ঈশ্বরীয় বাধ্যতা আমাদের কাছে কী আশা করে
“অতএব তোমরা ঈশ্বরের বশীভূত হও।”—যাকোব ৪:৭.
১. আমরা যে প্রকৃতির ঈশ্বরকে উপাসনা করি তাঁর সম্বন্ধে কী বলা যেতে পারে?
যিহোবা কতই না অপূর্ব ঈশ্বর! বিভিন্ন রূপে তিনি সমকক্ষহীন, অতুলনীয়, নিরুপম, অনুপম! তিনি হলেন সর্বশক্তিমান, সার্বিক সার্বভৌম যার কাছেই সমস্ত প্রকৃত অধিকার আছে। অনন্তকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত তিনি আছেন এবং এতই মহিমাময় যে কোন মানুষই তাকে দেখে বেঁচে থাকতে পারে না। (যাত্রাপুস্তক ৩৩:২০; রোমীয় ১৬:২৬) শক্তি ও প্রজ্ঞায় তিনি অসীম, ন্যায়বিচারে সম্পূর্ণ নিখুঁত এবং প্রেমের প্রতিমূর্তি। তিনি আমাদের স্রষ্টা, বিচারকর্তা, ব্যবস্থাপক ও আমাদের রাজা। সমস্ত উত্তম দান ও সকল সিদ্ধ উপহার তাঁর কাছ থেকেই আসে।—গীতসংহিতা ১০০:৩; যিশাইয় ৩৩:২২; যাকোব ১:১৭.
২. ঈশ্বরীয় বাধ্যতার সাথে কী কী জড়িত আছে?
২ এই সমস্ত কিছু বিবেচনা করলে, তার প্রতি আমাদের বাধ্যতা প্রদর্শন করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে কোন প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আমরা এই সম্পর্কে কিভাবে জড়িত? বিভিন্ন রূপে। যেহেতু আমরা ব্যক্তিগতরূপে যিহোবা ঈশ্বরকে দেখতে পাই না, তাই তাঁর প্রতি বাধ্য থাকার অর্থ হল আমাদের শিক্ষিত বিবেকের পরিচালনাগুলি অনুসরণ করা, ঈশ্বরের পার্থিব সংগঠনের সাথে সহযোগিতা করা, জাগতিক কর্তৃপক্ষকে স্বীকার করা এবং পারিবারিক বৃত্তের মধ্যে মস্তকের ব্যবস্থাকে সম্মান দেখান।
উত্তম বিবেক রাখা
৩. উত্তম বিবেক রাখতে হলে আমাদের কী প্রকৃতির নিষেধগুলি মানতে হবে?
৩ উত্তম বিবেক রাখতে হলে, আমাদের অবশ্যই যা জোর করে চাপানো যায় না তার প্রতি বাধ্য হতে হবে—অর্থাৎ, সেই নিয়ম ও নীতিগুলির প্রতি যেগুলি মানুষ জোর করে বলবৎ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, মোশির দশ আজ্ঞার, দশম আজ্ঞাটি পরবস্তুর প্রতি লোভ সম্পর্কিত, যেটি মানব অধিকর্তারা বলবৎ করতে পারেননি। প্রসঙ্গত, এটিই মোশির দশ আজ্ঞার ঐশিক উৎসকে প্রমাণ করে, কারণ কোন মানব আইন-প্রণেতা এমন কোন আইন তৈরি করবেন না যা অমান্য করলে জোর করে বলবৎ করা যাবে না। এই নিয়ম দিয়ে যিহোবা ঈশ্বর প্রতিটি ইস্রায়েলীয়কে নিজেই নিজের রক্ষক হওয়ার দায়িত্ব দেন—যদি সে উত্তম বিবেক চায়। (যাত্রাপুস্তক ২০:১৭) অনুরূপে, মাংসের কার্যের মধ্যে যেগুলি একজনকে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে দেবে না তা হল “ঈর্ষা” এবং “মাৎসর্য্য”—প্রতিক্রিয়াগুলি যার বিরুদ্ধে মানব বিচারকর্তারা জোর করে নিয়ম বলবৎ করতে অপারগ। (গালাতীয় ৫:১৯-২১) কিন্তু উত্তম বিবেক রাখতে হলে আমাদের এইগুলি এড়িয়ে চলতেই হবে।
৪. উত্তম বিবেক রাখতে হলে, আমাদের কী কী বাইবেল নীতি অনুসারে চলা প্রয়োজন?
৪ হ্যাঁ, আমাদের বাইবেলের নীতি অনুসারে চলতেই হবে। সেই নীতিগুলি দুটি আজ্ঞার মধ্যেই একত্রীভূত করা যায় যা যীশু খ্রীষ্ট মোশির নিয়মের মধ্যে কোন্ নিয়মটি প্রধান, তার উত্তরে বলেন। “তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে, . . . তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।” (মথি ২২:৩৬-৪০) এই দুই আজ্ঞার দ্বিতীয়টি সম্বন্ধে বর্ণনা রয়েছে যীশুর বাক্য মথি ৭:১২ পদে: “অতএব সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও; কেননা ইহাই ব্যবস্থার ও ভাববাদি-গ্রন্থের সার।”
৫. যিহোবা ঈশ্বরের সাথে আমরা কিভাবে উত্তম সম্বন্ধ রাখতে পারি?
৫ আমাদের যেটি সঠিক তা করা উচিৎ ও যেটি ভুল তা করা উচিৎ নয়, তা অপরে লক্ষ্য করুক বা না করুক। সঠিকটি করলে বা না করলে যদি কোন কিছু নাও যায় আসে তবুও আমাদের সঠিকটি করতে হবে। এর অর্থ হল আমাদের স্বর্গীয় পিতার সাথে উত্তম সম্বন্ধ রাখা এবং সেই সাবধানবাণীটি মনে রাখা যা প্রেরিত পৌল ইব্রীয় ৪:১৩ পদে প্রকাশ করেন: “তাঁহার সাক্ষাতে কোন সৃষ্ট বস্তু অপ্রকাশিত নয়; কিন্তু তাঁহার চক্ষুর্গোচরে সকলই নগ্ন ও অনাবৃত রহিয়াছে, যাঁহার কাছে আমাদিগকে নিকাশ দিতে হইবে।” যেটি সঠিক তা করতে রত থাকলে, তা আমাদের দিয়াবলের চতুর কৌশলগুলি প্রতিহত করতে, জগতের চাপ প্রতিরোধ করতে এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্বার্থপরতার প্রবণতার সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করবে।—তুলনা করুন ইফিষীয় ৬:১১.
ঈশ্বরের সংগঠনের প্রতি বাধ্যতা
৬. খ্রীষ্টপূর্ব সময়কালে যিহোবা যোগাযোগের কোন্ মাধ্যম ব্যবহার করেন?
৬ বাইবেলের নীতিগুলি কিভাবে আমাদের জীবনে প্রয়োগ করব, সেটি যিহোবা ঈশ্বর আমাদের উপর সম্পূর্ণ ছেড়ে দেননি। মানব ইতিহাসের প্রথম থেকেই ঈশ্বর মানুষকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করেছেন। তাই, হবার সাথে কথা বলার জন্য আদম ছিল ঈশ্বরের মুখপাত্র। হবা সৃষ্ট হওয়ার পূর্বেই নিষিদ্ধ ফল সম্বন্ধে আজ্ঞা দেওয়া হয়, তাই আদম নিশ্চয় হবাকে তার প্রতি ঈশ্বরের ইচ্ছা কী তা বলে দিয়েছিল। (আদিপুস্তক ২:১৬-২৩) নোহ জলপ্লাবনের পূর্ববর্তী জগৎ ও তার পরিবারের জন্য ঈশ্বরের ভাববাদী ছিলেন। (আদিপুস্তক ৬:১৩; ২ পিতর ২:৫) অব্রাহাম তার পরিবারের জন্য ঈশ্বরের মুখপাত্র ছিলেন। (আদিপুস্তক ১৮:১৯) ইস্রায়েল জাতির জন্য ঈশ্বরের ভাববাদী ও তাঁর যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন মোশি। (যাত্রাপুস্তক ৩:১৫, ১৬; ১৯:৩, ৭) মোশির পর থেকে যোহন বাপ্তাইজক অবধি ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছা লোকেদের কাছে প্রকাশ করার জন্য বহু ভাববাদী, যাজক ও রাজাদের ব্যবহার করেন।
৭, ৮. (ক) মশীহ আসার সাথে সাথে, ঈশ্বরের মুখপাত্র হিসাবে কাদের ব্যবহার করা হয়? (খ) ঈশ্বরীয় বাধ্যতা যিহোবার সাক্ষীগণের কাছ থেকে কী আশা করে?
৭ মশীহ, যীশু খ্রীষ্ট আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঈশ্বর তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ও শিষ্যদের তাঁর মুখপাত্র হিসাবে ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে, যীশু খ্রীষ্টের অভিষিক্ত বিশ্বস্ত অনুসরণকারীদের “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস” রূপে সেবা করতে হয় যিহোবার লোকেদের বাইবেল নীতিগুলি কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় তা ব্যক্ত করতে। ঈশ্বরীয় বাধ্যতা হল, যিহোবা যে মাধ্যম ব্যবহার করেছেন তা স্বীকার করা।—মথি ২৪:৪৫-৪৭; ইফিষীয় ৪:১১-১৪.
৮ তথ্য দেখায় যে “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস” বর্তমানে যিহোবার সাক্ষীগণের সাথে সম্বন্ধযুক্ত এবং এই সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই গোষ্ঠী, বিভিন্ন ক্ষমতায় অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন—যেমন প্রাচীন ও ভ্রমণ প্রতিনিধিগণ—স্থানীয়রূপে কাজ পরিচালনা করার জন্য। ঈশ্বরীয় বাধ্যতা আশা করে যে প্রতিটি উৎসর্গীকৃত সাক্ষীরা যেন ইব্রীয় ১৩:১৭ পদ অনুসারে এই অধ্যক্ষদের বাধ্য থাকে: “তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও, কারণ নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া তাঁহারা তোমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরিকার্য্য করিতেছেন,—যেন তাঁহারা আনন্দপূর্ব্বক সেই কার্য্য করেন, আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক না করেন; কেননা ইহা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়।”
অনুশাসন গ্রহণ করা
৯. বেশীরভাগ সময়ে ঈশ্বরীয় বাধ্যতার সাথে কী জড়িত থাকে?
৯ প্রায়ই ঈশ্বরীয় বাধ্যতা হল, অধ্যক্ষ পদে যারা রয়েছে তাদের অনুশাসন গ্রহণ করা। আমরা যদি নিজেদের নিজেরাই প্রয়োজনীয় শাসন না করি তাহলে আমাদের হয়ত পরামর্শ ও অনুশাসনের প্রয়োজন হতে পারে, যারা এই সম্বন্ধে অভিজ্ঞ ও যাদের দেওয়ার অধিকার আছে তাদের দ্বারা, যেমন আমাদের মণ্ডলীর প্রাচীনেরা। সেই প্রকৃতির অনুশাসন গ্রহণ করা হল প্রজ্ঞার পথ।—হিতোপদেশ ১২:১৫; ১৯:২০.
১০. যারা অনুশাসন প্রদান করেন তাদের কী দায়িত্ব আছে?
১০ যে প্রাচীনেরা এই অনুশাসন প্রদান করেন তাদের নিশ্চয় এই ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শনে উদাহরণযোগ্য হওয়া দরকার। কিভাবে? গালাতীয় ৬:১ পদ অনুসারে কেবলমাত্র তাদের পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিটি উত্তম হবে তা নয় কিন্তু তাদের উদাহরণযোগ্যও হতে হবে: “ভ্রাতৃগণ, যদি কেহ কোন অপরাধে ধরাও পড়ে, তবে আত্মিক যে তোমরা, তোমরা সেই প্রকার ব্যক্তিকে মৃদুতার আত্মায় সুস্থ কর, আপনাকে দেখ, পাছে তুমিও পরীক্ষাতে পড়।” অপরভাবে বলতে গেলে, প্রাচীনের পরামর্শ তার নিজের উদাহরণের সাথে মিল রেখে হওয়া উচিৎ। এই বিষয়টি ২ তীমথিয় ২:২৪, ২৫ পদ এবং তীত ১:৯ পদে দত্ত উপদেশ অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণ। হ্যাঁ, যারা ভর্ৎসনা বা সংশোধন করছেন তাদের খুব সাবধান হওয়া দরকার, তারা কখনই যেন কটুভাষী না হন। তাদের সর্বদা নম্র ও দয়ালু হতে হবে কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যের নীতিগুলি তুলে ধরার জন্য তাদের দৃঢ় হতে হবে। তাদের নিরপেক্ষ শ্রোতা হওয়া উচিৎ, পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোকদের কাছে তৃপ্তিদায়ক হওয়া দরকার।—তুলনা করুন মথি ১১:২৮-৩০.
প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষদের প্রতি বাধ্যতা
১১. জাগতিক কর্তৃপক্ষদের সাথে খ্রীষ্টীয়দের কী সম্বন্ধ রাখা উচিৎ?
১১ ঈশ্বরীয় বাধ্যতা চায় আমরা যেন প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বশীভূত থাকি। রোমীয় ১৩:১ পদে আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়: “প্রত্যেক প্রাণী প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্ত্তৃপক্ষদের বশীভূত হউক; কেননা ঈশ্বরের নিরূপণ ব্যতিরেকে কর্ত্তৃত্ব হয় না; এবং যে সকল কর্ত্তৃপক্ষ আছেন, তাঁহারা ঈশ্বর-নিযুক্ত।” এই বাক্যগুলি আমাদের কাছ থেকে আশা করে, অন্যান্য বিষয়গুলির মধ্যে, যানবাহন চলাচলের নিয়ম পালন এবং কর ও শুল্ক দিতে সচেতন হওয়া, যা প্রেরিত পৌল দৃষ্টি আকর্ষণ করান রোমীয় ১৩:৭ পদে।
১২. কৈসরের প্রতি আমাদের বাধ্যতা কী অর্থে আপেক্ষিক?
১২ যদিও স্পষ্টতঃ, কৈসরের প্রতি এই সকল বাধ্যতা হবে আপেক্ষিক। আমাদের সবসময় যীশু খ্রীষ্টের বলা নীতি মনে রাখতে হবে, যা মথি ২২:২১ পদে দেওয়া আছে: “তবে কৈসরের যাহা যাহা, কৈসরকে দেও, আর ঈশ্বরের যাহা যাহা, ঈশ্বরকে দেও।” অক্সফোর্ড এন আই ভি [নিউ ইন্টারন্যাশন্যাল ভারশান] স্কোফিল্ড্ স্টাডি বাইবেল-এ রোমীয় ১৩:১ পদের ফুটনোট বলে: “এর অর্থ এই নয় তাকে, যে নিয়মগুলি অনৈতিক অথবা খ্রীষ্টান-বিরোধী তা পালন করতে হবে। সেই সব ক্ষেত্রে মানুষের থেকে ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য হওয়া হবে তার কর্তব্য (প্রেরিত ৫:২৯; cp. দানি. ৩:১৬-১৮; ৬:১০; ff)।”
ঈশ্বরীয় বাধ্যতা পারিবারিক বৃত্তের মধ্যে
১৩. পারিবারিক বৃত্তে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা সদস্যদের কাছ থেকে কী আশা করে?
১৩ পারিবারিক বৃত্তের মধ্যে স্বামী এবং পিতা মস্তক হিসাবে কাজ করেন। অর্থাৎ স্ত্রীকে ইফিষীয় ৫:২২, ২৩ পদে দত্ত পরামর্শগুলি শুনতে হবে: “নারীগণ, তোমরা যেমন প্রভুর, তেমনি নিজ নিজ স্বামীর বশীভূতা হও। কেননা স্বামী স্ত্রীর মস্তক, যেমন খ্রীষ্টও মণ্ডলীর মস্তক।”a সন্তানেরা, তারা নিজেরা নিজেদের নিয়মকানুন তৈরি করে না কিন্তু তারা তাদের পিতামাতাকে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে বাধ্য, যেমন প্রেরিত পৌল ইফিষীয় ৬:১-৩ পদে ব্যাখ্যা করেন: “সন্তানেরা, তোমরা প্রভুতে পিতামাতার আজ্ঞাবহ হও, কেননা তাহা ন্যায্য। ‘তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও,’—এ ত প্রতিজ্ঞাসহযুক্ত প্রথম আজ্ঞা—‘যেন তোমার মঙ্গল হয়, এবং তুমি দেশে দীর্ঘায়ু হও।’”
১৪. ঈশ্বরীয় বাধ্যতা পরিবারের মস্তকের কাছ থেকে কী আশা করে?
১৪ নিশ্চয়, স্বামী ও পিতা যখন স্বয়ং ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করেন তখন স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষে সেই প্রকৃতির ঈশ্বরীয় বাধ্যতা দেখানো সহজ হয়ে ওঠে। বাইবেলের নীতি অনুসারে মস্তকের ব্যবহার করে স্বামীরা তা করে থাকেন, যা ইফিষীয় ৫:২৮, ২৯ এবং ৬:৪ পদে পাওয়া যায়: “এইরূপে স্বামীরাও আপন আপন স্ত্রীকে আপন আপন দেহ বলিয়া প্রেম করিতে বাধ্য। আপন স্ত্রীকে যে প্রেম করে, সে আপনাকেই প্রেম করে। কেহ ত কখনও নিজ মাংসের প্রতি দ্বেষ করে নাই, বরং সকলে তাহার ভরণ পোষণ ও লালন পালন করে; যেমন খ্রীষ্টও মণ্ডলীর প্রতি করিতেছেন।” “পিতারা, তোমরা আপন আপন সন্তানদিগকে ক্রুদ্ধ করিও না, বরং প্রভুর শাসনে ও চেতনা প্রদানে তাহাদিগকে মানুষ করিয়া তুল।”
ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে সহায়কগুলি
১৫. আত্মার কোন্ ফলগুলি আমাদের ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে সাহায্য করবে?
১৫ এই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে আমাদের কী সাহায্য করবে? প্রথম হল, নিঃস্বার্থপর প্রেম—যিহোবার প্রতি প্রেম ও যাদের তিনি আমাদের উপর স্থাপন করেছেন তাদের প্রতি প্রেম। আমাদের ১ যোহন ৫:৩ পদে বলা হয়েছে: “কেননা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি; আর তাঁহার আজ্ঞা সকল দুর্ব্বহ নয়।” যোহন ১৪:১৫ পদে যীশু একই বিষয় বলেন: “তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে।” প্রকৃতই, প্রেম—আত্মার ফলের সবচেয়ে প্রথমটি—যিহোবা আমাদের জন্য যা কিছু করেছেন তা উপলব্ধি করতে এবং ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে সাহায্য করবে।—গালাতীয় ৫:২২.
১৬. ঈশ্বরীয় বাধ্যতা দেখাতে ঈশ্বরীয় ভীতি কিভাবে সাহায্য করে?
১৬ দ্বিতীয় হল, ঈশ্বরীয় ভীতি। যিহোবাকে অসন্তুষ্ট করার ভয় আমাদের সাহায্য করবে কারণ এর অর্থ হল “দুষ্টতার প্রতি ঘৃণা।” (হিতোপদেশ ৮:১৩) নিঃসন্দেহে, যিহোবাকে অসন্তুষ্ট করার ভয়, লোকভয়ের জন্য আপোষ করা থেকে আমাদের বিরত করবে। যত কষ্টই হোক না কেন এটি আমাদের ঈশ্বরের নির্দেশগুলি পালন করতেও সাহায্য করবে। আরও, তা আমাদের প্রলোভনে পড়তে বা মন্দকাজ করার প্রবণতা থেকে দূরে রাখবে। শাস্ত্র দেখায় যে যিহোবার ভয়ই অব্রাহামকে তার প্রিয় পুত্র ইস্হাককে উৎসর্গ করতে উদ্যত করে এবং যিহোবাকে অসন্তুষ্ট করার ভয়ই যোষেফকে পোটিফরের স্ত্রীয়ের অনৈতিক আবেদনগুলিকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে সমর্থ করে।—আদিপুস্তক ২২:১২; ৩৯:৯.
১৭. ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে বিশ্বাস কী ভূমিকা গ্রহণ করে?
১৭ তৃতীয় সহায়ক হল যিহোবা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। বিশ্বাস আমাদের হিতোপদেশ ৩:৫, ৬ পদের পরামর্শ শুনতে সমর্থ করবে: “তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন।” বিশেষকরে বিশ্বাস আমাদের সাহায্য করবে যখন আমরা হয়ত মনে করি যে অহেতুক আমরা দুঃখকষ্ট পাচ্ছি অথবা বর্ণ বা জাতির অথবা ব্যক্তিগত বিবাদের জন্য আমাদের প্রতি বৈষম্যের মনোভাব প্রদর্শন করা হচ্ছে। অনেকে হয়ত মনে করেন যে তাদের অন্যায়ভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে যখন প্রাচীন বা পরিচারক দাস হিসাবে সেবা করার জন্য তাদের সুপারিশ করা হয় না। আমাদের যদি বিশ্বাস থাকে, তাহলে আমরা বিষয়টি যিহোবার হাতে ছেড়ে দেব তাঁর নিজ সময়ে বিষয়টির সমাধান করতে। অপেক্ষা করার সময় আমাদের হয়ত ধৈর্য সহিষ্ণুতা শিখতে হবে।—বিলাপ ৩:২৬.
১৮. ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শনে চতুর্থ সহায়কটি কী?
১৮ চতুর্থ সহায়ক হল নম্রতা। নম্র ব্যক্তির ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে কোন অসুবিধা হয় না কারণ সে ‘নম্রভাবে অপরকে নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে।’ এক নম্র ব্যক্তি নিজেকে “ক্ষুদ্র” মনে করে সেইরূপ আচরণ করতে চায়। (ফিলিপীয় ২:২-৪; লূক ৯:৪৮) কিন্তু এক গর্বিত ব্যক্তি বাধ্য থাকা অপমানজনক মনে করে ও ক্রুদ্ধ হয়। এদের সম্বন্ধে এই বলা হয় যে এই প্রকৃতির ব্যক্তিরা প্রশংসার দ্বারা নষ্ট হয়ে গেলেও সমালোচনার দ্বারা ভাল হতে চায় না।
১৯. ওয়াচটাওয়ার সোসাইটির প্রাক্তন সভাপতি নম্রতার কোন্ উত্তম উদাহরণ প্রদান করেন?
১৯ যোষেফ রাদারফোর্ড, ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যাণ্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটির দ্বিতীয় সভাপতি, নম্রতা ও ঈশ্বরীয় বাধ্যতার এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেন। যখন হিটলার জার্মানীতে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ নিষিদ্ধ করে দেন তখন সেখানকার ভাইয়েরা জানতে চেয়ে তাকে লিখে পাঠান সভা ও প্রচার কাজে নিষিদ্ধকরণ জারি করা হয়েছে, তাই এখন তাদের কী করা উচিৎ। তিনি এই সম্বন্ধে বেথেল পরিবারকে জানান এবং খোলাখুলি স্বীকার করেন সেই সরকারের দ্বারা কঠোর দণ্ড আনার জন্য, জার্মান ভাইদের তিনি কী বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন যদি কেউ জানেন যে, তাদের কী বলা যেতে পারে, তা শুনতে তিনি খুশী হবেন। কতই না নম্র মনোভাব!b
ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করার উপকারসকল
২০. ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করলে কী আশীর্বাদ আসে?
২০ জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করাতে উপকারসকল কী? বহু আছে। যারা স্বাধীনরূপে চলে তারা যে উদ্বিগ্নতা ও নিরাশা বোধ করে তার থেকে আমরা মুক্ত। আমরা যিহোবা ঈশ্বরের সাথে উত্তম সম্বন্ধ উপভোগ করি। আমাদের খ্রীষ্টীয় ভাইদের সাথে আমাদের উত্তম সহযোগিতা আছে। তাছাড়া, আমরা নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য, জাগতিক কর্তৃপক্ষের সাথে অহেতুক সমস্যা এড়িয়ে চলি। স্বামী ও স্ত্রীরূপে, সন্তান ও পিতামাতারূপে আমরা সুখী পারিবারিক জীবন উপভোগ করি। আরও, ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করে আমরা হিতোপদেশ ২৭:১১ পদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করি: “বৎস, জ্ঞানবান হও; আমার চিত্তকে আনন্দিত কর; তাহাতে যে আমাকে টিট্কারি দেয়, তাহাকে উত্তর দিতে পারিব।” (w93 2/1)
[পাদটীকাগুলো]
a এক অগ্রগামী পরিচারক এক অবিবাহিত অগ্রগামীর কাছে তার স্ত্রীয়ের তার প্রতি প্রেমপূর্ণ সমর্থন ও সম্মান প্রদর্শন সম্পর্কে প্রশংসা করেন। অবিবাহিত অগ্রগামী মনে করেন যে, বন্ধুর তার স্ত্রীয়ের অন্যান্য গুণগুলি সম্বন্ধেও বলা উচিৎ ছিল। কিন্তু কিছু বছর পরে, যখন সেই অবিবাহিত অগ্রগামীটি নিজেই বিবাহিত হন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে বৈবাহিক সুখের জন্য স্ত্রীর প্রেমপূর্ণ সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
b অনেক প্রার্থনা ও ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার পর, যোষেফ রাদারফোর্ড জার্মান ভাইদের কী উত্তর দিতে হবে স্পষ্টরূপে বুঝতে পারেন। তাদের কি করা উচিৎ বা না করা উচিৎ সেটি তার বলার দায়িত্ব ছিল না। কিন্তু তাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য আছে যা তাদের স্পষ্ট জানায় যে একত্রিত হওয়া এবং সাক্ষ্য দেওয়ার কাজে তাদের কী করতে হবে। তাই জার্মান ভাইয়েরা গোপনে থাকেন কিন্তু একত্রে মিলিত হতে এবং যিহোবার নাম ও তাঁর রাজ্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য প্রদান করতে তাঁর আজ্ঞা ক্রমাগত পালন করতে থাকেন।
পুনরালোচনার প্রশ্নগুলি
▫ ঈশ্বর যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কোন্ ব্যক্তিদের ব্যবহার করেন, এবং তাদের প্রতি তাঁর দাসদের কী বাধ্যবাধকতা আছে?
▫ ঈশ্বরীয় বাধ্যতা কোন্ বিভিন্ন সম্পর্কে প্রয়োগ করা যেতে পারে?
▫ ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে কোন্ গুণগুলি আমাদের সাহায্য করবে?
▫ ঈশ্বরীয় বাধ্যতার ফলে কী আশীর্বাদ আসে?
[Pictures on page 14]
ঈশ্বর নিজের ইচ্ছা তাঁর লোকদের কাছে প্রকাশ করতে যিরূশালেমের মন্দির ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেন
[Pictures on page 16]
যে সব ক্ষেত্রে আমরা ঈশ্বরীয় বাধ্যতা প্রদর্শন করতে পারি