“কোথা থেকে অর্থ আসে?”
ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির ভিডিও “যিহোবার সাক্ষীবৃন্দেরা—সংগঠনের পশ্চাতে নামটি” দর্শকদের উপর ছাপ ফেলে। তারা দেখেছে বিভিন্ন জাতি ও পটভূমিকা থেকে মনোরম পুরুষ ও নারী, একত্রে মিল রেখে হেসে কাজ করে। কেবলমাত্র হাজার হাজার সুখী কর্মীরাই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না, কিন্তু সমিতির ব্রুকলিন প্রধান কার্যালয়ে বড় বড় বিল্ডিং এবং নিউ ইয়র্ক ওয়ালকিলে তাদের ফার্মগুলিও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওটি দেখায় যে এই বিল্ডিং এর ভিতরে আধুনিক দিনের প্রযুক্তিবিদ্যা দেখতে পাওয়া যায়—উচ্চ গতিসম্পন্ন ছাপাখানা ও বই বাঁধানোর সরঞ্জাম প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ প্রকাশনা উৎপাদন করে, বিভিন্নরকমের কমপিউটার সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন বিভাগ যাদের কাজ হল সাহিত্য প্রকাশনায় সমর্থন যোগানো।
এটি সম্পদের এক অভূতপূর্ব উৎকর্ষকে প্রতিফলিত করে। তাই কেউ কেউ প্রশ্ন করে, “কোথা থেকে অর্থ আসে?”
সমিতির বিশ্ব প্রধান কার্যালয়টি একইভাবে দর্শকদের উপর ছাপ ফেলে। এই ৩০ তলাবিশিষ্ট বাসস্থানের নতুন বিল্ডিংটি দেখতে দর্শকদের কষ্ট হয়, এর মধ্যে একটি বিল্ডিংকে ৩,০০০ স্বেচ্ছাকারী পরিচারক যারা সেখানে কাজ করত তাদের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহার করা হত। ব্রুকলিনের উত্তরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে ওয়াচটাওয়ারের নতুন শিক্ষা কেন্দ্রটি পরিদর্শন দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। যদিও, এখনও পর্যন্ত নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে, এটি প্রায় ১,২০০ জন কর্মীর থাকার ব্যবস্থা করে। প্রতি বছর মিশনারীদের দুটি ক্লাসকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের বিদেশে কাজে পাঠোনো হবে। এটিও হল তার এলাকা যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যিহোবার সাক্ষীদের ১০,০০০টির বেশি মণ্ডলীকে পরিচালনা দেওয়া হয়। পৃথিবীব্যাপী বহু শাখাগুলিও সম্প্রতি তাদের কাজের পরিধিকে বাড়িয়েছে অথবা তা করার পথে। এই সমস্ত কাজকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করে, “কোথা থেকে অর্থ আসে?”
এর উত্তর হল আমাদের মত যে কোন সাধারণ লোকেদের কাছ থেকে। এরা হল সেই লোকেরা, জগদ্ব্যাপী যারা আবশ্যকীয় প্রচার ও শিক্ষাদানের কাজকে বাড়াতে যতটা করতে পারে তা করতে চায়। এইধরনের ইচ্ছুক মনোভাব নজীরবিহীন নয়।
প্রাচীন ইস্রায়েল দ্বারা স্থাপিত উদাহরণ
৩,৫০০ বছরেরও বেশি আগে এক উদার দানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। যিহোবা একটি সমাগম তাম্বু অথবা “মণ্ডলী” করতে মোশিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে প্রকল্পটি তাঁর উপাসনায় ব্যবহৃত হবে। এই ঐশিক প্রকল্পটির জন্য নানা রকম মূল্যবান বস্তুর প্রয়োজন ছিল। যিহোবা আদেশ দিয়েছিলেন: “তোমরা সদাপ্রভুর নিমিত্তে আপনাদের নিকট হইতে উপহার লও; যে কেহ মনে ইচ্ছুক, সে সদাপ্রভুর উপহারস্বরূপ এই সকল দ্রব্য আনিবে।” (যাত্রাপুস্তক ৩৫:৪-৯) লোকেরা কিভাবে সাড়া দিয়েছিল? বিবরণীটি আমাদের জানায় “যাহাদের হৃদয়ে প্রবৃত্তি ও মনে ইচ্ছা হইল, তাহারা সকলে সমাগম তাম্বু নির্ম্মাণ জন্য এবং তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত কার্য্যের ও পবিত্র বস্ত্রের জন্য সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার আনিল।” এই “ইচ্ছাপূর্ব্বক . . . উপহার” কালক্রমে এতই প্রচুর হয়ে উঠেছিল যে ‘সদাপ্রভু যাহা যাহা রচনা করিতে আজ্ঞা করিয়াছিলেন, লোকেরা সেই কার্য্যের জন্য অতিরিক্ত অধিক বস্তু’ এনেছিল। (যাত্রাপুস্তক ৩৫:২১-২৯; ৩৬:৩-৫) লোকেরা কতই না স্বার্থত্যাগ, উদার মনোভাব প্রকাশ করেছিল!
৫০০ বছর অতিবাহিত হওয়ার কিছু আগে, ইস্রায়েলীয়দের কাছ থেকে আবার উদার দানের আহ্বান জানানো হয়। যিরূশালেমে যিহোবার জন্য স্থায়ী গৃহ নির্মাণ করার জন্য দায়ূদের ইচ্ছা এবার তার পুত্র শলোমনের দ্বারা চরিতার্থ হতে চলেছিল। দায়ূদ নিজেই প্রয়োজনীয় বস্তুর একটি বড় অংশ সংগ্রহ ও দান করেন। অন্যান্যেরাও এর সাথে যোগ দেয় যখন “সদাপ্রভুর উদ্দেশে . . . দান” আনার জন্য দায়ূদ আবেদন জানান। এর ফল? “তাহাতে প্রজারা ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করা হেতু আনন্দ করিল, কেননা তাহারা একাগ্রচিত্তে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করিল, এবং দায়ূদ রাজাও মহানন্দে আনন্দ করিলেন।” (১ বংশাবলি ২২:১৪; ২৯:৩-৯) সম্প্রতি মূল্যের ভিত্তিতে রুপো ও সোনার মূল্যই হবে প্রায় ৫,০০০ কোটি ডলার!—২ বংশাবলি ৫:১.
এই উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কাউকে জোর করে দান করতে বলা হয়নি। এটি নির্দিষ্টরূপে “ইচ্ছাপূর্ব্বক” এবং “একাগ্রচিত্তে” দেওয়া হয়েছিল। এর থেকে কোন কমে যিহোবা খুশি হবেন না। ঠিক একই রকমভাবে, যখন দুস্থ খ্রীষ্টানদের সাহায্য করার জন্য অর্থ দানের সুযোগ আসে তখন প্রেরিত পৌল উল্লেখ করেছিলেন যে এটি যেন “পীড়াপীড়ির বিষয়” না হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন হৃদয়ে যেরূপ সঙ্কল্প করিয়াছে, তদনুসারে দান করুক, মনোদুঃখপূর্ব্বক কিম্বা আবশ্যক বলিয়া না দিউক; কেননা ঈশ্বর হৃষ্টচিত্ত দাতাকে ভাল বাসেন।”—২ করিন্থীয় ৯:৫, ৭.
আজকের দিনের প্রয়োজন
আজকের দিনে কি দানের কোন প্রয়োজন আছে? অবশ্যই আছে এবং যতই সময় অতিবাহিত হতে থাকবে আরও বেশি এর প্রয়োজন হবে। কেন?
শেষকালের এই সময় সম্বন্ধে খ্রীষ্টানদের নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যীশু তাঁর শিষ্যদের আদেশ দিয়েছিলেন: “অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্ত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও।”—মথি ২৮:১৯, ২০.
