এপ্রিল ২০-২৬, ২০২৬
গান ৪৯ যিহোবার হৃদয়কে আনন্দিত করা
বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে এগিয়ে যান!
“বিশেষভাবে এখনই সেই অনুগ্রহের সময়।”—২ করি. ৬:২.
আমরা কী শিখব?
এখনই সেই সময় যখন আপনি যিহোবার সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারেন এবং বাপ্তিস্ম নিতে পারেন।
১. (ক) বাপ্তিস্ম নেওয়া কেন এক উত্তম সিদ্ধান্ত? (খ) এই প্রবন্ধে আমরা কী জানতে পারব?
আপনি কি আপনার জীবন যিহোবার কাছে উৎসর্গ করেছেন এবং বাপ্তিস্ম নিয়েছেন? যদি তা-ই হয়, তা হলে আপনি সত্যিই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! আপনি যিহোবার কাছে এক উত্তম বিবেকের জন্য অনুরোধ করেছেন। (১ পিতর ৩:২১) এ ছাড়া, আপনি আপনার মণ্ডলীতে সেই সমস্ত যুবক-যুবতী ও অন্যদের সামনে এক উত্তম উদাহরণ রেখেছেন, যারা এখনও বাইবেল অধ্যয়ন করছে। অথবা আপনি কি তাদের মধ্যে একজন, যারা এখনও পর্যন্ত বাপ্তিস্ম নেয়নি? আমরা জানি যে, আপনি যিহোবাকে খুব ভালোবাসেন এবং তাঁর ইচ্ছা পালন করতে চান। আর আপনি নিশ্চয়ই এটাও জানেন, আপনার পাপের ক্ষমার জন্য এবং যিহোবার অনুমোদন পাওয়ার জন্য বাপ্তিস্ম নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। (প্রেরিত ২:৩৮-৪০) কিন্তু, হতে পারে এমন কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলোর জন্য আপনি বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করছেন। যদি তা-ই হয়, তা হলে এই প্রবন্ধ আপনাকে খুবই উৎসাহ জোগাবে। এই প্রবন্ধে আপনি তিনটে প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন: (১) কেন কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে? (২) কেন আমাদের মনে রাখা উচিত যে, শেষ খুবই কাছে? আর (৩) কেন আপনার কোনোরকম দেরি না করে বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া উচিত?
কেন কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে?
২. কেন কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে?
২ কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে, কারণ তাদের মনে হয়তো কোনো বিষয়ে চিন্তা বা ভয় থাকে। তারা যিহোবার সেবা করতে চায় ঠিকই, কিন্তু তারা এটা মনে করে, ‘আমি যা-ই করি না কেন, আমি কখনোই যিহোবাকে খুশি করতে পারব না।’ আপনি যদি এইরকম মনে করেন, তা হলে এমন শাস্ত্রপদগুলো পড়ুন, যেগুলো থেকে আপনি এই নিশ্চয়তা পাবেন যে, যিহোবা আপনার কাছ থেকে সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আশা করেন না এবং আপনি যখন তাঁর সেবা করার জন্য আপনার দিক থেকে পুরোপুরি প্রচেষ্টা করেন, তখন এটা দেখে তিনি খুবই খুশি হন। (গীত. ১০৩:১৩, ১৪; কল. ৩:২৩) আপনার যদি এই চিন্তা হয় যে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার পর আপনাকে বিরোধিতা সহ্য করতে হবে, তা হলে যিহোবার কাছে সাহায্য চান যাতে গীতরচকের মতো আপনিও সাহসের সঙ্গে বলতে পারেন: “যিহোবা আমার পক্ষে, আমি ভয় পাব না। মানুষ আমার কীই-বা করতে পারে?”—গীত. ১১৮:৬, NW.
৩. কিছু লোক কী ভেবে বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে? ( ছবিও দেখুন।)
৩ কিছু লোক যিহোবাকে খুবই ভালোবাসে, তবে তারা বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে। তারা মনে করে, বাইবেল সম্বন্ধে তাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই। কিন্তু, বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আপনার বাইবেল সম্বন্ধে কতটা জ্ঞান থাকা উচিত? আসুন, বাইবেল থেকেই আমরা একটা উদাহরণ লক্ষ করি। একবার প্রেরিত পৌল ও সীলকে কারাগারে বন্দি করা হয়। সেখানে যখন একটা বড়ো ভূমিকম্প হয়, তখন পৌল ও সীল, কারারক্ষী এবং তার পরিবারের কাছে সাক্ষ্য দেন। সেই কারারক্ষী এবং তার পরিবার সম্ভবত বুঝতে পেরেছিল যে, যিহোবাই এই অলৌকিক কাজ করার মাধ্যমে তাঁর সেবকদের জেল থেকে মুক্ত করেছেন। আর সেই রাতেই তারা যিহোবা ও যিশু সম্বন্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পেরেছিল। এর ফলে কী হয়েছিল? সেই কারারক্ষী এবং তার পরিবার “অবিলম্বে বাপ্তিস্ম” নিয়েছিল। (প্রেরিত ১৬:২৫-৩৩) তাই, আপনি যদি যিহোবাকে জানেন, তাঁকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন, বাইবেলের মৌলিক শিক্ষাগুলো বুঝে থাকেন, নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হন এবং স্থির করেন যে, আপনি যিহোবার মান অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন, তা হলে এর মানে হল আপনি বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।—মার্ক ১২:৩০.
পৌল ও সীল, কারারক্ষী এবং তার পরিবারের কাছে সাক্ষ্য দেন। এরপর, তারা “অবিলম্বে বাপ্তিস্ম” নেয় (৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৪. আর কোন কারণে কিছু ব্যক্তি বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে? (ছবিও দেখুন।)
৪ অনেকে হয়তো বাপ্তিস্ম নিতে চায়, কিন্তু তারা এটা মনে করে যে, যিহোবাকে খুশি করার জন্য কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে পরিবর্তন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, বাপ্তিস্ম নেওয়া একটা বড়ো পদক্ষেপ আর এর ফলে আপনার জীবন পুরোপুরি বদলে যাবে, তাই ভালোভাবে চিন্তা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। (লূক ১৪:২৭-৩০) কিন্তু, কিছু ব্যক্তির মনে এই চিন্তা চলতেই থাকে যে, যিহোবাকে সেবা করার জন্য তাদের অনেক কিছু ছাড়তে হবে। ক্যানডিসের সঙ্গে এমনটাই হয়েছিল। তিনি ছোটোবেলা থেকেই যিহোবাকে জানতেন, কিন্তু এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তবে, বড়ো হয়ে ওঠার পর, তিনি আবারও বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি যে-ধরনের জীবনযাপন করতাম, সেটা আমার ভালোই লাগত। আমি জানতাম যে, যিহোবাকে খুশি করার জন্য আমাকে অনেক কিছু ছাড়তে হবে, যেগুলো করা আমার পক্ষে খুবই কঠিন ছিল।” কিছু লোক মনে করে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার পরে তাদের যিহোবার মান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে আর সেটা হয়তো তারা করতে পারবে না। তারা এমনটাও চিন্তা করে, ‘বাপ্তিস্ম নেওয়ার পর আমি যদি কোনো গুরুতর পাপ করে ফেলি, তা হলে হয়তো আমাকে মণ্ডলী থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ আপনার মনে যদি এইরকম কিছু ভয় থাকে, তা হলে আপনি কী করতে পারেন?
কিছু লোক মনে করে, যিহোবার সেবা করার জন্য তাদের অনেক কিছু ছাড়তে হবে (৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৫. বাপ্তিস্মের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার কোন বিষয়টা মনে রাখা উচিত? (মথি ১৩:৪৪-৪৬)
৫ কোনো জিনিস কেনার আগে, আমরা শুধু সেটার মূল্যই দেখি না বরং দেখি যে, সেটা আমার কতটা কাজে আসবে। যদিও সেটা দামি হতে পারে, কিন্তু আমরা যখন বুঝতে পারি যে, সেটা কতটা উপকারী, তখন আমরা দেরি না করে সেটা কিনে নিই। ঠিক একইভাবে, বাপ্তিস্মের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু এটা ভাববেন না যে, আপনার সামনে কোন বাধাগুলো রয়েছে। এটাও চিন্তা করুন, বাপ্তিস্ম নেওয়ার পর আপনার জীবন কতটা সুন্দর হয়ে উঠবে কারণ যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় হবে। এই বিষয়টা বোঝানোর জন্য যিশু দুটো দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন। (পড়ুন, মথি ১৩:৪৪-৪৬.) প্রতিটা দৃষ্টান্তে যিশু একজন ব্যক্তির বিষয়ে বলেছিলেন। যখন সেই ব্যক্তি একটা মূল্যবান জিনিস খুঁজে পান, তখন সেটা কেনার জন্য তিনি নির্দ্বিধায় তার সমস্ত কিছু বিক্রি করে দেন। আপনিও একটা মূল্যবান জিনিস খুঁজে পেয়েছেন আর সেটা হল ঈশ্বরের রাজ্যের মূল্যবান সত্য! তাই, আপনি যদি বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করেন এবং এটা ভাবেন যে আপনার পক্ষে জীবনকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা হলে একটু সময় বের করে যিশুর দেওয়া দৃষ্টান্তগুলোর কথা চিন্তা করুন। এটাও চিন্তা করুন: ‘আমি কি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার আমার জন্য খুবই মূল্যবান? আমি কি যিহোবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বকে, তিনি আমাকে যে-আশা দিয়েছেন, সেই আশাকে এবং আমাদের প্রিয় ভাই-বোনদের মূল্যবান হিসেবে দেখি?’ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি যেভাবে দেবেন, সেটা থেকে জানতে পারবেন যে, বাইবেলের সত্য সম্বন্ধে আপনার উপলব্ধিবোধ বৃদ্ধি করতে হবে কি না অথবা কোন বিষয়টা আপনাকে বাপ্তিস্ম নিতে বাধা দিচ্ছে।
৬. এক নতুন হৃদয় গড়ে তোলার জন্য আপনি কী করতে পারেন?
৬ বীজ বপনকারীর দৃষ্টান্তের মাধ্যমে যিশু এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ের অবস্থা একরকম হবে না। এই কারণে কিছু ব্যক্তি রাজ্যের বার্তা গ্রহণ করবে না। যিশু এটাও বলেছিলেন যে, কিছু লোকের হৃদয় “ভালো” হবে আর সত্য জানার পর তারা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নেবে। (লূক ৮:৫-১৫) কিন্তু, আপনার যদি মনে হয় যে, বাপ্তিস্মের জন্য আপনি প্রস্তুত নন এবং এত বড়ো পদক্ষেপ নেওয়া আপনার পক্ষে অসম্ভব, তা হলে দয়া করে হাল ছেড়ে দেবেন না। যিহোবার সাহায্যে আপনি এক “নূতন হৃদয়” গড়ে তুলতে পারবেন, যেটা আপনাকে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করবে। তাই, যিহোবার কাছে বিনতি করুন, যেন তিনি আপনাকে এমন এক হৃদয় দেন, যার মধ্যে রাজ্যের বীজ অঙ্কুরিত হবে এবং সেটাতে ফল ধরবে।—যিহি. ১৮:৩১; ৩৬:২৬.
৭-৮. কেন কিছু অল্পবয়সি এবং যুবক-যুবতী বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না? (ছবিও দেখুন।)
৭ কিছু অল্পবয়সি এবং যুবক-যুবতী যিহোবাকে ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু তারা অন্যদের কারণে বাপ্তিস্ম নেওয়ার লক্ষ্যে এগোতে পারে না। হতে পারে, তাদের স্কুলের শিক্ষকেরা এমন কিছু নৈতিক মানকে প্রশ্রয় দেয়, যেগুলো যিহোবার মানের বিরুদ্ধে। তারা হয়তো ছাত্র-ছাত্রীদের বলে, “আজকাল সব কিছুই চলে,” “তোমার যা-ইচ্ছা, তুমি তা-ই করতে পার।” তবে, এই ধরনের চিন্তাধারা খুবই বিপদজনক। (গীত. ১:১, ২; হিতো. ৭:১-৫) এই বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তুমি কী করতে পার? গীতরচকের কথাগুলো মনে রাখো, যেখানে তিনি যিহোবাকে বলেছিলেন: “আমার সমস্ত শিক্ষকের চেয়ে আমার আরও বেশি বোঝার ক্ষমতা রয়েছে কারণ তুমি যে-নির্দেশনাগুলো স্মরণ করিয়ে দাও, আমি সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি।”—গীত. ১১৯:৯৯, NW.
৮ এটা দেখা যায় যে, কিছু খ্রিস্টান বাবা-মা তাদের সন্তানদের বাপ্তিস্ম নিতে উৎসাহ দেয় না। তবে, তারা এটা খেয়াল রাখে যেন তাদের সন্তানেরা ভালোভাবে পড়াশোনা করে এবং জগতে একটা ভালো কেরিয়ার তৈরি করে। কিন্তু, বাবা-মায়েরা সন্তানদের এটা শেখাতে ব্যর্থ হয় যে, কীভাবে তাদের সন্তানেরা ঈশ্বরের সেবায় বিভিন্ন লক্ষ্য স্থাপন করতে পারে। অল্পবয়সিরা, তোমরা কি মনে কর, বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তোমাদের বাবা-মায়েরা তোমাদের সাহায্য করতে পারে? যদি তা-ই হয়, তা হলে তাদের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে কথা বলো। আর এটা মনে রেখো, তুমি যত ছোটোই হও না কেন, তুমি যিহোবার বন্ধু হতে পার!—হিতো. ২০:১১.
বাপ্তিস্ম নেওয়ার বিষয়ে তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলো (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৯. কেন কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে দেরি করে?
৯ কিছু লোক হয়তো বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য যোগ্য, কিন্তু তারপরও তারা এই পদক্ষেপ নেয় না। তারা হয়তো এটা চায় যে, তাদের বন্ধু অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই তারা বাপ্তিস্ম নেবে। এতে কোনো ভুল নেই। কিন্তু চিন্তা করুন, শুধুমাত্র এই কারণে কি আপনি বাপ্তিস্ম নিতে দেরি করবেন? এটা কখনো ভুলবেন না যে, আপনি ব্যক্তিগতভাবে যিহোবার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাই, আপনি কখন বাপ্তিস্ম নেবেন, সেটা অন্যদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না।—রোমীয় ১৪:১২.
মনে রাখবেন, শেষ খুবই কাছে
১০. কেন কিছু লোক বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় না?
১০ ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটা কারণ লক্ষ করেছি যে, কেন কিছু ব্যক্তি বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করে। এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি এইজন্যও কোনো পদক্ষেপ নেয় না, কারণ তারা মনে করে শেষ আসতে এখনও অনেক দেরি। এইরকম চিন্তা করাটা কি ঠিক? যিশু তাঁর শিষ্যদের এই বিষয়ে সাবধান করে বলেছিলেন, “সর্বদা প্রস্তুত থেকো, কারণ যে-সময়ের কথা তোমরা হয়তো চিন্তাও করবে না, সেই সময়েই মনুষ্যপুত্র আসবেন।”—লূক ১২:৪০.
১১. আমরা যতবেশি যিহোবাকে জানতে শুরু করি, ততই আমাদের কী করার ইচ্ছা হয় এবং কেন? (গীতসংহিতা ১১৯:৬০)
১১ আমরা যিহোবার কাছে নিজেদের জীবন এই জন্য উৎসর্গ করি, কারণ আমরা তাঁকে ভালোবাসি। আমরা আমাদের প্রেমময় পিতাকে যতবেশি জানতে শুরু করি, ততই আমরা বুঝতে পারি যে, তিনি আমাদের কতটা ভালোবাসেন এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করলে আমাদেরই মঙ্গল হয়। আর তাই আমাদের ইচ্ছা হয় যেন আমরা দ্রুত তাঁর আজ্ঞা পালন করি। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১১৯:৬০.) যিহোবার আজ্ঞা দ্রুত পালন করার আরও একটা কারণ রয়েছে। যাকোব লিখেছিলেন, কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে। তাই, “সঠিক কাজ” করার সুযোগ আমাদের আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়। আমরা যেহেতু জানতে পেরেছি যে, যিহোবা আমাদের কাছ থেকে কী চান, তাই আমাদের প্রতিদিন সেটাই করা উচিত।—যাকোব ৪:১৩-১৭.
১২. আঙুর খেতের দৃষ্টান্ত থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১২ কিছু লোক হয়তো আঙুর খেতের দৃষ্টান্তের কথাও চিন্তা করতে পারে। তারা এমনটা ভাবতে পারে, ‘যে-মজুরেরা সারাদিন ধরে আঙুর খেতে কাজ করেছিল এবং যারা দিনের শেষে কাজ করতে শুরু করে, তারা উভয়ই তো একই মজুরি পেয়েছিল।’ হ্যাঁ, এটা তো সত্যি। কিন্তু লক্ষ করুন, যে-মজুরেরা শুধুমাত্র এক ঘণ্টা কাজ করেছিল, তারা কেন আগে কাজ করা শুরু করেনি। তারা বলেছিল, “কারণ কেউ আমাদের কাজ দেয়নি।” এমনটা নয় যে, সেই মজুরেরা ফাঁকিবাজ বা অলস ছিল। তারা যদি সুযোগ পেত, তা হলে তারা নিশ্চয়ই সারাদিন কাজ করত। আসলে তাদের শেষ ঘণ্টায় ডাকা হয়েছিল। আর যখনই তাদের ডাকা হয়েছিল, তখনই তারা কোনোরকম দেরি না করে কাজ করতে শুরু করেছিল। (মথি ২০:১-১৬) সেই মজুরদের কাছ থেকে আমরা কী শিখি? যিশু আমাদেরও তাঁর শিষ্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং রাজ্যের বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই, সেই আমন্ত্রণ পাওয়ামাত্রই আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
১৩. লোটের স্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোন শিক্ষা লাভ করি?
১৩ কিছু লোক বাপ্তিস্ম নিতে এইজন্যই দেরি করে, কারণ তারা মনে করে যে, জীবনে যা-কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন সেগুলো তারা শেষ আসার ঠিক আগে করবে। কিন্তু সত্যটা হল, আমরা যত বেশি দেরি করব, ততই আমাদের পক্ষে নিজেদের পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এইজন্য যিশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, “লোটের স্ত্রীর কথা স্মরণ করো।” (লূক ১৭:৩১-৩৫) লোটের স্ত্রী খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, যিহোবা খুব শীঘ্রই সদোম ও ঘমোরা নগরকে ধ্বংস করতে চলেছেন। কিন্তু, বস্তুগত বিষয়গুলোর প্রতি লোটের স্ত্রীর এতটাই আসক্তি ছিল যে, তিনি সেগুলো কোনোভাবেই ছাড়তে চাইছিলেন না। (আদি. ১৯:২৩-২৬) এই ঘটনা থেকে আমরা আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করি। আর সেটা হল, পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ বা দরজা সবসময় খোলা থাকবে না। যিহোবার নির্ধারিত সময়ে সেই দরজা চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।—লূক ১৩:২৪, ২৫.
১৪. জগতের শেষ সম্বন্ধে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করে?
১৪ প্রতিদিন জগতে যা-কিছু ঘটছে, সেগুলো দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পরিপূর্ণ হচ্ছে এবং এই মন্দ জগৎ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে। আপনার মনে হতে পারে, জগতের ঘটনাগুলো আপনার উপর সেইরকম কোনো প্রভাব ফেলছে না। প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদের উদাহরণ লক্ষ করুন। প্রেরিত পিতর তাদের এই পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেন তারা “উত্তম বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন” হয় এবং ‘সজাগ থাকে’ কারণ “সমস্ত কিছুর শেষ কাছে এসে গিয়েছে।” (১ পিতর ৪:৭; পাদটীকা।) এখানে প্রেরিত পিতর “শেষ” বলতে কী বুঝিয়েছিলেন? তিনি হয়তো এখানে জেরুসালেম নগর এবং সেখানে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের ধ্বংসের কথাই বলছিলেন। পিতর তার চিঠি সেই সমস্ত খ্রিস্টানের উদ্দেশে লিখেছিলেন, যারা জেরুসালেম থেকে অনেক দূরে বাস করত। (১ পিতর ১:১) তাই, যখন জেরুসালেম নগর ধ্বংস হয়েছিল, তখন সেটার প্রভাব সরাসরি সেই খ্রিস্টানদের উপর পড়েনি। কিন্তু, তারা যখন শাস্ত্রের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পরিপূর্ণ হতে দেখেছিল, তখন তাদের এই নিশ্চয়তা বেড়ে গিয়েছিল যে, যিহোবা তাঁর নির্ধারিত সময়ে বাকি ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অবশ্যই পরিপূর্ণ করবেন। ঠিক একইভাবে, বর্তমানে আমরা সেইসমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা দেখতে পাচ্ছি, যেগুলো দেখায়, এই জগতের শেষ খুবই কাছে। তাই, আপনার কি মনে হয় না, পিতরের পরামর্শ অনুযায়ী আপনারও সজাগ থাকা উচিত এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাপ্তিস্মের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া উচিত?
১৫. কীভাবে আমরা যিহোবার দিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি? (২ পিতর ৩:১০-১৩)
১৫ পিতর তার দ্বিতীয় চিঠিতে বুঝিয়েছিলেন যে, কীভাবে আমরা যিহোবার দিনের জন্য অর্থাৎ এই বিধিব্যবস্থার শেষের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি। পিতর এই চিঠি প্রথম শতাব্দীতে লিখেছিলেন এবং তখনও শেষ আসতে অনেক দেরি ছিল। তা সত্ত্বেও, পিতর প্রত্যেক খ্রিস্টানকে বলেছিলেন, তারা যেন “সেই দিনের কথা ভুলে” না যায় অর্থাৎ সেই “দিনের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা” করে। (পড়ুন, ২ পিতর ৩:১০-১৩; পাদটীকা।) আর আমাদের দিনের কথা বলতে গেলে, শেষ তো আরও কাছে এগিয়ে এসেছে। তাই, কীভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা যিহোবার দিনের কথা ভুলে যাইনি এবং আমরা সেই দিনের জন্য প্রস্তুত? আমরা “পবিত্র আচরণ” করার এবং “ঈশ্বরের প্রতি . . . যে ভক্তি রয়েছে, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার” দ্বারা তা দেখাতে পারি। চিন্তা করুন, যখন যিহোবার দিন আসবে, তখন তিনি আপনাকে ‘ভক্তির কাজগুলো’ করতে দেখে কতটা খুশি হবেন! যিহোবাকে খুশি করার জন্য আপনি এখন কী করতে পারেন? আপনি যিহোবার কাছে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারেন এবং বাপ্তিস্ম নিতে পারেন।
দেরি করবেন না
১৬. বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আপনার কখন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? (২ করিন্থীয় ৬:১, ২) (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৬ বন্ধুরা, এখনই সেই সময় যখন আপনারা নিজেদের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারেন এবং বাপ্তিস্ম নেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারেন। (পড়ুন, ২ করিন্থীয় ৬:১, ২.) আপনার কি সেই ইথিওপীয় নপুংসকের কথা মনে আছে, যার কাছে ফিলিপ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন? সুসমাচার জানার পর, সেই নপুংসক বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার আর দেরি করা ঠিক হবে না। তাই, যখন তারা এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছান, যেখানে জলাশয় ছিল, তখন সেই নপুংসক এটা মনে করেননি যে, ‘আমার এখনও আরও কিছু শেখার প্রয়োজন আছে। জলাশয় তো আগেও কোথাও পাওয়া যাবে।’ এর পরিবর্তে, সেই নপুংসক ফিলিপকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমার বাপ্তিস্ম নিতে বাধা কী?” (প্রেরিত ৮:২৬, ২৭, ৩৫-৩৯) এরপর, তিনি বাপ্তিস্ম নিলেন এবং “আনন্দ করতে করতে নিজ গন্তব্যপথে চলে গেলেন।” সেই নপুংসক কতই-না চমৎকার এক উদাহরণ, তাই না!
ইথিওপীয় নপুংসকের কাছ থেকে শিখুন! বাপ্তিস্মের জন্য পদক্ষেপ নিতে দেরি করবেন না (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)a
১৭. আপনি কোন বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন?
১৭ আমরা যেমন ইতিমধ্যেই দেখেছি, আপনার মনে যদি কোনো ভয় বা চিন্তা থাকে অথবা অন্য কোনো কারণে আপনি বাপ্তিস্ম নিতে ইতস্ততবোধ করছেন, তা হলে এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন যে, যিহোবা আপনাকে সমস্ত বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবেন এবং আপনি তাঁর বন্ধু হতে পারবেন। (রোমীয় ২:৪) যিহোবার কাছে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে এবং বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আপনি ঈশ্বরের সামনে একটা শুদ্ধ বিবেক বজায় রাখতে পারবেন। (প্রেরিত ৩:১৯) আর আপনি এটা দেখতে পাবেন যে, যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া আশীর্বাদগুলোর সামনে ‘পিছনে’ ফেলে আসা “বিষয়গুলো” এখন আর কোনো অর্থই রাখে না। (ফিলি. ৩:৮, ১৩) আপনি যখন ‘সামনের বিষয়গুলোর’ দিকে তাকাবেন, তখন আপনি নিজের চোখে দেখতে পাবেন যে, কীভাবে যিহোবা তাঁর প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করছেন!
গান ৩৮ তিনি সবল করবেন তোমায়
a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা,: ইথিওপীয় নপুংসক ফিলিপকে বলেছিলেন যে, তিনি বাপ্তিস্ম নিতে চান। একইভাবে একজন বাইবেল ছাত্রী প্রাচীনদের বলছেন যে, তিনি বাপ্তিস্ম নিতে চান।