ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৭/১ পৃষ্ঠা ৮-১৩
  • পুনরুত্থানে আপনার বিশ্বাস কতটা দৃঢ়?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • পুনরুত্থানে আপনার বিশ্বাস কতটা দৃঢ়?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে সন্দেহগুলি
  • মৃত্যুর পরের জীবন সম্বন্ধে খ্রীষ্টীয়জগতের দৃষ্টিভঙ্গি
  • মৃতদের জন্য প্রকৃত আশা
  • দেহ এবং অমর আত্মা
  • প্রাণের জন্য এক উত্তম আশা
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • মৃত্যুর পরে জীবন—বাইবেল কী বলে?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৭/১ পৃষ্ঠা ৮-১৩

পুনরুত্থানে আপনার বিশ্বাস কতটা দৃঢ়?

“আমিই পুনরুত্থান ও জীবন; যে আমাতে বিশ্বাস করে, সে মরিলেও জীবিত থাকিবে।”—যোহন ১১:২৫.

১, ২. কেন যিহোবার একজন উপাসকের পুনরুত্থানের আশায় দৃঢ়বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন?

পুনরুত্থানে আপনার আশা কতটা দৃঢ়? এটি কি মৃত্যুভয়ের বিরুদ্ধে আপনাকে শক্তিশালী করে এবং যখন আপনি মৃত্যুতে আপনার প্রিয়জনকে হারান তখন সান্ত্বনা দেয়? (মথি ১০:২৮; ১ থিষলনীকীয় ৪:১৩) আপনি কি প্রাচীনকালের ঈশ্বরের দাসদের অনেকের মত যারা পুনরুত্থানে বিশ্বাস স্থাপনের দ্বারা শক্তিশালী হয়ে কশাঘাত, বিদ্রূপ, দৈহিক যন্ত্রণা ও কারাদন্ড ভোগ করেছিলেন?—ইব্রীয় ১১:৩৫-৩৮.

২ হ্যাঁ, যিহোবার একজন সত্য উপাসকের এই বিষয়ে একেবারেই সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে পুনরুত্থান হবেই আর এই দৃঢ়বিশ্বাসের তিনি যেভাবে জীবনযাপন করেন তার উপর প্রভাব ফেলা উচিত। ঈশ্বরের নিরূপিত সময়ে সমুদ্র, মৃত্যু এবং পাতাল তাদের মধ্যবর্তী মৃতগণকে সমর্পণ করবে এবং এই পুনরুত্থিত ব্যক্তিদের এক পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকার প্রত্যাশা থাকবে সেই বিষয়গুলি চিন্তা করা চমৎকার।—প্রকাশিত বাক্য ২০:১৩; ২১:৪, ৫.

ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে সন্দেহগুলি

৩, ৪. মৃত্যুর পরের জীবন সম্বন্ধে অনেকের এখনও কী বিশ্বাস রয়েছে?

৩ খ্রীষ্টীয়জগৎ দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা দিয়ে আসছে যে মৃত্যুর পরে জীবন আছে। ইউ.এস. ক্যাথলিক পত্রিকার একটি প্রবন্ধ বলেছিল: “যুগ যুগ ধরে, খ্রীষ্টানেরা শান্তি ও সন্তুষ্টি, পরিতৃপ্তি এবং সুখময় অপর একটি জীবনের প্রত্যাশায় এই জীবনের হতাশা ও দুঃখকষ্টগুলির সাথে মোকাবিলা করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন।” যদিও খ্রীষ্টীয়জগতের বেশ কিছু দেশে, লোকেরা ধর্মীয় শাসন বর্জনকারী এবং ধর্ম সম্বন্ধে কিছুটা সমালোচনাকারীতে পরিণত হয়েছেন, তবুও অনেকে এখনও মনে করেন যে মৃত্যুর পর অবশ্যই কিছু আছে। কিন্তু সেখানে অনেক কিছুই আছে যে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

৪ টাইম পত্রিকার একটি প্রবন্ধ মন্তব্য করেছিল: “লোকেরা এখনও [পরকালে] বিশ্বাস করেন: কিন্তু এটি ঠিক কী, সেই সম্বন্ধে তাদের ধারণা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের পাদ্রিদেরকে এই বিষয়ে খুব কমই বলতে শুনে থাকেন।” কেন ধর্মীয় যাজকগণ পরকাল সম্বন্ধে যতটা বলতে অভ্যস্ত ছিলেন এখন তার চেয়ে কম বলেন? ধর্মসংক্রান্ত পণ্ডিত ব্যক্তি জেফ্রি বার্টন রাসেল বলেন: “আমি মনে করি [যাজকগণ] বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান কারণ তারা মনে করেন যে তাদেরকে জনপ্রিয় সন্দেহবাদের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হবে।”

৫. আজকে অনেকে নরকাগ্নি মতবাদটিকে কিভাবে দেখে থাকেন?

৫ অনেক গির্জা পরকাল বলতে স্বর্গ ও অগ্নিময় নরককের ধারণা দিয়ে থাকে। আর পাদ্রিবর্গ যদি স্বর্গ সম্বন্ধে কথা বলতে অনিচ্ছুক হয়ে থাকেন, তবে তারা নরক সম্বন্ধে কথা বলতে আরও বেশি অনিচ্ছুক হন। একটি সংবাদপত্র প্রবন্ধ বলেছিল: “বর্তমানে এমনকি গির্জাগুলি যেগুলি এক আক্ষরিক নরকে অনন্তকালীন শাস্তিতে বিশ্বাস করে . . . মতবাদটির গুরুত্বকে খর্ব করে।” বাস্তবিকপক্ষে, অধিকাংশ আধুনিক ঈশ্বরতত্ত্ববিদ এখন আর নরককে যাতনার আক্ষরিক স্থান বলে বিশ্বাস করেন না, যেভাবে মধ্য যুগে শিক্ষা দেওয়া হত। পরিবর্তে, তারা নরকের আরও “মানবিক” রূপকে পছন্দ করেন। অনেক আধুনিকতাবাদীর মতানুসারে, নরকে পাপীরা আক্ষরিকভাবে যন্ত্রণা পায় না কিন্তু তারা “ঈশ্বর থেকে আধ্যাত্মিক বিচ্ছিন্নতার” কারণে কষ্টভোগ করে।

৬. কিভাবে কিছুজন দেখতে পান যে তাদের বিশ্বাস অপর্যাপ্ত যখন তারা দুঃখজনক ঘটনার সম্মুখীন হন?

৬ আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আঘাত না করার জন্য গির্জার মতবাদকে নমনীয় করা হয়ত কিছুজনকে অন্যদের নজরে জনপ্রিয় থাকতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তা লক্ষ লক্ষ আন্তরিক গির্জাগামীদের সংশয়ে ফেলে দেয় যে প্রকৃতপক্ষে তারা কী বিশ্বাস করবেন। তাই, যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হন, তারা প্রায়ই দেখতে পান যে তাদের বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। তাদের মনোভাব সেই মহিলার সাথে মেলে যিনি এক দুঃখজনক দুর্ঘটনায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারিয়েছিলেন। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে তার ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিল কি না, তখন তিনি দ্বিধাগ্রস্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন: “বোধহয় দিয়েছিল।” কিন্তু তিনি যদি আস্থার সঙ্গেই উত্তর দিতেন যে তার ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে সাহায্য করেছিল, তবুও কোন্‌ দীর্ঘমেয়াদী উপকার তার হত যদি তার বিশ্বাস সঠিক বিষয় ভিত্তিকই না হয়? প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ গির্জা ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে যা শিক্ষা দেয় তা বাইবেলের শিক্ষাগুলি থেকে একেবারে ভিন্ন।

মৃত্যুর পরের জীবন সম্বন্ধে খ্রীষ্টীয়জগতের দৃষ্টিভঙ্গি

৭. (ক) অধিকাংশ গির্জাগুলির কোন্‌ বিশ্বাসটি একই? (খ) কিভাবে একজন ঈশ্বরতত্ত্ববিদ অমর আত্মার মতবাদটি বর্ণনা করেছিলেন?

৭ মতভেদ সত্ত্বেও, খ্রীষ্টীয়জগতের প্রায় সমস্ত দলগুলি একমত যে মানুষের একটি অমর আত্মা রয়েছে যা দেহের মৃত্যুর পরও জীবিত থাকে। অধিকাংশই বিশ্বাস করেন, একজন ব্যক্তি যখন মারা যান তখন তার আত্মা হয়ত স্বর্গে যায়। কেউ কেউ ভয় পান যে তাদের আত্মা হয়ত এক অগ্নিময় নরক অথবা পুরগাতরীতে যেতে পারে। কিন্তু অমর আত্মার ধারণাটিই হল ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দু। ঈশ্বরতত্ত্ববিদ অস্কার কুলম্যান, অমরত্ব এবং পুনরুত্থান (ইংরাজি) বইটিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে এই বিষয়ের উপর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: “আমরা যদি আজকে একজন সাধারণ খ্রীষ্টানকে জিজ্ঞাসা করি . . . মৃত্যুর পরে একজন ব্যক্তির পরিণতি সম্বন্ধীয় নতুন নিয়মের শিক্ষার বিষয়ে তিনি কী মনে করেন, অল্প কিছু ব্যতিক্রম সহ এই উত্তরটি আমরা পাব: ‘আত্মা অমর।’” কিন্তু, কুলম্যান আরও বলেছিলেন: “এই বিস্তৃত ধারণাটি খ্রীষ্টতত্ত্বের সর্ববৃহৎ ভুল চিন্তাধারার একটি।” কুলম্যান উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি যখন প্রথমে এটি বলেছিলেন তখন জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়েছিল। তবুও, তিনিই সঠিক ছিলেন।

৮. যিহোবা প্রথম পুরুষ ও নারীর সম্মুখে কোন্‌ আশা রেখেছিলেন?

৮ মৃত্যুর পরে স্বর্গে যাওয়ার জন্য যিহোবা মানুষকে সৃষ্টি করেননি। এমনকি এটি তাঁর আদি উদ্দেশ্যও ছিল না যে তারা মারা যাবে। আদম ও হবাকে সিদ্ধ অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছিল ও পৃথিবীকে ধার্মিক সন্তানসন্ততি দ্বারা পরিপূর্ণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। (আদিপুস্তক ১:২৮; দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪) আমাদের আদি পিতামাতাকে বলা হয়েছিল যে একমাত্র ঈশ্বরের অবাধ্য হলে তারা মারা যাবে। (আদিপুস্তক ২:১৭) তারা যদি তাদের স্বর্গীয় পিতার বাধ্য থাকত, তাহলে তারা পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারত।

৯. (ক) মানুষের কি একটি অমর আত্মা আছে? (খ) মানুষ যখন মারা যায় তখন তার কী হয়?

৯ কিন্তু, দুঃখের বিষয় যে আদম ও হবা ঈশ্বরের বাধ্য থাকতে পারেনি। (আদিপুস্তক ৩:৬, ৭) প্রেরিত পৌল দুঃখজনক পরিণতিগুলি বর্ণনা করেছিলেন: “যেমন এক মনুষ্য দ্বারা পাপ, পাপ দ্বারা মৃত্যু জগতে প্রবেশ করিল; আর এই প্রকারে মৃত্যু সমুদয় মনুষ্যের কাছে উপস্থিত হইল, কেননা সকলেই পাপ করিল।” (রোমীয় ৫:১২) পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকার পরিবর্তে আদম ও হবা মারা গিয়েছিল। তখন কী হয়েছিল? তাদের মধ্যে কি কোন অমর আত্মা ছিল যা তাদের পাপের কারণে অগ্নিময় নরকে স্থানান্তর করা যেতে পারত? যখন আদম ও হবা মারা গিয়েছিল, তখন তারা সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। পরিশেষে, তাদের প্রতি ঠিক তাই ঘটেছিল যেমন যিহোবা আদমকে বলেছিলেন: “তুমি ঘর্ম্মাক্ত মুখে আহার করিবে, যে পর্য্যন্ত তুমি মৃত্তিকায় প্রতিগমন না করিবে; তুমি ত তাহা হইতেই গৃহীত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিবে।”—আদিপুস্তক ৩:১৯.

১০, ১১. ডন ফ্লেমিং দ্বারা প্রণীত বাইবেল অভিধান (হিন্দী) আত্মার বিষয়ে বাইবেলের শিক্ষা সম্বন্ধে কী স্বীকার করে এবং বাইবেলের শিক্ষাগুলির সঙ্গে এটি কিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

১০ মূলত, ডন ফ্লেমিং দ্বারা প্রণীত হিন্দী বাইবেল অভিধান এটির সঙ্গে একমত। আত্মা সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে এটি বলে: “পুরাতন নিয়মের লেখকগণ কখনও ইঙ্গিত করেননি যে আত্মা হল এমন কিছু যা দেহ থেকে স্বাধীনরূপে বিদ্যমান। তাদের কাছে আত্মার (নেফিস) অর্থ ছিল জীবন। জীবজন্তু ও মানুষ উভয়েই নেফিস, অর্থাৎ ‘জীবন-ধারক।’ বাইবেলের পুরনো ইংরেজি সংস্করণগুলি ‘মনুষ্য সজীব আত্মা (প্রাণী) হইল’ তাদের এই অনুবাদের দ্বারা অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। (আদিপুস্তক ২:৭) অন্য অনুবাদগুলি পূর্বের শাস্ত্রপদগুলির মত এটিকে সজীব প্রাণী হিসাবে অনুবাদ করে। (আদিপুস্তক ১:২১, ২৪)” এটি আরও বলে যা বাইবেলে রয়েছে: “মানুষ এক নির্জীব দেহ এবং এক দেহহীন প্রাণ দ্বারা তৈরি বলে আমাদের মনে করা উচিত নয়। পরিবর্তে সে একজনই। এই নেফিস ‘ব্যক্তি’ হিসাবেও অনূদিত হতে পারে।” এইধরনের স্পষ্ট অভিব্যক্তি সতেজতামূলক কিন্তু একজন যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করতে পারেন কেন সর্বসাধারণ গির্জাগামীদের এই তথ্যগুলি সম্বন্ধে সচেতন করা হয়নি।

১১ কতটা উদ্বেগ ও ভয় থেকে গির্জাগামীরা মুক্তি পেতেন যদি তাদের বাইবেলের সরল সত্য সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়া হত যে: মানুষের ভিতর অমর কোন অংশ নেই যা মৃত্যুতে মুক্ত হয় এবং শাস্তি ভোগ করে। যদিও এটি খ্রীষ্টীয়জগৎ যা শেখায় তার চেয়ে একেবারে ভিন্ন কিন্তু এটি বিজ্ঞ ব্যক্তি শলোমন অনুপ্রাণিত হয়ে যা বলেছিলেন তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ: “জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না, এবং তাহাদের [এই জীবনে] আর কোন ফলও হয় না, কারণ লোকে তাহাদের বিষয় ভুলিয়া গিয়াছে। তোমার হস্ত যে কোন কার্য্য করিতে পায়, তোমার শক্তির সহিত তাহা কর; কেননা তুমি যে স্থানে যাইতেছ, সেই পাতালে [মানবজাতির সাধারণ কবরে] কোন কার্য্য কি সঙ্কল্প, কি বিদ্যা কি প্রজ্ঞা, কিছুই নাই।”—উপদেশক ৯:৫, ১০.

১২. অমর আত্মা সম্বন্ধে খ্রীষ্টীয়জগৎ কোথা থেকে এর শিক্ষাগুলি পেয়েছিল?

১২ কেন খ্রীষ্টীয়জগৎ এমন কিছু শেখায় যেটি বাইবেল যা বলে তার থেকে একেবারে ভিন্ন? নিউ ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া বলে যে প্রাথমিক চার্চ ফাদারগণ এক অমর আত্মায় বিশ্বাসের জন্য সমর্থন পেয়েছিলেন, বাইবেলে নয় কিন্তু “কবি ও দার্শনিক এবং গ্রীক ধারণার সাধারণ ঐতিহ্যে . . . পরে, পণ্ডিতগণ প্লেটো অথবা অ্যারিস্টটলের নীতিগুলি ব্যবহার করাকে বেছে নিয়েছিলেন।” এটি উল্লেখ করে যে “প্লেটোনিক এবং নব-প্লেটোনিক ধারণার প্রভাব”—যার অন্তর্ভুক্ত ছিল অমর আত্মায় বিশ্বাস—পরিশেষে “খ্রীষ্টীয় ঈশ্বরতত্ত্বের ভিত্তিমূলে” প্রবেশ করানো হয়েছিল।

১৩, ১৪. পৌত্তলিক গ্রীক দার্শনিকদের দ্বারা জ্ঞানালোকপ্রাপ্ত হওয়ার আশা কেন অযৌক্তিক?

১৩ যারা খ্রীষ্টান হিসাবে দাবি করেন তাদের কি মৃত্যুর পরের জীবন সম্বন্ধীয় আশার মত মৌলিক শিক্ষার জন্য পৌত্তলিক গ্রীক দার্শনিকদের প্রতি তাকানো উচিত ছিল? অবশ্যই নয়। গ্রীসের করিন্থে বসবাসরত খ্রীষ্টানদের প্রতি যখন প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “এই জগতের যে জ্ঞান, তাহা ঈশ্বরের নিকটে মূর্খতা। কারণ লেখা আছে, ‘তিনি জ্ঞানবান্‌দিগকে তাহাদের ধূর্ত্ততায় ধরেন।’ পুনশ্চ, ‘প্রভু জ্ঞানবান্‌দের তর্কবিতর্ক জানেন যে, সে সকল অসার।’” (১ করিন্থীয় ৩:১৯, ২০) প্রাচীন গ্রীকেরা প্রতিমাপূজক ছিলেন। তাহলে, কিভাবে তারা সত্যের উৎস হতে পারেন? পৌল করিন্থীয়দের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “প্রতিমাদের সহিত ঈশ্বরের মন্দিরেরই বা কি সম্পর্ক? আমরাই ত জীবন্ত ঈশ্বরের মন্দির, যেমন ঈশ্বর বলিয়াছেন, ‘আমি তাহাদের মধ্যে বসতি করিব ও গমনাগমন করিব; এবং আমি তাহাদের ঈশ্বর হইব, ও তাহারা আমার প্রজা হইবে।’”—২ করিন্থীয় ৬:১৬.

১৪ পবিত্র সত্যগুলি প্রথমে ইস্রায়েল জাতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। (রোমীয় ৩:১, ২) সা.কা. ৩৩ সালের পর, এটি প্রথম শতাব্দীর অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মাধ্যমে করা হয়েছিল। পৌল প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে, উল্লেখ করেছিলেন: “আমাদের কাছে ঈশ্বর তাঁহার আত্মা দ্বারা [বিষয়গুলি যাহারা তাঁহাকে ভালবাসেন তাহাদের জন্য প্রস্তুত করা হইয়াছিল] তাহা প্রকাশ করিয়াছেন।” (১ করিন্থীয় ২:১০. এছাড়াও প্রকাশিত বাক্য ১:১, ২ পদ দেখুন।) খ্রীষ্টীয়জগতের আত্মার অমরত্বের মতবাদ গ্রীক দর্শন থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি ইস্রায়েলের কাছে ঈশ্বরের প্রকাশিত তথ্যগুলির মাধ্যমে অথবা প্রথম শতাব্দীর অভিষিক্ত খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

মৃতদের জন্য প্রকৃত আশা

১৫. যীশুর মতানুসারে, মৃতদের জন্য প্রকৃত আশা কী?

১৫ অমর আত্মা যদি না থাকে তাহলে মৃতদের জন্য প্রকৃত আশাটি কী? এটি অবশ্যই পুনরুত্থান, বাইবেলের একটি মুখ্য মতবাদ এবং প্রকৃতই চমৎকার একটি ঐশিক প্রতিজ্ঞা। যীশু পুনরুত্থানের আশাকে তুলে ধরেছিলেন যখন তিনি তাঁর বন্ধু মার্থাকে বলেছিলেন: “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন; যে আমাতে বিশ্বাস করে, সে মরিলেও জীবিত থাকিবে।” (যোহন ১১:২৫) যীশুতে বিশ্বাস করার অর্থ পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা, এক অমর আত্মায় নয়।

১৬. পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা কেন যুক্তিসংগত?

১৬ যীশু পূর্বেও পুনরুত্থান সম্বন্ধে কথা বলেছিলেন যখন তিনি কিছু যিহূদীকে বলেছিলেন: “ইহাতে আশ্চর্য্য মনে করিও না; কেননা এমন সময় আসিতেছে, যখন কবরস্থ সকলে তাঁহার রব শুনিবে এবং . . . বাহির হইয়া আসিবে।” (যোহন ৫:২৮, ২৯) এখানে যীশু যে বিষয়ে বর্ণনা করেন তা দেহের মৃত্যুতে অমর আত্মার মুক্ত হওয়া ও সরাসরি স্বর্গে যাওয়া থেকে একেবারে ভিন্ন। এটি হল, যে লোকেরা অনেক শতাব্দী এমনকি সহস্র সহস্র বছর ধরে কবরে আছেন তাদের ভবিষ্যৎ ‘বাহির হওয়া।’ অর্থাৎ মৃত লোকেদের জীবনে ফিরে আসা। এটি কি অসম্ভব? ঈশ্বরের কাছে নয় “যিনি মৃতগণকে জীবন দেন, এবং যাহা নাই, তাহা আছে বলেন।” (রোমীয় ৪:১৭) সন্দেহবাদীরা হয়ত মৃত অবস্থা থেকে লোকেদের ফিরে আসার ধারণাকে বিদ্রূপ করতে পারেন কিন্তু এটি “ঈশ্বর প্রেম” এবং “যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কারদাতা,” এই বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সংগতিপূর্ণ।—১ যোহন ৪:১৬; ইব্রীয় ১১:৬.

১৭. পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈশ্বর কী সম্পাদন করবেন?

১৭ আর, ঈশ্বর কিভাবে যারা “মরণ পর্য্যন্ত বিশ্বস্ত” ছিলেন তাদের পুরস্কৃত করতে পারতেন যদি তাদের জীবনে ফিরিয়ে না আনতেন? (প্রকাশিত বাক্য ২:১০) এছাড়াও পুনরুত্থান, প্রেরিত যোহন যে বিষয়ে লিখেছিলেন তা ঈশ্বরের পক্ষে সম্পাদন করাকে সম্ভব করে: “ঈশ্বরের পুত্ত্র এই জন্যই প্রকাশিত হইলেন, যেন দিয়াবলের কার্য্য সকল লোপ করেন।” (১ যোহন ৩:৮) অতীতে এদন উদ্যানে, শয়তান সমগ্র মানব জাতির হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছিল যখন সে আমাদের আদি পিতামাতাকে পাপ ও মৃত্যুতে পরিচালিত করেছিল। (আদিপুস্তক ৩:১-৬; যোহন ৮:৪৪) যীশু যখন আদমের স্বেচ্ছাচারী অবাধ্যতার ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পাপের দাসত্ব থেকে মানবজাতির মুক্তির পথ খুলে দেওয়ার জন্য তাঁর সিদ্ধ জীবন এক অনুরূপ মুক্তির মূল্য হিসাবে দেন তখন তিনি শয়তানের কাজ লোপ করতে শুরু করেছিলেন। (রোমীয় ৫:১৮) আদমজাত পাপের কারণে যারা মারা যান তাদের পুনরুত্থান হবে দিয়াবলের কাজের আরও একটি লোপ।

দেহ এবং অমর আত্মা

১৮. যীশু যে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন সেই বিষয়ে পৌলের বক্তব্যে কিছু গ্রীক দার্শনিকগণ কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবং কেন?

১৮ প্রেরিত পৌল আথীনীয়তে থাকাকালীন, সেখানকার এক জনতার কাছে সুসমাচার প্রচার করেছিলেন যাদের মধ্যে কিছু গ্রীক দার্শনিক ছিলেন। তারা একজন সত্য ঈশ্বর সম্বন্ধে তার আলোচনা এবং অনুতপ্ত হওয়ার আহ্বান শুনেছিলেন। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল? পৌল তার বক্তৃতা শেষ করেন এই বলে: “[ঈশ্বর] একটী দিন স্থির করিয়াছেন, যে দিনে আপনার নিরূপিত ব্যক্তি দ্বারা ন্যায়ে জগৎসংসারের বিচার করিবেন; এই বিষয়ে সকলের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিয়াছেন, ফলতঃ মৃতগণের মধ্য হইতে তাঁহাকে উঠাইয়াছেন।” ওই বাক্যগুলি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। “তখন মৃতগণের পুনরুত্থানের কথা শুনিয়া কেহ কেহ উপহাস করিতে লাগিল।” (প্রেরিত ১৭:২২-৩২) ঈশ্বরতত্ত্ববিদ অস্কার কুলম্যান মন্তব্য করেন: “গ্রীকেরা যারা অমর আত্মায় বিশ্বাস করতেন, অন্যান্যদের চেয়ে তাদের পক্ষে পুনরুত্থান সম্বন্ধীয় খ্রীষ্টীয় প্রচার গ্রহণ করা কঠিন হয়েছিল। . . . মহান দার্শনিক সক্রেটিস ও প্লেটোর শিক্ষাকে কোনভাবেই নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যে [ঐক্যে] আনা যেতে পারে না।”

১৯. কিভাবে খ্রীষ্টীয়জগতের ঈশ্বরতত্ত্ববিদগণ পুনরুত্থানের শিক্ষাকে অমর আত্মার মতবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চেষ্টা করেছিলেন?

১৯ কিন্তু, প্রেরিতদের মৃত্যুর পর ব্যাপক ধর্মভ্রষ্টতার পরে, ঈশ্বরতত্ত্ববিদগণ অমর আত্মা সম্বন্ধীয় প্লেটোর দার্শনিক মতের সঙ্গে পুনরুত্থানবিষয়ক খ্রীষ্টীয় শিক্ষাকে মিশ্রিত করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করেছিলেন। কিছুকাল পরে কেউ কেউ এক অভিনব ব্যাখ্যায় একমত হয়েছিলেন: মৃত্যুতে, আত্মা দেহ থেকে পৃথক (“মুক্ত হয়,” যেমন কেউ কেউ এটিকে এইভাবে তুলে ধরেন) হয়। আর. জে. কুক দ্বারা প্রণীত পুনরুত্থানের মতবাদ সম্বন্ধীয় পরিলেখগুলি (ইংরাজি) অনুসারে, বিচারের দিনে “প্রতিটি দেহ পুনরায় এর নিজ আত্মা এবং প্রতিটি আত্মা এর নিজ দেহের সঙ্গে মিলিত হবে।” দেহের সঙ্গে এর অমর আত্মার ভবিষ্যৎ পুনর্মিলনকে পুনরুত্থান বলা হয়েছে।

২০, ২১. কাদের পুনরুত্থান সম্বন্ধীয় সত্য সংগতিপূর্ণরূপে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এটি কিভাবে তাদের উপকৃত করেছে?

২০ এই তত্ত্ব এখনও প্রতিষ্ঠিত গির্জাগুলির অনুমোদিত মতবাদ। যদিও এইধরনের একটি ধারণা একজন ঈশ্বরতত্ত্ববিদের কাছে যুক্তিসংগত বলে মনে হয়, অধিকাংশ গির্জাগামীরা এর সঙ্গে পরিচিত নন। তারা সরলভাবে বিশ্বাস করেন যে তারা যখন মারা যাবেন তখন সরাসরি স্বর্গে যাবেন। এই কারণে, ১৯৯৫ সালের ৫ই মে সংখ্যার কমনওয়েল-এ লেখক জন গারভে অভিযোগ করেছিলেন: “[মৃত্যুর পরে জীবন সম্বন্ধে] অধিকাংশ খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস, যা কিছু সত্যই খ্রীষ্টীয় তার চেয়ে বরঞ্চ নব-প্লেটোনিকবাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বলে মনে হয় এবং এর কোন বাইবেলসংক্রান্ত ভিত্তি নেই।” বাস্তবিকপক্ষে, পেল্টোর দর্শন ও বাইবেলের শিক্ষাকে বিনিময় করার দ্বারা খ্রীষ্টীয়জগতের পাদ্রিশ্রেণী তাদের পালের জন্য বাইবেলের পুনরুত্থানের আশাকে ম্লান করে দিয়েছিলেন।

২১ অপরপক্ষে, যিহোবার সাক্ষীরা পৌত্তলিক দর্শনকে অগ্রাহ্য করেন এবং পুনরুত্থান সম্বন্ধীয় বাইবেলের শিক্ষাগুলিকে মেনে চলেন। তারা এইধরনের শিক্ষাকে গঠনমূলক, সন্তোষজনক এবং সান্ত্বনাদায়ক মনে করেন। পরবর্তী প্রবন্ধগুলিতে, আমরা দেখব যে পার্থিব আশাসম্পন্ন এবং স্বর্গীয় জীবনে পুনরুত্থানের প্রত্যাশাসম্পন্ন উভয় শ্রেণীর জন্য পুনরুত্থান সম্বন্ধীয় বাইবেলের শিক্ষা কতটা সুপ্রতিষ্ঠিত ও যুক্তিযুক্ত। এই প্রবন্ধগুলি বিবেচনার প্রস্তুতিস্বরূপ, আমরা আপনাকে করিন্থীয়দের প্রতি লেখা প্রথম পত্রের ১৫ অধ্যায়টি যত্ন সহকারে পড়তে পরামর্শ দিই।

আপনার কি স্মরণে আছে?

◻ কেন আমাদের পুনরুত্থানে দৃঢ়বিশ্বাস গড়ে তোলা উচিত?

◻ আদম ও হবার সম্মুখে যিহোবা কোন্‌ প্রত্যাশা রেখেছিলেন?

◻ গ্রীক দর্শনে সত্য খোঁজা কেন অযৌক্তিক?

◻ কেন পুনরুত্থান একটি যুক্তিসংগত আশা?

[১০ পৃষ্ঠার চিত্র]

যখন আমাদের আদি পিতামাতা পাপ করেছিল, তারা পৃথিবীতে অনন্ত জীবনের আশা হারিয়েছিল

[১২ পৃষ্ঠার চিত্র]

গির্জার পণ্ডিতেরা অমর আত্মা সম্বন্ধীয় প্লেটোর দার্শনিক মতবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন

[সজন্যে]

Musei Capitolini, Roma

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার