যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
বন্ধুত্ব না কি প্রেম?—ভাগ ১: তার ম্যাসেজ থেকে আমি কোন ইঙ্গিত পাচ্ছি?
তুমি একজনকে খুব পছন্দ করো আর তুমি নিশ্চিত, সেও তোমাকে পছন্দ করে। কারণ তোমরা সবসময় একে অন্যকে টেক্সট ম্যাসেজ করতে থাকো আর যেকোনো পার্টিতে অন্যেরা থাকলেও, তোমরা দু-জনেই দু-জনের সঙ্গে সময় কাটাতে থাকো …, আর কখনো কখনো তো তুমি তার কাছ থেকে এমন ম্যাসেজ পাও, যেগুলোতে অনেক রোমান্টিক কথাও থাকে।
তাই, তোমাদের এই সম্পর্কটা কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে তুমি তার সঙ্গে কথা বলো। কিন্তু সে বলে,“আমরা তো শুধুই বন্ধু, আর কিছু না।”
এমনটা ঘটলে কেমন অনুভূতি হয়
“আমি খুব রেগে যাই, তার উপরে আর নিজের উপরেও! আমরা প্রতিদিন একে অন্যকে টেক্সট ম্যাসেজ করতাম। সে আমার প্রতি সত্যি সত্যি খুব আগ্রহ দেখাত, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম।”—জেসমিন।
“একটি ছেলে আর একটি মেয়ে ডেট করছিল। আমি আর অন্য একটি মেয়ে ওদের সঙ্গে যেতাম। কখনো কখনো মনে হত, ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও ডেট চলছে। আমরা অনেক কথা বলতাম আর একে অন্যকে অনেক ম্যাসেজ করতাম। কিন্তু সে যখন বলে যে, সে শুধু আমাকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখে, তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আসলে, সে ইতিমধ্যেই অন্য কারো সঙ্গে ডেট করছিল।”—রিচার্ড।
“একজন ছেলে প্রতিদিন আমাকে ম্যাসেজ করত। মাঝে মাঝে আমরা দু-জনেই ‘রোমান্টিক ম্যাসেজ’ করতাম। কিন্তু, আমি যখন তাকে জানাই যে, আমি তাকে পছন্দ করি, তখন সে হাসতে থাকে আর বলে, ‘এখন আমি কারো সঙ্গে ডেট করতে চাই না!’ এটা শুনে আমি অনেক দিন পর্যন্ত কেঁদেছিলাম।”—তামারা।
মূল বিষয়টা হল: তোমার যখন মনে হয়, কারো সঙ্গে তোমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আর পরে জানতে পার এই অনুভূতিটা শুধু তোমার দিক থেকে ছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই তোমার রাগ হবে, নিজেকে ছোটো লাগবে আর এমনকী তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে হবে। স্টিভেন নামের এক যুবক বলে, “আমার সঙ্গে যখন এমনটা ঘটে, তখন আমি একেবারেই ভেঙে পড়ি। আমার খুব কষ্ট হয়। এরপর থেকে আমি আর সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।”
কেন এমনটা হয়
বর্তমানে, ম্যাসেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই এমন কারো সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যার কিনা এই বিষয়ে কোনো আগ্রহই নেই। এই বিষয়ে কিছু যুবক-যুবতী কী বলেছে, তা লক্ষ্য করো।
“কেউ হয়তো তোমাকে শুধু টাইম পাস করার জন্য ম্যাসেজ করেছে, কিন্তু তোমার মনে হয়েছে, সে তোমাকে পছন্দ করে। আর সে যদি প্রতিদিন তোমাকে ম্যাসেজ করতে থাকে, তা হলে তোমার এই ভুল ধারণা হতে পারে যে, তুমি তার কাছে স্পেশাল কেউ।”—জেনিফার।
“হতে পারে, একজনের মধ্যে সত্যি সত্যি রোমান্টিক আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু অপর জনের এই বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। সে শুধু নিজের মনোবল বাড়ানোর জন্য কথা বলার এক সাথি চায়।”—জেমস।
“একটা ছোটো ‘গুড নাইট’ ম্যাসেজ পড়েও তুমি হয়তো ভুল বুঝতে পার। যদিও যে তোমাকে সেই ম্যাসেজটা পাঠিয়েছে, তার মনে তোমার প্রতি কোনো রোমান্টিক ফিলিংসই নেই। এটা এমন যেন কোনো টেলিমার্কেটিং কোম্পানি থেকে ম্যাসেজটা এসেছে।”—হেইলি।
“কোনো ম্যাসেজে একটা স্মাইলি ইমোজি দেখেও দু-রকমের ধারণা আসতে পারে। হয় সে বন্ধু হিসেবেই সেটা পাঠিয়েছ, নয় সে ফ্লার্ট করছে।”—অ্যালেসিয়া।
মূল বিষয়টা হল: কেউ তোমার প্রতি মনোযোগ দিলেই সেটা যে প্রেমের ইঙ্গিত, এমনটা ভেবো না।
আসলে এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটাই কঠিন। বাইবেল বলে: “হৃদয় সবচেয়ে বড়ো বিশ্বাসঘাতক এবং খুবই অস্থির।” (যিরমিয় ১৭:৯) তাই, কেউ তোমার প্রতি মনোযোগ দিলেই, সেটাকে তুমি যদি প্রেমের ইঙ্গিত ভেবে নাও, তা হলে তুমি হয়তো ‘স্বপ্নের রাজ্যে’ ভাসতে শুরু করবে আর যখনই সত্যটা জানবে, তখনই তোমার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
তুমি যা করতে পারো
পরীক্ষা করে দেখো। একটু থেমে এই সম্পর্কটা নিয়ে চিন্তা করো। নিজেকে প্রশ্ন করো, ‘কীভাবে আমি নিশ্চিত হলাম যে, সে আমাকে সত্যিই পছন্দ করে?’ আবেগের বশে তোমার “যুক্তি করার ক্ষমতা” হারিয়ে ফেলো না।—রোমীয় ১২:১.
বুঝে শুনে এগোও। হতে পারে একজন ব্যক্তির কথাবার্তা থেকে তোমার মনে হয়েছে যে, সে তোমাকে পছন্দ করে। কিন্তু সেই কথাগুলোর মধ্যেই কিছু কথা তোমার মনে সন্দেহ তৈরি করে যে, ‘আসলেই কি ও আমাকে পছন্দ করে?’ ভালো হবে যদি তুমি সেই কথাগুলো নিয়ে আরেকটু চিন্তা করে দেখো। কারো প্রতি তোমার রোমান্টিক ফিলিংস তৈরি হয়েছে বলে, এটা ধরে নিয়ো না যে, তারও তোমার প্রতি একইরকম অনুভূতি রয়েছে।
অপেক্ষা করো। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তোমাকে স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, তোমাকে সে পছন্দ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি নিজে থেকে এই সম্পর্কে এগিয়ো না, নাহলে তোমার মন ভেঙে যেতে পারে।
শুরুতেই সত্যিটা জানাও। বাইবেল বলে, “কথা বলার সময়“ আছে। (উপদেশক ৩:৭) তোমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তার সঙ্গে কথা বলো। ভ্যালেরিয়া নামের এক যুবতী বলে, “কোনো সম্পর্ক একতরফা কি না, সেটা শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে নিলে কষ্টটা কম হবে। কারণ তুমি যদি কয়েক মাস পরে জানতে পারো যে, তোমার প্রতি তার সেই রকম কোনো অনুভূতিই নেই, তা হলে তুমি অনেক বেশি কষ্ট পাবে।”
মূল বিষয়টা হল: “তোমার হৃদয়কে রক্ষা করো,” যেটা হিতোপদেশ ৪:২৩ পদে লেখা রয়েছে। তুমি যদি কাউকে পছন্দ করতে শুরু কর, তা হলে এটা নিশ্চিত হয়ে নাও যে, সেও তোমাকে পছন্দ করে কি না। নিশ্চিত না হয়েই, কারো প্রতি রোমান্টিক ফিলিংস গড়ে তুললে, সেটা এমন হবে, যেন তুমি পাথরের উপর চারাগাছ লাগানোর চেষ্টা করছ।
তুমি যদি বুঝতে পারো যে, তোমার প্রতি সত্যিই একজনের রোমান্টিক ফিলিংস রয়েছে আর তোমার ডেট করার বয়সও হয়েছে এবং তুমি ডেট করার জন্য প্রস্তুতও আছ, তখন সম্পর্কটাতে তুমি এগোবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। মনে রেখো, বিয়ের বন্ধন তখনই মজবুত হবে, যখন যিহোবার সেবায় স্বামী ও স্ত্রীর একই লক্ষ্য থাকবে এবং একে অন্যের কাছে মনের কথা খুলে বলবে। (১ করিন্থীয় ৭:৩৯) আসলে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা বন্ধুত্ব থেকেই শুরু হয় আর তারা সারাজীবন একে অন্যের বন্ধু হয়েই থাকে।