যতই আমরা “যুগান্তে”-র সন্নিকটে অগ্রসর হচ্ছি, ততই এই বিশাল শিক্ষা ও প্রচার কাজ সম্পাদন করার জন্য অনেক সময় ও সংস্থানের প্রয়োজন। কেন? কারণ “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত” ঈশ্বরের রাজ্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমস্ত কিছু এর অন্তর্ভুক্ত। (প্রেরিত ১:৮) প্রথম-শতাব্দীর যিহূদীদের মত অধিকাংশ মানুষই শাস্ত্র ভালভাবে জানে না। বস্তুতপক্ষে, পৃথিবীর বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ এমনকি বাইবেলের সাথে পরিচিত পর্যন্ত নয় এবং এটিকে ঈশ্বরের বাক্য বলে মনে করে না। প্রচারকদের অনুশীলন দিতে হবে এবং দূর দেশে তাদের পাঠাতে হবে। (রোমীয় ১০:১৩-১৫) আর চিন্তা করুন এর মধ্যে কতগুলি ভাষা অন্তর্ভুক্ত! যাদের কাছে প্রচার করা হচ্ছে তাদের প্রয়োজন নিজের ভাষায় বাইবেল ও বাইবেল-ভিত্তিক সাহিত্যাদি পড়া ও অধ্যয়ন করা। সকলের কাছে শৃঙ্খলিতভাবে ও প্রগতির সাথে পৌঁছানো তাদের আধ্যাত্মিকভাবে পরিপক্ব করে তুলবে যাতে করে তারা অপরকে সাহায্য করতে পারে, আর এর জন্য ব্যাপকভাবে সংগঠনের প্রয়োজন আছে।—২ তীমথিয় ২:২.
যীশু বলেছিলেন যে “আর রাজ্যের এই সুসমাচার” প্রথমে “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত . . . সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” মথি ২৪:১৪) সুতরাং এখনই হল সময় যখন এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমত করতে পারি আমাদের পার্থিব ঐশ্বর্যের মূল্য হ্রাস পাওয়ার আগে এটাই হল সবচাইতে উত্তম উপায় যেভাবে আমরা আমাদের সংস্থানের সদ্ব্যবহার করতে পারি।—যিহিষ্কেল ৭:১৯; লূক ১৬:৯.
অর্থ কোথায় যায়?
ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি ২৩০টিরও বেশি ভাষায় বাইবেল সাহিত্যাদি প্রকাশ করে এবং এছাড়াও অন্ধদের জন্য ব্রেইল এবং বধিরদের জন্য চিহ্নের ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করে থাকে। এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি ভাষার জন্য অনুবাদক ও প্রুফরিডারের একটি দল। এই সমস্ত কাজ করা, বিশেষকরে প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ক্ষেত্রে, যা প্রতি মাসে ১২১টি ভাষায় এবং একসাথে ১০১টি ভাষায় ছাপানো হয়, এটা সত্যই খুব আশ্চর্যজনক। তবুও এটা প্রয়োজন কারণ পৃথিবীব্যাপী লোকেরা যাতে একই তথ্য পায় ও পড়তে পারে। প্রতি বছর কাগজ ও অন্যান্য জিনিস, যেগুলি রাজ্যের বার্তা ছাপাতে এবং অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইসব খরচ মেটানোর জন্য ভাইয়েদের কাছ থেকে আসা দানের প্রয়োজন রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় প্রচার ও শিক্ষা দানের কাজ করা হয় জগদ্ব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের ৭৫,০০০ মণ্ডলীগুলির দ্বারা। এগুলিকে একতাবদ্ধ ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য, অনুশীলনপ্রাপ্ত ভ্রমণ অধ্যক্ষেরা বছরে দুবার প্রতিটি মণ্ডলীতে পরিদর্শন করে থাকেন। সম্মেলনগুলিও নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। সম্মেলনগুলির জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন আছে, যা অত্যন্ত বিশ্বাস দৃঢ়কারী। আপনার দানগুলিকেও এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
যদিও সম্মেলনগুলি সাধারণত বছরে তিনবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, কিন্তু স্থানীয় মণ্ডলীর সভাগুলি সপ্তাহে পাঁচবার হয়ে থাকে। (তুলনা করুন যাত্রাপুস্তক ৩৪:২৩, ২৪) সুসমাচারের প্রতি ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় নতুনদের সাড়া দেওয়ার অর্থ হল প্রতি বছর সহস্রাধিক নতুন মণ্ডলীগুলির স্থাপন। প্রতি বছর সমিতির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা ধার নিয়ে নতুন কিংডম হল তৈরি করা হয় এবং বহু মেরামত ও প্রসারিত করা হয়। যদিও এই একই দান বারে বারে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এর প্রয়োজন সমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একটি জায়গায় যেখানে অত্যাধিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তা হল পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি যা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনস্ত ছিল। এই প্রগতিশীল খবর পাওয়া কতই না আনন্দদায়ক ছিল যে এই সব জায়গাতে কাজ শুরু হয়ে গেছে! এখন মিশনারীদের এই সব স্থানে পাঠান হচ্ছে। কয়েকটি দেশে নতুন শাখা অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, স্বেচ্ছাকারী পরিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫,০০০ জনেরও বেশি হয়েছে যারা জগদ্ব্যাপী বেথেল পরিবারের সদস্য হিসাবে রয়েছে। অবশ্যই, তাদের বসবাসের জন্য শাখা গৃহগুলিকে কিনতে অথবা তৈরি করতে হবে। আপনার দান এই প্রয়োজনকে মেটায়।
এই সমস্ত কাজ শয়তান ও তার মন্দ দূতেদের অগোচরে থাকেনি। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে যিহোবার বিশ্বস্ত দাসেদের প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিতে অথবা তাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে। (প্রকাশিত বাক্য ১২:১৭) এর অর্থ হল আইন সংক্রান্ত লড়াইগুলির ভার বহন করা যাতে করে ঈশ্বরের লোকেদের প্রচার করা ও তাঁর ধার্মিক মান অনুসারে জীবন যাপন করার অধিকারকে রক্ষা করা যায়। এছাড়াও, শয়তানের এই বিধিব্যবস্থায় যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এইগুলির অর্থ হল পীড়িত ভাইবোন ও অন্যান্যদের জন্য ত্রাণ সামগ্রীর প্রয়োজন। আপনার দান এই গুরুত্বপূর্ণ সাহায্যকে সরবরাহ করতে সহায়তা করে থাকে।
যিহোবা আপনাকে পুরস্কার দেবেন
উদারতার সাথে প্রভুর কাজে আমাদের সময় ও সংস্থানের ব্যবহার উত্তম আশীর্বাদ নিয়ে আসে। কিভাবে? কারণ ঈশ্বর, সবকিছু যাঁর সম্পত্তি, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন। হিতোপদেশ ১১:২৫ পদ বলে: “দানশীল ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়, জল-সেচনকারী আপনিও জলে সিক্ত হয়।” যিহোবা অবশ্যই খুশি হন যখন আমরা তাঁর উপাসনাকে উন্নীত করার ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ করি। (ইব্রীয় ১৩:১৫, ১৬) তিনি প্রাচীন ইস্রায়েল, যারা নিয়মচুক্তির অধীনে দান করেছিল, তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন: “তোমরা ইহাতে আমার পরীক্ষা কর, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন, আমি আকাশের দ্বার সকল মুক্ত করিয়া তোমাদের প্রতি অপরিমেয় আশীর্ব্বাদ বর্ষণ করি কি না।” (মালাখি ৩:১০) আজকে যিহোবার দাসেরা যে আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি উপভোগ করছে সেটাই প্রমাণ করে যে ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা পালন করেন।
প্রত্যেকের কাছে প্ররিত্রাণের দিন ঘোষণা করা এবং সহৃদয় ব্যক্তিদের জীবনের পথে চলতে সাহায্য করার এই মহান কাজ এটি চিরকালের জন্য চলবে না। (মথি ৭:১৪; ২ করিন্থীয় ৬:২) কিন্তু প্রভুর সমস্ত “অপর মেষ”-দের সংগ্রহ করতেই হবে। (যোহন ১০:১৬, NW) আজকের দিনে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া কতই না আবশ্যক! আর আমরা সকলে কতই না খুশি হব যখন আমরা ধার্মিক নতুন জগৎ থেকে ফিরে তাকাব আর বলব, ‘এই একত্রীকরণের কাজে আমার পূর্ণ অংশ ছিল’!—২ পিতর ৩:১৩.
[৩০, ৩১ পৃষ্ঠার বাক্স]
রাজ্যের-প্রচার কাজের জন্য অনেকে কিভাবে দান করে থাকে
পৃথিবীব্যাপী কার্যের জন্য দান: অনেকে কিছু টাকা আলাদা করে রাখে যা তারা দানের বাক্সে ফেলে যেখানে লেখা আছে: “সমিতির জগদ্ব্যাপী কাজের জন্য দান—মথি ২৪:১৪.” প্রত্যেক মাসে মণ্ডলী তাদের নিকটস্থ ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা অফিসে তা পাঠিয়ে দেয়।
উপহারগুলি: স্বেচ্ছায় অর্থদান সরাসরি ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটিতে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। অলঙ্কার অথবা অন্যকিছু মূল্যবান বস্তুও দান করা যেতে পারে। সংক্ষেপে একটি চিঠি পাঠাতে হবে যেখানে উল্লেখিত থাকবে যে এই উপহারটি যেন দান হিসাবে গ্রহণ করা হয়।
শর্ত সমেত-দানের ব্যবস্থা: ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যু পর্যন্ত ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিতে টাকা দেওয়া যেতে পারে, এই শর্তে যে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা যেন দানকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বীমা: জীবন বীমা প্রকল্প অথবা অবসর⁄পেনসন প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার জন্য ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির নাম দেওয়া যেতে পারে। সমিতিকে এই ব্যবস্থার সম্বন্ধে জানাতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিপোসিট সার্টিফিকেট অথবা ব্যক্তি বিশেষের অবসর সময়কার অ্যাকাউন্ট ট্রাস্টে অথবা স্থানীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুসারে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি যেন ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুর সময় এটি পায় তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সমিতিকে এই বিষয়ে ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানিয়ে দিতে হবে।
স্টক ও বন্ডগুলি: স্টক ও বন্ডগুলি ওয়াচ টাওয়ার সমিতিকে দান করা যেতে পারে সরাসরি উপহার হিসাবে অথবা এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেখানে দানকারী এর সুদ পেয়ে যেতে পারে।
স্থাবর সম্পত্তি: বিক্রি করা যায় এমন স্থাবর সম্পত্তি সরাসরিভাবে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিকে উপহার হিসাবে দান করা যেতে পারে অথবা দানকারীর জীবিত কাল অবধি সেখানে থাকার অনুমতির ব্যবস্থা করা যেতে পারে অর্থাৎ যতদিন সে জীবিত থাকবে ততদিন সে সেখানে থাকতে পারবে। কোন স্থাবর সম্পত্তি সমিতিকে দেওয়ার আগে সমিতির সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
উইল ও ট্রাস্টগুলি: সম্পত্তি অথবা টাকা ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটিকে আইনতভাবে স্বীকৃত উইলের সাহায্যে দেওয়া যেতে পারে অথবা ট্রাস্টের অংশীদার হিসাবে সমিতির নাম দেওয়া যেতে পারে। যে ট্রাস্টের দ্বারা ধর্মীয় সংগঠন উপকৃত হচ্ছে সেটি কর দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা আনতে পারে। উইল বা ট্রাস্টের একটি কপি সমিতিকে পাঠিয়ে দিতে হবে।
এই বিষয় আরও তথ্য পাওয়ার জন্য, Watch Tower Bible and Tract Society of India, H-58, Old Khandala Road, Lonavla, 410 401 Mah., India, এই ঠিকানায় লিখুন।