একাগ্র চিত্তে গমন করা
“হে যিহোবা, আমাকে শিক্ষা দেও . . . তোমার নাম ভয় করিতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।”—গীতসংহিতা ৮৬:১১, NW.
১. কিভাবে যিহোবা তাঁর অনুগতদের পুরস্কার দেন?
‘হে যিহোবা, তুমিই একমাত্র ঈশ্বর।’ (গীতসংহিতা ৮৬:৮, ১০) দায়ূদ হৃদয়ের উপলব্ধিতে উপছে পড়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি সমস্ত ইস্রায়েল জাতির রাজা হওয়ার পূর্বেই, যিহোবা দায়ুদকে শৌল এবং পলেষ্টীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করেন। তাই, তিনি এই গান গাইতে পেরেছিলেন: “সদাপ্রভু মম শৈল, মম দুর্গ ও মম রক্ষাকর্ত্তা। তুমি দয়াবানের সহিত সদয় ব্যবহার করিবে।” (২ শমূয়েল ২২:২, ২৬) বহু পরীক্ষা থেকে যিহোবা তাঁর অনুগত দাসকে রক্ষা করেছেন। দায়ূদ তার বিশ্বস্ত ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে পেরেছিলেন, কিন্তু তার ক্রমাগত পরিচালনার প্রয়োজন ছিল। তাই দায়ূদ ঈশ্বরকে অনুরোধ করেন: “হে যিহোবা, তোমার পথ আমাকে শিক্ষা দেও।”—গীতসংহিতা ৮৬:১১.
২. তাঁর দ্বারা শিক্ষিত হতে, যিহোবা কিভাবে ব্যবস্থা করেন?
২ দায়ূদ জাগতিক কল্পনা অথবা দর্শনগুলি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন। তিনি “সদাপ্রভুর কাছে শিক্ষা” পেতে চেয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে ঈশ্বরের ভাববাদী প্রকাশ করেন। (যিশাইয় ৫৪:১৩) তার সময়ে প্রাপ্ত, মাত্র নয়টি বাইবেলের বইয়ের উপরই দায়ূদ ধ্যান করতে পারতেন। তবুও, যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া সেই নির্দেশ তার কাছে মূল্যবান ছিল! বর্তমানে শিক্ষাপ্রাপ্ত হতে, বাইবেলের ৬৬টি বই ও তার সাথে “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস”-দের মাধ্যমে প্রদত্ত রাজ্য সাহিত্যাদির প্রাচুর্য্যতা আমরা উপভোগ করতে পারি। (মথি ২৪:৪৫) আসুন দায়ূদের মত, আমরাও যিহোবাকে আহ্বান করি, যাতে তাঁর আত্মা “যাহা ঈশ্বর, যাহারা তাঁহাকে প্রেম করে, তাহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন, . . . ঈশ্বরের গভীর বিষয়সকল” আমাদের অনুসন্ধান করতে সাহায্য করে।—১ করিন্থীয় ২:৯, ১০.
৩. কিরূপে বাইবেলের নির্দেশ আমাদের উপকার করে?
৩ আমাদের জীবনে উত্থিত হতে পারে এমন প্রতিটি সমস্যা ও প্রশ্নের উত্তর বাইবেলে আছে। “কারণ পূর্ব্বকালে যাহা যাহা লিখিত হইয়াছিল, সে সকল আমাদের শিক্ষার নিমিত্তে লিখিত হইয়াছিল, যেন শাস্ত্রমূলক ধৈর্য্য ও সান্ত্বনা দ্বারা আমরা প্রত্যাশা প্রাপ্ত হই।” (রোমীয় ১৫:৪) যিহোবার কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহণ কষ্টগুলি সহ্য করতে আমাদের শক্তিশালী করবে, বিষণ্ণতার সময় সান্ত্বনা দেবে এবং আমাদের হৃদয়ে রাজ্যের আশাকে প্রজ্জ্বলিত রাখবে। ঈশ্বরের বাক্য পড়তে ও “দিবারাত্র” ধ্যান করতে, আমরা যেন আনন্দিত হই, কারণ বাইবেল ভিত্তিক প্রজ্ঞা “যাহারা তাহাকে ধরিয়া রাখে, তাহাদের কাছে তাহা জীবনবৃক্ষ; যে কেহ তাহা গ্রহণ করে, সে ধন্য।”—গীতসংহিতা ১:১-৩; হিতোপদেশ ৩:১৩-১৮; আরও দেখুন যোহন ১৭:৩.
