ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ৭/১ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • মানবজাতির অলৌকিক আরোগ্যলাভ নিকটবর্তী

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • মানবজাতির অলৌকিক আরোগ্যলাভ নিকটবর্তী
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • “তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল”
  • ঈশ্বরের ক্ষমতায় সুস্থ করা
  • অলৌকিক আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্য
  • বর্তমানে অলৌকিক সুস্থতা?
  • অসুস্থতা এবং মৃত্যু আর নেই
  • আজকের দিনে ‘অলৌকিক আরোগ্যসাধন’ এটা কি ঈশ্বর থেকে?
    ২০০৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবার সাক্ষিরা কি অলৌকিকভাবে আরোগ্যসাধন করে?
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অলৌকিক সুস্থতা কি আজও ঘটে?
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সমস্ত অলৌকিক আরোগ্যসাধন কি ঈশ্বরের কাছ থেকে?
    ২০০৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ৭/১ পৃষ্ঠা ৪-৭

মানবজাতির অলৌকিক আরোগ্যলাভ নিকটবর্তী

“এমন কখনও দেখি নাই।” যীশুর দ্বারা, পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির অলৌকিকভাবে তাৎক্ষণিক আরোগ্যলাভের প্রত্যক্ষদর্শীরা তা বলেছিল। (মার্ক ২:১২) এছাড়া যীশু অন্ধ, বোবা এবং খোঁড়া লোকেদের সুস্থ করেছিলেন আর তাঁর অনুগামীরাও অনুরূপ করেছিলেন। কোন্‌ ক্ষমতার সাহায্যে যীশু তা করেছিলেন? বিশ্বাস কোন্‌ ভূমিকা রেখেছিল? বর্তমানে অলৌকিক আরোগ্যলাভের উপর প্রথম শতাব্দীর এই অভিজ্ঞতাগুলি কীধরনের অর্থ প্রকাশ করে?—মথি ১৫:৩০, ৩১.

“তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল”

একজন স্ত্রীলোক যে বার বছর ধরে রক্তস্রাবে ভুগছিল, তার প্রতি যীশুর উক্তিটি বর্তমানের বিশ্বাস আরোগ্যকারীরা উদ্ধৃত করতে পছন্দ করে: “তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল।” (লূক ৮:৪৩-৪৮) যীশুর উক্তিটি কি ইঙ্গিত করে যে তার সুস্থতা তার বিশ্বাসের উপর ভিত্তিশীল ছিল? এটি কি “বিশ্বাস আরোগ্যের” এক উদাহরণ, যেভাবে এর ব্যবহার বর্তমানে করা হয়ে থাকে?

আমরা যখন বাইবেলের বিবরণ মনোযোগের সাথে পড়ি, তখন দেখতে পাই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা চাননি যে রোগগ্রস্তরা সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের বিশ্বাস ঘোষণা করুক। উপরে উদ্ধৃত স্ত্রীলোকটি যীশুকে কোন কিছু না বলেই এসে পিছন থেকে নিস্তব্ধে তাঁর বস্ত্র স্পর্শ করে আর “তৎক্ষণাৎ তাহার রক্তস্রাব বদ্ধ হইল।” আরেকটি ঘটনায়, যারা যীশুকে গ্রেফতার করতে এসেছিল তাদের মধ্যে একজনকে যীশু সুস্থ করেছিলেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তিকেও সুস্থ করেছিলেন, যার কোন ধরণাই ছিল না যে যীশু কে ছিলেন।—লূক ২২:৫০, ৫১; যোহন ৫:৫-৯, ১৩; ৯:২৪-৩৪.

তাহলে, বিশ্বাস কোন্‌ ভূমিকা রেখেছিল? যীশু এবং তাঁর শিষ্যেরা যখন সোর ও সীদোন অঞ্চলে ছিলেন, তখন একজন ফৈনিকীয় স্ত্রীলোক এসে উচ্চৈঃস্বরে বলেছিল: “হে প্রভু, দায়ূদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন, আমার কন্যাটি ভূতগ্রস্ত হইয়া অত্যন্ত ক্লেশ পাইতেছে।” তার হতাশার কথা কল্পনা করুন যখন সে আবেদন করেছিল: “প্রভু, আমার উপকার করুন।” করুণাবিষ্ট হয়ে, যীশু উত্তরে বলেছিলেন: “হে নারি তোমার বড়ই বিশ্বাস, তোমার যেমন ইচ্ছা, তেমনি তোমার প্রতি হউক।” আর “সেই দণ্ড অবধি” তার কন্যা সুস্থ হয়েছিল। (মথি ১৫:২১-২৮) স্পষ্টতই, বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু কার বিশ্বাস? লক্ষ্য করুন যে যীশু যার প্রশংসা করেছিলেন, তা ছিল মায়ের বিশ্বাস, অসুস্থ শিশুটির নয়। আর কিসে বিশ্বাস? যীশুকে “প্রভু, দায়ূদ-সন্তান” হিসাবে সম্বোধন করার দ্বারা, স্ত্রীলোকটি জনসাধারণ্যে স্বীকার করছিল যে যীশুই ছিলেন সেই প্রতিজ্ঞাত মশীহ। এটি ঈশ্বরে বিশ্বাস অথবা আরোগ্যকারীর ক্ষমতায় বিশ্বাসের কোন সাধারণ অভিব্যক্তি ছিল না। যখন যীশু বলেছিলেন, “তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল,” তিনি বুঝিয়েছিলেন যে মশীহ হিসাবে তাঁকে বিশ্বাস না করলে, রোগগ্রস্তরা তাঁর কাছে সুস্থ হওয়ার জন্য আসত না।

এই শাস্ত্রীয় উদাহরণগুলি থেকে, আমরা দেখতে পাই যে বর্তমানে যা সাধারণত দেখা যায় বা দাবি করা হয়ে থাকে তার তুলনায় যীশুর দ্বারা আরোগ্যকরণ ছিল অনেক ভিন্ন। সেখানে জনতার তরফ থেকে কোন দৃঢ় অনুভূতি—চিৎকার করা, কীর্তন করা, আর্তনাদ, মূর্ছা ইত্যাদির প্রকাশ ছিল না—যীশুর দিক দিয়েও কোন নাটকীয় প্রবল উত্তেজনা প্রকাশ পায়নি। এছাড়া, বিশ্বাসের অভাব আছে অথবা তাদের দান যথেষ্ট উদার ছিল না এমন ওজর দেখিয়ে যীশু কখনও রুগ্নকে আরোগ্য করতে ব্যর্থ হননি।

ঈশ্বরের ক্ষমতায় সুস্থ করা

কিভাবে যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা আরোগ্য কাজ করেছিলেন? “প্রভুর [“যিহোবার,” NW] শক্তি উপস্থিত ছিল, যেন তিনি সুস্থ করেন,” বাইবেল উত্তর দেয়। (লূক ৫:১৭) একটি আরোগ্যকরণের পর, লূক ৯:৪৩ পদ বলে, “সকলে ঈশ্বরের মহিমায় চমৎকৃত হইল।” যথার্থভাবে, যীশু আরোগ্যকারী হিসাবে নিজের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাননি। একটি ঘটনায় তিনি এক ব্যক্তি যার মধ্যে থেকে তিনি মন্দ দূতের উৎপীড়ন দূর করেছিলেন, তাকে বলেছিলেন: “তুমি বাটীতে তোমার আত্মীয়গণের নিকটে চলিয়া যাও, এবং প্রভু [“যিহোবা,” NW] তোমার জন্য যে যে মহৎ কার্য্য করিয়াছেন, ও তোমার প্রতি যে কৃপা করিয়াছেন, তাহা তাহাদিগকে জ্ঞাত কর।”—মার্ক ৫:১৯.

যেহেতু যীশু এবং প্রেরিতেরা ঈশ্বরের শক্তিতে সুস্থ করতেন, তাই এটি বুঝতে পারা সহজ, যে সুস্থ হয়েছে এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে কেন সবসময় আরোগ্যলাভের জন্য বিশ্বাসের প্রয়োজন হত না। কিন্তু, আরোগ্যকারীর ক্ষেত্রে দৃঢ় বিশ্বাসের প্রয়োজন ছিল। সেইজন্য যীশুর অনুগামীরা যখন এক বিশেষ শক্তিশালী মন্দ দূত দূর করতে অসমর্থ হয়েছিলেন, তখন যীশু এর কারণ সম্বন্ধে তাদের বলেছিলেন: “তোমাদের বিশ্বাস অল্প।”—মথি ১৭:২০

অলৌকিক আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্য

যদিও যীশু তাঁর সমগ্র পার্থিব পরিচর্যায় অনেক আরোগ্য কাজ সাধন করেছিলেন, কিন্তু তিনি প্রাথমিকভাবে কোন ‘আরোগ্য পরিচর্যা’ কাজে ধাবিত হননি। তাঁর অলৌকিক আরোগ্যকরণ—যার জন্য তিনি কখনও লোকেদের কাছে কিছু দাবি অথবা দান সংগ্রহ করেননি—সেটি ছিল গৌণ তাঁর প্রধান বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, যা হল ‘রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করা।’ (মথি ৯:৩৫) বিবরণ জানায়, কোন এক পরিস্থিতিতে “তিনি তাহাদিগকে সদয় ভাবে গ্রহণ করিয়া তাহাদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয় কথা কহিলেন, এবং যাহাদের সুস্থ হইবার প্রয়োজন ছিল, তাহাদিগকে সুস্থ করিলেন।” (লূক ৯:১১) সুসমাচারের বর্ণনায়, যীশুকে প্রায়ই “গুরু” বলে সম্বোধন করা হয়েছে কিন্তু কখনও “আরোগ্যকারী” হিসাবে নয়।

তাহলে, কেন, যীশু অলৌকিক সুস্থতার কাজ করেছিলেন? প্রধানত প্রতিজ্ঞাত মশীহ হিসাবে তাঁর পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। অন্যায়ভাবে, যোহন বাপ্তাইজক যখন কারাগারে বদ্ধ হয়েছিলেন, তখন তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে ঈশ্বর তাকে যা সম্পাদন করতে পাঠিয়েছিলেন তা তিনি করেছিলেন। তিনি তার নিজ শিষ্যদের যীশুর কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেন: “‘যাহার আগমন হইবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না আমরা অন্যের অপেক্ষায় থাকিব?’” লক্ষ্য করুন যীশু যোহনের শিষ্যদের কী বলেছিলেন: “তোমরা যাও, যাহা যাহা শুনিতেছ ও দেখিতেছ, তাহার সংবাদ যোহনকে দেও; অন্ধেরা দেখিতে পাইতেছে ও খঞ্জেরা চলিতেছে, কুষ্ঠীরা শুচীকৃত হইতেছে ও বধিরেরা শুনিতেছে, এবং মৃতেরা উত্থাপিত হইতেছে ও দরিদ্রদের নিকটে সুসমাচার প্রচারিত হইতেছে।”—মথি ১১:২-৫.

হ্যাঁ, বস্তুত যীশু কেবলমাত্র আরোগ্য কাজ সাধন করেননি কিন্তু অন্যান্য অলৌকিক কাজগুলি করেছিলেন যা সুসমাচারগুলিতে লিপিবদ্ধ আছে, সেইগুলি প্রতিজ্ঞাত মশীহ, “যাঁহার আগমন হইবে” তাঁর পরিচিতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাই “অন্যের অপেক্ষায়” থাকার কারও প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে অলৌকিক সুস্থতা?

তাহলে, আজকের দিনে আমাদের কি আশা করা উচিত যে সুস্থ করার মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর ক্ষমতার প্রমাণ দেবেন? না। ঈশ্বরের ক্ষমতায় অলৌকিক কাজগুলি করার মাধ্যমে যীশু, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি ছিলেন সেই মশীহ যার আগমনের বিষয় ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সকলের পড়ার জন্য যীশুর পরাক্রম কাজগুলি বাইবেলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই প্রত্যেকটি মানববংশে সেইরকম কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর দ্বারা ঈশ্বরের ক্ষমতার প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।

আগ্রহজনক বিষয় হল যে সুস্থকরণ এবং অন্যান্য অলৌকিক কাজগুলি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য ছিল। এমনকি যীশুর অলৌকিক কাজের কিছু প্রত্যক্ষদর্শীরাও বিশ্বাস করেনি যে তাঁর স্বর্গীয় পিতার সমর্থন ছিল। “যদিও তিনি তাহাদের সাক্ষাতে এত চিহ্ন-কার্য্য করিয়াছিলেন, তথাপি তাহারা তাঁহাতে বিশ্বাস করিল না।” (যোহন ১২:৩৭) সেই কারণে, বিভিন্ন অলৌকিক দান—যেমন ভাববাণী করা, বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলা, আরোগ্য করা ইত্যাদি—যা ঈশ্বর প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর বিভিন্ন সদস্যদের দিয়েছিলেন, সেই সম্বন্ধে আলোচনা করার পর, প্রেরিত পৌল বলতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন: “যদি ভাববাণী থাকে, তাহার লোপ হইবে; যদি বিশেষ বিশেষ ভাষা থাকে, সে সকল শেষ হইবে; যদি জ্ঞান থাকে, তাহার লোপ হইবে। কেননা আমরা কতক অংশে জানি, এবং কতক অংশে ভাববাণী বলি; কিন্তু যাহা পূর্ণ তাহা আসিলে, যাহা অংশমাত্র তাহার লোপ হইবে।”—১ করিন্থীয় ১২:২৮-৩১; ১৩:৮-১০.

অবশ্যই, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আমাদের মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, সুস্থ করার ভুল প্রতিশ্রুতির উপর একজনের বিশ্বাসকে স্থাপন করা শুধুমাত্র হতাশার দিকে পরিচালিত করবে। অধিকন্তু, শেষ সময় সম্পর্কে, যীশু এই সতর্কীকরণ দিয়েছিলেন: “ভাক্ত খ্রীষ্টেরা ও ভাক্ত ভাববাদীরা উঠিবে, এবং এমন মহৎ মহৎ চিহ্ন ও অদ্ভুত অদ্ভুত লক্ষণ দেখাইবে যে, যদি হইতে পারে, তবে মনোনীতদিগকেও ভুলাইবে।” (মথি ২৪:২৪) ভণ্ড চিকিৎসক ও প্রতারক ছাড়াও পৈশাচিক ক্ষমতার প্রকাশ ঘটবে। ফলে, ব্যাখ্যাতীত ঘটনার দাবিগুলিতে আমাদের অবাক হওয়া উচিত নয় আর এই সমস্ত ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই কোন ভিত্তি হতে পারে না।

যেহেতু আজকে যীশুর মত কেউই সুস্থ করতে পারে না, তাই আমরা কি কোন অসুবিধাজনক অবস্থায় আছি? অবশ্যই না। প্রকৃতপক্ষে, যারা যীশুর দ্বারা আরোগ্যলাভ করেছিল তারা পরিশেষে আবার অসুস্থ হতে পারত। তারা সকলে বৃদ্ধ হয়েছে এবং মারা গিয়েছে। তারা যে আরোগ্যের উপকার লাভ করেছিল তা তুলনামূলকভাবে সাময়িক ছিল। তথাপি, যীশুর অলৌকিক সুস্থতার এক স্থায়ী অর্থ রয়েছে এই পরিপ্রেক্ষিতে যে এটি ছিল ভবিষ্যৎ আশীর্বাদগুলির পূর্বাভাস।

অতএব ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল, পরীক্ষা করার পর, পূর্বোল্লেখিত আলেকজান্ডার এবং বেনিদিতা আধুনিককালের বিশ্বাসের মাধ্যমে আরোগ্য ও প্রেততাত্ত্বিক সুস্থতার প্রতি আর বিশ্বাস রাখে না। একই সাথে, তারা নিশ্চিত যে অলৌকিক আরোগ্যলাভ কেবলমাত্র অতীতের ঘটনা নয়। কেন তা? বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিদের মত, তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে আরোগ্যলাভের আশীর্বাদের জন্য প্রতীক্ষা করে আছে।—মথি ৬:১০.

অসুস্থতা এবং মৃত্যু আর নেই

আমরা ইতিমধ্যে যেমন দেখেছি যে অসুস্থকে সুস্থ বা অন্যান্য অলৌকিক কাজ করা যীশুর পরিচর্যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল না। বরঞ্চ, তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচারকে তাঁর প্রধান কাজ করে তুলেছিলেন। (মথি ৯:৩৫; লূক ৪:৪৩; ৮:১) সেই রাজ্যই হল মাধ্যম, যার দ্বারা ঈশ্বর মানবজাতির অলৌকিক আরোগ্য সাধন করবেন এবং যে পাপ ও অসিদ্ধতা মানব পরিবারের উপর শাস্তি নিয়ে এসেছে সেই সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি নির্মূল করবেন। তিনি এটি কিভাবে এবং কখন সম্পন্ন করবেন?

আগত শতাব্দীগুলির দিকে দৃষ্টিপাত করে, যীশু তাঁর প্রেরিত যোহনকে একটি ভাববাণীমূলক দর্শন দিয়েছিলেন: “এখন পরিত্রাণ ও পরাক্রম ও রাজত্ব আমাদের ঈশ্বরের, এবং কর্ত্তৃত্ব তাঁহার খ্রীষ্টের অধিকার হইল।” (প্রকাশিত বাক্য ১২:১০) সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দেখায় যে ১৯১৪ সালে ঈশ্বরের মহা বিরুদ্ধাচারী, শয়তানকে পৃথিবীর মধ্যে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে আর রাজ্য এখন বাস্তবিকরূপে সক্রিয়! মশীহ রাজ্যের রাজা হিসাবে যীশুকে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং তিনি পৃথিবীতে বিরাট পরিবর্তন করতে এখন প্রস্তুত।

অতি নিকট ভবিষ্যতে, যীশুর স্বর্গীয় সরকার এক ধার্মিক নতুন মানব সমাজের উপর শাসন করবে বস্তুতপক্ষে ‘এক নূতন পৃথিবী।’ (২ পিতর ৩:১৩) পরিস্থিতি তখন কেমন হবে? এখানে এক গৌরবময় পূর্বদর্শন রয়েছে: “আমি ‘এক নূতন আকাশ ও এক নূতন পৃথিবী’ দেখিলাম; কেননা প্রথম আকাশ ও প্রথম পৃথিবী লুপ্ত হইয়াছে; . . . আর [ঈশ্বর] তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল লুপ্ত হইল।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:১, ৪.

আপনি কি কল্পনা করতে পারেন সেই জীবন কেমন হবে যখন মানবজাতির জন্য অলৌকিক আরোগ্যলাভ সত্য হবে? “নগরবাসী কেহ বলিবে না, আমি পীড়িত; তন্নিবাসী প্রজাদের অপরাধের ক্ষমা হইবে।” হ্যাঁ, ঈশ্বর তা সম্পন্ন করবেন যা বিশ্বাস আরোগ্যকারীরা কখনও করতে পারবে না। “তিনি মৃত্যুকে অনন্তকালের জন্য বিনষ্ট করিয়াছেন।” বাস্তবিকই, “প্রভু সদাপ্রভু সকলের মুখ হইতে চক্ষুর জল মুছিয়া দিবেন।”—যিশাইয় ২৫:৮; ৩৩:২৪.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে মানবজাতির অলৌকিক আরোগ্য সাধন হবে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার