‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার’ ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ী হোন
১ যিশু এবং প্রাচীন কালের অন্যান্য অনেক বিশ্বস্ত দাসের মতো, প্রেরিত পৌল সুসমাচারের এক উদ্যোগী প্রচারক ছিলেন, যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে ‘[“পুঙ্খানুপুঙ্খ,” NW] সাক্ষ্য দিয়াছিলেন।’ এমনকি গৃহবন্দি থাকার সময়েও তিনি “যত লোক তাঁহার নিকটে আসিত, সকলকেই গ্রহণ করিয়া সম্পূর্ণ সাহসপূর্ব্বক ঈশ্বরের রাজ্যের কথা প্রচার করিতেন, এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে উপদেশ দিতেন।”—প্রেরিত ২৮:১৬-৩০.
২ আমরাও ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার’ ক্ষেত্রে সবসময় অধ্যবসায়ী হতে পারি। এর অন্তর্ভুক্ত অধিবেশন ও সম্মেলনগুলোতে যাওয়া-আসার সময় আমরা যে-লোকেদের সাক্ষাৎ পাই, তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়া।—প্রেরিত ২৮:২৩; গীত. ১৪৫:১০-১৩.
৩ রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান কী? রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান এমন কিছু নয় যা হঠাৎ করে বা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই ঘটে যায়, যেন কোনো পরিকল্পনাই করা হয়নি বা ততটা গুরুত্বপূর্ণই নয়। সেটা নিশ্চয়ই আমাদের পরিচর্যাকে উপযুক্তভাবে বর্ণনা করে না। পৌলের ক্ষেত্রে যেমন সত্য হয়েছিল, আমাদের সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান করা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আর এই বছর ভ্রমণ করার সময় যেখানেই উপযুক্ত, সেখানে সাক্ষ্য দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কিন্তু, আমরা যেভাবে অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি সেটাকে উপযুক্তভাবেই রীতিবহির্ভূত বলা যাবে—অর্থাৎ হাসিখুশি মুখে, বন্ধুত্বপূর্ণভাবে এবং স্বাভাবিকভাবে। এই পদ্ধতিটি অনেক ভাল ফল উৎপন্ন করতে পারে।
৪ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৈরি হোন: রোমে গৃহবন্দি থাকার সময় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য পৌলকে বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করতে হয়েছিল। তার ভাড়াটে বাসা থেকে, তিনি স্থানীয় যিহুদি নেতাদের তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। (প্রেরিত ২৮:১৭) এমনকি যদিও রোমে একটা খ্রিস্টীয় মণ্ডলী ছিল কিন্তু পৌল জেনেছিলেন যে, সেই শহরে যিহুদি সমাজ খ্রিস্টীয় বিশ্বাস সম্বন্ধে সরাসরি খুব কম তথ্যই পেয়েছিল। (প্রেরিত ২৮:২২; রোমীয় ১:৭) যিশু খ্রিস্ট এবং ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়া’ থেকে তিনি বিরত হননি।
৫ আপনার ভ্রমণের সময় যে-লোকেদের সঙ্গে আপনার সাক্ষাৎ হয়, সেই লোকেদের কথা ভেবে দেখুন, যারা যিহোবার সাক্ষিদের সম্বন্ধে খুব অল্পই জানে। তারা এমনকি হয়তো জানেই না যে, আমরা বিনামূল্যে গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন করিয়ে থাকি। তাই ভ্রমণ করার সময়, যাত্রাপথে কোনো জায়গায় থামার সময়, জ্বালানি নেওয়ার সময়, কেনাকাটা করার সময়, হোটেলে থাকার সময়, রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়া করার সময়, জনসাধারণের পরিবহণে যাতায়াত করার সময় এবং এইরকম আরও অনেক পরিস্থিতিতে আপনার যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তাদেরকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগগুলোর ব্যাপারে সজাগ থাকুন। আগে থেকে পরিকল্পনা করুন যে, আলোচনা শুরু করার জন্য এবং সংক্ষেপে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আপনি কী বলবেন। সম্ভবত সামনের দিনগুলোতে আপনি আপনার পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী এবং অন্যান্য পরিচিতদের কাছে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্য দিয়ে তা অভ্যাস করতে পারেন।
৬ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আপনার সঙ্গে কিছু প্রকাশনা রাখা দরকার। কোন প্রকাশনাগুলো? আপনি হয়তো আপনি কি বাইবেল সম্বন্ধে আরও বেশি জানতে চান? ট্র্যাক্টটি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম পাঁচটি অনুচ্ছেদে দেওয়া বাইবেল পড়ার বিভিন্ন কারণগুলো দেখান। বিনামূল্যে এক গৃহ বাইবেল অধ্যয়নের অনুরোধ করার জন্য পিছনে দেওয়া কুপনটি দেখান। যখন আপনি এমন কাউকে খুঁজে পান যিনি সাড়া দেন, তখন তাকে চান ব্রোশার দিন। অন্য ভাষায় কথা বলে এমন লোকেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে এই আশা রেখে সমস্ত জাতির জন্য সুসমাচার পুস্তিকাটি সঙ্গে নিন। ২ পৃষ্ঠা ব্যাখ্যা করে যে, সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা কীভাবে ব্যবহার করা যায়। গাড়িতে করে যাত্রা করার সময় আপনি হয়তো সঙ্গে করে অন্য কয়েকটা মৌলিক প্রকাশনা নিতে পারেন, সেই ব্যক্তিদের জন্য যারা রাজ্যের বার্তার প্রতি প্রকৃত আগ্রহ দেখায়।
৭ আপনার বেশভূষা ও আচরণের দিকে খেয়াল রাখুন: আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার যে, আমাদের আচরণ ও সেইসঙ্গে আমাদের পোশাকআশাক ও সাজসজ্জা যেন অন্যদের ভুল ধারণা না দেয় বা যিহোবার সংগঠনের ‘বিরুদ্ধে কথা বলিবার’ সুযোগ না দেয়। (প্রেরিত ২৮:২২) এটা শুধুমাত্র অধিবেশন ও সম্মেলনগুলোতে উপস্থিত থাকার সময়ই নয় কিন্তু ভ্রমণ করার ও অধিবেশনের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়েও প্রযোজ্য। ২০০২ সালের ১লা আগস্ট প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১৮ পৃষ্ঠার ১৪ অনুচ্ছেদ সাবধান করে দিয়েছে: “আমাদের বেশভূষা জাঁকাল, উদ্ভট, যৌন কামনা উদ্দীপক, শরীরের বেশির ভাগ অংশ দেখা যায় এমন বা অতিরিক্ত ফ্যাশন-সচেতন হওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া, আমাদের এমনভাবে পোশাক পরা উচিত, যা ‘ঈশ্বর-ভক্তি’ প্রকাশ করে। এই বিষয়টা আমাদের চিন্তার খোরাক জোগায়, তাই নয় কি? এর মানে শুধু এই নয় যে, আমরা যখন খ্রীষ্টীয় সভাগুলোতে [বা সম্মেলনগুলোতে] যোগ দেব, কেবল তখনই সঠিক পোশাক পরব এবং অন্য সময়ে এই ব্যাপারে কোন মাথা ঘামাবো না। আমাদের ব্যক্তিগত বেশভূষার মাধ্যমে সবসময় এক ভক্তিপূর্ণ, সম্মানযোগ্য মনোভাব প্রতিফলিত করা উচিত কারণ আমরা দিনের ২৪ ঘন্টাই খ্রীষ্টান এবং পরিচারক।”—১ তীম. ২:৯, ১০.
৮ আমাদের মার্জিত ও মর্যাদাপূর্ভাবে পোশাকআশাক পরা উচিত। আমাদের বেশভূষা ও আচরণ যদি সবসময় ঈশ্বরের প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে, তা হলে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত বেশভূষা গ্রহণীয় নয় বলে কখনোই রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্য দিতে দ্বিধা বোধ করব না।—১ পিতর ৩:১৫.
৯ রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান ফলপ্রসূ: যে-দুবছর পৌল রোমে গৃহবন্দি ছিলেন, তিনি তার সাক্ষ্যদানের প্রচেষ্টার অনেক উত্তম ফল দেখেছিলেন। লূক জানিয়েছিলেন যে, “কেহ কেহ তাঁহার কথায় প্রত্যয় করিলেন।” (প্রেরিত ২৮:২৪) পৌল নিজে তার ‘সাক্ষ্য দেওয়ার’ কার্যকারিতাকে মূল্যায়ন করেছিলেন, যখন তিনি লিখেছিলেন: “আমার সম্বন্ধে যাহা যাহা ঘটিয়াছে, তদ্দ্বারা বরং সুসমাচারের পথ পরিষ্কার হইয়াছে; বিশেষতঃ সমস্ত স্কন্ধাবারে এবং অন্যান্য সকলের নিকটে আমার বন্ধন খ্রীষ্ট সম্বন্ধীয় বলিয়া প্রকাশ পাইয়াছে; এবং প্রভুতে স্থিত অধিকাংশ ভ্রাতা আমার বন্ধন হেতু দৃঢ়প্রত্যয়ী হইয়া নির্ভয়ে ঈশ্বরের বাক্য কহিতে অধিক সাহসী হইয়াছে।”—ফিলি. ১:১২-১৪.
১০ গত বছর, জেলা সম্মেলনে এক দিন কাটানোর পর, এক দম্পতি একজন হোটেল পরিচারিকার কাছে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্য দিয়ে ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল, যিনি তাদের সম্মেলনের ব্যাজ কার্ড সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারা তাকে সম্মেলন সম্বন্ধে ও সেইসঙ্গে মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বাইবেল যে-আশা দেয়, সেই বিষয়ও জানিয়েছিল। তারা তাকে আপনি কি বাইবেল সম্বন্ধে আরও বেশি জানতে চান? ট্র্যাক্টটি দিয়েছিল এবং বিনামূল্যে গৃহ বাইবেল অধ্যয়নের ব্যবস্থা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করেছিল। সেই ভদ্রমহিলা বলেছিলেন যে, তিনি চান কেউ যেন তার সঙ্গে দেখা করে আর তাই তিনি ট্র্যাক্টের পিছনে তার নাম ও ঠিকানা লিখেছিলেন ও দম্পতিকে তার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছিলেন। ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার’ ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ী হয়ে আপনি এই বছর হয়তো কোন সাফল্য উপভোগ করতে পারেন?
১১ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সুসমাচারকে এগিয়ে নিয়ে যান: কল্পনা করুন পৌল যখন শুনেছিলেন যে, সহ খ্রিস্টানরা তার উদ্যোগী উদাহরণকে অনুকরণ করছে, তখন তিনি কত আনন্দিতই না হয়েছিলেন! আমাদের বাইবেল-ভিত্তিক বিশ্বাস সম্বন্ধে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে সুসমাচারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সকলে যেন আমাদের যথাসাধ্য করি।
[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]
১, ২. সুসমাচার প্রচারের প্রতি পৌলের দৃষ্টিভঙ্গির কোন বিষয়টি আপনাকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে আমরা ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার’ ক্ষেত্রে তাঁর উদাহরণকে অনুকরণ করতে পারি?
৩. রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান কী?
৪. কী পৌলকে তার ভাড়াটে বাসা থেকে সাক্ষ্য দিতে সাহায্য করেছিল?
৫, ৬. রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদানের কোন সুযোগগুলো আমাদের হতে পারে এবং তা যথাসম্ভব কার্যকারীভাবে করার জন্য কোন প্রস্তুতিগুলো আমরা নিতে পারি?
৭, ৮. ভ্রমণ করার এবং অধিবেশনের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়েও আমাদের ব্যক্তিগত বেশভূষা ও আচরণ সম্বন্ধে আমাদের কোন সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
৯. রোমে সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পৌল কোন সাফল্য পেয়েছিলেন?
১০. গত বছর সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে এক দম্পতি কোন সাফল্য অর্জন করেছিল?
১১. ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দেওয়ার’ দ্বারা সুসমাচারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন গুণগুলো আমাদের অর্জন করতে হবে?
[৩ পৃষ্ঠার বাক্স]
বীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের জন্য যে-প্রকাশনাগুলো দরকার
■ আপনি কি বাইবেল সম্বন্ধে আরও বেশি জানতে চান? (ট্র্যাক্ট)
■ ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কী চান? (ব্রোশার)
■ সমস্ত জাতির জন্য সুসমাচার (পুস্তিকা)
■ অন্যান্য মৌলিক প্রকাশনাগুলো
[৪ পৃষ্ঠার বাক্স]
তাদের ভুলে যাবেন না যেন!
কাদের ভুলে যাবেন না? সেই সমস্ত আগ্রহী ব্যক্তিদের, যারা খ্রিস্টের মৃত্যুর স্মরণার্থ সভায় বা বিশেষ বক্তৃতায় উপস্থিত হয়েছিল। আমরা কি তাদের এই বছরের অধিবেশন ও সম্মেলনগুলোতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি? তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো, সদয়ভাবে যদি উৎসাহ দেওয়া হয়, তা হলে যোগ দেবে। যখন তারা এই সমাবেশগুলোতে গঠনমূলক মেলামেশা ও উৎসাহজনক আধ্যাত্মিক কার্যক্রম উপভোগ করে, তখন তারা যিহোবার ও তাঁর সংগঠনের আরও নিকটবর্তী হবে। তাদের আমন্ত্রণ দিয়ে, দেখুন না কী হয়? তাদের বিস্তারিত সমস্ত বিষয় জানান, যার মধ্যে রয়েছে আমাদের অধিবেশন ও সম্মেলনগুলোর তারিখ, কীভাবে সেখানে যাওয়া যায়, অনুষ্ঠানগুলো শুরু ও শেষ হওয়ার সময় এবং কার্যক্রমে কোন কোন বিষয় আলোচনা করা হবে তার কিছু আগে থেকে জানানো, যেগুলো ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-য় এবং ২০০৩ সালের ৮ই জুন সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকার পিছনের পৃষ্ঠায় তুলে ধরা হয়েছে।