আপনি রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করতে পারেন!
১. (ক) রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান কী? (খ) এই সভাতে উপস্থিত কতজন রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে প্রথম সত্যের সংস্পর্শে এসেছে?
১ আপনার মণ্ডলীর মধ্যে কতজন রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে প্রথম সত্যের সংস্পর্শে এসেছিল? আপনি হয়তো উত্তরটা শুনে আশ্চর্য হয়ে যেতে পারেন। রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের অন্তর্ভুক্ত হল, সেই লোকেদের কাছে সুসমাচার সম্বন্ধে জানানো যাদের সঙ্গে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের সময়—যাত্রা করার সময়, আত্মীয়-স্বজন অথবা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় কিংবা কেনাকাটা করার সময় ও সেইসঙ্গে স্কুলে, কর্মক্ষেত্রে এবং এইরকম অন্যান্য সময়ে সাক্ষাৎ হয়। ২০০ জনেরও বেশি বাপ্তাইজিত সাক্ষির একটা দলের মধ্যে ৪০ শতাংশের সঙ্গে রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে প্রথমবার যোগাযোগ করা হয়েছিল! তাই, প্রচারের এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকারী।
২. আমরা শাস্ত্রে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার কোন উদাহরণগুলো পাই?
২ প্রথম শতাব্দীতে সুসমাচার প্রচারকরা প্রায়ই রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করত। উদাহরণস্বরূপ, শমরিয়া দিয়ে যাওয়ার সময়ে যিশু একজন স্ত্রীলোকের কাছে সাক্ষ্যদান করেছিলেন যিনি যাকোবের কুয়ো থেকে জল তুলছিলেন। (যোহন ৪:৬-২৬) ফিলিপ একজন ইথিওপীয় রাজসভার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার দ্বারা কথোপকথন শুরু করেছিলেন: “আপনি যাহা পাঠ করিতেছেন, তাহা কি বুঝিতে পারিতেছেন?” (প্রেরিত ৮:২৬-৩৮) ফিলিপীতে বন্দি থাকার সময়ে প্রেরিত পৌল একজন কারারক্ষকের কাছে সাক্ষ্যদান করেছিলেন। (প্রেরিত ১৬:২৩-৩৪) পরবর্তী সময়ে গৃহবন্দি থাকাকালীন পৌল “যত লোক তাঁহার নিকটে আসিত, সকলকেই গ্রহণ করিয়া . . . ঈশ্বরের রাজ্যের কথা প্রচার করিতেন, এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে উপদেশ দিতেন।” (প্রেরিত ২৮:২৯, ৩০) লজ্জিত বোধ করা সত্ত্বেও আপনিও রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করতে পারেন। কীভাবে?
৩. লজ্জাভাবকে কাটিয়ে উঠতে কী আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে?
৩ শুরু করা: আমাদের মধ্যে অনেকেই অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করাকে কঠিন বলে মনে করে। এমনকী পরিচিতদের কাছেও সত্য সম্বন্ধে বলা হয়তো কিছুটা অস্বস্তিকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু, আমরা যদি যিহোবার মঙ্গলভাব, তিনি তাঁর দাসদের যে-আধ্যাত্মিক সম্পদগুলো দিয়েছেন সেগুলো এবং জগতের লোকেদের করুণ অবস্থা সম্বন্ধে ধ্যান করি তাহলে আমরা কথা বলতে পরিচালিত হব। (যোনা ৪:১১; গীত. ৪০:৫; মথি ১৩:৫২) অধিকন্তু, আমাদেরকে “সাহসী” হতে সাহায্য করার জন্য আমরা যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারি। (১ থিষল. ২:২) একজন গিলিয়েড ছাত্র বলেছিলেন: “আমি প্রায়ই দেখেছি যে, লোকেদের সঙ্গে কথা বলাকে আমি যখন কঠিন বলে মনে করি তখন প্রার্থনা আমাকে সাহায্য করে।” আপনি যদি কথা বলতে ইতস্তত বোধ করেন, তাহলে এক সংক্ষিপ্ত, নিঃশব্দ প্রার্থনা করুন।—নহি. ২:৪.
৪. প্রাথমিকভাবে আমরা নিজেদের জন্য কোন লক্ষ্য রাখতে পারি এবং কেন?
৪ নাম থেকেই যেমন বোঝা যায় যে, রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য আমাদের রীতিগত ভূমিকা অথবা কোনো শাস্ত্রপদ দিয়ে কথোপকথন শুরু করার প্রয়োজন নেই। আমরা হয়তো, এখনই সাক্ষ্যদান করতে হবে এমন মনোভাব না নিয়ে শুধুমাত্র কথোপকথন শুরু করার লক্ষ্য রাখাকে সাহায্যকারী বলে মনে করতে পারি। অনেক প্রকাশক রিপোর্ট করেছে যে, তা করা পরিশেষে সুসমাচার সম্বন্ধে বলার জন্য তাদের যে-সাহস প্রয়োজন তা দিয়ে থাকে। ব্যক্তিটি যদি কথোপকথন করতে না চান, তাহলে জোর করার কোনো প্রয়োজন নেই। নম্রভাবে কথোপকথন শেষ করুন এবং সেখান থেকে চলে যান।
৫. কী একজন লাজুক বোনকে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করতে সাহায্য করে?
৫ বাজারে কেনাকাটা করার সময় একজন লাজুক বোন প্রথমে ব্যক্তির দিকে তাকান এবং এক বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি হাসেন। সেই ব্যক্তিও যদি হাসেন, তাহলে সেই বোন একটা সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। সেই ব্যক্তি যদি উত্তমভাবে সাড়া দেন তাহলে তা বোনকে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সুসমাচারের কোন দিকটা ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করবে তা বোঝার চেষ্টা করেন। এই উপস্থাপনা ব্যবহার করে, তিনি অনেক সাহিত্য অর্পণ করেছেন ও এমনকী একটা বাইবেল অধ্যয়নও শুরু করেছেন।
৬. কীভাবে আমরা এক রীতিবহির্ভূত সেটিংয়ে কথোপকথন শুরু করতে পারি?
৬ কথোপকথন শুরু করা: কথোপকথন শুরু করার জন্য আমরা কী বলতে পারি? যিশু যখন কুয়োর পাশে মহিলাটির সঙ্গে কথোপকথন করেছিলেন তখন তিনি শুধু এই অনুরোধ করার দ্বারা শুরু করেছিলেন যে, তিনি যেন তাকে জল খেতে দেন। (যোহন ৪:৭) তাই, আমরা হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্ভাষণ জানিয়ে বা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে কথোপকথন শুরু করতে পারি। আমাদের এমন মনে করার প্রয়োজন নেই যে, আমাদেরকে শীঘ্র কথোপকথনকে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ের দিকে পরিচালিত করতে হবে অথবা সঙ্গেসঙ্গে বাইবেলের বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে। বিশেষকরে লোকেরা যখন ভেদাভেদমূলক মনোভাব পোষণ করে তখন আমাদের লক্ষ্য হল এক বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া। কথা বলার সময় আপনি হয়তো কোনো শাস্ত্রীয় বিষয় বলার আর সম্ভবত সত্যের এক বীজ বপন করার সুযোগ পেতে পারেন। (উপ. ১১:৬) কেউ কেউ কৌতূহল জাগাতে পারে এবং প্রশ্ন করতে পরিচালিত করে এমন আগ্রহজনক কোনো উক্তি করার দ্বারা সফলতা পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করার সময়, আপনি হয়তো এটা বলে কথোপকথন শুরু করতে পারেন, “আমি যখন আর কখনো অসুস্থ হব না তখন খুব খুশি হব।”
৭. পর্যবেক্ষক হওয়া কীভাবে আমাদেরকে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করতে সাহায্য করে?
৭ পর্যবেক্ষক হওয়াও আমাদেরকে কথোপকথন শুরু করার জন্য সাহায্য করতে পারে। ভদ্র ছেলেমেয়ে রয়েছে এমন বাবা-মাকে লক্ষ করলে, আমরা হয়তো বাবা-মাকে প্রশংসা করে তাদের জিজ্ঞেস করতে পারি, “এক সফল বাবা-মা হতে কী আপনাদের সাহায্য করেছে?” কর্মক্ষেত্রে অন্যেরা আলোচনা করে এমন বিষয়গুলো একজন বোন লক্ষ করেন আর এরপর তার সহকর্মীরা আগ্রহী রয়েছে এমন বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেন। তিনি যখন জানতে পেরেছিলেন যে, তার কর্মক্ষেত্রের একজন মহিলা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন তখন তিনি তাকে একটি সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকা দিয়েছিলেন যেটি এই বিষয়ে আলোচনা করেছিল যে, কীভাবে বিয়ের ব্যবস্থাদির পরিকল্পনা করা যায়। এটা আরও বাইবেল আলোচনা করার দিকে পরিচালিত করেছিল।
৮. কীভাবে আমরা কথোপকথন শুরু করার জন্য আমাদের সাহিত্যাদি ব্যবহার করতে পারি?
৮ কথোপকথন শুরু করার আরেকটা উপায় হল এমন জায়গাগুলোতে আমাদের সাহিত্যাদি পড়া যেখানে অন্যেরা আমাদের দেখতে পায়। একজন ভাই প্রহরীদুর্গ বা সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকার সেই প্রবন্ধটি খোলেন যেটির আগ্রহজনক শিরোনাম রয়েছে এবং চুপচাপ সেটি পড়তে শুরু করেন। যদি তিনি লক্ষ করেন যে, কাছাকাছি কেউ তার পত্রিকার দিকে তাকাচ্ছেন, তাহলে তিনি একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন বা প্রবন্ধটি সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত কোনো মন্তব্য করেন। এটা প্রায়ই কথোপকথন এবং সাক্ষ্যদান করার দিকে পরিচালিত করে। চোখে পড়তে পারে এমন স্থানগুলোতে আমাদের প্রকাশনাগুলোর একটা শুধুমাত্র ছেড়ে আসাই হয়তো সহকর্মী বা সহপাঠীদের কৌতূহল জাগাতে এবং সেটি সম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পরিচালিত করতে পারে।
৯, ১০. (ক) কীভাবে আমরা রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার সুযোগগুলো তৈরি করতে পারি? (খ) কীভাবে আপনি তা করতে সক্ষম হয়েছেন?
৯ বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করা: প্রচার কাজের গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে, রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করাকে আমাদের কেবল সুযোগ পেলে তবে করব এইরকম চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এর পরিবর্তে, আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সময় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সুযোগগুলো তৈরি করতে আমাদের প্রচেষ্টা করা উচিত। আপনি সম্ভবত যাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তাদের বিষয়ে আগে থেকে চিন্তা করুন এবং বিবেচনা করুন যে, কীভাবে আপনি হয়তো একটা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন শুরু করতে পারেন। আপনার হাতের কাছে একটি বাইবেল ও যারা আগ্রহ দেখিয়ে থাকে তাদেরকে দেওয়ার জন্য কিছু সাহিত্য রাখুন। (১ পিতর ৩:১৫) অনেকে বিভিন্ন ট্র্যাক্ট সঙ্গে রাখাকে ব্যবহারিক বলে মনে করে।—km ৬/০৭ পৃষ্ঠা ৭.
১০ সৃজনশীল হওয়ার দ্বারা, অনেক প্রকাশক রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করার উপায়গুলো খুঁজে পেয়েছে। একজন বোন যিনি কড়া নিরাপত্তা থাকা অ্যাপার্টমেন্টে বাস করেন, তিনি সেখানকার বিনোদনের স্থানে প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যগুলোর জিগসো পাজেলকে সাজানোর জন্য ব্যবহার করেন। লোকেরা যখন সেখানে থেমে সেই দৃশ্যের সৌন্দর্য সম্বন্ধে মন্তব্য করে তখন তিনি কথোপকথন শুরু করতে এবং “এক নূতন আকাশ ও এক নূতন পৃথিবী” সম্বন্ধে বাইবেলের প্রতিজ্ঞার বিষয়ে তাদেরকে বলতে সেই সুযোগটা ব্যবহার করেন। (প্রকা. ২১:১-৪) আপনি কি সেই উপায়গুলো সম্বন্ধে চিন্তা করতে পারেন যেগুলোতে আপনি রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার সুযোগ তৈরি করতে পারেন?
১১. রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার সময় আগ্রহী ব্যক্তিদের পাওয়া গেলে কীভাবে আমরা তাদের কাছে পুনর্সাক্ষাৎ করতে পারি?
১১ আগ্রহী ব্যক্তির কাছে পুনর্সাক্ষাৎ করা: কেউ যদি আপনার কথা শোনে তাহলে সেই ব্যক্তির কাছে পুনর্সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করুন। যদি উপযুক্ত হয়, তাহলে আপনি হয়তো সেই ব্যক্তিকে বলতে পারেন: “আমি আপনার সঙ্গে কথা বলা খুবই উপভোগ করেছি। আমরা যাতে আবারও কথা বলতে পারি সেইজন্য আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমি কোথায় আসতে পারি?” কোনো কোনো এলাকায় প্রকৃত আগ্রহ রয়েছে কি না তা নির্ধারণ করার সময় আপনাকে খুবই সাবধান হতে হবে। কিছু প্রকাশক বিরোধীদের ফাঁদে পড়েছে যারা আগ্রহী হওয়ার ভান করেছিল। আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে সেই ব্যক্তির সঙ্গে পুনর্সাক্ষাৎ করতে না পারেন, তাহলে সঙ্গেসঙ্গে একটা দয়া করে পুনর্সাক্ষাৎ করুন (S-43) ফর্ম আপনার মণ্ডলীর সচিবের কাছে তাড়াতাড়ি জমা দেওয়ার দ্বারা উপযুক্ত মণ্ডলী যাতে তা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন।
১২. (ক) রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার জন্য আমরা যে-সময় ব্যয় করি, কেন সেটার রেকর্ড রাখা এবং রিপোর্ট করা উচিত? (খ) রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার দ্বারা কোন ফল লাভ করা গিয়েছে? (“রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান ফল নিয়ে আসে!” নামক বাক্সটা দেখুন।)
১২ রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার জন্য আমরা যে-সময় ব্যয় করি তা রিপোর্ট করা উচিত। তাই, এটার এক রেকর্ড রাখার বিষয়ে খেয়াল রাখুন, এমনকী তা যদি দিনে মাত্র কয়েক মিনিটও হয়ে থাকে। এটা বিবেচনা করুন: প্রত্যেক প্রকাশক যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করে থাকেন, তাহলে প্রতি মাসে তা মোট ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি ঘন্টা হবে!
১৩ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করতে কী আমাদের পরিচালিত করা উচিত?
১৩ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য আমাদের সর্বমহান কারণ রয়েছে—ঈশ্বর ও প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম। (মথি ২২:৩৭-৩৯) যিহোবার গুণাবলি এবং উদ্দেশ্যের প্রতি উপলব্ধিপূর্ণ হৃদয় আমাদেরকে “তাঁহার রাজ্যের প্রতাপের গৌরব” সম্বন্ধে কথা বলতে অনুপ্রাণিত করে। (গীত. ১৪৫:৭, ১০-১২) আমাদের প্রতিবেশীদের জন্য অকৃত্রিম চিন্তা আমাদেরকে, যতক্ষণ সময় রয়েছে ততক্ষণ সুসমাচার জানানোর প্রতিটা উপযুক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পরিচালিত করে। (রোমীয় ১০:১৩, ১৪) একটু সাবধানতা, পূর্বপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিলে আমরা সবাই রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান এবং সম্ভবত সৎহৃদয়ের কারো কাছে সত্য জানানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারি।
[৪ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]
লোকেদের সঙ্গে শুধু সাক্ষাৎ করার এবং কথাবার্তা শুরু করার লক্ষ রাখাই হয়তো সাহায্যকারী বলে আপনার মনে হতে পারে
[৫ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]
সৃজনশীল হওয়ার দ্বারা, অনেক প্রকাশক রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করার উপায়গুলো খুঁজে পেয়েছে
[৫ পৃষ্ঠার বাক্স]
কথোপকথন শুরু করার বিভিন্ন পরামর্শ
◼ শুরু করার জন্য সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করুন
◼ তাদেরকে বেছে নিন যারা বন্ধুত্বপরায়ণ ও যারা ব্যস্ত নয় বলে মনে হয়
◼ ব্যক্তির দিকে তাকান, হাসুন ও একই বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে এমন বিষয়ের ওপর মন্তব্য করুন
◼ একজন উত্তম শ্রোতা হোন
[৬ পৃষ্ঠার বাক্স]
রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান ফল নিয়ে আসে!
• একটা গ্যারেজে তার গাড়ি সারানোর জন্য অপেক্ষা করার সময় একজন ভাই তার আশেপাশের লোকেদের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং জনসাধারণের বক্তৃতার আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদেরকে ইস্তাহার দিয়েছিলেন। এক বছর পরে একটা সম্মেলনে একজন ভাই, যাকে তিনি চিনতে পারেননি, তাকে উষ্ণভাবে সম্ভাষণ জানিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যাদেরকে তিনি এক বছর আগে গ্যারেজে ইস্তাহারগুলো দিয়েছিলেন! সেই ব্যক্তি জনসাধারণের বক্তৃতা শোনার জন্য গিয়েছিলেন এবং একটা বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই বাপ্তাইজিত হয়েছেন।
• একজন বোন যিনি রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে সত্য শিখেছিলেন তিনি, তার তিনজন ছেলেমেয়ের কারণে যে-লোকেদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় তাদেরকে তার এলাকা হিসেবে বিবেচনা করেন। তার এলাকার অন্তর্ভুক্ত হল প্রতিবেশীরা, সেই বাবা-মায়েরা যাদের সঙ্গে স্কুলে ও বাবা-মাদের জন্য সভাগুলোতে তার সাক্ষাৎ হয়। প্রত্যেকবার নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় তিনি এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু হৃদয়গ্রাহী মন্তব্য করেন যে, তার সন্তানদের বড়ো করে তোলায় বাইবেল হল এক মূল্যবান সহায়ক এবং তারপর তিনি অন্য কোনো বিষয়ে চলে যান। কিন্তু যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই এক আলোচনা শুরু করে ফেলেছেন তাই পরবর্তী আলোচনাগুলোতে বাইবেল নিয়ে কথা বলাকে তিনি সহজ বলে মনে করেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ১২ জনকে বাপ্তিস্ম নিতে সাহায্য করেছেন।
• একজন বোনের সঙ্গে যখন একজন বীমা কর্মী সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তখন তিনি তার কাছে সাক্ষ্যদান করার সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। বোন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি উত্তম স্বাস্থ্য, সুখ এবং অনন্ত জীবনের নিশ্চয়তা পেতে চান কি না। তিনি হ্যাঁ বলেছিলেন, এবং বোনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি কোন বীমা প্রকল্পের কথা বলছেন। বোন তাকে বাইবেলের প্রতিজ্ঞাগুলো দেখিয়েছিলেন এবং আমাদের প্রকাশনাগুলোর একটা অর্পণ করেছিলেন যেটা সেই ব্যক্তি এক সন্ধ্যায় পড়েছিলেন। একটা বাইবেল অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি সভাগুলোতে যোগ দিতে শুরু করেন এবং পরে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন।
• ভ্রমণ করার সময় একজন বোন তার পাশে বসে থাকা ভদ্র মহিলার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছিলেন এবং তাকে সাক্ষ্য দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। যাত্রা শেষ হওয়ার সময় সেই বোন মহিলাটিকে তার ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়েছিলেন এবং পরের বার যিহোবার সাক্ষিরা যখন সাক্ষাৎ করতে আসে তখন একটা বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করতে সেই মহিলাকে উৎসাহিত করেছিলেন। ঠিক পরের দিনই সেই মহিলার কাছে দুজন সাক্ষি এসেছিল। মহিলাটি বাইবেল অধ্যয়ন করা শুরু করেছিলেন, দ্রুত অগ্রগতি করেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং শীঘ্র তিনি নিজেই তিনটে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করতে শুরু করেছিলেন।
• একশো বছর বয়সি একজন অন্ধ ভাই যিনি নার্সিং হোমে থাকেন তিনি প্রায়ই বলেন, “আমাদের রাজ্যের প্রয়োজন।” এটা নার্স ও রোগীদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পরিচালিত করে এবং তাকে রাজ্য কী তা ব্যাখ্যা করতে সমর্থ করে। একজন ভদ্র মহিলা যিনি সেখানে কাজ করেন, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি পরমদেশে কী করবেন। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি আবারও দেখব ও হাঁটব আর আমার হুইল চেয়ারটাকে পুড়িয়ে ফেলব।” যেহেতু ভাই অন্ধ ছিলেন তাই তিনি সেই মহিলাকে পত্রিকাগুলো পড়ে শোনাতে বলেন। যখন সেই ভাইয়ের মেয়ে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল তখন সেই কর্মচারী সেই পত্রিকাগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য মেয়েটির কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। একজন নার্স মেয়েটিকে বলেছিলেন, “আমাদের নার্সিংহোমের নতুন মূলভাবটি হল: ‘আমাদের রাজ্যের প্রয়োজন।’”
• একটা রেস্টুরেন্টে একজন বোন লাইনে অপেক্ষা করার সময় কাছাকাছি বসে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের একটা দলকে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছিলেন। একজন ব্যক্তি বলছিলেন যে, সরকার আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে না। সেই বোন নিজেকে বলেছিলেন, ‘এটাই আমার সুযোগ।’ তিনি একটা সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা করে তাদের কাছে গিয়েছিলেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি তাদেরকে এমন এক সরকার, ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে বলেছিলেন যা মানবজাতির সমস্যাগুলোর সমাধান করবে এবং তাদেরকে একটা ব্রোশার দিয়েছিলেন যেটা তার কাছে ছিল। ঠিক সেই সময়ই ম্যানেজার আসেন। বোন ভেবেছিলেন যে, তিনি তাকে চলে যেতে বলবেন। এর পরিবর্তে ম্যানেজার বলেছিলেন যে, তিনি তার কথা শুনছিলেন এবং তিনিও একটা ব্রোশার চান। একজন কর্মচারী যিনিও শুনছিলেন তিনি কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে আসেন। তিনি ছিলেন একজন প্রাক্তন বাইবেল ছাত্র যিনি আবারও অধ্যয়ন শুরু করতে চেয়েছিলেন।