি দেখাশোনা করছেন তিনি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবেন এবং অন্যান্য কাজগুলো করতে পারবেন। (গালা. ৬:২) কিছু প্রকাশক এর জন্য একটা তালিকা তৈরি করেছে, যাতে অন্যান্য ভাই-বোন এই কাজে সাহায্য করতে পারে। নাটালিয়া নামে একজন বোন, যার স্বামী প্যারালিসিস রোগে আক্রান্ত, তিনি বলেন: “আমার মণ্ডলীর একজন ভাই সপ্তাহে এক দু-বার এসে আমার স্বামীর সঙ্গে সময় কাটান। তারা একসঙ্গে প্রচার করে, গল্প করে আবার মাঝে মাঝে সিনেমাও দেখে। আমার স্বামী প্রতি সপ্তাহে সেই ভাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। সেই ভাই যখন আসেন, তখন আমি নিজের জন্য কিছু করার সময় পাই, যেমন আমি কোথাও হাঁটতে যাই।” কিছু কিছু ক্ষেত্রে, আপনি হয়তো যিনি দেখাশোনা করছেন, তাকে বলতে পারেন যে, রাতের বেলা আপনি তার প্রিয়জনের দেখাশোনা করতে পারবেন। এভাবে, যিনি নিয়মিতভাবে দেখাশোনা করেন, তিনি হয়তো রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতে পারবেন।

দু-জন বোন একজন বয়স্ক বোনের বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে। যে-মেয়েটি তার দেখাশোনা করছে, সে বাই বলছে এবং হাসিমুখে দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মণ্ডলীতে যারা তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করছে, তাদের কীভাবে আপনি সাহায্য করতে পারেন? (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)a


১৭. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা যেন মণ্ডলীর সভাগুলো থেকে উপকার লাভ করে, সেইজন্য আমরা কী করতে পারি?

১৭ যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের মণ্ডলীর সভাগুলো থেকে উপকার লাভ করতে সাহায্য করুন। যে-সমস্ত ভাই-বোন তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা প্রায়ই সভাগুলো, সীমা সম্মেলন এবং আঞ্চলিক সম্মেলনের প্রোগ্রাম পুরোপুরি শুনতে পায় না। এই ক্ষেত্রে আপনি কী করতে পারেন? আপনি পুরো সভা চলাকালীন অথবা কিছু সময়ের জন্য তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে বসতে পারেন। কিন্তু, কোনো অসুস্থ বা বয়স্ক ব্যক্তি যদি নিজের বাড়ি থেকে কোথাও যেতে না পারেন, তা হলে কী করা যায়? এই ক্ষেত্রে আপনি তার বাড়ি যেতে পারেন এবং তার সঙ্গে অনলাইনে সভায় যোগ দিতে পারেন। এর ফলে, যিনি নিয়মিত দেখাশোনা করেন, তিনি সরাসরি কিংডম হলে গিয়ে সভা করতে পারবেন।

১৮. যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের জন্য আমরা আর কী করতে পারি?

১৮ যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের প্রশংসা করুন এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। প্রাচীনেরা এই বিষয়টা খেয়াল রাখে, তারা যেন নিয়মিতভাবে সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে পালকীয় সাক্ষাৎ করে, যারা অসুস্থ অথবা বয়স্ক ব্যক্তিদের দেখাশোনা করে। (হিতো. ২৭:২৩) আমরা অর্থাৎ মণ্ডলীর ভাই-বোনেরাও সেই ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে পারি, যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে। আমাদের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমরা নিয়মিতভাবে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের প্রশংসা করতে পারি। এ ছাড়া, আমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যেন যিহোবা তাদের শক্তি দেন এবং তারা নিজেদের আনন্দ বজায় রাখতে পারে।—২ করি. ১:১১.

১৯. আমরা ভবিষ্যতে কী আশা করতে পারি?

১৯ খুব শীঘ্রই যিহোবা সমস্ত দুঃখকষ্ট সরিয়ে দেবেন আর আমাদের কখনো দুঃখের কারণে চোখের জল ফেলতে হবে না। রোগ ও মৃত্যু আর থাকবে না। (প্রকা. ২১:৩, ৪) “খোঁড়ারা হরিণের মতো লাফাবে।” (যিশা. ৩৫:৫, ৬, NW) সেইসময় কেউ বৃদ্ধ হবে না এবং আমরা আমাদের প্রিয়জনদের আর কষ্ট পেতে দেখব না। এই সমস্ত কিছু ‘আগেকার বিষয়’ হয়ে যাবে এবং এগুলো “আর স্মরণে থাকবে না।” (যিশা. ৬৫:১৭, NW) কিন্তু, যতদিন না আমাদের এই আশা পূরণ হচ্ছে, যিহোবা আমাদের কখনো একা ছেড়ে দেবেন না। আমরা যদি তাঁর উপর নির্ভর করি, তা হলে আমরা “ধৈর্য ও আনন্দ সহকারে পূর্ণরূপে কষ্ট সহ্য করতে” পারব।—কল. ১:১১.

আপনি কীভাবে উত্তর দেবেন?

  • যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের আনন্দ কেন হারিয়ে যেতে পারে?

  • যারা প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তারা কীভাবে তাদের আনন্দ বজায় রাখতে পারে?

  • আপনার মণ্ডলীতে যারা তাদের প্রিয়জনদের দেখাশোনা করে, তাদের কীভাবে আপনি সাহায্য করতে পারেন?

গান ১৫৫ মোদের সুখ চিরস্থায়ী

a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: দু-জন অল্পবয়সি বোন একজন বয়স্ক বোনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন, যাতে যে-বোন তার দেখাশোনা করছেন, তিনি নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে পারেন এবং হাঁটতে যেতে পারেন।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার