ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৩ ৫/১ পৃষ্ঠা ৭-১২
  • ঈশ্বরীয় বাধ্যতা—কেন এবং কাদের দ্বারা?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ঈশ্বরীয় বাধ্যতা—কেন এবং কাদের দ্বারা?
  • ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • কেন আমরা যিহোবা ঈশ্বরের বশীভূত হতে বাধ্য
  • যীশু খ্রীষ্ট, ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক নিখুঁত উদাহরণ
  • ঈশ্বরীয় বাধ্যতার প্রাচীন উদাহরণ
  • পৌলের বাধ্যতার উদাহরণ
  • ঈশ্বরীয় বাধ্যতা আমাদের কাছে কী আশা করে
    ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • স্ত্রীরা—আপনাদের স্বামীদের গভীর সম্মান করুন
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কাদের কর্তৃত্বকে আপনার স্বীকার করা উচিত?
    জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে
  • নতুন বিশেষ অধিবেশন দিন কার্যক্রম
    ২০০২ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৩ ৫/১ পৃষ্ঠা ৭-১২

ঈশ্বরীয় বাধ্যতা—কেন এবং কাদের দ্বারা?

“হে সদাপ্রভু, আমি জানি, মনুষ্যের পথ তাহার বশে নয়, মনুষ্য চলিতে চলিতে আপন পাদবিক্ষেপ স্থির করিতে পারে না।”—যিরমিয় ১০:২৩.

১. কী কী প্রকৃতির স্বাধীনতাকে ব্যাপকরূপে মূল্য দেওয়া হয়?

মানব দলিলের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দলিলটি হল স্বাধীনতার ঘোষণাটি, যাতে ১৮শো শতাব্দীতে উত্তর আমেরিকার ১৩টি ব্রিটিশ উপনিবেশ রাজ্য তাদের মাতৃভূমি, ব্রিটেন থেকে স্বাধীন ঘোষণা করে। তারা মুক্তি চেয়েছিল এবং বিদেশী ক্ষমতা থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতা একত্রে এসেছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অনেক সুযোগ এনে দিতে পারে। সাম্প্রতিককালে কিছু পূর্ব ইউরোপীয় রাজ্যগুলি রাজনৈতিক স্বাধীনতার দিকে পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু আমাদের এটি স্বীকার করতেই হবে যে সেই সব দেশে এরূপ স্বাধীনতা বহু গুরুতর সমস্যাও এনেছে।

২, ৩. (ক) কোন্‌ প্রকৃতির স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষিত নয়? (খ) আদিতে এই বিষয়টি কিভাবে প্রদর্শন করা হয়?

২ যে কোন ধরনের স্বাধীনতা যতই আকাঙ্ক্ষিত হোক না কেন, কিন্তু এক প্রকৃতির স্বাধীনতা একেবারেই আকাঙ্ক্ষিত নয়। সেটি কী? মানুষের স্রষ্টা, যিহোবা ঈশ্বরের কাছ থেকে স্বাধীন থাকা। সেটি আশীর্বাদ নয়, কিন্তু অভিশাপ। কেন? কারণ মানুষকে তার স্রষ্টার থেকে স্বাধীন হয়ে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, যেমন যিরমিয় ভাববাদীর উপরোক্ত কথাগুলি যথার্থরূপে প্রদর্শন করে। অর্থাৎ, মানুষকে তার স্রষ্টার প্রতি বাধ্য থাকার জন্য সৃষ্টি করা হয়। আমাদের স্রষ্টার বাধ্য হওয়ার অর্থ হল তার বাক্য পালন করা।

৩ প্রথম দম্পতির প্রতি যিহোবার আজ্ঞার মাধ্যমে এই সত্যটি, জোরের সাথে স্পষ্ট করা হয় যেমন আদিপুস্তক ২:১৬, ১৭ পদে বর্ণনা আছে: “তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; কিন্তু সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ, তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে।” স্রষ্টার প্রতি বাধ্য না হওয়ার ফলে আদম ও তার সমস্ত সন্তান-সন্ততিদের জন্য আসে পাপ, দুঃখকষ্ট ও মৃত্যু।—আদিপুস্তক ৩:১৯; রোমীয় ৫:১২.

৪, ৫. (ক) মানুষ ঈশ্বরের প্রতি অবাধ্য হওয়াতে ফলাফল কী হয়? (খ) কোন নৈতিক নিয়মটি অলঙ্ঘনীয়?

৪ ঈশ্বরের প্রতি মানুষের বাধ্য হতে প্রত্যাখ্যান করা হল অজ্ঞতার কাজ এবং তার সাথে সেটি নীতিগতরূপে ভুলও। এর ফলে জগতে এসেছে ব্যাপক অরাজকতা, অপরাধ, দৌরাত্ম্য ও যৌন অনৈতিকতা যার ফল হল যৌন সংক্রান্ত রোগ। তাছাড়া, বর্তমানের বেশীরভাগ উপদ্রবকর শিশু অপরাধ কি যুবক-যুবতীদের যিহোবার প্রতি, তার সঙ্গে পিতামাতার প্রতি বাধ্য হতে ও দেশের নিয়ম পালন করতে প্রত্যাখ্যান করার জন্য হচ্ছে না? এই ধরনের স্বাধীন মনোভাব, বহু লোকের অদ্ভুত ও অগোছাল বেশবাস পরার মাধ্যমে এবং তাদের অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করার মাধ্যমে দেখা গেছে।

৫ স্রষ্টার অপ্রতিরোধনীয় নৈতিক নিয়মের থেকে কেউই রক্ষা পাবে না: “তোমরা ভ্রান্ত হইও না; ঈশ্বরকে পরিহাস করা যায় না; কেননা মনুষ্য যাহা কিছু বুনে তাহাই কাটিবে। ফলতঃ আপন মাংসের উদ্দেশে যে বুনে, সে মাংস হইতে ক্ষয়রূপ শস্য পাইবে।”—গালাতীয় ৬:৭, ৮.

৬, ৭. বাধ্য হতে প্রত্যাখ্যান করার মূল কারণটি কী, কোন্‌ উদাহরণগুলিতে তা দেখা যায়?

৬ বাধ্য হতে প্রত্যাখ্যান করার মূল কারণটি কী? সাধারণভাবে বলতে গেলে, স্বার্থপরতা ও অহঙ্কার। সেই কারণে প্রথম স্ত্রী, হবা নিজেকে সর্পের দ্বারা প্রতারিত হতে দেয় এবং নিষিদ্ধ ফল গ্রহণ করে। যদি সে নম্র ও বিনয়ী হত, তাহলে ঈশ্বরতুল্য হওয়ার প্রলোভন—ভাল কি মন্দ নিজেই বিবেচনা করা—তাকে আকর্ষিত করত না। এবং যদি সে নিঃস্বার্থপর হত তাহলে তার স্রষ্টা, যিহোবা ঈশ্বর যেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন তা সে চাইত না।—আদিপুস্তক ২:১৬, ১৭.

৭ আদম ও হবা পতিত হওয়ার কিছু পরেই, অহঙ্কার ও স্বার্থপরতা কয়িনকে, তার ভাই হেবলকে হত্যা করতে প্ররোচিত করে। আবার স্বার্থপরতাই কিছু দূতদের স্বাধীনরূপে কাজ করায়, তারা নিজেদের প্রকৃত স্থান পরিত্যাগ করে ও পার্থিব দেহ ধারণ করে যাতে তারা ভোগ বাসনা উপভোগ করতে পারে। নিম্রোদকে অহঙ্কার ও স্বার্থপরতা প্ররোচিত করে এবং তার সময়কাল থেকেই বেশীরভাগ জাগতিক শাসকদের বৈশিষ্ট্যই হল তাই।—আদিপুস্তক ৩:৬, ৭; ৪:৬-৮; ১ যোহন ৩:১২; যিহুদা ৬.

কেন আমরা যিহোবা ঈশ্বরের বশীভূত হতে বাধ্য

৮-১১. আমাদের ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে কোন্‌ চারটি জোরালো কারণ আছে?

৮ কেন আমরা আমাদের স্রষ্টা যিহোবা ঈশ্বরের প্রতি বশীভূত হতে বাধ্য? প্রথমত তিনি হলেন সার্বিক সার্বভৌম। যথাযথরূপে তাঁরই সব কিছুতে অধিকার আছে। তিনি আমাদের বিচারকর্তা, ব্যবস্থাপক ও রাজা। (যিশাইয় ৩৩:২২) তাঁর সম্পর্কে উত্তমরূপে লিখিত আছে: “তাঁহার চক্ষুর্গোচরে সকলই নগ্ন ও অনাবৃত রহিয়াছে, যাঁহার কাছে আমাদিগকে নিকাশ দিতে হইবে।”—ইব্রীয় ৪:১৩.

৯ তাছাড়া, যেহেতু আমাদের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান, তাই কেউই সফলতার সাথে তাঁর বিরোধিতা করতে পারে না; কোন ব্যক্তিই তাঁর প্রতি বাধ্য হওয়ার বাধ্যবাধকতাটি উপেক্ষা করতে পারে না। বর্তমানে হোক বা ভবিষ্যতেই হোক, যারা প্রত্যাখ্যান করবে তারা অতীতের ফরৌণের মত এবং ঈশ্বরের সময় অনুযায়ী যেমন শয়তান দিয়াবল ধ্বংস প্রাপ্ত হবে তেমনই ধ্বংস হবে।—গীতসংহিতা ১৩৬:১, ১১-১৫; প্রকাশিত বাক্য ১১:১৭; ২০:১০, ১৪.

১০ সমস্ত বুদ্ধিমত্ত প্রাণীদের বাধ্যতা প্রদর্শন করা হল বাধ্যবাধকতা কারণ ঈশ্বরকে সেবা করার জন্যই তারা জীবিত আছে। প্রকাশিত বাক্য ৪:১১ ঘোষণা করে: “হে আমাদের প্রভু ও আমাদের ঈশ্বর, তুমিই প্রতাপ ও সমাদর ও পরাক্রম গ্রহণের যোগ্য; কেননা তুমিই সকলের সৃষ্টি করিয়াছ, এবং তোমার ইচ্ছাহেতু সকলই অস্তিত্বপ্রাপ্ত ও সৃষ্ট হইয়াছে।” তিনি হলেন মহান কুম্ভকার, এবং তাঁর উদ্দেশ্যসাধনেই তিনি মানব পাত্র নির্মাণ করেন।—যিশাইয় ২৯:১৬; ৬৪:৮.

১১ আমাদের এই বিষয়টি উপেক্ষা করা চলবে না যে আমাদের স্রষ্টা হলেন সর্বজ্ঞানী, তাই আমাদের জন্য কোন্‌টি ভাল তিনি জানেন। (রোমীয় ১১:৩৩) ‘আমাদের মঙ্গলার্থে’ তাঁর নিয়মগুলি। (দ্বিতীয় বিবরণ ১০:১২, ১৩) সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিষয় হল, “ঈশ্বর প্রেম,” তাই আমাদের জন্য যেগুলি ভাল সেইগুলি তিনি চান। আমাদের স্রষ্টা যিহোবা ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য হওয়ার জন্য আমাদের কাছে কতগুলিই না বাধ্যবাধকতামূলক কারণ আছে!—১ যোহন ৪:৮.

যীশু খ্রীষ্ট, ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক নিখুঁত উদাহরণ

১২, ১৩. (ক) যীশু খ্রীষ্ট কিরূপে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন? (খ) যীশুর কোন্‌ কথাগুলি তার বাধ্যতার মনোভাব প্রদর্শন করে?

১২ সন্দেহের কোন লেশমাত্র নেই যে, যিহোবার একজাত পুত্র যীশু খ্রীষ্ট আমাদের জন্য ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক নিখুঁত উদাহরণ রেখেছেন। এই বিষয়টি প্রেরিত পৌল ফিলিপীয় ২:৬-৮ পদে তুলে ধরেছেন: “[যীশু] ঈশ্বরের স্বরূপবিশিষ্ট থাকিতে তিনি ঈশ্বরের সহিত সমান থাকা ধরিয়া লইবার বিষয় জ্ঞান করিলেন না, কিন্তু আপনাকে শূন্য করিলেন, দাসের রূপ ধারণ করিলেন, মনুষ্যদের সাদৃশ্যে জন্মিলেন; এবং আকার প্রকারে মনুষ্যবৎ প্রত্যক্ষ হইয়া আপনাকে [আরও] অবনত করিলেন; মৃত্যু পর্য্যন্ত এমনকি ক্রুশীয় মৃত্যু পর্য্যন্ত আজ্ঞাবহ হইলেন।” পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশু বারংবার বলেন তিনি নিজের ইচ্ছাবশত কিছুই করেন না; তিনি স্বাধীনরূপে কোন কিছুই করেননি কিন্তু সর্বদাই তাঁর স্বর্গীয় পিতার বাধ্য ছিলেন।

১৩ আমরা যোহন ৫:১৯, ৩০ পদে পড়ি: “যীশু উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, পুত্ত্র আপনা হইতে কিছুই করিতে পারেন না, কেবল পিতাকে যাহা করিতে দেখেন, তাহাই করেন; কেননা তিনি যাহা যাহা করেন, পুত্ত্রও সেই সকল তদ্রূপ করেন। আমি আপনা হইতে কিছুই করিতে পারি না; যেমন শুনি তেমনি বিচার করি; আর আমার বিচার ন্যায্য, কেননা আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি না, কিন্তু আমার প্রেরণকর্ত্তার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে চেষ্টা করি।” যে রাতে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে সেই রাতে তিনি বারংবার এইরূপ প্রার্থনা করেন: “আমার ইচ্ছামত না হউক, তোমার ইচ্ছামত হউক।”—মথি ২৬:৩৯, ৪২, ৪৪; আরও দেখুন যোহন ৭:২৮, ৪২.

ঈশ্বরীয় বাধ্যতার প্রাচীন উদাহরণ

১৪. নোহ কিভাবে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা দেখান?

১৪ ঈশ্বরীয় বাধ্যতার প্রাচীন উদাহরণের মধ্যে একজন হলেন নোহ। তিনি তিনটি উপায়ে তাঁর বাধ্যতা প্রদর্শন করেন। প্রথম, ধার্মিক ব্যক্তি হয়ে তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে গমনাগমন করা কালে তার সমসাময়িক ব্যক্তিদের মধ্যে নির্দোষ ছিলেন। (আদিপুস্তক ৬:৯) দ্বিতীয়, জাহাজ নির্মাণ করেন। তিনি “সেইরূপ করিলেন, ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারেই সকল কর্ম্ম করিলেন।” (আদিপুস্তক ৬:২২) তৃতীয়, তিনি “ধার্ম্মিকতার প্রচারক” রূপে আগত মহাপ্লাবন সম্বন্ধে সাবধানবাণী ঘোষণা করেন।—২ পিতর ২:৫.

১৫, ১৬. (ক) ঈশ্বরীয় বাধ্যতা সম্পর্কে অব্রাহাম কী উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন? (খ) সারা কিভাবে বাধ্যতা দেখান?

১৫ অব্রাহাম হলেন ঈশ্বরীয় বাধ্যতার আর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তিনি ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে: ‘তুমি আপন দেশ পরিত্যাগ করিয়া চল।’ (আদিপুস্তক ১২:১) এর অর্থ হল ঊর দেশের সুখের পরিবেশ পরিত্যাগ করে (প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দেখায় যে সেটি কোন অখ্যাত শহর ছিল না) তাকে বিদেশে একশো বছর ধরে যাযাবরের মত ঘুরতে হয়। অব্রাহাম তার পুত্র ইস্‌হাককে উৎসর্গ করতে ইচ্ছুক হয়ে সেই মহা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, বিশেষভাবে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন।—আদিপুস্তক ২২:১-১২.

১৬ অব্রাহামের স্ত্রী সারা আমাদের জন্য ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। অজানা দেশে ঘুরে বেড়াবার সময় নিশ্চয় তার অনেক অসুবিধা হয়, কিন্তু তিনি অভিযোগ করে ছিলেন বলে আমরা কোথাও পড়িনি। অব্রাহাম তাকে যখন তার বোনরূপে পরজাতীয় রাজাদের কাছে পরিচয় দেন তখন সেই দুই পরিস্থিতিতেই তিনি ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। উভয় পরিস্থিতিতেই তিনি সহযোগিতা করেন, এর ফলে যদিও বা তিনি প্রায় তাদের হারেমের সভ্য হয়ে যাচ্ছিলেন। তার ঈশ্বরীয় বাধ্যতার আর একটি প্রমাণ হল নিজের মনেই তার স্বামী, অব্রাহামকে “আমার প্রভু” বলা, যা প্রদর্শন করে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা ছিল তার হৃদয়ের প্রকৃত ইচ্ছা।—আদিপুস্তক ১২:১১-২০; ১৮:১২; ২০:২-১৮; ১ পিতর ৩:৬.

১৭. ইস্‌হাক ঈশ্বরীয় বাধ্যতা দেখান বলে কেন বলা যেতে পারে?

১৭ অব্রাহামের পুত্র ইস্‌হাক যে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেছিল আসুন, তা আমরা যেন উপেক্ষা না করি। যিহুদী কাহিনীর যে বিশ্বাস, সেই অনুসারে সে যখন ২৫ বছরের ছিল তখন তার পিতা অব্রাহামকে যিহোবা ঈশ্বর বলেন তার পুত্রকে তাঁর কাছে উৎসর্গ করতে হবে। যদি ইস্‌হাক চাইতেন তাহলে তিনি সহজেই তার পিতাকে প্রতিরোধ করতে পারতেন, কারণ পিতা তার থেকে একশো বছরের বড় ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। বলির জন্য পশুর অভাব সম্বন্ধে যদিও বা ইস্‌হাক চিন্তা করেছিলেন তবুও তিনি নম্রতার সাথে তার পিতার বাধ্য হন যখন তার পিতা তাকে বেদীর উপর শোয়ান এবং হাতপা বেঁধে দেন, যাতে ইচ্ছাকৃত নয় এমন প্রতিক্রিয়াগুলি রোধ করতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়, যা হয়ত আসতে পারত যদি বলি দিতে ছুরি ব্যবহার করা হত।—আদিপুস্তক ২২:৭-৯.

১৮. মোশি কিভাবে উদাহরণমূলক ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন?

১৮ কিছু বছর পরে, ঈশ্বরীয় বাধ্যতা সম্পর্কে আমাদের জন্য মোশি এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। তার নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে যখন বর্ণনা করা হয় যে তিনি “ভূমন্ডলস্থ মনুষ্যদের মধ্যে সকল অপেক্ষা . . . অতিশয় মৃদুশীল ছিলেন।” (গণনাপুস্তক ১২:৩) এমনকি কুড়ি থেকে তিরিশ লক্ষ বিদ্রোহী লোকদের তত্ত্বাবধান করে, প্রান্তরে ৪০ বছর যিহোবার আজ্ঞা পালন করে যাওয়া ছিল মোশির ঈশ্বরীয় বাধ্যতার আরও এক প্রমাণ। তাই বিবরণ জানায় যে “মোশি এইরূপ করিলেন; তিনি সদাপ্রভুর সমস্ত আজ্ঞানুসারে কার্য্য করিলেন।”—যাত্রাপুস্তক ৪০:১৬.

১৯. ইয়োব কোন্‌ উক্তিগুলির দ্বারা যিহোবার প্রতি তার বাধ্যতা প্রদর্শন করেন?

১৯ ইয়োব হল আর একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র, যিনি ঈশ্বরীয় বাধ্যতার ক্ষেত্রে উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। ইয়োবের সমস্ত সম্পত্তি ধূলিসাৎ করতে, সন্তানদের মেরে ফেলতে এবং তাকে “আপাদমস্তকে আঘাত করিয়া দুষ্ট স্ফোটক” নিয়ে আসতে যিহোবার শয়তানকে অনুমতি দেওয়ার পর, ইয়োবের স্ত্রী তাকে বলে: “তুমি কি এখনও তোমার সিদ্ধতা রক্ষা করিতেছ? ঈশ্বরকে জলাঞ্জলি দিয়া প্রাণত্যাগ কর।” তবুও তিনি স্ত্রীকে এই বলে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন: “একটা মূঢ়া স্ত্রীর মত কথা কহিতেছ। বল কি? আমরা ঈশ্বর হইতে কি মঙ্গলই গ্রহণ করিব, অমঙ্গল গ্রহণ করিব না?” (ইয়োব ২:৭-১০) সেই একই মনোভাব তার বাক্যে প্রকাশ পায় যা ইয়োব ১৩:১৫ পদে লিপিবদ্ধ আছে: “যদিও তিনি আমাকে বধ করেন, তথাপি আমি তাঁহার অপেক্ষা করিব।” যদিও ইয়োব আসলে নিজের ন্যায়পরায়ণতা সম্বন্ধে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন কিন্তু আমরা এই বিষয়টি ভুলে যাব না যে, অবশেষে যিহোবা ইয়োবের কপট সান্ত্বনাদাতাদের একজনকে বলেন: “তোমার প্রতি ও তোমার দুই বন্ধুর প্রতি আমার কোপাগ্নি প্রজ্বলিত হইয়াছে, কারণ আমার দাস ইয়োব যেরূপ বলিয়াছে, তোমরা আমার বিষয়ে তদ্রূপ যথার্থ কথা বল নাই।” সন্দেহাতীতরূপে, ইয়োব ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক উত্তম উদাহরণ আমাদের প্রদান করেন।—ইয়োব ৪২:৭.

২০. দায়ূদ কিভাবে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন?

২০ ইব্রীয় শাস্ত্র থেকে মাত্র আর একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে হলে, সেটি হল দায়ূদের উদাহরণ। যখন রাজা শৌল দায়ূদকে পশুর মতো খুঁজছিলেন, তখন শৌলকে হত্যা করে তার সমস্যা দূর করার জন্য দায়ূদের দুটি সুযোগ ছিল। তবুও, দায়ূদের ঈশ্বরীয় বাধ্যতা তাকে সেটি করতে বিরত করে। তার বাক্যগুলি ১ শমূয়েল ২৪:৬ পদে লিপিবদ্ধ আছে: “আমার প্রভুর প্রতি, সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি এমন কর্ম্ম করিতে, তাঁহার বিরুদ্ধে আমার হস্ত বিস্তার করিতে সদাপ্রভু আমাকে না দিউন; কেননা তিনি সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তি।” (আরও দেখুন ১ শমূয়েল ২৬:৯-১১.) যখন তিনি ভুল করেন বা পাপ করেন তখন ঈশ্বরের কাছ থেকে ভর্ৎসনা গ্রহণ করে, অনুরূপ ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন।—২ শমূয়েল ১২:১৩; ২৪:১৭; ১ বংশাবলি ১৫:১৩.

পৌলের বাধ্যতার উদাহরণ

২১-২৩. কোন্‌ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রেরিত পৌল ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন?

২১ খ্রীষ্টীয় গ্রীক শাস্ত্রে, আমরা পৌলের মধ্যে ঈশ্বরীয় বাধ্যতার উত্তম উদাহরণ পাই। এই সম্পর্কে তিনি তার প্রভু, যীশু খ্রীষ্টকে অনুসরণ করেন, যেমন তিনি তার প্রেরিত সম্পর্কীয় পরিচর্যায়ও করেছিলেন। (১ করিন্থীয় ১১:১) যদিও বা যিহোবা তাকে অন্যান্য প্রেরিতদের থেকে আরও ক্ষমতাবান্‌রূপে ব্যবহার করেন তবুও তিনি কখনই স্বাধীন আচরণ করেননি। লূক আমাদের বলেন যে, খ্রীষ্ট ধর্মে পরিবর্তিত পরজাতীয়দের ছিন্নত্বকের প্রয়োজন আছে কি না সে সম্বন্ধে প্রশ্ন উঠলে, “ভ্রাতৃগণ [আন্তিয়খিয়ার ভাইয়েরা] স্থির করিলেন, সেই তর্কের মীমাংসার জন্য পৌল ও বার্ণবা, এবং তাঁহাদের আরও কয়েক জন, যিরূশালেমে প্রেরিতগণের ও প্রাচীনবর্গের নিকটে যাইবেন।”—প্রেরিত ১৫:২.

২২ পৌলের মিশনারী কার্য সম্পর্কে আমাদের গালাতীয় ২:৯ পদ বলে: “যখন তাঁহারা আমাকে প্রদত্ত সেই অনুগ্রহ জ্ঞাত হইলেন, তখন যাকোব, কৈফা ও যোহন—যাঁহারা স্তম্ভরূপে মান্য—আমাকে ও বার্ণবাকে সহভাগিতার দক্ষিণ হস্ত দিলেন, যেন আমরা পরজাতিগণের কাছে যাই, আর তাঁহারা ছিন্নত্বক্‌দের কাছে যান।” স্বাধীনরূপে আচরণ করার পরিবর্তে পৌল পরিচালনা গ্রহণ করেছিলেন।

২৩ অনুরূপে, শেষবারের মত যখন প্রেরিত পৌল যিরূশালেমে ছিলেন, তখন মন্দিরে যাওয়া ও নিয়মের সমস্ত প্রথাগুলি পালন করা সম্পর্কে তিনি সেখানকার প্রাচীনদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন, অন্যরা যাতে বুঝতে পারে যে তিনি মোশির নিয়মানুসারে ধর্মভ্রষ্ট নন। যেহেতু তা করার ফলে, তার প্রতি জনতা ভয়ানক উত্তেজিত হয়ে পড়ে, তাই সেই প্রাচীনদের প্রতি বাধ্য হওয়া কি তার ভুল হয়েছিল? কখনই নয়, যার প্রমাণ আমরা প্রেরিত ২৩:১১ পদ পড়ে পাই: “পর রাত্রিতে প্রভু পৌলের নিকটে দাঁড়াইয়া কহিলেন, সাহস কর, কেননা আমার বিষয়ে যেমন যিরূশালেমে সাক্ষ্য দিয়াছ, তদ্রূপ রোমেও দিতে হইবে।”

২৪. বাধ্যতা সম্পর্কে আর কোন্‌ বিভিন্ন দিকগুলি পরবর্তী প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে?

২৪ বাধ্য হওয়ার জন্য জোরালো কারণগুলি এবং যারা সেই বাধ্যতা প্রদর্শন করেন তাদের উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলি, সত্যই শাস্ত্র আমাদের প্রদান করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে আমরা যিহোবা ঈশ্বরের বাধ্য হতে পারি, বাধ্য হতে আমাদের কী সাহায্য করবে এবং বাধ্য হলে তার পুরস্কার কী, সেই সম্পর্কে আমরা পরবর্তী প্রবন্ধে বিবেচনা করব। (w93 2/1)

আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?

▫ কী প্রকৃতির স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষিত নয়?

▫ বাধ্য হতে প্রত্যাখ্যান করার মূল কারণ কী?

▫ আমরা কী কী কারণে যিহোবার বশীভূত হতে বাধ্য?

▫ ঈশ্বরীয় বাধ্যতা সম্পর্কে শাস্ত্র আমাদের কী কী উত্তম উদাহরণ প্রদান করে?

[Pictures on page 8]

নিম্রোদ, জলপ্লাবনের পূর্বের প্রথম শাসক যে ঈশ্বরীয় বাধ্যতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে

[Pictures on page 11]

নোহ, ঈশ্বরীয় বাধ্যতার ত্রুটিহীন উদাহরণ।—আদিপুস্তক ৬:১৪, ২২

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার