ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৬ ৭/১ পৃষ্ঠা ২৮-৩১
  • রব্বি—হিসাবে কে সম্বোধিত হওয়ার যোগ্য?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • রব্বি—হিসাবে কে সম্বোধিত হওয়ার যোগ্য?
  • ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • মোশি কি একজন রব্বি ছিলেন?
  • প্রভুকে অনুকরণ করা
  • যুগ যুগ ধরে রব্বিদের ভূমিকা
  • “তোমরা রব্বি বলিয়া সম্ভাষিত হইও না”
  • আদর্শকে অনুকরণ করুন
  • মৌখিক নিয়ম—কেন এগুলো লেখা হয়েছিল?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • তোরাহ্‌ কী?
    বাইবেলের প্রশ্নের উত্তর
  • তালমুড কী?
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • মিশ্‌না—ও মোশির প্রতি ঈশ্বরের ব্যবস্থা
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৬ ৭/১ পৃষ্ঠা ২৮-৩১

রব্বি—হিসাবে কে সম্বোধিত হওয়ার যোগ্য?

একজন সংশয়শূন্য পর্যটকের সময়মত বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খুব কমই আশা ছিল। শত শত পুলিশ যানবাহনকে পরিচালনা করার সাথে সাথে ৩,০০,০০০ জনেরও বেশি যে শোককারী দল যিরূশালেমের রাস্তাকে জনাকীর্ণ করে তুলেছিল তাদেরও তত্ত্বাবধান করছিল। যিরূশালেম পোস্ট এটিকে বলেছিল “এটি এমন এক আকারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোকযাত্রা যা সাধারণত কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতি, রাজা অথবা একনায়কতন্ত্র শাসকদের জন্য হয়ে থাকে।” কার জন্য এইধরনের ভক্তির এক প্রবল আবেগ প্রকাশ করা হয়েছিল যার ফলে বেশ কিছু ঘন্টা ইস্রায়েলের রাজধানী নিশ্চল হয়ে পড়ে? একজন সম্মানীয় রব্বি। যিহূদীদের মধ্যে কেন রব্বি পদের প্রতি এইধরনের সম্মান ও ভক্তি দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়? কখন থেকে প্রথম “রব্বি” কথাটি ব্যবহৃত হতে শুরু হয়? কার প্রতি এটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়?

মোশি কি একজন রব্বি ছিলেন?

যিহূদীবাদে মোশি অতি সম্মানীয় একটি নাম, যিনি ছিলেন ইস্রায়েলের নিয়ম চুক্তির মধ্যস্থ। ধর্মীয় যিহূদীরা তাকে “মোশি, ‘আমাদের রব্বি’” বলে অভিহিত করেন। কিন্তু, বাইবেলে কোথাও মোশিকে “রব্বি” এই উপাধি দ্বারা উল্লেখ করা হয়নি। বস্তুতপক্ষে, “রব্বি” কথাটি ইব্রীয় শাস্ত্রে আদৌ পাওয়া যায় না। তাহলে, কিভাবে যিহূদীরা মোশিকে এইভাবে উল্লেখ করতে শুরু করে?

ইব্রীয় শাস্ত্র অনুসারে, আইন শিক্ষা দেওয়া ও ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব ও অধিকার দেওয়া হয়েছিল হারোণের বংশধর, লেবীয় গোষ্ঠীর যাজকদের। (লেবীয় পুস্তক ১০:৮-১১; দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:৮; মালাখি ২:৭) কিন্তু, সা.শ.পূ. দ্বিতীয় শতাব্দীতে, যিহূদীবাদে এক ঠাণ্ডা বিপ্লব শুরু হয়, যা তখন থেকে যিহূদী চিন্তাধারায় এক চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

এই আধ্যাত্মিক রূপান্তর সম্বন্ধে, দানিয়েল জেরেমি সিলভার যিহূদীবাদের ইতিহাস (ইংরাজি) নামক বইতে লেখেন: “[সেই] সময় থেকে অযাজকীয় অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের একটি শ্রেণী তোরা [মোশির নিয়ম] ব্যাখ্যা করতে যাজক শ্রেণীর একচেটিয়া অধিকারের বৈধতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে। প্রত্যেকেই একমত হয় যে মন্দিরের কাজকর্মের জন্য যাজকদের প্রয়োজন, কিন্তু তোরার বিষয়গুলির উপরে কেন কেবলমাত্র তাদেরই চুড়ান্ত অধিকার থাকা উচিত?” যাজকীয় শ্রেণীর অধিকারের প্রতি এই চ্যালেঞ্জের প্ররোচক কারা ছিল? যিহূদীবাদের অন্তর্ভুক্ত একটি নতুন দল, যাদের ফরীশী বলা হয়। সিলভার আরও বলেন: “তাদের শিক্ষালয়গুলিতে ফরীশীরা যোগ্যতাবলির উপর ভিত্তি করে প্রবেশাধিকার দিত, জন্মের [যাজকীয় বংশধর] উপর নয় আর তারা ধর্মীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি নতুন যিহূদী শ্রেণী এনেছিল।”

সা.শ. প্রথম শতাব্দীতে ফরীশী শিক্ষালয়ের এই গ্রাজুয়েটরা যিহূদী আইনের শিক্ষক অথবা প্রভু হিসাবে পরিচিত হয়েছিল। সম্মানের চিহ্নস্বরূপ, অন্যান্য যিহূদীরা তাদেরকে “আমার শিক্ষক” অথবা “আমার প্রভু” ইব্রীয়তে রব্বি বলে উল্লেখ করতে শুরু করে।

মোশি, যাকে যিহূদী ইতিহাসের সর্বমহান শিক্ষক রূপে দেখা হত, তার প্রতি এই নতুন উপাধিটি প্রয়োগের চাইতে অন্য কোনকিছুই এটিকে বেশি বৈধতা প্রদান করতে পারত না। ফলস্বরূপ, তা ক্রমাগত প্রভাবশালী ফরীশী নেতৃত্বের জনপ্রিয়তাকে সমর্থন করে যাজকত্বকে আরও ম্লান করে দেয়। ফলে, তার মৃত্যুর ১,৫০০ বছরের বেশি পরেও মোশি অতীতকে প্রভাবান্বিত করে “রব্বি” নিযুক্ত হয়েছিলেন।

প্রভুকে অনুকরণ করা

যদিও “রব্বি” (“আমার প্রভু”) অভিব্যক্তিটি কখনও কখনও এক বৃহৎ সংখ্যক ব্যক্তিরা অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি ব্যবহার করেছিল যাদের তারা সম্মান প্রদান করেছিল, সাধারণত শব্দটি ফরীশীদের মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষকদের “মহাজ্ঞানী ব্যক্তি”-দের প্রতি প্রযোজ্য হত। সা.শ. ৭০ সালে মন্দির ধ্বংসের সাথে সাথে বস্তুতপক্ষে যাজকবর্গের কর্তৃত্বের সমাপ্তি হয়, ফরীশীয় রব্বিরা যিহূদীবাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত হয়। তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান মহাজ্ঞানী রব্বি কেন্দ্রিক এক ধরনের ধর্মমত গড়ে উঠতে উৎসাহ যুগিয়েছিল।

সা.শ. প্রথম শতাব্দীর এই পরম্পরাগত সময়টি আলোচনা করে অধ্যাপক ডোভ স্লটনিক মন্তব্য করেন: “‘এই মহাজ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রতি মনোযোগপূর্ণ দৃষ্টি,’ তোরা অধ্যয়নের চাইতে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” যিহূদী পণ্ডিত যাকোব নয়েজ্‌নার আরও ব্যাখ্যা করেন: “‘এই মহাজ্ঞানীদের শিষ্য’ হল এমন এক ছাত্র যে নিজেকে কোন রব্বির সাথে সংযুক্ত রাখে। সে তা করে কারণ সে ‘তোরা’ শিখতে চায়। . . . নিয়মের মাধ্যমে তোরা শেখা নয়, কিন্তু জীবিত মহাজ্ঞানী ব্যক্তিদের অঙ্গভঙ্গি ও কাজের মধ্যে সংগঠিত নিয়মটি দেখার মাধ্যমে। তারা নিয়ম শিক্ষা দেয় তারা যা করে তার দ্বারা, কেবলমাত্র তারা যা বলে তার দ্বারা নয়।”

তালমুডের পণ্ডিত অডিন স্টাইনসল্ট এটিকে সত্য বলে দৃঢ়রূপে সমর্থন করে লেখেন: “এই মহাজ্ঞানীরা নিজেরা বলেন, ‘মহাজ্ঞানীদের সাধারণ কথোপকথন, হাসিঠাট্টা অথবা সাধারণ মন্তব্যগুলি অধ্যয়ন করা উচিত।’” কতদূর পর্যন্ত এটি প্রযোজ্য হতে পারে? স্টাইনসল্ট উল্লেখ করেন: “এর এক চরমতম উদাহরণ ছিল সেই শিষ্যটি যে তার মহান শিক্ষক কিভাবে তার স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কের সময় ব্যবহার করে তা জানার জন্য বিছানার নিচে লুকিয়ে ছিল বলে বলা হয়। যখন তার এই ঔৎসুক্য সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সেই যুবক শিষ্যটি উত্তর দিয়েছিল: ‘এটি হল তোরার বিষয় ও তা অধ্যয়নের উপযুক্ত বিষয়,’ একটি বিষয় যা রব্বি এবং ছাত্র উভয়ের দ্বারাই অখণ্ডণীয় হিসাবে গৃহীত হয়।”

তোরার চাইতে রব্বিদের উপর জোর দেওয়ার কারণে—রব্বিদের মাধ্যমে তোরা শেখা—সা.শ. প্রথম শতাব্দী থেকে যিহূদীবাদ একটি রব্বি-কেন্দ্রিক ধর্মে পরিণত হয়েছিল। একজন ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয়েছিল, অনুপ্রাণিত লিখিত বাক্যের মাধ্যমে নয়, কিন্তু এক ব্যক্তিগত আদর্শ, এক প্রভু, রব্বির মাধ্যমে। তাই, স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রাণিত শাস্ত্রের পরিবর্তে মৌখিক নিয়ম ও এই রব্বিদের দ্বারা শেখান পরম্পরাগতবিধিগুলির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। তারপর থেকে, যিহূদী সাহিত্য, যেমন তালমুড, ঈশ্বরের ঘোষণা সমূহের চাইতে রব্বিদের আলোচনা, কাহিনী এবং আচরণ কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

যুগ যুগ ধরে রব্বিদের ভূমিকা

নিয়ন্ত্রিত করার প্রচণ্ড ক্ষমতা এবং প্রভাব থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক রব্বিরা তাদের ধর্মীয় কাজ থেকে জীবনধারনের জন্য উপার্জন করেনি। এনসাইক্লোপিডিয়া যুডাইকা বলে: “তালমুডের রব্বি . . . বর্তমান-দিনের এই উপাধি ধারণকারীর থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা ছিল। তালমুডের রব্বি ছিল বাইবেলের এবং মৌখিক নিয়মের একজন অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারক এবং প্রায় সর্বদাই তাদের অন্য পেশা থাকত যার দ্বারা তারা জীবিকা অর্জন করত। কেবলমাত্র মধ্যযুগেই রব্বি . . . শিক্ষক, প্রচারক এবং যিহূদী মণ্ডলী অথবা সমাজের আধ্যাত্মিক প্রধান হয়েছিল।”

যখন রব্বিরা তাদের স্থানকে বেতনযুক্ত পেশায় পরিবর্তিত করে, কিছুজন এর বিরুদ্ধে কথা বলতে থাকে। মাইমোনাইডস্‌, দ্বাদশ-শতাব্দীর খ্যাতনামা রব্বি যিনি একজন চিকিৎসক হিসাবে তার জীবিকা উপার্জন করতেন, তীক্ষ্ণভাবে এইধরনের রব্বিদের সমালোচনা করেন। “[তারা] নিজেদের জন্য ব্যক্তিবিশেষ এবং সমাজের কাছে আর্থিক দাবি প্রতিষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করেছিল এবং মূর্খের মত লোকেদের এই বিষয় চিন্তা করতে প্ররোচিত করেছিল যে মহাজ্ঞানী এবং পণ্ডিত ব্যক্তিদের এবং তোরা অধ্যয়নরত ব্যক্তিদের [আর্থিকভাবে] সাহায্য করা বাধ্যতামূলক ও সঠিক, তাই তাদের তোরা তাদের পেশাস্বরূপ হয়। কিন্তু এই সমস্ত কিছু ভুল। কারণ তোরা অথবা মহাজ্ঞানীদের বক্তব্যে এমন একটি বাক্যও ছিল না যা এই শিক্ষাকে সমর্থন করে।” (কমেন্টারী অন্‌ দ্যা মিশ্‌না, এভোট ৪:৫) কিন্তু মাইমোনাইডসের প্রকাশ্য নিন্দামূলক এই ঘোষণাটিকে রব্বিদের পরবর্তী বংশধরেরা অগ্রাহ্য করেছিল।

যিহূদীবাদ আধুনিক যুগে প্রবেশ করার সাথে সাথে, এটি সংস্কার সাধনের বিরোধী দলগুলিতে, সংরক্ষণশীল এবং অর্থোডক্স বিশ্বাসের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বহু যিহূদীদের জন্য ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অভ্যাস অন্যান্য বিষয়ের মত গৌণ হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, রব্বির স্থানটি অবনমিত হয়েছিল। প্রধানত রব্বি মণ্ডলীর এক নিযুক্ত মস্তকস্বরূপ হয়ে তার দলের সদস্যদের জন্য বেতনভোগী পেশাগত শিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছিল। কিন্তু, আলট্রাঅর্থোডক্স হেসিডিক দলের মধ্যে, প্রভু এবং আদর্শরূপে রব্বির ধারণাটি এমনকি আরও বেশি বিকশিত হয়।

হেসিডিক শাবার্ড-লুবাভিচ আন্দোলন সম্বন্ধে তার বইয়ে এডওয়ার্ড হফম্যানের মন্তব্যগুলি লক্ষ্য করুন: “প্রাথমিক হেসিডিমও জোর দেয় যে প্রত্যেক বংশে এক একক যিহূদী নেতার অস্তিত্ব ছিল, এক জেডিক [এক ধার্মিক ব্যক্তি] যে তার সময়কালের ‘মোশি’ ছিল যার জ্ঞানভাণ্ডার এবং অপরের প্রতি ভক্তি ছিল অদ্বিতীয়। তার ভয়ানক ধার্মিকতার কারণে হেসিডিমের প্রত্যেকটি দল মনে করত তাদের রেব্বে [যিহূদীদের মধ্যে প্রচলিত ভাষায় “রব্বি”-র জন্য ব্যবহৃত শব্দ] এমনকি সর্বশক্তিমানের অনুশাসনকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি তার চমকপ্রদ বক্তৃতার দ্বারা কেবলমাত্র এক আদর্শ হিসাবেই সম্মানিত হতেন না, কিন্তু তার জীবনধারনের গুণাবলি (‘কেমন করে সে তার জুতোর ফিতে বাঁধত,’ যেমন তা প্রকাশ করা হয়) মানবতাকে উচ্চীকৃত করত এবং ঐশিক পথের সূক্ষ্ণ ইঙ্গিত জ্ঞাপন করত।”

“তোমরা রব্বি বলিয়া সম্ভাষিত হইও না”

যীশু প্রথম শতাব্দীর একজন যিহূদী, যিনি খ্রীষ্টতত্বের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এমন একটি সময়ে বাস করতেন যখন ফরীশীয় রব্বি সংক্রান্ত ধারণা যিহূদীবাদকে অতিক্রম করতে শুরু করে। তিনি এক ফরীশী ছিলেন না বা তিনি তাদের শিক্ষালয়ে প্রশিক্ষিতও হননি, তথাপি তিনিও রব্বি বলে সম্বোধিত হয়েছিলেন।—মার্ক ৯:৫; যোহন ১:৩৮; ৩:২.

যিহূদীবাদের অন্তর্ভুক্ত রব্বিসংক্রান্ত রীতিকে নিন্দা করে যীশু বলেছিলেন “অধ্যাপক ও ফরীশীরা মোশির আসনে বসে। আর ভোজে প্রধান স্থান, সমাজগৃহে প্রধান প্রধান আসন, হাটে বাজারে মঙ্গলবাদ, এবং লোকের কাছে রব্বি [গুরু] বলিয়া সন্ভাষণ, এ সকল ভাল বাসে। কিন্তু তোমরা ‘রব্বি’ বলিয়া সম্ভাষিত হইও না, কারণ তোমাদের গুরু এক জন, এবং তোমরা সকলে ভ্রাতা।”—মথি ২৩:২, ৬-৮.

যীশু পুরোহিত-সাধারণ শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছিলেন যা যিহূদীবাদের মধ্যে গড়ে উঠছিল। মানুষকে এইধরনের অসঙ্গত প্রাধান্য দেওয়াকে তিনি নিন্দা করেছিলেন। “তোমাদের গুরু এক জন” তিনি সাহসের সাথে ঘোষণা করেছিলেন। এই ব্যক্তি কে ছিলেন?

মোশি, “সদাপ্রভু তাঁহার সঙ্গে সম্মুখাসম্মুখি হইয়া আলাপ করিতেন” এবং যাকে “আমাদের গুরু” বলে মহাজ্ঞানী ব্যক্তিরা সম্বোধন করতেন, একজন অসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। এমনকি তিনি ভুলও করেছিলেন।—দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪৮-৫১; ৩৪:১০; উপদেশক ৭:২০) মোশিকে চূড়ান্ত উদাহরণরূপে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে যিহোবা তাকে বলেছিলেন: “আমি উহাদের জন্য উহাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিব, ও তাঁহার মুখে আমার বাক্য দিব; আর আমি তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিব, তাহা তিনি উহাদিগকে বলিবেন। আর আমার নামে তিনি আমার যে সকল বাক্য বলিবেন, তাহাতে যে কেহ কর্ণপাত না করিবে, তাহার কাছে আমি পরিশোধ লইব।”—দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৮, ১৯.

বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ করে যে এই বাক্যগুলি তার পরিপূর্ণতা পায় মশীহ, যীশুতে।a যীশু কেবলমাত্র মোশির “সদৃশ” ছিলেন না; তিনি মোশির থেকে মহোত্তর ছিলেন। (ইব্রীয় ৩:১-৩) শাস্ত্র প্রকাশ করে যে যীশু এক সিদ্ধ ব্যক্তিরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং মোশির বিপরীতে তিনি “বিনা পাপে” ঈশ্বরের পরিচর্যা করেছিলেন।—ইব্রীয় ৪:১৫.

আদর্শকে অনুকরণ করুন

রব্বিদের প্রত্যেক কাজ ও বাক্যের একাগ্র অধ্যয়ন যিহূদীদের ঈশ্বরের নিকটবর্তী করতে পারেনি। যখন এক অসিদ্ধ ব্যক্তি বিশ্বস্ততার উদাহরণ হয়ে থাকে, আর যদি আমরা তার প্রতিটি কাজ অধ্যয়ন ও অনুকরণ করি, তাহলে আমরা তার উত্তম গুণগুলির সাথে সাথে তার ভুল ও অসিদ্ধতাও অনুকরণ করব। আমরা সৃষ্টিকর্তার চাইতে সৃষ্টির প্রতি অসঙ্গত গৌরব প্রদান করতে থাকব।—রোমীয় ১:২৫.

কিন্তু যিহোবা মানবজাতির জন্য এক আদর্শ প্রদান করেছিলেন। শাস্ত্র অনুযায়ী যীশুর মানবপূর্ব অস্তিত্ব ছিল। প্রকৃতপক্ষে, তাঁকে “অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তি, সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত” বলা হয়। (কলসীয় ১:১৫) স্বর্গে অনুল্লেখিত সহস্র সহস্র বছর ঈশ্বরের “কার্য্যকারী” রূপে পরিচর্যা করায়, যিহোবাকে জানার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করতে যীশুই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে রয়েছেন।—হিতোপদেশ ৮:২২-৩০; যোহন ১৪:৯, ১০.

সুতরাং, পিতর লিখতে পেরেছিলেন: “খ্রীষ্টও তোমাদের নিমিত্ত দুঃখ ভোগ করিলেন, এ বিষয়ে তোমাদের জন্য এক আদর্শ রাখিয়া গিয়াছেন, যেন তোমরা তাঁহার পদচিহ্নের অনুগমন কর।” (১ পিতর ২:২১) প্রেরিত পৌল খ্রীষ্টানদের “বিশ্বাসের আদিকর্ত্তা ও সিদ্ধিকর্ত্তা যীশুর প্রতি দৃষ্টি” রাখতে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে “ইহাঁর মধ্যে জ্ঞানের ও বিদ্যার সমস্ত নিধি গুপ্ত রহিয়াছে।” (ইব্রীয় ১২:২; কলসীয় ২:৩) অন্য কোন ব্যক্তি—মোশি অথবা কোন রব্বিসংক্রান্ত মহাজ্ঞানী—এই প্রকার মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য নয়। যদি কাউকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুকরণ করা উচিত হয় তবে তিনি হলেন যীশু। তাই ঈশ্বরের দাসেদের এইরকম কোন উপাধির প্রয়োজন নেই যেমন রব্বি, বিশেষত এর আধুনিক-দিনের গূঢ়ার্থের পরিপ্রেক্ষিতে, কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি প্রকৃতই রব্বি হিসাবে সম্বোধিত হওয়ার যোগ্য হন তাহলে তিনি হলেন যীশু।

[পাদটীকাগুলো]

a যীশু যে প্রতিজ্ঞাত মশীহ সেবিষয়ে আরও প্রমাণের জন্য ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত যুদ্ধবিহীন এক জগৎ কি সম্ভব? (ইংরাজি) নামক ব্রোশারটির পৃষ্ঠা ২৪-৩০ দেখুন।

[২৮ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

© Brian Hendler 1995. All Rights Reserved

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার