“আমরা সকলে একই পরিবারভুক্ত”
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পৃথিবীর সর্বত্র ধর্মীয় কুসংস্কার এবং জাতিভেদ বিস্তারলাভ করছে। হত্যা, অত্যাচার এবং অন্যান্য কলঙ্কপূর্ণ দুষ্কর্মগুলিতে জাতিগত বৈষম্যগুলি উষ্কানি দিয়েছে। অ্যামেনস্টি ইন্টারন্যাশন্যাল কর্তৃক এক বিবৃতি অনুযায়ী মানবাধিকারের লঙ্ঘন ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি লোকেদের তাদের গৃহ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল।
কেবল রুয়াণ্ডাতেই, টুট্সি ও হুটুর মধ্যে যে দৌরাত্ম্য বিস্ফোরিত হয়েছিল তাতে প্রায় ৫,০০,০০০ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে এবং ২০,০০,০০০ জনের আরও বেশি লোক শরণার্থী হয়েছিল। বেলজিয়ামের ল্যা সয়ার নামক সংবাদপত্র বিবৃতি দেয়, “অস্ত্রধারণ প্রত্যাখ্যান করার জন্য যিহোবার সাক্ষীরা বিশেষভাবে নির্যাতিত হয়েছিল।” যিহোবার সাক্ষীরা অস্ত্র দ্বন্দ্বে যোগ দেয় না। তৎসত্ত্বেও, তাদের মধ্যে শত শত লোক দৌরাত্ম্যে হত হয়েছিল। এটি আমাদের, তাঁর শিষ্যদের প্রতি বলা যীশুর কথাগুলি স্মরণ করিয়ে দেয়: “তোমরা ত জগতের নহ, . . . জগৎ তোমাদিগকে দ্বেষ করে।”—(যোহন ১৫:১৯).
এক সাক্ষী পরিবার—ইউজিন্ নতাব্নানা তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ—রাজধানী কিগালিতে বাস করতেন। তার প্রতিবেশীর কাছে খ্রীষ্টীয় নিরপেক্ষতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করার সময়ে ইউজিন্ প্রায়ই একটি বেয়ে-ওঠা লতা, বাগান-বিলাস সম্পর্কে বলতেন, যা উষ্ণ আবহাওয়ায় সতেজভাবে বেড়ে ওঠে।—মথি ২২:২১.
ইউজিন্ ব্যাখ্যা করতেন “কিগালিতে বাগান-বিলাস গাছে লাল, গোলাপী এবং কখনও কখনও সাদা ফুলও জন্মায়। কিন্তু তারা সকলে একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। মানুষের ক্ষেত্রেও এটি ঠিক একই রকম। যদিও আমাদের হয়ত বিভিন্ন জাতি, বর্ণ অথবা সাম্প্রদায়িক পটভূমি থাকতে পারে, তথাপি আমরা সকলে একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, সেটি হচ্ছে মানব পরিবার।”
দুঃখজনকভাবে, তাদের শান্তিপূর্ণ আচরণ এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও, এক রক্তপিপাসু জনতা কর্তৃক নতাব্নানা পরিবারটি খুন হয়েছিল। তবুও, তারা বিশ্বস্তভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে যিহোবা ঈশ্বর এইধরনের ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করবেন এবং তারা মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবেন সেই জগতের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য, যেখানে কুসংস্কার আর থাকবে না। (প্রেরিত ২৪:১৫) তখন নতাব্নানা পরিবারটি, অন্যান্যদের সঙ্গে “শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:১১.