জুলাই ৬-১২, ২০২৬
গান ৯৮ শাস্ত্র—ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত
বাইবেলের নীতি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
“তোমরা তোমাদের দেহকে . . . উৎসর্গ করো। এভাবে তোমরা তোমাদের যুক্তি করার ক্ষমতা সহকারে পবিত্র সেবা প্রদান করবে।”—রোমীয় ১২:১.
আমরা কী শিখব?
আমরা শিখব যে, নীতি বলতে কী বোঝায় এবং বাইবেল পড়ার সময় কীভাবে আমরা নীতিগুলোকে শনাক্ত করতে পারি।
১-২. (ক) কেন বাইবেলকে একটি প্রাচীন বই বলা হয়? (খ) কেন বাইবেল আজও আমাদের সাহায্য করতে পারে?
বাইবেল একটি প্রাচীন বই। এটি প্রায় ৩,৫০০ বছর আগে লেখা শুরু হয় এবং প্রায় ২,০০০ বছর আগে লেখা শেষ হয়। তবে, “ঈশ্বরের বাক্য” বাইবেলে যা লেখা রয়েছে, সেটা আজও জীবন্ত এবং অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। (ইব্রীয় ৪:১২; ২ তীম. ৩:১৬, ১৭) লক্ষ লক্ষ মানুষ বলেছে যে, বাইবেল তাদের বর্তমান জগতে বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছে।
২ কিন্তু, কীভাবে এত প্রাচীন একটা বই আজও আমাদের সাহায্য করতে পারে? এর মূলত দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমটা হল, বাইবেলের বার্তা “জীবন্ত ঈশ্বরের” কাছ থেকে এসেছে, যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং যাঁর প্রজ্ঞা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। (১ তীম. ৪:১০; রোমীয় ১৬:২৬, ২৭) দ্বিতীয়টা হল, আমরা যে-সময়েই বাস করি না কেন বা যেকোনো সমস্যারই মুখোমুখি হই না কেন, বাইবেলের নীতিগুলোর দ্বারা আমরা সবসময় উপকৃত হতে পারি।
৩. এই প্রবন্ধে আমরা কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে পারব?
৩ বাইবেলের নীতি বলতে কী বোঝায়? কেন বাইবেলের নীতিগুলো আজও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? বাইবেল পড়ার সময় কীভাবে আমরা নীতিগুলোকে শনাক্ত করতে পারি? এই প্রবন্ধে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে পারব। এ ছাড়া আমরা দেখব, যিশু কীভাবে তাঁর শিক্ষার মাধ্যমে বাইবেলের নীতিগুলো আমাদের ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছেন।
বাইবেলের নীতি বলতে কী বোঝায়?
৪. বাইবেলের নীতি বলতে কী বোঝায়?
৪ বাইবেলের নীতি হল এমন কিছু মৌলিক সত্য, যেগুলোর উপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের আইন দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকসময় এই আইনের মধ্যেই স্পষ্টভাবে নীতিগুলোকে বোঝা যায়। (মথি ২২:৩৭) তবে, আইনের চেয়ে নীতি আরও বেশি কার্যকরী। কেন? কারণ আইন অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। এটা হয়তো বিশেষ কোনো সময় বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু, বাইবেলের নীতি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ও বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। (গীত. ১১৯:১১১) এ ছাড়া, এটা ঈশ্বরের চিন্তাভাবনা আরও ভালোভাবে বুঝতে আমাদের সাহায্য করে। আসলে, যিহোবার দেওয়া প্রতিটা আইনের পিছনে একটা উপযুক্ত কারণ বা নীতি রয়েছে। আইন পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু নীতি সবসময় একই থাকে।—যিশা. ৪০:৮.
৫. আইন ও নীতির মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে? (একটা উদাহরণ দিন।) (ছবিগুলোও দেখুন।)
৫ আইন ও নীতির মধ্যে যে-পার্থক্য রয়েছে, সেটা বোঝার জন্য একটা উদাহরণ লক্ষ করুন। ধরুন, একজন মা তার ছোট্ট সন্তানকে বলেছেন, ‘স্টোভে হাত দেবে না।’ এটা হল একটা আদেশ বা আইন। কিন্তু, এই আইনের পিছনে থাকা নীতিটা হল, কোনো গরম জিনিসে হাত না দেওয়া, যেটার ফলে হাত পুড়ে যেতে পারে। তবে, এই নীতিটা শুধুমাত্র স্টোভ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে ইস্ত্রি, হিটার বা এইরকম অন্যান্য গরম জিনিস ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেগুলোর ফলে কেউ আহত হতে পারে। এই নীতিটা শুধুমাত্র আপনার বাড়িতেই নয়, কিন্তু যেকোনো জায়গায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটা ঠিক যে, সেই ছোট্ট সন্তান যখন বড়ো হয়ে উঠবে, তখন সে হয়তো স্টোভ ব্যবহার করবে। কিন্তু, সেইসময়ও তাকে মনে রাখতে হবে, সে যেন সাবধানে এটা ব্যবহার করে যাতে তার হাত পুড়ে না যায়। তাই এখান থেকে বোঝা যায়, আইন পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু এর পিছনে থাকা নীতি কখনোই পরিবর্তন হয় না।
আইন পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু এর পিছনে থাকা নীতি কখনোই পরিবর্তন হয় না (৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
কেন বাইবেলের নীতিগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
৬. (ক) যিহোবা তাঁর বাক্যের মাধ্যমে আমাদের কী দিয়েছেন? (খ) কীভাবে যিহোবা আমাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন?
৬ যিহোবা আমাদের ভালোবাসেন আর তাই তিনি আমাদের কিছু আইন দিয়েছেন, যাতে আমরা বিপদ এড়াতে পারি। (যাকোব ২:১১) আর সেইসঙ্গে তিনি আমাদের এই আইনের পিছনে থাকা নীতি বা তাঁর চিন্তাভাবনা বুঝতে সাহায্য করেন। যিহোবা আমাদের প্রতিটা বিষয়ের জন্য আইন দেননি। কিন্তু, তিনি তাঁর বাক্যের মাধ্যমে এমন নির্দেশনা বা নীতি দিয়েছেন, যেগুলো আমাদের উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে এবং সঠিক কাজ করতে সাহায্য করে। এই নীতিগুলো দেওয়ার মাধ্যমে যিহোবা আমাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন এবং আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। এর ফলে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মানগুলো মেনে চলতে চাই।—গালা. ৫:১৩.
৭. বাইবেলের নীতি কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে? (একটা উদাহরণ দিন।) (ছবিও দেখুন।)
৭ বাইবেলের নীতি কীভাবে আমাদের সাহায্য করে, সেটা বোঝার জন্য একটা উদাহরণ লক্ষ করুন। কিছু দেশে হাইওয়েতে গাড়ি চালকদের জন্য নানা ধরনের ট্র্যাফিক সাইন দেওয়া থাকে। এই ট্র্যাফিক সাইনগুলো তাদের কিছু আইনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেগুলো মেনে না চললে ফাইন দিতে হতে পারে। এই সাইনগুলো তাদের বলে দেয় যে, গাড়ির গতি কত হওয়া উচিত এবং কোথায় গাড়ি থামাতে হবে। এ ছাড়া, এমন কিছু সাইনও রয়েছে, যেগুলো গাড়ি চালকদের আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করে দেয়, যেমন সামনে স্কুল রয়েছে বা সামনে এবড়োখেবড়ো রাস্তা। একজন অভিজ্ঞ গাড়ি চালক এই বিষয়ে সতর্ক থাকেন এবং এমনভাবে গাড়ি চালান যাতে তিনি সমস্ত ধরনের বিপদ এড়িয়ে চলতে পারেন। ঠিক একইভাবে, খ্রিস্টানেরাও সেইসমস্ত কাজ করে না, যেগুলোর বিষয়ে বাইবেলে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, তারা সেইসমস্ত চিন্তাভাবনা বা কাজও এড়িয়ে চলে, যেগুলো তাদের ঈশ্বরের আইন অমান্য করার দিকে পরিচালিত করতে পারে। তাই, একজন ব্যক্তি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চান, তা হলে তাকে সেই বিষয়ে যিহোবার চিন্তাভাবনা বা নীতি ভালোভাবে বুঝতে হবে।
হাইওয়েতে এমন কিছু সাইন থাকে, যেগুলো গাড়ি চালকদের আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করে দেয়। ঠিক একইভাবে, বাইবেলের নীতি আমাদের সাহায্য করতে পারে (৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৮. বাইবেলের নীতিগুলো জানা আমাদের কী করার জন্য প্রশিক্ষিত করতে পারে? (রোমীয় ১২:১, ২)
৮ বাইবেলের নীতিগুলো জানার এবং সেই অনুযায়ী চলার মাধ্যমে আমরা আরও কিছু উপকার লাভ করি। যেমন,আমরা যিহোবার চিন্তাভাবনা বোঝার জন্য নিজেদের প্রশিক্ষিত করতে পারি। আমরা যখন বাইবেলের কোনো বিবরণ পড়ি, তখন আমরা সেখান থেকে ব্যাবহারিক শিক্ষাগুলো লাভ করার চেষ্টা করি। আমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারি, যিহোবা কেন তাঁর বাক্যে এই শিক্ষাগুলো লিপিবদ্ধ করিয়েছেন এবং কীভাবে আমরা এর থেকে উপকার পেতে পারি। এর ফলে আমরা শিখতে পারব যে, যিহোবার সেবায় কীভাবে “যুক্তি করার ক্ষমতা” ব্যবহার করা যায়। আর এভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পারব, ঈশ্বরের “ইচ্ছা উত্তম, প্রীতিজনক ও নিখুঁত।”—পড়ুন, রোমীয় ১২:১, ২.a
৯. বাইবেলের নীতি অনুযায়ী জীবনযাপন করার ফলে আমরা আর কোন উপকার লাভ করি? (ইব্রীয় ৫:১৩, ১৪)
৯ বাইবেলের নীতি অনুযায়ী জীবনযাপন করা আমাদের পরিপক্ব খ্রিস্টান হতে সাহায্য করে। আমরা যখন তা করি, তখন যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। (পড়ুন, ইব্রীয় ৫:১৩, ১৪.) সাধারণত ছোটো ছেলে-মেয়েদের স্পষ্টভাবে বলে দিতে হয় যে, তারা কী করবে এবং কী করবে না। আর তারা হয়তো শাস্তি পাওয়ার ভয়ে এগুলো মেনে চলে। কিন্তু, যিহোবা আমাদের সেভাবে দেখেন না। তিনি আমাদের উপর এই আস্থা রাখেন যে, আমরা যে-সিদ্ধান্তই নিই না কেন, সেটা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী হবে এবং এটা তাঁর হৃদয়কে আনন্দিত করবে।—গীত. ১৪৭:১১; হিতো. ২৩:১৫, ২৬; ২৭:১১.
কীভাবে আমরা বাইবেলের নীতিগুলো শনাক্ত করতে পারি?
১০. কীভাবে আমরা বাইবেলের নীতিগুলো শনাক্ত করতে পারি?
১০ বাইবেল পড়ার সময় আমরা যদি নীতিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, তা হলে আমরা যিহোবার চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি ভালোভাবে বুঝতে পারব। আর যখন আমরা চিন্তা করব যে, কেন যিহোবা এই আইনটা দিয়েছেন, তখন আমরা এর পিছনে থাকা নীতিটা বা কারণটা শনাক্ত করতে পারব। আমরা যত বেশি কারণগুলো বুঝতে পারব, তত বেশি আমরা যিহোবার চিন্তাভাবনা বুঝতে পারব। আর যিহোবার চিন্তাভাবনা বোঝার জন্য আমাদের তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে হবে এবং নিজেদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে আরও বাড়াতে হবে। (হিতো. ২:১০-১২) বাইবেল পড়ার সময় আমরা নিজেদের এইরকম কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘কেন যিহোবা এই আইনটা দিয়েছেন? যিহোবা যদি নির্দিষ্ট কোনো আচরণ পছন্দ না করেন, তা হলে তিনি কি এই ধরনের অন্যান্য আচরণ পছন্দ করবেন? বাইবেলের এই বিবরণ থেকে আমি কোন শিক্ষা লাভ করেছি এবং কীভাবে এটা আমার জীবনে কাজে লাগাতে পারি?’ একবার যদি আমরা আইনের পিছনে থাকা কারণ এবং শিক্ষাটা বুঝে যাই, তা হলে আমরা যিহোবার ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখে জীবনে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
১১. পর্বতের উপরে দেওয়া উপদেশে যিশু কীভাবে আমাদের বাইবেলের নীতিগুলো শনাক্ত করতে শিখিয়েছেন? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১১ পর্বতের উপরে দেওয়া উপদেশে যিশু আমাদের দেখিয়েছেন যে, কীভাবে বাইবেলের নীতিগুলো শনাক্ত করতে হয়। আসুন আমরা এর তিনটে উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করি। প্রতিটা ক্ষেত্রে যিশু প্রথমে আইনটা বলেছেন। এরপর তিনি সেই আইনের পিছনে থাকা যিহোবার চিন্তাভাবনা বা নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। যিশু যা-কিছু বলেছেন, সেগুলো নিয়ে যদি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি, তা হলে আমরা বুঝতে পারব যে, কীভাবে এই নীতিগুলো বর্তমানে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
পর্বতের উপরে দেওয়া উপদেশে যিশু আমাদের দেখিয়েছেন যে, ঈশ্বরের আইনের পিছনে থাকা নীতিগুলো কীভাবে শনাক্ত করতে হয় (১১ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১২. মথি ৫:২১, ২২ পদে দেওয়া আইনের পিছনে কোন নীতি রয়েছে? (ছবিও দেখুন।)
১২ মথি ৫:২১, ২২ পদ পড়ুন। “খুন করবে না।” এই আইনের পিছনে থাকা নীতিটা কী? যিহোবা চান আমরা যেন আমাদের কথা, কাজ বা চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাউকে ঘৃণা না করি। যিশু বুঝিয়েছিলেন, একজন ব্যক্তি হয়তো কাউকে খুন করবে না, তবে সে যদি তার ভাইকে ঘৃণা করে, তা হলে সে এই আইনের পিছনে থাকা নীতিটাকে লঙ্ঘন করবে। “কেউ যদি তার ভাইয়ের প্রতি রাগ পুষে রাখে” অথবা তাকে গালিগালাজ করে, তা হলে ঈশ্বর এতে অসন্তুষ্ট হবেন এবং সেই ব্যক্তির “বিচার করা হবে।” আসলে, এই ধরনের মনোভাব ও কাজই একজন ব্যক্তিকে খুন করার দিকে পরিচালিত করে।—১ যোহন ৩:১৫.
১৩. মথি ৫:২১, ২২ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৩ মথি ৫:২১, ২২ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? আমরা যেন কখনো কারো প্রতি রাগ পুষে না রাখি। (লেবীয়. ১৯:১৮; ইয়োব ৩৬:১৩) কেন? কারণ এই ধরনের অনুভূতি আমাদের মধ্যে ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে পারে আর এর ফলে আমরা এমন কিছু বলে বা করে ফেলতে পারি, যেটা অন্যদের আঘাত দিতে পারে। (হিতো. ১০:১২) এর অন্তর্ভুক্ত হল, কারো সম্বন্ধে গুজব ছড়ানো বা মিথ্যা কথা বলা, যেটা তার সুনাম নষ্ট করতে পারে। (হিতো. ২০:১৯; ২৫:২৩) যিশু যখন এই নীতিটা দিয়েছিলেন, তখন সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগস, ইন্টারনেট এবং মেসেজিং অ্যাপ এগুলো কিছুই ছিল না। কিন্তু, এই নীতিটা আজও পরিপক্ব খ্রিস্টানদের সাহায্য করে, যাতে তারা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ব্যবহার করার সময় কারো সম্বন্ধে গুজব না ছড়ায় বা মিথ্যা না বলে। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, আমরা যেন কখনো এমন কিছু না বলি, যেগুলো অন্যের সম্মানকে নষ্ট করতে পারে।
(১২-১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৪. মথি ৫:২৭, ২৮ পদে দেওয়া আইনের পিছনে কোন নীতি রয়েছে? (ছবিও দেখুন।)
১৪ মথি ৫:২৭, ২৮ পদ পড়ুন। “ব্যভিচার করবে না।” এই আইনের পিছনে থাকা নীতিটা কী? যিহোবা যে শুধুমাত্র অনৈতিকতাকে ঘৃণা করেন, তা নয়। তিনি এমনকী সেইসমস্ত চিন্তাভাবনাকেও ঘৃণা করেন, যেগুলো একজন ব্যক্তিকে অনৈতিক কাজ করার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যিশু বলেছিলেন, যদি কোনো বিবাহিত পুরুষ কোনো মহিলাকে (তার স্ত্রী ছাড়া) এমনভাবে দেখতে থাকে, যার ফলে তার মধ্যে সেই মহিলার প্রতি কামনা জেগে ওঠে, তা হলে সে ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে মনে মনে ব্যভিচার করে ফেলেছে। তাই, আমরা যেকোনো ধরনের অনৈতিক চিন্তা এড়িয়ে চলব এবং এটা করার জন্য আমাদের পক্ষে যা সম্ভব, আমরা তা-ই করব। (মথি ৫:২৯, ৩০) আর এই নীতিটা অবিবাহিত খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
১৫. মথি ৫:২৭, ২৮ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৫ মথি ৫:২৭, ২৮ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? আমাদের অনৈতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করা এড়িয়ে চলতে হবে। (২ শমূ. ১১:২-৪; ইয়োব ৩১:১-৩) তাই, একজন পরিপক্ব খ্রিস্টানকে সমস্ত ধরনের পর্নোগ্রাফি থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। তিনি কখনোই এমনটা মনে করবেন না, ‘আমি তো শুধু দেখছি, কোনো অনৈতিক কাজ তো করছি না।’ অথবা তিনি এমন কোনো অজুহাত দেখাবেন না যে, ‘আমি তো শুধু সফ্ট পর্ন দেখছি, এটা পর্নোগ্রাফির মতো অতটাও অশ্লীল নয়। এর মধ্যে ক্ষতি কী?’ যিশুর সময়ে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সিনেমা বা ছবি ছিল না। কিন্তু, যিশুর দেওয়া এই নীতি থেকে বর্তমানেও আমরা বুঝতে পারি, যিহোবা এই ধরনের অশ্লীল ছবি বা ভিডিওগুলোর বিষয়ে কী মনে করেন। তাই, আমরা যদি কোনো ধরনের অনৈতিক ছবি বা ভিডিও কাউকে পাঠাই অথবা ফোনের বা মেসেজের মাধ্যমে কারো সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি, তা হলে যিহোবা খুবই অসন্তুষ্ট হবেন। বিবাহিত দম্পতিরা যদি এই নীতিটা কাজে লাগায়, তা হলে তারা একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারবে। (মালাখি ২:১৫) এ ছাড়া, আমরা বিবাহিত হই বা না হই, এটা আমাদের প্রত্যেককে এমন কিছু করা থেকে দূরে রাখবে, যেগুলো আমাদের অনৈতিক কাজ করার দিকে নিয়ে যেতে পারে।—হিতো. ৫:৩-১৪.
(১৪-১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৬. মথি ৫:৪৩, ৪৪ পদে দেওয়া আইনের পিছনে কোন নীতি রয়েছে? (ছবিও দেখুন।)
১৬ মথি ৫:৪৩, ৪৪ পদ পড়ুন। “তুমি তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসবে।” এই আইনের পিছনে থাকা নীতিটা কী? যিহোবা চান যেন আমরা সবাইকে আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখি এবং তাদের ভালোবাসি। দুঃখের বিষয় হল, যিশুর দিনে যিহুদিরা মনে করেছিল যে, তারা শুধুমাত্র নিজের জাতির লোকদেরই ভালোবাসবে এবং তাদের শত্রুদের ঘৃণা করবে। কিন্তু যিশু জানতেন যে, কেন যিহোবা এই আইনটা দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, তাঁর প্রেমময় স্বর্গীয় পিতা চান যেন আমরা সবাইকে আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখি এবং তাদের ভালোবাসি, তা তারা যেকোনো জাতি কিংবা সংস্কৃতি থেকেই আসুক না কেন।—মথি ৫:৪৫-৪৮.
১৭. মথি ৫:৪৩, ৪৪ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৭ মথি ৫:৪৩, ৪৪ পদে দেওয়া নীতিটা কীভাবে আমরা বর্তমানে কাজে লাগাতে পারি? আমরা যেহেতু আমাদের প্রতিবেশীকে ভালোবাসি, তাই আমরা যুদ্ধে বা কোনোরকম রাজনৈতিক তর্কবিতর্কে অংশ নিই না। (যিশা. ২:৪; মীখা ৪:৩) এটা আমাদের সেই সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে সদয়ভাবে আচরণ করতে সাহায্য করে, যারা ভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি অথবা ধর্মীয় পটভূমি থেকে এসেছে। (প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫) এটা আমাদের সেই ব্যক্তিদেরও ক্ষমা করতে সাহায্য করে, যারা আমাদের আঘাত দিয়েছে অথবা আমরা যাদের ভালোবাসি তাদের আঘাত দিয়েছে।—মথি ১৮:২১, ২২; মার্ক ১১:২৫; লূক ১৭:৩, ৪.
(১৬-১৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)
বাইবেলের নীতি অনুযায়ী চলার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হোন
১৮. (ক) আমরা কী করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হব? (খ) পরের প্রবন্ধে আমরা কী নিয়ে আলোচনা করব?
১৮ আমরা যিহোবার কাছে কতই-না কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমাদের ছোটো ছেলে-মেয়ে হিসেবে দেখেন না! তিনি চান দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা যেন বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগাই। (১ করি. ১৪:২০) আসুন আমরা দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হই যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে “যিহোবার ইচ্ছা কী, তা সবসময় বোঝার চেষ্টা” করি। (ইফি. ৫:১৭) শাস্তি পাওয়ার ভয়ে নয় বরং যিহোবার প্রতি প্রেমই তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের সাহায্য করবে। তবে, এই ক্ষেত্রে যিহোবা আমাদের আরেকটা সাহায্য দিয়েছেন আর সেটা হল আমাদের বিবেক। আমরা পরের প্রবন্ধে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব।
গান ৯৫ উজ্জ্বল ধীরে ধীরে হয় আলো
a আমাদের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে যিহোবা সরাসরি কোনো আইন দেননি। এইরকম পরিস্থিতিতে আমাদের বাইবেলের বিভিন্ন পদ নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং সেখান থেকে আমরা যে-শিক্ষা পাই, সেগুলোর সাহায্যে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যিহোবা আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন আর এই ক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যেটা যিহোবাকে খুশি করবে এবং তিনি আমাদের আশীর্বাদ করবেন। প্রথম শতাব্দীর অনেক যিহুদি যারা খ্রিস্টান হয়েছিল, তাদের এই ধরনের উপাসনা করার পদ্ধতি শিখতে হয়েছিল। কেন? কারণ আগে তারা ধর্মগুরুদের দ্বারা তৈরি করা নিয়ম অনুসারে জীবনযাপন করত।