অবশ্যই আমরা যিহোবার উপর আস্থা রাখব
“সদাপ্রভু তোমার বিশ্বাসভূমি [“আস্থা,” “NW”] হইবেন।”—হিতোপদেশ ৩:২৬.
১. যদিও অনেকে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেন বলে দাবি করেন কিন্তু কোন্ বিষয়টি দেখায় যে তারা সবসময় তা করেন না?
“আমরা ঈশ্বরের উপর নির্ভর করি” এই নীতিবাক্যটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারে লেখা আছে। কিন্তু সেখানে অথবা অন্য যে কোন দেশে যে সমস্ত লোকেরা এই মুদ্রা ব্যবহার করেন তারা কি প্রকৃতই ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেন? নাকি অর্থের উপর তারা আরও বেশি নির্ভর করেন? ওই দেশে অথবা অন্য যে কোন স্থানে, অর্থের প্রতি এই নির্ভরতাকে কখনও প্রেমময় সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরতার সঙ্গে এক করা যেতে পারে না, যিনি কখনও তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেন না আর যিনি কোনভাবেই লোভী নন। বস্তুতপক্ষে, তিনি স্পষ্ট ভাষায় লোভকে অগ্রাহ্য করেন।—ইফিষীয় ৫:৫.
২. ধনের ক্ষমতা সম্বন্ধে সত্য খ্রীষ্টানদের কোন্ মনোভাব আছে?
২ সত্য খ্রীষ্টানেরা “মায়া” যুক্ত ধনের উপর নয় কিন্তু ঈশ্বরের উপর তাদের আস্থা রাখেন। (মথি ১৩:২২) তারা উপলব্ধি করেন যে সুখ বাড়াতে ও জীবন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অর্থের ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি সেইরকম নয়। (সফনিয় ১:১৮) তাই এই পরামর্শটি কতই না সুবিবেচনাপূর্ণ: “তোমাদের আচার ব্যবহার ধনাসক্তিবিহীন হউক; তোমাদের যাহা আছে, তাহাতে সন্তুষ্ট থাক; কারণ তিনিই বলিয়াছেন, ‘আমি কোন ক্রমে তোমাকে ছাড়িব না, ও কোন ক্রমে তোমাকে ত্যাগ করিব না!’”—ইব্রীয় ১৩:৫.
৩. কিভাবে দ্বিতীয় বিবরণ ৩১:৬ পদের প্রসঙ্গটি পৌলের উদ্ধৃত পদটির উপর আলোকপাত করে?
৩ ইব্রীয় খ্রীষ্টানদের প্রতি উপরের এই বাক্যগুলি লেখার সময় প্রেরিত পৌল সেই নির্দেশাবলি থেকে উদ্ধৃতি করেছিলেন যা মোশি তার মৃত্যুর কিছু আগে ইস্রায়েলীয়দের দিয়েছিলেন: “তোমরা বলবান হও ও সাহস কর, ভয় করিও না, তাহাদের হইতে মহাভয়ে ভীত হইও না; কেননা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনি তোমার সহিত যাইতেছেন, তিনি তোমাকে ছাড়িবেন না, তোমাকে ত্যাগ করিবেন না।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৩১:৬) প্রসঙ্গটি দেখায় যে মোশি, তাদেরকে যিহোবার উপর এমন আস্থা রাখার জন্য উৎসাহিত করছিলেন যা তাদের বস্তুগত দ্রব্য যোগানোর কারণে তাঁর উপর সাধারণভাবে নির্ভর করার চেয়েও অধিক। সেটি কিভাবে?
৪. কিভাবে ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের প্রমাণ যুগিয়েছিলেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য?
৪ ইস্রায়েলীয়দের যখন ৪০ বছর ধরে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল তখন ঈশ্বর তাদের জীবনের জন্য জরুরি সমস্ত দ্রব্য যোগানোর ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ছিলেন। (দ্বিতীয় বিবরণ ২:৭; ২৯:৫) তিনি নেতৃত্বও প্রদান করেছিলেন। এর একটি প্রকাশ ছিল দিনের বেলায় মেঘ এবং রাত্রিতে অগ্নির অবস্থিতি যা ইস্রায়েলীয়দের “সেই দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশে” পরিচালিত করেছিল। (যাত্রাপুস্তক ৩:৮; ৪০:৩৬-৩৮) প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করার জন্য যখন উপযুক্ত সময় এসেছিল যিহোবা মোশির উত্তরসূরি হিসাবে যিহোশূয়কে বেছে নিয়েছিলেন। সেই দেশের অধিবাসীরা বাধা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে যিহোবা তাঁর লোকেদের সঙ্গে চলেছিলেন তাই তাদের ভয় করার কোন কারণ ছিল না। যিহোবাকে একজন নির্ভরযোগ্য ঈশ্বর হিসাবে জানার জন্য ইস্রায়েলীয়দের কাছে সুদৃঢ় কারণ ছিল!
৫. আজকে খ্রীষ্টানদের পরিস্থিতি কিভাবে প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশের আগে ইস্রায়েলীয়দের পরিস্থিতির মত?
৫ আজকে খ্রীষ্টানেরা বর্তমান দুষ্ট জগতের প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের নতুন জগতের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তাদের কিছুজন হয়ত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পথে চলছেন। এখন তারা ঈশ্বরের নতুন জগতের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু এখনও পথে শত্রুরা রয়েছে যারা কাউকে না কাউকে প্রাচীনকালের দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশের চেয়েও আরও চমৎকার প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করা থেকে প্রতিহত করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। সুতরাং আজকে খ্রীষ্টানদের জন্য পৌলের দ্বারা পুনরাবৃত্ত, মোশির এই কথাগুলি কতই না উপযুক্ত: “আমি কোন ক্রমে তোমাকে ছাড়িব না, ও কোন ক্রমে তোমাকে ত্যাগ করিব না!” প্রত্যেকে যারা দৃঢ় ও সাহসী, পূর্ণবিশ্বাসী ও যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখবেন তাদের পুরস্কার নিশ্চিত।
জ্ঞান ও বন্ধুত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত আস্থা
৬, ৭. (ক) পরীক্ষার সময় কোন্ বিষয়টি অব্রাহামকে যিহোবার উপর আস্থা রাখতে পরিচালিত করেছিল? (খ) ইস্হাককে উৎসর্গ করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার সময় অব্রাহাম হয়ত কেমন বোধ করেছিলেন?
৬ এক সময় ইস্রায়েলীয়দের পূর্বপুরুষ অব্রাহামকে তার পুত্র ইস্হাককে হোমবলি হিসাবে উৎসর্গ করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছিল। (আদিপুস্তক ২২:২) কোন্ বিষয়টি এই প্রেমময় পিতাকে যিহোবার উপর এমন অটল আস্থা রাখতে সমর্থ করেছিল যে তিনি তৎক্ষণাৎ এই আদেশের বাধ্য হওয়ার জন্য ইচ্ছুক ছিলেন? ইব্রীয় ১১:১৭-১৯ পদ এর উত্তর দেয়: “বিশ্বাসে অব্রাহাম পরীক্ষিত হইয়া ইস্হাককে উৎসর্গ করিয়াছিলেন; এমন কি, যিনি প্রতিজ্ঞা সকল সানন্দে গ্রহণ করিয়াছিলেন, তিনি আপনার সেই একজাত পুত্ত্রকে উৎসর্গ করিতেছিলেন, যাঁহার বিষয়ে তাঁহাকে বলা হইয়াছিল, ‘ইস্হাকে তোমার বংশ আখ্যাত হইবে’; তিনি মনে স্থির করিয়াছিলেন, ঈশ্বর মৃতগণের মধ্য হইতেও উত্থাপন করিতে সমর্থ; আবার তিনি তথা হইতে দৃষ্টান্তরূপে তাঁহাকে ফিরিয়া পাইলেন।”
৭ স্মরণ করুন যে উৎসর্গ করার জায়গায় পৌঁছাতে অব্রাহাম ও ইস্হাকের তিনদিন সময় লেগেছিল। (আদিপুস্তক ২২:৪) তাকে যা করতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে আবারও ভেবে দেখার জন্য অব্রাহামের প্রচুর সময় ছিল। আমরা কি তার অনুভূতি ও তার আবেগ সম্বন্ধে কল্পনা করতে পারি? ইস্হাকের জন্ম ছিল তাদের কাছে এক অপ্রত্যাশিত আনন্দের বিষয়। এই স্পষ্ট ঐশিক আশীর্বাদ ঈশ্বরের সঙ্গে অব্রাহাম ও তার পূর্ব বন্ধ্যা স্ত্রী সারার সম্বন্ধ আরও গভীর করেছিল। তাই তারা নিশ্চয়ই ইস্হাক ও তার বংশধরদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে খুব ঔৎসুক্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছিলেন। এখন ঈশ্বর তাদের যা করতে বলছেন তা কি তাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যকে আকস্মিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল?
৮. কিভাবে ঈশ্বরের উপর অব্রাহামের আস্থা কেবল তিনি ইস্হাককে পুনরুত্থিত করতে পারেন এই বিষয়টিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল?
৮ তবুও, ব্যক্তিগত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে অব্রাহামের এমন আস্থা ছিল যা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একে অপরের প্রতি থাকে। “ঈশ্বরের বন্ধু” হিসাবে “অব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করিলেন, এবং তাহা তাঁহার পক্ষে ধার্ম্মিকতা বলিয়া গণিত হইল।” (যাকোব ২:২৩) যিহোবার উপর অব্রাহামের আস্থা, ঈশ্বর ইস্হাককে পুনরুত্থিত করতে পারেন কেবল এই বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। অব্রাহাম সমানভাবে প্রত্যয়ী ছিলেন যে যিহোবা তাকে যা করতে বলছেন তা সঠিক, যদিও তিনি সমস্ত তথ্য সম্বন্ধে জানতেন না। যিহোবা এই অনুরোধ করার ক্ষেত্রে ধার্মিক ছিলেন কি না সে সম্বন্ধে সন্দেহ করার কোন কারণ তিনি খুঁজে পাননি। তারপর, অব্রাহামের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছিল যখন যিহোবার দূত ইস্হাককে সত্যিই বলিরূপে হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন।—আদিপুস্তক ২২:৯-১৪.
৯, ১০. (ক) আগে কখন অব্রাহাম যিহোবার উপর আস্থা দেখিয়েছিলেন? (খ) অব্রাহামের কাছ থেকে আমরা কোন্ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে পারি?
৯ তখন থেকে প্রায় ২৫ বছর আগেও অব্রাহাম যিহোবার ধার্মিকতার প্রতি এইধরনের বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন। সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস হবে এই বিষয়ে সকর্তবার্তা পেয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার ধার্মিক অধিবাসীদের মঙ্গলের বিষয়ে চিন্তিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে তার ভাইপো লোটও ছিলেন। অব্রাহাম এই কথাগুলি বলে ঈশ্বরের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন: “দুষ্টের সহিত ধার্ম্মিকের বিনাশ করা, এই প্রকার কর্ম্ম আপনা হইতে দূরে থাকুক; ধার্ম্মিককে দুষ্টের সমান করা আপনা হইতে দূরে থাকুক। সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা কি ন্যায়বিচার করিবেন না?”—আদিপুস্তক ১৮:২৫.
১০ কূলপতি অব্রাহাম প্রত্যয়ী ছিলেন যে যিহোবা কখনও কোন অধার্মিকতা করেন না। গীতরচক পরবর্তী সময়ে গেয়েছিলেন: “সদাপ্রভু আপনার সমস্ত পথে ধর্ম্মশীল, আপনার সমস্ত কার্য্যে দয়াবান্।” (গীতসংহিতা ১৪৫:১৭) তাই আমরা নিজেদের এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে ভাল করব: ‘আমি কি যিহোবার ধার্মিকতার প্রতি সন্দেহ না করে তিনি আমাকে যা ভোগ করতে অনুমোদন করেন তা মেনে নিই? আমি কি প্রত্যয়ী যে তিনি যা কিছু অনুমোদন করেন তা আমার ও অন্যান্যদের মঙ্গলের জন্য?’ যদি আমাদের উত্তর হ্যাঁ হয়, আমরা অব্রাহামের কাছ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করেছি।
যিহোবার মনোনয়নের প্রতি আস্থা দেখানো
১১, ১২. (ক) ঈশ্বরের সেবকদের আস্থা রাখার প্রতি কোন্ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন? (খ) কখনও কখনও আমাদের জন্য কোন্ বিষয়টি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়?
১১ যারা যিহোবাকে তাদের আস্থা হিসাবে দেখে থাকেন, তারা যিহোবা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পন্ন করার জন্য কাজ করতে যে ব্যক্তিদের মনোনয়ন করেন তাদের প্রতিও আস্থা দেখান। ইস্রায়েলীয়দের জন্য এর অর্থ ছিল মোশি ও পরবর্তী সময়ে তার উত্তরসূরি যিহোশূয়ের প্রতি আস্থা দেখানো। প্রাথমিক খ্রীষ্টানদের জন্য এর অর্থ ছিল, প্রেরিত ও যিরূশালেম মণ্ডলীর প্রাচীন ব্যক্তিদের প্রতি আস্থা দেখানো। আজকে, আমাদের জন্য এর অর্থ “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” যারা আমাদের “উপযুক্ত সময়ে” আধ্যাত্মিক “খাদ্য” দেওয়ার জন্য নিযুক্ত তাদের ও একইভাবে তাদের মধ্যে থেকে যাদের নিয়ে পরিচালক গোষ্ঠী গঠিত হয়েছে তাদের উপর আস্থা রাখা।—মথি ২৪:৪৫.
১২ প্রকৃতপক্ষে, খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে যারা নেতৃত্ব নেন তাদের উপর আস্থা রাখা আমাদের নিজেদের জন্য মঙ্গল নিয়ে আসে। আমাদের বলা হয়েছে: “তোমরা তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও, কারণ নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া তাঁহারা তোমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য করিতেছেন,—যেন তাঁহারা আনন্দপূর্ব্বক সেই কার্য্য করেন, আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক না করেন; কেননা ইহা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়।”—ইব্রীয় ১৩:১৭.
যিহোবার মনোনয়নের প্রতি সন্দেহ করা পরিহার করুন
১৩. যারা নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য নিযুক্ত তাদের প্রতি আস্থা রাখার জন্য আমাদের কী কারণ রয়েছে?
১৩ যিহোবার লোকেদের মাঝে যারা নেতৃত্ব নিচ্ছেন তাদের প্রতি আস্থা দেখানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ হতে বাইবেল আমাদের সাহায্য করে। আমরা হয়ত নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে পারি: ‘মোশি কি কখনও ভুল করেননি? প্রেরিতেরা কি সবসময় খ্রীষ্টতুল্য মনোভাব দেখাতে পেরেছিলেন যা যীশু তাদের কাছ থেকে চেয়েছিলেন?’ উত্তরগুলি স্পষ্ট। তাঁর লোকেদের পরিচালনা দেওয়ার জন্য যিহোবা নিষ্ঠাবান ও উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিদের মনোনীত করেছেন, এমনকি যদিও তারা অসিদ্ধ পুরুষ। একইভাবে আজকেও প্রাচীনেরা অসিদ্ধ, তবুও তাদের ‘ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন করার জন্য অধ্যক্ষ [হিসাবে] পবিত্র আত্মা [দ্বারা নিযুক্ত]’ ব্যক্তি হিসাবে দেখা উচিত। তারা আমাদের সমর্থন ও সমাদরের যোগ্য।—প্রেরিত ২০:২৮.
১৪. নেতা হিসাবে হারোণ বা মরিয়মকে নয় কিন্তু যিহোবার মোশিকে মনোনীত করার ক্ষেত্রে কোন্ বিষয়টি লক্ষণীয়?
১৪ হারোণ মোশির চেয়ে তিন বছরের বড় ছিলেন কিন্তু তারা দুজনেই তাদের বোন মরিয়মের চেয়ে ছোট ছিলেন। (যাত্রাপুস্তক ২:৩, ৪; ৭:৭) আর যেহেতু হারোণ মোশির তুলনায় বাকপটু ছিলেন তিনি তার ভাইয়ের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করার জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন। (যাত্রাপুস্তক ৬:২৯–৭:২) তবুও, ইস্রায়েলীয়দের পরিচালনা দেওয়ার জন্য যিহোবা সবচেয়ে বড়জন মরিয়ম বা অত্যন্ত বাকপটু হারোণকে মনোনীত করেননি। সমস্ত দিক বিবেচনা করে ও সময়ের প্রয়োজনীয়তাকে চিন্তায় রেখে মোশিকে মনোনীত করা হয়েছিল। একসময় যখন হারোণ ও মরিয়মের এই অন্তর্দৃষ্টির অভাব ঘটেছিল তারা মোশির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন: “সদাপ্রভু কি কেবল মোশির সহিত কথা কহিয়াছেন? আমাদের সহিত কি কহেন নাই?” সম্ভবত মরিয়ম ছিলেন মুখ্য প্ররোচনাকারী, যিনি যিহোবার মনোনয়নের প্রতি অসম্মানজনক মনোভাব দেখিয়েছিলেন এবং শাস্তিও পেয়েছিলেন। কিন্তু তার ও হারোণের উচিত ছিল মোশিকে “ভূমণ্ডলস্থ মনুষ্যদের মধ্যে সকল অপেক্ষা . . . অতিশয় মৃদুশীল” ব্যক্তি হিসাবে দেখা।—গণনাপুস্তক ১২:১-৩, ৯-১৫.
১৫, ১৬. কিভাবে কালেব প্রমাণ দিয়েছিলেন যে যিহোবার প্রতি তার আস্থা ছিল?
১৫ যখন ১২ জন গুপ্তচরকে প্রতিজ্ঞাত দেশ পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছিল ১০ জন ফিরে এসে নেতিবাচক বিবৃতি দিয়েছিলেন। তারা ইস্রায়েলীয়দের মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিলেন এই বলে যে কনানীয়রা “ভীমকায়।” এর ফলে, ইস্রায়েলীয়রা “সকলে মোশির বিপরীতে ও হারোণের বিপরীতে বচসা করিল।” কিন্তু সমস্ত গুপ্তচর মোশি ও যিহোবার প্রতি আস্থার অভাব দেখাননি। আমরা পড়ি: “কালেব মোশির সাক্ষাতে লোকদিগকে ক্ষান্ত করণার্থে কহিলেন, আইস, আমরা একেবারে উঠিয়া গিয়া দেশ অধিকার করি; কেননা আমরা উহা জয় করিতে সমর্থ।” (গণনাপুস্তক ১৩:২, ২৫-৩৩; ১৪:২) কালেবের দৃঢ় পদক্ষেপকে তার সহ গুপ্তচর যিহোশূয় সমর্থন করেছিলেন। তারা দুজনেই দেখিয়েছিলেন যে যিহোবার উপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে যখন তারা বলেছিলেন: “সদাপ্রভু যদি আমাদিগেতে প্রীত হন, তবে তিনি আমাদিগকে সেই দেশে প্রবেশ করাইবেন, ও সেই দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশ আমাদিগকে দিবেন। কিন্তু . . . সে দেশের লোকদিগকে ভয় করিও না; . . . সদাপ্রভু আমাদের সহবর্ত্তী; তাহাদিগকে ভয় করিও না।” (গণনাপুস্তক ১৪:৬-৯) যিহোবার উপর এই আস্থা স্থাপন পুরস্কৃত হয়েছিল। সেই সময়ে জীবিত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কেবল কালেব, যিহোশূয় ও অল্প কিছু লেবীয়রা প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
১৬ কিছু বছর পরে কালেব বলেছিলেন: “আমি সম্পূর্ণরূপে আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগামী ছিলাম। . . . আর এখন, দেখ, প্রান্তরে ইস্রায়েলের ভ্রমণকালে যে সময়ে সদাপ্রভু মোশিকে সেই কথা বলিয়াছিলেন, সেই অবধি সদাপ্রভু আপন বাক্যানুসারে এই পঁয়তাল্লিশ বৎসর আমাকে জীবিত রাখিয়াছেন; আর এখন, দেখ, অদ্য আমার বয়স পঁচাশী বৎসর। মোশি যে দিন আমাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন, সেই দিন আমি যেমন বলবান ছিলাম, অদ্যাপি তদ্রূপ আছি; আমার তখন যেমন শক্তি ছিল, এখনও সেইরূপ শক্তি আছে।” (যিহোশূয় ১৪:৬-১১) কালেবের ইতিবাচক মনোভাব, তার বিশ্বস্ততা ও তার দৈহিক সামর্থ্যের বিষয়টি লক্ষ্য করুন। তবুও যিহোবা কালেবকে মোশির উত্তরাধিকারী হিসাবে মনোনীত করেননি। এই সুযোগটি যিহোশূয়কে দেওয়া হয়েছিল। আমরা প্রত্যয়ী হতে পারি যে তাঁর এই মনোনয়নের পিছনে যিহোবার উপযুক্ত কারণ ছিল আর এটিই ছিল সর্বোত্তম মনোনয়ন।
১৭. আপাতদৃষ্টিতে কোন্ বিষয়টি পিতরকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য মনে করিয়েছিল?
১৭ প্রেরিত পিতর তার প্রভুকে তিনবার অস্বীকার করেছিলেন। এছাড়াও তিনি মহাযাজকের দাসের কান কেটে অবিবেচকের মত নিজের হাতে বিষয়টিকে তুলে নিয়েছিলেন। (মথি ২৬:৪৭-৫৫, ৬৯-৭৫; যোহন ১৮:১০, ১১) কিছুজন হয়ত বলবেন যে পিতর ভীরুপ্রকৃতির, ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ছিলেন, বিশেষ অধিকারগুলি লাভ করার অযোগ্য ছিলেন। তবুও তিনটি দলের জন্য স্বর্গীয় আহ্বানের পথ খুলে দিতে কাকে রাজ্যের চাবিগুলি দেওয়া হয়েছিল? পিতরকেই।—প্রেরিত ২:১-৪১; ৮:১৪-১৭; ১০:১-৪৮.
১৮. যিহূদা যেমন উল্লেখ করেছিলেন তেমন কোন্ ভুল আমরা পরিহার করতে চাই?
১৮ এই উদাহরণগুলি আমাদের দেখায় যে আমাদের অবশ্যই বাহ্যিক চেহারা দেখে বিচার করার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। যদি আমরা যিহোবার উপর আস্থা রাখি, তবে আমরা তাঁর মনোনয়নের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করব না। যদিও তাঁর পার্থিব সংগঠন অসিদ্ধ মানুষদের নিয়ে গঠিত যাদের অভ্রান্ত বলে দাবি করা যায় না, তবুও তিনি এক বিস্ময়কর উপায়ে তাদের ব্যবহার করছেন। যীশুর অর্ধ-ভ্রাতা যিহূদা প্রথম-শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের তাদের থেকে সতর্ক করেছিলেন যারা “প্রভুত্ব অগ্রাহ্য করে, এবং যাহারা গৌরবের পাত্র, তাহাদের নিন্দা করে।” (যিহূদা ৮-১০) আমরা কখনও তাদের মত হব না।
১৯. কেন যিহোবার মনোনয়নের উপর আমাদের সন্দেহ করার কোন কারণ নেই?
১৯ স্পষ্টতই যিহোবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে, তাঁর অনুমোদিত পথে তাঁর লোকেদের পরিচালনা দেওয়ার জন্য কিছু দায়িত্ব পালনের জন্য সেই ব্যক্তিদের মনোনীত করেন যাদের সেই প্রয়োজনীয় বিশেষ গুণাবলি রয়েছে। আমাদের এই বিষয়টি বোঝার জন্য চেষ্টা করা উচিত। আমাদের ঈশ্বরের মনোনয়নের প্রতি সন্দেহ করা উচিত নয় কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগতভাবে যিহোবা যে স্থানে নিযুক্ত করেছেন, নম্রতার সঙ্গে সেই স্থানে থেকে পরিতৃপ্তভাবে তার সেবা করা উচিত। এইভাবে আমরা দেখাই যে আমরা যিহোবার উপর আস্থা রেখেছি।—ইফিষীয় ৪:১১-১৬; ফিলীপিয় ২:৩.
যিহোবার ধার্মিকতার প্রতি আস্থা দেখানো
২০, ২১. মোশির সঙ্গে ঈশ্বরের ব্যবহার থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
২০ আমরা যদি কোন সময় আমাদের নিজেদের উপর অতিরিক্ত আস্থা রাখি ও যিহোবার উপর খুবই কম, তাহলে আসুন আমরা মোশির কাছ থেকে কিছু শিখি। তিনি যখন ৪০ বছর বয়স্ক ছিলেন তিনি তার নিজস্ব পথে ইস্রায়েলীয়দের মিশরীয় বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন। কোন সন্দেহ নেই যে তার প্রচেষ্টা মহৎ ছিল কিন্তু সেটি তখনই ইস্রায়েলের মুক্তি নিয়ে আসেনি বা তার নিজের পরিস্থিতিরও কোন উন্নতি ঘটায়নি। বস্তুতপক্ষে তিনি পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেবল এক অপরিচিত দেশে ৪০ বছর শ্রমসাধ্য প্রশিক্ষণের পরই তিনি প্রথমে যা করতে চেয়েছিলেন তা করার জন্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন। এইসময় তিনি যিহোবার সহায়তার বিষয়ে প্রত্যয়ী ছিলেন কারণ তখন যিহোবার পথে বিষয়বস্তু পরিচালিত হচ্ছিল, এমন এক সময়ে যা তাঁর সময়সূচি অনুযায়ী উপযুক্ত ছিল।—যাত্রাপুস্তক ২:১১–৩:১০.
২১ আমরা প্রত্যেকে হয়ত নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে পারি: ‘আমি কি কখনও কখনও বিষয়গুলির জন্য তাড়াহুড়ো করে বা বিষয়গুলিকে নিজের মত করার চেষ্টায় যিহোবা ও মণ্ডলীতে নিযুক্ত প্রাচীনদের চেয়ে আগে যেতে চাই? কোন দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে অবহেলা করা হচ্ছে এইরকম না ভেবে আমি কি আমার চলমান প্রশিক্ষণ পর্বকে ইচ্ছুকভাবে মেনে নিই?’ মূলত মোশির কাছ থেকে আমরা কি কিছু শিক্ষা লাভ করেছি?
২২. এক মহৎ সুযোগ হারিয়েও মোশি যিহোবার সম্বন্ধে কেমন বোধ করেছিলেন?
২২ এছাড়াও, আমরা মোশির কাছ থেকে আর একটি শিক্ষা লাভ করতে পারি। গণনাপুস্তক ২০:৭-১৩ পদ আমাদের তার সেই ভুলের বিষয়ে বলে যার জন্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। তিনি প্রতিজ্ঞাত দেশে ইস্রায়েলীয়দের পরিচালিত করার সুযোগ হারিয়েছিলেন। তিনি কি তখন মনে করেছিলেন যে এই বিষয়ে যিহোবার সিদ্ধান্ত অন্যায্য? তিনি কি এক কোণায় বসে অর্থাৎ, একেবারে বিমর্ষ হয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে ঈশ্বর তার সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় আচরণ করেছেন? মোশি কি যিহোবার ধার্মিকতার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন? আমরা মোশির নিজের কথাগুলি থেকে তার উত্তর পাই যা তিনি তার মৃত্যুর অল্প কিছু আগে বলেছিলেন। যিহোবা সম্বন্ধে মোশি বলেছিলেন: “তাঁহার কর্ম্ম সিদ্ধ, কেননা তাঁহার সমস্ত পথ ন্যায্য; তিনি বিশ্বাস্য ঈশ্বর, তাঁহাতে অন্যায় নাই; তিনিই ধর্ম্মময় ও সরল।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪) একেবারে শেষ পর্যন্ত মোশি যিহোবার উপর তার আস্থা রেখেছিলেন। আমাদের সম্বন্ধে কী বলা যায়? যিহোবা ও তাঁর ধার্মিকতার প্রতি আমাদের আস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা কি ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছি? কিভাবে আমরা এটি করতে পারি? আসুন আমরা দেখি।
আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?
◻ যিহোবার উপর নির্ভর করার জন্য ইস্রায়েলীয়দের কোন্ কারণগুলি ছিল?
◻ অব্রাহামের কাছ থেকে আস্থা রাখা সম্বন্ধে কী শেখা যেতে পারে?
◻ কেন আমাদের যিহোবার মনোনয়নের প্রতি সন্দেহ পরিহার করা উচিত?
[১৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
যিহোবার উপর আস্থা রাখার অর্থ মণ্ডলীতে যারা নেতৃত্ব নেন তাদের সম্মান করা