এপ্রিল ৬-১২, ২০২৬
গান ৮২ “তোমাদের আলো উজ্জ্বল হোক”
ন-সাক্ষি পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের কীভাবে সাহায্য করা যায়?
“এসো, আমরা উত্তম কাজ করার ব্যাপারে হাল ছেড়ে না দিই।”—গালা. ৬:৯.
আমরা কী শিখব?
আমরা কীভাবে আমাদের ন-সাক্ষি আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি? এ ছাড়া, আমরা এমন কী করতে পারি, যাতে তারা যিহোবাকে জানতে আগ্রহী হয়?
১-২. কোন কোন কারণে আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হতে পারে?
একবার যিশু একজন ব্যক্তিকে সুস্থ করার পর, তাকে বলেন: “তোমার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের কাছে ফিরে যাও এবং যিহোবা তোমার জন্য যা-কিছু করেছেন . . . তা তাদের জানাও।” (মার্ক ৫:১৯) যিশু কেন এটা বলেছিলেন? কারণ তিনি জানতেন যে, লোকেরা যখন কোনো ভালো খবর পায়, তখন তারা সেটা তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের জানাতে চায়।
২ আপনার কি সেই দিনটার কথা মনে পড়ে, যে-দিন আপনি প্রথম বার সুসমাচারের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন? আপনি নিশ্চয়ই এটা আপনার সমস্ত আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যকে জানাতে চেয়েছিলেন। হতে পারে, তাদের মধ্যে অনেকের এই খবরটা শুনে ভালো লাগেনি। আবার এটাও হতে পারে যে, আপনি তাদের কাছে এমনভাবে সুসমাচার তুলে ধরেছিলেন, যেটা তারা পছন্দ করেনি এবং আপনার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিল। যদি এইরকম কিছু হয়ে থাকে, তা হলে এই প্রবন্ধে আপনি জানতে পারবেন যে, কীভাবে আপনি আপনার আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন আর এর পাশাপাশি যিহোবার প্রতিও বিশ্বস্ত থাকতে পারেন।
৩. এই প্রবন্ধে আমরা কী জানব?
৩ এই প্রবন্ধে আমরা জানব, (১) আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা যিহোবা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী না হলেও, কোন বিষয়টা আমাদের তাদের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে, (২) যদি আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা আমাদের খারাপ কথা বলে অথবা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, তা হলে আমরা কী করতে পারি, (৩) আমরা কীভাবে ধৈর্য ধরতে পারি আর এই আশা রাখতে পারি যে, একদিন তারা যিহোবা সম্বন্ধে শিখতে চাইবে এবং (৪) কীভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসি।
ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলুন
৪. যদিও অনেক লোক যিশুর বার্তা শোনেনি, তবুও তিনি কী করেছিলেন?
৪ যদিও অনেক লোক যিশুর বার্তা শোনেনি, তবে যিশু কখনো হাল ছেড়ে দেননি। তিনি তাদের হৃদয়ে পৌঁছানোর জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা করেছিলেন। যিশু এই বিষয়ে একটা দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজেকে একটা বাগানের মালীর সঙ্গে তুলনা করেন। সেই মালী বাগানে একটা ডুমুর গাছ লাগিয়েছিলেন, যেটাতে তিন বছর ধরে কোনো ফল ধরেনি। তবুও, তিনি সেই গাছটার যত্ন নেন এবং সেটার পিছনে প্রচুর পরিশ্রম করেন। (লূক ১৩:৬-৯) যিশু যখন এই দৃষ্টান্তটা দেন, তখন তিনি ইতিমধ্যেই যিহুদিদের কাছে তিন বছর ধরে প্রচার করছিলেন, তবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোক তাঁর উপর বিশ্বাস করেনি। তা সত্ত্বেও, যিশু তাদের প্রতি ধৈর্য ধরেছিলেন এবং তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। যিশু এটা এই জন্যই করতে পেরেছিলেন কারণ লোকদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল।
৫. লোকদের দেখে যিশুর কেন গভীর সমবেদনা বোধ হয়েছিল?
৫ ধর্মগুরুদের দায়িত্ব ছিল, লোকদের ঈশ্বর সম্বন্ধে সত্য শেখানো, কিন্তু তারা এই দায়িত্ব পালন করেনি। তাই, যিশু সেই লোকদের দেখে বলেছিলেন, “তারা পালকবিহীন মেষপালের মতো।” (মার্ক ৬:৩৪) তাদের এইরকম অবস্থা দেখে যিশুর গভীর সমবেদনা বোধ হয়েছিল। মৃত্যুর কিছু সময় আগে যিশু জেরুসালেম শহরের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। কেন? যিশু জানতেন, জেরুসালেমে বেশিরভাগ লোক তাঁকে এবং যিহোবাকে বিশ্বাস করবে না আর এই কারণে তারা তাদের জীবন হারাবে। (লূক ১৯:৪১-৪৪) যিশুর মতো আমরা যদি চিন্তা করি যে, সত্য জেনে আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের জীবন কতটা ভালো হতে পারে, তা হলে আমরাও তাদের সাহায্য করতে চাইব।
৬. কেন আমাদের ন-সাক্ষি আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের প্রতি ধৈর্য ধরা উচিত? (গালাতীয় ৬:৯)
৬ গালাতীয় ৬:৯ পদ পড়ুন। হতে পারে, বর্তমানে আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা যিহোবা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী নয়, কিন্তু তারপরও তাদের প্রতি আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত এবং “উত্তম কাজ করার ব্যাপারে হাল ছেড়ে” দেওয়া উচিত নয়। একজন ব্যক্তি, যিনি হয়তো বছরের পর বছর ধরে একটা বিষয়ে বিশ্বাস করে এসেছেন, তার পক্ষে সেটা ছেড়ে দিয়ে যিহোবাকে বিশ্বাস করার জন্য সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া, এটাও মনে করে দেখুন, একসময় হয়তো আপনার কাছেও ‘কোনো প্রত্যাশা ছিল না এবং আপনি ঈশ্বরকে জানতেন না।’ (ইফি. ২:১২) কিন্তু, কেউ হয়তো আপনাকে প্রেমের সঙ্গে সাহায্য করেছেন এবং যিহোবা সম্বন্ধে শিখিয়েছেন। তাই, আপনিও কি আপনার আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের প্রেমের সঙ্গে সাহায্য করতে পারেন?
তাদের কথায় ও দুর্ব্যবহারে কষ্ট পাবেন না
৭. কেন হয়তো যিশুর ভাইয়েরা তাঁকে বিশ্বাস করতে পারছিল না?
৭ যিশুর ভাইয়েরা হয়তো সেই সমস্ত অলৌকিক কাজের কথা শুনেছিল, যেগুলো যিশু গালীল নগরে করেছিলেন। (লূক ৪:১৪, ২২-২৪) কিন্তু, প্রথম দিকে তারা যিশুর উপর বিশ্বাস করেনি। (যোহন ৭:৫) কেন? বাইবেলে এর কারণ সম্বন্ধে সরাসরি কিছু বলা নেই, কিন্তু বাইবেল থেকে আমরা এমন দুটো কারণ সম্বন্ধে জানতে পারি, যেগুলোর ফলে অনেক যিহুদি যিশুর শিষ্য হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে গিয়েছিল। প্রথম কারণ হল, যিহুদিদের মনে এই ভয় ছিল যে, তারা যদি খ্রিস্টান হয়, তা হলে যিহুদি সমাজের লোকেরা তাদের উপর অত্যাচার করবে। (যোহন ৯:১৮-২২) দ্বিতীয় কারণটা হল, অনেক যিহুদি যিশুকে তাদের চোখের সামনে বড়ো হতে দেখেছিল, তাই যিশুই যে মশীহ, এটা তারা মেনে নিতে পারছিল না। (মার্ক ৬:১-৪) হয়তো এই কারণগুলোর জন্যই যিশুর ভাইয়েরা যিশুকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। আপনার আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরাও কি এই কারণগুলোর জন্য রাজ্যের বার্তা শুনতে চায় না?
৮. আমাদের কিছু ন-সাক্ষি আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্য কেন হয়তো আমাদের খারাপ কথা বলে এবং আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে?
৮ তারা কেন আমাদের খারাপ কথা বলে এবং আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। যিশুর আত্মীয়স্বজনেরা মনে করত যে, যিশুর “মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।” (মার্ক ৩:২১) তাঁর ভাইয়েরাও হয়তো এটাই মনে করত। কিন্তু, তারা কেন এমনটা মনে করেছিল? বাইবেলের এই প্রসঙ্গ থেকে আমরা জানতে পারি, যিশু এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে, তিনি খাবার খাওয়ার সময় পর্যন্ত পেতেন না। (মার্ক ৩:২০) হয়তো যিশুর আত্মীয়স্বজনেরা মনে করত, তিনি অতিধার্মিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনার আত্মীয়স্বজনেরাও কি এটা মনে করে যে, আপনি ধর্ম নিয়ে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছেন? তারা যদি এমনটা মনে করে, তা হলে আপনি তাদের এই নিশ্চয়তা দিতে পারেন যে, অন্যান্য কাজ করার জন্যও আপনি সময় বের করে নেন।
৯. আমরা এমন কী করতে পারি, যাতে আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের মন পরিবর্তন হতে পারে? (১ পিতর ৩:১, ২) (ছবিগুলোও দেখুন।)
৯ আপনার উত্তম আচার-আচরণ বজায় রাখুন। আমরা যদি আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সদয়ভাবে কথা বলি এবং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করি, তা হলে হয়তো একদিন তারা তাদের মন পরিবর্তন করবে। (পড়ুন, ১ পিতর ৩:১, ২.) যেমন ধরুন, একজন বোন যখন মণ্ডলীর সভাতে ও প্রচারে যান, তখন হয়তো সেটা তার স্বামী, যিনি সত্যে নেই, তার ভালো লাগে না অথবা তিনি একাকিত্ব বোধ করেন। এইরকম পরিস্থিতিতে সেই বোন হয়তো নিজের তালিকায় কিছু রদবদল করতে পারেন, যাতে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। বোন হয়তো সেই সময়ে প্রচারে যেতে পারেন, যখন তার স্বামী অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন অথবা বাড়ির বাইরে থাকেন। তাই, বোন যদি তার তালিকায় এইরকম কিছু রদবদল করার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তা হলে তিনি হয়তো তার স্বামীর মন জয় করতে পারবেন এবং তার স্বামীও হয়তো যিহোবার সাক্ষিদের সম্বন্ধে নিজের ধারণা পরিবর্তন করবেন।
আমরা যদি প্রেমের সঙ্গে কথা বলি এবং ভালো ব্যবহার করি, তা হলে হয়তো আমাদের ন-সাক্ষি জীবনসঙ্গী নিজের মন পরিবর্তন করবে (৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)f
১০. অন্যেরা যখন আমাদের সম্বন্ধে খারাপ কথা বলে, তখন আমরা যিশুর মতো কী করতে পারি?
১০ সব কথায় উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। লোকেরা যখন যিশুকে পেটুক ও মাতাল বলে অভিযোগ করেছিল, তখন যিশু তাদের কথায় উত্তর দেননি। এর পরিবর্তে, তিনি বলেছিলেন, লোকেরা যেন তাঁর কাজ দেখে বুঝতে পারে যে, তিনি আসলে কেমন ব্যক্তি। (মথি ১১:১৯) যিশু লোকদের টিটকারিতে কোনো কান দেননি বরং তিনি এমনভাবে জীবনযাপন করেছিলেন, যেটা দেখে লোকেরা বুঝতে পেরেছিল যে, তাঁর জীবনে একটা ভারসাম্য রয়েছে। (তুলনা করুন, যোহন ২:২, ৬-১০.) একইভাবে, যদি আপনার আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা আপনাকে টিটকারি দেয়, তা হলে এটা মনে করবেন না যে, আপনাকে তাদের সমস্ত কথার উত্তর দিতে হবে। এর পরিবর্তে, ঈশ্বরের সেবা করে চলুন এবং সেইসঙ্গে অন্যান্য কাজের জন্যও সময় বের করে নিন। এমনটা করলে আপনার আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা দেখতে পাবে যে, আপনি অন্যান্য কাজকেও গুরুত্ব দেন এবং সেগুলো আনন্দের সঙ্গে করেন। এর ফলে, তারা হয়তো বুঝতে পারবে যে, আমাদের সম্বন্ধে তারা যা-কিছু শুনেছিল, সেগুলো সত্যি নয়।
ধৈর্য ধরুন এবং আশা ছেড়ে দেবেন না
১১. যিশুর ভাইয়েরা তাঁকে বিশ্বাস না করলেও, যিশু তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলেন?
১১ সুসমাচারের বইগুলো থেকে জানা যায় যে, যিশু তাঁর ভাইদের প্রতি ধৈর্য ধরেছিলেন। যেমন, কান্না নগরে যিশু যখন প্রথম অলৌকিক কাজ করেছিলেন, তখন হয়তো তাঁর ভাইয়েরাও সেখানে ছিল। (যোহন ২:১১, ১২) আগে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, যিশুর অলৌকিক কাজ দেখে তাঁর ভাইয়েরা তাঁর উপর বিশ্বাস করেনি। কিন্তু এই কারণে, যিশু তাঁর ভাইদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ করে দেননি। বাইবেল বলে, কান্না নগরে অলৌকিক কাজ করার প্রায় তিন বছর পরও, যিশু তাঁর ভাইদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলেছিলেন।—যোহন ৭:৫-৮.
১২. কেন আমরা আশা রাখতে পারি যে, আমাদের কিছু আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্য একদিন যিহোবার সেবা করবে?
১২ সম্প্রতি আমরা এই বিষয়ে আরও ভালোভাবে জানতে পেরেছি, যিহোবা কতটা করুণাময় ঈশ্বর। মহাক্লেশ শুরু হওয়ার পরও, কেউ যদি যিহোবার সেবা করতে চায়, তা হলে যিহোবা হয়তো তাকে সুযোগ দেবেন। এটা আমাদের মনে একটা আশা জাগিয়ে তোলে। মিথ্যা ধর্ম যখন ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন হয়তো আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের মনে পড়বে যে, আমরা তাদের এই বিষয়ে আগে বলেছিলাম।a (প্রকা. ১৭:১৬) হতে পারে, তারা যিহোবার উপাসনা করতে শুরু করবে। আর বর্তমানে যদি আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়, তা হলে আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করতে পারি। এভাবে, আমরা বোঝাতে পারি যে, আমরা তাদের ভালোবাসি আর আমাদের এই ভালোবাসা দেখে তারা হয়তো বাইবেলের সত্য সম্বন্ধে জানতে চাইবে।
তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখান
১৩. কোন বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখা উচিত?
১৩ যিহোবার সেবায় আমাদের প্রত্যেকের অনেক কিছু করার আছে, কিন্তু আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা যেন এটা না ভাবে যে, তাদের জন্য আমাদের হাতে কোনো সময় নেই অথবা তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। (মথি ৭:১২) তাই, আমরা কীভাবে তাদের দেখাতে পারি যে, আমরা তাদের ভালোবাসি এবং তাদের জন্য চিন্তা করি? আসুন, আমরা কয়েকটা উপায় লক্ষ করি।
১৪-১৫. আমরা আমাদের ন-সাক্ষি আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের প্রতি কীভাবে প্রেম দেখাতে পারি? একটা উদাহরণ দিন।
১৪ তাদের সঙ্গে কথা বলুন এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখান। সময়ে সময়ে আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারি যে, আমরা কেমন আছি বা কী করছি। যেমন, আমরা তাদের মেসেজ পাঠাতে পারি। অথবা আমরা যদি কোথাও বেড়াতে যাই বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই, তা হলে আমরা কিছু ছবি আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের পাঠাতে পারি। কিংবা আমরা তাদের একটা ছোট্ট উপহার দিতে পারি অথবা একটা চিঠি লিখতে পারি। আমাদের এই ছোটো ছোটো প্রচেষ্টা দেখে তারা বুঝতে পারবে যে, আমরা তাদের কতটা ভালোবাসি। আর এর ফলে, আমাদের সম্পর্ক আরও ভালো হয়ে উঠবে।
১৫ আর্মেনিয়ার একজন বোন, অ্যানার উদাহরণের কথা চিন্তা করুন। একসময় বোন অ্যানা এবং তার পরিবার একসঙ্গে অনেক সময় কাটাত, বিশেষ করে কোনো উৎসবের সময় বা কারো জন্মদিনে। কিন্তু, বোন যখন সত্য শেখেন, তখন তার আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সদস্যেরা মনে করে যে, অ্যানা আর তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাবে না এবং তাদের সম্পর্ক আর আগের মতো থাকবে না। তারা অ্যানার ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তা করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে বোন অ্যানা কী করেন? বোন বলেন: “আমি যখন আমার পরিবার বা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করি, তখন আমি তাদের বলি যে, আমার জীবনে কী চলছে এবং আমি কী করছি। আমি তাদের আমার বাড়িতে ডাকি এবং আমার বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সেইজন্য আমার বেশিরভাগ আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যেরা আমার বন্ধুদের ভালোভাবে চেনে এবং তাদের পছন্দও করে। তারা অনেক বার আমাকে বলেছে যে, আমি খুব ভালো আছি এবং এখন তারা আমাকে নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করে না।”
১৬. যিশু কীভাবে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ভাই যাকোবের জন্য চিন্তা করেন? (পাদটীকাও দেখুন।)
১৬ তাদের প্রতি চিন্তা দেখান। যিশু পুনরুত্থিত হওয়ার পর, তাঁর ভাই যাকোবের সঙ্গে একা দেখা করতে গিয়েছিলেন। (১ করি. ১৫:৭) এইভাবে যিশু দেখিয়েছিলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের জন্য চিন্তা করেন। যাকোব নিশ্চয়ই তখন অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, যিশু এখনও তাকে কতটা ভালোবাসেন আর এটা তাকে খুবই আনন্দ দিয়েছিল। হতে পারে, যিশুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই, যাকোব বুঝতে পেরেছিলেন যে, যিশুই হলেন মশীহ। আর সম্ভবত এর পরেই যাকোব তার পরিবারের বাকি সদস্যকেও এটা বুঝতে সাহায্য করেছিলেন।b—প্রেরিত ১:১৪.
১৭. রোমীয় ১২:১৫ পদে দেওয়া নীতি কীভাবে আমরা মেনে চলতে পারি? (ছবিও দেখুন।)
১৭ রোমীয় ১২:১৫ পদ পড়ুন। আমরা যদি আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের প্রতি চিন্তা দেখাই, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকি, তাদের এটা বোঝানোর চেষ্টা করি যে, আমরা তাদের ভালোবাসি, তা হলে হয়তো একসময় আমাদের সম্বন্ধে তাদের ধারণা বদলে যাবে।c যেমন, কারো যদি সন্তান হয়, তা হলে আমরা তাদের সঙ্গে আনন্দ করতে পারি এবং তাদের কিছু উপহারও দিতে পারি। অথবা আত্মীয়দের মধ্যে কারো যদি মৃত্যু হয়, তা হলে আমরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সেখানে যেতে পারি, যেকোনো উপায়ে তাদের সাহায্য করতে পারি এবং কোনো সান্ত্বনাদায়ক কথা লিখে তাদের পাঠাতে পারি। আমরা মাঝে মাঝে তাদের খোঁজখবর নিতে পারি, বিশেষ করে সেইসময় যখন তারা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকে।
বিশেষ করে যদি সমস্যার সময়ে আমরা আমাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের পাশে থাকি, তা হলে হয়তো আমাদের সম্বন্ধে এবং আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে তাদের মনোভাব পরিবর্তন হবে (১৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)g
১৮. আন্দ্রিয়ের মতো আমরা কী করতে পারি?
১৮ অন্যান্য ভাই-বোনদের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিন। আন্দ্রিয় যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে, যিশুই হলেন মশীহ, তখন তিনি তার ভাই পিতরকে যিশুর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। (যোহন ১:৪০-৪২) আপনিও কি এইরকম কিছু করতে পারেন? যেমন, আপনি কি আপনার কোনো আত্মীয় অথবা পরিবারের সদস্যকে মণ্ডলীর সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন? অথবা আপনি কি ভাই-বোনদের সঙ্গে তাদেরও আপনার বাড়িতে খাওয়ার জন্য ডাকতে পারেন? আপনার আত্মীয়েরা যখন ভাই-বোনদের সঙ্গে মেলামেশা করবে, তখন তারাও বুঝতে পারবে যে, যিহোবার সাক্ষিরা কতটা ভালো।
১৯. যদিও আমাদের আত্মীয়স্বজনেরা আমাদের বিশ্বাসকে পুরোপুরি বুঝতে পারে না, তবুও তাদের সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত? (১ পিতর ৩:১৫)
১৯ প্রথম পিতর ৩:১৫ পদ পড়ুন। আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যেরা হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারবে না যে, আমরা কেন কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিই না, কিন্তু আমরা যদি তাদের সম্মান দেখাই, তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করি, তা হলে এগুলো তাদের মনে গেঁথে যাবে। যদিও আমরা তাদের সঙ্গে কোনো জাগতিক উৎসব বা রীতিনীতিতে অংশ নিই না, তবে তাদের এটা দেখে ভালো লাগবে যে, আমরা অন্যান্য সময়ে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করি। যেমন, আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাই, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি অথবা তাদের কিছু উপহার দিই।
হাল ছেড়ে দেবেন না!
২০. যাকোবের উদাহরণ আমাদের মনে কোন আশা জাগিয়ে তোলে?
২০ যিশু যখন পৃথিবীতে সেবা করছিলেন, তখন যাকোব তাঁর উপর বিশ্বাস করেননি এবং তাঁর সঙ্গে সেবা করার একটা বিশেষ সুযোগ হারিয়েছিলেন। (গালা. ১:১৮, ১৯; ২:৯) কিন্তু, পরে যাকোব যিশুর শিষ্য হন এবং তাঁর শিক্ষাগুলোকে হৃদয় থেকে গ্রহণ করেন। যাকোব ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় একটা চিঠিও লেখেন, যেখানে তিনি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেন, যেগুলো যিশু তাঁর পর্বতে দেওয়া উপদেশে বলেছিলেন।d
২১. কেন আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়?
২১ হতে পারে, আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি, তাদের প্রতি চিন্তা দেখাই, কিন্তু এত প্রচেষ্টা করার পরও তারা হয়তো যিহোবা সম্বন্ধে জানতে চাইবে না। কিন্তু, আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কেন? কারণ আমরা যখন তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি, তখন আমরা আমাদের করুণাময় পিতা যিহোবা এবং তাঁর পুত্র যিশুকে অনুকরণ করি। (লূক ৬:৩৩, ৩৬) আর আমরা যদি আত্মীয়স্বজন অথবা পরিবারের সদস্যদের প্রতি প্রেম দেখিয়েই চলি, তা হলে আমাদের প্রতি তাদের ধারণা হয়তো বদলাবে। তারা হয়তো এমন কিছু বাইবেলের শিক্ষা মনে রাখবে, যেটা আমরা তাদের আগে বলেছিলাম। তাই, আসুন আমরা যেন হাল ছেড়ে না দিই এবং তাদের সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখি। কে বলতে পারে একদিন তারাও হয়তো আমাদের সঙ্গে যিহোবার সেবা করবে!
গান ৬০ জীবন ঝুঁকিতে আছে
a ২০২৪ সালের মে মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “ভবিষ্যতে যিহোবা কীভাবে লোকদের বিচার করবেন?” প্রবন্ধের পৃষ্ঠা ১১, অনুচ্ছেদ ১১-১৩ দেখুন।
b যিশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের পর অন্ততপক্ষে তাঁর দু-জন ভাই যাকোব ও যিহূদা সত্য গ্রহণ করেছিলেন।
c “আপনি কি আপনার ন-সাক্ষি আত্মীয়দের বিয়ে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন?” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।
e এই ক্ষেত্রগুলোতে আমরা আর কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারি, সেটা জানার জন্য ২০০২ সালের ১৫ মে এবং ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার “পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল” পড়ুন।
f ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: একজন বোন প্রচারে যাওয়ার আগে খুশিমনে তার স্বামীর জন্য খাবার বানাচ্ছেন।
g ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: সেই একই বোন তার শাশুড়ির সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছেন, যিনি যিহোবার সাক্ষি নন।