এপ্রিল ১৩-১৯, ২০২৬
গান ৫২ খ্রিস্টীয় উৎসর্গীকরণ
বাপ্তিস্ম নেওয়ার অর্থ ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন
“লোকদের শিষ্য করো এবং . . . তাদের বাপ্তিস্ম দাও।”—মথি ২৮:১৯.
আমরা কী শিখব?
বাপ্তিস্ম নেওয়ার অর্থ কী, এটা নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং বাপ্তিস্ম কীভাবে দেওয়া উচিত?
১. কীভাবে আমরা জানতে পারি, বাপ্তিস্মের শিক্ষাটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
বাইবেল ছাত্রেরা যখন বাপ্তিস্ম নেয়, তখন আমরা সেটা দেখে কতই-না খুশি হই! বহু বছর আগে যখন খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, তখন সেই সময়কার খ্রিস্টানদের হয়তো এইরকমই আনন্দ হয়েছিল। সেই দিন অনেক লোক বাপ্তিস্ম নিয়েছিল। এর ঠিক আগে একটা বক্তৃতা দেওয়া হয়, সেখানে উপস্থিত সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, বাপ্তিস্ম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (প্রেরিত ২:৩৮, ৪০, ৪১) প্রেরিত পৌলও বলেছিলেন যে, “বাপ্তিস্মের বিষয়ে শিক্ষা” হল ‘খ্রিস্ট সম্বন্ধে মৌলিক শিক্ষাগুলোর’ মধ্যে একটা। (ইব্রীয় ৬:১, ২) তবে, আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, বাপ্তিস্মের বিষয়ে আপনি অনেক কিছুই জানেন। কিন্তু, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেন আপনি এই বিষয়টা আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেন। কেন?
২. কেন বাপ্তিস্মের শিক্ষাটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ?
২ একটা বাড়ি যদি দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তা হলে সেটা সহজে ভেঙে পড়বে না। ঠিক একইভাবে, বাপ্তিস্মের বিষয়ে মৌলিক শিক্ষাটা আমরা যদি ভালোভাবে বুঝি, তা হলে আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় থাকবে। আমাদের মধ্যে কেউ হয়তো বাপ্তিস্ম নেওয়ার কথা চিন্তা করছে অথবা কেউ হয়তো অনেক দিন আগেই বাপ্তিস্ম নিয়েছে, যেটাই হোক না কেন, আমাদের প্রত্যেকের এই শিক্ষাটা ভালোভাবে বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রবন্ধে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে পারব: বাপ্তিস্ম নেওয়ার অর্থ কী? এটা কীভাবে দেওয়া উচিত? আর পিতা, পুত্র ও পবিত্র শক্তির নামে বাপ্তিস্ম নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাপ্তিস্ম নেওয়ার অর্থ কী?
৩. বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা কী প্রকাশ করি?
৩ আমরা যখন বাপ্তিস্ম নিই, তখন সবার সামনে এটা প্রকাশ করি যে, (১) আমরা যিহোবা ঈশ্বর এবং যিশু খ্রিস্ট সম্বন্ধে যে-সত্য জেনেছি, সেটা গ্রহণ করেছি, (২) আমরা আমাদের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়েছি, (৩) আমরা যিহোবার সেবা করার জন্য নিজেদের জীবনধারা পরিবর্তন করেছি, (৪) আমরা বিশ্বাস করি যে, যিহোবা যিশুর মাধ্যমে আমাদের উদ্ধার করেন এবং (৫) আমরা প্রার্থনার মাধ্যমে যিহোবার কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেছি যে, তাঁর সংগঠনে থেকে আমরা তাঁর ইচ্ছা পূরণ করব। আমরা যখন যিহোবার কাছে এই প্রতিজ্ঞা করি অর্থাৎ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করি এবং বাপ্তিস্ম নিই, তখন আমরা যিহোবার সঙ্গে এমন একটা পথে চলতে শুরু করি, যেটা অনন্তজীবনের দিকে নিয়ে যায়।
৪. বাপ্তিস্মের সময় জলে পুরোপুরিভাবে ডোবানোর অর্থ কী? (ছবিও দেখুন।)
৪ বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময়, আমাদের জলে পুরোপুরিভাবে ডোবানো হয় এবং আবার জল থেকে ওঠানো হয়।a এটা ঠিক যেন একজন ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়েছে এবং এরপর তাকে পুনরুত্থিত করা হয়েছে। (তুলনা করুন, কলসীয় ২:১২.) বাপ্তিস্ম দেখায় যে, আমরা আমাদের জীবনধারায় অনেক বড়ো বড়ো পরিবর্তন এনেছি। বাপ্তিস্মের সময় আমাদের যখন জলে ডোবানো হয়, তখন সেটা দেখায় যে, আমরা আমাদের পুরোনো জীবনধারা পুরোপুরি পরিত্যাগ করেছি। আর আমরা যখন জল থেকে উঠে আসি, তখন আমরা এক নতুন জীবন শুরু করি অর্থাৎ সেই মুহূর্ত থেকে যিহোবার ইচ্ছা পালন করাই আমাদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আপনি দেখান যে, আপনি আপনার পুরোনো জীবনধারা পুরোপুরি পরিত্যাগ করেছেন এবং এক নতুন জীবন শুরু করেছেন অর্থাৎ এখন থেকে আপনি যিহোবার ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন (৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৫. বাপ্তিস্মের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াকে কীভাবে নোহের জাহাজ নির্মাণের সঙ্গে তুলনা করা যায়? (১ পিতর ৩:১৮-২১)
৫ প্রথম পিতর ৩:১৮-২১ পদ পড়ুন। আপনি যদি সম্প্রতি যিহোবা সম্বন্ধে শিখতে শুরু করে থাকেন, তা হলে হয়তো আপনার মনে হতে পারে, ‘বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আমাকে অনেক কিছু করতে হবে, আমি জানি না এগুলো আমি আদৌ করতে পারব কি না। আর এগুলো করা কি খুবই প্রয়োজন?’ এটা সত্যি যে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আপনার জীবনে কিছু পরিবর্তন বা ত্যাগস্বীকার করতে হবে, কিন্তু এগুলো করা আপনার সাধ্যের বাইরে নয়। বাপ্তিস্মের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অনেকটা নোহের জাহাজ নির্মাণ করার মতো। নোহকে যখন জাহাজ নির্মাণ করার আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তখন তার পক্ষে এই কাজটা করা খুবই কঠিন বলে মনে হয়েছিল। তিনি এই বিশাল কাজটা কীভাবে করতে পেরেছিলেন? তিনি যিহোবার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, তাঁর প্রতিটা আদেশ পালন করেছিলেন এবং যিহোবা সবসময় তার সঙ্গে ছিলেন। এভাবেই নোহ জাহাজ নির্মাণ করতে পেরেছিলেন এবং তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল। নোহের মতো আপনিও যিহোবার আজ্ঞাগুলো পালন করতে পারেন এবং বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।—আদি. ৬:২২.
৬. বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা কীভাবে রক্ষা পাই?
৬ পিতর বলেছিলেন, বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা “রক্ষা” পাই। (১ পিতর ৩:২১) এমনটা নয় যে, জলে ডোবানোমাত্রই আমাদের পাপ ধুয়ে যায় বা আমরা উদ্ধার পাই। শুধুমাত্র যিশুর রক্তের মাধ্যমেই আমাদের পাপের ক্ষমা হয়। (১ যোহন ১:৭) তাহলে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা কীভাবে রক্ষা পাই? এই পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা যিহোবার আজ্ঞা পালন করি এবং “এক উত্তম বিবেকের জন্য ঈশ্বরের কাছে অনুরোধ” করি। আর যিহোবা যিশুর বলিদানের ভিত্তিতে আমাদের পাপ ক্ষমা করেন। এভাবে বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে রক্ষা পেতে পারি অর্থাৎ অনন্তজীবন লাভ করতে পারি।
কীভাবে বাপ্তিস্ম দেওয়া উচিত?
৭. বাপ্তিস্মের সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত?
৭ বাইবেলে যদিও এটা বলা আছে যে, একজন ব্যক্তিকে জলে পুরোপুরি ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম দিতে হবে। কিন্তু, বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময় আর কী করা উচিত, সেই বিষয়ে বাইবেলে বেশি কিছু বলা নেই। তবে, বাইবেলে কিছু নীতি দেওয়া রয়েছে আর সেগুলো যদি আমরা পালন করি, তা হলে এই বিশেষ মুহূর্তের মর্যাদা আমরা বজায় রাখতে পারব। যেমন, বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময় কেমন পোশাক-আশাক পরা উচিত এবং সেখানে উপস্থিত থাকা লোকদের কেমন আচরণ করা উচিত। (১ করি. ১৪:৪০; ১ তীম. ২:৯) সাধারণত, একজন প্রাচীন ভাই বাপ্তিস্ম দিয়ে থাকেন। যদিও এটা একটা বিশেষ মুহূর্ত, কিন্তু এই কারণে সেই প্রাচীন ভাই বিশেষ কেউ হয়ে ওঠেন না। (১ করি. ১:১৪, ১৫) এ ছাড়া, বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময় যে অনেক লোককে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে, এর কোনো প্রয়োজন নেই।—প্রেরিত ৮:৩৬.
৮. বাপ্তিস্মপ্রার্থীদের সামনে কোন সুযোগ রয়েছে এবং তাদের কোন প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করা হয়? (প্রেরিত ২:৩৮-৪২) (ছবিও দেখুন।)
৮ বাইবেলে লেখা আছে, “পরিত্রাণ পেতে” চাইলে একজন ব্যক্তিকে তার বিশ্বাস সম্বন্ধে “জনসমক্ষে ঘোষণা করতে হবে।” (রোমীয় ১০:৯, ১০) যদিও অন্যান্য সময়ে আমরা আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে ঘোষণা করে থাকি, কিন্তু বাপ্তিস্ম নেওয়ার এই বিশেষ মুহূর্তে আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে ঘোষণা করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন? কারণ বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি! আর এই কারণে যারা বাপ্তিস্ম নেবে, তাদের বাপ্তিস্মের আগে দুটো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়। প্রথম প্রশ্নটা হল, “আপনি কি আপনার পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন, যিহোবার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এবং তিনি যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে পরিত্রাণের যে-ব্যবস্থা করেছেন, তা গ্রহণ করেছেন?” এই প্রশ্ন বাপ্তিস্মপ্রার্থীকে এটা বুঝতে সাহায্য করবে যে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার আগে তিনি কোন পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন। পঞ্চাশত্তমীর দিনে প্রেরিত পিতর লোকদের এটাই করতে উৎসাহিত করেছিলেন। আর দ্বিতীয় প্রশ্নটা হল: “আপনি কি বুঝতে পারেন, আপনার বাপ্তিস্ম দেখায় যে, আপনি একজন যিহোবার সাক্ষি এবং যিহোবার সংগঠনের এক অংশ? এই প্রশ্নটা একজন ব্যক্তিকে এটা বুঝতে সাহায্য করবে যে, বাপ্তিস্ম নেওয়ার পর তাকে কী করতে হবে অর্থাৎ তিনি কি যিহোবার সংগঠন থেকে আসা সমস্ত নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং ভাই-বোনদের সঙ্গে মিলে যিহোবার সেবা করবেন, ঠিক যেমনটা প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানেরা করেছিল? (পড়ুন, প্রেরিত ২:৩৮-৪২.) যারা হৃদয় থেকে এই দুটো প্রশ্নের উত্তরে “হ্যাঁ” বলবে, তারা বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময় আপনি আপনার বিশ্বাস সম্বন্ধে “জনসমক্ষে ঘোষণা” করেন (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)d
৯. যিহোবার সঙ্গে এক দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রত্যেককে কোন পদক্ষেপগুলো নিতে হবে?
৯ হতে পারে, সত্য শেখার আগে আপনি সৎভাবে জীবনযাপন করতেন এবং কোনো গুরুতর পাপ করেননি। অথবা আপনি হয়তো ছোটোবেলা থেকে যিহোবার বিষয়ে শিখে এসেছেন। তবুও, আপনার কি অনুতপ্ত হওয়া এবং বাপ্তিস্ম নেওয়া উচিত? অবশ্যই। কারণ আমরা সবাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাপ পেয়েছি এবং আমরা জন্ম থেকেই পাপী। (গীত. ৫১:৫) কিন্তু, আমরা যখন যিহোবাকে জানতে শুরু করি, তখন আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা নিজেদের ইচ্ছা নয় বরং যিহোবার ইচ্ছা অনুযায়ী চলব। এরপর, আমরা আমাদের পাপের জন্য অনুতপ্ত হই এবং এমন একটা পথে চলতে শুরু করি, যেটা যিহোবার হৃদয়কে খুশি করে। এবার, আমরা বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।—প্রেরিত ৩:১৯.
১০. আপনি হয়তো আগে অন্য কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে আপনার বাপ্তিস্ম হয়েছিল, তা হলেও আপনার কী করা উচিত?
১০ আপনি হয়তো আগে অন্য কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে আপনার বাপ্তিস্ম হয়েছিল, তা হলেও যিহোবার সাক্ষি হওয়ার জন্য আপনাকে বাপ্তিস্ম নিতে হবে। কেন? কারণ সেইসময় আপনি যিহোবা ঈশ্বর এবং যিশু সম্বন্ধে সত্য ভালোভাবে জানতেন না। এ ছাড়া, যদিও হয়তো আপনি আগে আপনার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, কিন্তু সেইসময় হয়তো আপনি ঈশ্বরের ইচ্ছা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। প্রথম শতাব্দীতে এমনই কিছু ঘটেছিল। ইফিষে প্রেরিত পৌলের এমন কিছু লোকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যারা বাপ্তিস্ম নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু খ্রিস্টীয় শিক্ষার জ্ঞান তাদের ছিল না। সেইজন্য, প্রেরিত পৌল আবারও তাদের বাপ্তিস্মের ব্যবস্থা করেছিলেন।b (প্রেরিত ১৯:১-৫) আজও যদি একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা জানার পর বাপ্তিস্ম নেয়, তা হলে যিহোবা সেই বাপ্তিস্মকে সঠিক বলে গণ্য করেন।
“পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র শক্তির নামে তাদের বাপ্তিস্ম দাও”
১১. “পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র শক্তির নামে” বাপ্তিস্ম নেওয়ার অর্থ কী? (মথি ২৮:১৮-২০)
১১ যিশু বলেছিলেন, তাঁর শিষ্যদের যেন “পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র শক্তির নামে” বাপ্তিস্ম দেওয়া হয়। (পড়ুন, মথি ২৮:১৮-২০.) যিশু আসলে কী বোঝাতে চেয়েছিলেন? বাইবেলে যখন “নাম” শব্দটা ব্যবহার করা হয়, তখন বেশিরভাগ সময় সেটা একজন ব্যক্তির কর্তৃত্ব বা সম্মানকে বোঝায়। তাই, আমরা যখন কারো “নামে” কিছু করি, তখন এর মানে হল, আমরা তার কর্তৃত্বকে স্বীকার করছি। (তুলনা করুন, মথি ১০:৪১.) তাই, আসুন আমরা দেখি যে, কীভাবে আমরা পিতা ও পুত্রের কর্তৃত্বকে এবং ঈশ্বরের পবিত্র শক্তির ভূমিকাকে স্বীকার করতে পারি।
১২. পিতার নামে বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আমাদের কী স্বীকার করতে হবে? (প্রকাশিত বাক্য ৪:১১) (ছবিগুলোও দেখুন।)
১২ পিতার নামে। আমরা এটা বিশ্বাস করি, যিহোবা হলেন আমাদের স্বর্গস্থ পিতা অর্থাৎ তিনিই আমাদের জীবন দান করেন। তিনি সর্বশক্তিমান ও আমাদের সৃষ্টিকর্তা। (পড়ুন, প্রকাশিত বাক্য ৪:১১.) আমরা জানি যে, যিহোবা আমাদের প্রার্থনা শোনেন আর তাই আমরা যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করি অথবা অন্যদের তাঁর সম্বন্ধে বলি, তখন আমরা সম্মানের সঙ্গে তাঁর নাম ব্যবহার করি। (গীত. ৬৫:২) কিন্তু, আমরা যখন পিতার নামে বাপ্তিস্ম নিই, তখন আমরা আরও একটা বিষয় স্বীকার করি। পঞ্চাশত্তমীর দিনে যারা পিতরের বক্তৃতা শুনেছিল, তারা যিহোবাকে জানত ঠিকই, কিন্তু তাদের এটা বোঝার প্রয়োজন ছিল, যদিও তারা যিশুর মাধ্যমে পরিত্রাণ পাবে, তবে এই পরিত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন, প্রেমময় ঈশ্বর যিহোবা আর আমাদেরও এটা স্বীকার করতে হবে।—রোমীয় ৫:৮.
বাপ্তিস্মের পরও পিতার কর্তৃত্বকে স্বীকার করে চলুন (১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৩. পুত্রের নামে বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আমাদের কী স্বীকার করতে হবে? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৩ পুত্রের নামে। আমরা স্বীকার করি, যিশুই হলেন ঈশ্বরের একজাত পুত্র আর তিনিই হলেন সেই “পথ,” যাঁর মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে এক দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। (যোহন ১৪:৬) এ ছাড়া, যিশু হলেন আমাদের উদ্ধারকর্তা, তিনি আমাদের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন, যেন আমরা পাপ ও মৃত্যু থেকে উদ্ধার লাভ করি এবং অনন্তজীবন পাই। তাই, আমরা এই প্রচেষ্টা করে চলি যেন আমরা শুধুমাত্র বাপ্তিস্মের দিন নয় বরং প্রত্যেক দিন তাঁর মতো করে জীবনযাপন করি। (১ যোহন ২:৬) যিশুর মতো আমরাও উদ্যোগের সঙ্গে প্রচার করি এবং কোনো কিছুকেই প্রচার করার ক্ষেত্রে বাধা হতে দিই না। (লূক ৪:৪৩) এমনকী, আমাদের বিরোধিতা করা হলেও আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকি। (২ তীম. ৩:১২) আমরা যিশুকে ‘মণ্ডলীর মস্তক’ হিসেবে সম্মান করি, তাই তিনি যে-ভাইদের মণ্ডলীতে নেতৃত্ব নেওয়ার এবং তাঁর শিষ্যদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা বশীভূত থাকি।—ইফি. ৪:৮, ১১, ১২; ৫:২৩.
বাপ্তিস্মের পরও পুত্রের কর্তৃত্বকে স্বীকার করে চলুন (১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৪. (ক) পবিত্র শক্তির নামে বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য আমাদের কী স্বীকার করতে হবে? (ছবিও দেখুন।) (খ) অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের আর কোন ধরনের বাপ্তিস্ম হয়ে থাকে? (“অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের যে-ধরনের বাপ্তিস্ম হয়ে থাকে” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)
১৪ পবিত্র শক্তির নামে। আমরা বিশ্বাস করি যে, পবিত্র শক্তি কোনো ব্যক্তি অথবা ত্রিত্বের অংশ নয় বরং এটা হল ঈশ্বরের এক সক্রিয় শক্তি। আমরা এটাও বিশ্বাস করি, যিহোবা ঈশ্বর তাঁর পবিত্র শক্তির মাধ্যমে তাঁর বার্তা ভাববাদীদের এবং বাইবেল লেখকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন আর তাই আমরা প্রতিদিন বাইবেল পড়ি এবং বাইবেলে দেওয়া শিক্ষাগুলো পালন করি। (২ পিতর ১:২০, ২১) আর আমরা গুরুতর পাপ করা থেকে দূরে থাকি কারণ আমরা জানি যে, এটা করলে আমরা ঈশ্বরের পবিত্র শক্তি পাব না এবং মণ্ডলীতেও পবিত্র শক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে না।
বাপ্তিস্মের পরও যিহোবার পবিত্র শক্তির ভূমিকাকে স্বীকার করে চলুন (১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৫. আমাদের কোন বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হওয়া উচিত?
১৫ আপনার কি বাপ্তিস্ম হয়ে গিয়েছে এবং আপনি কি একজন যিহোবার সাক্ষি? এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হোন যে, আপনি “বাপ্তিস্মের বিষয়ে শিক্ষা”c আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন আর যিহোবার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার এবং বাপ্তিস্মের বিষয়ে যে-প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন। কিন্তু, আপনার যদি বাপ্তিস্ম না হয়ে থাকে, তা হলে চিন্তা করুন, কোন বিষয়টা আপনাকে এই পদক্ষেপ নিতে বাধা দিচ্ছে। পরের প্রবন্ধে আমরা জানব যে, কীভাবে আমরা এই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।
গান ১৬১ তোমার ইচ্ছা পালন করেই আনন্দ পাই
a গ্রিক শব্দ বাপ্তিস্ম-এর অর্থ হল, “জলে পুরোপুরিভাবে নিমজ্জিত করা” অথবা “জলে ডোবানো।” তাই, একজন ব্যক্তির মাথায় শুধুমাত্র জল ছিটিয়ে নয়, যেটা কিছু ধর্মে করা হয়ে থাকে বরং সেই ব্যক্তিকে জলে পুরোপুরিভাবে ডুবিয়ে বাপ্তিস্ম দেওয়া হয়।
b ইফিষে প্রেরিত পৌলের সঙ্গে যে-ব্যক্তিদের দেখা হয়েছিল, তারা “যোহনের শিক্ষা অনুযায়ী বাপ্তাইজিত” হয়েছিল। (প্রেরিত ১৯:৩) যোহন বাপ্তাইজক যিহুদিদের বলেছিলেন, যারা মোশির ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাপ করেছে, তারা যেন সেটার জন্য অনুতাপ করে এবং যারা অনুতপ্ত হয়েছিল, যোহন তাদের বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন। (মার্ক ১:৪, ৫) কিন্তু, মোশির ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ঈশ্বরের অনুমোদন পাওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে বাপ্তিস্ম নেওয়ার এবং খ্রিস্টান হওয়ার প্রয়োজন ছিল। আর এই “একটাই বাপ্তিস্ম” সেই ব্যক্তিকে পরিত্রাণ দিতে পারত।—ইফি. ৪:৫.
c jw.org ওয়েবসাইট এবং JW লাইব্রেরিতে দেওয়া “বাইবেলের প্রশ্নের উত্তর” ধারাবাহিক প্রবন্ধের অধীনে “বাপ্তিস্মের অর্থ কী?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
d ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: একটা সম্মেলনে বাপ্তিস্মপ্রার্থীরা সবার সামনে নিজেদের বিশ্বাস সম্বন্ধে ঘোষণা করছে।