“সমুদ্রসঙ্কটে”
রাতের অন্ধকারে ২৭৬ জন যাত্রী নিয়ে একটা জাহাজ ভূমধ্যসাগরের এক দ্বীপের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। ১৪ দিন ধরে ঝড়ের মধ্যে দিয়ে এদিকে ওদিকে ঘুরতে ঘুরতে জাহাজের নাবিক ও যাত্রীরা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সকাল হতেই তারা একটা খাঁড়ি দেখতে পান আর সেটার তীরেই জাহাজটাকে ভিড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জাহাজের সামনের দিক এমনভাবে আটকে যায় যে জাহাজ আর এগোতে পারে না আর এই কারণে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ে পড়ে জাহাজের পেছনের দিকটা ভেঙে যায়। জাহাজের সব যাত্রী জাহাজ থেকে জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে অথবা কাঠের তক্তা বা অন্য কিছু আঁকড়ে ধরে কোনরকমে মিলিতা দ্বীপে গিয়ে পৌঁছায়। তারা ঠাণ্ডায় কাঁপছিল আর একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল আর কোনমতে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছিল। এই যাত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন খ্রীষ্টান প্রেরিত পৌল। বিচারের জন্য তাকে রোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।—প্রেরিত ২৭:২৭-৪৪.
মিলিতা দ্বীপে জাহাজডুবির এই ঘটনা পৌলের জন্য নতুন কিছু ছিল না কারণ এর আগেও তিনি সমুদ্রে এইরকম সংকটের মুখে পড়েছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি লিখেছিলেন: “তিন বার নৌকাভঙ্গ সহ্য করিয়াছি, অগাধ জলে এক দিবারাত্র যাপন করিয়াছি।” তিনি এও বলেছিলেন যে তিনি ‘সমুদ্রসঙ্কটও’ ভোগ করেছিলেন। (২ করিন্থীয় ১১:২৫-২৭) সমুদ্রে যাত্রা করেই পৌল “পরজাতীয়দের জন্য প্রেরিত” হিসেবে ঈশ্বর তাকে যে কাজ দিয়েছিলেন তা পালন করতে পেরেছিলেন।—রোমীয় ১১:১৩.
প্রথম শতাব্দীতে কত দূর পর্যন্ত সমুদ্র যাত্রা করা যেত? খ্রীষ্টধর্ম ছড়িয়ে দেওয়ায় সমুদ্র যাত্রার কতখানি ভূমিকা ছিল? এভাবে যাত্রা করা কতটা নিরাপদ ছিল? কোন্ ধরনের জাহাজে করে যাওয়া হতো? আর কীভাবে যাত্রীদের জাহাজে নেওয়া হতো?
রোমের বাণিজ্যে সমুদ্র যাত্রার ভূমিকা
রোমীয়রা ভূমধ্যসাগরকে মেয়ার নোসট্রাম বলত, যার মানে হল আমাদের সাগর। শুধু সামরিক কারণেই নয় কিন্তু আরও অন্য কারণেও সমুদ্রপথগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা রোমীয় সরকারের কাছে খুবই জরুরি ছিল। রোমীয় সাম্রাজ্যের অনেক শহরই হয় বন্দর ছিল কিংবা এই বন্দরগুলো থেকে সুবিধা পেত। যেমন, রোমের সমুদ্রবন্দর ছিল কাছেই অস্টিয়াতে, আবার করিন্থ শহর সমুদ্রবন্দর হিসাবে লুকিয়া ও কিংক্রিয়াকে ব্যবহার করত এবং সিরিয়ার আন্তিয়খিয়া, সিলুকিয়া সমুদ্রবন্দরকে ব্যবহার করত। এই সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ভাল থাকায় প্রধান প্রধান শহরের সঙ্গে তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করা যেত আর এর ফলে রোমীয় প্রদেশের জন্য ঠিকমতো শাসন চালানো সহজ হয়ে উঠেছিল।
রোমে খাদ্য সরবরাহের জন্যও রোমীয়দের জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হতো। রোমের জনসংখ্যা ছিল প্রায় দশ লক্ষ আর তার জন্য প্রচুর খাদ্যশস্যের প্রয়োজন হতো—বছরে ২,৫০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০ টন। এই সমস্ত খাদ্যশস্য কোথা থেকে আসত? হেরোদ আগ্রিপ্পা দ্বিতীয়ের কথা উদ্ধৃত করে ফ্লেভিয়াস যোসেফাস বলেন যে, বছরের আট মাস উত্তর আফ্রিকা থেকে রোমের খাদ্য আসত আর বাকি চার মাস মিশর রোমকে খাদ্যশস্য দিয়ে সাহায্য করত। ওই শহরে খাদ্য পাঠানোর জন্য হাজার হাজার জাহাজ ব্যবহার করা হতো।
রোমের বিলাস সামগ্রীর চাহিদা মেটানোর জন্য সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাণিজ্য সবরকমের মালই সরবরাহ করত। সাইপ্রাস, গ্রিস এবং মিশর থেকে জাহাজে করে খনিজ, শিলা এবং মার্বেল পাথর আসত এবং লেবানন থেকে কাঠের তক্তা সরবরাহ করা হতো। স্মূর্ণা থেকে মদ, দম্মেশক থেকে বাদাম এবং প্যালেস্টাইন থেকে খেঁজুর আনা হতো। কিলিকিয়া থেকে জাহাজ বোঝাই করে মলম ও রবার আসতো, মিলেটাস ও লেবানন থেকে পশুর লোম, সিরিয়া ও লেবানন থেকে কাপড়, সোর ও সীদোন থেকে বেগুনিয়া বস্ত্র আমদানি করা হতো। থুয়াতীরা থেকে রং পাঠানো হতো আর আলেকজান্দ্রিয়া ও সীদোন থেকে কাঁচ পাঠানো হতো। চিন ও ভারতবর্ষ থেকে রেশম, আইভরি এবং মশলা আমদানি করা হতো।
সেই জাহাজের সম্বন্ধে কী বলা যায় যেটাতে করে পৌল যাত্রা করছিলেন আর যেটা মিলিতা দ্বীপে ভেঙে গিয়েছিল? এই জাহাজ খাদ্যশস্য নিয়ে “আলেকসান্দ্রীয়া থেকে ইতালিতে যাচ্ছিল।” (প্রেরিত ২৭:৬, পাদটীকা, NW) গ্রিক, ফৈনিকিয়ার এবং সিরিয়ার লোকেদের নিজেদের জাহাজ ছিল যাতে করে তারা খাদ্যশস্য নিয়ে যেতেন আর তারা নিজেরাই সেগুলোকে কাজে লাগাতেন ও তার যত্ন নিতেন। কিন্তু ওই জাহাজগুলোকে রোমীয় সরকারকে ভাড়া দিতে হতো। ইতিহাসবেত্তা উইয়িলাম এম. রামসে বলেন যে ‘রোমীয় সরকার বুঝেছিল যে কর আদায়ের দায়িত্ব যেমন তারা ঠিকাদারদের দিয়ে দিয়েছিল তেমনই জাহাজ চালানোর কঠিন কাজ নিজেরা করার চেয়ে ঠিকাদারদের হাতে দেওয়া আরও অনেক সহজ।’
পৌল এমন একটা জাহাজে করে রোমে যাত্রা করেছিলেন যেটার সামনে “যমজ-দেব” এর চিহ্ন ছিল। এটাও আলেক্সান্দ্রীয় জাহাজ ছিল। এটা নেপলস্ উপসাগরের পূতিয়লী বন্দরে গিয়ে ভিড়েছিল যেখানে সাধারণত খাদ্যশস্যের জাহাজগুলো গিয়ে ভিড়ত। (প্রেরিত ২৮:১১-১৩) পূতিয়লীতে—যাকে আজ পূজৌলি বলা হয়—জাহাজের মালগুলোকে হয় তীরে নামানো হতো নয়তো বা ছোট ছোট নৌকায় নামিয়ে সেগুলোকে উপকূল থেকে উত্তর দিকে অর্থাৎ টিবার নদী হয়ে রোম শহরে নিয়ে যাওয়া হতো।
মালবাহী জাহাজের যাত্রী?
পৌল ও তার পাহারাদার সেনারা কেন একটা মালবাহী জাহাজে চড়ে যাত্রা করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদের জানা দরকার যে তখনকার দিনে সমুদ্র যাত্রা করার মানে কী ছিল।
সাধারণ কালের প্রথম শতাব্দীতে যাত্রীদের জন্য কোন আলাদা জাহাজ ছিল না। ব্যবসায়ীদের মালবাহী জাহাজেই লোকেরা ভ্রমণ করতেন। এতে প্রায় সবরকম লোকেরাই যাত্রা করতেন—সরকারি অফিসার, বুদ্ধিজীবী, ধর্ম-প্রচারক, জাদুকর, শিল্পী, খেলোয়াড়, বণিক, পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।
অবশ্য তখন ছোট ছোট নৌকাও ছিল যেগুলো যাত্রী ও মাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিত। পৌল ত্রোয়া থেকে ‘মাকিদনিয়াতে আসিবার’ জন্য হয়ত এইরকমই একটা জাহাজে চড়েছিলেন। আথীনী থেকে যাওয়া-আসার সময় তিনি হয়ত কয়েকবারই ছোট নৌকায় করে গিয়েছিলেন। এছাড়াও, পৌল হয়ত তার পরবর্তী যাত্রা অর্থাৎ, ত্রোয়া থেকে পাতারায় যাওয়ার জন্য এশিয়া মাইনর উপকূলের কাছাকাছি দ্বীপগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ছোট নৌকায় করে যান। (প্রেরিত ১৬:৮-১১; ১৭:১৪, ১৫; ২০:১-৬, ১৩-১৫; ২১:১) ছোট নৌকায় করে গেলে, সময় বাঁচতো ঠিকই কিন্তু সেগুলোতে করে অনেক দূরের যাত্রা করা যেত না। তাই যে জাহাজে করে পৌল সাইপ্রাসে ও তারপর পাম্ফূলিয়াতে যান এবং যেগুলোতে করে তিনি ইফিষ থেকে কৈসরিয়া ও পাতারা থেকে সোরে যাত্রা করেছিলেন সেগুলো নিশ্চয়ই বেশ বড় জাহাজ ছিল। (প্রেরিত ১৩:৪, ১৩; ১৮;২১, ২২; ২১:১-৩) যে জাহাজে করে তিনি মিলিতা দ্বীপে যান আর যেটা জাহাজডুবির মুখোমুখি হয়েছিল সেটাও হয়ত বেশ বড় জাহাজই ছিল। ওই জাহাজটা কত বড় হতে পারে?
কিছু ঐতিহাসিক বইপত্র ঘেটে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি এই কথা বলেন: “আগেকার দিনে সবচেয়ে ছোট [জাহাজ] সাধারণত যেগুলোতে করে লোকেরা চলাচল করত তা ৭০ থেকে ৮০ টন পর্যন্ত ওজন বইতে পারত। গ্রিক সংস্কৃতির যুগে কমপক্ষে ১৩০ টন ওজন বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো জাহাজ ছিল। কিছু জাহাজ এত বড় ছিল যে ২৫০ টন পর্যন্ত ওজন নিতে পারত আর তা নিশ্চয়ই সাধারণ আকারের জাহাজের চেয়ে বড়ই ছিল। রোমীয় যুগে সরকারি কাজে যে জাহাজগুলো ব্যবহার করা হতো সেগুলো আরও বড় হতো আর এগুলো প্রায় ৩৪০ টন ওজন নিতে পারত। সবচেয়ে বড় জাহাজ প্রায় ১৩০০ টন কিংবা এর চেয়ে কিছুটা বেশি ওজন বইতে পারত।” সা.কা. দ্বিতীয় শতাব্দীতে লেখা একটা বই, খাদ্যশস্য বহনকারী আলেকজান্দ্রিয় জাহাজ আইসিস এর কথা বলে। এই জাহাজ ৫৫ মিটারেরও বেশি লম্বা ও প্রায় ১৫ মিটার চওড়া ছিল, মাল রাখার খোল ছিল প্রায় ১৪ মিটার গভীর আর সেটা সম্ভবত এক হাজার টন খাদ্যশস্য এবং প্রায় একশ যাত্রী নিয়ে যেতে পারত।
মালবাহী জাহাজে যাত্রীদের জন্য কী ব্যবস্থা ছিল? জাহাজগুলো মূলত মালের জন্য ছিল, তাই যাত্রীদের নিজেদের দেখাশুনা নিজেদের করতে হতো। জাহাজে তারা শুধু জল ছাড়া অন্য কিছু পেতেন না। তারা পাটাতনের ওপর ঘুমাতেন, সম্ভবত রাতের বেলা তাঁবু খাটিয়ে ঘুমাতেন আর প্রত্যেকদিন সকালে সেগুলোকে আবার খুলে ফেলতেন। রান্নার জন্য যাত্রীদের হয়ত রান্নার জিনিসপত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতো কিন্তু রান্না করার, খাওয়ার, স্নান করার এবং ঘুমানোর জন্য থালা-বাসন থেকে শুরু করে বিছানা পর্যন্ত সবকিছুর ব্যবস্থা তাদের নিজেদেরকেই করতে হতো।
সমুদ্র যাত্রা—কতটা নিরাপদ?
প্রথম শতাব্দীতে যন্ত্রপাতি তেমন ছিল না—তাদের কাছে এমনকি কম্পাসও ছিল না—তাই তখনকার নাবিকেরা যেটুকু দেখতে পেতেন সেই অনুযায়ীই জাহাজ চালাতেন। তাই যখন আবহাওয়া পরিষ্কার থাকত অর্থাৎ স্পষ্টভাবে সব দেখা যেত তখনই যাত্রা সবচেয়ে নিরাপদ ছিল—সাধারণত মে মাসের শেষের দিক থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এই সময়ের দুই মাস আগে বা পরে বণিকেরা যদি যাত্রা করতেন তাহলে তাদের প্রাণ হাতে নিয়ে যাত্রা করতে হতো। কিন্তু শীতকালে কুয়াশা ও মেঘের কারণে পথে কিছুই দেখা যেত না আর সেইজন্য ১১ই নভেম্বর থেকে ১০ই মার্চ পর্যন্ত জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যেত (ল্যাটিন ভাষায়, একে মেয়ার ক্লৌসাম বলা হতো) শুধু খুব দরকার অথবা জরুরি অবস্থা হলে তবেই জাহাজ চলত। যারা দেরি করে যাত্রা শুরু করতেন তাদেরকে শীতকাল কাটানোর জন্য অন্য কোন বন্দরে থাকতে হতো।—প্রেরিত ২৭:১২; ২৮:১১.
জাহাজে করে যাত্রা করা বিপদজনক ছিল আর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এইসব সত্ত্বেও, জাহাজে করে যাত্রা করায় কি কোন সুবিধা ছিল? অবশ্যই! জাহাজে করে যাত্রা করলে ক্লান্তি কম হতো, বেশি খরচ হতো না আর সময়ও কম লাগত। বাতাস অনুকূলে থাকলে একটা জাহাজ দিনে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ যেতে পারত। কিন্তু পায়ে হেঁটে যাত্রা করলে দিনে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটারের বেশি যাওয়া যেত না।
যাত্রার গতি পুরোপুরি বাতাসের ওপর নির্ভর করত। মিশর থেকে ইতালিতে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রায়ই এমনকি সবচেয়ে ভাল ঋতুতেও বিপরীত আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হতো। রোদঃ দ্বীপ, মরা কিংবা এশিয়া মাইনরের লুকিয়া উপকূলের অন্যান্য কিছু বন্দর হয়ে ইতালি যেতে সবচেয়ে কম সময় লাগত। একবার খাদ্যশস্য নিয়ে যাওয়ার জাহাজ আইসিস আলেকজান্দ্রিয়া থেকে যাত্রা শুরু করার পর ঝড়ের মধ্যে পড়ে পথ হারিয়ে ফেলে আর ৭০ দিন পর পিরেইভ্সে গিয়ে ভেড়ে। ইতালি থেকে ফিরে আসার সময় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বাতাসের চাপ থাকায় এটার আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে আসতে ২০ থেকে ২৫ দিন লেগেছিল। স্থলপথে এই যাত্রা করতে এমনকি ভাল আবহাওয়াতেও ১৫০ দিনের বেশি লেগে যেত।
সমুদ্র পার হয়ে অনেক দূরে দূরে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়া হয়
পৌল জানতেন যে খারাপ আবহাওয়ায় সমুদ্র যাত্রা করলে কোন্ কোন্ বিপদ আসতে পারে। এমনকি তিনি সেপ্টেম্বরের শেষে অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকেও যাত্রা না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “মহাশয়েরা, আমি দেখিতেছি যে, এই যাত্রায় অনিষ্ট ও অনেক ক্ষতি হইবে, তাহা কেবল মালের ও জাহাজের, এমন নয়, আমাদের প্রাণেরও হইবে।” (প্রেরিত ২৭:৯, ১০) কিন্তু, জাহাজের অধ্যক্ষ এই কথা শোনেননি আর তার ফলেই মিলিতায় জাহাজডুবি ঘটে।
মিশনারি জীবনে পৌল অন্তত চারবার জাহাজডুবিতে পড়েছিলেন। (প্রেরিত ২৭:৪১-৪৪; ২ করিন্থীয় ১১:২৫) তবুও, প্রথম শতাব্দীর প্রচারকেরা এইরকম বিপদগুলো নিয়ে অহেতুক চিন্তা করেননি। তারা জাহাজে করে যাত্রা করে দূর-দূরান্তে সুসমাচার প্রচার করেছিলেন। রাজ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা সমস্ত পথেরই সদ্ব্যবহার করেছিলেন। আর যীশুর আজ্ঞার বাধ্য হয়ে তারা দূর-দূরান্তে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। (মথি ২৮:১৯, ২০; প্রেরিত ১:৮) আমরা কতই না কৃতজ্ঞ যে তারা উদ্যোগ দেখিয়েছিলেন, তাদের আদর্শ মেনে চলে অন্যেরা বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন আর যিহোবা পবিত্র আত্মা দিয়ে তাদের সাহায্য করেছিলেন যার ফলে পৃথিবীর কোণায় কোণায় সুসমাচার পৌঁছে গেছে।
[৩১ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Pictorial Archive (Near Eastern History) Est.