আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জিজ্ঞাস্য . . .
যিহোবার সাক্ষিরা কি অলৌকিকভাবে আরোগ্যসাধন করে?
▪ যিহোবার সাক্ষিরা কখনোই অলৌকিকভাবে আরোগ্যসাধন করেনি। যিশুর মতো তারাও বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রধান কাজ হল ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে সুসমাচার প্রচার করা। এ ছাড়া, তারা এও বিশ্বাস করে যে, সত্য খ্রিস্টানদেরকে অলৌকিকভাবে আরোগ্যসাধন করার দ্বারা নয় বরং আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এমন কিছুর দ্বারা শনাক্ত করা হয়।
নিশ্চিতভাবেই, সা.কা. প্রথম শতাব্দীতে যিশু খ্রিস্ট সমবেদনার সঙ্গে অসুস্থ ব্যক্তিদের যে আরোগ্য করেছিলেন, তা আমাদের সকলের কাছে বিরাট তাৎপর্য রাখে। এভাবে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেছিলেন যে, ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা হিসেবে তাঁর শাসনাধীনে “নগরবাসী কেহ বলিবে না, আমি পীড়িত।”—যিশাইয় ৩৩:২৪.
আজকের দিন সম্বন্ধে কী বলা যায়? খ্রিস্টীয় জগতের আর সেইসঙ্গে কিছু ন-খ্রিস্টীয় ধর্মের অলৌকিক আরোগ্যসাধনকারীরা অলৌকিক আরোগ্যসাধন করে বলে দাবি করে। কিন্তু যিশু নিজেই সেই সব ব্যক্তির বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সাবধান করেছিলেন, যারা তাঁর নামে ‘অনেক অলৌকিক কাজ করেছে’ বলে দাবি করে। তিনি তাদের বলবেন: “আমি তোমাদের কখনও আপন বলে জানিনি, দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও।” (মথি ৭:২২, ২৩, বাংলা ইজি-টু-রিড ভারসন) তাই, আধুনিক দিনের অলৌকিক আরোগ্যসাধনকারীদের তথাকথিত অলৌকিক কাজগুলো কি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের অনুমোদন অথবা আশীর্বাদের ইঙ্গিত দেয়?
যিশুর দ্বারা সাধিত আরোগ্যগুলোর বিষয়ে বাইবেল যা বলে তা বিবেচনা করুন। আজকের দিনের অলৌকিক আরোগ্যসাধনকারীদের পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে সেই শাস্ত্রীয় নথিকে তুলনা করার দ্বারা আমরা সহজেই নির্ধারণ করতে পারি যে, আধুনিক দিনের অলৌকিকভাবে আরোগ্যসাধন করা ঈশ্বর থেকে কি না।
যিশু কখনোই আরোগ্যসাধন করাকে অনুসারীদের অথবা বিরাট সংখ্যক শ্রোতাদের আকৃষ্ট করার এক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে, তিনি জনসাধারণের অগোচরে বেশ কিছু আরোগ্যসাধন করেছিলেন। যাদেরকে তিনি সুস্থ করেছিলেন অনেকবার তিনি তাদেরকে বলেছিলেন তারা যেন সেই অলৌকিক কাজের বিষয়ে কারো কাছে প্রকাশ না করে।—লূক ৫:১৩, ১৪.
যিশু কখনোই তাঁর অলৌকিক কাজগুলোর জন্য অর্থ চাননি। (মথি ১০:৮) এ ছাড়া, তাঁর সফলতার এক অব্যর্থ নথি ছিল। যে-অসুস্থ ব্যক্তিরা তাঁর কাছে এসেছিল তারা সকলেই পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়েছিল আর তাঁর এই আরোগ্যসাধন ব্যক্তিবিশেষের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেনি। (লূক ৬:১৯; যোহন ৫:৫-৯, ১৩) যিশু এমনকী মৃতদেরকেও উত্থাপিত করেছিলেন!—লূক ৭:১১-১৭; ৮:৪০-৫৬; যোহন ১১:৩৮-৪৪.
যদিও তিনি সেই অলৌকিক কাজগুলো সম্পাদন করেছিলেন, কিন্তু অলৌকিক কাজের আবেগগত সভাগুলোর মাধ্যমে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের একত্রিত করা যিশুর পরিচর্যার প্রধান বিষয় ছিল না। পরিবর্তে, তাঁর প্রধান কাজ ছিল ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করা। যিশু তাঁর অনুসারীদেরকে শিষ্যকরণকারী হয়ে ওঠার জন্য সংগঠিত করেছিলেন, যারা অন্যদেরকে ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে নিখুঁত স্বাস্থ্য লাভ করার আশা সম্বন্ধে শিক্ষা দেবে।—মথি ২৮:১৯, ২০.
এটা ঠিক যে, যিশুর প্রথম শতাব্দীর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ আরোগ্যসাধন করার বিশেষ দান লাভ করেছিল কিন্তু এগুলো শেষ হয়ে গিয়েছিল। (১ করিন্থীয় ১২:২৯, ৩০; ১৩:৮, ১৩) আজকে সত্য খ্রিস্টানদের আরোগ্যসাধনের কাজগুলোর দ্বারা নয় কিন্তু আত্মত্যাগমূলক প্রেমের বন্ধনের দ্বারা শনাক্ত করা হয়। (যোহন ১৩:৩৫) আধুনিক দিনের আরোগ্যসাধন সমস্ত জাতি ও পটভূমি থেকে আসা খ্রিস্টানদের এক অকৃত্রিম পরিবার উৎপন্ন করে না, যারা এই ধরনের প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ।
কিন্তু, খ্রিস্টানদের এমন একটা দল রয়েছে, যারা প্রেমের এত দৃঢ় এক বন্ধনের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ যে, এমনকী মানুষের ভয়ানক দ্বন্দ্বগুলোর সময়েও তারা একে অপরের—অথবা যেকারোর—ক্ষতি করাকে প্রত্যাখ্যান করে। তারা কারা? যিহোবার সাক্ষি। খ্রিস্টতুল্য প্রেম প্রদর্শন করার জন্য তারা পৃথিবীব্যাপী পরিচিত। রূপকভাবে বলতে গেলে, বিভিন্ন বংশ, জাতি, সাংস্কৃতিক ও উপজাতিগত পটভূমির লোকেদের ঐক্যবদ্ধ করা হল এক অলৌকিক কাজ আর তা কেবল ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার দ্বারাই সম্ভবপর হয়েছে। তাদের সভাগুলোর একটাতে যোগদান করে নিজেই তা দেখুন না কেন? (w১০-E ১০/০১)
[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
আধুনিক দিনের অলৌকিক আরোগ্যসাধনকারীদের (ডান দিকে দেখানো) কি সত্যই ঈশ্বরের সমর্থন রয়েছে?