ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৪ ৫/১ পৃষ্ঠা ৮-১৩
  • যুবক-যুবতীরা—তোমরা কার শিক্ষায় অবধান কর?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যুবক-যুবতীরা—তোমরা কার শিক্ষায় অবধান কর?
  • ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • মন্দ দূতেরা এবং তাদের শিক্ষা
  • মন্দ দূতেরা শিক্ষাকে প্রশ্রয় দেওয়া
  • আত্ম-পরীক্ষা কর
  • মন্দ দূতেদের শিক্ষাকে প্রতিরোধ কর
  • ঐশিক শিক্ষা থেকে উপকার লাভ
  • সঠিক বিষয়কে বেছে নাও
  • ঐশিক শিক্ষা বনাম মন্দ আত্মাদের শিক্ষা
    ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিশু মন্দ স্বর্গদূতদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী
    মহান শিক্ষকের কাছ থেকে শেখো
  • স্বর্গদূত কারা এবং তারা কী করে থাকে?
    চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
  • মন্দ দূতেরা কি বাস্তব?
    ১৯৯৮ সচেতন থাক!
আরও দেখুন
১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৪ ৫/১ পৃষ্ঠা ৮-১৩

যুবক-যুবতীরা​—⁠তোমরা কার শিক্ষায় অবধান কর?

“কতক লোক . . . ভূতগণের শিক্ষামালায় মন দিয়া বিশ্বাস হইতে সরিয়া পড়িবে।”​—⁠১ তীমথিয় ৪:⁠১.

১. (ক) যুবক-যুবতীদের কী মনোনয়ন করার আছে? (খ) যিহোবা কিভাবে শিক্ষা দেন?

এখানে যুবক-যুবতীদের যে প্রশ্ন করা হয়েছে, তা হল কার শিক্ষায় তোমরা অবধান কর? এটি ইঙ্গিত করে যে যুবকেরা, তোমাদের পছন্দ করার অধিকার আছে। পছন্দটি হল ঐশিক শিক্ষার প্রতি সাড়া দেওয়া ও মন্দ দূতেদের শিক্ষার অনুসরণ করা। যিহোবা তাঁর বাক্য, বাইবেল এবং তার সাথে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে ব্যবহৃত ব্যক্তিদের পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। (যিশাইয় ৫৪:১৩; প্রেরিত ৮:​২৬-৩৯; মথি ২৪:​৪৫-৪৭) কিন্তু আপনি কি এতে আশ্চর্য হবেন যে মন্দ দূতেরাও শিক্ষা দিয়ে থাকে?

২. বিশেষ করে এই সময়ে মন্দ দূতেদের শিক্ষার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২ প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “উত্তরকালে কতক লোক ভ্রান্তিজনক আত্মাদিগতে ও ভূতগণের শিক্ষামালায় মন দিয়া বিশ্বাস হইতে সরিয়া পড়িবে।” (১ তীমথিয় ৪:⁠১) যেহেতু আমরা “শেষ কালে” বাস করছি যখন শয়তান ও তার মন্দ দূতেরা বিশেষভাবে সক্রিয়, তখন তোমরা কি উপলব্ধি কর কেন আমরা জিজ্ঞাসা করি, কার শিক্ষায় তোমরা অবধান কর? (২ তীমথিয় ৩:​১-৫; প্রকাশিত বাক্য ১২:​৭-১২) শয়তান ও তার মন্দ দূতেরা তাদের উপায়গুলি প্রয়োগ করার ব্যাপারে এত চতুর, এত প্রলুব্ধজনক, সেই কারণে এই প্রশ্নটিতে তোমাদের মনোযোগপূর্ণ বিবেচনা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।​—⁠২ করিন্থীয় ১১:​১৪, ১৫.

মন্দ দূতেরা এবং তাদের শিক্ষা

৩. মন্দ দূতেরা কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং কিভাবে তারা তা সম্পন্ন করে?