৪. আমাদের আচরণ সম্বন্ধে, যীশু আমাদের জন্য কী উদাহরণ স্থাপন করেছেন?
৪ ঈশ্বরের পুত্র, যীশু, যাকে “দায়ূদ-সন্তান”ও বলা হত, তিনি সর্বদা যিহোবার নির্দেশের অপেক্ষা করতেন। (মথি ৯:২৭)a তিনি বলেন: “পুত্র আপনা হইতে কিছুই করিতে পারেন না, কেবল পিতাকে যাহা করিতে দেখেন, তাহাই করেন; কেননা তিনি যাহা যাহা করেন, পুত্রও সেই সকল তদ্রূপ করেন।” “আমি আপনা হইতে কিছুই করি না, কিন্তু পিতা আমাকে যেমন শিক্ষা দিয়াছেন, তদনুসারে এই সকল কথা কহি।” (যোহন ৫:১৯; ৮:২৮) যীশু আমাদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন যাতে আমরা “তাঁহার পদচিহ্নের অনুগমন” করি। (১ পিতর ২:২১) চিন্তা করুন! যীশু হয়ত যেমন অধ্যয়ন করেছিলেন সেইরকম যদি আমরাও করি, তাহলে যে কোন পরিস্থিতিতে যিহোবা যেমন চান সেই রকম আমরা আচরণ করতে পারব। যিহোবার পথই সর্বদা সঠিক পথ।
৫. “সত্য” কী?
৫ পরে দায়ূদ এই ঘোষণা করেন: “আমি তোমার সত্যে চলিব।” (গীতসংহিতা ৮৬:১১) হাজার বছর পরে পীলাত, দায়ূদ-সন্তান যীশুকে সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “সত্য কি?” কিন্তু সবেমাত্র যীশু পীলাতকে “আমার রাজ্য এ জগতের নয়” বলে এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন, আর তিনি আরও বলেন: “তুমিই বলিতেছ যে আমি রাজা। আমি এই জন্যই জন্মগ্রহণ করিয়াছি ও এই জন্য জগতে আসিয়াছি, যেন সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিই।” (যোহন ১৮:৩৩-৩৮) এইভাবে যীশু প্রকাশ করেছিলেন যে সত্য, মশীহ রাজ্যের উপরই আলোকপাত করে। বাস্তবিক, সমগ্র বাইবেলের মুখ্য বিষয় হল, সেই রাজ্যের মাধ্যমে যিহোবার নাম পবিত্রীকরণ করা।—যিহিষ্কেল ৩৮:২৩; মথি ৬:৯, ১০; প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫.
৬. সত্যে চলার সময়, আমাদের কিসের সম্বন্ধে সাবধান হতে হবে?
৬ সত্যে চলার অর্থ কী? এর অর্থ রাজ্যের আশাকে আমাদের জীবনের প্রধান বিষয় করা। আমাদের অবশ্যই রাজ্যের সত্য অনুযায়ী চলতে হবে। যীশুর উদাহরণকে অনুসরণ করে, সুযোগ এলেই রাজ্যের সত্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিতে উদ্যোগী হয়ে, রাজ্যের আগ্রহসকল প্রথমে স্থান দিতে আমাদের অবিভক্ত থাকা উচিৎ। (মথি ৬:৩৩; যোহন ১৮:৩৭) নামে মাত্র পরিচর্য্যা করে, তারপর নিজেদের খুশী মতো, অন্য দিকে মাত্রাধিক আমোদ-প্রমোদ চরিতার্থ করে অথবা সময়-সাপেক্ষ জীবিকার পথে গিয়ে বা “ধনের . . . দাসত্ব” করে আমরা কিছুটা সময়ের জন্য সত্যে চলতে পারি না। (মথি ৬:২৪) আমরা হয়ত সেই যে কোন একটি চোরা গলিতে হারিয়ে যেতে পারি, আর কখনই হয়ত ‘জীবনের দুর্গম পথে’ ফিরে আসার পথ খুঁজে পেতে নাও পারি। আসুন আমরা যেন পথভ্রষ্ট না হই! (মথি ৭:১৩, ১৪) আমাদের মহান্ নির্দেশক, যিহোবা, যিনি তাঁর বাক্য ও সংগঠনের মাধ্যমে পথটি আলোকিত করেন, তিনি বলেন: “দক্ষিণে কি বামে ফিরিবার সময়ে তোমার কর্ণ পশ্চাৎ হইতে এই বাণী শুনিতে পাইবে, এই পথ, তোমরা এই পথেই চল।”—যিশাইয় ৩০:২১.
উপযুক্ত ভয়
৭. আমরা কিরূপে আমাদের চিত্ত “একাগ্র” করতে পারি?
৭ দায়ূদের প্রার্থনা ১১ পদে নিরত ছিল: “তোমার নাম ভয় করিতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।” ঈশ্বরের ইচ্ছা পালনার্থে, দায়ূদের মত আমরাও চাই যেন আমাদের হৃদয় অবিভক্ত ও সম্পূর্ণ থাকে। এটি মোশির পরামর্শ অনুসারে: “এখন হে ইস্রায়েল, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার কাছে কি চাহেন? কেবল এই, যেন তুমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় কর, তাঁহার সকল পথে চল ও তাঁহাকে প্রেম কর, এবং তোমার সমস্ত হৃদয় ও তোমার সমস্ত প্রাণের সহিত তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা কর, অদ্য আমি তোমার মঙ্গলার্থে সদাপ্রভুর যে যে আজ্ঞা ও বিধি তোমাকে দিতেছি, সেই সকল যেন পালন কর।” (দ্বিতীয় বিবরণ ১০:১২, ১৩) বাস্তবিকই, আমাদের মঙ্গলার্থেই যিহোবার সেবায় আমরা হৃদয় ও প্রাণ ঢেলে দিয়ে থাকি। এইভাবে তাঁর অতি বিশিষ্ট নামের প্রতি আমরা উপযুক্ত ভয় প্রদর্শন করি। যিহোবার নামের আক্ষরিক অর্থ “সবকিছু তিনি করান,” এটি বিশেষকরে তাঁর মহান উদ্দেশ্যসকল সাধন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সমস্ত বিশ্বে তাঁর সর্বোচ্চ অধিকারকেও তা প্রতিনিধিত্ব করে। মহিমাময় ঈশ্বরকে সশ্রদ্ধ ভয়ে উপাসনা করে আমরা মরণশীল মানুষের ভয়ে কখনও পথভ্রষ্ট হব না। আমাদের হৃদয় কখনও বিভক্ত থাকবে না। পরিবর্তে, আমরা যিহোবাকে যা অসন্তুষ্ট করবে তা করতে ভয় পাব, যিনি হলেন সর্বোচ্চ বিচারকর্তা এবং সার্বভৌম প্রভু, যিনি তাঁর হস্তে আমাদের জীবন ধরে রাখেন।—যিশাইয় ১২:২; ৩৩:২২.
৮, ৯. (ক) “এ জগতের নয়” বলতে কী বুঝায়? (খ) আমরা “কৌতুকাস্পদ” বলে আমাদের কোন্ পদক্ষেপগুলি নেওয়া দরকার?
৮ এমনকি তাড়না ও তীব্র নিন্দা থাকা সত্ত্বেও, পরিবেষ্টিত এই দুষ্ট জগতের অংশ না হতে আমরা যীশুর নির্ভীক উদাহরণ অনুসরণ করব। (যোহন ১৫:১৭-২১) এর অর্থ এই নয় যে, যীশুর শিষ্যরা সন্ন্যাসীর মত বা কোন এক মঠেতে অন্তরালে বাস করবে। যীশু তাঁর পিতাকে প্রার্থনায় বলেন: “আমি নিবেদন করিতেছি না যে, তুমি তাহাদিগকে জগৎ হইতে লইয়া যাও, কিন্তু তাহাদিগকে সেই পাপাত্মা হইতে রক্ষা কর। তাহারা জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই। তাহাদিগকে সত্যে পবিত্র কর; তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ। তুমি যেমন আমাকে জগতে প্রেরণ করিয়াছ, তদ্রূপ আমিও তাহাদিগকে জগতে প্রেরণ করিয়াছি।” (যোহন ১৭:১৫-১৮) যীশুর মত আমরাও রাজ্যের সত্য সম্বন্ধে ঘোষণা করতে প্রেরিত হয়েছি। যীশু সহজগম্য ছিলেন। তার শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে লোকেরা পরিতৃপ্ত হত। (তুলনা করুন মথি ৭:২৮, ২৯; ১১:২৮, ২৯; যোহন ৭:৪৬) আমাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হওয়া দরকার।
৯ আমাদের এগিয়ে গিয়ে বন্ধুভাবাপন্ন হওয়া, রুচিসম্পন্ন বেশভূষা ও চেহারা, দয়ালু এবং পরিচ্ছন্ন আলাপ-আলোচনা, আমাদের ও আমাদের সংবাদকে সহৃদয়যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। অগোছাল, অশালীন পোশাকআশাক, সঙ্গীসাথী যারা জাগতিক বিষয়গুলিতে জড়িত করতে পারে, এবং বিশৃঙ্খল, নীতিহীন জীবনধারা যা আমরা চারিপাশের জগতে দেখছি, এ সমস্তই আমাদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে। “জগতের ও দূতগণের ও মনুষ্যদের কৌতুকাস্পদ” হয়ে, উদাহরণযোগ্য খ্রীষ্টীয়রূপে সেবা করতে এবং জীবনযাপন করতে দৈনন্দিন আমরা ২৪ ঘন্টা কার্যরত রয়েছি। (১ করিন্থীয় ৪:৯; ইফিষীয় ৫:১-৪; ফিলিপীয় ৪:৮, ৯; কলসীয় ৪:৫, ৬) এই বিষয়ে আমাদের হৃদয় একাগ্র থাকা দরকার।
১০. পবিত্র সেবায় যারা তাদের হৃদয় একাগ্র করে তাদের যিহোবা কিভাবে স্মরণে রাখেন?
১০ আমরা যারা যিহোবার নামের ভয়েতে আমাদের চিত্তকে একাগ্র করি, তাঁর মহান উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ধ্যান করি এবং পবিত্র সেবার দ্বারা আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ করি, যিহোবা তাদের স্মরণে রাখবেন। “কেননা সদাপ্রভুর প্রতি যাহাদের অন্তঃকরণ একাগ্র, তাহাদের পক্ষে আপনাকে বলবান দেখাইবার জন্য তাঁহার চক্ষু পৃথিবীর সর্ব্বত্র ভ্রমণ করে।” (২ বংশাবলি ১৬:৯) আমাদের দিন সম্পর্কে ভাববাণীরূপে উল্লেখ করে, মালাখি ৩:১৬ পদ বলে: “তখন, যাহারা সদাপ্রভুকে ভয় করিত, তাহারা পরস্পর আলাপ করিল, এবং সদাপ্রভু কর্ণপাত করিয়া শুনিলেন; আর যাহারা সদাপ্রভুকে ভয় করিত, ও তাঁহার নাম ধ্যান করিত, তাহাদের জন্য তাঁহার সম্মুখে একখানি স্মরণার্থক পুস্তক লেখা হইল।” যিহোবার প্রতি সেই স্বাস্থ্যকর ভয়েতে আমাদের চিত্ত যেন একাগ্র থাকে!
যিহোবার প্রেমপূর্ণ-দয়া
১১. অনুগত ব্যক্তিদের প্রতি কিভাবে যিহোবার প্রেমপূর্ণ-দয়া প্রদর্শিত হবে?
১১ দায়ূদের প্রার্থনা কতই না ঐকান্তিক ছিল! তিনি আরও বলেন: “হে যিহোবা আমার ঈশ্বর, আমি সর্ব্বান্তঃকরণে তোমার স্তব করিব, আমি চিরকাল তোমার নামের গৌরব করিব। কেননা আমার পক্ষে তোমার প্রেমপূর্ণ-দয়া মহৎ, এবং তুমি অধঃস্থ পাতাল হইতে আমার প্রাণ উদ্ধার করিয়াছ।” (গীতসংহিতা ৮৬:১২, ১৩, NW) এই গীতে, দায়ূদ দ্বিতীয়বার যিহোবাকে প্রশংসা করেন তাঁর প্রেমপূর্ণ-দয়া—তাঁর বিশ্বস্ত প্রেমের জন্য। এই প্রেম এত মহৎ যে আপাতরূপে অসম্ভব পরিস্থিতিতেও তা রক্ষা করতে পারে। যখন শৌল প্রান্তরে দায়ূদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল, তখন হয়ত দায়ূদ হতাশাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুতে রেহাই পেতে চেয়েছিল। তা ছিল যেন গভীর শিওলের মুখোমুখি হওয়া—কবরের তলদেশে। কিন্তু যিহোবা তাকে উদ্ধার করেন! সেইরূপে, যিহোবা প্রায়ই তার বর্তমান দিনের দাসদের অপূর্ব উপায়সমূহে সাহায্য করেন, এবং এমনকি তিনি সততা রক্ষাকারীদেরও শক্তিদান করেন যারা মৃত্যু পর্য্যন্ত বিশ্বস্তরূপে সহ্য করে থাকে। সকল অনুগত ব্যক্তিরা পুরস্কার পাবে, যদি প্রয়োজন হয় পুনরুত্থিত হয়েও।—তুলনা করুন ইয়োব ১:৬-১২; ২:১-৬, ৯, ১০; ২৭:৫; ৪২:১০; হিতোপদেশ ২৭:১১; মথি ২৪:৯, ১৩; প্রকাশিত বাক্য ২:১০.b
১২. কিরূপে পুরোহিতবর্গ অহঙ্কারী ও অত্যাচারী, এবং তাদের পরিণতি কী হবে?
১২ তাড়নাকারীদের সম্বন্ধে দায়ূদ আর্তনাদ করেন: “হে ঈশ্বর, অহঙ্কারিগণ আমার বিরুদ্ধে উঠিয়াছে, দুর্দ্দান্ত লোকদের মণ্ডলী আমার প্রাণের অন্বেষণ করিতেছে, তাহারা তোমাকে আপনাদের সম্মুখে রাখে নাই।” (গীতসংহিতা ৮৬:১৪) বর্তমানে, তাড়নাকারীদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত আছে খ্রীষ্টীয়জগতের পুরোহিতবর্গ। তারা ঈশ্বরকে উপাসনা করে বলে মনে করে কিন্তু তারা ঈশ্বরের পবিত্র নামকে “প্রভু” আখ্যা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে এবং তাঁকে রহস্যময় ত্রিত্বরূপে উপস্থাপন করে যা আসলে বাইবেলে কোন জায়গায় উদ্ধৃত নেই। কী অহঙ্কারী! এছাড়াও তারা রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে প্ররোচিত করেছে যিহোবার সাক্ষীদের বেআইনী ও কারাবদ্ধ করাতে, আশ্চর্য্যের বিষয় যা এখনও পৃথিবীব্যাপী অনেক দেশেতেই করা হচ্ছে। এই আলখাল্লাধারী ঈশ্বরের নামের নিন্দকেরা ও তাদের সাথে মহতী বাবিলের বেশ্যাসদৃশ সমস্ত শাখাগুলি তাদের পুরস্কার পাবে।—প্রকাশিত বাক্য ১৭:১, ২, ১৫-১৮; ১৯:১-৩.
১৩. তাঁর মঙ্গলভাব প্রকাশ করতে যিহোবা কোন্ গুণাবলী প্রদর্শন করেন?
১৩ আনন্দপূর্ণ বৈসাদৃশ্যের সাথে দায়ূদের প্রার্থনা এগোয়: “কিন্তু, হে প্রভু, তুমি স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্।” (গীতসংহিতা ৮৬:১৫) আমাদের ঈশ্বরের এই গুণগুলি সত্যিই সর্বশ্রেষ্ঠ। এই বাক্যগুলি আমাদের অতীতের সিনয় পর্বতে নিয়ে যায়, যখন মোশি যিহোবার মহিমা দেখতে চেয়েছিলন। যিহোবা উত্তর দেন: “আমি তোমার সম্মুখ দিয়া আপনার সমস্ত উত্তমতা গমন করাইব, ও তোমার সম্মুখে যিহোবার নাম ঘোষণা করিব।” কিন্তু তিনি মোশিকে সাবধান করে দিয়ে বলেন: “তুমি আমার মুখ দেখিতে পাইবে না, কেননা মনুষ্য আমাকে দেখিলে বাঁচিতে পারে না।” তারপর, যিহোবা মেঘে নেমে, এই ঘোষণা করেন: “যিহোবা, যিহোবা, স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্।” (যাত্রাপুস্তক ৩৩:১৮-২০; ৩৪:৫, ৬, NW) দায়ূদ এই কথাগুলি তার প্রার্থনায় উল্লেখ করেন। যে কোন বাহ্যিক চেহারার থেকে যিহোবার এই গুণাবলী আমাদের কাছে অনেক অধিক অর্থ রাখে। আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী যিহোবার উত্তমতাকে উপলব্ধি করি না যা এই অপূর্ব গুণাবলীতে উদাহরণস্বরূপ ব্যক্ত করা হয়েছে?
“মঙ্গলের কোন চিহ্ন-কার্য্য”
১৪, ১৫. যিহোবা কিভাবে তাঁর দাসদের জন্য “মঙ্গলের চিহ্ন-কার্য্য” সম্পন্ন করেন?
১৪ দায়ূদ পুনর্বার যিহোবার আশীর্বাদের জন্য সনির্বন্ধ মিনতি করে বলেন: “আমার প্রতি ফির, এবং আমাকে কৃপা কর, তোমার দাসকে তোমার শক্তি দেও, তোমার দাসীর পুত্রকে ত্রাণ কর। আমার জন্য মঙ্গলের কোন চিহ্ন-কার্য্য সাধন কর, যেন আমার বিদ্বেষিগণ তাহা দেখিয়া লজ্জা পায়, কেননা, হে সদাপ্রভু, তুমিই আমার সাহায্য করিয়াছ, ও আমাকে সান্ত্বনা করিয়াছ।” (গীতসংহিতা ৮৬:১৬, ১৭) দায়ূদ উপলব্ধি করেন যে ‘যিহোবার দাসীর পুত্র’ হিসাবে তারও যিহোবার নিজস্ব ব্যক্তি হওয়া উচিৎ। বর্তমানে আমাদের সকলের ক্ষেত্রেও সেই একই, আমরা যারা যিহোবার প্রতি নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছি এবং যারা তাঁর পরিচর্য্যায় দাসত্ব করি। আমাদের যিহোবার পবিত্র আত্মার মাধ্যমে তাঁর রক্ষাকারী শক্তির প্রয়োজন। তাই আমরা আমাদের ঈশ্বরকে “মঙ্গলের কোন চিহ্ন-কার্য্য” সাধন করতে বলি। আমরা এইমাত্র যে উত্তম গুণাবলীর বিষয় আলোচনা করেছি সমস্তই যিহোবার মঙ্গলভাবের অন্তর্ভুক্ত। তাই এই ভিত্তিতে, যিহোবা কোন্ চিহ্ন বা প্রতীক আমাদের দেবেন বলে আমরা আশা করতে পারি?
১৫ যিহোবা হলেন “সমস্ত উত্তম দান এবং সমস্ত সিদ্ধ বর”-এর দাতা এবং তিনি উদার, যেমন যীশু আমাদের নিশ্চয়তা দেন “যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা” দিয়ে থাকেন। (যাকোব ১:১৭; লূক ১১:১৩) পবিত্র আত্মা—যিহোবার কাছ থেকে কী অমূল্য দান! যিহোবা, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে, তাড়নার সময়েও হৃদয়ে আনন্দ দেন। তাই যীশুর প্রেরিতগণ, তাদের জীবনের বিচারের সময়েও, আনন্দের সাথে এই বলতে পেরেছিলেন যে ঈশ্বর আপন আজ্ঞাবহদের পবিত্র আত্মা দান করে থাকেন। (প্রেরিত ৫:২৭-৩২) পবিত্র আত্মার আনন্দ তাদের জন্য ক্রমাগত “মঙ্গলের কোন চিহ্ন-কার্য্য” হিসাবে কাজ করে।—রোমীয় ১৪:১৭, ১৮.
১৬, ১৭. (ক) যিহোবা তাঁর মঙ্গলের কোন্ চিহ্ন পৌল ও বার্ণবাকে দেন? (খ) তাড়িত থিষলনীকীয়দের কী চিহ্ন দেওয়া হয়?
১৬ পৌল এবং বার্ণবা এশিয়া মাইনরে তাদের সুসমাচার-প্রচারের যাত্রার সময় বহু কষ্ট এমনকি প্রচণ্ড তাড়নার সম্মুখীন হন। যখন তারা পিষিদিয়ার আন্তিয়খিয়ায় প্রচার করেন, যিহূদীরা তাদের সংবাদ প্রত্যাখ্যান করে। ফলে, তারা পরজাতীয়দের প্রতি মনোযোগ দেন। পরিণাম কী হয়? “ইহা শুনিয়া পরজাতীয়েরা আহ্লাদিত হইল, ও প্রভুর বাক্যের গৌরব করিতে লাগিল; এবং যত লোক অনন্ত জীবনের জন্য নিরূপিত হইয়াছিল, তাহারা বিশ্বাস করিল।” কিন্তু যিহূদীরা এক বিক্ষোভের সৃষ্টি করল, যাতে মিশনারীদের দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই জন্য কী তারা এবং নতুন বিশ্বাসীরা নিরাশ হয়ে গিয়েছিল? কোন মতেই না! বরং “শিষ্যগণ আনন্দে ও পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইতে থাকিল।” (প্রেরিত ১৩:৪৮, ৫২) যিহোবা তাদের তাঁর মঙ্গলের সেই চিহ্ন দেন।
১৭ পরবর্তীকালে, থিষলনীকীতে নতুন মণ্ডলী তাড়না ভোগ করে। যা প্রেরিত পৌলকে সান্ত্বনার এক পত্র লিখতে পরিচালিত করে, যেখানে তিনি কষ্টের মধ্যেও তাদের সহ্যশক্তি রাখার প্রশংসা করেন। তারা “বহু ক্লেশের মধ্যে পবিত্র আত্মার আনন্দে বাক্যটি গ্রহণ” করেছিল। (১ থিষলনীকীয় ১:৬) ‘পবিত্র আত্মার আনন্দ’ তাদের ক্রমাগত দৃঢ় করে তোলে ঈশ্বরের কাছ থেকে এক প্রামাণিক চিহ্নরূপে, যিনি হলেন স্নেহশীল ও কৃপাময়, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান।
১৮. পূর্ব ইউরোপের ভাইগণ কিভাবে যিহোবার মঙ্গলের প্রতি তাদের উপলব্ধি প্রদর্শন করেন?
১৮ সাম্প্রতিককালে, পূর্ব ইউরোপে, আমাদের বিশ্বস্ত ভাইদের প্রতি যিহোবা তাঁর মঙ্গলভাব প্রকাশ করেছেন, যারা তাদের ঘৃণা করত, তাদের লজ্জিত করে—তাদের প্রাক্তন তাড়নাকারীদের। বহু দশকের অত্যাচার থেকে কিছুদিন পূর্বে মুক্তি পেলেও, আমাদের এই প্রিয় ভাইদের এখনও সহ্য করে যেতে হচ্ছে, কারণ অনেকেই প্রচণ্ড অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু, ‘পবিত্র আত্মার আনন্দ’ তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছে। তাদের এই নব-অর্জ্জিত স্বাধীনতা, সাক্ষ্যদান বিস্তৃত করার কাজে ব্যবহার করা থেকে, আর কিসে তারা বেশী আনন্দ পেতে পারে? বহু ব্যক্তি তাদের প্রতি কর্ণপাত করছে, যেমন সম্মেলন ও বাপ্তিস্মের রিপোর্ট প্রকাশ করে।—তুলনা করুন প্রেরিত ৯:৩১.
১৯. গীতসংহিতা ৮৬:১১ পদের বাক্যগুলো কিভাবে আমরা সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব করতে পারি?
১৯ পূর্ববর্তী এবং এই প্রবন্ধে যা আলোচনা করা হয়েছে তা যিহোবার প্রতি দায়ূদের ঐকান্তিক প্রার্থনাটির প্রতিধ্বনি করে: “হে যিহোবা, আমাকে শিক্ষা দেও . . . তোমার নাম ভয় করিতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।” (গীতসংহিতা ৮৬:১১, NW) রাজ্যের আগ্রহের সমর্থনেতে আমরা সর্বান্তঃকরণে কাজ করে এবং আমাদের একমাত্র ঈশ্বর, সার্বভৌম প্রভু যিহোবার অফুরন্ত মঙ্গল উপলব্ধি করে, আসুন আমরা ১৯৯৩ সালের বছরের-শাস্ত্রপদের ওই বাক্যগুলি আমাদের একান্ত নিজস্ব করে তুলি। (w92 12/15)
[পাদটীকাগুলো]
a ভাববাণীর “বংশ” অনুযায়ী যীশু হলেন দায়ূদ বংশীয় রাজ্যের উত্তরাধিকারী এবং তাই তিনি আক্ষরিক ও আত্মিক উভয় অর্থেই “দায়ূদ-সন্তান”।—আদিপুস্তক ৩:১৫; গীতসংহিতা ৮৯:২৯, ৩৪-৩৭.
b আধুনিক দিনের উদাহরণের জন্য, ইয়ারবুক অফ্ যিহোভাস্ উইটনেসেস্, সংস্করণ ১৯৭৪, পৃষ্ঠা ১১৩-২১২; ১৯৮৫, পৃষ্ঠা ১৯৪-৭; ১৯৮৬, পৃষ্ঠা ২৩৭-৮; ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ১৮২-৫; ১৯৯০, পৃষ্ঠা ১৭১-২; ১৯৯২, পৃষ্ঠা ১৭৪-৮১ দেখুন।
আপনি কিরূপে উত্তর দেবেন?
▫ “হে যিহোবা, আমাকে শিক্ষা দেও” বলে প্রার্থনা করে আমরা কী ইঙ্গিত করতে চাই?
▫ যিহোবার নাম ভয় করতে আমাদের হৃদয় একাগ্র হয়েছে বলতে কী বুঝায়?
▫ সকল অনুগত ব্যক্তিদের যিহোবা কিভাবে তাঁর প্রেমপূর্ণ-মঙ্গল প্রদর্শন করবেন?
▫ যিহোবা কিভাবে আমাদের জন্য “মঙ্গলের চিহ্ন-কার্য্য” সাধন করেন?
[২৮ পৃষ্ঠার বাক্স]
উনিশো তিরানব্বই সালের শাস্ত্রপদ: “হে যিহোবা, আমাকে শিক্ষা দেও . . . তোমার নাম ভয় করিতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।”—গীতসংহিতা ৮৬:১১, NW.
[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
যারা সত্যে অকপটভাবে চলে তাদের জন্য যিহোবা হলেন শৈল এবং দুর্গ
[৩০ পৃষ্ঠার চিত্র]
জুন মাসে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে, “জ্যোতি বাহকগণ” যিহোবার সাক্ষীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪৬,২১৪ জন উপস্থিত ছিলেন এবং ৩,২৫৬ জন বাপ্তিস্মিত হন। ‘পবিত্র আত্মার আনন্দের’ সাথে এরা কী অপূর্বভাবে যিহোবার মঙ্গল গ্রহণে নিজেদের সদ্ব্যবহার করছেন!