আগ্নেয়গিরির ছায়ায় বাস ও প্রচার করা
“এটি খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ঠিক মনে হয়েছে যেন জগৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে, যে শেষ সম্বন্ধে বাইবেল বলে। আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক এবং সর্বদা যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়।” মেক্সিকোর পোপোকেটেপেটল আগ্নেয়গিরিটির খুব কাছে বাস করার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ভিক্টর নামে একজন যিহোবার সাক্ষী এই কথাগুলি বলেন। এই আগ্নেয়গিরিটি পোপো নামে সুপরিচিত।
এই গর্জনকারী আগ্নেয়গিরিটি ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক খবরের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।a কর্তৃপক্ষেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের আশেপাশে ৩০ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে যতটুকু এলাকা আছে তা অত্যন্ত বিপদজনক। বিশেষকরে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ দিকটি বেশি বিপদজনক কারণ এর জ্বালামুখটি ওই দিকে মুখ করা আর সেখানে অসংখ্য গভীর গিরিখাত রয়েছে যেগুলির জ্বালামুখ দিয়ে লাভা ও মাটি বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকে, এই আগ্নেয়গিরিটি থেকে খুব বড় আকারে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে মেক্সিকো শহরের কী হবে সেই সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন। শহরটি কি ঝুঁকির সম্মুখীন? আর আগ্নেয়গিরির দক্ষিণে মরেলস রাজ্যে বসবাসকারী সমস্ত লোকেরাও আছেন। সেই অঞ্চলের সকলেই কি বিপদের মধ্যে রয়েছেন? আর কখন কী ঘটতে পারে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে, এই আগ্নেয়গিরির ছায়ায় বাস করতেই বা কেমন লাগে?
আগ্নেয়গিরির বিপদ
প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল মেক্সিকো শহর, পোপোকেটেপেটলের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিন্তু এর কিছু সীমান্ত এলাকা মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২ কোটি জনসংখ্যা সহ সম্পূর্ণ মহানগরী বিপদসীমার বাইরে। কিন্তু, যদি আগ্নেয়গিরিটি থেকে অত্যধিক পরিমাণে ভস্ম নির্গত হয় তাহলে বায়ুর গতি অনুসারে এটি এই এলাকাটিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ভস্ম সাধারণত এর পূর্বাঞ্চলকে আরও তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পিউবলা শহর এবং আরও অসংখ্য শহর ও নগরীগুলি এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রায় ২,০০,০০০ জন লোক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেন। ১৯৯৭ সালের ১১ই মে রবিবার, আগ্নেয়গিরিটি বাতাসে বেশ কিছু টন ভস্ম উদ্গিরণ করে আর এটি সেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আর ওই ভস্ম পূর্ব দিকে ৩০০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি দূরে অবস্থিত ভেরাক্রুজ রাজ্য পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই আগ্নেয়গিরির দক্ষিণে মরেলস রাজ্যে, প্রায় ৪০,০০০ জন অধিবাসী সহ কয়েকটি শহর ও নগরীও গুরুতর বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
এই সমস্তকিছুর মাঝে যিহোবার সাক্ষীরা বাস করেন ও কাজ করে চলেন। মেক্সিকো শহরে প্রায় ১,৭০০টি মণ্ডলীতে তাদের সংখ্যা ৯০,০০০ জনের বেশি। ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা কার্যালয় মেক্সিকো শহরের বাইরে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত যেটি আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। শাখায় ৮০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন, এছাড়াও ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেন। তারা সকলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাইরে আছেন।
আগ্নেয়গিরির দক্ষিণে অবস্থিত মরেলস রাজ্যে যিহোবার সাক্ষীদের ৫০টি মণ্ডলী আছে যেগুলিতে প্রায় ২০০০ জনেরও বেশি রাজ্যের প্রকাশক আছেন। এগুলির মধ্যে কিছু মণ্ডলী টেটেলা ডেল ভলকান আর হিউয়াপ্যানে অবস্থিত যেগুলি জ্বালামুখ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এছাড়াও, পূর্বদিকের পিউবলা রাজ্যের মণ্ডলীগুলিতে প্রায় ৬০০ জন প্রকাশক আছেন যারা আগ্নেয়গিরি থেকে ২০ বা ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে বাস করেন। সত্যই তারা গুরুতর বিপদের মধ্যে পড়তে পারেন।
যিহোবার সাক্ষীরা সক্রিয় রয়েছেন
সবসময় বিপদের সম্ভাবনা সত্ত্বেও এই এলাকার যিহোবার সাক্ষীরা তাদের প্রচার কাজ বন্ধ করেননি। তারা তাদের খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সভার তালিকাও মেনে চলেছেন যা তাদের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও একতা ও প্রত্যয় যুগিয়ে থাকে। (ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫) একটি মণ্ডলীর এক বিবৃতি এইভাবে উল্লেখ করে: “রাজ্যের সুসমাচারের প্রতি লোকেদের মনোভাবের এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি একটি ছোট গ্রামে ১৮ জন ব্যক্তি বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হয়েছেন।”
আগ্নেয়গিরি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরেকটি মণ্ডলী জানায়: “উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হচ্ছে। এই মণ্ডলীটি ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে, ১০ জন ব্যক্তি ক্ষেত্রের পরিচর্যায় অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য হন। কিছু প্রকাশক আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করেন। সেখানে খ্রীষ্টীয় সভাগুলি অনুষ্ঠিত হয় আর সভায় উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় ৪০ জন।”
ম্যাগদেলিনা, পিউবলার সান অগাস্টিন একস্টাউয়েকস্টলায় বাস করেন, যে জায়গাটি আগ্নেয়গিরি থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। তিনি বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনায় খুবই সক্রিয়। এক বড় আকারের অগ্ন্যুৎপাতের পর যা ঘটেছিল সেই সম্বন্ধে তিনি বর্ণনা করেন।
“আমাদের জানানো হয়েছিল যে আমাদের ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত আর আমরা—ভস্মের বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে তা করেছিলাম। এই জরুরি অবস্থা সত্ত্বেও, আমি ডোরাডো পরিবারের কথা ভেবেছিলাম যাদের সঙ্গে আমি বাইবেল অধ্যয়ন করতাম। কয়েকজন ভাই ও আমি তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে সাহায্য করার জন্য তাদের বাড়ি গিয়েছিলাম। পিউবলার কাছাকাছি এক শহরে যিহোবার সাক্ষীদের ত্রাণ কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের কাজ শুরু করেছিল। আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছিল তাতে ডোরাডো পরিবার খুবই মুগ্ধ হয়েছিল। আমাদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, খ্রীষ্টীয় ভাইরা আমাদের জন্য আগেই তা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। যদিও আমরা ঘর থেকে অনেক দূরে ছিলাম কিন্তু আমাদের কোন কিছুরই অভাব হয়নি। এই পরিবার কিংডম হলে কিছু সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন, এছাড়া তারা ভাইদের দ্বারা প্রদর্শিত প্রেমের কারণে আশ্চর্য হয়েছিলেন, যে ভাইদের তারা কখনও দেখেননি। কিছু সপ্তাহ পরে আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে এসেছিলাম আর তখন থেকে এই পরিবার নিয়মিত সমস্ত সভায় উপস্থিত হতে শুরু করেছিলেন। শীঘ্রই তারা সুসমাচারের প্রকাশক হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে দুজন বাপ্তিস্ম নিয়েছেন। তারা কিছু মাস ধরে সহায়ক অগ্রগামী পরিচারক হিসাবে সেবা করেছেন আর এখন নিয়মিত অগ্রগামী হিসাবে সেবা শুরু করার বিষয়ে চিন্তা করছেন।”
মার্থা নামে ২০ বছরের একটি মেয়ে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে বাস করে। সে তার প্রচার কাজের প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করায় শারীরিক অক্ষমতাকে বাধা দিতে দেয়নি। তিন বছর আগে সে সত্য পেয়েছিল যখন আগ্নেয়গিরিটি আরও একবার সক্রিয় হয়েছিল। সে যেখানে বাস করত সেই জায়গাটি খুব খাড়া ঢালু ভূখণ্ড হওয়ায় হুইলচেয়ার ব্যবহার করা খুবই মুশকিল ছিল, তাই সে গাধার পিঠে চড়ে প্রচার কাজে অংশ নিত। সে সভাতেও গাধার পিঠে চড়ে আসত। মার্থা প্রেমপূর্ণ ভ্রাতৃত্বের অংশী হওয়ায় যিহোবার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ ছিল কারণ গাধার পিঠে ওঠা ও নামার জন্য তার মণ্ডলীর বোনেদের সাহায্যের প্রয়োজন হত। প্রত্যেক মাসে পরিচর্যায় সে ১৫ ঘন্টারও বেশি সময় ব্যয় করত।
এই বিচ্ছিন্ন স্থানগুলিতে যিহোবার সাক্ষীরা, প্রায়ই তাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাদের সঙ্গে ধর্মীয় ছুটির দিনগুলি উদ্যাপন করার জন্য চাপের সম্মুখীন হন। আগ্নেয়গিরিটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তুলসিংগো গ্রামে, ছুটির দিন উদ্যাপন করতে চাঁদা সংগ্রহের জন্য সাক্ষীদের কাছে যেতে একজন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ভাইরা ধৈর্যের সঙ্গে বুঝিয়েছিলেন যে কেন তারা এই ধর্মীয় ছুটির দিন পালনে অংশ নিতে পারেন না। সেই ব্যক্তি ভাইদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য এতই নাছোড়বান্দা ছিলেন যে তিনি তাদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন ও তাদের কিছু বিশ্বাস সম্বন্ধে জানতে পারেন। তিনি তার নিজস্ব ক্যাথলিক বাইবেল থেকে উত্তরগুলি পেয়ে খুব খুশি হন। এক বছর ধরে তিনি তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত সভায় আসছেন আর সুসমাচারের প্রকাশক হওয়ার জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কিভাবে আপনি প্রস্তুত হতে পারেন?
আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষণা চালিয়ে এই ভয়ংকর পোপোকেটেপেটল সম্বন্ধে সরকারি বিবৃতি দেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেউই জানে না যে কখন কী ঘটবে। সংবাদ মাধ্যম এবং এর কাছাকাছি বসবাসরত ব্যক্তিদের ধারণা অনুযায়ী যে কোন সময় আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে। বিপদের সম্ভাবনাটি বাস্তব। অবশ্যই, কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন এবং জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। কিন্তু বোঝা যায় যে সতর্কীকরণ দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সাবধান থাকতে হয়, কারণ যদি প্রকৃতই কোন বিপদ না আসে তাহলে তারা বিনা কারণে সমস্ত লোকেদের সেখান থেকে সরে যেতে বলতে চান না। তাহলে একজন ব্যক্তির কী করা উচিত?
“সতর্ক লোক বিপদ দেখিয়া আপনাকে লুকায়, কিন্তু অবোধ লোকেরা অগ্রে গিয়া দণ্ড পায়,” বাইবেলের একটি প্রবাদবাক্য জানায়। (হিতোপদেশ ২২:৩) তাই বিজ্ঞতার কাজ হল যতক্ষণ পর্যন্ত সুযোগের দরজা খোলা আছে, সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। আর কোন কিছুই ঘটবে না এমন ভাব করে ‘অগ্রে যাওয়া’ উচিত নয়, কারণ তা হবে এইধরনের ভয়াবহ প্রাকৃতিক শক্তিগুলির সঙ্গে লুকোচুরি খেলা। এই ব্যাপারটিকে ওই অঞ্চলের যিহোবার সাক্ষীরা এইভাবেই দেখে থাকেন।
সম্প্রতি ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা কার্যালয়ের প্রতিনিধিগণ পিউবলা রাজ্যের ভ্রমণ অধ্যক্ষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যাদের বিপদজনক এলাকায় অবস্থিত মণ্ডলীগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। ভ্রমণ অধ্যক্ষ ও ত্রাণ কমিটির সদস্যেরা যাতে আগ্নেয়গিরি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বাসকারী পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই পরিবারগুলিকে আকস্মিক বিপদ আসার আগেই বিপদজনক এলাকা থেকে সরে আসার বিষয়টি চিন্তা করতে সাহায্য করা হয়েছিল। ১,৫০০ জন লোকেদের পিউবলা শহরে নিয়ে যাওয়া ও সেখানে বসবাসের জন্য পরিবহণ ও ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিছু পরিবার অন্য শহরে তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে থাকার জন্য চলে গিয়েছিলেন।
এক ব্যাপক সতর্কবার্তা
পোপোকেটেপেটল থেকে ধোয়া, আগুন ও গর্জন স্পষ্ট সংকেত দেয় যে খুব শীঘ্রই অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে যাচ্ছে। যারা বাঁচতে চান তাদের সকলের অবশ্যই কর্তৃপক্ষদের দেওয়া সতর্কবার্তা শোনা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আগ্নেয়গিরির নিকটবর্তী অঞ্চলের যিহোবার সাক্ষীরা সবসময় সতর্ক থাকেন যাতে তারা নিজেরা সুরক্ষিত থাকতে পারেন ও একইসঙ্গে অন্যদের বিপদকেও বুঝতে ও খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই কিছু করতে সাহায্য করেন।
আরও ব্যাপকভাবে, যিহোবার সাক্ষীরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলির আলোকে জগতের ঘটনাগুলির বিষয়েও সতর্ক। যুদ্ধ, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, মহামারী এবং অপরাধ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতই তাৎপর্যপূর্ণ। এগুলি যীশু খ্রীষ্টের ভাববাণীকৃত এক যৌগিক চিহ্নের অংশ যেগুলি ‘যুগান্তকে’ চিহ্নিত করবে। ঠিক কখন শেষ আসবে সেই সম্বন্ধে যদিও কেউই সঠিকভাবে জানেন না, তবুও কোন সন্দেহ নেই যে এটি আসছে আর তা খুবই নিকটে।—মথি ২৪:৩, ৭-১৪, ৩২-৩৯.
আজকে সব জায়গার লোকেদের জন্য জরুরি প্রয়োজনটি হল যীশুর সতর্কবার্তাকে গুরুত্বপূর্ণভাবে নেওয়া: “আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে।” (লূক ২১:৩৪) স্পষ্টতই এটি বিজ্ঞতার পথ। ঠিক যেমন আগ্নেয়গিরির সতর্কতামূলক চিহ্নকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না, তেমনই আমাদের অবশ্যই মনুষ্যপুত্র, যীশু খ্রীষ্টের নিকটবর্তী হওয়াকে অগ্রাহ্য করা উচিত নয়, যিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন: “এই জন্য তোমরাও প্রস্তুত থাক, কেননা যে দণ্ড তোমরা মনে করিবে না, সেই দণ্ডে মনুষ্যপুত্ত্র আসিবেন।”—মথি ২৪:৪৪.
[পাদটীকাগুলো]
a ১৯৯৭ সালের ৮ই মার্চের সচেতন থাক! (ইংরাজি) পত্রিকা এই ভয়াবহ আগ্নেয়গিরিটি সম্বন্ধে বিবৃতি দিয়েছিল।
[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
পোপোকেটেপেটলের ছায়ায় অন্যান্য সাক্ষীদের সঙ্গে (গাধার পিঠে) মার্থা