জুন ১-৭, ২০২৬
গান ১১১ আমাদের আনন্দের কারণ
লোকেরা ঘৃণা করলেও আমরা সুখী হতে পারি!
“সুখী তোমরা, যখন . . . লোকেরা তোমাদের ঘৃণা করে।”—লূক ৬:২২.
আমরা কী শিখব?
যিহোবাকে সেবা করার জন্য লোকেরা যদি আমাদের ঘৃণা করে, তা হলে কেন আমরা সুখী হতে পারি?
১. যিশু কী বলেছিলেন আর সেটা কেন আমাদের অবাক করে?
পর্বতে দেওয়া উপদেশে যিশু বলেছিলেন: “সুখী তোমরা, যখন . . . লোকেরা তোমাদের ঘৃণা করে।” (লূক ৬:২২) তাঁর এই কথাগুলো শুনে শ্রোতারা নিশ্চয়ই খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল। কেউ যখন আমাদের ঘৃণা করে, তখন আমাদের কারোরই ভালো লাগে না। তা হলে, কেন যিশু এই কথাগুলো বলেছিলেন? এই প্রশ্নটা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আজও অনেক লোক যিশুর অনুসারীদের ঘৃণা করে। আমরা এই দুটো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যে, কেন আমাদের ঘৃণা করা হয় এবং আমাদের ঘৃণা করা হলেও কেন আমরা সুখী হতে পারি?
আমাদের কেন ঘৃণা করা হয়?
২-৩. কোন কারণে সত্য খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করা হয় আর এটা কীভাবে বিরোধীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পালটে দেয়? (যোহন ১৬:২, ৩)
২ লোকেরা আমাদের ঘৃণা করে কারণ আমরা যিহোবার উপাসনা করি। যারা যিশুর কিছু অনুসারীকে তাড়না এমনকী হত্যা করবে, তাদের সম্বন্ধে যিশু বলেছিলেন: “তারা পিতাকেও জানে না, আমাকেও জানে না।” (পড়ুন, যোহন ১৬:২, ৩.) ঈশ্বরের লোকদের বিরোধিতা করার পিছনে আসলে কার হাত রয়েছে? অবশ্যই, শয়তানের। সে “এই বিধিব্যবস্থার ঈশ্বর।” (২ করি. ৪:৩, ৪) শয়তান সত্য সম্বন্ধে মানুষকে অন্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সে এমনভাবে প্ররোচিত করছে, যাতে লোকেরা সেই ব্যক্তিদের বিরোধিতা করে, যারা ঈশ্বরকে জানে এবং তাঁকে ভালোবাসে। (যোহন ৮:৪২-৪৪) এই বিষয়টা জানা কীভাবে বিরোধীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পালটে দেয়? আমরা যখন এটা বুঝতে পারি যে, বিরোধীরা শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত, তখন তাদের প্রতি আমাদের আর ঘৃণা থাকে না।
৩ ভাই প্যাভেলেরa উদাহরণ লক্ষ করুন, যিনি এমন একটা দেশে বাস করেন, যেখানে আমাদের কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করতেন বলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয় এবং তাকে কিছু মাসের জন্য একটা নির্জন কারাবাসে বন্দি করে রাখা হয়। ভাই প্যাভেল বলেন, “আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে, বিশুদ্ধ উপাসনাকে বন্ধ করার পিছনে শয়তান ও তার মন্দ স্বর্গদূতদেরই হাত রয়েছে। আসলে বেশিরভাগ জেল কর্মী ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ঘৃণা করে না, তারা শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।” ক্রোয়েশিয়ায় থাকা একজন ভাই, যিনি তার ন-সাক্ষি বাবা-মায়ের কাছ থেকে চরম বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তিনি বলেন: “আমি শয়তানকেই আমার আসল শত্রু মনে করি, আমার বাবা-মাকে নয়।”—ইফি. ৬:১২.
৪. আমরা যিশুর ও স্তিফানের উদাহরণ থেকে কী শিখি? (ছবিও দেখুন।)
৪ আমরা আমাদের বিরোধীদের ঘৃণা করি না। এর পরিবর্তে, আমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করি। (মথি ৫:৪৪) এই ক্ষেত্রে, আমরা যিশু ও স্তিফানের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। রোমীয় সৈন্যেরা যখন যিশুকে যাতনাদণ্ডে বিদ্ধ করে, তখন যিশু তাদের জন্য এই প্রার্থনা করেন, “পিতা, এদের ক্ষমা করো।” (লূক ২৩:৩৪) আসলে, তিনি যিহোবাকে সেই সমস্ত সৈন্যকে ক্ষমা করার কথা বলছিলেন, যারা তাঁকে হত্যা করার জন্য নিযুক্ত হয়েছিল। সেইসময় যিশু হয়তো সেখানে উপস্থিত লোকদের কথাও চিন্তা করছিলেন, যারা ধর্মীয় নেতাদের প্ররোচনায় যিশুকে হত্যা করতে চেয়েছিল। যিশু বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই লোকেরা কী করছে, তারা নিজেরাই জানে না। ঠিক একইভাবে, স্তিফানও তার হত্যাকারীদের ক্ষমা করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। (প্রেরিত ৭:৫৮-৬০) যিশুর ও স্তিফানের প্রার্থনার উত্তর কি যিহোবা দিয়েছিলেন? হ্যাঁ দিয়েছিলেন। যারা যিশুকে তাড়না করেছিল এবং তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে অনেকে অনুতপ্ত হয়েছিল, যিশুকে বিশ্বাস করেছিল এবং বাপ্তিস্ম নিয়েছিল। এদের মধ্যে একজন ছিলেন তার্ষ নগরের শৌল, যিনি স্তিফানের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন, তিনি পরে খ্রিস্টান হয়েছিলেন এবং অজান্তে যা-কিছু করেছিলেন, সেগুলোর জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত হয়েছিলেন।
যিশু ও শিষ্য স্তিফান সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন যারা তাদের তাড়না করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরাও সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যারা আমাদের তাড়না করে (৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৫. ভাই সিজারের অভিজ্ঞতা থেকে আপনি কী শিখেছেন?
৫ আজও আমরা যখন আমাদের বিরোধীদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন যিহোবা আমাদের প্রার্থনা শোনেন। সিজার নামে একজন ভাই যিনি ভেনেজুয়েলায় থাকেন, তার কথা চিন্তা করুন। তার বাবা সত্যের চরম বিরোধিতা করতেন। ভাই বলেন: “আমার মা খুবই ভালো একজন স্ত্রী ও মা ছিলেন। তিনি সবসময় রাজ্যকে প্রথম স্থানে রাখতেন, কিন্তু কখনো আমার বাবাকে অবহেলা করেননি। মা আমাকে এবং আমার ভাই-বোনদের সবসময় বলতেন, আমরা যেন বাবাকে সম্মান করি এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তার বাধ্য থাকি, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি আমাদের এমন কিছু করতে বলেন, যেটা যিহোবার আইনের বিরুদ্ধে।” কিছু বছর পর, ভাই সিজারের বাবার মনোভাব পরিবর্তন হতে শুরু করে। ভাই বলেন: “একদিন আমি যিহোবার কাছে হৃদয় থেকে প্রার্থনা করি এবং এরপর বাবাকে জিজ্ঞেস করি, তিনি আমার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে চান কি না। বাবা যখন এতে রাজি হয়ে যান, তখন আমার যে কী আনন্দ হচ্ছিল, সেটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।” এরপর, সিজারের বাবা বাপ্তিস্ম নেন। এমন নয় যে প্রত্যেকে তাদের জীবনে এইরকম পরিবর্তন করবে, কিন্তু কিছু ব্যক্তি আমাদের সম্মানজনক কথাবার্তা এবং আচার-আচরণ দেখে তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে। তারা যখন এই ধরনের পরিবর্তনগুলো করে, তখন তা দেখে আমরা কতই-না খুশি হই! যারা আজ বিরোধিতা করছে, তাদের কীভাবে “সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা” যিহোবা তাঁর দিকে আকর্ষণ করতে চলেছেন, সেটা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করে আছি।—আদি. ১৮:২৫.
৬. মার্ক ১৩:১৩ পদ অনুযায়ী আর কোন কারণে লোকেরা আমাদের ঘৃণা করে?
৬ লোকেরা আমাদের ঘৃণা করে কারণ আমরা যিশুকে সম্মান করি। যিশু বলেছিলেন, সত্য খ্রিস্টানদের “[তাঁর] নামের জন্য” ঘৃণা করা হবে। (পড়ুন, মার্ক ১৩:১৩.) যিশুর ‘নাম’ কোন বিষয়টাকে চিত্রিত করে? এটা ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা হিসেবে তাঁর সম্মান ও কর্তৃত্বকে বোঝায়। সেইসমস্ত লোক আমাদের ঘৃণা করে, যারা ঈশ্বরের মনোনীত রাজা যিশু খ্রিস্টকে নয় বরং জগতের নেতাদের উপর আস্থা রাখে। যিশু ১৯১৪ সাল থেকে ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা হিসেবে শাসন করে আসছেন। শীঘ্রই, তিনি সমস্ত মানব সরকারকে সরিয়ে দেবেন, যারা তাঁর কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে।
৭-৮. যিহোবার কিছু লোককে আর কোন কারণে ঘৃণা করা হয়? (যোহন ১৫:১৮-২০) (ছবিগুলোও দেখুন।)
৭ লোকেরা আমাদের ঘৃণা করে কারণ আমরা শয়তানের জগৎকে প্রত্যাখ্যান করি। যিশু বলেছিলেন যে, তাঁর অনুসারীদের ঘৃণা করা হবে কারণ তারা এই “জগতের অংশ” নয়। (পড়ুন, যোহন ১৫:১৮-২০.) প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদের মতো আমরাও জগতের মন্দ আচার-আচরণ, মনোভাব এবং কথাবার্তা এড়িয়ে চলি। আর এই কারণে আমাদের অনেক ভাই-বোনকে কাজের জায়গায় বা স্কুলে হাসিঠাট্টার শিকার হতে হয়। (১ পিতর ৪:৩, ৪) কিন্তু, আমরা এটা দেখে খুবই আনন্দিত যে, কিছু বিরোধী আমাদের আচার-আচরণ দেখে তাদের মন পরিবর্তন করেছে এবং আমাদের সম্মান করতে শুরু করেছে।
৮ মধ্য আমেরিকার একজন ভাই ইগনাসিওর কথা চিন্তা করুন। ইগনাসিও যে-স্কুলে পড়াশোনা করতেন, সেখানে তার একজন শিক্ষক বছরের-পর-বছর ধরে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতেন। কেন? কারণ ইগনাসিও সবসময় এক উচ্চ নৈতিক মান অনুযায়ী চলতেন। কিন্তু, গ্র্যাজুয়েট হওয়ার ঠিক আগে, ইগনাসিওকে তার সেই শিক্ষক জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে এই খারাপ পরিবেশের মধ্যেও বাইবেলের মান অনুযায়ী চলতে পেরেছেন। ইগনাসিও বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, ঈশ্বরের আইন তাকে সবসময় সুরক্ষিত রেখেছে। এরপর, তিনি তার শিক্ষককে মণ্ডলীর একটা সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই সভায় তার শিক্ষককে আসতে দেখে ইগনাসিও একেবারে অবাক হয়ে যান। শিক্ষকও সেই সভায় ভাই-বোনদের ভালোবাসা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান যে, তিনি নিয়মিতভাবে মণ্ডলীর সভাগুলোতে যোগ দিতে শুরু করেন। পরে, সেই শিক্ষক যখন বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করেন, তখন তিনিও বিরোধিতার মুখোমুখি হন। কিন্তু, তিনি আধ্যাত্মিকভাবে উন্নতি করে চলেন এবং শেষ পর্যন্ত বাপ্তিস্ম নেন।
আমাদের বয়স যা-ই হোক না কেন, আমরা সাহসের সঙ্গে এবং সফলভাবে আমাদের বিশ্বাসের পক্ষসমর্থন করতে পারি (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)b
৯-১০. (ক) আর কোন কোন কারণে খ্রিস্টানেরা শয়তানের জগৎ থেকে আলাদা? (খ) আমরা প্রেরিত পৌলের উদাহরণ থেকে কী শিখতে পারি?
৯ আমরা এই ক্ষেত্রেও শয়তানের জগৎ থেকে আলাদা কারণ আমরা রাজনীতি এবং যুদ্ধে অংশ নিই না। (যোহন ১৮:৩৬) রোমীয় ১৩:১ পদের সঙ্গে মিল রেখে, আমরা দেশের আইনকানুন মেনে চলার চেষ্টা করি। তবে, খ্রিস্টান হিসেবে আমরা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বগুলোর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকি, তাই আমরা কোনো রাজনৈতিক পদ পাওয়ার চেষ্টা করি না অথবা কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীকে ভোট দিই না। কেন? কারণ আমরা শুধুমাত্র যিহোবা এবং খ্রিস্টের অধীনে তাঁর রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকি। অনেক যিহোবার সাক্ষিকে তাদের বিশ্বাসের কারণে জেলে বন্দি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, সেই ভাই-বোনেরা জেলের মধ্যেই প্রচার করে চলেছে। এভাবে, তারা প্রেরিত পৌলকে অনুকরণ করছে, যিনি বহু বছর গৃহবন্দি ও কারাগারে ছিলেন। (প্রেরিত ২৪:২৭; ২৮:১৬, ৩০) তিনি সেইসমস্ত লোককে সুসমাচার জানিয়েছিলেন, যারা তার কথা শুনতে চেয়েছিল, যেমন কারারক্ষী, রাজকর্মচারী, রাজ্যপাল, রাজা এবং হয়তো রোমীয় সম্রাট নিরোর কর্মচারীরা।—প্রেরিত ৯:১৫.
১০ ঠিক একইভাবে, আমাদের ভাইয়েরা যারা কারাগারে বন্দি রয়েছে, তারা সেই সমস্ত লোককে প্রচার করে যারা শুনতে চায় যেমন বিচারক, সরকারি আধিকারিক এবং কারারক্ষী। একজন ভাই যিনি নিরপেক্ষ থাকার জন্য ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন, তিনি বলেন যে, কারাগারে বন্দি থাকার সময়টাকে তিনি কোনো শাস্তি হিসেবে দেখতেন না বরং মেষতুল্য ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়ার একটা সুযোগ বলে মনে করতেন, যেটা যিহোবার কাছ থেকে আসা একটা কার্যভার ছিল। আমরা কতই-না খুশি হব, যিহোবা যদি সেইসমস্ত লোকের কাছে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের ব্যবহার করেন! (কল. ৪:৩) যিহোবাকে সেবা করার জন্য যদি লোকেরা আমাদের ঘৃণা করে, তা হলে আমরা আর কোন কারণে সুখী হতে পারি, আসুন তা নিয়ে আলোচনা করি।
লোকেরা আমাদের ঘৃণা করা সত্ত্বেও আমরা কেন সুখী হতে পারি?
১১. তাড়না সহ্য করা কীভাবে আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে? একটা উদাহরণ দিন।
১১ আমরা জানি, লোকেরা যখন আমাদের ঘৃণা করে, তখন বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হয়। বাইবেলে লিখিত প্রথম ভবিষ্যদ্বাণীতে যিহোবা বলেছিলেন, শয়তান ও তার বংশ অর্থাৎ তার অনুসারীরা, সেই সমস্ত লোককে ঘৃণা করবে, যারা যিহোবাকে ভালোবাসে এবং তাঁর সেবা করে। (আদি. ৩:১৫) যিশু অনেক বার এই ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর এই বিষয়ে চার জন সুসমাচার লেখক তাদের বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। (মথি ১০:২২; মার্ক ১৩:৯-১২; লূক ৬:২২, ২৩; যোহন ১৫:২০) অন্যান্য বাইবেল লেখকেরাও এই ভবিষ্যদ্বাণীর কথা উল্লেখ করেছিলেন। (২ তীম. ৩:১২; যাকোব ১:২; ১ পিতর ৪:১২-১৪; যিহূদা ৩, ১৭-১৯) তাই, যখন আমাদের উপর কোনো তাড়না আসে, তখন আমরা অবাক হই না বরং আমরা এটা দেখে খুশি হই যে, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হচ্ছে। এটা আমাদের এই নিশ্চয়তা দেয়, আমরা সত্য ঈশ্বরের সেবা করছি। আমাদের একজন বোন যিনি এমন একটা দেশে বাস করেন, যেখানে আমাদের কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তিনি বলেন: “আমি যখন যিহোবার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলাম, তখন থেকেই আমি জানতাম, কোনো-না-কোনো সময় আমাকে তাড়নার মুখোমুখি হতে হবে। তাই, তাড়নার কারণে আমি কখনো আতঙ্কিত বা অবাক হই না।” সেই বোনের স্বামীও একজন বিরোধী ছিলেন। তিনি বোনের সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করতেন এবং তার বাইবেল ও বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনাগুলো পুড়িয়ে দিতেন। কিন্তু, বোন ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাননি বরং তার বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। (ইব্রীয় ১০:৩৯) তিনি বলেন: “তাড়নার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাই ছিল, তাই আমি জানতাম যে, এটা হবেই। তবে, আমি যখন নিজে এটার মুখোমুখি হই, তখন আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত হই যে, এটাই হল সত্য ধর্ম।”
১২. কোন বিষয়টা একজন ভাইকে তাড়নার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছিল?
১২ যদিও আমরা জানি যে, তাড়না আসবে, তা সত্ত্বেও এটার সঙ্গে মোকাবিলা করা আমাদের জন্য কঠিন হতে পারে। একজন ভাই জেলে থাকার সময় একটা চিঠিতে বলেছিলেন: “কখনো কখনো আমি খুবই নিরুৎসাহিত বা হতাশ হয়ে পড়তাম এবং আমি শুধু কাঁদতাম।” কোন বিষয়টা ভাইকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্য করেছিল? তিনি বলেন: “আমি প্রতিদিন প্রার্থনা করে আমার দিন শুরু করতাম। দিনের মধ্যে যখনই আমি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতাম, তখনই আমি প্রার্থনা করতাম। আর যখন অন্যেরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত, তখন আমি বাথরুমে গিয়ে প্রার্থনা করতাম।” এ ছাড়া, অতীত ও বর্তমানে যে-ভাই-বোনেরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছে, তাদের উদাহরণ নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতেন। এই বিষয়টা ভাইকে তাড়না সহ্য করতে এবং সেই শান্তি পেতে সাহায্য করেছিল, যেটা যিশু তার অনুসারীদের দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।—যোহন ১৪:২৭; ১৬:৩৩.
১৩. কোন বিষয়টা আমাদের ঘৃণা সহ্য করতে সাহায্য করবে?
১৩ আমাদের মধ্যে যে-ভালোবাসা রয়েছে, সেটা বিরোধীদের ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। যিশু তাঁর শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যিহোবাকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিলেন। যিশু তাঁর বন্ধুদেরও ভালোবেসেছিলেন। (যোহন ১৩:১; ১৫:১৩) আমরা যখন যিহোবা ও ভাই-বোনদের প্রতি এই ভালোবাসা গড়ে তুলব, তখন আমরাও ঘৃণা সহ্য করতে পারব। কীভাবে? এর উত্তর জানার জন্য আসুন আমরা প্রেরিত পৌলের উদাহরণের উপর মনোযোগ দিই।
১৪. কোন বিষয়টা পৌলকে মৃত্যুর মুখেও দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছিল?
১৪ পৌলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কিছুসময় আগে, তিনি তার প্রিয় বন্ধু তীমথিয়কে বলেছিলেন: “ঈশ্বর আমাদের যে-পবিত্র শক্তি দান করেন, তা আমাদের মধ্যে ভীরু মনোভাব জাগিয়ে তোলে না, বরং আমাদের শক্তি, প্রেম . . . প্রদান করে।” (২ তীম. ১:৭) পৌল কী বোঝাতে চেয়েছিলেন? পৌল বলতে চেয়েছিলেন যে, যিহোবার প্রতি গভীর ভালোবাসা একজন খ্রিস্টানকে কঠিন পরীক্ষা সহ্য করার জন্য সাহায্য করতে পারে। (২ তীম. ১:৮) কোনো সন্দেহ নেই যে, যিহোবার প্রতি ভালোবাসা পৌলকে সত্য উপাসনা পরিত্যাগ না করে সাহসের সঙ্গে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে সাহায্য করেছিল।—প্রেরিত ২০:২২-২৪.
১৫. আমাদের সময়েও কীভাবে ভাই-বোনেরা একে অন্যের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখিয়েছে? (ছবিও দেখুন।)
১৫ আমরা আমাদের সহবিশ্বাসীদের প্রতিও ভালোবাসা দেখাই, যারা তাড়নার মুখোমুখি হলেও বিশ্বাসে দৃঢ় থাকে। বর্তমানে অনেকে ভাই-বোনদের জন্য নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে, যেমন আক্বিলা ও প্রিষ্কিল্লা পৌলের জন্য তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। (রোমীয় ১৬:৩, ৪) উদাহরণ স্বরূপ, রাশিয়ায় যে-সমস্ত ভাই-বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের উৎসাহিত করার জন্য অনেকে আদালতে গিয়েছে। একজন বোন যখন গ্রেপ্তার হন, তখন তিনি আদালতে একদল ভাই-বোনকে উপস্থিত থাকতে দেখে এতটাই সান্ত্বনা লাভ করেছিলেন যে,তিনি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলেন না। ভাই-বোনদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বোনকে সেই শক্তি জুগিয়েছিল, যেটা সেইসময় তার প্রয়োজন ছিল। এটা আমাদের জন্য কতই-না আনন্দের বিষয় যে, আমাদের ভালোবাসা ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী!
এমনকী যেখানে আমাদের কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ জারি করা আছে, সেখানেও আমাদের ভাই-বোনেরা একে অন্যের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখিয়েছে (১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)c
১৬. কেন প্রেরিত পিতর বলেছিলেন যে, ঈশ্বরকে উপাসনা করার জন্য যাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাদের কাছে সুখী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে? (১ পিতর ৪:১৪)
১৬ আমরা জানি, লোকেরা যখন আমাদের ঘৃণা করে, তখন ঈশ্বরের অনুমোদন আমাদের উপর থাকে। (পড়ুন, ১ পিতর ৪:১৪.) প্রেরিত পিতর বলেছিলেন, ঈশ্বরের সেবা করার জন্য যাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা হয়, তাদের কাছে সুখী হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সেটা কী? এইরকম দুর্ব্যবহার প্রমাণ করে যে, “ঈশ্বরের পবিত্র শক্তি . . . [আমাদের] উপরে রয়েছে।” পিতর অনুভব করেছিলেন, তাড়না সহ্য করার সময় তার উপর ঈশ্বরের অনুমোদন ছিল। ৩৩ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চাশত্তমীর দিনের কিছু সময় পর, সুসমাচার প্রচার করার কারণে পিতর এবং অন্য প্রেরিতদের গ্রেপ্তার করার জন্য মন্দিরের রক্ষীদের পাঠানো হয়। কিন্তু, পিতর সাহসের সঙ্গে তার বিশ্বাসের পক্ষসমর্থন করেন। (প্রেরিত ৫:২৪-২৯) এমনকী খুব খারাপভাবে অপমানিত হওয়ার পরও, পিতর এবং অন্য প্রেরিতেরা প্রচার করা বন্ধ করে দেয়নি। এর পরিবর্তে, তারা আনন্দ করেছিল কারণ “যিশুর নামে অপমানিত হওয়ার জন্য ঈশ্বর তাদের যোগ্য বলে মনে করেছিলেন।” ঠিক একইভাবে, আমরাও পরীক্ষা সহ্য করার সময় আনন্দ করতে পারি।—প্রেরিত ৫:৪০-৪২.
১৭. যিশু মারা যাওয়ার ঠিক আগের রাতে তাঁর শিষ্যদের কী বলেছিলেন?
১৭ যিশু মারা যাওয়ার ঠিক আগের রাতে তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, “যে-কেউ আমাকে ভালোবাসে, আমার পিতা তাকে ভালোবাসবেন আর আমিও তাকে ভালোবাসব।” (যোহন ১৪:২১) সেই সময়ের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছি, যখন যিহোবার সেবা করার জন্য লোকেরা আমাদের ঘৃণা নয় বরং ভালোবাসবে! (২ থিষল. ১:৬-৮) সেইসময় না আসা পর্যন্ত লোকেরা যদি আমাদের ঘৃণা করে, তা হলেও সুখী হওয়ার জন্য আমাদের কাছে বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যেগুলো থেকে আমরা সান্ত্বনা ও শক্তি লাভ করতে পারি।
গান ১৪৯ এক বিজয়ের গান
a কিছু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
b ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: নাটকের আকারে দেখানো হয়েছে, ভাই ইগনাসিও তার শিক্ষকের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
c ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: নাটকের আকারে দেখানো হয়েছে, ভাই-বোনেরা একজন সহউপাসককে সমর্থন করছে, যখন বিশ্বাসের কারণে তাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।