বিয়ে সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?
বাইবেলের উত্তর
ঈশ্বর প্রথম পুরুষ ও নারীকে সৃষ্টি করার পর তাদের বিয়ের মাধ্যমে এক করেছিলেন। একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে একটা বিশেষ বন্ধন হিসেবে তিনি বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে তারা এবং তাদের সন্তানেরা এক সুরক্ষিত পরিবেশের মধ্যে থাকতে পারে।—আদিপুস্তক ১:২৭, ২৮; ২:১৮.
ঈশ্বর চান বিবাহিত দম্পতিরা যেন সুখী হয়। (হিতোপদেশ ৫:১৮) বাইবেলে তিনি বিয়ের জন্য বিভিন্ন মান স্থির করেছেন এবং এমন নীতি দিয়েছেন, যা বিয়েকে সফল করার জন্য সাহায্য করতে পারে।
এই প্রবন্ধে রয়েছে
ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করার জন্য কি আইনত রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করতে হবে?
বর্তমানে ঈশ্বর কি এমনটা চান যেন বিবাহিত দম্পতিরা সন্তান নেয়?
বিয়ে সম্বন্ধে ঈশ্বরের মান কী?
ঈশ্বর শুরু থেকেই একজন পুরুষ ও নারীকে একতাবদ্ধ করার জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। (আদিপুস্তক ২:২৪) একের অধিক বিয়ে করা, সমকামিতা অথবা বিয়ে না করেই দু-জন ব্যক্তি একসঙ্গে থাকার বিষয়টাকে যিহোবা অনুমোদন করেন না। (১ করিন্থীয় ৬:৯; ১ থিষলনীকীয় ৪:৩) যিশু তাঁর অনুসারীদের এই শিক্ষা দিয়েছিলেন, যেন তারা বিয়ে সম্বন্ধে ঈশ্বর শুরুতে যে-মান দিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করে।—মার্ক ১০:৬-৮.
ঈশ্বরের চোখে বিয়ে হল এক স্থায়ী বন্ধন। একজন পুরুষ ও নারী যখন বিয়ে করে, তখন তারা পরস্পরের প্রতি অনুগত থাকার এবং যতদিন তারা বেঁচে থাকবে, ততদিন একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করে। ঈশ্বর চান যেন তারা এই প্রতিজ্ঞা রাখে।—মার্ক ১০:৯.
আলাদা থাকার এবং বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে কী বলা যায়?
কখনো কখনো এমন সয়ম আসতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের কাছ থেকে আলাদা থাকতে হয়। যেমন, পারিবারে এমন কোনো জরুরি অবস্থা দেখা দিয়েছে, যেটার কারণে একজন সাথীকে আলাদা থাকতে হয়। তবে, বিয়েতে সমস্যা দেখা দিলে, সেটার জন্য আলাদা থাকার বিষয়ে বাইবেল উৎসাহিত করে না। এর পরিবর্তে, বাইবেল পরামর্শ দেয় যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধান করা হয়।—১ করিন্থীয় ৭:১০.
বিবাহবিচ্ছেদ করার একমাত্র শাস্ত্রীয় ভিত্তি হল ব্যভিচার। (মথি ১৯:৯) তাই, একজন স্বামী অথবা স্ত্রী যদি ব্যভিচার ছাড়া অন্য কোনো কারণে আলাদা থাকার অথবা বিবাহবিচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বাইবেল কোনো সাথিকেই অন্য কারো সঙ্গে ডেটিং করার অথবা পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেয় না।—মথি ৫:৩২; ১ করিন্থীয় ৭:১১.
ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করার জন্য কি আইনত রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করতে হবে?
ঈশ্বর চান যেন খ্রিস্টানেরা বিয়ে সম্বন্ধে সরকারি আইন মেনে চলে। (তীত ৩:১) যখন কোনো দম্পতি আইনত রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে, তখন তারা সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং ঈশ্বরের এই মানের প্রতি সম্মান দেখায় যে, বিয়ে হল এক স্থায়ী প্রতিশ্রুতি।a
বাইবেল অনুযায়ী স্বামী আর স্ত্রীর ভূমিকা ও দায়িত্ব কী?
উভয়েরই দায়িত্ব। স্বামী ও স্ত্রীকে একে অন্যের প্রতি প্রেম ও সম্মান দেখাতে হবে। (ইফিষীয় ৫:৩৩) তাদের প্রেমের সঙ্গে একে অন্যের যৌন চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং সমস্ত ধরনের অবিশ্বস্ততা এড়িয়ে চলতে হবে। (১ করিন্থীয় ৭:৩; ইব্রীয় ১৩:৪) তাদের যদি সন্তান থাকে, তা হলে সন্তান মানুষ করে তোলার জন্য তাদের উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে।—হিতোপদেশ ৬:২০.
বাইবেল বিস্তারিতভাবে জানায় না যে, স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কে চাকরি করবে অথবা ঘরে কে কোন কাজ করবে। তাদের পরিবারের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো হবে, সেই বিষয়ে তারা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
একজন স্বামীর ভূমিকা। বাইবেল বলে, “স্বামী তার স্ত্রীর মস্তক।” (ইফিষীয় ৫:২৩) এর অর্থ হল, একজন স্বামী পরিবারে নির্দেশনা দেবেন এবং এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, যা তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য উপকারজনক হবে।
তিনি লক্ষ রাখবেন, যাতে পরিবার সুস্থসবল ও সুখী থাকে এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। (১ তীমথিয় ৫:৮) স্ত্রীর পাশে থেকে কাজ করার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার মতামত ও অনুভূতির কথা ভালোভাবে চিন্তা করার মাধ্যমে তিনি তার স্ত্রীর গুণ ও দক্ষতার প্রতি সম্মান দেখান। (হিতোপদেশ ৩১:১১, ২৮) বাইবেল বলে, একজন স্বামীকে প্রেমের সঙ্গে তার দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে।—কলসীয় ৩:১৯.
একজন স্ত্রীর ভূমিকা। বাইবেল বলে, “স্ত্রীর উচিত, যেন সে তার স্বামীকে গভীর সম্মান করে।” (ইফিষীয় ৫:৩৩) একজন স্ত্রী যখন স্বামীর ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখান, তখন ঈশ্বর খুশি হন।
স্ত্রীর ভূমিকা হল, তার স্বামীকে সহযোগিতা করা, তাকে উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা এবং তার মস্তকপদের দায়িত্ব পালন করার জন্য তাকে সমর্থন করা। (আদিপুস্তক ২:১৮) বাইবেল সেই স্ত্রীর প্রশংসা করে, যিনি বিয়েতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।—হিতোপদেশ ৩১:১০.
বর্তমানে ঈশ্বর কি এমনটা চান যেন বিবাহিত দম্পতিরা সন্তান নেয়?
না। ঈশ্বর অতীতে তার কিছু দাসকে সন্তান নেওয়ার আজ্ঞা দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ১:২৮; ৯:১) কিন্তু, খ্রিস্টানদের জন্য এই আজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। যিশু কখনোই তাঁর অনুসারীদের সন্তান নেওয়ার আজ্ঞা দেননি। কিংবা প্রথম শতাব্দীর কোনো শিষ্যও বলেননি যে, বিবাহিত দম্পতিকে সন্তান নিতেই হবে। সন্তান নেবে কি নেবে না, সেই বিষয়ে দম্পতিরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বাইবেল কীভাবে আমার বিয়েতে সাহায্য করতে পারে?
বাইবেলে এমন অনেক নীতি রয়েছে, যেগুলো দম্পতিদের তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে শুরু করার জন্য সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া, বাইবেলের নীতি দম্পতিদের বিভিন্ন সমস্যা এড়িয়ে চলতে অথবা সেগুলো সমাধান করতে সাহায্য করে।
বাইবেলের নীতিগুলো কোনো বিবাহিত দম্পতিকে ...
প্রকৃত প্রেম দেখাতে সাহায্য করে।—১ করিন্থীয় ১৩:৪-৭; কলসীয় ৩:১৪.
a রীতিগতভাবে অথবা উপজাতিগতভাবে বিয়ের বিষয়ে বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা জানার জন্য ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ২১ পৃষ্ঠার ১২ অনুচ্ছেদ দেখুন।