যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
ভিডিও গেম সম্বন্ধে আমার কী জানা উচিত?
ভিডিও গেম কুইজ
আমেরিকায় ভিডিও গেমের কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলার লাভ করে . . .
যারা ভিডিও গেম খেলে, তাদের আনুমানিক বয়স কত?
ক. ১৮
খ. ৩০
যারা ভিডিও গেম খেলে, তাদের মধ্যে ছেলে ও মেয়েদের সংখ্যা কত?
ক. ৫৫ শতাংশ ছেলে; ৪৫ শতাংশ মেয়ে
খ. ১৫ শতাংশ ছেলে; ৮৫ শতাংশ মেয়ে
এই দুই দলের মধ্যে বিশেষ করে কারা বেশি ভিডিও গেম খেলে?
ক. মেয়েরা, যাদের বয়স ১৮ এবং এর চেয়ে বেশি
খ. ছেলেরা, যাদের বয়স ১৭ এবং এর চেয়ে কম
উত্তর (২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী):
খ. ৩০
ক. মোট যারা ভিডিও গেম খেলে, তাদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের কাছাকাছি।
ক. যে-সমস্ত মেয়েরা ভিডিও গেম খেলে, তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশ মেয়েদের বয়স ১৮ বা এর চেয়ে বেশি। এর তুলনায় মাত্র ১৯ শতাংশ ছেলে যারা ভিডিও গেম খেলে, তাদের বয়স ১৭ বা এর চেয়ে কম।
এই পরিসংখ্যানগুলো তোমাকে একটা ধারণা দিতে পারে যে, কারা ভিডিও গেম খেলে। কিন্তু, এর থেকে তুমি এটা জানতে পারবে না যে, ভিডিও গেম তোমার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে।
এর ভালো দিক
ভিডিও গেম সম্বন্ধে এখানে যে-মন্তব্যগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তুমি কোনটার সঙ্গে একমত?
“ভিডিও গেম হল একটা মজার উপায়, যেটার ফলে আমরা পরিবার ও বন্ধুদের ঘনিষ্ঠ হতে পারি।”—আইরিন।
“কিছু সময়ের জন্য বাস্তব জগৎকে ভুলে যাওয়ার এটা একটা ভালো উপায়।”—অ্যানেট।
“ভিডিও গেম, তোমার কাজ করার দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে।”—ক্রিস্টোফার।
“ভিডিও গেম, সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।”—এমি।
“ভিডিও গেম, তোমার ব্রেনকেও অ্যাকটিভ রাখে, এর ফলে তুমি চিন্তা করতে এবং কীভাবে কোনো কাজ সঠিকভাবে কাজ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করতে পারবে।”—অ্যান্থনি।
“এমন কিছু ভিডিও গেম আছে, যেগুলো বন্ধুদের সঙ্গে একটা টিম হিসেবে কাজ করতে উৎসাহ দেয়।”—থমাস।
“কিছু ভিডিও গেম তোমাকে এক্সারসাইজ করতে এবং তোমার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে।”—জায়েল।
এখানে করা কিছু বা সব মন্তব্যের সঙ্গে তুমি কি একমত? ভিডিও গেমগুলো আমাদের মন ও শরীরের জন্য উপকারী হতেপারে। যেমন অ্যানেট বলেছিল, “কিছু সময়ের জন্য বাস্তব জগৎকে ভুলে যাওয়ার এটা একটা ভালো উপায়”, তাই সময় কাটানোর জন্য যদি কিছু ভিডিও গেম খেলা হয়, তা হলে এর মধ্যে কোনো ভুল নেই।
● বাইবেল বলে, “আকাশের নীচে প্রতিটা কাজের একটা সময় রয়েছে,” এর অন্তর্ভুক্ত বিনোদনও হতে পারে।—উপদেশক ৩:১-৪.
এর খারাপ দিক
ভিডিও গেম কি তোমার অনেক সময় কেড়ে নিচ্ছে?
“একবার খেলতে শুরু করলে, আমি কোনোভাবেই সেটা বন্ধ করতে পারি না। আমি বার বার নিজেকে বলতে থাকি, আরেকবার খেলে নিই, তারপর আমি আর খেলব না। কিন্তু, খেলতে খেলতে কীভাবে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যায়, সেটা আমি বুঝতেই পারি না!”—অ্যানেট।
“ভিডিও গেমগুলো আমাদের কাছ থেকে অনেক সময় কেড়ে নেয়। তুমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলতে থাক আর হয়তো পাঁচটা গেম জেতার পরে, তোমার মনে হতে পারে, তুমি অনেক কিছু করে ফেলেছ, কিন্তু বাস্তবে তুমি কিছুই করনি।”—সেরেনা।
মূল কথা: তোমার যদি টাকাপয়সা হারিয়ে যায়, তা হলে তুমি হয়তো সেটা ফিরে পেতে পার। কিন্তু, একবার সময় চলে গেলে, সেটা আর কখনো ফিরে পাবে না। এর মানে হল, সময়ের দাম টাকাপয়সার চেয়ে অনেক বেশি। তাই, সময়ের মতো মূল্যবান জিনিসকে হাতছাড়া কোরো না!
● বাইবেল বলে: “তোমরা প্রজ্ঞা সহকারে আচরণ করো, তোমাদের সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করো।”—কলসীয় ৪:৫.
ভিডিও গেমগুলো কি তোমার চিন্তাভাবনার উপর প্রভাব ফেলছে?
“যে-সমস্ত অপরাধের জন্য জেল বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, সেগুলো অনায়াসে ভিডিও গেমগুলোতে খেলা যায়।”—সেথ।
“এমন অনেক ভিডিও গেম আছে, যেখানে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শত্রুদের হারাতে হয়। আর প্রায়ই, এটা করার জন্য শত্রুদের নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলা হয়।”—অ্যানেট।
“অনেকসময় খেলতে গিয়ে তুমি ভাবতেই পারবে না যে, তুমি তোমার বন্ধুদের কী বলছ। যেমন, ‘মরছিস না কেন, মরে যা!’ অথবা ‘আমি এবার তোকে মেরেই ফেলব!’”—নেথেন।
মূল কথা: সেই সমস্ত ভিডিও গেম খেলা এড়িয়ে চলো, যেগুলোতে মারপিট, যৌনতা ও জাদুবিদ্যা রয়েছে কারণ ঈশ্বর এগুলো ঘৃণা করেন।—গালাতীয় ৫:১৯-২১; ইফিষীয় ৫:১০; ১ যোহন ২:১৫, ১৬.
● বাইবেল বলে, যারা হিংসাত্মক কাজ করে, শুধু তাদেরই নয়, কিন্তু “যারা হিংসাত্মক কাজ ভালোবাসে,” তাদেরও যিহোবা “ঘৃণা করেন।” (গীতসংহিতা ১১:৫) তাই, তুমি যে-ধরনের ভিডিও গেম খেলো, সেটা হয়তো দেখাবে না যে, ভবিষ্যতে তুমি কেমন হবে, কিন্তু এটা অবশ্যই বলে দেবে, এখন তুমি কী ধরনের ব্যক্তি অর্থাৎ তুমি কোন ধরনের বিষয়গুলো ভালোবাস।
চিন্তা করার মতো বিষয়: শান্ত থাকুন নামক ইংরেজি বইটা বলে, “মারপিট রয়েছে এমন ভিডিও গেমগুলো, টিভির চেয়েও একজনের আচার-আচরণের উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। কীভাবে? কারণ ছোটো ছেলে-মেয়েরা ভিডিও গেমে শুধুমাত্র হিরোকে মারপিট করতে দেখে না, কিন্তু সেইসঙ্গে গেম খেলার সময় তারা নিজেদেরই হিরো বলে মনে করে এবং মারপিট করে। মনে রেখো, ভিডিও গেম তোমাকে একজন শিক্ষকের মতো শিক্ষা দিতে পারে, তবে এই ধরনের ভিডিও গেম তোমাকে শুধু মারপিট করতেই শেখাবে।”—তুলনা করুন, যিশাইয় ২:৪.
বাস্তবে যা হয়
ভিডিও গেম খেলার বিষয়ে অনেক যুবক-যুবতী একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে শিখেছে। দুটো উদাহরণ নিয়ে চিন্তা করো।
“আমি অনেক রাত পর্যন্ত ভিডিও গেম খেলতাম আর এটা ভাবতাম যে, পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই যথেষ্ট। তাই, আমি আরও একটু খেলতে পারি। অবশ্য এখন আমি বুঝতে পেরেছি, আমার ঠিক কতক্ষণ ভিডিও গেম খেলা উচিত। আমি এখন শখের জন্য মাঝেমধ্যে ভিডিও গেম খেলি। কিন্তু আমি মনে করি, যা-কিছুই করি না কেন, সব কিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।”—জোসেফ।
“যখন থেকে আমি ভিডিও গেম খেলা কমিয়ে দিয়েছি, তখন থেকে আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি অনেক বেশি কাজ করতে পারছি। আমি প্রচার করার দক্ষতা বাড়াতে পেরেছি, মণ্ডলীর ভাই-বোনদের সাহায্য করতে পারছি আর এমনকী আমি পিয়ানো বাজাতেও শিখছি। তাই, জীবনে ভিডিও গেম খেলা ছাড়াও আরও অনেক কিছু করার আছে!”—ডেভিড।
● বাইবেল বলে, পরিপক্ব ব্যক্তিরা “নিজেকে দমন” করে। (১ তীমথিয় ৩:২, ১১) তারা আনন্দ করতে ভালোবাসে, তবে তারা জানে যে, কোথায় থামতে হবে এবং আত্মসংযম দেখাতে হবে।—ইফিষীয় ৫:১০.
মূল কথা: ভিডিও গেম একটা আনন্দের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যদি আমরা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি। কিন্তু মনে রেখো, ভিডিও গেম যেন তোমার সময়কে নিয়ন্ত্রণ না করে অথবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করা থেকে তোমাকে সরিয়ে না দেয়। একটা খেলায় জয়ী হওয়ার চেয়ে, প্রকৃত জীবনে জয়ী হওয়া কি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?