৩ এক সময়ে মন্দ দূতেরা যিহোবার দূত ছিল, কিন্তু তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আর এইভাবে শয়তানের সমর্থনকারীতে পরিণত হয়। (মথি ১২:২৪) তাদের উদ্দেশ্য হল লোকেদের কলুষিত করা এবং ঈশ্বরের সেবা থেকে তাদেরকে সরিয়ে আনা। এটি সম্পাদন করতে মন্দ দূতেরা মনুষ্য শিক্ষকদের ব্যবহার করে এক স্বার্থপর, অনৈতিক জীবনধারাকে উৎসাহ দিতে যা যিহোবা নিন্দা করেন। (তুলনা করুন ২ পিতর ২:​১, ১২-১৫.) এককালে বিশ্বস্ত দূতেরা কিভাবে মন্দ দূতে পরিণত হল তার একটি পর্যালোচনা, তোমাদের তাদের শিক্ষা ও জীবনধারাকে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে যা এই শিক্ষাগুলিকে উৎসাহ দিয়ে থাকে।

৪. (ক) নোহের দিনে কেন অবাধ্য দূতেরা পৃথিবীতে নেমে আসে? (খ) প্লাবনের সময়ে দুষ্ট দূত এবং তাদের বংশধরদের কী ঘটে?

৪ নোহের দিনে, নির্দিষ্ট কিছু দূতেরা সুন্দরী মনুষ্য কন্যাদের প্রতি এত আকৃষ্ট হয় যে এই আত্মিক প্রাণীরা স্বর্গে তাদের স্থান ত্যাগ করে পৃথিবীতে নেমে আসে। নারীদের সাথে তাদের যৌন মিলনের ফলে সঙ্করজাতির সন্তানের জন্ম হয় যাদের বলা হয় নেফিলিম। যেহেতু মানুষের সঙ্গে আত্মিক প্রাণীদের সহবাস ছিল অস্বাভাবিক, তাই অবাধ্য দূতেরা সেই নারীদের সাথে যা করেছিল তা ছিল ঠিক পরবর্তীকালে সদোম ও ঘমোরার বালক ও পুরুষদের কৃত সমকামিতার মত অন্যায় কাজ। (আদিপুস্তক ৬:​১-৪; ১৯:​৪-১; যিহূদা যদিও দূতেদের সাথীরা তাদের সঙ্কর সন্তানদের সাথে জলপ্লাবনে ধ্বংস হয়েছিল, কিন্তু এই দুষ্ট দূতেরা তাদের মাংসিক দেহ পরিত্যাগ করে স্বর্গে ফিরে যায় যেখানে তারা শয়তান দিয়াবলের মন্দ দূতরূপে সঙ্গী হয়েছিল।​—⁠২ পিতর ২:⁠৪.

৫. মন্দ দূতেরা কী ধরনের প্রাণী এবং কিভাবে তারা ঈশ্বরের আইনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে?

৫ এই ঐতিহাসিক পটভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে, আপনি কি উপলব্ধি করেন, প্রকৃতপক্ষে এই মন্দ দূতেরা কী প্রকৃতির? তারা হল বৈকৃতকামী যারা এই কামোন্মত্ত জগতের পিছনে আছে। যদিও তাদের পুনরায় মানবদেহ ধারণ করার অধিকার নেই, কিন্তু তারা পৃথিবীতে যাদের কলুষিত করেছে তাদের কামবিকৃতি থেকে আনন্দ আহরণ করে। (ইফিষীয় ৬:​১১, ১২) মন্দ দূতেরা সতীত্ব ও নৈতিকতার ব্যাপারে যিহোবার আইনকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করে সেগুলি অনাবশ্যক নিয়ন্ত্রক দেখানোর দ্বারা। এই মন্দ দূতেরা যৌন অনৈতিকতাকে এক সাধারণ, জীবনের এক তৃপ্তিকর উপায় হিসাবে সমর্থন করে।

মন্দ দূতেরা শিক্ষাকে প্রশ্রয় দেওয়া

৬. কেন আমাদের আশ্চর্য হওয়া উচিৎ নয় যে মন্দ দূতেরা ধূর্তভাবে তাদের শিক্ষাগুলিকে তুলে ধরে?

৬ এই মন্দ দূতেরা যে ধূর্তভাবে তাদের শিক্ষাগুলিকে প্রশ্রয় দেবে এতে আমাদের আশ্চর্য হওয়া উচিত নয়, যেহেতু এটি হল সেই উপায় যা তাদের নেতা শয়তান দিয়াবল, হবাকে প্রতারিত করতে ব্যবহার করেছিল স্মরণ করুন যে সে তার কাছে এমনভাবে কথা বলেছিল যেন সে তাকে সাহায্য করতে চায়। “ঈশ্বর কি বাস্তবিকই বলিয়াছেন, তোমরা এই উদ্যানের কোন বৃক্ষের ফল খাইও না?” শয়তান জিজ্ঞাসা করে। তারপর সে ধূর্ততার সাথে যিহোবার শিক্ষাতে ক্ষতি সাধন করতে চায় হবাকে এই বলে, যে সে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেলে উপকার পাবে। “যে দিন তোমরা তাহা খাইবে,” শয়তান প্রতিজ্ঞা করে, “সেই দিন তোমাদের চক্ষু খুলিয়া যাইবে, তাহাতে তোমরা ঈশ্বরের সদৃশ হইয়া সদসদ্‌জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে।” (আদিপুস্তক ৩:​১-৫) এইভাবে হবা ঈশ্বরের অবাধ্য, আকর্ষিত, হ্যাঁ প্রলুব্ধ হয়েছিল।​—⁠২ করিন্থীয় ১১:৩; ১ তীমথিয় ২:​১৩, ১৪.

৭. মন্দ দূতেদের ধূর্ত শিক্ষার ফল কী হয়েছে এটি কী সাবধানতা প্রদান করে?

৭ সাম্প্রতিককালেও, অনেকে প্রলোভিত হয়েছে। মন্দ দূতেরা এত চতুরতার সাথে যৌন অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয় যে এক সময়ে যারা এটিকে নিন্দা করত তাদের অনেকেই এটিকে এখন অনুমোদন করছে। উদাহরণস্বরূপ, যখন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিখ্যাত সংবাদ উপদেষ্টা অবিবাহিত ব্যক্তিদের যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে এক চিঠির উত্তর দেন, তখন তিনি লেখেন: “আমি কখনও চিন্তা করিনি এই বিষয়ে আমি নিজেই ঘুরে যাব, কিন্তু এখন আমি বিশ্বাস করি যে দম্পতিরা বিবাহ সম্পর্কে গম্ভীরভাবে চিন্তা করছে তাদের উচিত পরস্পরের সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্পর্কে জানার জন্য কিছু শনি-রবিবার একত্রে কাটানো।” তারপর তিনি আরও বলেন: “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমি তা লিখছি!” এমনকি তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি যে তিনি ব্যভিচারকে অনুমোদন করেছেন, অথচ তিনি করেছিলেন! স্পষ্টতঃ, আমাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে যাতে আমাদের আচার-ব্যবহার মন্দ দূতেদের শিক্ষার দ্বারা প্রভাবিত না হয় যা ঈশ্বর নিন্দা করেন।​—⁠রোমীয় ১:২৬ ২৭; ইফিষীয় ৫:​৫, ১০-১২.

৮. (ক) “জগৎ” শব্দটি বাইবেলে কিভাবে ব্যবহৃত হয়? (খ) কে জগৎকে শাসন করে এবং যীশুর অনুসরণকারীদের জগতকে কোন্‌ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত?

৮ আমাদের কখনও ভুলে গেলে চলবে না যে শয়তান হল “এ জগতের অধিপতি।” বাস্তবিকই, প্রেরিত যোহন বলেছিলেন যে “সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে।” (যোহন ১২:৩১; ১ যোহন ৫:১৯) সত্য, যীশু কখনও কখনও “জগৎ” শব্দটি সকল মানবজাতির প্রতি নির্দেশ করার জন্য ব্যবহার করেছেন। (মথি ২৬:১৩; যোহন ৩:১৬; ১২:৪৬) যাইহোক, বেশির ভাগ সময়, তিনি “জগৎ” শব্দটি সত্য খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর বাইরে অবস্থিত সংগঠিত সমগ্র মানব সমাজকে নির্দেশ করতে ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, যীশু বলেছিলেন যেন তাঁর অনুগামীরা অবশ্যই “জগতের অংশ” না হয় (অধার্মিক মানব সমাজ) আর যেহেতু তারা জগতের অংশ হবে না তাই জগৎ তাদের ঘৃণা করবে। (যোহন ১৫:১৯; ১৭:​১৪-১৬) শয়তানের দ্বারা শাসিত এই জগতের বন্ধু হওয়া এড়িয়ে চলতে বাইবেল আমাদের আরও সাবধান করে।​—⁠যাকোব ৪:⁠৪.

৯, ১০. (ক) জাগতিক কোন্‌ জিনিসগুলি অশোভন যৌন আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলে? (খ) জগতের আমোদপ্রমোদ যা শিক্ষা দেয় তার পশ্চাতে কে আছে তা শনাক্ত করা কিভাবে সম্ভব?

৯ প্রেরিত যোহন প্রেরণা দেয়: “তোমরা জগৎকে প্রেম করিও না, জগতীস্থ বিষয় সকলও প্রেম করিও না।” তিনি আরও বলেন: “জগতে যে কিছু আছে, মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ, ও জীবিকার দর্প, এ সকল পিতা হইতে নয়, কিন্তু জগৎ হইতে হইয়াছে।” (যোহন ২:​১৫, ১৬) এই বিষয়ে চিন্তা করুন। মন্দ ইচ্ছা, উদাহরণস্বরূপ অবৈধ যৌনসম্ভোগকে উদ্দীপিত করতে আজ জগতে কী আছে? (১ থিষলনীকীয় ৪:​৩-৫) জগতের বেশির ভাগ সঙ্গীত সম্বন্ধে কী? কার্লিফোর্ণিয়ার একজন পুলিশ আধিকারিক বলেন: “মূলতঃ, সঙ্গীত শিক্ষা দেয় যে তোমাদের পিতামাতাদের কথা শুনতে হবে না আর যেমনটি চাও সেইভাবে তোমরা জীবন কাটাও।” তোমরা কি সেই সঙ্গীতের মাধ্যমে যা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তার উৎসটি উপলব্ধি করতে পার?

১০ স্মরণ কর যে শয়তান, বস্তুতঃ, হবাকে বলেছিল: ‘তুমি কিছু হারাচ্ছ। তুমি যেমনটি চাও সেইভাবে জীবনযাপন কর। ভাল এবং মন্দ সম্পর্কে তুমি নিজেই সিদ্ধান্ত নাও।’ (আদিপুস্তক ৩:​১-৫) জগতের বেশির ভাগ সঙ্গীতে কি এই ধরনের সংবাদ থাকে না? কিন্তু মন্দ দূতেরা কেবলমাত্র সঙ্গীতের দ্বারাই শিক্ষা দেয় না। তারা শিক্ষা দিতে বাণিজ্যিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সিনেমা এবং ভিডিওকেও ব্যবহার করে। কিভাবে? হ্যাঁ, জগতের প্রচার মাধ্যমগুলি, আমোদপ্রমোদকে এমনভাবে পেশ করে যে ঈশ্বরের নৈতিক শিক্ষাকে বিরক্তিকর হিসাবে মনে হয়। তারা ব্যভিচারের উপর জোর দিয়ে এবং তা আকর্ষণীয় করে সেটিকে প্রশ্রয় দেয়।

১১. নৈতিকভাবে বলতে গেলে, টেলিভিশন প্রায়ই কী শিক্ষা দেয়?

১১ ইউ.এস.নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট পত্রিকা বলে: “উনিশশো একানব্বই সালে, [যুক্তরাষ্ট্র] টিভি দেখার প্রধান সময়ে তিনটি নেটওয়ার্কে ১০,০০০টিরও বেশি যৌন ঘটনা দেখানো হয়; বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে যৌন সহবাসের একটি দৃশ্য দেখার সময়, নেটওয়ার্কগুলি বিবাহের বাইরে ১৪টি সহবাসের দৃশ্য দেখায়।” এক বছরের মধ্যে টিভি দেখার প্রধান সময়ে ৯,০০০টির বেশি অবৈধ যৌনের ঘটনা দেখিয়ে, টেলিভিশন কী শিক্ষা দিচ্ছে বলে তোমার মনে হয়? ব্যারী এস. স্যাপোলস্কি, যিনি “টেলিভিশন প্রধান সময়ে যৌন সম্ভোগ: ১৯৭৯ বনাম ১৯৮৯” নামক রিপোর্টের সহ লেখক বলেন: “যদি এক কিশোরকিশোরী সারা বছর টিভি দেখে, যেখানে দেখানো হয় লোকে ভালবাসা নিয়ে খেলা করে বা অবাধ যৌন আচরণে লিপ্ত থাকে তাহলে সারা বছরে এই হাজার হাজার চিত্রগুলি তাদের শিখাবে যৌনসম্ভোগ আনন্দদায়ক​—⁠এবং এর কোন পরিণাম নেই।” এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই: জগতের আমোদপ্রমোদ যুবকদের শিক্ষা দেয় যে কোন নিয়মের প্রয়োজন নেই, ব্যভিচার গ্রহণীয় এবং ঈশ্বর যে জীবনধারাকে নিন্দা করেন সেভাবে চললে কোন মন্দ পরিণাম হয় না।​—⁠১ করিন্থীয় ৬:১৮; ইফিষীয় ৫:​৩-৫.

১২. জগতের আমোদপ্রমোদ বিশেষভাবে খ্রীষ্টীয় যুবকদের জন্য কেন এক ভয়ের কারণ হয়?

১২ জগতের সঙ্গীত, সিনেমা, ভিডিও এবং টিভি যুবক-যুবতীদের আকর্ষণ করার জন্যই তৈরি। তারা মন্দ দূতেদের কলুষিত শিক্ষাকে প্রচার করে! কিন্তু এতে কি আশ্চর্য হবার কিছু আছে? এই বিষয়ে চিন্তা কর। যদি রাজনীতি এবং ধর্ম শয়তানের জগতের অংশ হয়​—⁠আর স্পষ্টত তারা তাই​—⁠জগৎ যে ধরনের আমোদপ্রমোদকে প্রশ্রয় দেয় সেটি তার প্রভাবমুক্ত হবে বলে বিশ্বাস করা কি কোন অর্থ রাখে? যুবক-যুবতীরা তোমাদের বিশেষ করে সতর্ক হওয়া দরকার যাতে “তোমাদের চারিপাশের যে জগৎ, নিজের ধাঁচে তোমাদের গড়ে” না তোলে।​—⁠রোমীয় ১২:​২, জে. বি. ফিলিপস্‌ কর্তৃক, দি নিউ টেস্টামেন্ট ইন্‌ মডার্ণ ইংলিশ।

আত্ম-পরীক্ষা কর

১৩. কী আত্ম-পরীক্ষা করা উচিত?

১৩ কার শিক্ষায় তোমরা অবধান কর বিষয়টি শুধুমাত্র তোমাদের কথায় নয় কিন্তু তোমাদের কাজের দ্বারাও প্রকাশ হওয়া দরকার। (রোমীয় ৬:১৬) তাই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর, ‘জগতের প্রচার মাধ্যমগুলির দ্বারা আমি যা শিখছি তার দ্বারা আমার আচরণ ও আমার জীবনধারা কি অহেতুক প্রভাবিত হচ্ছে? মন্দ দূতেদের শিক্ষা কি আমার জীবনে অনধিকার প্রবেশ করেছে?’ এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে, তুমি বাইবেল অধ্যয়ন, খ্রীষ্টীয় সভাগুলিতে যোগদান এবং ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে অপরকে বলার জন্য ব্যয় করা সময় ও প্রচেষ্টার সাথে টিভি দেখা, সঙ্গীত শোনা, তোমার প্রিয় খেলাতে অংশ নেওয়া অথবা একই ধরনের কাজগুলির তুলনা কর না কেন? যেহেতু খুব বেশি​—⁠বাস্তবিকই, তোমার সমগ্র জীবনই​—⁠বিপদান্ন, তাই সততাপরায়ণ আত্ম-পরীক্ষা কর।​—⁠২ করিন্থীয় ১৩:⁠৫.

১৪. আমাদের আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যকে কী প্রভাবিত করবে এবং কোন্‌ গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা আমাদের মনে রাখা উচিত?

১৪ তুমি ভালভাবে জান, তুমি যে খাদ্য গ্রহণ কর তার দ্বারা তোমার স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়, ঠিক সেইভাবে তোমার মনে এবং হৃদয়ে তুমি যা গ্রহণ করবে তার দ্বারা তোমার আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হবে। (১ পিতর ২:​১, ২) তোমার নিজের আগ্রহের ব্যাপারে নিজেকে প্রতারিত করলেও, তুমি আমাদের বিচারক, যীশু খ্রীষ্টকে প্রতারণা করতে পার না। (যোহন ৫:৩০) তাই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর, ‘যীশু যদি পৃথিবীতে থাকতেন, তাহলে তিনি যদি আমরা ঘরে ঢুকে আমার সঙ্গীত অথবা আমি যা দেখছি, দেখেন, তাহলে আমি কি লজ্জিত বোধ করতাম?’ কিন্তু গুরুতর সত্যটি হল যীশু দেখছেন এবং আমাদের কাজ সম্পর্কে অবগত আছেন।​—⁠প্রকাশিত বাক্য ৩:১৫.

মন্দ দূতেদের শিক্ষাকে প্রতিরোধ কর

১৫. মন্দ দূতেদের শিক্ষাকে প্রতিরোধ করতে খ্রীষ্টানদের কেন কঠোর যুদ্ধ করা উচিত?

১৫ তাদের শিক্ষায় অবধান করতে যে চাপ মন্দ দূতেরা যুবক-যুবতীদের উপর প্রয়োগ করে তা খুবই প্রচণ্ড। এই মন্দ আত্মারা মনে হয় তৎক্ষণাৎ বাসনা চরিতার্থ করার জীবনের প্রস্তাব করে​—⁠মজা ও উপভোগের গৃহে একজন বিশিষ্ট সদস্য হয়েও “পাপজাত ক্ষণিক সুখভোগ” প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। (ইব্রীয় ১১:​২৪-২৭) মন্দ দূতেরা যা দিতে প্রস্তাব করে তা প্রত্যাখ্যান করা সহজ নয়, তাই যা সঠিক তা করতে তোমাদের অবশ্যই কঠোর যুদ্ধ করতে হবে। এটি বিশেষভাবে সত্য কারণ আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাপী এবং আমাদের হৃদয়, যা মন্দ তাই করতেই বেশির ভাগ সময় আকাঙ্ক্ষী হয়। (আদিপুস্তক ৮:২১; রোমীয় ৫:১২) পাপপূর্ণ প্রবণতার জন্য, এমনকি প্রেরিত পৌলকে নিজের প্রতি কঠোর হতে হয়েছিল আর নিজের উপর মাংসিক ইচ্ছাগুলিকে কর্তৃত্ব করতে দেননি।​—⁠১ করিন্থীয় ৯:২৭; রোমীয় ৭:​২১-২৩.

১৬. কিভাবে যুবক-যুবতীরা অনৈতিক আচরণে লিপ্ত হওয়ার চাপকে প্রতিরোধ করতে পারে?

১৬ যদিও তোমরা হয়ত “দুষ্কর্ম করিতে বহু লোকের পশ্চাদ্বর্ত্তী” হয়ে প্রলোভিত হলেও, ঈশ্বর তোমাদের ভুল পথ অনুসরণ করাতে সাথীদের চাপ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবেন। (যাত্রাপুস্তক ২৩:২; ১ করিন্থীয় ১০:১৩) কিন্তু তোমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের নির্দেশ শুনতে হবে, তাঁর বাক্য হৃদয়ে সঞ্চয় করতে হবে। (গীতসংহিতা ১১৯:​৯, ১১) তোমাদের উপলব্ধি করা দরকার যে যখন যুবক-যুবতীরা নিজেদের আলাদা করে নেয়, তখন যৌন আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠতে পারে এবং ঈশ্বরের নিয়ম লঙ্ঘন করতে পরিচালিত করতে পারে। এক যুবতী স্বীকার করে “যখন আমি আমার পুরুষ বন্ধুর সাথে থাকি, তখন আমার দেহ চায় এক জিনিস করতে আর আমার মস্তিষ্ক বলে অন্য কিছু করতে।” তাই তোমাদের ক্ষমতাকে শনাক্ত কর এবং উপলব্ধি কর যে তোমাদের হৃদয় হল প্রবঞ্চক। (যিরমিয় ১৭:⁠৯) নিজেদের আলাদা কর না। (হিতোপদেশ ১৮:⁠১) অনুরাগ প্রকাশের সীমা স্থাপন কর। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যারা যিহোবাকে ভালবাসে এবং তাঁর নিয়মের প্রতি যাদের গভীর সম্মান আছে কেবল তাদের সাথে গভীরভাবে মেলামেশা কর।​—⁠গীতসংহিতা ১১৯:৬৩; হিতোপদেশ ১৩:২০; ১ করিন্থীয় ১৫:৩৩.

১৭. মন্দ দূতেদের শিক্ষাকে প্রতিরোধ করতে শক্তি পেতে খ্রীষ্টীয় যুবক-যুবতীদের কী সাহায্য করতে পারে?

১৭ তোমার আধ্যাত্মিক শক্তির জন্য প্রস্তুত করা খ্রীষ্টীয় সাহিত্যাদিগুলি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন তোমাকে সাহায্য করবে। উদারহণস্বরূপ, প্রহরীদুর্গ ও আওয়েক! এর প্রবন্ধগুলির এবং আপনি পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারেন বইয়ের “সঠিক কাজ করার জন্য লড়াই” অধ্যায়টি আছে। শাস্ত্রীয় নির্দেশনাকে তোমাদের মন ও হৃদয়ের গভীরে যেতে দাও আর এটি তোমাদের শক্তিশালী করবে। একটি বিষয় যা তোমাদের অবশ্যই ভুলে গেলে চলবে না তা হল যে এই মন্দ দূতদের নিয়ন্ত্রিত জগতে যা ভাল তা করা সহজ নয়। তাই কঠোর যুদ্ধ কর। (লূক ১৩:২৪) তোমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি গড়ে তোল। দুর্বল, ভীরু ব্যক্তিদের অনুকরণ কর না যারা সবাই যা করে তা করে থাকে।

ঐশিক শিক্ষা থেকে উপকার লাভ

১৮. ঐশিক শিক্ষায় অবধান করার উপকারগুলি কী কী?

১৮ এও মনে রেখো, যে যিহোবার শিক্ষা অনুসরণ করলে তুমি কোন প্রয়োজনীয় কিছু হারাবে না। তিনি সত্যই তোমাদের ভালবাসেন আর সেইকারণে তিনি “তোমাদের উপকারজনক শিক্ষা দান” করেন। (যিশাইয় ৪৮:১৭) তাই যিহোবার শিক্ষায় অবধান কর এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বিবেকের জন্য মনোদুঃখ, আত্ম-সম্মান হারানো, অবাঞ্চিত গর্ভসঞ্চার, যৌনরোগ অথবা এই ধরনের দুঃখগুলি এড়িয়ে চল। পরীক্ষায় পড়লে মানুষ ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে না, শয়তানের এই চ্যালেঞ্জে যখন তাঁর দাসেরা উত্তর দেয়, যিহোবা আনন্দিত হন। (ইয়োব ১:​৬-১২) তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত হয়ে যদি তোমরা যিহোবার হৃদয়কে আনন্দিত কর, তাহলে এই জগতের বিরুদ্ধে যখন তিনি অশুভ বিচার আনবেন, যেখানে তাঁর নিয়ম লঙ্ঘনকারী সকলে ধ্বংস হবে, কিন্তু সেখানে তোমরা রক্ষা পাবে।​—⁠হিতোপদেশ ২৭:১১; ১ করিন্থীয় ৬:​৯, ১০; ১ যোহন ২:১৭.

১৯. যিহোবার শিক্ষার উপকারগুলির প্রতি যারা উপলব্ধি দেখায় তাদের সাথে মেলামেশা করার মূল্য কী?

১৯ যদি তোমরা তাদের সাথে মেলামেশা কর যারা যিহোবা যা করেছেন তার প্রতি উপলব্ধি দেখায়, তোমারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পার। একজন ব্যক্তি যে পূর্বে ড্রাগে আসক্ত ছিল এবং অনৈতিকতা অভ্যাস করত বর্ণনা করে: “যিহোবার কথা যদি আমি না শুনতাম, তাহলে আমি হয়ত মারা যেতাম। আমার যে পুরুষকে বিবাহ করার কথা ছিল সে এইডসে মারা গেছে। আমার পূর্বের জাগতিক ঘনিষ্ঠ সব বন্ধুরা এইডসে মারা গেছে অথবা তারা মৃত্যুর পথে। আমি প্রায়ই তাদের রাস্তায় দেখি আর আমি যিহোবাকে তাঁর নিয়মের জন্য প্রতিদিন ধন্যবাদ দিই যা তাঁর লোকেদের পরিচালনা করে ও সেটি আমাদের পবিত্র রাখবে যদি আমরা তা প্রয়োগ করি। আমি জীবনের কখনও এত সুখ, পরিতৃপ্তি ও সুরক্ষা অনুভব করিনি।” সত্যই, যিহোবার শিক্ষা পালন করলে সর্বদাই আমাদের উপকার করে!

সঠিক বিষয়কে বেছে নাও

২০, ২১. (ক) কোন্‌ দুটি বিষয় যুবক-যুবতীদের বেছে নেওয়ার আছে? (খ) ঐশিক শিক্ষায় অবধান করলে কী দীর্ঘকালীন উপকার আসবে?

২০ যুবকেরা তোমাদের আমরা উৎসাহ জানাই: যিহোবাকে সেবা করার দ্বারা সঠিক বিষয়টি বেছে নাও। তারপর সেই সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে সঙ্কল্পবদ্ধ হও। (যিহোশূয় ২৪:১৫) প্রকৃতপক্ষে, দুটির মধ্যে একটিকে তোমরা বেছে নিতে পার। যীশু বলেছিলেন যে প্রশস্ত ও চওড়া পথ আছে​—⁠সহজটি নিজেকে তাতে খুশি করে। খুশি করার সেই সহজ পথ কানাগতিতে, ধ্বংসে নিয়ে যায়। অন্য পথ হল সঙ্কীর্ণ। এই বাছ-বিচারহীন, মন্দ দূত নিয়ন্ত্রিত জগতে এই পথে চলা কষ্টকর। কিন্তু সেই পথে যারা চলে তাদের সেই পথ অবশেষে ঈশ্বরের অপূর্ব নতুন জগতে নিয়ে যাবে। (মথি ১:​১৩, ১৪) কোন্‌ পথটি তোমরা নেবে? কার শিক্ষায় তোমরা অবধান করবে?

২১ যিহোবা পছন্দ করার ব্যাপার তোমাদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁকে সেবা করার জন্য তিনি তোমাদের জোর করেন না। “আমি তোমার সম্মুখে জীবন ও মৃত্যু . . . রাখিলাম,” ঈশ্বরের ভাববাদী মোশি প্রেরণা দিয়ে বলেন: “জীবন মনোনীত কর।” এই মনোনয়ন ‘ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করে, তাঁর রবে অবধান করে ও তাঁহাতে আসক্ত’ হয়ে নির্ধারণ করা হয়। (দ্বিতীয় বিবরণ ২৯:২; ৩০:​১৯, ২০) তুমি যেন বিজ্ঞতার সাথে ঐশিক শিক্ষা পালন করা বেছে নাও এবং ঈশ্বরের গৌরবান্বিত নতুন জগতে অন্তহীন জীবন উপভোগ কর।

আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?

▫ মন্দ দূতেরা কারা এবং তারা কী শিক্ষা দেয়?

▫ মন্দ দূতেরা বর্তমানে কিভাবে তাদের শিক্ষা প্রশ্রয় দেয়?

▫ মন্দ দূতেদের শিক্ষাকে কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?

▫ যিহোবার শিক্ষাকে গ্রহণ করার উপকারগুলি কী কী?

[৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

জলপ্লাবনের আগে, অবাধ্য দূতেরা ও তাদের সন্তানেরা দৌরাত্ম্য এবং অনৈতিকতা বৃদ্ধি করেছিল

[১১ পৃষ্ঠার চিত্র]

যীশু যদি তোমার প্রিয় সঙ্গীত শোনেন তাহলে কি তুমি লজ্জিত হবে?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার