ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯২ ৪/১ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও কি দেরী হবে?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও কি দেরী হবে?
  • ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • “সমস্তই সৃষ্টির আরম্ভ অবধি যেমন” তেমনি রহিয়াছে
  • কী করে জানতে পারি যে আমরা “শেষ কালে” বাস করছি
    ঈশ্বর কি প্রতই আমাদের জন্য চিন্তা করেন?
  • আমরা কি “শেষ কালে” বাস করছি?
    বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?
  • ঈশ্বরের উদ্দেশ্য শীঘ্রই বাস্তবে রূপায়িত হবে
    জীবনের উদ্দেশ্য কী? আপনি কিভাবে তা পেতে পারেন?
১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯২ ৪/১ পৃষ্ঠা ৪-৭

আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও কি দেরী হবে?

তার মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে, যীশু যিরূশালেমে অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ একটি দিন কাটান, যে দিনটি বর্তমানের খ্রীষ্টানদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়। তিনি মন্দিরে শিক্ষা দেন, বহু কৌশলপূর্ণ প্রশ্ন খণ্ডন করেন যার দ্বারা যিহুদী ধর্মীয় নেতারা তাকে ফাঁদে ফেলবার চেষ্টা করে। অবশেষে তিনি অধ্যাপকদের ও ফরীশীদের বিরুদ্ধে এক কঠোর অভিযোগ নিয়ে আসেন যা তাদের ভণ্ড ও গেহেনার অভিমুখে যাত্রারত কালসর্প হিসাবে সনাক্ত করে।—মথি, অধ্যায় ২২, ২৩.

যখন তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তার একজন শিষ্য তাকে বলে: “হে গুরু, দেখুন, কেমন পাথর ও কেমন গাঁথনি!” প্রভাবিত না হয়ে যীশু তাকে বলেন: “তুমি কি এই সকল বড় বড় গাঁথনি দেখিতেছ? ইহার একখানি পাথর আর একখানি পাথরের উপরে থাকিবে না, সকলই ভূমিসাৎ হইবে।” (মার্ক ১৩:১, ২) তারপর যীশু শেষবারের মত মন্দির ছেড়ে গেলেন, কিদ্রোণ উপত্যকায় অবতরণ করলেন, তাহা পার হয়ে জৈতুন পর্বতে উঠতে শুরু করলেন।

চূড়ার ওপরে, অপরাহ্নের সূর্য্যালোক যখন তিনি বসেছিলেন, সামনে উপত্যকার অন্য দিকে মোরিয়া পর্বতের ওপরে মন্দিরটি তার দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল, এমন সময় পিতর, যাকোব, যোহন, এবং আন্দ্রিয় একান্তে তার কাছে আসলেন। মন্দির ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে যে কথা তিনি বলেছেন সেই সম্বন্ধে তারা গভীরভাবে চিন্তা করছিল। তারা জিজ্ঞাসা করে: “আমাদিগকে বলুন, এই সকল ঘটনা কখন্‌ হইবে, আর আপনার আগমনের এবং যুগান্তের চিহ্ন কি?” (মথি ২৪:৩; মার্ক ১৩:৩, ৪) সেই অপরাহ্নে জৈতুন পর্বতে তাদের প্রশ্নের যে উত্তর তিনি দেন তা আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। “যুগান্তের চিহ্ন” সম্বন্ধে চিন্তা করতে খুব বেশী দেরী করে ফেলা থেকে ইহা আমাদের রক্ষা করতে পারে।

তাদের প্রশ্নের দুইটি অংশ ছিল। একটি অংশ মন্দির এবং যিহুদী প্রথার শেষ সম্বন্ধে; অন্যটি রাজা হিসাবে যীশুর ভবিষ্যৎ উপস্থিতি এবং বর্তমান বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে। যীশুর উত্তরে এই দুইটি প্রশ্নই অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমন মথি ২৪ এবং ২৫, মার্ক ১৩ এবং লূক ২১ অধ্যায়ে দেওয়া আছে। (প্রকাশিত বাক্য ৬:১-৮-ও দেখুন।) বর্তমান জগতের, অথবা বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে, যীশু অনেকগুলি বিষয় বর্ণনা করেন, যা একত্রে নিলে, একটি যৌগিক চিহ্ন বোঝায় যা শেষ কালকে সনাক্ত করে। সেই যৌগিক চিহ্ন কি পূর্ণতা লাভ করছে? ইহা কি বাইবেলে বর্ণিত শেষকালে আমাদের নিয়ে আসে? ইহার পূর্ণতালাভ কি আমাদের সাবধান করে যে আমরা যা ভাবছি তার থেকে দেরী হতে পারে?

যীশুর যৌগিক চিহ্নের একটি বিষয় হল: “জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠিবে।” (মথি ২৪:৭) ১৯১৪ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। সেই দশকের যিহোবার সাক্ষীরা অবিলম্বে সতর্ক হন। এবং কেন? ডিসেম্বর ১৮৭৯ সালে, প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে, বাইবেলের কালনিরূপণপদ্ধতি অনুযায়ী, ওয়াচটাওয়ার পত্রিকা জানায়, যে ১৯১৪ সাল মানব ইতিহাসে একটি অপরিহার্য্যরূপে গুরুত্বপূর্ণ বছর। এই যুদ্ধ, যা প্রকৃতই বিশ্বব্যাপী আকারে প্রথম, যাতে অবশেষে ২৮টি দেশ জড়িয়ে পড়ে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লক্ষ লোক মারা যায়, কি যীশুর শেষকালের যৌগিক চিহ্নের ঘটনাগুলির পূর্ণতার শুরু হতে পারে? চিহ্নের অন্যান্য বিষয়গুলি কি এবারে দেখা যাবে?

“যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশিত বাক্যে,” এই একই রক্তবন্যার কথা ভবিষ্যদ্বাণী করা আছে। এখানে একটি লোহিতবর্ণ অশ্ব এবং তার সওয়ার “পৃথিবী হইতে শান্তি অপহরণ করে।” (প্রকাশিত বাক্য ১:১; ৬:৪) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্য্যন্ত ইহা অবশ্যই ঘটে। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুধুমাত্র শুরু ছিল। ১৯৩৯ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হয়। সেই সংঘর্ষে ৫৯টি দেশ জড়িয়ে পড়ে, এবং প্রায় ৫ কোটি লোক মারা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ৪৫ বছরে, ১২৫টির অধিক যুদ্ধ হয়েছে, যাতে ২ কোটি লোক মারা যায়।

চিহ্নের আরেকটি বিষয়: “দুর্ভিক্ষ হইবে।” (মথি ২৪:৭) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ও তার পরে বিস্তৃত আকারে দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। একটি রিপোর্ট ১৯১৪ সাল থেকে ৬০টি গুরুতর দুর্ভিক্ষ তালিকাভুক্ত করে, যেখানে লক্ষ লক্ষ লোক প্রাণ হারায়। উপরন্তু, এমনকি এখনও ৪০,০০০ শিশু প্রত্যেক দিন অপুষ্টি ও নিবার্য-সম্ভব এমন রোগে মারা যায়।

“মহৎ মহৎ ভূমিকম্প হইবে।” (লূক ২১:১১) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে ইহা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেয়। ১৯১৫ সালে ইটালীতে একটি ভূমিকম্প ৩২,৬১০ জীবন নাশ ঘটায়; ১৯২০ সালে চায়নাতে আরেকটি ২০০,০০০ জনের মৃত্যু নিয়ে আসে; ১৯২৩ সালে জাপানে ৯৯,৩০০ মারা যায়; ১৯৩৫ সালে এখন যা পাকিস্থান, সেখানে ২৫,০০০ জন জীবন হারায়; ১৯৩৯ সালে টার্কিতে ৩২,৭০০ জন ধ্বংস হয়; ১৯৭০ সালে পেরুতে ৬৬,৮০০ জন মারা যায়; ১৯৭৬ সালে চায়নাতে ২৪০,০০০ জন (কেউ বলে ৮০০,০০০) হত হয়; ১৯৮৮ সালে আর্মেনিয়াতে ২৫,০০০ জন জীবন হারায়। অবশ্যই, ১৯১৪ সালের পর থেকে বৃহৎ-আকারে ভুমিকম্প হয়েছে।

“স্থানে স্থানে মহামারী হইবে।” (লূক ২১:১১) ১৯১৮ এবং ১৯১৯ সালের মধ্যে, প্রায় ১,০০০,০০০,০০০ জন স্প্যানিশ্‌ ইন্‌ফ্লুয়েন্‌জার দ্বারা আক্রান্ত হয়, আর ২০,০০০,০০০ জনেরও অধিক মারা যায়। কিন্তু ইহা শুধুমাত্র আরম্ভ ছিল। উন্নতিশীল দেশগুলিতে ম্যালেরিয়া, স্নেল ফিভার, রিভার ব্লাইণ্ডনেস, ডায়োরিয়া, এবং অন্যান্য রোগ কোটি কোটি লোককে পঙ্গু করে এবং মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। উপরন্তু, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার আরও বহু লক্ষ লক্ষ জীবননাশ করে। যৌন রোগ মানবজাতিকে জর্জরিত করছে। সকলের হৃদয়ে আতঙ্ক জাগাচ্ছে এইডস্‌ নামে ভয়ঙ্কর অভিশাপ, যা অনুমান করা হয় প্রতি মিনিটে একজন নতুন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করছে, যার কোন চিকিৎসা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

“দৌরাত্মের বৃদ্ধি।” (মথি ২৪:১২) ১৯১৪ সাল থেকে দৌরাত্ম অবাধে বেড়ে চলেছে আর বর্তমানে ইহা সাংঘাতিক আকার নিয়েছে। খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, বিপক্ষ দলের মধ্যে সংঘর্ষ—সংবাদপত্রে এবং রেডিও ও দুটলিভিশনে খবরে প্রায়ই দেখা যায়। অকারণ দৌরাত্ম বিনা বাধায় ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, একজন বন্দুকধারী একটি স্কুলের ছাত্রদের দলের ওপর একটি র‌্যাপিড-ফায়ার অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে ১০০ রাউণ্ড গুলি চালায়—৫ জন মৃত, ২৯ জন আহত হয়। ইংল্যাণ্ডে একজন উন্মাদ ব্যক্তি একটি এ. কে.-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের সাহায্যে ১৬ জনকে নিহত করে। ক্যানাডাতে একজন লোক যে নারীদের বিদ্বেষ করে একটি মনট্রিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের মধ্যে ১৪ জনকে হত্যা করে। এই রকম লোকেরা নেকড়েবাঘ, সিংহ, হিংস্র জন্তু ও বিচারবুদ্ধিহীন পশুদের মত, যারা জন্মায় ধরা পড়ে ধ্বংস হওয়ার জন্য।—তুলনা করুন যিহিষ্কেল ২২:২৭; সফনিয় ৩:৩; ২ পিতর ২:১২.

“ভয়ে এবং ভূমণ্ডলে যাহা যাহা ঘটিবে তাহার আশঙ্কায়, মানুষের প্রাণ উড়িয়া যাইবে।” (লূক ২১:২৬) প্রথম আনবিক বোমা বিস্ফোরণের কিছু পরে, আনবিক বৈজ্ঞানিক হ্যারোল্ড সি. ইউরে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বলেন: “আমরা ভয়ে খাব, ভয়ে শোব, ভয়ে বাস করব, ভয়ের কারণে মারা যাব।” পারমানবিক যুদ্ধের ভয়ের সাথে অপরাধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, নৈতিক অধঃপতন, পরিবারের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি, পৃথিবী দূষিতকরণ, ইত্যাদির ভয় যোগ হয়েছে। এমনকি, দৈনিক সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের খবর আমাদের সামনে প্রত্যহ যে দুঃসংবাদ নিয়ে আসে তা সর্বত্র ভীতি সঞ্চারণ করে।

প্রেরিত পৌলও এই বিধিব্যবস্থার শেষকালে যে পরিস্থিতি থাকবে সেই সম্বন্ধে লিখেছিলেন। তার লেখা পড়লে মনে হয় দৈনিক সংবাদ পড়া হচ্ছে। “কিন্তু ইহা জানিও,” তিনি লেখেন, “শেষ কালে বিষম সময় উপস্থিত হইবে। কেননা মনুষ্যেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, আত্মশ্লাঘী, অভিমানী, ধর্ম্মনিন্দক, পিতামাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অসাধু, স্নেহরহিত, ক্ষমাহীন, অপবাদক, অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, সদ্‌বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হইবে; লোকে ভক্তির অবয়বধারী, কিন্তু তাহার শক্তি অস্বীকারকারী হইবে; তুমি এরূপ লোকদের হইতে সরিয়া যাও।”—২ তীমথিয় ৩:১-৫.

“সমস্তই সৃষ্টির আরম্ভ অবধি যেমন” তেমনি রহিয়াছে

প্রেরিত পিতর শেষ কালের আরেকটি বিষয় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন: “শেষকালে উপহাসের সহিত উপহাসকেরা উপস্থিত হইবে; তাহারা আপন আপন অভিলাষ অনুসারে চলিবে, এবং বলিবে, ‘তাঁহার আগমনের প্রতিজ্ঞা কোথায়? কেননা যে অবধি পিতৃলোকেরা নিদ্রাগত হইয়াছেন, সেই অবধি সমস্তই সৃষ্টির আরম্ভ অবধি যেমন, তেমনই রহিয়াছে।’”—২ পিতর ৩:৩, ৪.

বর্তমানে, যখন শেষকাল প্রসঙ্গে কথা ওঠে, অনেক ব্যক্তিরা পিতরের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করে উপহাস করে এবং বলে: ‘এই সমস্তই পূর্বে ঘটেছে। শুধুমাত্র ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’ তাই তারা সাবধানবাণী উপেক্ষা করে “তাদের ইচ্ছানুযায়ী” চলে। “ইচ্ছাপূর্ব্বক” ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা তারা সরিয়ে রাখে যা পরিষ্কার ভাবে শেষকালকে চিহ্নিত করে।—২ পিতর ৩:৫.

যাইহোক, যীশু যে যৌগিক চিহ্ন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার বিভিন্ন বিষয় পূর্বে কখনও এত অল্প সময়ের মধ্যে, একসাথে, এত প্রবলভাবে এবং এত ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে ঘটেনি। (উদাহরণস্বরূপ পুনর্বিবেচনা করুন, মথি ২৪:৩-১২; মার্ক ১৩:৩-৮; লূক ২১:১০, ১১, ২৫, ২৬) আর আমরা প্রকাশিত বাক্যে বর্ণিত শেষ কালের আরেকটি বিষয়ের দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

আসুন আমরা প্রকাশিত বাক্য ১১:১৮ পড়ি। সেখানে বলা হয় যখন খ্রীষ্টের রাজ্য শাসন শুরু করবে এবং জাতিগণ ক্রুদ্ধ হবে এবং বিচারকাল উপস্থিত হবে, তখন যিহোবা “পৃথিবীনাশকদিগকে নাশ” করবেন। বর্তমানে পরিবেশদূষন কি আবহাওয়াকে নাশ করছে না? সত্য, মানুষ সর্বদা পৃথিবীর প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ ব্যবহার করে নিজেদের সমৃদ্ধিশালী করেছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে, বাসযোগ্য গ্রহ হিসাবে পৃথিবীকে ধ্বংস করার মত অবস্থা কখনও আসেনি। এখন, ১৯১৪ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিবিদ্যার জন্য, মানুষের সেই ক্ষমতা আছে, এবং লোভীর মত অর্থ আঁকড়ে ধরার জন্য, তারা প্রকৃতই পৃথিবী নাশ করছে, পরিবেশ দূষিত করছে এবং জীবন বজায় রাখার সামর্থ্য পৃথিবী হারাচ্ছে।

এক অর্থলোভী, বস্তুবাদী সমাজ আজ ইহা বিপদজনক হারে করছে। কিছু দুষ্কার্য্য যা এর ফলস্বরূপ এসেছে তা হল: তেজষ্ক্রিয় বৃষ্টিপাত, উষ্ণ ভূমণ্ডল, ওজন স্তরে ছিদ্র, অবর্জনার স্তুপ, বিষক্রিয় অব্যবহার্য পদার্থ, ক্ষতিকারক ভেষজ সার এবং কীটনাশক ঔষধ, আনবিক জঞ্জাল, তৈলপ্রবাহ, অপরিষ্কার পয়ঃপ্রণালী, প্রাণী-প্রজাতির বিলুপ্তি, শুষ্ক জলাশয়, দূষিত জল, বিধ্বস্ত অরণ্য, দূষিত মাটি, জমির উপরিভাগের ক্ষয়, এবং ধোয়াশা যা গাছপালা ও শস্যের এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

প্রফেসর ব্যারি কমনার বলেন: “আমার ধারণা পৃথিবীর ক্রমাগত দূষণ, যদি তা না থামানো যায়, অবশেষে এই গ্রহটিকে মানুষের বাসের অযোগ্য করে তুলবে। . . . সমস্যা বৈজ্ঞানিক অজ্ঞানতার জন্য নয়, কিন্তু ইচ্ছাকৃত লোভের জন্য।” স্টেট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড ১৯৮৭ পৃষ্ঠা ৫-এ জানায়: “মানুষের কার্য্যকলাপের হার পৃথিবীর বাসযোগ্যতাকে বিপন্ন করতে শুরু করেছে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সালে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল “রেস টু সেভ দ্যা প্লানেট।”

মানুষ কখনও দূষিত করা থামাবে না; ঈশ্বর থামাবেন যখন তিনি যারা পৃথিবীকে ধ্বংস করছে তাদের ধ্বংস করবেন। ঈশ্বর এবং তাঁর স্বর্গীয় সৈনাধ্যক্ষ, যীশু খ্রীষ্ট, ইহা করবেন বস্তুবাদী জাতিগুলির প্রতি আরমাগেডন নামক শেষ যুদ্ধে বিচারাজ্ঞা নিয়ে আসার মাধ্যমে।—প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪, ১৬; ১৯:১১-২১.

অবশেষে, শেষ কাল সম্বন্ধে যীশুর ভবিষ্যদ্বাণীর এক বিশিষ্ট বিষয় লক্ষ্য করুন: “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে।” (মথি ২৪:১৪) এই সুসমাচার জানায় যে ঈশ্বরের রাজ্য এখন স্বর্গে রাজত্ব করছে এবং শীঘ্রই কার্য্যকারী হয়ে এই অধার্মিক বিধিব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে ও পৃথিবীকে পরমদেশে পরিণত করবে। সুসমাচার আগেও প্রচার করা হয়েছে কিন্তু কখনও বিশ্বব্যাপী আকারে নয়। ১৯১৪ সাল থেকে, যাইহোক, যিহোবার সাক্ষীরা তা করেছে, যীশু যে তাড়না সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা সত্ত্বেও—সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা, ক্ষিপ্ত জনতার থেকে দৌরাত্ম, কারাগারবাস, অত্যাচার, এবং আরও অনেক কিছু।

১৯১৯ সালে ৪,০০০ যিহোবার সাক্ষী সুসমাচার প্রচার করছিলেন। তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, এবং গত বছর ৪,০০০,০০০ জনেরও অধিক লোক ২১২টি দেশে, প্রায় ২০০টি ভাষায়, কোটি কোটি বাইবেল, বই, এবং পত্রিকা বিতরণ করেছে, ব্যক্তিগত গৃহে লক্ষ্য লক্ষ্য বাইবেল অধ্যয়ন করেছে, এবং বিশ্বের সর্বত্র বিশাল বিশাল ক্রিড়াঙ্গনে আয়োজিত সম্মেলনে উপস্থিত থেকেছে। ১৯১৪ সালের আগে সুসমাচার এমন সুবিস্তৃত অনুপাতে কখনও প্রচার করা সম্ভব হত না। এই হারে তা প্রচার করার জন্য প্রয়োজন হয়েছে অতি দ্রুত প্রিন্টিং প্রেস, ভ্রমণব্যবস্থা, কম্পুটার, ফ্যাক্স মেশিন, এবং যানবাহনের ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যা শুধুমাত্র আমাদের সময় পাওয়া যায়।

যিরমিয়র দিনের যিরূশালেমকে তার আগত ধ্বংস সম্বন্ধে সাবধান করা হয়েছিল; সেখানকার বসবাসকারীরা শুধুমাত্র উপহাস করেছিল, কিন্তু তারা যা ভেবেছিল তার থেকে দেরী হয়েছিল। বর্তমানে অনেক বৃহত্তর আকারে আরমাগেডনের ধ্বংস সম্বন্ধে সাবধানবাণী দেওয়া হচ্ছে, যার প্রচুর পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬, ৭, ১৭-২০) লক্ষ্য লক্ষ্য লোক কোন গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু সময় আর বেশী নেই; তারা যা ভাবছে তার থেকে দেরী হবে। আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও কি দেরী হবে? (w91 4/1)

[Pictures on page 7]

যিরমিয়র দিনে তারা যা ভেবেছিল তার থেকে দেরী হয়েছিল

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার