যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
বন্ধুত্ব না কি প্রেম?—ভাগ ২: আমার ম্যাসেজ থেকে সে কোন ইঙ্গিত পাচ্ছে?
তোমার মনে হয় যে, তোমার বন্ধুরা যখন তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়, তুমি তা শোনার জন্য সবসময় রাজি থাক। কিন্তু, পরে দেখা যায় যে, তুমি শুধু একজন বন্ধুর সঙ্গে একটু বেশিই কথা বলে চলেছ। আর সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন সে এক বিপরীত লিঙ্গের হয়। তুমি হয়তো মনে মনে চিন্তা করছ, ‘আমরা তো শুধুই বন্ধু।’ আর এটাও ভাবছ যে, সেও হয়তো এইরকমটাই মনে করে। তাই, বিষয়টা নিয়ে কি তোমার আরেকটু ভেবে দেখা উচিত নয় যে, এতে খারাপ কিছু আছে কিনা?
যা ঘটতে পারে
একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মধ্যে যদি বন্ধুত্ব থাকে, তা হলে সেটা কোনো খারাপ বিষয় নয়। কিন্তু, অন্যদের তুলনায় তুমি যদি সেই বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুর প্রতি একটু বেশি মনোযোগ দাও, তা হলে? যদি এমনটা হয়, তা হলে সে ভেবে নিতে পারে যে, তুমি বন্ধুত্বের চেয়ে আরও বেশি কিছু চাইছ।
তুমি হয়তো এই ধরনের ম্যাসেজ দিতে চাইছ না। তবে, কোন কারণে সেই বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুর এমনটা মনে হতে পারে? এসো সেগুলো নিয়ে বিবেচনা করে দেখি।
যখন তুমি কারো প্রতি একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকো।
“যদিও তুমি অন্যের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না, কিন্তু তার অনুভূতি নিয়ে খেলাও কোরো না। একদিকে তুমি বলছ যে, সে শুধু তোমার বন্ধু, অপর দিকে তার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ফোনে কথা বলছ। এতে তুমি আসলে তোমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে আগুনে ঘি ঢালছ।”—সিয়েরা।
যখন তোমার প্রতি কেউ আগ্রহ দেখায়, তখন তুমিও অজান্তে সাড়া দিয়ে থাকো।
“একটি মেয়ে অনেক বার আমাকে ম্যাসেজ পাঠাত। যদিও শুরুটা আমি করিনি, কিন্তু আমি তার প্রতিটা ম্যাসেজের উত্তর দিতাম। এরপর তাকে এটা বোঝানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে যে, আমি তাকে শুধু এক বন্ধু হিসেবেই দেখতাম।”—রিচার্ড।
যখন তোমার প্রতি কেউ আগ্রহ দেখায়, তখন তুমিও তার অনুভূতিকে উসকে দিয়ে থাকো।
“অনেকে প্রেমের ভান করাকে একটা খেলা বলে মনে করে। তারা তাদের সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে বরং অন্যের অনুভূতি নিয়ে খেলা করে। আমি এমনটা বার বার ঘটতে দেখেছি আর এর ফলে প্রতি বারই কেউ-না-কেউ আঘাত পেয়ে থাকে।”—তামারা।
মূল বিষয়টা হল: প্রতিদিন কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলা এবং তার খোঁজখবর নেওয়া দেখায় যে, এটা রোমান্টিক আগ্রহের এক ইঙ্গিত।
যে-কারণে এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ
এটা অন্যকে আঘাত দেয়।
বাইবেল বলে: “যখন আশা পূর্ণ হতে দেরি হয়, তখন হৃদয় হতাশ হয়ে পড়ে।” (হিতোপদেশ ১৩:১২) তোমার প্রতি কেউ যদি রোমান্টিক আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়, তা হলে তুমি কী আশা করবে?
“ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘কাউকে বড়শীতে গেঁথে রাখা।’ এর মানে হচ্ছে, তোমার ছিপে একটা মাছ লেগেছে, কিন্তু তুমি সেটা ধরছও না, আবার ছেড়েও দিচ্ছ না। কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এইরকমটা ঘটতে পারে। তুমি ডেটিং-এ আগ্রহী না থাকলেও, যদি এভাবে কাউকে বড়শীতে গেঁথে রাখো, তা হলে সেই ব্যক্তিকে তুমি অনেক কষ্ট দিচ্ছ।”—জেসিকা।
এটা তোমার সুনাম নষ্ট করে।
বাইবেল বলে: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।” (ফিলিপীয় ২:৪) কেউ যদি শুধুমাত্র তার নিজের বিষয়ে চিন্তা করে, তা হলে তার কী হতে পারে বলে তোমার মনে হয়? এমনটা করলে সে কি তার সুনাম ধরে রাখতে পারবে?
“আমি সেই সব ছেলেকে একদমই পছন্দ করি না, যারা মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের ভান করে। প্রেমের ভান করার বিষয়টা দেখায় যে, তারা বিবাহিত জীবনেও অবিশ্বস্ত হয়ে পড়বে। এইরকম ব্যক্তিরা অহংকারী হয়ে পড়ে আর মনে করে যে, তারা যেকোনো মেয়ের সঙ্গে খুব সহজেই প্রেমের ভান করতে পারে। কিন্তু, এটা এক স্বার্থপর মনোভাব।”—জুলিয়া।
মূল বিষয়টা হল: যদি কেউ কারো প্রতি প্রেমের ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু কোনো সম্পর্ক তৈরি করারই আগ্রহ না থাকে, তা হলে এই বিষয়টা দু-জনকেই আঘাত দিয়ে থাকে।
তুমি যা করতে পারো
বাইবেল বলে যে, “যুবকদের নিজের ভাইয়ের মতো” এবং “যুবতীদের নিজের বোনের মতো মনে” করো। (১ তীমথিয় ৫:১, ২) তুমি যদি বাইবেলের এই মান অনুযায়ী চলো, তা হলে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে তোমার বন্ধুত্ব সঠিক জায়গায় রাখতে পারবে।
“বিয়ে হয়ে গেলে তো অন্যের স্বামীর সঙ্গে প্রেমের ভান করার প্রশ্নই ওঠে না। তাই ভালো হবে, যদি এখন অবিবাহিত অবস্থাতেই, আমি বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে আচরণ করা প্র্যাকটিস করি।”—লিয়া।
বাইবেল বলে: “যে বেশি কথা বলে, সে অপরাধ করবেই।” (হিতোপদেশ ১০:১৯) এই নীতিটা শুধুমাত্র কথা বলার ক্ষেত্রেই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে, টেক্সট ম্যাসেজ করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর মানে হল, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, আমরা অন্যকে কত বার ম্যাসেজ পাঠাচ্ছি এবং সেই ম্যাসেজে কী লিখছি।
“ডেটিং করার উদ্দেশ্য না থাকলে কোনো মেয়েকে প্রতিদিন টেক্সট ম্যাসেজ করার প্রয়োজন নেই।”—ব্রায়ান।
বাইবেল বলে: “কিন্তু, যে-প্রজ্ঞা স্বর্গ থেকে আসে, তা সবচেয়ে প্রথমে শুদ্ধ।” (যাকোব ৩:১৭) ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাউকে জড়িয়ে ধরা যেতে পারে, কিন্তু কখনো কখনো সে এটাকে রোমান্টিক সংকেত হিসেবে মনে করতে পারে।
“সবার সঙ্গে কথা বলার সময় আমি বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করি, তবে আমি এই বিষয়টা খেয়াল রাখি যেন তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে না পড়ি, তা হোক সামনাসামনি বা আবেগগতভাবেও।”—মারিয়া।
মূল বিষয়টা হল: বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে তোমার আচার-আচরণ কেমন, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখো। জেনিফার নামের এক কিশোরী বলে, “ভালো বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সহজ নয়। তাই, তুমি নিশ্চয়ই এটা চাইবে না যে, তোমার কথা বা কাজের মাধ্যমে কেউ ভুল ইঙ্গিত পাক আর তোমাদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যাক।”
টিপস
তোমাদের সম্পর্কের বিষয়ে অন্যেরা কী বলে, তাতে মনোযোগ দাও। কেউ যদি প্রশ্ন করে, “তুমি কি ওর সঙ্গে ডেটিং করছ?” তা হলে তোমাকে বুঝতে হবে যে, তোমরা একটু বেশিই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছ।
বিপরীত লিঙ্গের সমস্ত বন্ধুর সঙ্গে একই ধরনের বন্ধুত্ব বজায় রাখো। কোন এক জনের প্রতি আলাদা করে বেশি মনোযোগ দিয়ো না।
টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানোর বিষয় সতর্ক থেকো যে, সেটা কত বার পাঠাচ্ছ, তাতে কী লেখা আছে আর দিনের কোন সময় তা পাঠাচ্ছ। আলিসা নামে এক মেয়ে বলে, “মাঝরাতে কোনো ছেলেকে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানোর কোনো দরকার নেই।”