আমার কি এখন গাড়ি চালানো ছেড়ে দেওয়া উচিত?
আপনি অনেক বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন আর আপনি খুশি যে আপনার নিজের একটা গাড়ি আছে। আপনি এটা করে যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারেন এবং নিজের কাজ করতে পারেন। কিন্তু, এখন আপনার বয়সের কারণে আপনার পরিবারের লোকেরা এবং বন্ধুরা আপনাকে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেছে। তারা চায় আপনি যেন এটা ভাবেন যে, এখন আপনার গাড়ি চালানো উচিত কি না। কিন্তু, আপনি বুঝতে পারছেন না, তারা কেন এত চিন্তা করছে।
আপনার পরিস্থিতিও কি এইরকম? যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে কোন বিষয়টা আপনাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যে, আপনার গাড়ি চালানো উচিত কি না?
কিছু দেশে এই নিয়ম রয়েছে যে, একজন ব্যক্তি একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর যদি তার লাইসেন্স রিনিউ করাতে চায়, তা হলে তাকে ডাক্তারের কাছ থেকে একটা সার্টিফিকেট নিতে হবে। যে-খ্রিস্টানেরা এইরকম দেশে থাকে, তাদের সরকারের দেওয়া এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। (রোমীয় ১৩:১) কিন্তু, আপনার দেশে এই নিয়ম থাকুক বা না থাকুক, এমন অনেক উপায় রয়েছে, যেগুলোর সাহায্যে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে, এখন আপনি নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারেন কি না।
আপনার পক্ষে গাড়ি চালানো কতটা নিরাপদ, সেটা নিয়ে চিন্তা করুন
আমেরিকার ‘ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অন এজিং’ নামক ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী আপনি নিজেকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন:
আমার কি রাস্তার সাইন বোর্ড পড়তে বা রাতে দেখতে অসুবিধা হয়?
আমার কি ঘাড় ঘোরাতে অসুবিধা হয়, যে-কারণে গাড়ির আয়না দিয়ে পিছনের বস্তুগুলো দেখতে আমার সমস্যা হয়?
দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আমার কি কঠিন বলে মনে হচ্ছে? যেমন, আমাকে যদি হঠাৎ করে ব্রেক মারতে হয়, তা হলে আমি কি তা করতে পারি?
আমি কি খুব ধীরে গাড়ি চালাই, যে-কারণে অন্য ড্রাইভাররা আমার প্রতি বিরক্ত হয়?
সম্প্রতি কি আমার গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হতে হতে বেঁচে গিয়েছে? আমার গাড়িতে কি এদিক ওদিক ধাক্কা লাগার ফলে অনেক স্ক্র্যাচ পড়ে গিয়েছে?
আমি যেভাবে গাড়ি চালাই, সেই কারণে পুলিশ কি কখনো আমাকে রাস্তায় ধরেছে?
গাড়ি চালাতে চালাতে আমি কি কখনো কখনো ঘুমিয়ে পড়ি?
আমি কি এমন কোনো ওষুধ খাই, যে-কারণে আমার গাড়ি চালাতে অসুবিধা হতে পারে?
আমার পরিবারের সদস্যেরা অথবা বন্ধুরা কি বলেছে যে, আমি যখন গাড়ি চালাই, তখন তাদের আমাকে নিয়ে খুব চিন্তা হয়?
এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটা বা দুটো প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে আপনি চাইলে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কিছু রদবদল করতে পারেন। যেমন, আপনি হয়তো ভেবে দেখতে পারেন যে, আগের মতো আপনি রাতে গাড়ি চালাবেন কি না। মাঝে মাঝে এটা দেখার চেষ্টা করুন যে, আপনি ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছেন কি না। এই বিষয়ে আপনি আপনার পরিবারের কোনো সদস্য বা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আপনি চাইলে কোনো ড্রাইভিং কোর্স করতে পারেন, যেটা আপনাকে আরও নিরাপদে গাড়ি চালাতে সাহায্য করবে। কিন্তু, উপরে দেওয়া প্রশ্নগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ উত্তর যদি আপনার হ্যাঁ হয়, তা হলে গাড়ি না চালানোই আপনার জন্য ভালো হবে।a
বাইবেলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন
আমরা হয়তো এটা না-ও বুঝতে পারি যে, আগের মতো আমরা আর গাড়ি চালাতে পারছি না। আমাদের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেওয়া উচিত কি না, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে বাইবেলের কোন নীতি, আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে? আসুন, আমরা দুটো নীতি লক্ষ করি।
আপনার সীমাবদ্ধতা বুঝুন। (হিতো. ১১:২) আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, আমরা ঠিকভাবে শুনতে পাই না, আমাদের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে আর আমরা দ্রুত কাজ করতে পারি না। এই কারণে অনেকে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর কিছু ধরনের খেলাধুলা করা ছেড়ে দেয় কারণ তারা জানে যে, এটা করলে তারা শরীরে আঘাত পেতে পারে। এই নীতি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যে-ব্যক্তি তার সীমাবদ্ধতা বোঝে, সে হয়তো একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর গাড়ি চালানো ছেড়ে দেবে কারণ সে জানে এমনটা করা তার জন্য বিপদজনক। (হিতো. ২২:৩) আর যখন অন্যেরা তার বিষয়ে চিন্তা করে, তখন সেই ব্যক্তি তাদের কথা মন দিয়ে শোনে এবং তাদের পরামর্শ মেনে নেয়।—তুলনা করুন, ২ শমূয়েল ২১:১৫-১৭.
রক্তের দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। (দ্বিতীয়. ২২:৮) গাড়ি যদি ঠিকভাবে না চালানো হয়, তা হলে সেটা খুবই বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। একজন ব্যক্তি যদি নিরাপদে গাড়ি না চালায়, তা হলে সে নিজের ও অন্যদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গাড়ি চালানোর সময় তার কারণে যদি অ্যাক্সিডেন্ট ঘটে এবং কারো মৃত্যু হয়, তা হলে সে রক্তের দায়ে দোষী হবে।
হতে পারে, বয়সের কারণে আপনাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যে, এখন আপনার গাড়ি চালানো উচিত কি না। এই ক্ষেত্রে, এমনটা চিন্তা করবেন না আপনি যদি গাড়ি চালানো ছেড়ে দেন, তা হলে লোকেরা আপনাকে সম্মান করবে না। মনে রাখবেন, যিহোবা আপনাকে আপনার উত্তম গুণগুলোর জন্য ভালোবাসেন, যেমন আপনি একজন বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তি এবং অন্যদের জন্য চিন্তা করেন। যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি আপনাকে ধরে রাখবেন এবং আপনাকে সান্ত্বনা দেবেন। (যিশা. ৪৬:৪) তিনি কখনো আপনাকে একা ছেড়ে দেবেন না। তাই, যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন, যেন তিনি আপনাকে বুদ্ধি দেন এবং বাইবেলের নীতি বুঝতে সাহায্য করেন। এর ফলে, আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং এটা ঠিক করতে পারবেন যে, আপনি গাড়ি চালানো ছেড়ে দেবেন কি না।
a এই বিষয়ে আরও জানার জন্য ২০০২ সালের ২২ আগস্ট সচেতন থাক! পত্রিকায় দেওয়া “মোটরগাড়ি দুর্ঘটনা আপনি কি নিরাপদ?” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখুন।