ঈশ্বরের ধার্মিকতার প্রতি আমাদের আস্থা দৃঢ় করা
“সদাপ্রভু যেন তোমার আশ্রয় [“আস্থা,” “NW”] হন, তজ্জন্য আমি তোমাকে, . . . এই সকল জানাইলাম।”—হিতোপদেশ ২২:১৯.
১, ২. (ক) কেন যিহোবার সাক্ষীরা যিহোবার উপর আস্থা দেখান? (হিতোপদেশ ২২:১৯) (খ) কী দেখায় যে কিছুজনের যিহোবার উপর তাদের ব্যক্তিগত আস্থাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে?
সত্য খ্রীষ্টানেরা যিহোবা ও তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধীয় যথার্থ জ্ঞান দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত। “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” প্রেমপূর্ণভাবে “উপযুক্ত সময়ে” তাদের আধ্যাত্মিক “খাদ্য” সরবরাহ করে থাকেন। (মথি ২৪:৪৫) যে জ্ঞান তারা লাভ করেন তা তাদের এক অটুট ভিত্তি প্রদান করে যার উপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের প্রতি আস্থা গড়ে ওঠে। তাই একটি দল হিসাবে, যিহোবার সাক্ষীরা যিহোবা ও তাঁর ধার্মিকতার প্রতি উল্লেখযোগ্য আস্থা দেখিয়ে থাকেন।
২ কিন্তু, দেখা যায় যে ব্যক্তিগতভাবে কিছু সাক্ষীর হয়ত তাদের আস্থাকে দৃঢ় করার প্রয়োজন আছে। সোসাইটি প্রায়ই এমন কিছু চিঠি পেয়ে থাকে, যেগুলি প্রকাশনাদিতে আসা ব্যাখ্যার প্রতি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে লেখা হয়। এই সন্দেহ হয়ত আমাদের বোধগম্যতায় কোন রদবদলের কারণে হতে পারে অথবা এগুলি এমন কোন বিষয়বস্তু সম্বন্ধে হতে পারে যা প্রশ্নকারীকে বিশেষ করে আবেগগতভাবে প্রভাবিত করেছে।—যোহন ৬:৬০, ৬১ পদগুলির সঙ্গে তুলনা করুন।
৩. এমনকি যিহোবার বিশ্বস্ত সেবকদেরও কী ঘটতে পারে এবং কেন?
৩ এমনকি যিহোবার সত্য উপাসকেরা উপদেশক ৯:১১ পদের সত্যতা অভিজ্ঞতা করেন: “আমি ফিরিলাম, ও সূর্য্যের নীচে দেখিলাম যে, দ্রুতগামীদের দ্রুতগমন, কি বীরদের যুদ্ধ, কি জ্ঞানবানদের অন্ন, কি বুদ্ধিমানদের ধন, কি বিজ্ঞদেরই অনুগ্রহলাভ হয়, এমন নয়, কিন্তু সকলের প্রতি কাল ও দৈব ঘটে।” কিভাবে এটি এক ব্যাপক অথবা আধ্যাত্মিক অর্থে সত্য প্রমাণিত হতে পারে? আমরা হয়ত সেই খ্রীষ্টানদের জানতাম যারা বাইবেলের পরামর্শ প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে খুবই তৎপর, সত্যের পক্ষ সমর্থন করায় খুব দৃঢ় এবং বাইবেলের নীতিগুলিকে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে খুবই বিজ্ঞ আর যথার্থ জ্ঞান লাভ করার জন্য খুবই উদ্যোগী ছিলেন। তবুও, “কাল ও দৈব” এর কারণে কিছুজন কোন দুর্ঘটনা অথবা বার্ধক্যের জন্য নিজেদের অসমর্থ বলে মনে করেন। তারা হয়ত ভাবেন যে মৃত্যুর আস্বাদ ছাড়াই তারা ঈশ্বরের নতুন জগতে প্রবেশ করবেন কি না।
৪, ৫. কেন খ্রীষ্টানদের যিহোবার ধার্মিকতার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলার কোন কারণ নেই?
৪ যখন একজন খ্রীষ্টান তার বিবাহ সাথীকে হারান, সেই বেদনা ও হারানোর অনুভূতি তীব্র। এক দম্পতি হিসাবে তারা দুজনে হয়ত একসঙ্গে বছরের পর বছর বা দশকগুলি ধরে যিহোবার সেবা করেছেন। জীবিত সাথী জানেন যে মৃত্যুই বিবাহ বন্ধনকে ছিন্ন করে দেয়।a (১ করিন্থীয় ৭:৩৯) এখন যদি তার আস্থাকে দুর্বল হওয়া থেকে রক্ষা করতে হয়, তাকে তার আবেগকে দমন করতে হবে।—মার্ক ১৬:৮ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।
৫ এক সাথী, বাবামা, সন্তান অথবা নিকট খ্রীষ্টীয় বন্ধুর মৃত্যুকে যিহোবার ধার্মিকতার উপর আস্থা দেখানোর এক সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করা কতই না বিজ্ঞতার কাজ! এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখেও আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে যিহোবা অধার্মিক নন। আমরা আস্থা রাখতে পারি যে অনন্ত জীবন লাভ করবেন এমন প্রত্যেকে—তা সে রক্ষা পেয়েই হোক বা পুনরুত্থানের মাধ্যমেই হোক—সকলেই সুখী হবেন। ঈশ্বর সম্বন্ধে গীতরচক বলেছিলেন: “তুমিই আপন হস্ত মুক্ত করিয়া থাক, সমুদয় প্রাণীর বাঞ্ছা পূর্ণ করিয়া থাক। সদাপ্রভু আপনার সমস্ত পথে ধর্ম্মশীল, আপনার সমস্ত কার্য্যে দয়াবান্। সদাপ্রভু সেই সকলেরই নিকটবর্ত্তী, যাহারা তাঁহাকে ডাকে, যাহারা সত্যে তাঁহাকে ডাকে। যাহারা তাঁহাকে ভয় করে, তিনি তাহাদের বাঞ্ছা পূর্ণ করেন, আর তাহাদের আর্ত্তনাদ শুনিয়া তাহাদিগকে ত্রাণ করেন।”—গীতসংহিতা ১৪৫:১৬-১৯.
অপ্রয়োজনীয়ভাবে কষ্টভোগ করার অনুভূতি
৬, ৭. (ক) কেন কিছু সাক্ষী যারা অতীতে কষ্টভোগ করেছিলেন তাদের এখন এক ভিন্ন বোধগম্যতা রয়েছে? (খ) যিহোবা অতীতে এই কষ্টকে অনুমোদন করেছিলেন বলে কেন আমাদের তাঁকে অধার্মিক বলে দেখা উচিত নয়?
৬ অতীতে কিছু সাক্ষীরা হয়ত এমন কিছু কার্যকলাপ প্রত্যাখ্যান করার ফলে দুর্দশা ভোগ করেছিলেন, যা করতে এখন তাদের বিবেক অনুমোদন করে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু সরকারি কাজকর্মের প্রতি বেশ কিছু বছর আগে হয়ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এইরকম ছিল। একজন ভাই এখন হয়ত মনে করতে পারেন যে এই বর্তমান বিধিব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার খ্রীষ্টীয় নিরপেক্ষতাকে ভঙ্গ না করেই বিবেকবুদ্ধিপূর্ণভাবে তা করতে পারেন।
৭ এটি কি যিহোবার পক্ষ থেকে অধার্মিকতা ছিল যে তিনি তাকে সেই কাজটি প্রত্যাখ্যান করার জন্য কষ্টভোগ করতে অনুমোদন করেছিলেন যে কাজ এখন তিনি কোন মন্দ পরিণতি ছাড়াই করতে পারেন? যাদের এইধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের অধিকাংশই তা মনে করেন না। বরং, তারা আনন্দ করেন যে তাদের সার্বজনীন সার্বভৌমত্বের বিষয়টিতে দৃঢ় থাকার জন্য তাদের স্থিরসংকল্পকে প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে দেখানোর সুযোগ তারা পেয়েছিলেন। (ইয়োব ২৭:৫ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) যিহোবার পক্ষে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একজনের বিবেক যদি তাকে পরিচালিত করে তাহলে তার অনুশোচনা করার কোন্ কারণ থাকতে পারে? খ্রীষ্টীয় নীতিগুলি যেগুলি তারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন সেগুলি নিষ্ঠার সঙ্গে তুলে ধরা অথবা বিবেকদংশনে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে তারা যিহোবার বন্ধু হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন। নিশ্চিতভাবেই এইধরনের কাজগুলিকে এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে যেগুলি একজনের বিবেককে বিক্ষিপ্ত করে ও অন্যদের জন্যও বিঘ্নের কারণ হয়। এই ক্ষেত্রে প্রেরিত পৌল যে উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন আমরা সেই বিষয়ে চিন্তা করতে পারি।—১ করিন্থীয় ৮:১২, ১৩; ১০:৩১-৩৩.
৮. কেন যিহূদী খ্রীষ্টানেরা যারা আগে ব্যবস্থার অধীনে ছিলেন তাদের যিহোবার ধার্মিকতার বিষয়ে প্রশ্ন করার কোন কারণ ছিল না?
৮ যিহোবাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যিহূদীদের দশ আজ্ঞা মেনে চলতে হত আর এছাড়াও ৬০০টি বিভিন্ন অতিরিক্ত নিয়ম ছিল। পরবর্তী সময়ে, খ্রীষ্টীয় ব্যবস্থার অধীনে যিহোবাকে সেবা করার জন্য এই নিয়মগুলির প্রতি বাধ্য থাকা আর অত্যাবশ্যকীয় ছিল না, এমনকি মাংসিক যিহূদীদের জন্যেও নয়। ত্বকচ্ছেদ, বিশ্রামবার পালন, পশু বলিদান এবং খাদ্যসংক্রান্ত কিছু বিধিনিয়ম পালন করার মত নিয়মগুলিও আর বাধ্যতামূলক থাকেনি। (১ করিন্থীয় ৭:১৯; ১০:২৫; কলসীয় ২:১৬, ১৭; ইব্রীয় ১০:১, ১১-১৪) প্রেরিতেরা সহ—যিহূদীরা—যারা খ্রীষ্টান হয়েছিলেন, এই নিয়মগুলি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন, যেগুলি তারা ব্যবস্থা চুক্তির অধীনে থাকাকালীন মেনে চলতে বাধ্য ছিলেন। তারা কি অভিযোগ করেছিলেন যে ঈশ্বরের ব্যবস্থাটি অধার্মিক ছিল, যেহেতু তিনি পূর্বে সেই দাবিগুলি করেছিলেন যেগুলি আজকে আর প্রয়োজনীয় নয়? না তারা যিহোবার উদ্দেশ্যের বিস্তৃত বোধগম্যতায় আনন্দ করেছিলেন।—প্রেরিত ১৬:৪, ৫.
৯. কিছু সাক্ষীদের ক্ষেত্রে কোন্ বিষয়টি সত্য হয়েছে কিন্তু কেন তাদের অনুশোচনা করার কোন কারণ নেই?
৯ আধুনিক সময়ে, কিছু সাক্ষীরা ছিলেন যারা কী করবেন আর কী করবেন না সে বিষয়ে খুবই কঠোর ছিলেন। এই কারণে তারা অন্যান্যদের চেয়ে অনেক বেশি কষ্টভোগ করেছিলেন। পরবর্তীকালে, বৃদ্ধিরত জ্ঞান বিষয়গুলির প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অতীতে তারা তাদের বিবেক অনুযায়ী কাজ করেছিলেন বলে অনুশোচনা করার কোন কারণ নেই, এমনকি যদিও তা হয়ত অতিরিক্ত কিছু কষ্ট নিয়ে এসেছিল। এটি সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল যে তারা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্য “সকলই সুসমাচারের জন্য” কষ্টভোগ করতে ইচ্ছুক ছিলেন। এই প্রকার ঈশ্বরীয় ভক্তিকে যিহোবা আশীর্বাদ করেন। (১ করিন্থীয় ৯:২৩; ইব্রীয় ৬:১০) প্রেরিত পিতর অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে লিখেছিলেন: “সদাচরণ করিয়া দুঃখ ভোগ করিলে যদি সহ্য কর, তবে তাহাই ত ঈশ্বরের কাছে সাধুবাদের বিষয়।”—১ পিতর ২:২০.
যোনার কাছ থেকে শেখা
১০, ১১. কিভাবে যোনা যিহোবার উপর আস্থার অভাব দেখিয়েছিলেন (ক) যখন নীনবীতে যাওয়ার কার্যভার দেওয়া হয়েছিল? (খ) যখন ঈশ্বর নীনবীবাসীদের ধ্বংস করেননি?
১০ যোনাকে যখন নীনবীতে যেতে বলা হয়েছিল, যিহোবা তার উপর যে আস্থা রেখেছিলেন তার প্রতি তিনি উপলব্ধির অভাব দেখিয়েছিলেন। এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যেটি তার নিজেরই বাধ্য হতে অনিচ্ছুক হওয়ার ফলে ঘটেছিল, তার সম্মুখীন হওয়ার পর যোনা বোধশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন, তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন, বিদেশের কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন ও আসন্ন ধ্বংস সম্বন্ধে নীনবীবাসীদের সতর্ক করেছিলেন। তারপর অপ্রত্যাশিত বিষয়টি ঘটেছিল: নীনবীবাসীদের অনুতপ্ত মনোভাবের জন্য যিহোবা তাদের ধ্বংস করার সংকল্প বাদ দিয়েছিলেন।—যোনা ১:১–৩:৩-১০.
১১ যোনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি অভিযোগের সুরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। তার নালিশের সারসংক্ষেপ ছিল এইরকম: ‘আমি জানতাম যে এইরকমই ঘটবে। সেইজন্যই আমি প্রথমে নীনবীতে যেতে চাইনি। এখন আমি যখন এক প্রকাণ্ড মাছের দ্বারা পেটে থাকার আতঙ্ক ও অবমাননা ভোগ করে সেখানে গেলাম আর আসন্ন ধ্বংস সম্বন্ধে নিনবীবাসীদের সতর্ক করার জন্য এত কঠোর পরিশ্রম করলাম, তার ফল এই হল! আমার সব কাজ সব কষ্টের কোন মূল্যই নেই! আমার মৃত্যুই ভাল!’—যোনা ৪:১-৩.
১২. যোনার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
১২ অভিযোগ করার জন্য যোনার কি কোন উপযুক্ত কারণ ছিল? অনুতপ্ত পাপীদের প্রতি করুণা দেখানোর ক্ষেত্রে যিহোবা কি অধার্মিক ছিলেন? প্রকৃতপক্ষে, যোনার আনন্দ করা উচিত ছিল; কারণ হাজার হাজার লোকেরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। (যোনা ৪:১১) কিন্তু তার শ্রদ্ধাহীন, অভিযোগপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছিল যে তিনি যিহোবার ধার্মিকতার উপর প্রগাঢ় আস্থা দেখাননি। তিনি তার নিজের বিষয়ে অত্যধিক কিন্তু অন্যদের বিষয়ে খুব অল্পই ভেবেছিলেন। আসুন আমরা আমাদের নিজেদের ও আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে দ্বিতীয় স্থানে রেখে যোনার কাছ থেকে শিখি। আমরা প্রত্যয়ী হই যে যিহোবার বাধ্য হওয়া, তাঁর সংগঠনের মাধ্যমে দেওয়া পরিচালনা অনুসরণ করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ হৃদয়ে মেনে নেওয়াই হল সঠিক কাজ। আমরা প্রত্যয়ী যে “যাহারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ভীত হয়, তাহাদের মঙ্গল হইবে।”—উপদেশক ৮:১২.
আমাদের আস্থাকে শক্তিশালী করার এখনই সময়!
১৩. কিভাবে আমরা সকলে যিহোবার উপর আমাদের আস্থাকে শক্তিশালী করতে পারি?
১৩ যিহোবার প্রতি আমাদের আস্থা শক্তিশালী করাই প্রজ্ঞার পথ। (হিতোপদেশ ৩:৫-৮) অবশ্যই আরও আস্থাশীল হওয়ার জন্য যিহোবার সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করার থেকেও আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে। যথার্থ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আস্থা বৃদ্ধি পায় আর তাই আমাদের অবশ্যই ব্যক্তিগত বাইবেল অধ্যয়ন করা প্রয়োজন, বাইবেল ও বাইবেল ব্যাখ্যাকারী সাহিত্য পড়াকে আমাদের প্রত্যেক দিনের তালিকার অংশ করা উচিত। খ্রীষ্টীয় সভাগুলিতে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া জরুরি আর ততখানিই জরুরি উত্তম প্রস্তুতি ও যত বেশি সম্ভব অংশগ্রহণ। অন্যদের কাছে বাইবেলের সত্য বলাকে অভ্যাসে পরিণত করা এবং বিরোধিতাকে কৌশলের সঙ্গে অতিক্রম করাও যিহোবা ও তাঁর বাক্যের উপর আমাদের বিশ্বাসকে গভীর করে। আর এর ফলে আমরা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তাঁর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি।
১৪. কেন শীঘ্রই ঈশ্বরের লোকেদের যিহোবার প্রতি সেইধরনের আস্থা প্রদর্শন করার প্রয়োজন হবে যা তারা পূর্বে কখনও করেননি?
১৪ নিকট ভবিষ্যতে মানবজাতিকে আঘাত করার জন্য সর্বকালের সবচেয়ে বড় ক্লেশ আকস্মিক আরম্ভ হয়ে যাবে। (মথি ২৪:২১) যখন এটি ঘটবে, যিহোবার সেবকদের পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি যিহোবার ধার্মিকতা ও তাঁর সংগঠন দ্বারা দেওয়া নির্দেশনার উপর আস্থা দেখানোর প্রয়োজন হবে। রূপকভাবে, তখন তারা প্রত্যয়ের সঙ্গে ঈশ্বরের আদেশের বাধ্য হবে: “হে আমার জাতি, চল, তোমার অন্তরাগারে প্রবেশ কর, তোমার দ্বার সকল রুদ্ধ কর; অল্পক্ষণ মাত্র লুক্কায়িত থাক, যে পর্য্যন্ত ক্রোধ অতীত না হয়।” (যিশাইয় ২৬:২০) ইতিমধ্যেই তারা ২৩২টি দেশে ৮৫০০০টিরও বেশি মণ্ডলীতে এক সুরক্ষিত পরিবেশে প্রবেশ করেছেন। “তোমার অন্তরাগারে প্রবেশ কর” এই আদেশে অতিরিক্তভাবে আর যা কিছুই যুক্ত হোক না কেন আমরা প্রত্যয়ী হতে পারি যে যিহোবা এটি ঠিকভাবে করতে আমাদের সাহায্য করবেন।
১৫. ১৯৯৮ সালে কিভাবে আস্থা রাখার বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে আর কেন তা যথার্থ?
১৫ তাই খুবই জরুরি বিষয় হল যে আমরা যেন এখনই আমাদের আস্থাকে শক্তিশালী করি। আমাদের খ্রীষ্টীয় ভাইদের উপর, যিহোবার সংগঠনের উপর এবং সর্বোপরি স্বয়ং যিহোবার উপর আস্থা রাখা ছাড়া রক্ষা পাওয়া অসম্ভব হবে। তাই এটি কতই না উপযুক্ত যে ১৯৯৮ সালে বাৎসরিক শাস্ত্রপদের বাক্যগুলি সারা বিশ্বের যিহোবার সাক্ষীদের এই বিষয়টি বার বার মনে করিয়ে দিয়েছে “যে কেহ প্রভুর [“যিহোবার,” “NW”] নামে ডাকে, সে পরিত্রাণ পাইবে”! (রোমীয় ১০:১৩) আর আমরা এতে অবশ্যই প্রত্যয় রেখে চলি। এই আস্থায় যদি আমরা সামান্যতম ঘাটতিও খুঁজে পাই তাহলে এখনই, হ্যাঁ, আজই আমাদের তা শুধরে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
যিহোবা ধার্মিকতা সহ বিচার করবেন
১৬. আস্থার কী হতে পারে যদি এটিকে বৃদ্ধি করা না যায় এবং এটি ঘটাকে কিভাবে আমরা প্রতিরোধ করতে পারি?
১৬ ইব্রীয় ৩:১৪ পদে, অভিষিক্ত খ্রীষ্টানদের সতর্ক করা হয়েছিল: “আমরা খ্রীষ্টের সহভাগী হইয়াছি, যদি আদি হইতে আমাদের নিশ্চয়জ্ঞান শেষ পর্য্যন্ত দৃঢ় করিয়া ধারণ করি।” নীতিগতভাবে এই বাক্যগুলি সেই খ্রীষ্টানদের প্রতিও প্রযোজ্য হয় যাদের পার্থিব আশা রয়েছে। প্রাথমিক আস্থাকে যদি বৃদ্ধি না করা হয় তাহলে এটি ক্ষয় পেতে পারে। তাই ক্রমাগত যথার্থ জ্ঞান নেওয়া ও তার দ্বারা সেই ভিত্তিকে দৃঢ় করা কতই না জরুরি, যার উপর আমাদের আস্থা প্রতিষ্ঠিত!
১৭. রক্ষা করার বিষয়ে যীশু সঠিকভাবে বিচার করবেন সেই বিষয়ে কেন আমরা প্রত্যয়ী হতে পারি?
১৭ শীঘ্রই খ্রীষ্ট সমস্ত জাতির বিচার করবেন যাতে করে তিনি ‘তাহাদের এক জন হইতে অন্য জনকে পৃথক্ করিতে পারেন, যেমন পালরক্ষক ছাগ হইতে মেষ পৃথক্ করে।’ (মথি ২৫:৩১-৩৩) আমরা প্রত্যয়ী হতে পারি যে কে রক্ষা পাওয়ার যোগ্য, খ্রীষ্ট তা ধার্মিকতার সঙ্গে নির্ণয় করবেন। “ন্যায়ে জগৎসংসারের বিচার” করার জন্য যিহোবা তাঁকে প্রজ্ঞা, অন্তর্দৃষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি দিয়েছেন। (প্রেরিত ১৭:৩০, ৩১) তাই আমাদের মনোভাব যেন অব্রাহামের মত হয় যিনি বলেছিলেন: “দুষ্টের সহিত ধার্ম্মিকের বিনাশ করা, এই প্রকার কর্ম্ম আপনা [যিহোবা] হইতে দূরে থাকুক; ধার্ম্মিককে দুষ্টের সমান করা আপনা হইতে দূরে থাকুক। সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা কি ন্যায়বিচার করিবেন না?”—আদিপুস্তক ১৮:২৫.
১৮. বর্তমানে যে বিষয়গুলি আমরা জানি না তার জন্য কেন আমাদের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়?
১৮ যিহোবার ধার্মিকতার উপর সম্পূর্ণ আস্থা নিয়ে আমাদের এইধরনের প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, যেমন: ‘শিশু ও ছোট বাচ্চাদের কিভাবে বিচার করা হবে? হর্মাগিদোন আসার আগে পর্যন্তও কি এমন প্রচুর লোকেরা থেকে যাবেন না যাদের কাছে এখনও সুসমাচার প্রচার করা হয়নি? মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্বন্ধে কী বলা যায়? আর যারা . . . .?’ এটি স্বীকার্য যে বর্তমানে আমরা হয়ত জানি না, কিভাবে যিহোবা এই বিষয়গুলির সমাধান করবেন। কিন্তু তিনি তা ধার্মিকতা সহ ও করুণাপূর্ণ উপায়ে সম্পন্ন করবেন। সেই সম্বন্ধে আমাদের কখনও সন্দেহ করা উচিত নয়। বস্তুতপক্ষে, তিনি হয়ত এমনভাবে এই বিষয়গুলির সমাধান করবেন যা আমরা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি আর এগুলি দেখে আমরা হয়ত বিস্মিত ও আনন্দিত হব।—ইয়োব ৪২:৩; গীতসংহিতা ৭৮:১১-১৬; ১৩৬:৪-৯; মথি ১৫:৩১; লূক ২:৪৭ পদগুলির সঙ্গে তুলনা করুন।
১৯, ২০. (ক) যুক্তিপূর্ণ প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করা কেন ভুল নয়? (খ) কখন যিহোবা প্রয়োজনীয় উত্তর যোগাবেন?
১৯ যিহোবার সংগঠন অকৃত্রিম, সময়োপযোগী প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করতে নিরুৎসাহিত করে না, যেমন কিছু বিরোধীরা ভুলভাবে দাবি করে থাকেন। (১ পিতর ১:১০-১২) কিন্তু বাইবেল আমাদের পরামর্শ দেয় যে মূর্খতাপূর্ণ ও অনুমানমূলক প্রশ্নগুলি এড়িয়ে চলা উচিত। (তীত ৩:৯) যুক্তিপূর্ণ প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করা ও শাস্ত্রীয় উত্তরের জন্য ঈশ্বরের বাক্য এবং খ্রীষ্টীয় প্রকাশনাগুলিতে খোঁজা আমাদের যথার্থ জ্ঞানকে বাড়াতে পারে ও এইভাবে যিহোবার উপর আমাদের আস্থা শক্তিশালী করতে পারে। সংগঠন যীশুর উদাহরণ অনুসরণ করে। তিনি সেইসমস্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন যেগুলির উত্তর দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় তখনও আসেনি। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন: “তোমাদিগকে বলিবার আমার আরও অনেক কথা আছে, কিন্তু তোমরা এখন সে সকল সহ্য করিতে পার না।” (যোহন ১৬:১২) তিনি এও স্বীকার করেছিলেন যে এমন কিছু বিষয় আছে যা তখনও পর্যন্ত তিনি নিজেও জানেন না।—মথি ২৪:৩৬.
২০ প্রকাশ করার জন্য যিহোবার এখনও অনেক বিষয় আছে। আর সেগুলির জন্য অপেক্ষা করা কতই না বিজ্ঞতার কাজ হবে। প্রত্যয়ের সঙ্গে আমরা চিন্তা করতে পারি যে যখন তিনি তাঁর উদ্দেশ্যগুলি প্রকাশ করবেন তখনই সেগুলি প্রকাশের উপযুক্ত সময়। আমরা প্রত্যয়ী হতে পারি, একবার যিহোবার নিরূপিত সময় আসার পরে, তাঁর পথে আরও অন্তর্দৃষ্টি পেয়ে আমরা আনন্দিত হব। হ্যাঁ, আমরা পুরস্কৃত হব কিন্তু শর্ত হল, আমাদের যিহোবা ও তিনি যে সংগঠন ব্যবহার করছেন তার প্রতি নিশ্চিত আস্থা রাখা উচিত। হিতোপদেশ ১৪:২৬ পদ আমাদের আশ্বস্ত করে: “সদাপ্রভুর ভয় দৃঢ় বিশ্বাসভূমি [“আস্থা,” “NW”]; তাঁহার সন্তানগণ আশ্রয় স্থান পাইবে।”
[পাদটীকাগুলো]
a প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি), অক্টোবর ১৫, ১৯৬৭, পৃষ্ঠা ৬৩৮; প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি), জুন ১, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা ৩০ দেখুন।
আপনি কী মনে করেন?
◻ যিহোবার উপর আস্থাকে দুর্বল করার জন্য আমাদের আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া কেন বিজ্ঞতার কাজ নয়?
◻ যোনার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
◻ কেন বাইবেল অধ্যয়ন ও সভায় উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখেও আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে যিহোবা ধার্মিক
[১৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
আপনি কি নিশ্চিত যে আপনি যিহোবার উপরই আস্থা রাখেন?