ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ৫-৮
  • ভয়—এখন সাধারণ ব্যাপার কিন্তু চিরকালের নয়!

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ভয়—এখন সাধারণ ব্যাপার কিন্তু চিরকালের নয়!
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যুদ্ধভীতির ন্যায্যতা
  • আরও অধিকমাত্রায় পৃথিবী ও তার প্রাণীর নাশ করছে
  • এটি কি আরও খারাপ হবে না কি ভালর দিকে যাবে?
  • আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও কি দেরী হবে?
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবাকে ভয় কর ও তাঁর পবিত্র নামের গৌরব কর
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “আমাদিগকে বলুন, এই সকল ঘটনা কখন্‌ হইবে?”
    ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “আপনার উপস্থিতির চিহ্ন কি?”
    ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ৫-৮

ভয়—এখন সাধারণ ব্যাপার কিন্তু চিরকালের নয়!

ভয় যে একটা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে এবিষয় ঈশ্বরের বাক্যের ছাত্রেরা একেবারেই অবাক হয় না। বহু প্রমাণ দেখায় যে আমরা মানব ইতিহাসের সবচাইতে এক উল্লেখযোগ্য সময়ে বাস করছি, যা যিহোবার সাক্ষীরা ব্যাপকভাবে তাদের পরিচর্যার মাধ্যমে প্রচার করে এসেছে। আপনি জানেন যে এই সময়টি এক সুদূরপ্রসারী ভীতির দ্বারা চিহ্নিত। কিন্তু অনেক বছর আগে যীশু আমাদের এই সময়ের প্রতি দৃষ্টি আরোপ করান। তাঁর উপস্থিতি ও বিধিব্যবস্থার অর্থাৎ ‘জগতের শেষ’ সম্বন্ধীয় প্রেরিতদের যে প্রশ্নগুলি ছিল তারই উত্তর তিনি দিচ্ছিলেন।—মথি ২৪:৩.

যীশু যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এখানে তারই একটি অংশ তুলে ধরা হল:

“জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠিবে। মহৎ মহৎ ভূমিকম্প এবং স্থানে স্থানে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী হইবে, আর আকাশে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর লক্ষণ ও মহৎ মহৎ চিহ্ন হইবে।”—লূক ২১:১০, ১১.

“ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর লক্ষণ” সম্বন্ধে যে তিনি মন্তব্য করেছিলেন তা কি আপনি লক্ষ্য করেছেন? পরে ঐ একই উত্তর দেওয়ার সময়, যীশু আরেকটি তাৎপর্যমূলক বিষয়ের উত্থাপন করেছিলেন, বিশেষকরে এই ভীতিকে কেন্দ্র করে যা হয়ত প্রত্যেক্ষ ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে আপনাকে ও আপনার প্রিয়জনকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু এই বিষয়টির উপর দৃষ্টি দেওয়ার আগে, আসুন আমরা সংক্ষেপে আরও কয়েকটি বাড়তি প্রমাণ পুনরালোচনা করে দেখি যা দেখায় যে আমরা শেষকালে বাস করছি।—২ তীমথিয় ৩:১.

যুদ্ধভীতির ন্যায্যতা

সামরিক সংঘর্ষ পৃথিবীর বহু এলাকাকে বিধ্বস্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, জিও পত্রিকা জানায়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘষের ফলে যে তেলের কূপগুলিকে জ্বলন্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে সেগুলি হল “মনুষ্য হস্তকৃত সবচাইতে ভয়ঙ্কর পরিবেশ দূষণের নমুনা।” যুদ্ধগুলি কোটি কোটি লোককে হত্যা অথবা দৈহিকভাবে অক্ষম করে দিয়েছে। ১ম বিশ্বযুদ্ধে লক্ষাধিক সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিদের মৃত্যু ছাড়াও, ৫.৫ কোটি লোক ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মনে করে দেখুন, জগতের শেষ যে সন্নিকট, এই চিহ্নের একটি অংশ হিসাবে যীশু বলেছিলেন “জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠিবে।”

এছাড়া সাম্প্রদায়িক বিলোপসাধন—অর্থাৎ সমগ্র জাতি অথবা লোকসমূহকে ধ্বংস করার যে মানবিক প্রচেষ্টা তাকেও আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। লক্ষাধিক আরমেনিয়ান, কাম্বোডিয়ান, যিহূদী, রুয়াণ্ডান, ইউক্রেনিয়ান এবং অন্যান্যদের মৃত্যু এই বিংশ শতাব্দীতে মানবজাতিকে আরও অনেক বেশি রক্তের দায়ে দায়ী করে তুলেছে। হত্যাকাণ্ড এখন ক্রমাগতভাবে চলছে সেই সব দেশে যেখানে ধর্মীয় চরমপন্থীরা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে উৎসাহিত করে। হ্যাঁ, এখনও এই যুদ্ধগুলি পৃথিবীকে মানুষের রক্তে ডুবিয়ে রেখেছে।

আধুনিক যুদ্ধগুলি, এমনকি লড়াই থেমে যাওয়ার পরও বহু মৃত্যু ঘটিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, বিবেচনা করে দেখুন বাছবিচারহীনভাবে মাটির তলায় মাইন পেতে রাখার বিষয়টি। মানব অধিকার পর্যবেক্ষণ নামক গবেষণামূলক সংগঠনের রিপোর্ট অনুসারে, “জগদ্ব্যাপী প্রায় ১০ কোটি মাইন অসামরিক ব্যক্তিদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।” ঐ মাইনগুলি যা অনেক আগেই যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল তা আজও, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নির্দোষ পুরুষ, স্ত্রী ও শিশুদের পক্ষে বিপজ্জনক। এটা বলা হয় যে প্রতি মাসে প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশে সহস্রাধিক মানুষ এই ভূমি মাইনের দ্বারা দেহের ক্ষতি অথবা নিহত হচ্ছে। জীবন ও দেহের ক্ষতিকারক এই বস্তুগুলিকে কেন সুনিয়ন্ত্রিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌ মন্তব্য করে: “যতগুলি মাইনকে নিষ্ক্রিয় করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার তুলনায় প্রতিদিন আরও অনেক বেশি সংখ্যায় মাইনগুলিকে মাটিতে খনন করা হয়ে থাকে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে।”

১৯৯৩ সালের সংবাদপত্রের ঐ প্রবন্ধটি জানায় যে এই মাইনগুলিকে বিক্রি করা এমন এক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা “বছরে ২০ কোটি ডলার পর্যন্ত আয় করতে” সাহায্য করে। এর অন্তর্ভুক্ত হল “৪৮টি দেশের প্রায় ১০০টি কোম্পানি ও সরকারী এজেন্টগুলি,” যারা “রপ্তানি করে থাকে ৩৪০টি ধরনের” মাইনগুলিকে। নিষ্ঠুরতার সাথে কয়েকটি মাইনকে খেলনার আকারে তৈরি করা হয় যাতে করে সেগুলি শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে! চিন্তা করে দেখুন যে এইভাবে নির্দোষ শিশুদেরও পঙ্গু এবং ধ্বংসের শিকার করে তোলা হচ্ছে! একটি সম্পাদকীয় যার নাম ছিল “দশ কোটি জঘন্য মেশিনগুলি,” দাবি করে যে মাইনগুলি “আগ্নেয়, জীবাণু ও পারমাণবিক যুদ্ধে যত লোক মারা গেছে তার চাইতে অনেক বেশি সংখ্যার মানুষকে হত্যা অথবা পঙ্গু করেছে।”

কিন্তু এই ভূমি মাইনগুলি একমাত্র প্রাণঘাতী পদার্থ নয় যা বিশ্বের বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। লোভী অস্ত্র ব্যবসায়ীরা পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করে চলেছে। প্রতিরক্ষামূলক তথ্য সরবরাহের একটি সংস্থার দ্বারা প্রকাশিত দ্যা ডিফেন্স মনিটর জানায়: “বিগত দশক ধরে [একটি বিখ্যাত দেশ] যত অস্ত্র বাইরে চালান করেছে তার মূল্য ছিল ১৩,৫০০ কোটি ডলার।” এছাড়াও এই শক্তিশালী দেশটি “৬,৩০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র, বিক্রয়, সামরিক বাহিনী গড়া এবং ১৪২টি দেশকে অনুশীলন দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্মতি জানিয়েছে।” এইভাবে ভবিষ্যতে যুদ্ধ ও মানুষের কষ্টভোগ সাধনের জন্য বীজগুলি বপন করা হচ্ছে। ডিফেন্স মনিটর অনুসারে “শুধুমাত্র ১৯৯০ সালেতেই যুদ্ধের দরুন ৫০ লক্ষ লোককে অস্ত্র ব্যবহারের জন্য অনুশীলন দেওয়া হয়, যার মূল্য এসে দাঁডায় ৫,০০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর এর ফলে ২.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল অসামরিক।” আপনি অবশ্যই সেই বছর থেকে আরম্ভ করে আরও অনেক যুদ্ধের কথা চিন্তা করতে পারেন যা ভীতি ও আরও অধিক লক্ষের মৃত্যু ঘটিয়েছে!

আরও অধিকমাত্রায় পৃথিবী ও তার প্রাণীর নাশ করছে

অধ্যাপক ব্যারি কমনার এই বলে সতর্ক করে দেন যে: “আমি বিশ্বাস করি যে ক্রমাগতভাবে পৃথিবীর এই দূষণ, যদি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থেকে যায়, তাহলে পরিশেষে এটি মানুষের জীবনধারণের স্থান হিসাবে এই গ্রহটির উপযোগিতাকে নষ্ট করে দেবে।” তিনি আরও বলেন যে সমস্যাটি হল অজ্ঞানতা নয়, কিন্তু এক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত লোভ। আপনি কি মনে করেন যে আমাদের ন্যায়বান ও প্রেমময় ঈশ্বর চিরকালের জন্য এইধরনের পরিস্থিতিকে সহ্য করে যাবেন আর আমাদের দূষণের এই ক্রমবর্ধমান ভীতির সামনে ফেলে রাখবেন? পৃথিবীর এই লুণ্ঠন, লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য এবং এরপর এই গ্রহটির ঐশিক পুনর্স্থাপনের জন্য আর্তনাদ করছে। ‘জগতের শেষ’ সংক্রান্ত প্রেরিতদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় যীশু এই বিষয়টিকে তাঁর উত্তরের এক অংশ হিসাবে তুলে ধরেছিলেন।

ঈশ্বর কিভাবে এর বিচার আনবেন তা বিবেচনা করার আগে আসুন আমরা আরেকটু ভাল করে মানুষের রেকর্ডটিকে পরীক্ষা করে দেখি। মনুষ্যকৃত অন্যায় কাজের এমনকি আংশিক তালিকাও অত্যন্ত দুঃখজনক: অ্যাসিড বর্ষণ, আর লোভীদের মতো গাছের গুঁড়ি আমদানি করার অভ্যাস যা সমগ্র অরণ্যকে নষ্ট করে দেয়; অসতর্কতার সাথে পারমাণবিক পদার্থ, আবর্জনা, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ এবং ময়লা ফেলা; ওজোন স্তরের রক্ষণক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলা; আর অসতর্কভাবে শস্য ও কীটনাশক পদার্থের অপব্যবহার।

বাণিজ্যিক স্বার্থগুলি, লাভ করার অভিপ্রায়ে অন্যান্যভাবেও পৃথিবীকে নষ্ট করেছে। একাধিক টন আবর্জনাগুলিকে প্রতিদিন নদীর জলে, সমুদ্রগুলিতে, বাতাসে ও মাটির উপর ফেলা হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা আকাশের কক্ষপথকে মহাশূন্যের আবর্জনার দ্বারা পরিপূর্ণ করে তুলেছেন এবং পরে সেগুলিকে রূপক অর্থে পরিষ্কার করার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। পৃথিবী দ্রুতগতিতে আবর্জনায় ভরা কক্ষপথের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে উঠেছে। পৃথিবী যে আপনি থেকেই সাধারণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিশোধিত হতে পারে, এই ব্যবস্থাটি যদি ঈশ্বর না করতেন তাহলে আমাদের এই পার্থিব গৃহটি জীবনকে সংরক্ষিত রাখতে পারত না আর মানুষ সম্ভবত অনেক আগেই তার নিজের তৈরি আবর্জনাবোধে পরিত্যক্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ত।

মানুষ এমনকি নিজেকেও দূষিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, বিবেচনা করে দেখুন তামাক ও অন্যান্য নেশাকর দ্রব্যের অপব্যবহারের কথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইধরনের অপব্যবহারকে “দেশের সবচাইতে প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যার” কারণ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে দেশটিকে বছরে ২৩,৮০০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়, যার মধ্যে ৩,৪০০ লক্ষ কোটি ডলার ব্যয় করা হয় “[এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব] এমন কিছু স্বাস্থ্যগত বিষয়ের” পিছনে। আপনি যেখানে থাকেন সেখানে তামাকের জন্য কতটা অর্থ ও জীবনের মূল্য দিতে হয় বলে আপনি মনে করেন?

প্রশ্রয়মূলক ও অসামাজিক জীবনধারা, যা অনেকে তাদের অধিকার বলে দাবি করে, তা মারাত্মকভাবে প্রাণঘাতী যৌনসংক্রান্ত ব্যাধির সৃষ্টি করেছে, যা বহু মানুষকে অকালে মৃত্যুর কোলে টেনে নিয়েছে। এটা লক্ষ্য করা গেছে যে প্রধান শহুরে সংবাদপত্রগুলির শোক বিভাগে দেখা যাচ্ছে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সে মৃত্যুর যে হার তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন? কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রায়ই তারা এই ধ্বংসাত্মক অভ্যাসগুলির শিকার হয়ে পড়ে। যৌন ও অন্যান্য ব্যাধির এইধরনের দুঃখজনক বৃদ্ধিও যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখে, কারণ তিনি বলেছিলেন যে “স্থানে স্থানে . . . মহামারী” হবে।

কিন্তু, সবচাইতে মারাত্মক দূষণ হল মানুষের মন ও আত্মা অথবা মনোভাব। এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যতগুলি দূষিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম, সেগুলি আপনি যদি পুনরালোচনা করে দেখেন, তাহলে এটাই কি সত্য প্রমাণিত হবে না যে এদের মধ্যে অধিকাংশই হল দূষিত মনের ফল? বিবেচনা করে দেখুন যে একটি বিকৃত মন কিধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে, যখন একজন অপরের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ও অন্যান্য দৌরাত্ম্যমূলক কাজ করে থাকে। অনেকে এও স্বীকার করেন যে, প্রতি বছর লক্ষাধিক সংখ্যায় যে গর্ভপাত ঘটানো হয় এটাও মানসিক ও আধ্যাত্মিক দূষণের চিহ্ন।

আমরা যুবকদের মনোভাবের মধ্যে অনেক কিছু দেখতে পাই। পিতামাতা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষদের প্রতি অসম্মান, পারিবারিক ভাঙন ও নিয়মশৃঙ্খলার প্রতি অবাধ্যতার সূচনা করছে। কর্তৃপক্ষের প্রতি স্বাস্থ্যকর ভয়ের যে অভাব তা সরাসরিভাবে যুবকদের আধ্যাত্মিক অভাবের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অতএব, যারা ক্রমবিবর্তনবাদ, নাস্তিকবাদ ও অন্যান্য বিশ্বাস নষ্টকারী মতবাদগুলির শিক্ষা দেয় তারা অতীবমাত্রায় দোষী হয়ে পড়ে। বহু ধর্মীয় শিক্ষকেরাও দোষী সাব্যস্ত হয়, যারা আধুনিক এবং “গৃহীত” হওয়ার প্রচেষ্টায় ইচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরের বাক্যকে উপেক্ষা করে। তারা এবং অন্যান্যেরা জগতের প্রজ্ঞার দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার ফলে পরস্পরবিরোধীমূলক মনুষ্য দর্শনগুলি শিক্ষা দিয়ে থাকে।

এর পরিণতি আজ খুবই স্পষ্ট। লোকেরা ঈশ্বর ও সহমানবের প্রতি প্রেমের দ্বারা নয়, কিন্তু লোভ ও বিদ্বেষের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অনৈতিকতা, দৌরাত্ম্য ও আশাহীনতার কুফলগুলি ব্যাপকভাবে প্রসারিত। দুঃখের বিষয় হল যে এটি সহৃদয় ব্যক্তিদের জন্য এক ভীতির সূচনা করে, যার অন্তর্ভুক্ত হল সেই ভয় যে একদিন মানুষ নিজেকে ও এই গ্রহটিকে ধ্বংস করবে।

এটি কি আরও খারাপ হবে না কি ভালর দিকে যাবে?

ভীতির ক্ষেত্রে নিকট ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে? ভীতি কি ক্রমশই বেড়ে চলবে, না কি এটিকে পরাস্ত করা সম্ভবপর হবে? আসুন আমরা আবার লক্ষ্য করি যীশু তাঁর প্রেরিতদের কী বলেছিলেন।

তিনি এমন একটি বিষয় চিহ্নিত করেন যা নিকট ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে—অর্থাৎ মহাক্লেশ। তিনি এইভাবে বলেন: “আর সেই সময়ের ক্লেশের পরেই ‘সূর্য্য অন্ধকার হইবে, চন্দ্র জ্যোৎস্না দিবে না, আকাশ হইতে তারাগণের পতন হইবে ও আকাশমণ্ডলের পরাক্রম সকল বিচলিত হইবে।’ আর তখন মনুষ্য পুত্ত্রের চিহ্ন আকাশে দেখা যাইবে, আর তখন পৃথিবীর সমুদয় গোষ্ঠী বিলাপ করিবে, এবং ‘মনুষ্যপুত্ত্রকে আকাশীয় মেঘরথে পরাক্রম ও মহা প্রতাপে আসিতে’ দেখিবে।”—মথি ২৪:২৯, ৩০.

অতএব আমরা আশা করতে পারি যে মহাক্লেশ খুব শীঘ্রই আরম্ভ হবে। বাইবেলের অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণী ইঙ্গিত করে যে এর প্রথম অংশের অন্তর্ভুক্ত হবে জগদ্ব্যাপী মিথ্যা ধর্মের উপর প্রতিশোধ গ্রহণ। এরপর ঘটবে সেই উল্লেখিত ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলি যার অন্তর্ভুক্ত হল একধরনের আকাশমণ্ডলের বিস্ময়কর ঘটনাগুলি। কোটি কোটি মানুষের উপর এর কী প্রভাব আসবে?

বিবেচনা করে দেখুন যীশুর উত্তরের মধ্যে সেই একই সমপর্যায়ের বিবরণটি যেখানে আমরা আরও সম্প্রসারিতভাবে এক ভাববাণীমূলক মন্তব্যের উল্লেখ পাই:

“সূর্য্যে, চন্দ্রে ও নক্ষত্রগণে নানা চিহ্ন প্রকাশ পাইবে, এবং পৃথিবীতে জাতিগণের ক্লেশ হইবে, তাহারা সমুদ্রের ও তরঙ্গের গর্জ্জনে উদ্বিগ্ন হইবে। ভয়ে, এবং ভূণ্ডলে যাহা যাহা ঘটিবে তাহার আশঙ্কায়, মানুষের প্রাণ উড়িয়া যাইবে; কেননা আকাশ-মণ্ডলের পরাক্রম সকল বিচলিত হইবে।”—লূক ২১:২৫, ২৬.

এটাই আমাদের সামনে ঘটতে চলেছে। কিন্তু সেই সময় সব মানুষেরা এমন ভয় পাবে না, যার ফলে তারা অজ্ঞান হয়ে যাবে। এর বিপরীতে যীশু বলেছিলেন: “এ সকল ঘটনা আরম্ভ হইলে তোমরা ঊর্দ্ধদৃষ্টি করিও, মাথা তুলিও, কেননা তোমাদের মুক্তি সন্নিকট।”—লূক ২১:২৮.

তিনি ঐ উৎসাহজনক বাক্যগুলি তাঁর সত্য অনুগামীদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন। ভয়ে অজ্ঞান বা অসাড় হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, নির্ভীকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াবার কারণ তাদের থাকবে, এমনকি যদিও তারা জানবে যে মহাক্লেশ খুব শীঘ্রই চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে। কেন ভয়ের কোন প্রয়োজন নেই?

কারণ বাইবেল পরিষ্কারভাবে জানায় যে এই সমগ্র “মহাক্লেশ” এর পরে রক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা থাকবে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:১৪) বিবরণটি এই প্রতিজ্ঞা করার পর জানায় যে আমরা যদি রক্ষাপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে এক অদ্বিতীয় আশীর্বাদ উপভোগ করব। বিবরণটি এই নিশ্চয়তা দিয়ে শেষ করে যে যীশু “ইহাদিগকে পালন করিবেন, এবং জীবন-জলের উনুইয়ের নিকটে গমন করাইবেন, আর ঈশ্বর ইহাদের সমস্ত নেক্ষজল মুছাইয়া দিবেন।”—প্রকাশিত বাক্য ৭:১৬, ১৭.

তারা—এবং আমরাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—যারা সেই আশীর্বাদ উপভোগ করবে যার মধ্যে কোন ভয় থাকবে না, যে ভয় আজ মানুষকে জর্জরিত করে তুলেছে। কিন্তু, এর অর্থ এই নয় যে তাদের একেবারেই ভয় থাকবে না, কারণ বাইবেল দেখায় যে একধরনের ভয় আছে যা উত্তম ও স্বাস্থ্যকর। পরবর্তী প্রবন্ধটি আলোচনা করবে যে এটি কী এবং কিভাবে তা আমাদের প্রভাবিত করা উচিত।

[৮ পৃষ্ঠার চিত্র]

যিহোবার উপাসকেরা আনন্দের সাথে নতুন জগতের অপেক্ষায় আছে

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Pollution: Photo: Godo-Foto; rocket: U.S. Army photo; trees burning: Richard Bierregaard, Smithsonian Institution

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার