ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৩ ৫/১ পৃষ্ঠা ৫-৬
  • কাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুগ্রহ আছে?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • কাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুগ্রহ আছে?
  • ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ঈশ্বরের উচ্চতর মান
  • আমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ পেতে পারি
  • কী প্রকৃতির লোকদের আপনি মর্যাদা দেন?
    ১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনি কি “ঈশ্বরের উদ্দেশে ধনবান্‌”?
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৩ ৫/১ পৃষ্ঠা ৫-৬

কাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুগ্রহ আছে?

আমরা সকলেই চাই যেন সঙ্গীসাথীরা আমাদের পছন্দ করুক। কিন্তু এক খ্রীষ্টীয়ের ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুগ্রহ পাওয়ার এর থেকে আরও বেশী বাসনা থাকে। যিহোবা ঈশ্বর সম্পর্কে গীতসংহিতা ৮৪:১১ পদে বলে: “সদাপ্রভু অনুগ্রহ ও প্রতাপ প্রদান করেন; যাহারা সিদ্ধতায় চলে, তিনি তাহাদের মঙ্গল করিতে অস্বীকার করিবেন না।” যীশুর জন্মের সময় স্বর্গীয় দূতদের আনন্দপূর্ণ উচ্ছ্‌বাস এই প্রতিজ্ঞা করে “পৃথিবীতে তাঁহার প্রীতিপাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি”!—লূক ২:১৪, মফ্যাট.

কিন্তু কাদের ঈশ্বর অনুগ্রহ করেন? মানুষ ও ঈশ্বরের মান কি সমান? বোঝা যায় যে তা নয়, যা পূর্ববর্তী প্রবন্ধের আলোচনায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাস্তবিক, যেহেতু খ্রীষ্টীয়দের বিশেষভাবে উপদেশ দেওয়া হয় যে তারা যেন “ঈশ্বরের অনুকারী” হয়, তাই আমরা প্রত্যেকে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে পারি, ঈশ্বর যাকে অনুগ্রহ করেন তাকে কি আমি অনুগ্রহ করি, অথবা লোকদের বিচার করতে আমি কি জাগতিক মান অনুসরণ করতে সচেষ্ট হই? (ইফিষীয় ৫:১) যিহোবার অনুগ্রহ ও অনুমোদন পেতে হলে আমাদের তাঁর দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী বিষয়গুলি দেখতে চেষ্টা করা দরকার।

ঈশ্বরের উচ্চতর মান

“ঈশ্বর মুখাপেক্ষা করেন না,” প্রেরিত পৌল বলেন, “কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেহ তাঁহাকে ভয় করে ও ধর্ম্মাচরণ করে, সে তাঁহার গ্রাহ্য হয়।” প্রেরিত পৌল এই বিষয় আরও সাক্ষ্য দেন যে “তিনি এক ব্যক্তি হইতে মনুষ্যদের সকল জাতিকে উৎপন্ন করিয়াছেন।” (প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫; ১৭:২৬) তাই যুক্তিযুক্তরূপে একমাত্র এই পরিসমাপ্তিতে আসা যায় যে মানুষের যে কোন দৈহিক বৈশিষ্ট্য থাকুক না কেন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। যদি তাই হয় তাহলে কোন এক খ্রীষ্টীয়ের একজনকে অহেতুক অনুগ্রহ করা উচিৎ নয় যেহেতু সে এক বিশেষ প্রদেশ থেকে এসেছে বা তার গায়ের রং আলাদা অথবা সে অন্য জাতীয়। বরং সে তার উদাহরণকর্তা, যীশু খ্রীষ্টকে অনুকরণ করলে ভাল করবে, যার সম্বন্ধে এমনকি শত্রুরাও বলেছিল যে তিনি পক্ষপাতিত্ব দেখাননি।—মথি ২২:১৬.

“উপর উপর” এই কথাটি অনেক সময় কোন কিছু অগভীর ও গুরুত্বহীন কোন বিষয়কে বর্ণনা করতে ব্যবহার করা হয়। গায়ের রঙও ঠিক তাই; এটি শুধুমাত্র উপর উপরের বিষয়। কোন ব্যক্তির গায়ের রং, তার ব্যক্তিত্ব বা অন্তরের গুণাবলীকে প্রতিফলিত করে না। কোন্‌ প্রকৃতির ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের মেলামেশা করতে, খেতে, বা হাত মিলাতে হবে সেই সম্পর্কে নির্ণয় করতে হলে আমরা নিশ্চয় বিশেষ করে গায়ের রং দেখব না। কখনও লেখা হয়নি এমন অপূর্ব সুন্দর প্রণয়ের কবিতা লিখতে অনুপ্রাণীত করেছিল, সেই কন্যার কথা স্মরণ করুন যে নিজের সম্বন্ধে বলেছিল: “আমি কৃষ্ণবর্ণা, কিন্তু সুন্দরী, . . . সূর্য্যই আমাকে বিবর্ণা করিয়াছে।” (পরমগীত ১:৫, ৬) অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে বর্ণ ও জাতি প্রকৃত ভিত্তি প্রদান করে না। এর থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল কোন এক ব্যক্তি ঈশ্বরকে ভয় ও ধার্মিক কার্য করে কি না।

পার্থিব ধনসম্পদ থাকা সম্বন্ধে ঈশ্বর কিরূপ মনে করেন? ঈশ্বর যে সকল ব্যক্তিদের প্রেম ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন তাদের মধ্যে তাঁর পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট ছিলেন সর্বাগ্রে। তবুও, পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশুর “মস্তক রাখিবার স্থান” ছিল না। (মথি ৮:২০) তাঁর কোন সম্পত্তি, গৃহ, ক্ষেত, ফলের গাছ অথবা পশু ছিল না। তবুও, যিহোবা তাঁকে সম্মানীত করেন ও বিশ্বে ঈশ্বর নিজে ব্যতীত সকলের উপরে তাঁকে উচ্চ-পদান্বিত করেন।—ফিলিপীয় ২:৯.

যীশু খ্রীষ্ট ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুগ্রহ পেয়েছিলেন পার্থিব সম্পদে ধনী হওয়ার জন্য নয় কিন্তু উত্তম কার্যের জন্য। (তুলনা করুন ১ তীমথিয় ৬:১৭, ১৮.) তিনি তাঁর অনুকরণকারীদের উপদেশ দেন: “তোমরা পৃথিবীতে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় করিও না; এখানে ত কীটে ও মর্চ্চ্যায় ক্ষয় করে, এবং এখানে চোরে সিঁধ কাটিয়া চুরি করে। কিন্তু স্বর্গে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় কর; সেখানে কীটে ও মর্চ্চ্যায় ক্ষয় করে না, সেখানে চোরেও সিঁধ কাটিয়া চুরি করে না।” (মথি ৬:১৯, ২০) তাই, জগতের এই বস্তুসম্পত্তির জন্য যারা ধনী তাদের প্রতি কেবলমাত্র অনুগ্রহ না দেখিয়ে বরং পার্থিব সম্পদের ভিত্তিতে খ্রীষ্টীয়রা কোন পার্থক্য করবে না। ঈশ্বরের প্রতি যারা ধনী তাদের তারা অন্বেষণ করবে, তারা পার্থিব দিক দিয়ে ধনী অথবা দরিদ্র যাই হোক না কেন। কখনও ভুলে যাবেন না যে ‘সংসারে যাহারা দরিদ্র, ঈশ্বর তাহাদিগকে মনোনীত করেন, যেন তাহারা বিশ্বাসে ধনবান্‌ হয়, এবং অঙ্গীকৃত রাজ্যের অধিকারী হয়।’ (যাকোব ২:৫) আপনি যদি সর্বদা ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ বজায় রাখেন তাহলে আপনি পার্থিবরূপে ধনীদের পক্ষপাতিত্ব অথবা তোষামোদ করার প্রচলিত অভ্যাসের ফাঁদে পড়বেন না।

শিক্ষার ক্ষেত্রে বাইবেল স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঈশ্বর আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা গ্রহণ করতে উৎসাহ দেন এবং যীশু খ্রীষ্টই ছিলেন পৃথিবীতে মহান শিক্ষক। (হিতোপদেশ ৪:৭; মথি ৭:২৯; যোহন ৭:৪৬) কিন্তু জাগতিক প্রজ্ঞা বা শিক্ষা ঈশ্বরের অনুগ্রহ পায় না। বিপরীতে, পৌল আমাদের বলেন যে “মাংস অনুসারে জ্ঞানবান্‌ অনেক নাই, . . . কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন, যেন জ্ঞানবান্‌দিগকে লজ্জা দেন।”—১ করিন্থীয় ১:২৬, ২৭.

উচ্চ শিক্ষার সংস্থাগুলিতে জাগতিক বিষয়গুলিতে উত্তমরূপে শিক্ষিতদের ঈশ্বর অনুগ্রহ করেন না, পরিবর্তে তাঁর বাক্য বাইবেলে সত্যের ‘বিশুদ্ধ ওষ্ঠে’ শিক্ষিতদের করে থাকেন। (সফনিয় ৩:৯) আসলে, যিহোবা স্বয়ং শিক্ষার এক কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমানে তাঁর লোকদের শিক্ষা দিচ্ছেন যা আজ পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ভাববাদী যিশাইয় যেমন ভাববাণী করেছিলেন, সেইরূপ লোকেরা এই বলে সাড়া দিচ্ছে: “চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্ব্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব।” তাই, জাগতিক শিক্ষাকে মহিমা দেওয়ার পরিবর্তে, যারা তাদের বাক্য ও কার্যে প্রকৃতই প্রমাণ করেছে যে তারা ‘সদাপ্রভুর কাছে শিক্ষিত’ তাদের খ্রীষ্টীয়রা অন্বেষণ করবে। তা করার দ্বারা তারা ঈশ্বর দত্ত ‘পরম শান্তি’ উপভোগ করবে।—যিশাইয় ২:৩; ৫৪:১৩.

আমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ পেতে পারি

হ্যাঁ, অপরকে অনুগ্রহ প্রদান করতে ঈশ্বরের মান মানুষের থেকে অনেক পৃথক। তাই তাঁর চক্ষুতে আমাদের অনুগ্রহ পেতে হলে আমাদের তাঁর পথে চলার প্রচেষ্টা করতে হবে। এর অর্থ হল মানুষের মান অনুযায়ী নয়, যা হল স্বার্থপর ও পক্ষপাতপূর্ণ, কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ দিয়ে আমাদের অপরকে দেখতে শিখতে হবে। আমরা তা কিভাবে করতে পারি?

যিহোবা একজনের হৃদয় পরীক্ষা করেন এবং তাদেরই অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন যারা প্রেম, মাধুর্য্য, মঙ্গলভাব, ও দীর্ঘসহিষ্ণুতার মত গুণাবলী প্রদর্শন করে থাকে। আমরাও সেইরূপ করব। (১ শমূয়েল ১৬:৭; গালাতীয় ৫:২২, ২৩) মানব হিসাবে আমাদের যত দূর সবে অন্তরের মনুষ্যকে দেখা দরকার, গায়ের রং অথবা জাতীয় পটভূমিকা নয়। পার্থিব উপায়ে ধনীদের অন্বেষণ করার পরিবর্তে, ধনের প্রতি ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ আমাদের স্মরণে রাখা উচিৎ এবং ‘সৎক্রিয়ারূপ ধনে ধনবান্‌ হতে, দানশীল হতে, সহভাগীকরণে তৎপর হতে’ প্রচেষ্টা করা দরকার। (১ তীমথিয় ৬:১৮) ঈশ্বরের অনুগ্রহ পেতে হলে আমাদের ক্রমাগত ঈশ্বর এবং তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সঠিক জ্ঞান নেওয়া দরকার এবং বিশুদ্ধ ওষ্ঠের সত্যে উত্তমরূপে শিক্ষিত হওয়া দরকার। (যোহন ১৭:৩, ১৭) তা করার ফলে, আমরাও তাদের মধ্যে একজন হব যাদের ঈশ্বর অনুগ্রহ করেন। (w92 12⁄1)

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার