কেন যিহোবাকে দেবেন?
সীদানের অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট শহর সারিফতে, যখন সূর্যের তপ্ত কিরণ বর্ষণ হচ্ছিল, তখন এক বিধবা কাঠ কুড়ানোর জন্য নিচু হয়েছিলেন। তার আগুন জ্বালানোর প্রয়োজন ছিল যাতে সে অল্প কিছু খাবার তৈরি করাতে পারত—সম্ভবত এটিই তার এবং তার পুত্রের শেষবারের মত খাবার। দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে নিজেকে এবং তার ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল আর তা এই শোচনীয় পরিসমাপ্তিতে এসে পৌঁছেছে। তারা ক্ষুধায় মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল।
একজন ব্যক্তি কাছে এসেছিলেন। তার নাম ছিল এলিয় আর সেই বিধবাটি তাকে দেখে শীঘ্রই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ছিলেন যিহোবার একজন ভাববাদী। এটি দেখায় যে, এই ঈশ্বর সম্পর্কে তিনি শুনেছিলেন। যিহোবা বালদেবের থেকে ভিন্ন ছিলেন যার নিষ্ঠুর, ন্যায়ভ্রষ্ট উপাসনা তার সীদোন দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যার থেকে যিহোবা ছিলেন ভিন্ন। সুতরাং এলিয় তার কাছে পানীয় জল চাইলে, তিনি সাহায্য করতে অত্যন্ত উৎসুক ছিলেন। সম্ভবত তিনি মনে করেছিলেন যে এটি করলে তিনি যিহোবার অনুগ্রহ লাভ করবেন। (মথি ১০:৪১, ৪২) কিন্তু এরপর এলিয় আরও বেশি কিছুর জন্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন—তিনি কিছু খাবার চেয়েছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তার কাছে কেবলমাত্র শেষ একবারের মতই খাবার ছিল। তবুও, এলিয় অটল ছিলেন আর তাকে নিশ্চিত করেন যে, অনাবৃষ্টি দূর না হওয়া পর্যন্ত যিহোবা অলৌকিকভাবে তাকে খাবার যুগিয়ে যাবেন। তিনি কী করেছিলেন? বাইবেল বলে: “তাহাতে সে গিয়া এলিয়ের বাক্যানুসারে করিল।” (১ রাজাবলি ১৭:১০-১৫) এই সাধারণ বাক্যগুলি মহৎ বিশ্বাসের একটি কাজকে বর্ণনা করে—বস্তুতপক্ষে এটি এত মহৎ ছিল যে যীশু খ্রীষ্ট প্রায় এক হাজার বছর পর বিধবার প্রশংসা করেছিলেন!—লূক ৪:২৫, ২৬.
তবুও, হয়ত এটি অদ্ভুত মনে হতে পারে যে, যিহোবা সেই মহিলাটির কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু চেয়েছিলেন যার খুবই সামান্য ছিল। এই বিষয়টি বিশেষভাবে এইরূপই হয়েছিল যখন আমরা একজন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির কোন একসময়ে অর্পিত প্রার্থনা বিবেচনা করি। তার পুত্র শলোমনের মন্দির নির্মাণে ব্যবহারের জন্য রাজা দায়ূদের দান সংগ্রহে মহান উদারতা দেখা গিয়েছিল। যে উপহার সামগ্রী দান করা হয়েছিল, তা আধুনিক কালের ভাষায় কোটি কোটি ডলারের সমান ছিল! কিন্তু, যিহোবার কাছে প্রার্থনায় দায়ূদ বলেছিলেন: “আমি কে, আমার প্রজারাই বা কে যে, আমরা এই প্রকারে ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করিতে সমর্থ হই? সমস্তই ত তোমা হইতে আইসে, এবং তোমার হস্ত হইতে যাহা পাইয়াছি, তাহাই তোমাকে দিলাম।” (১ বংশাবলি ২৯:১৪) দায়ূদ যেমন বলেছিলেন, সমস্ত কিছুই যিহোবার কাছ থেকে আসে। সুতরাং আমরা বিশুদ্ধ উপাসনার অগ্রগতির জন্য যা কিছুই তাঁকে দিই না কেন, আমরা কেবলমাত্র যিহোবাকে তাই দিই যা ইতিমধ্যেই তাঁর। (গীতসংহিতা ৫০:১০) অতএব, এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়, যিহোবা কেন চান আমরাই প্রথমে তাঁকে দিই?
সত্য উপাসনার একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ
সহজ উত্তরটি হচ্ছে যে, প্রাচীনকাল থেকেই যিহোবা দান করাকে বিশুদ্ধ উপাসনার একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ করেছেন। বিশ্বস্ত ব্যক্তি হেবল তার গবাদি পশুপাল থেকে কয়েকটি সর্ব্বোৎকৃষ্ট পশু যিহোবার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। একইভাবে নোহ, অব্রাহাম, ইসহাক, যাকোব এবং ইয়োব প্রভৃতি কূলপতিগণেরাও উৎসর্গ করেছিলেন।—আদিপুস্তক ৪:৪; ৮:২০; ১২:৭; ২৬:২৫; ৩১:৫৪; ইয়োব ১:৫.
মোশির ব্যবস্থা যিহোবার উদ্দেশ্যে দান করা সম্বন্ধে বাধ্যবাধকতা পালন এবং এমনকি নিয়ন্ত্রণ করার আদেশও দিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, সকল ইস্রায়েলীয়দের একদশমাংশ অথবা তাদের ক্ষেত্রের উৎপাদিত ফসলের এবং বর্ধিষ্ণু গবাদি পশুপালের দশমাংশ দান করার আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। (গণনাপুস্তক ১৮:২৫-২৮) অন্যান্য দানগুলি এত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হত না। উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যেক ইস্রায়েলীয়কে গবাদি পশুপালের এবং ক্ষেত্রের ফসল থেকে প্রথম ফল যিহোবার উদ্দেশ্যে দান করার প্রয়োজন ছিল। (যাত্রাপুস্তক ২২:২৯, ৩০; ২৩:১৯) তবুও, ব্যবস্থা প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্থির করতে অনুমোদন করেছিল সে তার প্রদানকৃত সর্বোৎকৃষ্ট অগ্রিমাংশ উপহারে কতটুকু দেবে। ব্যবস্থাতে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের এবং মানত পূর্ণ হওয়ার জন্য বলি উৎসর্গ করার একটি বিশেষ শর্তও ছিল যেটি সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাকৃত দান ছিল। (লেবীয় পুস্তক ৭:১৫, ১৬) যিহোবা যেভাবে তাদের আশীর্বাদ করেছিলেন তার সাথে সঙ্গতি রেখে দান করতে তিনি তাঁর লোকেদের উৎসাহিত করেছিলেন। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৬:১৭) যেমন এটি হয়েছিল সমাগমতাম্বু এবং পরে মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে, প্রত্যেকে তাদের হৃদয়ে যতটুকু দিতে প্রবৃত্তি হয়েছিল তাই তারা দান করেছিল। (যাত্রাপুস্তক ৩৫:২১; ১ বংশাবলি ২৯:৯) নিশ্চিতরূপে এইধরনের স্বেচ্ছাকৃত দান যিহোবার কাছে খুবই সন্তুষ্টিজনক ছিল!
“খ্রীষ্টের ব্যবস্থা”-র অধীনে সকল দান স্বেচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল। (গালাতীয় ৬:২; ২ করিন্থীয় ৯:৭) সেইজন্য এটি বোঝায়নি যে খ্রীষ্টের অনুগামীরা দান করা বন্ধ করেছিল অথবা সামান্য পরিমাণ দিয়েছিল। এর বিপরীত হয়েছিল! যীশু এবং তাঁর প্রেরিতেরা যখন ইস্রায়েলে প্রচার করেছিলেন, তখন একদল স্ত্রীলোক তাদের অনুসরণ করেছিলেন এবং নিজেদের সম্পত্তি থেকে তাদের পরিচর্যা করেছিলেন। (লূক ৮:১-৩) একইভাবে প্রেরিত পৌলও উপহার পেয়েছিলেন যা তাকে মিশনারী কাজে সহায়তা করেছিল আর পরিবর্তে তিনি অন্যান্যদের প্রয়োজনে দান করতে কিছু মণ্ডলীকে উৎসাহিত করেছিলেন। (২ করিন্থীয় ৮:১৪; ফিলিপীয় ১:৩-৫) অভাবগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে দান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য যিরূশালেমে পরিচালক গোষ্ঠী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিযুক্ত করেছিলেন। (প্রেরিত ৬:২-৪) স্পষ্টতই, প্রাথমিক খ্রীষ্টানেরা এটিকে একটি বিশেষ সুযোগ হিসাবে দেখেছিলেন, যার মাধ্যমে বিশুদ্ধ উপাসনাকে সমর্থন করা যায়।
তবুও, আমরা হয়ত ভাবতে পারি, কেন যিহোবা দান করাকে তাঁর উপাসনার একটি অংশ করেন। এ সম্পর্কে চারটি কারণ বিবেচনা করুন।
কেন আমরা দান করি
প্রথমত, যিহোবা দান করাকে সত্য উপাসনার একটি অংশ করেছেন, কারণ তা করা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। এটি ঈশ্বরের মঙ্গলভাবের প্রতি আমাদের উপলব্ধিবোধকে চিহ্নিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি শিশু তার পিতামাতার জন্য একটি উপহার কেনে অথবা তৈরি করে, তাতে পিতামাতা হাসিমুখে আনন্দ করেন কেন? এই উপহারটি কি পিতামাতার কিছু তীব্র প্রয়োজনীয়তাকে মেটায় যা তারা অন্যথা পরিতৃপ্ত করতে পারতেন না? সম্ভবত না। বরং, পিতামাতা সন্তানদের উপলব্ধিবোধ গড়ে উঠা এবং দান করার মনোভাব দেখে আনন্দিত হন। যিহোবাও ঠিক একই কারণে দান করতে উৎসাহিত করেন এবং আমরা তা করলে তিনি আনন্দিত হন। এইভাবেই আমরা তাঁর সকল অপরিসীম করুণা এবং আমাদের জন্য তাঁর উদারতার প্রতি প্রকৃতই উপলব্ধিবোধ দেখিয়ে থাকি। তিনি হচ্ছেন “সমস্ত উত্তম দান এবং সমস্ত সিদ্ধ বর” এর প্রদানকর্তা, তাই আমরা তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ার কারণগুলি কখনও পরিত্যাগ করব না। (যাকোব ১:১৭) সর্বোপরি, আমরা যেন অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারি তার জন্য যিহোবা তাঁর নিজের প্রিয় পুত্রকে দান করেছেন ও তাকে মৃত্যু বরণ করতে অনুমোদন করেছেন। (যোহন ৩:১৬) তাঁকে আমাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন কি কখনও যথেষ্ট হতে পারে?
দ্বিতীয়ত, আমরা যদি দান করাকে অভ্যাসে পরিণত করি, তাহলে এইভাবে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা যিহোবা এবং তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে অনুকরণ করতে শিখি। যিহোবা সঙ্গতিপূর্ণভাবে দানশীল এবং ক্রমাগত উদার। যেমন বাইবেল বলে, তিনি আমাদের উপর “জীবন ও শ্বাস ও সমস্তই” বর্ষণ করেন। (প্রেরিত ১৭:২৫) আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য, খাদ্যের প্রতিটি গ্রাস উপভোগের জন্য, জীবনের প্রতিটি সুখ ও পরিতৃপ্তির মুহূর্তের জন্য আমরা যথাযথভাবে তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারি। (প্রেরিত ১৪:১৭) যীশুও তাঁর পিতার মত, দান করার মনোভাব দেখিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে অবাধভাবে দান করেছিলেন। আপনি কি জানেন যে যীশু যখন অলৌকিক কাজ সম্পাদন করেছিলেন, তখন এটি করার জন্য তাঁকে কিছু ক্ষতি ভোগ করতে হয়েছিল? শাস্ত্র আমাদের একের অধিকবার বলে যে, তিনি যখন অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থ করেছিলেন তখন, তাঁর শক্তি ‘তাঁহা হইতে নির্গত হইত।’ (লূক ৬:১৯; ৮:৪৫, ৪৬) যীশু এত উদার ছিলেন যে, এমনকি তিনি আপন প্রাণ, তাঁর জীবন, মৃত্যুতে ঢেলে দিয়েছিলেন।—যিশাইয় ৫৩:১২.
সুতরাং, যখন আমরা দান করি তা আমাদের সময় অথবা আমাদের শক্তি ও আমাদের সম্পদ যাই হোক না কেন, তখন আমরা যিহোবাকে অনুকরণ এবং তাঁর চিত্তকে আনন্দিত করি। (হিতোপদেশ ২৭:১১; ইফিষীয় ৫:১) আমাদের জন্য যীশু খ্রীষ্ট যে মানবীয় আচরণের নিখুঁত আদর্শ রেখে গিয়েছেন তাও আমরা অনুসরণ করি।—১ পিতর ২:২১.
তৃতীয়ত, দান করা প্রকৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলি পরিপূর্ণ করে। এটি সত্য যে, যিহোবা রাজ্যের আগ্রহকে আমাদের সাহায্য ছাড়াই সহজে পরিপূর্ণ করতে পারতেন, ঠিক যেমন বাক্য প্রচারে আমাদের ব্যবহার করার পরিবর্তে তিনি প্রস্তর সকলকে চিৎকার করে ওঠার ব্যবস্থা করতে পারতেন। (লূক ১৯:৪০) কিন্তু এইসকল সুযোগের দ্বারা মর্যাদাসম্পন্ন করতে তিনি আমাদের মনোনীত করেছেন। তাই রাজ্যের আগ্রহের অগ্রগতির জন্য যখন আমরা আমাদের সম্পদ দান করি, তখন এই জেনে আমরা মহা পরিতৃপ্তি লাভ করি যে, এই জগতে সম্পন্নরত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা এক প্রকৃত ভূমিকা পালন করছি।—মথি ২৪:১৪.
এটি বলার প্রয়োজন নেই যে, পৃথিবীব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের কাজের অর্থব্যবস্থার জন্য অর্থের প্রয়োজন। ১৯৯৫ সালের পরিচর্যা বছরে, শুধুমাত্র বিশেষ অগ্রগামী, মিশনারী এবং ভ্রমণ অধ্যক্ষদের তাদের ক্ষেত্রের পরিচর্যা কাজের খরচ বহনের জন্য সমিতি প্রায় ছয় কোটি ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু, পৃথিবীর চতুর্দিকে শাখা অফিস ও মুদ্রণের সুযোগ-সুবিধাগুলি নির্মাণ এবং চালানোর জন্য যে খরচ হয়েছে তার তুলনায় সেই ব্যয় অপেক্ষাকৃত অল্প। তথাপি, স্বেচ্ছাকৃত দানের মাধ্যমেই ঐ সমস্ত কিছু করা সম্ভব হয়েছে।
যিহোবার লোকেরা সাধারণতঃ চিন্তা করে না যে, যদি তারা নিজেরা স্বচ্ছল না হয়, তবে সহজেই অন্যদের উপর ভার বহনের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারে। এইধরনের মনোভাব আমাদের উপাসনার এই অংশটিকে অগ্রাহ্য করতে পরিচালিত করতে পারে। প্রেরিত পৌলের কথা অনুযায়ী, মাকিদনিয়ার খ্রীষ্টানেরা “অগাধ দীনতা” ভোগ করছিল। তবুও, তারা দান করার সুযোগের জন্য, অনুরোধ করেছিল। আর তারা যা দান করেছিল, সে বিষয়ে পৌল সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তা তাদের “সাধ্যের অতিরিক্ত” ছিল!—২ করিন্থীয় ৮:১-৪.
চতুর্থত, যিহোবা দান করাকে সত্য উপাসনার একটি অংশ করেছেন, কারণ দান করা আমাদের সুখী হতে সাহায্য করবে। যীশু নিজে বলেছিলেন: “গ্রহণ করা অপেক্ষা বরং দান করা ধন্য হইবার বিষয়।” (প্রেরিত ২০:৩৫) ঐ ভাবেই যিহোবা আমাদের গঠন করেছেন। তাই এটি আর একটি কারণ যে কেন আমরা হয়ত মনে করতে পারি আমরা তাঁকে যতখানিই দিই না কেন, আমরা আমাদের হৃদয়ে তার জন্য যেমন অনুভব করি সেই উপলব্ধিবোধের সমপরিমাণ কখনও দিতে পারি না। তবুও, আনন্দের বিষয় যে, আমরা যা দিতে পারি এর চেয়ে বেশি যিহোবা আমাদের কাছে থেকে প্রত্যাশা করেন না। আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, আনন্দের সাথে যখন আমরা যতখানি দিতে পারি তা দিই, তাতে তিনি আনন্দিত হন!—২ করিন্থীয় ৮:১২; ৯:৭.
দান করার মনোভাব প্রদর্শন করার ফল আশীর্বাদ
আগের উদাহরণটিতে ফিরে গিয়ে, কল্পনা করুন যে সারিফতের বিধবাটি যদি নিজে নিজেই যুক্তি করে নিতেন যে অন্য কেউ এলিয়ের খাবারের প্রতি যত্ন নিতে পারবেন। তবে তিনি কত বড় আশীর্বাদ থেকেই না বঞ্চিত হতেন!
এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই যে যারা দানশীলতার মনোভাব প্রদর্শন করে তাদের যে যিহোবা আশীর্বাদ করেন। (হিতোপদেশ ১১:২৫) সারিফতের বিধবাটি যিনি ভেবেছিলেন যে সেটিই তার শেষ খাবার তবুও তা দিয়ে দেওয়ার ফলে, তাকে দুঃখকষ্টভোগ করতে হয়নি। যিহোবা এক অলৌকিক কাজের দ্বারা তাকে পুরস্কৃত করেছিলেন। এলিয় যেমন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তেমনি যত দিন পর্যন্ত না অনাবৃষ্টি দূর হয়েছিল, ততদিন পর্যন্ত তার ময়দা এবং তৈলের পাত্র কখনও শূন্য হয়নি। কিন্তু তিনি এমনকি আরও বৃহৎ এক পুরস্কার পেয়েছিলেন। যখন তার পুত্র অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিল, তখন সত্য ঈশ্বরের লোক, এলিয় তাকে পুনর্জীবিত করেছিলেন। এটি অবশ্যই আধ্যাত্মিকভাবে গড়ে উঠতে তাকে কতই না সাহায্য করেছিল!—১ রাজাবলি ১৭:১৬-২৪.
আজকের দিনে আমরা অলৌকিকভাবে আশীর্বাদ পাবার প্রত্যাশা করি না। (১ করিন্থীয় ১৩:৮) কিন্তু যিহোবা আমাদের নিশ্চিত করেন যে, যারা তাঁকে পূর্ণ-হৃদয়ে সেবা করে, তাদের তিনি বাঁচিয়ে রাখবেন। (মথি ৬:৩৩) সুতরাং উদারতার সাথে দান করার ক্ষেত্রে আমরা সারিফতের সেই বিধবাটির মত হতে পারি, নিশ্চিত হয়ে যে, যিহোবা আমাদের যত্ন নেবেন। একইভাবে, আমরা প্রচুর আধ্যাত্মিক পুরস্কার উপভোগ করতে পারি। দান করার বিষয়টি হঠাৎ এবং মাঝে-মাঝে করার চেয়ে যদি তা আমাদের নিয়মিত তালিকার অংশ হয়, তাহলে এটি যীশু যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, তেমনি আমাদের চোখ সরল রাখতে এবং রাজ্যের আগ্রহের প্রতি কেন্দ্রীভূত করতে আমাদের সাহায্য করবে। (লূক ১১:৩৪; তুলনা করুন ১ করিন্থীয় ১৬:১, ২.) এছাড়াও এটি আমাদের যিহোবা এবং যীশুর সহকার্যকারী হিসাবে তাঁদের নিকটবর্তী হওয়া অনুভব করতে সাহায্য করবে। আর এটি উদার এবং দানশীলতার মনোভাবকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে যা ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী যিহোবার উপাসকদের চিহ্নিত করেছে।
[৩১ পৃষ্ঠার বাক্স]
দান করার জন্য কিছুজন যে পন্থাগুলি বেছে নিয়েছেন
পৃথিবীব্যাপী কার্যের জন্য দান
অনেকে কিছু টাকা আলাদা করে রাখেন যা তারা দানের বাক্সে ফেলেন যেখানে লেখা থাকে: “সমিতির জগদ্ব্যাপী কাজের জন্য দান—মথি ২৪:১৪.” প্রত্যেক মাসে মণ্ডলীগুলি নিউ ইয়র্ক, ব্রুকলিনে অবস্থিত বিশ্বের প্রধান কার্যালয়ে অথবা স্থানীয় শাখা অফিসে তা পাঠিয়ে দেয়।
স্বেচ্ছায় অর্থদান সরাসরি Watch Tower Bible and Tract Society of India, H-58 Old Khandala Road, Lonavla, 410 401, Mah., এর সঞ্চয় অফিসে অথবা আপনার দেশের জন্য সমিতির যে অফিসটি কাজ করে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়াও যেতে পারে। অলংকার অথবা অন্যকিছু মূল্যবান বস্তুও দান করা যেতে পারে। সংক্ষেপে একটি চিঠি পাঠাতে হবে যেখানে উল্লেখিত থাকবে যে উপহারটি যেন দান হিসাবে গ্রহণ করা হয়।
শর্ত সমেত-দানের ব্যবস্থা
ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যু পর্যন্ত ট্রাস্ট রাখার জন্য ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিতে টাকা দেওয়া যেতে পারে, এই শর্তে যে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা যেন দানকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত তথ্যের জন্য দয়া করে উপরে উল্লেখিত সঞ্চয় অফিসের এর ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।
পরিকল্পিত দান
বিশ্বব্যাপী রাজ্যের পরিচর্য্যা কাজের উপকারের জন্য অর্থের উপহারটি এবং শর্ত সমেত-দানগুলি ছাড়াও দান করার অন্য আরও পদ্ধতি রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত যেমন:
বীমা: জীবন বীমা প্রকল্প অথবা অবসর/পেনসন প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার জন্য ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির নাম দেওয়া যেতে পারে। সমিতিকে এই ব্যবস্থা সম্বন্ধে জানাতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিপোজিট সার্টিফিকেট অথবা ব্যক্তি বিশেষের অবসর সময়কার অ্যাকাউন্ট ট্রাস্টে অথবা স্থানীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুসারে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি যেন ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুর সময় এটি পায়, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সমিতিকে এই বিষয়ে ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানিয়ে দিতে হবে।
স্টক ও বন্ডগুলি: স্টক ও বন্ডগুলি ওয়াচ টাওয়ার সমিতিকে দান করা যেতে পারে সরাসরি উপহার হিসাবে অথবা এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেখানে দানকারী এর সুদ পেয়ে যেতে পারে।
স্থাবর সম্পত্তি: বিক্রি করা যায় এমন স্থাবর সম্পত্তি সরাসরিভাবে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিকে উপহার হিসাবে দান করা যেতে পারে অথবা দানকারীর জীবিত কাল অবধি সেখানে থাকার অনুমতির ব্যবস্থা এইভাবে করা যেতে পারে। কোন স্থাবর সম্পত্তি সমিতিকে দেওয়ার আগে সমিতির সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
উইল ও ট্রাস্টগুলি: সম্পত্তি অথবা অর্থ ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিকে আইনতভাবে স্বীকৃত উইলের সাহায্যে দেওয়া যেতে পারে অথবা ট্রাস্টের অংশীদার হিসাবে সমিতির নাম দেওয়া যেতে পারে। যে ট্রাস্টের দ্বারা ধর্মীয় সংগঠন উপকৃত হচ্ছে সেটি কর দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা আনতে পারে। উইল বা ট্রাস্টের একটি কপি সমিতিকে পাঠিয়ে দিতে হবে।
যারা এই সকল পরিকল্পিত দান ব্যবস্থায় আগ্রহী তারা নিম্নে প্রদত্ত প্ল্যান্ড গিভিং ডেস্ক এর ঠিকানায় অথবা আপনার দেশে সমিতির যে অফিসটি কাজ করে সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন। তাই এই যে কোন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সকল প্রয়োজনীয় দলিল-পত্রের একটি কপি যেন প্ল্যান্ড গিভিং ডেস্ক পায়।
সমিতি প্ল্যান্ড গিভিং নামক ইংরাজি ভাষায় একটি ব্রোশার তৈরি করেছে। যুক্ত রাষ্ট্রের যারা সমিতিকে এখন একটি বিশেষ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন অথবা মৃত্যুতে উইল করা সম্পত্তি রেখে যেতে চান, এই বিষয়ে তথ্যাদি পেতে ঐ ব্রোশারটি হয়ত সহায়ক হবে। এটি বিশেষভাবে সত্য যে, তারা যদি কোন পারিবারিক লক্ষ্য অথবা সম্পত্তি পরিকল্পনা করার উদ্দেশ্য সম্পন্ন করতে ইচ্ছুক হন যার মাধ্যমে তারা করের সুবিধা ব্যবহার করে, উপহারটি অথবা উইলের সাহায্যে দান করার খরচ কমাতে পারে। লেখার অথবা টেলিফোনে অনুরোধ করার মাধ্যমে এই ব্রোশারটি প্রাপ্তিসাধ্য হচ্ছে।