আপনার জন্য কি এখনই অগ্রগামী কাজের দরজা খোলা রয়েছে?
১ ১৯৯৯ সালের বাৎসরিক শাস্ত্রপদ আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এখনও যিহোবার ‘পরিত্রাণের দিবসে’ বাস করছি। (২ করি. ৬:২) কিন্তু তাঁর এই পরিত্রাণের দিন খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যাবে। তারপর তাঁর ‘বিচারের দিন’ শুরু হবে। (২ পিতর ২:৯) যিহোবা যখন মানবজাতিকে পরিত্রাণের সুযোগ দিয়ে চলেছেন, তখন আরও বেশি বেশি লোকেদের সাড়া দিতে দেখা কতই না রোমাঞ্চকর ব্যাপার!
২ খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই এই আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর কঠিন কাজকে যিহোবার লোকেরা গ্রহণ করেছেন। অনেক রাজ্য প্রকাশকদের কাছে এই কঠিন কাজকে গ্রহণ করার মানে অগ্রগামীর কাজ শুরু করা। আপনার জন্য কি এখনই অগ্রগামী কাজের দরজা খোলা রয়েছে? কেন আমরা আপনাকে এই প্রশ্ন করছি?
৩ উপলব্ধি দেখানো হয়েছে: ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসের আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-য় যেমন ঘোষণা করা হয়েছিল, সেইমত নিয়মিত ও সহায়ক অগ্রগামীদের জন্য ঘন্টার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন চাহিদা মেটাতে নিয়মিত অগ্রগামীদের এখন প্রত্যেক মাসে প্রচারে ৭০ ঘন্টা করে কাজ করতে হবে অর্থাৎ পুরো পরিচর্যা বছরে মোট ৮৪০ ঘন্টা প্রচার করতে হবে। সহায়ক অগ্রগামীরা প্রতি মাসে ৫০ ঘন্টা করে প্রচার করবেন। এখানে কিছু মন্তব্য দেওয়া হল, যা এই পরিবর্তনের প্রতি উপলব্ধি দেখিয়ে অনেকে বলেছেন:
“আমাদের স্বর্গীয় পিতার কাছ থেকে কত বড় এক উপহার!’
“এই ব্যবস্থার জন্য আনন্দ, প্রেম ও কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না!’
“এর ফলে আমরা খুব সহজেই ঘন্টা পূরণ করতে পারব!’
“আমরা প্রার্থনা করি যেন আরও অনেকেই এখন পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যাকে গ্রহণ করেন এবং আরও বেশি করে যিহোবাকে সেবা করার আশীর্বাদগুলো উপভোগ করেন।’
৪ যতই আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণের দিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছি, এটা স্পষ্ট যে যিহোবা চান তাঁর লোকেরা যেন শেষবারের মতো ও উচ্চরবে তাঁর প্রশংসা করেন। (১) রাজ্য ঘোষকদের সংখ্যায় অবিরত বৃদ্ধি এবং (২) রাজ্য প্রচারে যতটুকু বেশি করতে পারেন তা করার জন্য প্রত্যেকের চেষ্টা এই বার্তাকে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে ও আরও জোরের সঙ্গে তা ঘোষণা করছে। “বৃদ্ধিদাতা” যিহোবা, পরিত্রাণ গ্রহণ করেছেন এমন সমস্ত ইচ্ছুক লোকেদের আশীর্বাদ করে এই দুটো বিষয়ে সফলতা এনে দিয়েছেন।—১ করি. ৩:৬, ৭; গীত. ১১০:৩.
৫ এটাকে বৃথা গ্রহণ করবেন না: পৌল যখন তার খ্রীষ্টান ভাইবোনদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “আর তাঁহার [যিহোবার] সঙ্গে কার্য্য করিতে করিতে আমরা নিবেদনও করিতেছি, তোমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ বৃথা গ্রহণ করিও না,” তখন তিনি যিহোবার পরিত্রাণের দিন সম্পর্কে কথা বলছিলেন। আমরা এটাকে ‘বৃথা গ্রহণ করি না’ যদি কি না আমরা প্রতিটা সুযোগে অন্যদের পরিত্রাণের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে এটাকে “সুপ্রসন্নতার সময়” হিসেবে দেখি। (২ করি. ৬:১, ২) আজকে, পৌলের এই কথাগুলোর আরও বেশি গুরুত্ব আছে। খ্রীষ্টানেরা যারা যিহোবাকে অন্তর থেকে ভালবাসেন তারা এটাকে তাদের জন্য এক মহান সুযোগ বলে মনে করেন আর তাই তারা যতখানি পারেন প্রচার করার চেষ্টা করেন যা করার দায়িত্ব যিহোবা তাদের দিয়েছেন। একজন নিয়মিত অগ্রগামী হিসেবে আপনি কি এখন আরও বেশি করে প্রচার করার কথা চিন্তা করতে পারেন?
৬ এটা অসম্ভব কিছু নয়: ভারতে আমাদের লক্ষ্য হল যে আমরা ১লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০০০ জনকে নিয়মিত অগ্রগামী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে দেখতে চাই। আমরা মনে করি যে এটা অসম্ভব বা অবাস্তব কিছু নয়। কেন আমরা এতখানি নিশ্চিত? কারণ আমরা দেখেছিলাম যে ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে ১,৭১৫ জন আর ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ২,১৭০ জন ভাইবোনেরা সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করেছিলেন। বেশিরভাগই ৬০ ঘন্টা রিপোর্ট দিয়েছিলেন—যা নিয়মিত অগ্রগামীদের কাছ থেকে চাওয়া ঘন্টার থেকে মাত্র ১০ ঘন্টা কম! যদিও এই সহায়ক অগ্রগামীদের মধ্যে মাত্র ২০০ জন এই পরিচর্যা বছর শেষ হওয়ার আগে নিয়মিত অগ্রগামী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন, আমরা ১০০০ জন অথবা তারও বেশি পূর্ণ-সময়ের অগ্রগামীদের নিয়ে সেপ্টেম্বর মাস শুরু করার আশা রাখতে পারি!
৭ শুধু একটা তালিকা দরকার: মাসে ৭০ ঘন্টা প্রচার করা কি আপনার পক্ষে এখনও একটু বেশি বলে মনে হয়? কিন্তু সপ্তাহে ১৭ ঘন্টা করে করার কথাটা ভেবে দেখলে তা হয়তো আপনাকে সাহায্য করবে। পরের পৃষ্ঠায় দেওয়া তালিকার নমুনাটা নিয়ে চিন্তা করে আপনার নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের জন্য নিয়মিত অগ্রগামী কাজের একটা তালিকা বানিয়ে নিন। আর তালিকা অনুযায়ী চলার জন্য অভিজ্ঞ অগ্রগামীদের সঙ্গে কথা বলুন, যাতে করে আপনি জানবেন যে কী করে তারা তাদের নিজস্ব এবং পরিবারের দায়-দায়িত্ব সামলে অগ্রগামীর কাজ করে চলেছেন। আপনার সীমা অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিন যে সীমার অন্য অগ্রগামীরা কী করে প্রত্যেক সপ্তাহে তাদের প্রচার কাজের তালিকা বানান। আর তারপর যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি অগ্রগামীর কাজ করার জন্য আপনার ইচ্ছা ও পরিকল্পনাকে আশীর্বাদ করেন।—হিতো. ১৬:৩.
৮ পরিবারের অন্যদের সাহায্য নিন: আপনি কি অগ্রগামীর কাজে কখনও পরিবারের অন্যদের সাহায্য নেওয়ার কথা ভেবেছেন? পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে আপনি হয়তো আলোচনা করতে পারেন যে কীভাবে খুব ভাল পরিকল্পনা ও একে অন্যকে সাহায্য করা পরিবারের এক কিংবা দুজনকে অগ্রগামীর কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। অবশ্য এটা ঠিক যে, কিছুজনের পরিস্থিতি হয়তো সত্যিই তাদের এখনই নিয়মিত অগ্রগামীর কাজ শুরু করার জন্য সুযোগ করে দেয় না। যদি তাই হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অগ্রগামীর কাজ করার কথাটা মাথায় রাখুন। কিন্তু নির্দিষ্ট একটা দিন স্থির করে তখনই অগ্রগামীর কাজ শুরু করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে আরম্ভ করুন। আপনি হয়তো বছরের মধ্যে বেশ কয়েকবার সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করতে পারেন, যাতে করে পরে নিয়মিত অগ্রগামীর কাজ শুরু করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়।
৯ এখনই ভারতে ৮০০ জনেরও বেশি ভাইবোন নিয়মিত অগ্রগামীর কাজ করছেন যাদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা। এদের মধ্যে ১০০ জন হলেন অবিবাহিত এবং প্রায় ২০০ জনের বয়স ৫০ বছরের উপরে। আর প্রায় ৫০০ জনের বয়স ২০-৫০ বছরের মধ্যে, যাদের অনেককেই পরিবার ও মণ্ডলীর নানা দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরা সকলেই অগ্রগামী কাজের জন্য ‘সুযোগ কিনে নিচ্ছেন’ অনেক সময়ই যার মানে দাঁড়িয়েছে খুব সাদাসিধে জীবনেই সন্তুষ্ট থাকা।—কল. ৪:৫.
১০ আপনার জীবনকে কি আরেকটু সাধারণ করা দরকার? জীবনকে সহজ সরল করে তোলা হয়তো আপনার জন্য অগ্রগামী কাজের দরজা খুলে দিতে পারে। আপনার জীবন কি অনেক অপ্রয়োজনীয় কামরা ও আসবাবপত্রে ভরা একটা বিরাট বাড়ির মতো যেগুলোর দেখাশোনা করতে আপনার অনেক সময় ও পয়সা চলে যায় আর আপনাকে অনেক খাটাখাটনি করতে হয়? যদি তাই হয়, তাহলে পরিস্থিতিকে একটু সংশোধন করে নেওয়া হয়তো আপনাকে অগ্রগামীর কাজ করার সুযোগ করে দিতে পারে। চাকরির পিছনে যতটা সময় আপনি দেন তা কি আপনি একটু কমাতে পারেন? অপ্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে থেকে কি আপনি সময় কিনে নিতে পারেন অথবা বিনোদনের জন্য যে সময় আপনি ব্যয় করে থাকেন সেখানে কি কিছু রদবদল করা যেতে পারে?
১১ ১ তীমথিয় ৬:৮ পদে বাইবেল আমাদের পরামর্শ দেয়: “গ্রাসাচ্ছাদন পাইলে আমরা তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিব।” যিহোবার সেবায় আমাদের সবচেয়ে ভালটুকু দিতে গেলে অল্পতেই খুশি থাকা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর তা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক বিষয়কে প্রথমে রাখা আরও সহজ করে দেয়। (মথি ৬:২২, ৩৩) ১৯৯৮ সালের বর্ষপুস্তক (ইংরেজি) এর ১০৪ পৃষ্ঠায় জাপানের কথা বলা হয়েছে আর সেখানে অনেক বিষয় বলা হয়েছে যে কেন এই দেশের সাক্ষিদের এত সুন্দর অগ্রগামী মনোভাব রয়েছে। যেমন একটা বিষয়ের কথা দেখুন: “একথা সবসময় সত্যি যে জাপানী ঘরগুলো বেশ ছোট ও বাহুল্যবর্জিত, তাই দেখাশোনা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পিছনে বেশি সময় দেওয়ার দরকার হয় না। আর অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনযাপনের মান খুবই সাধারণ।” ১ তীমথিয় ৬:৮ পদ কি আমাদের সেটাই বলতে চায় না?
১২ পৃথিবী জুড়ে, ঈশ্বরের দাসেরা যিহোবার পরিত্রাণের দিন শেষ হয়ে যাওয়ার আগে আরও বেশি করে সুসমাচার প্রচার করে চলেছেন। প্রশংসা করার মতো বিষয় যে, গত বছরে গড়ে প্রায় ৭,০০,০০০ জন প্রত্যেক মাসে কোন না কোন ধরনের অগ্রগামীর কাজ করেছিলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে আপনি কি আপনার জীবনে কোনরকম রদবদল আনতে রাজি আছেন? আমরা আপনাকে খুব মন দিয়ে ও প্রার্থনা করে আপনার পরিস্থিতি নিয়ে ভেবে দেখার পর এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি: “আপনার জন্য কি এখনই অগ্রগামী কাজের দরজা খোলা রয়েছে?”
[৩ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]
লক্ষ্য: ১০০০ জন নিয়মিত অগ্রগামী!
[৪ পৃষ্ঠার বাক্স]
নিয়মিত অগ্রগামী কাজের তালিকার নমুনা
প্রয়োজন: সপ্তাহে ১৭ ঘন্টা
সপ্তাহের কোন একটা দিন এবং শনি-রবিবার
দিন ঘন্টা
শুক্রবার ৮
শনিবার ৬
রবিবার ৩
মোট ঘন্টা: ১৭
সপ্তাহের দুদিন এবং শনিবার
দিন ঘন্টা
মঙ্গলবার ৭
বৃহস্পতিবার ৭
শনিবার ৩
মোট ঘন্টা: ১৭
সপ্তাহের তিন দিন এবং রবিবার
দিন ঘন্টা
সোমবার ৫
বুধবার ৫
শুক্রবার ৫
রবিবার ২
মোট ঘন্টা: ১৭
দুটো সন্ধ্যা এবং শনি-রবিবার
দিন ঘন্টা
সোমবার ৩
বুধবার ৩
শনিবার ৮
রবিবার ৩
মোট ঘন্টা: ১৭
আপনার নিজের জন্য নিয়মিত অগ্রগামী কাজের তালিকা তৈরি করুন
দিন ঘন্টা
সোমবার
মঙ্গলবার
বুধবার
বৃহস্পতিবার
শুক্রবার
শনিবার
রবিবার
মোট ঘন্টা: ১৭