বিবাহে নতুন ব্যক্তিত্ব গঠন করা
“আপন আপন মনের ভাবে যেন ক্রমশঃ নবীনীকৃত হও, এবং সেই নূতন মনুষ্যকে পরিধান কর।”—ইফিষীয় ৪:২৩, ২৪.
১. বিবাহকে কেন হাল্কাভাবে নেওয়া উচিৎ না?
এক জনের জীবনে বিবাহ করা হল সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপের একটি, তাই কখনই সেটিকে হাল্কাভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। কেন? কারণ এর মধ্যে জড়িত আছে অপর এক ব্যক্তির প্রতি চিরজীবনের অঙ্গীকার। এর অর্থ হল একজনের সমস্ত জীবন অপর একজনের সাথে ভাগ করে নেওয়া। সেই অঙ্গীকারটি নির্ভরযোগ্য হতে হলে পরিপক্ক নির্ণয়ের প্রয়োজন। প্রকৃত প্রভাবের প্রয়োজন হয় ‘মনকে পরিচালিত করে নতুন ব্যক্তিত্ব গঠন করতে।’—ইফিষীয় ৪:২৩, ২৪; তুলনা করুন আদিপুস্তক ২৪:১০-৫৮; মথি ১৯:৫, ৬.
২, ৩. (ক) বিজ্ঞতার সাথে বিবাহ সঙ্গী বেছে নিতে কিসের প্রয়োজন? (খ) বিবাহে কী জড়িত আছে?
২ জোরালো দৈহিক কামনাগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শীঘ্র বিবাহ না করার ভাল কারণগুলি আছে। পরিপক্ক ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠন করতে সময় লাগে। সময়ের সাথে আসে অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধি যা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ভিত্তির কাজ করে। তাহলে, সহযোগিতাকারী জীবন সঙ্গী বেছে নিতে আরও সফল হওয়া যায়। এই সম্বন্ধে এক স্পেনীয় হিতোপদেশ স্পষ্টরূপে বলে: “খারাপ বিবাহের থেকে একা থাকা ভাল।”—হিতোপদেশ ২১:৯; উপদেশক ৫:২.
৩ বিবাহে সফল হতে হলে সঠিক সঙ্গী বেছে নেওয়া নিশ্চয় একটি মূল বিষয়। সেই বিষয় সম্পর্কে কেবলমাত্র দৈহিক আকর্ষণ এবং অযথা আবেগ ও প্রেমের চাপে না পড়ে খ্রীষ্টানদের বাইবেলের নির্দেশ অনুসরণ করা উচিৎ। বিবাহ হল দুই দেহের মিলন ছাড়াও আরও কিছু। এটি দুটি ব্যক্তিত্ব, দুটি পরিবার ও শিক্ষার পটভূমিকা, সম্ভবত দুটি সংস্কৃতি এবং ভাষার মিলন। দুই ব্যক্তিত্বকে একত্রবদ্ধ করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন জিহ্বার উপযুক্ত ব্যবহার; আমাদের কথাবার্তা বলার ক্ষমতার দ্বারা আমরা কাউকে আঘাত করতে পারি বা গড়ে তুলতে পারি। এই সব কিছু বিবেচনা করলে আমরা পৌলের পরামর্শের প্রজ্ঞাটি দেখি ‘একমাত্র প্রভুতে বিবাহ করা’ অর্থাৎ কোন সহবিশ্বাসীকে।—১ করিন্থীয় ৭:৩৯; আদিপুস্তক ২৪:১-৪; হিতোপদেশ ১২:১৮; ১৬:২৪.
বিবাহের চাপগুলির সম্মুখীন হওয়া
৪. বিবাহে কেন অনেক সময় সঙ্ঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়?
৪ এমনকি উত্তম ভিত্তি থাকলেও, এক এক সময় সঙ্ঘর্ষ, চাপ ও উত্তেজনার সময় আসে। যে কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক সে বিবাহিত হোক বা নাই হোক। যে কোন সম্বন্ধেই অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যের সমস্যা চাপের সৃষ্টি করতে পারে। উত্তম বৈবাহিক সম্পর্কে মেজাজের পরিবর্তন হলে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে। আর একটি বিষয় হল কোন ব্যক্তিরই নিজের জিহ্বার উপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ নেই যেমন যাকোব বলেন: “আমরা সকলে অনেক প্রকারে উছোট খাই। যদি কেহ বাক্যে উছোট না খায়, তবে সে সিদ্ধ পুরুষ, সমস্ত শরীরকেই বল্গা দ্বারা বশে রাখিতে সমর্থ। . . . জিহ্বাও ক্ষুদ্র অঙ্গ বটে, কিন্তু মহাদর্পের কথা কহে। দেখ, কেমন অল্প অগিন কেমন বৃহৎ বন প্রজ্বলিত করে!”—যাকোব ৩:২, ৫.
৫, ৬. (ক) ভুল বোঝাবুঝি হলে কিসের প্রয়োজন হয়? (খ) সম্বন্ধে চিড় খেলে তা ঠিক করতে কী করা উচিৎ?
৫ বিবাহে চাপ এলে আমরা কিভাবে সেই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি? আমরা কিভাবে এক ভুলবোঝাবুঝিকে ঝগড়ায় পরিণত না করতে এবং একটি ঝগড়াকে চিড় খাওয়া সম্পর্কে পরিচালিত না করতে প্রচেষ্টা করতে পারি? আর এইখানেই আপন মনের ভাব কাজ করে। এই প্রেরণাকারী মনোভাব নেতিবাচক হতে পারে বা ইতিবাচকও হতে পারে, গঠনমূলক, আত্মিক মনোভাবাপন্ন অথবা নিম্নমানের দৈহিক ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। যদি তা গঠনমূলক হয় তাহলে কোন ব্যক্তি তার দাম্পত্য জীবনকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য চিড় খাওয়া সম্পর্ককে ঠিক করার চেষ্টা করবে। তর্কবিতর্ক ও অমতের জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের শেষ হওয়া উচিৎ নয়। পরিস্থিতির পরিবর্তন করা যেতে পারে এবং বাইবেলের পরামর্শ প্রয়োগ করে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও বোঝাপড়া আবার ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।—রোমীয় ১৪:১৯; ইফিষীয় ৪:২৩, ২৬, ২৭.
৬ এই পরিস্থিতিগুলিতে পৌলের বাক্য খুবই উপযুক্ত: “অতএব তোমরা, ঈশ্বরের মনোনীত লোকদের, পবিত্র ও প্রিয় লোকদের, উপযোগী মতে করুণার চিত্ত, মধুর ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর। পরস্পর সহনশীল হও, এবং যদি কাহাকেও দোষ দিবার কারণ থাকে, তবে পরস্পর ক্ষমা কর; প্রভু যেমন তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন, তোমরাও তেমনি কর। আর এই সকলের উপরে প্রেম পরিধান কর; তাহাই সিদ্ধির যোগবন্ধন।”—কলসীয় ৩:১২-১৪.
৭. অনেকের বিবাহে কী সমস্যা রয়েছে?
৭ শাস্ত্রটি পড়া সহজ, কিন্তু আধুনিক জগতের চাপের সম্মুখে সর্বদা সেটি কাজে লাগানো অতটা সহজ নয়। মূল সমস্যাটি কী হতে পারে? অনেক সময়, না বুঝেই হয়ত এক খ্রীষ্টান দুই নীতি প্রয়োগ করে চলে। কিংডম হলে ভাইদের সাথে থাকার সময় সে দয়া ও বিবেচনার মনোভাব দেখায়। কিন্তু ঘরেতে, সাংসারিক জীবনে সে তার আত্মিক সম্পর্ক সম্বন্ধে হয়ত ভুলে যেতে পারে। কারণ ঘরেতে তারা মাত্র স্বামী ও স্ত্রী, “পুরুষ” এবং “নারী।” চাপের ফলে স্বামী (বা স্ত্রী) ঘরেতে আঘাতপূর্ণ কথাবার্তা বলতে পারে যা হয়ত কিংডম হলে কখনও বলবে না। এখানে কী ঘটে? কিছু সময়ের জন্য, তাদের খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিত্বের লোপ হয়। ঈশ্বরের দাস ভুলে যায় যে স্বামী (বা স্ত্রী) ঘরেতেও খ্রীষ্টীয় ভাই (বা বোন)। মনের ভাব ইতিবাচক হওয়ার পরিবর্তে নেতিবাচক হয়।—যাকোব ১:২২-২৫.
৮. যখন মনের ভাবের শক্তি নেতিবাচক হয় তখন তার ফল কী হয়?
৮ ফলাফল কী হয়? স্বামী হয়ত স্ত্রীয়ের সাথে ‘অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বলপাত্র বলিয়া তাহাদের সহিত জ্ঞানপূর্ব্বক বাস’ করে না। স্ত্রী হয়ত স্বামীকে আর সম্মান করে না; তার “মৃদু ও প্রশান্ত আত্মা” হারিয়ে যায়। আপন মনের ভাবটি আত্মিক হওয়ার পরিবর্তে হয়ে যায় শারীরিক। ‘মাংসময় মন’ স্থান গ্রহণ করে। সেই প্রেরণা জাগানোর মনোভাবটিকে আত্মিক ও ইতিবাচক রাখতে কি করা যেতে পারে? আমাদের আত্মিকতাকে সুদৃঢ় করা দরকার।—১ পিতর ৩:১-৪, ৭; কলসীয় ২:১৮.
প্রেরণাকে শক্তিশালী করা
৯. প্রতিদিন আমাদের জীবনে কী কী বেছে নিতে হয়?
৯ প্রেরণা জাগানোর শক্তি হল মনের ইচ্ছাটি, যেটি যখন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনোনয়ন করি তখন কার্যকারী হয়। জীবনে নিয়ত অনেক মনোনয়ন করার বিষয় আসে—ভাল বা মন্দ, স্বার্থপর বা নিঃস্বার্থপর, নৈতিক অথবা অনৈতিক। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আমাদের কী সাহায্য করবে? মনের ভাবের যে শক্তি, যদি তা যিহোবার ইচ্ছা পালন করার জন্য কেন্দ্রীভূত থাকে। গীতরচক প্রার্থনা করেন: “সদাপ্রভু, তোমার বিধি-পথ আমাকে দেখাও, আর আমি শেষ পর্য্যন্ত তাহা পালন করিব।”—গীতসংহিতা ১১৯:৩৩; যিহিষ্কেল ১৮:৩১; রোমীয় ১২:২.
১০. মনের ভাবের শক্তিকে কিভাবে আমরা সুদৃঢ় করতে পারি?
১০ যিহোবার সাথে গভীর সম্পর্ক আমাদের তাঁকে সন্তুষ্ট করতে ও মন্দের প্রতি বিমুখ হতে সাহায্য করবে, এমনকি বিবাহে অবিশ্বস্ত হতে বিরত করবে। ইস্রায়েলকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল তারা যেন ‘[তাহাদের] ঈশ্বর সদাপ্রভুর গোচরে যাহা উত্তম ও ন্যায্য, তাহা করে।’ কিন্তু ঈশ্বর তাদের পরামর্শও দেন: “হে সদাপ্রভু-প্রেমিকগণ, দুষ্টতাকে ঘৃণা কর।” দশ আজ্ঞার সপ্তম আজ্ঞা: “ব্যভিচার করিও না,” অনুসারে ইস্রায়েলীয়দের পারদার্যকে অবশ্যই ঘৃণা করতে হত। সেই আজ্ঞাটি বিবাহে বিশ্বস্ততা সম্পর্কে ঈশ্বরের কঠিন দৃষ্টিকোণকে প্রদর্শন করে।—দ্বিতীয় বিবরণ ১২:২৮, গীতসংহিতা ৯৭:১০; যাত্রাপুস্তক ২০:১৪; লেবীয় পুস্তক ২০:১০.
১১. মনের ভাবের শক্তিকে আমরা আরও কিভাবে শক্তিশালী করতে পারি?
১১ মনকে যে শক্তিটি প্রভাবিত করে, সেটিকে আমরা কিভাবে আরও শক্তিশালী করতে পারি? আত্মিক কর্মতৎপরতা ও মূল্যগুলিকে উপলব্ধি করে। এর অর্থ হল নিয়মিত ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার প্রয়োজন আমাদের মিটাতে হবে এবং যিহোবার চিন্তা ও পরামর্শ একত্রে আলোচনা করার আনন্দটি উপভোগ করতে শিখতে হবে। আমাদের হৃদয়ের অনুভূতি সেই গীতরচকের মত হওয়া উচিৎ: “আমি সর্ব্বান্তঃকরণে তোমার অন্বেষণ করিয়াছি, আমাকে তোমার আজ্ঞা-পথ ছাড়িয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে দিও না। তোমার বচন আমি হৃদয়মধ্যে সঞ্চয় করিয়াছি, যেন তোমার বিরুদ্ধে পাপ না করি। সদাপ্রভু, তোমার বিধি-পথ আমাকে দেখাও, আর আমি শেষ পর্য্যন্ত তাহা পালন করিব। আমাকে বিবেচনা দেও, আমি তোমার ব্যবস্থা মানিব, সর্ব্বান্তঃকরণে তাহা পালন করিব।”—গীতসংহিতা ১১৯:১০, ১১, ৩৩, ৩৪.
১২. খ্রীষ্টের মন প্রতিফলিত করতে কোন্ বিষয়গুলি আমাদের একত্রে সাহায্য করে?
১২ যিহোবার ধার্মিক নীতিগুলির প্রতি এই প্রকৃতির উপলব্ধি প্রদর্শন করা শুধুমাত্র বাইবেল অধ্যয়ন করে করা যায় না কিন্তু নিয়মিত খ্রীষ্টীয় সভায় অংশ গ্রহণ ও খ্রীষ্টীয় পরিচর্যায় একত্রে যোগদান করাও প্রয়োজন। এই দুই শক্তিশালী প্রভাব মনের ভাবকে ক্রমাগত সুদৃঢ় করবে ফলে আমাদের নিঃস্বার্থপর জীবনধারা সর্বদা খ্রীষ্টের মনকে প্রতিফলিত করবে।—রোমীয় ১৫:৫; ১ করিন্থীয় ২:১৬.
১৩. (ক) মনের ভাবকে শক্তিশালী করতে প্রার্থনা কেন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? (খ) এই ক্ষেত্রে যীশু কী উদাহরণ স্থাপন করেন?
১৩ আর একটি বিষয় পৌল ইফিষীয়দের প্রতি লেখা পত্রে আলোকপাত করেন: “সর্ব্ববিধ প্রার্থনা ও বিনতি সহকারে সর্ব্বসময়ে আত্মাতে প্রার্থনা কর।” (ইফিষীয় ৬:১৮) স্বামী ও স্ত্রীর একসঙ্গে প্রার্থনা করার প্রয়োজন। প্রায়ই সেই প্রার্থনাগুলি হৃদয় খুলে দেয়, ও খোলাখুলি বিষয়গুলি আলোচনা করতে পরিচালিত করে যা যে কোন চিড় খাওয়া সম্বন্ধকে ঠিক করে দেয়। পরীক্ষা ও প্রলোভনের সময় আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে এবং খ্রীষ্টের মন অনুযায়ী যেটি সঠিক তা করতে আত্মিক শক্তির সাহায্য চাইতে হবে। শক্তি চাইতে, এমনকি সিদ্ধ যীশুও অনেক সময় তার পিতার কাছে প্রার্থনা করেন। অনুরূপে বর্তমানে, প্রলোভনের সময় যিহোবার কাছে সাহায্য চেয়ে আমরা বিবাহের প্রতিশ্রুতিকে ভঙ্গ করার দৈহিক কামনাকে প্রতিরোধ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে শক্তি পেতে পারি।—গীতসংহিতা ১১৯:১০১, ১০২.
আচরণের দুটি বিপরীত উদাহরণ
১৪, ১৫. (ক) যোষেফ প্রলোভনের প্রতি কিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান? (খ) প্রলোভন প্রতিরোধ করতে যোষেফকে কী সাহায্য করে?
১৪ আমরা কিরূপে প্রলোভনকে প্রতিরোধ করতে পারি? এই ক্ষেত্রে, যোষেফ ও দায়ূদ যে দুটি পথ বেছে নেন সেই সম্বন্ধে আমরা স্পষ্ট অবগত আছি। যখন পোটিফরের স্ত্রী সুদর্শন যোষেফকে অনবরত প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিল, যে হয়ত সে সময় অবিবাহিতই ছিল, সে অবশেষে তাকে এই উত্তর দেয়: “এই বাটীতে আমা অপেক্ষা বড় কেহই নাই; [আপনার স্বামী] সমুদয়ের মধ্যে কেবল আপনাকেই আমার অধীনা করেন নাই, কারণ আপনি তাঁহার ভার্য্যা। অতএব আমি কিরূপে এই মহা দুষ্কর্ম্ম করিতে ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করিতে পারি?”—আদিপুস্তক ৩৯:৬-৯.
১৫ লোভের বশীভূত হওয়া যখন এতই সহজ ছিল তখন যোষেফকে সঠিক পথটি গ্রহণ করতে কী সাহায্য করে? তার নিজ মনের ভাবটি শক্তিশালী ছিল। যিহোবার সাথে তার সম্পর্ক সম্বন্ধে সে খুবই সচেতন ছিল। সে জানত যে এই মোহাচ্ছন্ন স্ত্রীলোকটির সাথে ব্যভিচার করলে শুধুমাত্র তার স্বামীর বিরুদ্ধে পাপ করা হবে তা নয় কিন্তু, আরও গুরুত্বপূর্ণ, তা যিহোবার বিরুদ্ধেও পাপ হবে।—আদিপুস্তক ৩৯:১২.
১৬. একটি প্রলোভনের প্রতি দায়ূদ কিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান?
১৬ বিপরীতে, দায়ূদের ক্ষেত্রে কী হয়? দায়ূদ বিবাহিত পুরুষ ছিলেন, নিয়মের অনুমতি অনুসারে তার বহু পত্নী ছিল। এক সন্ধ্যাবেলা, তিনি রাজপ্রাসাদ থেকে এক নারীকে স্নান করতে দেখেন। নারীটি ছিল ঊরিয়ের স্ত্রী, সুন্দরী বৎশেবা। দায়ূদ কী করবেন তা বেছে নেওয়ার স্পষ্ট সুযোগ ছিল—নারীটিকে তার দেখেই যাওয়া হৃদয়ে কামের উদ্রেকের সাথে অথবা প্রলোভন থেকে সরে এসে সেটিকে প্রত্যাখ্যান করা। তিনি কী করতে বেছে নেন? তিনি তাকে তার রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসেন, এবং তার সাথে ব্যভিচার করেন। এমনকি আরও মন্দ বিষয়, তার স্বামীর মৃত্যুর কারণ সৃষ্টি করেন।—২ শমূয়েল ১১:২-৪, ১২-২৭.
১৭. দায়ূদের আত্মিকতা সম্বন্ধে আমরা কী ধারণা করতে পারি?
১৭ দায়ূদের সমস্যাটি কী ছিল? পরবর্তীকালে গীতসংহিতা ৫১ অধ্যায়ে, অনুতপ্ত হয়ে তার পাপস্বীকার থেকে আমরা কিছু সত্য জানতে পারি। তিনি বলেন: “হে ঈশ্বর, আমাতে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ সৃষ্টি কর, আমার অন্তরে সুস্থির আত্মাকে নূতন করিয়া দেও।” এটি প্রকাশ পায় যে প্রলোভনের সময় তার বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ ও সুস্থির আত্মা ছিল না। হয়ত, তিনি যিহোবার নিয়মগুলি পড়তে অবহেলা করেন ফলে তার আত্মিকতা দুর্বল হয়ে পড়ে। অথবা তিনি হয়ত রাজা হিসাবে তার স্থান ও শক্তির দ্বারা তার চিন্তাধারাকে কলুষিত করতে পরিচালিত করেন যার জন্য তিনি কামলালসার ফাঁদে পড়েন। তার মনের ভাবের প্রেরণা জাগানোর শক্তি নিশ্চয় সেই সময় স্বার্থপর ও পাপপূর্ণ ছিল। তাই, তিনি “সুস্থির আত্মাকে নূতন” করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।—গীতসংহিতা ৫১:১০; দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:১৮-২০.
১৮. পারদার্য সম্পর্কে যীশু কী পরামর্শ দেন?
১৮ কিছু খ্রীষ্টীয় বিবাহ নষ্ট হয়ে গেছে কারণ এক অথবা উভয় সঙ্গীই নিজেদের আত্মিকরূপে দুর্বল হওয়ার পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে, রাজা দায়ূদের মত। কোন এক নারী বা পুরুষকে আসক্তির চোখে ক্রমাগত দেখার প্রতি দায়ূদের উদাহরণ আমাদের সাবধান করে দেয় কারণ তা অবশেষে ব্যভিচার করতে পরিচালিত করতে পারে। যীশু প্রদর্শন করেন যে এই সম্বন্ধে মানুষের আবেগকে তিনি বুঝতে পারেন কারণ তিনি বলেন: ‘তোমরা শুনিয়াছ, উক্ত হইয়াছিল, “তুমি ব্যভিচার করিও না”। কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যভিচার করিল।’ সেই ক্ষেত্রে মনকে প্রভাবিত করার শক্তিটি হয়ে যায় স্বার্থপর ও ইন্দ্রিয়গত, আত্মিক নয়। তাহলে, ব্যভিচার এড়িয়ে বিবাহকে সুখী ও পরিতৃপ্ত রাখতে এক খ্রীষ্টান কী করতে পারে?—মথি ৫:২৭, ২৮.
বিবাহ বন্ধনকে সুদৃঢ় করুন
১৯. কিরূপে বিবাহকে সুদৃঢ় করা যায়?
১৯ রাজা শলোমন লেখেন: “যে একাকী, তাহাকে যদ্যপি কেহ পরাস্ত করে, তথাপি দুই জন তাহার প্রতিরোধ করিবে, এবং ত্রিগুণ সূত্র শীঘ্র ছিঁড়ে না।” যে বৈবাহিক সম্পর্কে মিল রয়েছে সেখানে একজনের থেকে দুইজন নিশ্চয় সমস্যা এলে একত্রে মোকাবিলা করতে পারবে। কিন্তু যদি তাদের বন্ধন ত্রিগুণ সূত্রের মত হয়, ঈশ্বর তাদের মধ্যে থাকেন, তাহলে বিবাহ সুদৃঢ় হবে। কিন্তু ঈশ্বর কিভাবে বিবাহে থাকতে পারে? দম্পতি বিবাহ সম্পর্কে তাঁর নীতি ও পরামর্শ কাজে লাগালে।—উপদেশক ৪:১২.
২০. বাইবেলের কোন্ পরামর্শ এক স্বামীকে সাহায্য করতে পারে?
২০ যদি স্বামী, নিম্নে প্রদত্ত শাস্ত্রগুলির পরামর্শ কাজে লাগায় তাহলে প্রকৃতই তার বিবাহে সফলতার আরও ভাল ভিত্তিগুলি থাকবে:
“হে স্বামিগণ, স্ত্রীলোক অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বল পাত্র বলিয়া তাহাদের সহিত জ্ঞানপূর্ব্বক বাস কর, তাহাদিগকে আপনাদের সহিত জীবনের অনুগ্রহের সহাধিকারিণী জানিয়া সমাদর কর; যেন তোমাদের প্রার্থনা রুদ্ধ না হয়।”—১ পিতর ৩:৭.
“স্বামীরা, তোমরা আপন আপন স্ত্রীকে সেইরূপ প্রেম কর, যেমন খ্রীষ্টও মণ্ডলীকে প্রেম করিলেন, আর তাহার নিমিত্ত আপনাকে প্রদান করিলেন। এইরূপে স্বামীরাও আপন আপন স্ত্রীকে আপন আপন দেহ বলিয়া প্রেম করিতে বাধ্য। আপন স্ত্রীকে যে প্রেম করে, সে আপনাকেই প্রেম করে।”—ইফিষীয় ৫:২৫, ২৮.
“তাঁহার স্বামীও বলেন, আর তাঁহার এইরূপ প্রশংসা করেন,—‘অনেক মেয়ে গুণবত্তা প্রদর্শন করিয়াছে, কিন্তু তাহাদের মধ্যে সর্ব্বাপেক্ষা তুমি শ্রেষ্ঠা।’”—হিতোপদেশ ৩১:২৮, ২৯.
“কেহ যদি জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়া চলে, তবে তাহার পদতল কি পুড়িয়া যাইবে না? তদ্রূপ যে প্রতিবাসীর স্ত্রীর কাছে গমন করে; যে তাহাকে স্পর্শ করে, সে অদন্ডিত থাকিবে না। পরদারগামী পুরুষ . . . আপনার প্রাণ আপনি নষ্ট করে।”—হিতোপদেশ ৬:২৮, ২৯, ৩২.
২১. বাইবেলের কোন্ পরামর্শ এক স্ত্রীকে সাহায্য করতে পারে?
২১ যদি এক স্ত্রী পরবর্তী বাইবেল মতবাদগুলির প্রতি মনোযোগ দেয় তাহলে সেগুলি তার বিবাহকে স্থায়ী করতে সাহায্য করবে:
“হে ভার্য্যা সকল, তোমরা আপন আপন স্বামীর বশীভূতা হও; যেন কেহ কেহ যদিও বাক্যের অবাধ্য হয়, তথাপি যখন তাহারা তোমাদের সভয় বিশুদ্ধ আচার ব্যবহার [এবং তোমাদের] প্রশান্ত ও মৃদু আত্মা স্বচক্ষে দেখিতে পায়, তখন বাক্য বিহীনে আপন আপন ভার্য্যার আচার ব্যবহার দ্বারা তাহাদিগকে লাভ করা হয়।”—১ পিতর ৩:১-৪, NW.
“স্বামী স্ত্রীকে তাহার [যৌন] প্রাপ্য দিউক; আর তদ্রূপ স্ত্রীও স্বামীকে দিউক; . . . তোমরা এক জন অন্যকে বঞ্চিত করিও না; কেবল . . . উভয় এক পরামর্শ হইয়া কিছু কাল পৃথক্ থাকিতে পার।”—১ করিন্থীয় ৭:৩-৫.
২২. (ক) অন্য কোন্ বিষয়গুলি বিবাহকে ভালর জন্য প্রভাবিত করতে পারে? (খ) বিবাহবিচ্ছেদকে যিহোবা কিরূপে দেখেন?
২২ বাইবেল দেখায় যে প্রেম, দয়া, সমবেদনা, ধৈর্য, বোঝাপড়া, উৎসাহ এবং প্রশংসা, এইগুলি হল বিবাহের মণিটির প্রয়োজনীয় দিকগুলি। এইগুলি ব্যতীত বিবাহ হল, জল ও সূর্যালোক ছাড়া এক গাছের সমান—খুব কমই প্রস্ফুটিত হয়। তাই, আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কে একে অপরকে উৎসাহদান ও পরিতৃপ্ত করতে নিজ মনের প্রেরণা জাগানোর শক্তিকে আমাদের চালিত করতে দিন। স্মরণে রাখবেন যে যিহোবা ‘বিবাহবিচ্ছেদ’ ঘৃণা করেন। যদি খ্রীষ্টীয় প্রেম কাজে লাগান হয়, তাহলে পারদার্য এবং বিবাহ ভঙ্গ হওয়ার কোন সুযোগই থাকবে না। কেন? কারণ “প্রেম কখনও বিফল হয় না।”—মালাখি ২:১৬, NW; ১ করিন্থীয় ১৩:৪-৮ NW; ইফিষীয় ৫:৩-৫. (w93 2/15)
আপনি কী ব্যাখ্যা করতে পারেন?
▫ সুখী বিবাহের মূল বিষয়টি কী?
▫ মনের ভাবের শক্তি কিভাবে বিবাহকে প্রভাবিত করে?
▫ আমাদের নিজ মনের ভাবের শক্তিকে সুদৃঢ় করতে আমরা কী করতে পারি?
▫ প্রলোভনের সময় যোষেফ ও দায়ূদ কিভাবে ভিন্ন আচরণ করেন?
▫ স্বামী ও স্ত্রীকে বিবাহ বন্ধন দৃঢ় করতে বাইবেলের কোন্ পরামর্শ সাহায্য করবে?
[Pictures on page 24]
আমরা কি দুই নীতি প্রয়োগ করে চলি—মণ্ডলীতে দয়ালু এবং গৃহে কটুভাষী?