অধ্যয়ন প্রবন্ধ ৪৬
গান ১৭ “ আমি চাই”
মহাযাজক যিশু আমাদের প্রতি সমবেদনা দেখান
“ আমরা এমন মহাযাজককে পাইনি, যিনি আমাদের দুর্বলতা বুঝতে পারেন না।”—ইব্রীয় ৪:১৫.
আমরা কী শিখব?
আমরা জানতে পারব, কীভাবে যিশু লোকদের কষ্ট বুঝেছিলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা দেখিয়েছিলেন, যে-কারণে তিনি সবচেয়ে উত্তম এক মহাযাজক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। আমরা এটাও জানব যে, আজ তিনি কীভাবে আমাদের সাহায্য করছেন।
১-২. (ক) যিহোবা কেন তাঁর পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন? (খ) এই প্রবন্ধে আমরা কী জানতে পারব? (ইব্রীয় ৫:৭-৯)
প্রায় ২,০০০ বছর আগে যিহোবা ঈশ্বর তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পুত্র যিশুকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। কেন? এর একটা কারণ হল, তিনি মানুষকে পাপ ও মৃত্যু থেকে উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন এবং শয়তানের কারণে যে-ক্ষতিগুলো হয়েছে, সেগুলো ঠিক করতে চেয়েছিলেন। (যোহন ৩:১৬; ১ যোহন ৩:৮) কিন্তু, যিহোবা এটাও জানতেন যে, একজন মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করার মাধ্যমে যিশু এমন এক মহাযাজক হয়ে উঠতে পারবেন, যিনি মানুষের কষ্ট বোঝেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা দেখান। ২৯ খ্রিস্টাব্দে যিশু যখন বাপ্তিস্ম নেন, তখন থেকে তিনি মহাযাজক হিসেবে সেবা করতে শুরু করেন।a
২ এই প্রবন্ধে আমরা জানতে পারব, পৃথিবীতে আসার ফলে যিশু কীভাবে একজন সহানুভূতিশীল মহাযাজক হয়ে উঠেছিলেন। আমরা যখন এই বিষয়টা ভালোভাবে বুঝব যে, মহাযাজক হিসেবে সেবা করার জন্য যিশু কীভাবে “নিখুঁত” বা যোগ্য হয়ে উঠেছিলেন, তখন আমরা নির্দ্বিধায় যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারব, এমনকী সেইসময়েও যখন আমরা পাপ অথবা দুর্বলতার কারণে হতাশ হয়ে পড়ি।—পড়ুন, ইব্রীয় ৫:৭-৯.
ঈশ্বরের প্রিয় পুত্র পৃথিবীতে আসেন
৩-৪. যিশু যখন পৃথিবীতে আসেন, তখন তাঁর জীবনে কোন বড়ো পরিবর্তনগুলো ঘটে?
৩ আজ আমাদের পরিস্থিতি যেকোনো সময়ে বদলে যেতে পারে। আমাদের হয়তো নিজেদের বাড়ি, পরিবার এবং বন্ধুদের ছেড়ে কোথাও যেতে হতে পারে। আর এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। এইরকম সময়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা সহজ হয় না। যিশু যখন পৃথিবীতে আসেন, তখন সেটা তাঁর জীবনের একটা বিরাট পরিবর্তন ছিল। এইরকম পরিবর্তন কারো জীবনে কখনো ঘটেনি। স্বর্গে যিশু যিহোবার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ছিলেন এবং তিনি যিহোবার “ডান দিকে” থাকতেন। (গীত. ১৬:১১, NW) সেখানে প্রতিদিন তিনি তাঁর পিতার ভালোবাসা অনুভব করতেন এবং সবসময় আনন্দে থাকতেন কারণ তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে কাজ করতেন। (হিতো. ৮:৩০) কিন্তু, যেমনটা ফিলিপীয় ২:৭ পদে লেখা আছে, যিশু ইচ্ছুকমনে “নিজের সমস্ত কিছু ত্যাগ করেছিলেন।” একবার ভেবে দেখুন, তিনি স্বর্গে এক উচ্চ পদ ছেড়ে পৃথিবীতে আসেন এবং পাপী মানুষের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
৪ এখন আসুন আমরা লক্ষ করি, যিশুর যখন জন্ম হয়েছিল এবং তিনি যখন ছোটো ছিলেন, তখন পরিস্থিতি কেমন ছিল। তার বাবা-মা এতটাই গরিব ছিলেন যে, যিশুর জন্মের পর তারা মন্দিরে গিয়ে খুব সামান্য মূল্যের বলি উৎসর্গ করেছিলেন। (লেবীয়. ১২:৮; লূক ২:২৪) এরপর দুষ্ট রাজা হেরোদ যখন যিশুর জন্মের খবর পান, তখন তিনি তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। হেরোদের হাত থেকে যিশুকে বাঁচানোর জন্য তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যান এবং সেখানে কিছু সময়ের জন্য শরণার্থী হিসেবে থাকতে শুরু করেন। (মথি ২:১৩, ১৫) একবার চিন্তা করে দেখুন, যিশুর জীবন কতটা বদলে গিয়েছিল। কোথায় একসময় তিনি স্বর্গে ছিলেন আর এখন তাঁকে আশ্রয় নেওয়ার জন্য এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে।
৫. (ক) যিশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন, তখন তিনি কী দেখেছিলেন? (খ) যিশুর এই অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁকে সহানুভূতিশীল মহাযাজক হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল? (ছবিও দেখুন।)
৫ পৃথিবীতে যিশু লোকদের দুঃখকষ্ট দেখেছিলেন। তিনি তাঁর প্রিয়জনদের হারানোর কষ্টও সহ্য করেছিলেন। তিনি হয়তো তাঁর বাবা যোষেফের মৃত্যুও দেখেছিলেন। পৃথিবীতে সেবা করার সময় যিশুর এমন কিছু ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়, যারা অসুস্থ, অন্ধ এবং খোঁড়া ছিল। এমনকী সন্তানহারা সেই বাবা-মায়েদের সঙ্গেও তার দেখা হয়, যারা খুবই কষ্টের মধ্যে ছিল। তাদের দুঃখ যিশুর হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। (মথি ৯:২, ৬; ১৫:৩০; ২০:৩৪; মার্ক ১:৪০, ৪১; লূক ৭:১৩) এটা ঠিক যে, স্বর্গে থাকার সময় যিশু লোকদের কষ্ট দেখেছিলেন। কিন্তু, এখন পৃথিবীতে এসে, তিনি আরও কাছ থেকে মানুষের কষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন। (যিশা. ৫৩:৪) তিনি মানুষের অনুভূতি, তাদের উদ্বিগ্নতা এবং তাদের কষ্ট বুঝেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিজেও সেই অনুভূতিগুলো অনুভব করেছিলেন। যেমন, তাঁর জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি এসেছিল, যখন তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন, খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছিলেন।
যিশু লোকদের প্রতি সমবেদনা দেখাতেন এবং যারা কষ্টে আছে, তাদের জন্য চিন্তা করতেন (৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
যিশু মানুষের কষ্ট বুঝেছিলেন
৬. যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী থেকে কীভাবে জানা যায় যে, মশীহ অর্থাৎ যিশু লোকদের প্রতি সমবেদনা দেখান এবং তাদের কষ্ট বুঝতে পারেন? (যিশাইয় ৪২:৩)
৬ পৃথিবীতে সেবা করার সময় যিশু সেই সমস্ত লোকের প্রতি সমবেদনা দেখিয়েছিলেন, যাদের সমাজে নীচু চোখে দেখা হত এবং যাদের উপর অত্যাচার করা হত। এমনটা করার মাধ্যমে তিনি যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করেছিলেন। ইব্রীয় শাস্ত্রে, কখনো কখনো ধনী এবং শক্তিশালী লোকদের একটা জলসিক্ত বাগান অথবা বড়ো বড়ো গাছের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। (গীত. ৯২:১২; যিশা. ৬১:৩; যির. ৩১:১২) আর অপর দিকে যারা দরিদ্র ও অত্যাচারিত, তাদের থেঁতলে যাওয়া নলখাগড়া এবং মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সলতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। (পড়ুন, যিশাইয় ৪২:৩; মথি ১২:২০) এইভাবে তুলনা করার মাধ্যমে ভাববাদী যিশাইয় বলতে চেয়েছিলেন যে, আগামী দিনে যিনি মশীহ হবেন অর্থাৎ যিশু, সেই সমস্ত মানুষের কষ্ট বুঝবেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা দেখাবেন, যাদের সমাজে কোনো মূল্য দেওয়া হয় না।
৭-৮. যিশু কীভাবে যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করেছিলেন?
৭ সুসমাচার বইয়ের লেখক মথি বলেছিলেন যে, যিশু কীভাবে যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করেছিলেন। মথি লিখেছিলেন, “তিনি থেঁতলে যাওয়া নলখাগড়া ভাঙবেন না এবং মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সলতে নিভিয়ে ফেলবেন না।” সমাজে যাদের তুচ্ছ করা হত এবং যারা নিজেদের থেঁতলে যাওয়া নলখাগড়া মনে করত, তাদের জন্যও যিশু অনেক অলৌকিক কাজ করেছিলেন। এমনকী তিনি তাদেরও সাহায্য করেছিলেন, যাদের জীবনে কোনো আশা ছিল না অর্থাৎ এক অর্থে যারা মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সলতের মতো নিভে যাওয়ার অবস্থায় ছিল। একবার যিশু এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে পান, যার পুরো শরীরে কুষ্ঠ হয়েছিল। সেই ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার এবং নিজের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে থাকার কথা কখনো কল্পনাও করতে পারত না। (লূক ৫:১২, ১৩) এ ছাড়া, যিশুর আরও একজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যে শুনতে পেত না এবং ঠিকভাবে কথাও বলতে পারত না। একবার চিন্তা করে দেখুন, সেই ব্যক্তি যখন অন্যদের হেসে হেসে কথা বলতে দেখত, কিন্তু সে নিজে কিছুই বুঝতে পারত না, তখন তার মনের অবস্থা কী হত! (মার্ক ৭:৩২, ৩৩) কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল, এই লোকদের আরও একটা কষ্ট সহ্য করতে হত।
৮ সেইসময় অনেক যিহুদি বিশ্বাস করত যে, নিজের অথবা বাবা-মায়ের পাপের কারণে সন্তানেরা শাস্তি পায়। (যোহন ৯:২) এই ভুল ধারণার জন্য যিহুদিরা এই অসহায় লোকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত এবং তাদের এটা অনুভব করাত যে, তারা কোনো কাজের নয়। যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, যিশু তাদের সুস্থ করেছিলেন এবং তাদের কষ্ট দূর করেছিলেন। তিনি লোকদের এই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, যিহোবা তাদের জন্য অনেক চিন্তা করেন। এর ফলে, তারা নিশ্চয়ই জীবনে বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পেয়েছিল। এখন আসুন আমরা দেখি, যিশু আমাদের বিষয়ে কেমন অনুভব করেন।
৯. ইব্রীয় ৪:১৫,১৬ পদ থেকে আমরা কীভাবে বুঝতে পারি যে, আমাদের মহাযাজক আমাদের মতো পাপী মানুষের প্রতি সমবেদনা দেখান?
৯ ইব্রীয় ৪:১৫, ১৬ পদ পড়ুন। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, যিশু সবসময় আমাদের প্রতি সমবেদনা দেখাবেন। এখানে যে-গ্রিক শব্দকে “সমবেদনা” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটার অর্থ হল কাউকে কষ্ট পেতে দেখে, নিজে সেই কষ্ট অনুভব করা। (পৌল এই গ্রিক শব্দের ব্যবহার ইব্রীয় ১০:৩৪ পদেও করেছিলেন।) যিশু যে-অলৌকিক কাজগুলো করেছিলেন, সেখান থেকে এটা বোঝা যায় যে, মানুষের কষ্ট দেখে, তিনি কতটা কষ্ট পেতেন। তিনি শুধুমাত্র কর্তব্যের খাতিরে, লোকদের সুস্থ করেননি। তিনি সত্যিই লোকদের জন্য চিন্তা করতেন এবং হৃদয় থেকে তাদের সাহায্য করতে চাইতেন। যেমন, তিনি একজন কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করেছিলেন। তিনি চাইলে দূর থেকে তাকে সুস্থ করতে পারতেন। কিন্তু, যিশু সেই কুষ্ঠ রোগীর কাছে গিয়েছিলেন এবং তাকে স্পর্শ করে সুস্থ করেছিলেন। একবার ভেবে দেখুন, সেই ব্যক্তির কেমন লেগেছিল। হতে পারে, অনেক বছর পর কেউ তাকে স্পর্শ করেছে। আর এটাও চিন্তা করুন, যিশু একজন বধির ব্যক্তিকে কীভাবে সুস্থ করেন। যিশু তার প্রতি সম্মান দেখান এবং তাকে একটা নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গিয়ে সুস্থ করেন। এবার সেই মহিলার কথা চিন্তা করুন, যিনি তার পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন। তিনি তার চোখের জল দিয়ে যিশুর পা ধুইয়ে দিয়েছিলেন এবং তার চুল দিয়ে তাঁর পা মুছেছিলেন। ফরীশীরা সেই মহিলাকে খুব নীচু চোখে দেখত, কিন্তু যিশু তাদের চিন্তাধারা পালটে দেন এবং সেই মহিলার পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। (মথি ৮:৩; মার্ক ৭:৩৩; লূক ৭:৪৪) যিশু কখনো পাপী বা অসুস্থ ব্যক্তিদের এড়িয়ে যাননি। এর পরিবর্তে, তিনি তাদের নিজের কাছে ডেকেছিলেন এবং তাদের প্রতি প্রেম দেখিয়েছিলেন। আজ আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত যে, যিশু আমাদের ভালোবাসেন এবং আমাদের প্রতি তাঁর সমবেদনা রয়েছে।
আমরা আমাদের মহাযাজককে অনুকরণ করে লোকদের সাহায্য করি
১০. যারা দেখতে বা শুনতে পায় না, তাদের সাহায্য করার জন্য আমরা কী করতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১০ যিশুর শিষ্য হিসেবে আমরা তাঁকে অনুকরণ করতে চাই আর সেইজন্য আমরা লোকদের ভালোবাসি, তাদের কষ্টে কষ্ট পাই এবং তাদের প্রতি সমবেদনা দেখাই। (১ পিতর ২:২১; ৩:৮) যদিও আমরা যিশুর মতো অলৌকিক কাজ করে লোকদের সুস্থ করতে পারি না, কিন্তু যিহোবার নিকটবর্তী হতে আমরা অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে পারি। যেমন, যিহোবার সংগঠন ১০০-রও বেশি সাংকেতিক ভাষায় বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনা প্রস্তুত করে থাকে। যারা অন্ধ তাদের জন্য সংগঠন ৬০-এরও বেশি ভাষায় ব্রেইল প্রকাশনা তৈরি করে থাকে। আর যারা ঠিকমতো দেখতে পায় না, তাদের জন্যও ১০০-রও বেশি ভাষায় অডিও ডেসক্রিপশন তৈরি করা হয় (ভিডিওতে যে-দৃশ্য দেখানো হয়, সেটা অডিও ডেসক্রিপশনে বলে দেওয়া হয়)। এই সমস্ত কিছু করার মাধ্যমে যে-সমস্ত লোক দেখতে বা শুনতে পায় না, তারাও যিহোবার এবং তাঁর পুত্রের নিকটবর্তী হতে পারে।
আমাদের বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনা ১,০০০-এরও বেশি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে
বাঁ-দিকে: ১০০-রও বেশি সাংকেতিক ভাষা
ডান দিকে: ৬০-এরও বেশি ভাষায় ব্রেইল প্রকাশনা
(১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১১. কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবার সংগঠন যিশুর মতো সমস্ত লোকের প্রতি সমবেদনা দেখায়? (প্রেরিত ২:৫-৭, ৩৩.) (ছবিগুলোও দেখুন।)
১১ যিহোবার সংগঠন অনেক পরিশ্রম করছে, যাতে সমস্ত ধরনের লোক তাঁর নিকটবর্তী হতে পারে। মনে করে দেখুন, পুনরুত্থিত হওয়ার পর যিশু পঞ্চাশত্তমীর দিনে পবিত্র শক্তি বর্ষণ করেন, যাতে যে-লোকেরা সেই উৎসবে এসেছিল, তারা প্রত্যেকে “নিজ নিজ ভাষায়” সুসমাচার শুনতে পারে। (পড়ুন, প্রেরিত ২:৫-৭, ৩৩.) যিশুর নেতৃত্বের অধীনে বর্তমানে যিহোবার সংগঠন ১,০০০-এরও বেশি ভাষায় বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনা প্রস্তুত করছে। এমনকী সেই সমস্ত ভাষায়ও প্রকাশনাগুলো তৈরি করা হয়, যে-ভাষায় খুব কম লোক কথা বলে। যেমন, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এমন অনেক ভাষা (আমেরিন্ডিয়ান ভাষা) রয়েছে, যেগুলোতে খুব কম লোকই কথা বলে। তবে, এর মধ্যে ১৬০-টারও বেশি ভাষায় আমাদের প্রকাশনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি লোক সুসমাচার জানতে পারে। এ ছাড়া, ইউরোপে বসবাস করে রোমা সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে বিভিন্ন ভাষায় (রোমানী ভাষা) কথা বলা হয়। আমাদের সংগঠন ২০-টারও বেশি ভাষায় তাদের জন্য প্রকাশনা তৈরি করেছে। এই ভাষাগুলোতে কথা বলে এমন হাজার হাজার ব্যক্তি সত্য গ্রহণ করেছে এবং যিহোবার সেবা করে চলছে।
বাঁ-দিকে: ১৬০-এরও বেশি আমেরিন্ডিয়ান ভাষা
ডান দিকে: ২০-টারও বেশি রোমানী ভাষা
(১১ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১২. যিহোবার সংগঠন আর কীভাবে লোকদের সাহায্য করে?
১২ সুসমাচার দূরদূরান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও, যিহোবার সংগঠন ত্রাণকাজও করে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভাই-বোনদের পাশে থাকার জন্য আমাদের অনেক ভাই-বোন তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমাদের সংগঠন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উপাসনাস্থল প্রস্তুত করার চেষ্টা করে, যাতে ভাই-বোনেরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে যিহোবার উপাসনা করতে পারে এবং তাঁর প্রেম অনুভব করতে পারে।
আমাদের মহাযাজক আপনাকে সাহায্য করতে পারেন
১৩. যিশু কোন কোন উপায়ে আমাদের সাহায্য করেন?
১৩ যিশু হলেন একজন উত্তম মেষপালক, যিনি আমাদের প্রত্যেকের যত্ন নেন, যাতে যিহোবার সঙ্গে আমাদের এক দৃঢ় সম্পর্ক বজায় থাকে। (যোহন ১০:১৪; ইফি. ৪:৭) অনেকসময় আমরা এতটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ি যে, নিজেদের মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সলতে এবং থেঁতলে যাওয়া নলখাগড়া মনে করি। হতে পারে, আমাদের কোনো গুরুতর রোগ হয়েছে, আমরা কোনো ভুল বা পাপ করে ফেলেছি অথবা কোনো ভাই-বোনের সঙ্গে আমাদের মনোমালিন্য হয়েছে। এইরকম পরিস্থিতিতে আমরা হয়তো নিজেদের সমস্যা নিয়েই ভাবি এবং ভবিষ্যতের জন্য আমাদের যে-আশা রয়েছে, সেটা নিয়ে চিন্তা করি না। কিন্তু মনে রাখবেন, যিশু আপনার হৃদয়ের অনুভূতি বোঝেন এবং তিনি জানেন, আপনি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই নিশ্চিত থাকুন, আপনার প্রতি যিশুর সমবেদনা রয়েছে বলেই তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন। যেমন, আপনি যখন খুবই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন, তখন তিনি পবিত্র শক্তি দিয়ে আপনাকে শক্তিশালী করতে পারেন। (যোহন ১৬:৭; তীত ৩:৬) এ ছাড়া, তিনি ‘মানুষদের মধ্যে দান’ অর্থাৎ প্রাচীনদের মাধ্যমে এবং অন্যান্য ভাই-বোনের মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন এবং আপনার বিশ্বাসকে মজবুত করতে পারেন।—ইফি. ৪:৮.
১৪. আমরা যখন নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ি, তখন আমাদের কী করা উচিত?
১৪ আপনি যদি নিজেকে থেঁতলে যাওয়া নলখাগড়া মনে করেন এবং মিটমিট করে জ্বলতে থাকা সলতের মতো আপনার উদ্যোগ যদি কমে গিয়ে থাকে, তা হলে মনে রাখবেন, যিশু হলেন আমাদের মহাযাজক। যিহোবা তাঁকে এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র মুক্তির মূল্য দেওয়ার জন্যই পাঠাননি, কিন্তু এইজন্যও পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি মানুষের কষ্ট ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই, আমরা যখন আমাদের কোনো দুর্বলতা কিংবা পাপের কারণে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ি, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যিশু আমাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত এবং “যখন সাহায্যের প্রয়োজন হয়,” তখনই তিনি আমাদের সাহায্য করবেন।—ইব্রীয় ৪:১৫, ১৬.
১৫. মণ্ডলীতে আবারও ফিরে আসার ক্ষেত্রে একজন ভাইকে কীভাবে সাহায্য করা হয়েছিল?
১৫ যিহোবার মেষদের মধ্যে যারা তাঁর কাছ থেকে দূরে চলে যায়, যিশু তাদের খোঁজার এবং সাহায্য করার জন্য নিজের লোকদের নির্দেশনা দেন। (মথি ১৮:১২, ১৩) ভাই, স্টেফানোরb উদাহরণ লক্ষ করুন। তাকে মণ্ডলী থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ১২ বছর পর তিনি চিন্তা করেছিলেন যে, তিনি একটা সভায় যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “এটা আমার জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু তারপরও আমি সভাতে যাই। আমি আবারও যিহোবার পরিবারের সঙ্গে মিলে তাঁর সেবা করতে চেয়েছিলাম। যে-প্রাচীন আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তিনি খুবই প্রেমের সঙ্গে আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে, কখনো কখনো আমার নিজেকে খুবই অযোগ্য বলে মনে হত আর আমি হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, প্রাচীনেরা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল যে, যিহোবা ও যিশু চান আমি যেন প্রচেষ্টা করে চলি। আমাকে যখন পুনর্বহাল করা হয়, তখন পুরো মণ্ডলী আমাকে এবং আমার পরিবারকে হৃদয় থেকে স্বাগত জানায়। ধীরে ধীরে আমার স্ত্রীও বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করে আর বর্তমানে আমাদের পুরো পরিবার একসঙ্গে যিহোবার সেবা করছে।” একটু চিন্তা করুন, আমাদের মহাযাজক যিশু যখন দেখেন, অনুতপ্তকারী ব্যক্তিদের কীভাবে সাহায্য করা হচ্ছে, তখন তিনি কতই-না খুশি হন!
১৬. আপনি কেন এক সহানুভূতিশীল মহাযাজককে পেয়ে কৃতজ্ঞ?
১৬ পৃথিবীতে থাকাকালীন যিশু লোকদের কষ্ট পেতে দেখে দ্রুত তাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। আজ আমরাও নিশ্চিত থাকতে পারি যে, প্রয়োজনের সময় তিনি আমাদের সাহায্য করবেন। শুধু তা-ই নয়, নতুন জগতেও তিনি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করবেন এবং পাপ ও অসিদ্ধতার কারণে যে-ক্ষতি হয়েছে, তা ঠিক করে দেবেন। আমরা যিহোবার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ কারণ তিনি আমাদের এতটাই ভালোবেসেছেন যে, নিজের পুত্রকে আমাদের মহাযাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, এমন মহাযাজক যিনি আমাদের প্রতি সমবেদনা দেখান!
গান ১৩ খ্রিস্ট, আমাদের আদর্শ
a মন্দিরে সেবা করেন এমন একজন মহাযাজকের জায়গা যিশু কীভাবে নিয়েছিলেন, এই বিষয়ে আরও জানার জন্য ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “যিহোবার আধ্যাত্মিক মন্দিরে উপাসনা করার বিশেষ সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা দেখান!” প্রবন্ধের পৃষ্ঠা ২৬, অনুচ্ছেদ ৭-৯ পড়ুন।
b নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।