বিশ্বব্যাপী জলে মনুষ্যধারী হওয়া
“কারণ আমি যদিও সুসমাচার প্রচার করি, তবু আমার শ্লাঘা করিবার কিছুই নাই; কেননা অবশ্য বহনীয় ভার আমার উপরে অর্পিত; ধিক যদি আমি সুসমাচার প্রচার না করি।”—১ করিন্থীয় ৯:১৬.
১, ২. (ক) কারা ১ করিন্থীয় ৯:১৬ পদের যে চ্যালেঞ্জ তা পূর্ণ করেছে, এবং আপনি এইরূপ কেন উত্তর দেন? (খ) কি দায়িত্ব যিহোবার সাক্ষীরা গ্রহণ করেছে?
এই বিংশ শতাব্দীতে কারা সত্যই উপরে বর্ণিত পৌলের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে? কারা জগতে গেছে লক্ষ লক্ষ পুরুষ ও নারীকে ধরার জন্য যারা “তাহাদের আত্মিক চাহিদা সম্বন্ধে সচেতন”? (মথি ৫:৩; NW) কারা কারাগার ও মৃত্যু বরণ করেছে, এবং কারা অনেক দেশে কষ্ট সহ্য করেছে কারণ তারা খ্রীষ্টের যে আজ্ঞা মথি ২৪:১৪ পদে তা পালন করার চেষ্টা করেছে বলে?
২ রেকর্ড উত্তর দেয়: যিহোবার সাক্ষীরা। গত বৎসর কেবল ৪০ লক্ষের উপর সাক্ষীরা ঘরে ঘরে প্রচার কাজে যায় ‘রাজ্যের সুসমাচার ঘোষণা করার জন্য’ ২১১টি দেশে ও এলাকায় এবং ২০০টি ভাষার উপরে। এরা কেবলমাত্র বিশেষভাবে শিক্ষাপ্রাপ্ত মিশনারিদের দল ছিল না। না, সকল যিহোবার সাক্ষীরা বোধ করে যে তাদের দায়িত্ব আছে প্রচার করার এবং শিক্ষা দেবার ঘরে ঘরে ও প্রত্যেক উপযুক্ত ক্ষেত্রে। কেননা তারা বোধ করে যে তাদের বিশ্বাস অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন? কারণ তারা বুঝতে শিখেছে যে জ্ঞান দায়িত্ব নিয়ে আসে।—যিহিষ্কেল ৩৩:৮, ৯; রোমীয় ১০:১৪, ১৫; ১ করিন্থীয় ৯:১৬, ১৭.
মনুষ্যধারী হওয়া, এক বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ
৩. মাছ ধরার কাজ কত ব্যাপক হবে?
৩ এই বিরাট মাছ ধরার কাজ কেবলমাত্র যে একটি নদীতে, অথবা হ্রদেতে বা একটি সমুদ্রে সীমাবদ্ধ তা নয়। না, যীশু আজ্ঞা দেন যে তা যেন “সর্ব্বজাতির কাছে” বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। (মার্ক ১৩:১০) তার পিতার নিকটে স্বর্গে নীত হওয়ার পূর্বে যীশু তার শিষ্যদের বলেন: “অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও। আর দেখ, আমি যুগান্ত পর্য্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।”—মথি ২৮:১৯, ২০.
৪. (ক) কি যীশুর পার্থিব যিহুদী অনুগামীদের আশ্চর্য্য করে? (খ) যিহোবার সাক্ষীরা তাদের প্রচার কাজের আয়তন কত দূর অবধি দেখে?
৪ যীশুর যিহৃদী অনুগামীদের কাছে, তা এক চমকপ্রদ ভারপ্রাপ্ত হওয়া ছিল। তিনি তার যিহৃদী শিষ্যদের বলছিলেন যে তাদের এখন “অশুচি” সকল পরজাতিয়দের নিকটে যেতে হবে এবং শিক্ষা দিতে হবে। তাদের চিন্তাভাবনার কিছু বিন্যাস সাধন করতে হয় এই দায়িত্ব গ্রহণ করে তার উপর কাজ করার পূর্বে। (প্রেরিত ১০:৯-৩৫) কিন্তু কোনভাবে এই বিষয়কে এড়িয়ে যাবার উপায় ছিল না; যীশু তাদের তার দৃষ্টান্তে বলেছিলেন যে “ক্ষেত্র জগৎ।” সেইকারণে, যিহোবার সাক্ষীরা আজ সমস্ত জগতকে তাদের ক্ষেত্র হিসাবে দেখে যেখানে তাদের মাছ ধরার অধিকার আছে। তাদের জন্য কোন ১২ মাইলের “টেরিটোরিয়াল ওয়াটারের” সীমা নেই, যা ঈশ্বরের নিকট থেকে তাদের দায়ীত্বকে সীমাবদ্ধ করবে। যেখানে ধর্ম্মীয় স্বাধীনতা নেই সেখানে হয়ত বিচক্ষণতা দেখান যেতে পারে। যাহাহোক, তারা জরুরী এক মানোভাব নিয়ে মাছ ধরে থাকে। কেন এইরূপ? কারণ জগতের পরিস্থিতি ও বাইবেলের ভবিষদ্বাণী ইঙ্গিত করে যে আমারা বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কাজের অন্তিম ভাগে আছি।—মথি ১৩:৩৮; লূক ২১:২৮-৩৩.
বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কাজে উন্নতি
৫. কি ধরনের লোকেরা বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কাজের জন্য সাড়া দিচ্ছে?
৫ বেশীরভাগ অভিষিক্ত রাজ্যের উত্তরাধিকারীদের “ধরা” হয় ১৯৩৫ সালের পূর্বে, তাই তাদের যে সংখ্যা তা মূলতঃ এখন পূর্ণ হয়ে গেছে। সেইজন্য, বিশেষ করে ১৯৩৫ সাল থেকে, যিহোবার সাক্ষীরা সেই নম্র ব্যক্তিদের খুঁজছেন যাদের আখ্যা দেওয়া যেতে পারে “মৃদুশীলরা” যারা “দেশের আধিকারী হইবে।” (গীতসংহিতা ৩৭:১১, ২৯) এই লোকেরা হল সেই ব্যক্তিরা যারা “সমস্ত ঘৃনার্হ কার্য্যের বিষয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করে।” তারা ঈশ্বরের রাজ্যের পক্ষে পদক্ষেপ নিচ্ছে ঈশ্বরের রাজ্যের শাসনের স্বপক্ষে “মহাক্লেশে” শয়তানের কলুষিত ও দূষিত এই সমাজ ব্যবস্থা এবং তার উপাসকদের “অগ্নিময় হ্রদে” সর্ব শেষ ধ্বংসের পূর্বে।—যিহিষ্কেল ৯:৪; মথি ১৩:৪৭-৫০; ২৪:২১, NW.
৬, ৭. (ক) প্রচার কাজ সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৪৩ সালে? (খ) তার ফল কি হয়েছে?
৬ বিশ্বব্যাপী এই প্রচারের কাজ কি কার্য্যকারী হয়েছে এখন অবধি? আসুন ঘটনাগুলি নিজে এই বিষয় কথা বলুক। ১৯৪৩ সালে, বিশ্বযুদ্ধ তখন চলছিল, কিন্তু যিহোবার সাক্ষীদের প্রধান কার্য্যালয়ে ব্রুকলিন নিউ ইয়োর্কে বিশ্বস্ত মনোনীত ভাইরা লক্ষ্য করেন যে, ভবিষ্যতে এক বিরাট মাছ ধরার অভিযান চলবে। তাই, কি পদক্ষেপ সকল নেওয়া হয়?a—প্রকাশিত বাক্য ১২:১৬, ১৭.
৭ ১৯৪৩ সালে ওয়াচটাওয়ার সোসাইটি একটি মিশনারি স্কুল স্থাপন করে যার নামকরণ করা হয় গিলিয়েড (ইব্রীয়, “সাক্ষিরাশি”; আদিপুস্তক ৩১:৪৭, ৪৮) আর তা প্রায় একশজন করে মিশনারিকে প্রাশিক্ষণ দেয় প্রত্যেক ছয়মাস অন্তর যাতে তাদের আক্ষরিক মৎস্যধারীরূপে পৃথিবীব্যাপী পাঠান যেতে পারে। তখনকার সময়, কেবলমাত্র ১,২৬,৩২৯ সাক্ষী ছিলেন যারা ৫৪টি দেশে সক্রিয় মৎস্যধারীর কাজ করছিলেন। দশ বৎসরের মধ্যে সেই সংখ্যাগুলি বেড়ে দাঁড়ায় ৫,১৯,৯৮২ সাক্ষীতে ১৪৩টি দেশে! অবশ্যই, গিলিয়েড স্কুল সাহসী মৎস্যধারী পুরুষ ও মৎস্যধারী স্ত্রী উৎপন্ন করে, যারা বিদেশী সংস্কৃতিতে যেতে ও সেই নতুন জলে মানিয়ে নিতে উৎসুক ছিল। ফলস্বরূপ, সহস্র সহস্র সৎহৃদয়যুক্ত ব্যক্তিরা সাড়া দেয়। সেই মিশনারিরা, এবং যে স্থানিয় সাক্ষীদের সাথে তারা কাজ করে, তারা ভিত্তি তৈরি করে অপূর্ব যে বৃদ্ধি এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে তার জন্য।
৮, ৯. (ক) উল্লেখযোগ্য মিশনারি কাজের কি উদাহরণ আমরা দেখাতে পারি? (খ) কী ভাবে মিশনারিরা তাদের ক্ষেত্রতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছেন? (আরও দেখুন ১৯৯২ যিহোবা সাক্ষীদের বাৎসরিক পুস্তক)
৮ সেই গিলিয়েডের প্রথমের ক্লাসগুলি থেকে অনেক বিশ্বস্ত পুরাতনেরা এখনও তাদের বিদেশী এসাইনমেন্টে আছেন, যদিও তাদের বয়স এখন ৭০ অথবা ৮০-র উপরে। একটি উদাহরণ যা অনেক অন্যদের বিষয় একই তা হল ৮২ বৎসরের এরিক ব্রিটন ও তার স্ত্রী, ক্রিস্টিনা, যারা গ্রেজুয়েট হন গিলিয়েডের ১৫ নম্বর ক্লাস থেকে ১৯৫০ সালে তারা এখন ব্রাজিলে সেবা করছেন। তারা যখন সেবা করতে ব্রাজিলে যান, তখন ৩,০০০ থেকে কম সাক্ষী ছিল সেই দেশে। এখন সেখানে প্রায় ৩,০০,০০০ উপরে সাক্ষী আছে! অবশ্যই, ‘যে ক্ষুদ্র সে বলবান্ জাতি হইয়া উঠিবে’ ব্রাজিলে তাই হয়েছে কারণ মাছ ধরার কাজ খুব ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে।—যিশাইয় ৬০:২২.
৯ আফ্রিকার মিশনারিদের সম্বন্ধে আমরা কি বলতে পারি? তাদের বেশীরভাগ নিজেদের অন্য সংঙ্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং আফ্রিকার লোকদের ভালবাসতে শিখেছে। দৃষ্টান্তসরূপ দুই ভাই জন্ ও এরিক কুক এবং তাদের স্ত্রীরা, ক্যাথলিন ও মারটেল্, বর্তমানে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় সেবা করছেন। জন্ এবং এরিক তারা ১৯৪৭ সালে গ্রেজুয়েট হয় অষ্ঠম ক্লাস থেকে। দুই ভাই মিলে তারা কাজ করেছে, আংগোলা, জিম্বাবোয়ে, মোজামবিক, এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিছু মিশনারিরা আফ্রিকায় রোগে মারা যান, অন্যরা যুদ্ধ এবং তাড়নার জন্য, যেমন এল্যান ব্যাটী, এবং আরথার লসন, যিনি হালে লাইবেরীয়ার ঘৃহযুদ্ধে মারা যান। তবুও, আফ্রিকার জল খুব ফলপ্রদ প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে এখন প্রায় ৪,০০,০০০ সাক্ষী সেই বিরাট মহাদেশে বিস্তীর্ণ হয়ে আছে।
সকলের অংশ আছে
১০. কেন ও কি করে অগ্রগামিরা প্রশংসনীয় কাজ করছেন?
১০ যাহাহোক, ইহা মেনে নিতে হবে যে যদিও বিদেশী মিশনারিরা সংখ্যায় কিছু সহস্র, কিন্তু স্থানিয় প্রকাশক ও অগ্রগামিরাb লক্ষ লক্ষে পরিণত হয়েছে। বেশীরভাগ প্রচারের কাজ পৃথিবীব্যাপী তারা করছে। ১৯৯১ সালে গড় প্রতি প্রায় ৫,৫০,০০০ বেশী অগ্রগামী ও ভ্রমণঅধ্যক্ষ ছিল। এই সংখ্যা আমাদের উপর কত প্রভাব না ফেলে যখন আমরা চিন্তা করি যে এই সব বিশ্বস্ত সাক্ষীরা যারা বিশেষ চেষ্টা করছে এই বিরাট মাছ ধরার কাজে অংশ নিতে, তারা গড় প্রতি প্রায় ৬০ থেকে ১৪০ ঘন্টা প্রত্যেক মাসে প্রচার করে থাকে। অনেকে তা করে থাকে তাদের ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ ও অর্থ খরচা করে। কিন্তু কেন? কারণ তারা ভালবাসে তাদের ঈশ্বর যিহোবাকে তাদের সমস্ত হৃদয়, মন, প্রাণ, এবং শক্তি দিয়ে, আর তারা তাদের প্রতিবেশীকে আপনার মত প্রেম করে।—মথি ২২:৩৭-৩২.
১১. কি নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে যে যিহোবার আত্মা তাঁর লোকদের উপর কাজ করছে?
১১ আমরা সেই তিনশ পঞ্চাশ হাজার সাক্ষীদের সম্বন্ধে কি বলতে পারি যারা পূর্ণ সময়ের প্রচারে নেই কিন্তু তাদের ১০০ ভাগ যিহোবার সেবায় দিয়ে থাকে, তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী? কেহ কেহ হয়ত গৃহবধূ, হয়ত মা যাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের যত্ন নিতে হয়, যারা তবুও তাদের মূল্যবান সময়ের কিছু অংশকে বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করে। অনেকে হয়ত স্বামী বা পিতা যাদের পূর্ণ সময়ের জাগতিক চাকরি রয়েছে; কিন্তু তবুও তারা সপ্তাহের শেষে অথবা বৈকালে অচেনা ব্যক্তিদের সত্য শিখাবার তাদের সময় জন্য ব্যবহার করে। তারপর সেই বিরাট ভীড় রয়েছে অবিবাহিত পুরুষ ও নারীদের এবং অল্প বয়স্কদের যারা প্রচারে অংশ নেয় ও তাদের উত্তম ব্যবহারের দ্বারা অন্যদের কাছে সত্যকে তুলে ধরে। আর কোন্ ধর্ম্মিয় সংস্থা আছে যার চল্লিশ লক্ষ স্বেছাসেবক বিনা বেতনে প্রতি মাসে ঈশ্বরের রাজ্যের শাসনের সুসমাচার প্রচার করে? অবশ্যই ইহা প্রমাণ করে যে যিহোবার আত্মা কাজ করছে!—গীতসংহিতা ৬৮:১১; প্রেরিত ২:১৬-১৮; তুলনা করুন সখরিয় ৪:৬.
যে কারণগুলি উন্নতিতে সাহায্য করে
১২. কেন এবং কত সংখ্যায় লোকেরা সত্যের জন্য সাড়া দিচ্ছে?
১২ এই বৃহৎ প্রচার কার্য্য প্রত্যেক বৎসর উল্লেখযোগ্য ফল সকল নিয়ে আসে। ১৯৯১-তে ৩,০০,০০০ নতুন সাক্ষীরা জলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে। এটা ১০০ জন সাক্ষী যুক্ত ৩,০০০ মণ্ডলীর সমান! কি করে এই সব সাধন করা গেল? আসুন যীশু যা বলেছিলেন আমরা তা স্মরণে রাখি: “পিতা যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনি আকর্ষণ না করিলে কেহ আমার কাছে আসিতে পারে না। . . .ভাববাদিগণের গ্রন্থে লেখা আছে, ‘তাহারা সকলে যিহোবার কাছে শিক্ষা পাইবে।’ যে কেহ তার নিকটে শুনিয়া শিক্ষা পাইয়াছে, সেই আমার কাছে আসে।” সেইজন্য, কেবল মানুষ্যের চেষ্টার জন্যই যে একজন বিশ্বব্যাপী এই মাছ ধরার কাজে সাড়া দেয় তা নয়। যিহোবা অন্তকরনের অবস্থা বোঝেন এবং যারা যোগ্য তাদের তার নিকটে নিয়ে আকর্ষণ করেন।—যোহন ৬:৪৪, ৪৫; মথি ১০:১১-১৩; প্রেরিত ১৩:৪৮.
১৩, ১৪. অনেক সাক্ষীরা কি উত্তম মনোভাব প্রদর্শন করেছে?
১৩ মনুষ্য ধীবরেরা হল প্রতিনিধি মাত্র, যাহাহোক, যিহোবা তাদের ব্যবহার করেন লোকদের তার নিকটে আকর্ষণ করার জন্য। সেইজন্য, তাদের মনোভাব লোকদের প্রতি ও যে এলাকায় তারা মাছ ধরে তার প্রতি সঠিক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইহা দেখা কত হৃদয়গ্রাহী যে গালাতীয়কে লেখা পৌলের কথাগুলিকে এক বৃহৎ অংশ তাদের হৃদয়ে গ্রহণ করেছে: “আর আইস, আমরা সৎকর্ম করিতে নিরুৎসাহ না হই, কেননা ক্লান্ত না হইলে যথাসময়ে শস্য পাইব।”—গালাতীয় ৬:৯.
১৪ অনেক বিশ্বস্ত সাক্ষীরা দশকের পর দশক ধরে প্রচার করে চলেছে, এবং প্রখর দৃষ্টি রাখছে জগতের ঘটনা সকলের প্রতি। তারা নাজিবাদের, ফ্যাসিবাদের এবং অন্যান্য একনায়ত্বে উত্থান পতন দেখেছে। অনেকে আবার ১৯১৪ সাল থেকে যে অনেক যুদ্ধ হয়েছে তা লক্ষ্য করেছে। তারা লক্ষ্য করেছে যে জগতের নেতারা তাদের যে আশা তা প্রথমে জাতিপুঞ্জ এবং পরে রাষ্ট্রসংঘ স্থাপন করেছে। তারা দেখেছে অনেক দেশে যিহোবার কাজ বন্ধ হয়ে যেতে আবার ন্যায়সঙ্গত সীকৃতি পেতে। এই সবের মধ্যে দিয়ে যিহোবার সাক্ষীরা যা ভাল তা করা বন্ধ করেনি, যার মধ্যে যুক্ত মনুষ্যধারী হওয়া। বিশ্বস্ততা বজায় রাখার কি অপূর্ব রেকর্ড!—মথি ২৪:১৩.
১৫. (ক) কি সাহায্য আমরা পেয়েছি যাতে বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রের যে চাহিদা আছে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারি? (খ) কি করে সাহিত্যাদি আপনার অ্যাসাইনমেন্টে সাহায্য করেছে?
১৫ আরও অন্যান্য উপাদান যা এই বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। একটি হচ্ছে যারা এই মনুষ্যধারীদের সহজশব্য মনোভাব বিশেষ করে ক্ষেত্রের চাহিদা সম্বন্ধে। যত বিভিন্ন সংস্কৃতির লোক, ধর্ম্মের, এবং ভাষার লোক এসেছে, যিহোবার সাক্ষীদের বোধগম্যতাকে তা বৃদ্ধি করেছে তাদের বিভিন্ন চিন্তাধারা সম্বন্ধে। আর বিশ্বব্যাপী যে সংগঠন আছে তা দারুণভাবে সাহায্য করেছে বাইবেল ও বাইবেল সংক্রান্ত সাহিত্যাদি ২০০ ভাষার উপর তৈরি করে। নিউ ওয়ার্ল্ড ট্র্যানলেশন অফ দ্যা হোলি স্ক্রীপচারস্, সম্পূর্ণ অথবা আংশিক, এখন ১৩টি ভাষায়, চেক্ ও স্লোভাক সমেত। পৃথিবীতে অনন্তজীবন উপভোগ করুন! ব্রোশারটি এখন ১৯৮ ভাষায় পাওয়া যায়, আলবেনিয়ান থেকে নিয়ে জুলু ভাষা পর্য্যন্ত, যার ছাপার গড় ৭২০ লক্ষ কপি। সর্বমহান পুরুষ যিনি কখনও জীবিত ছিলেন (The Greatest Man Who Ever Lived) তা এখন অবধি ৬৯ ভাষায় পাওয়া যায়। ঈশ্বরের জন্য মানবজাতির অন্বেষণ (Mankind’s Search for God) যা এখন ২৯ ভাষায় প্রকাশিত, তা যে বড় ধর্মগুলি আছে তার উৎপত্তি ও বিশ্বাস সম্বন্ধে অন্তদৃষ্টি দেয় যা বিশ্বব্যাপী মাছধরার ক্ষেত্রে এক দারুণ সাহায্যস্বরূপ।
১৬. কি করে কেহ কেহ অন্য দেশে যে চাহিদা আছে তার প্রতি সাড়া দিয়েছে?
১৬ আর কি বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার কাজকে প্রসারিত করতে সাহায্য করেছে? সহস্র সহস্র ব্যক্তিরা সেই ‘মাকিদনীয়’ আহ্বানে’ সাড়া দিয়েছেন। যেমন পৌল এশিয়া মাইনর থেকে মাকিদনিয়া যেতে ইচ্ছুক ছিলেন, ঈশ্বরের আহ্বানে, অনেক সাক্ষীরা সেই সব দেশে ও ক্ষেত্রে গেছেন যেখানে রাজ্যের প্রচারকদের, প্রাচীনদের ও পরিচারক দাসদের প্রয়োজন আছে। তারা আক্ষরিক ধীবরদের মত যারা লক্ষ্য করে যে তাদের স্থানিয় জলে মাছ ধরার কাজ পূর্ণ হয়েছে তাই তারা সেই জলে যায় যেখানে নৌকা কম ও মাছ প্রচুর।—প্রেরিত ১৬:৯-১২; লূক ৫:৪-১০.
১৭. যারা “মাকিদনীয় আহ্বানে” সাড়া দিয়েছে তাদের কি উদাহরণ রয়েছে?
১৭ সম্প্রতি গিলিয়েড মিশ্নারি ক্লাসগুলিতে অনেক ইউয়রোপীয় দেশগুলি থেকে সেইসব ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা ইংরাজি শিখেছে এবং নিজেদের অন্য দেশে ও সাংষ্কৃতিতে কাজ করা জন্য আগিয়ে দিয়েছে। একইভাবে, মিনিস্ট্রীয়াল ট্রেনিং স্কুলের মাধ্যমে, অনেক একাকী ভাইদের দুই মাসের প্রগাঢ় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তারপর তাদের অন্য জাতিদের নিকটে পাঠান হয় যেন মণ্ডলী ও সীমা আরও সবল করা যায়। অন্য অপূর্ব মাছ ধরার ক্ষেত্রগুলি খুলে যাচ্ছে পূর্ব্ব ইউরোপে এবং পূর্বের সোভিয়েত রিপাবলিকে।—তুলনা করুন রোমীয় ১৫:২০, ২১.
১৮. (ক) অগ্রগামিরা কেন স্বাধারণতঃ কার্য্যকারি পরিচারক? (খ)তারা কি করে অন্যদের মণ্ডলীতে সাহায্য করতে পারে?
১৮ বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার ক্ষেত্রে আরও একটি সাহায্য হল পাইনিয়ার সার্ভিস স্কুল যাতে নিয়মিত অগ্রগামিরা যোগ দেয়। দুই সপ্তাহ ধরে জগতে দ্বীপ্তির ন্যায় ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ করা (Shining as Illuminators in the World), বইটি প্রগাঢ় ভাবে পড়া হয়, ইহা বিশেষ করে অগ্রগামীদের জন্য তৈরি হয়েছে, এটা তাদের যে পরিচর্য্যার ক্ষমতা তা বৃদ্ধি করে তারা এই বিষয়গুলি যখন বিবেচনা করে যেমন “প্রেমের পথ অনুধাবন করা” “যীশুকে আদর্শরূপে অনুকরণ করা” এবং “শিক্ষার যে দক্ষতা তা বৃদ্ধি করা।” এইরূপ দক্ষ ঘরে-ঘরে প্রচারের দল থাকায় মণ্ডলীরা কতইনা কৃতজ্ঞ যারা অন্যদের এই বৃহৎ মাছধরার কাজে শিক্ষা দিতে পারে!—মথি ৫:১৪-১৬; ফিলিপীয় ২:১৫; ২ তীমথিয় ২:১, ২.
আমরা কি উন্নতি করতে পারি?
১৯. প্রেরিত পৌলের মত আমরা কি করে আমাদের পরিচর্য্যায় উন্নতি করতে পারি?
১৯ পৌলের মত আমাদের নির্দিষ্টমনা হতে হবে, সামনে-তাকানোর মনোভাব রাখতে হবে। (ফিলিপীয় ৩:১৩, ১৪) তিনি সকল ধরণের লোকদের ও অবস্থার সাথে মানিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন কি করে সমভিত্তিক চিন্তধারা খুঁজে পেতে হবে এবং কি করে স্থানিয় চিন্তাধারা ও সাংস্কৃতির উপর তার ভিত্তি হবে। আমরা বাইবেল অধ্যায়ন আরাম্ভ করতে পারি গৃহকর্ত্ত রাজ্যের সংবাদের প্রতি কিরূপ সাড়া দিচ্ছেন তার প্রতি সজাগ থেকে ও আমাদের উপস্থাপনাকে ব্যক্তির চাহিদার সাথে মানিয়ে নিয়ে। আমাদের যে প্রসারিত বাইবেল অধ্যয়ন সাহায্যকারী সাহিত্যাদিগুলি আছে, আমরা সেইগুলি অর্পন করতে পারি যা এক ব্যক্তির যে চিন্তাধারা তার সাথে খাপ খায়। আমারা কতটা মানিয়ে নিতে পারি এবং জাগ্রত তাহাও খুব গুরুত্বপূর্ণ কার্যকারিরূপে মাছ ধরার ক্ষেত্রে।—প্রেরিত ১৭:১-৪, ২২-২৪, ৩৪; ১ করিন্থীয় ৯:১৯-২৩
২০. (ক) আমাদের মৎস্য ধরার কাজ এখন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (খ) আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব এখন কি?
২০ বিশ্বব্যাপী এই মৎস্য ধরার কাজ কেন আজ এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ বাইবেলের ভবিষদ্বাণী যে ঘটনাগুলি ঘটে গেছে ও ঘটছে তার উপর আলোকপাত করে, ইহা স্পষ্ট যে শয়তানের জগত এক চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাই, আমরা যিহোবার সাক্ষীরা কি করব? এই তিনটি অধ্যয়নের প্রবন্ধ আমাদের সামনে তুলে ধরেছে যে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে অধ্যাবসায়ীও উদ্যোগী হওয়ার আমাদের মাছ ধরার কাজে বিশ্বব্যাপী জলে আমাদের অংশে। বাইবেল থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে যিহোবা আমাদের তৎপরতার সাথে মাছ ধরার কাজ ভুলে যাবেন না। পৌল বলেন: “কেননা ঈশ্বর অন্যায়কারী নহেন; তোমাদের কার্য্য, এবং তোমরা পবিত্রগণের যে পরিচর্য্যা করিয়াছ ও করিতেছ, তদ্বারা তাঁহার নামের প্রতি প্রদর্শিত তোমাদের প্রেম, এই সকল তিনি ভুলিয়া যাইবেন না। কিন্তু আমাদের বাসনা এই, যেন তোমাদের প্রত্যেক জন একই প্রকার যত্ন দেখায়, যাহাতে শেষ পর্য্যন্ত প্রত্যাশার পূর্ণতা থাকিবে।”—ইব্রীয় ৬:১০-১২. (w92 6/15)
[পাদটীকাগুলো]
a দেখুন, প্রকাশিত বাক্য—ইহার মহা চূড়ান্ত সন্নিকট! (Revelation—its Grand Climax at Hand) পৃষ্ঠা ১৮৫ এবং ১৮৬, ওয়াচটাওয়ার বাইবেল সোসাইটি অফ নিউ ইয়োর্ক, আই এন সি। দ্বারা প্রকাশিত।
b “পাইনিয়ার পাবলিশার . . . যিহোবার সাক্ষীদের একজন পূর্ণ-সময়ের কর্ম্মী।”—ওয়েবস্টার থার্ড নিউ ইন্টারন্যাশানাল ডিক্সনারী.
আপনার কি মনে পড়ে
▫ যিহোবার সাক্ষীরা কেন সমস্ত জগতকে তাদের মাছ ধরার কর্ম্মের স্থান মনে করে?
▫ গিলিয়েড মিশনারি স্কুল মাছ ধরার জন্য কি করে আশির্বাদ স্বরূপ হয়েছে?
▫ কতগুলি উপাদান কি যা যিহোবার সাক্ষীদের সফলতায় সাহায্য করেছে?
▫ আমরা ব্যক্তিগতভাবে কি করে আমাদের খ্রীষ্টীয় পরিচর্য্যায় উন্নতি করতে পারি?
[২৬ পৃষ্ঠার তালিকা]
বিশ্বব্যাপী মৎস্য ধরার ফল
বৎসর দেশ সাক্ষী
১৯৩৯ ৬১ ৭১,৫০৯
১৯৪৩ ৫৪ ১,২৬,৩২৯
১৯৫৩ ১৪৩ ৫,১৯,৯৮২
১৯৭৩ ২০৮ ১৭,৫৮,৪২৯
১৯৮৩ ২০৫ ২৬,৫২,৩২৩
১৯৯১ ২১১ ৪২,৭৮,৮২০
[Pictures on page 27]
গালীলীয় ধীবরদের কাছে সাক্ষ্যের কাজ এখনও করা হচ্ছে