যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
বাবা-মায়ের সঙ্গে আমি কীভাবে এক ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি?
তোমার জন্য একটা কুইজ
কার সঙ্গে তোমার বেশি মতের অমিল হয়?
বাবা
মা
কত বার তার সঙ্গে তোমার মতের অমিল হয়?
খুব কম
মাঝে মাঝে
প্রায়ই
এই মতপার্থক্য কতটা গুরুতর হয়ে ওঠে?
এটা সহজেই শান্তিপূর্ণভাবে মিটমাট হয়ে যায়।
অনেক তর্কবিতর্কের পর এটার সমাধান হয়।
অনেক তর্কবিতর্কের পরও এর কোনো সমাধান হয় না।
বাবা-মায়ের সঙ্গে তোমার যদি মতের অমিল হয়, তা হলে তুমি হয়তো এটা ভাবতে পার যে, পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য তাদেরই কিছু করা উচিত। তবে এই প্রবন্ধে আমরা দেখব, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং শান্ত করার জন্য তুমি কোন পদক্ষেপগুলো নিতে পার। প্রথমে এই বিষয়টা বিবেচনা করা যাক …
বাবা-মায়ের সঙ্গে কেন মতের অমিল হয়?
চিন্তা করার ক্ষমতা। ছোটোবেলায় তুমি যেভাবে চিন্তা করতে, বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমি আর সেভাবে চিন্তা কর না। তুমি এখন আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছ। কোনো কোনো বিষয়কে তুমি হয়তো দৃঢ়ভাবে সমর্থন কর, যেটা তোমার বাবা-মা করে না। কিন্তু, তারপরও বাইবেল আমাদের বলে: “তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও।”—যাত্রাপুস্তক ২০:১২.
জীবনের বাস্তবতা: মতের অমিল দেখা দিতে পারে, তবে নম্রভাবে সেটা প্রকাশ করার জন্য পরিপক্বতা ও দক্ষতার প্রয়োজন।
স্বাধীনতা। বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তোমার বাবা-মা তোমাকে আরও স্বাধীনতা দিতে চাইবে। কিন্তু তুমি যতটা স্বাধীনতা চাও, তারা তোমাকে ততটা না-ও দিতে পারে কিংবা তুমি যখন স্বাধীনতা চাও, তখন তুমি তা না-ও পেতে পার আর এর ফলে তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু, তারপরও বাইবেল আমাদের বলে: “তোমরা … নিজ নিজ বাবা-মায়ের বাধ্য হও।”—ইফিষীয় ৬:১.
জীবনের বাস্তবতা: তোমার বাবা-মা তোমাকে কতটা স্বাধীনতা দেবে, সেটা অনেকটা নির্ভর করে, এখন তুমি তোমার স্বাধীনতাকে কীভাবে ব্যবহার করছ, সেটার উপর।
তুমি যা করতে পার
তুমি কী করতে পার, সেটার প্রতি মনোযোগ দাও। সমস্ত দোষ বাবা-মায়ের উপর না দিয়ে, শান্তি বজায় রাখার জন্য তুমি কী করতে পার, সেটা বিবেচনা কর। জেফ্রি নামে একজন অল্পবয়সি বলে: “সবসময় বাবা-মা যেটা বলে, সেটার কারণে নয় কিন্তু তুমি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাও, সেটার জন্যও মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। শান্তভাবে কথা বললে সমস্যার সমাধান হয়।”
বাইবেল বলে: “সমস্ত মানুষের সঙ্গে শান্তিতে বাস করার জন্য তোমাদের সর্বোত্তমটা করো।”—রোমীয় ১২:১৮.
মন দিয়ে শোনো। ১৭ বছর বয়সি বোন সামান্থা বলে: “মন দিয়ে শোনা আমার জন্য খুবই কঠিন। কিন্তু, আমি এটা দেখেছি যে, তুমি যদি তোমার বাবা-মায়ের কথা মন দিয়ে শোনো, তখন তারাও তোমার কথা শুনবে।”
বাইবেল বলে: “শোনার ব্যাপারে ইচ্ছুক এবং কথা বলার ব্যাপারে ধীর হও।”—যাকোব ১:১৯.
মতপার্থক্য হল আগুনের মতো, নিয়ন্ত্রণে না রাখলে সেটা হাতের বাইরে চলে যায়
একই লক্ষ্য স্থির করার চেষ্টা করো। বাবা-মা এবং তোমার লক্ষ্য একটাই আর সেটা হল সমস্যার সমাধান করা। তাই বাবা-মায়ের উপর অযথা রাগ না করে সমস্যাটা সমাধান করার চেষ্টা করো। অ্যাডাম নামে একজন অল্পবয়সি ভাই বলে: “সাধারণত বাবা-মায়েরা মনে করে, তারা যেটা বলছে, সেটা তাদের সন্তানদের জন্য সবচেয়ে ভালো। অন্যদিকে সন্তানেরা মনে করে যে, তারা যেটা মনে করছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু, এই ক্ষেত্রে তাদের দু-জনেরই লক্ষ্য এক আর সেটা হল সমস্যার সমাধান করা।”
বাইবেল বলে: “আমরা এমন সমস্ত কিছু করার জন্য যথাসাধ্য করি, যা শান্তি গড়ে তোলে।”—রোমীয় ১৪:১৯.
পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করো। সারা নামে একজন অল্পবয়সি বোন বলে: “আমাদের মতো বাবা-মায়েদেরও বিভিন্ন জটিল সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এটা মনে রাখা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।” কার্লা নামে একজন অল্পবয়সি বোন এই বিষয়ে আরও বলে: “আমি নিজেকে বাবা-মায়ের জায়গায় রাখার চেষ্টা করি। আমাকে যদি একটা সন্তান বড়ো করে তুলতে হত এবং আমি যদি একইরকম পরিস্থিতিতে থাকতাম, তা হলে আমার কেমন লাগত? আমি আমার সন্তানের জন্য আর কি করতে পারি, যেটা তার জন্য ভালো হবে?”
বাইবেল বলে: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।”—ফিলিপীয় ২:৪.
বাধ্য হও। বাইবেল তোমাকে বাবা-মায়ের বাধ্য হতে উৎসাহিত করে। (কলসীয় ৩:২০) তুমি যদি বাধ্য হও, তা হলে তুমি সহজেই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। ক্যারেন নামে একজন অল্পবয়সি বোন বলে: “আমি যখন আমার বাবা-মায়ের কথা শুনে চলি, তখন আমি অনেক স্বস্তি বোধ করি। তারা ইতিমধ্যেই আমার জন্য অনেক ত্যাগস্বীকার করেছে, আমি তো এইটুকু তাদের জন্য করতেই পারি।” বাধ্যতাই হল মতপার্থক্য সমাধান করার সবচেয়ে ভালো উপায়।
বাইবেল বলে: “কাঠ না থাকলে আগুন নিভে যায়।”—হিতোপদেশ ২৬:২০.
পরামর্শ। যদি সরাসরি কথা বলা তোমার জন্য কঠিন হয়, তা হলে তুমি একটা নোট বা মেসেজ লিখতে পার। অ্যালিসা নামে একজন অল্পবয়সি বোন বলে: “যখন আমার কথা বলতে ইচ্ছা করে না, তখন আমি এটাই করি। এটা আমাকে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করার অথবা এমন কিছু বলা থেকে বাঁচায়, যার জন্য পরে আমাকে আপশোস করতে হবে।”