যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
যৌন নিপীড়ন সম্বন্ধে আমার কী জানা উচিত?—ভাগ ১: আগে থেকে সতর্ক থাকা
যৌন নিপীড়ন বলতে কী বোঝায়?
এটা ঠিক যে, একেক দেশের আইনি ভাষায় যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা একেক রকম হতে পারে। তবে সাধারণত “যৌন নিপীড়ন” বলতে বোঝায়, কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বা এমনকী জোরজবরদস্তি করে, তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা। এর মধ্যে ধর্ষণ, বাচ্চাদের আর অল্পবয়সিদের সঙ্গে যৌন আচরণও জড়িত রয়েছে। শুধু তাই নয়, যখন একজন ব্যক্তি তার নিজের পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো ডাক্তার বা টিচার বা কোনো পাদরির কাছ থেকে যৌন আচরণের শিকার হয়, তখন সেটাকেও যৌন নিপীড়ন বলা হয়। যারা এই ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়—হতে পারে তা নোংরা কথা বা শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে—তাদেরকে প্রায়ই ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া হয় যে, যদি তারা এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানায়, তা হলে তাকে বিপদের মুখে পড়তে হবে।
একটা সার্ভে অনুযায়ী, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর ২৫% লোক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরই বয়স ১২ থেকে ১৮ বছর।
তোমার যা জানা উচিত
বাইবেল যৌন নিপীড়নের নিন্দা করে। বাইবেলে একটা ঘটনার বিষয়ে বলা আছে, যেটা আজ থেকে প্রায় ৪,০০০ বছর আগে ঘটেছিল। দু-জন লোক সদোমে আসে আর সেখানকার যৌন আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত এক উন্মাদ জনতা সেই দু-জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চেয়েছিল। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, যিহোবা কেন সেই নগর ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ১৯:৪-১৩) এ ছাড়া, যিহোবা প্রায় ৩,৫০০ বছর আগে মোশির ব্যবস্থার মাধ্যমে ইজরায়েলীয়দের জানিয়েছিলেন যে, তারা তাদের নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবে না আর তাদের উপর যৌন নিপীড়নও করবে না।—লেবীয় পুস্তক ১৮:৬.
বেশিরভাগ যৌন নিপীড়ন পরিচিতদের দ্বারাই হয়। Talking Sex With Your Kids নামের ইংরেজি বইটা বলে, “তিনটের মধ্যে দুটো ধর্ষণের ঘটনাই এমন হয়, যেখানে, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি তার ধর্ষণকারীকে চেনে আর সে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি নয়, যে কিনা হঠাৎই কোথাও থেকে এসে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।”
ছেলে-মেয়ে উভয়েই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০% যৌন নিপীড়ন ছেলেদের সঙ্গে হয়ে থাকে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন এক সংগঠন (Rape, Abuse & Incest National Network, RAINN) বলে, যে-সমস্ত ছেলে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, তাদের মনে “এক ধরনের ভয় ঢুকে যায় যে, এই ঘটনার কারণে তারা হয়তো সমকামী হয়ে যাবে” অথবা তারা এমনটা মনে করতে পারে যে, “তাদের মধ্যে পুরুষত্বের অভাব” রয়েছে।
যৌন নিপীড়নের ব্যাপকতা দেখে আশ্চর্য হোয়ো না। বাইবেলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, “শেষকালে” লোকেরা “স্নেহ দেখাবে না” আর তারা “হিংস্র হবে” এবং “সংযমের অভাব দেখাবে।” (২ তীমথিয় ৩:১-৩) এই ধরনের আচরণ সেই লোকদের মধ্যে দেখা যায়, যারা নিজেদের বাসনা পূরণ করার জন্য অন্যদের উপর যৌন নিপীড়ন করে।
যে-ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার কোনো দোষ নেই। এমনটা বলা ভুল হবে যে, যে-ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, দোষটা তারই। আসলে, এমন নোংরা কাজের জন্য আক্রমণকারী নিজেই দায়ী। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা মেনে চললে এই ধরনের বিপদ অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
তুমি যা করতে পারো
আগে থেকে সতর্ক থাকো। তোমার কোনো আত্মীয় বা তুমি যার সঙ্গে ডেট করছ, সে যদি তোমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য জোরাজুরি করে, তা হলে সেই সময়ে তুমি কী করবে, তা আগে থেকে ভেবে রাখতে পারো। এরিন নামের এক যুবতী মেয়ে এই বিষয়ে তার মতামত জানায় যে, কী কী ঘটতে পারে, এমন সম্ভাব্য কিছু পরিস্থিতি নিয়ে তুমি আগে থেকেই মনে মনে কল্পনা করে রাখলে, এই ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি এড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া, তুমি এটাও ঠিক করে রাখতে পারো যে, সেই পরিস্থিতিতে পড়লে, তুমি কী করবে। সে বলে, “এটা করা হয়তো অদ্ভুত বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আগে থেকে এভাবে ভেবে রাখলে, সত্যি সত্যি যদি কখনো এমন ঘটনা ঘটে, তখন তুমি নিজেকে বাঁচাতে পারবে।”
বাইবেল বলে: “তোমরা কীভাবে চলছ, তা ভালোভাবে লক্ষ করো। মূর্খ ব্যক্তির মতো না চলে বরং বিজ্ঞ ব্যক্তির মতো চলো, … কারণ আমরা মন্দ সময়ে বাস করছি।”—ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬.
নিজেকে জিজ্ঞেস করো: ‘কেউ যদি আমাকে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে স্পর্শ করে, তা হলে আমি কী করব?’
পালিয়ে আসার উপায় নিয়ে ভেবে রাখো। RAINN নামের সংগঠনটা বলে, “এমন একটা কোড ওয়ার্ড ঠিক করে রাখো, যেটা বললে তোমার পরিবার বা বন্ধুরা বুঝে যাবে যে, তুমি কোনো বিপদে পড়েছ। পরে কখনো যদি তুমি এমন কারো সঙ্গে থাকো, যার হাবভাব দেখে তোমার অস্বস্তি লাগে, তখন তুমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে সেই বন্ধুদের বা পরিবারের এক জনকে ওই কোড ওয়ার্ডটা বলতে পারো, যেটা কিনা তোমার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি বুঝতেই পারবে না। তখন তোমার পরিবার বা বন্ধু এসে তোমাকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে পারবে বা কোনো বাহানা বানিয়ে তোমাকে সেখান থেকে বের করে আনতে পারবে।” প্রথম থেকেই তুমি যদি এই ধরনের বিপদজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে পার, তা হলে অনেক দুঃখজনক পরিণতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে।
বাইবেল বলে: “সতর্ক ব্যক্তি বিপদ দেখে নিজেকে লুকোয়, কিন্তু অনভিজ্ঞ ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে পরিণতি ভোগ করে।”—হিতোপদেশ ২২:৩.
নিজেকে জিজ্ঞেস করো: ‘এই ধরনের বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসব, সেই বিষয়ে আমি কোন পরিকল্পনা করে রেখেছি?’
বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখো
নিজের জন্য একটা সীমা টানো আর তাতে স্থির থাকো। যেমন, তুমি যদি কারো সঙ্গে ডেট করছ, তা হলে তার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলে নাও যে, কোন ধরনের আচরণ করা উপযুক্ত হবে আর কোনগুলো করা উপযুক্ত হবে না। তোমার ডেটিং পার্টনারের কাছে যদি মনে হয়, এই ধরনের সীমা রাখার কোনো মানেই হয় না, তা হলে তুমি ভুল ব্যক্তির সঙ্গে ডেট করছ। তাই, তোমার এমন একজন সাথি খোঁজা উচিত, যে তোমার নৈতিক মানকে সম্মান করবে।
বাইবেল বলে: “প্রেম … অশোভন আচরণ করে না, স্বার্থ চেষ্টা করে না।”—১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৫.
নিজেকে জিজ্ঞেস করো: ‘আমার নিজের নৈতিক মানের বিষয়ে কী বলা যায়? কোন ধরনের আচরণগুলো সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি?’