পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
বাইবেল কি ইউনিকর্ণের অস্তিতকে সমর্থন করে, যা কিছু অনুবাদে পাওয়া যায়?
কিং জেমস্ এবং ডুয়ে সংস্করণে, এবং অন্যান সংস্করণে একশৃঙ্গ প্রাণীবিশেষের বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু নব্য সংস্করণগুলিতে ইব্রীয় শব্দের সঠিক ব্যবহার করা হয়েছে।—গীতসংহিতা ২২:২১; ২৯:৬; ৯২:১০ (২১:২২; ২৮:৬; ৯১:১১, ডুয়ে)।
শতাব্দীগুলি ধরে অনেক কাহিনী গড়ে উঠেছে এক জন্তু চার মাথা ও দেহটা ঘোড়ার পা হরিণের এবং লেজটা সিংহের। আর এই রূপকথার জন্তুটিকে যা সব থেকে আলাদা করে তা হল তার কপালে একটি পাক দেওয়া শৃঙ্গ।a
“লোকেরা এক সময় বিশ্বাস করত যে একশৃঙ্গ প্রাণীর শৃঙ্গে বিষের প্রতিশেষধক থাকে, এবং মধ্যযুগে, এই শৃঙ্গ থেকে নাকি তৈরি করা পাউডার অনেক উচ্চ দামে বিক্রয় হত। বেশিরভাগ পণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন যে এই এক শৃঙ্গবলা প্রাণীর পূর্ণ ছবি আসলে গণ্ডারের যে ইউরোপীয় বর্ণনা তার থেকে এসেছে।” (দ্যা ওয়ার্ল্ড বুক অ্যানসাইক্লোপিডিয়া) কিছু অশূরীয় ও বাবিলনীয় স্মৃতিস্তম্ভতে তা দেখান হয় এক-শৃঙ্গ বিশেষ জন্তু হিসাবে। এদের এখন সনাক্ত করা হয় পুং-হরিণ, বন্য ছাগ, গরু, এবং ষাঁড় হিসাবে, যাদের একধার থেকে দেখান হয়েছে, আর এমনভাবে করা হয়েছে যে দুইটি শৃঙ্গ দেখানো হয়নি।
এটা বাইবেলের ছাত্রদের জন্য বেশ আগ্রহজনক কারণ নয়বার শাস্ত্রে এক জন্তুকে ইব্রীয়তে বলা হয়েছে রি’ম। (গণনাপুস্তক ২৩:২২; ২৪:৮; দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:১৭; ইয়োব ৩৯:৯, ১০; গীতসংহিতা ২২:২১; ২৯:৬; ৯২:১০; যিশাইয় ৩৪:৭) অনুবাদকরা অনেকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন যে এর অর্থ কি। গ্রীক স্পেপ্টুয়াজিন্ট এই রি’ এম’ কথার অনুবাদ করে যা এই অর্থ দেয় যে তা ‘এক শৃঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণী’ অথবা ইউনিকর্ণ্। ল্যাটিন ভালগেট প্রায় ইহাকে অনুবাদ করে “গণ্ডার” বলে। অন্য অনুবাদে ইহাকে ‘বন্য ষাড়’ ‘বন্য জন্তু’ অথবা বন্য ‘মোষ’ বলে অনুবাদ করা হয়েছে রর্বাট ইয়াং ইহাকে সরাসরি ইংলিশে অনুবাদ করেন যা ইব্রীয়তে আছে “রিম” বলে, যা পাঠককে অন্ধকারে রেখে দেয়।
বর্তমান দিনের পণ্ডিতরা, যদিও বেশীরভাগ বিভ্রান্তি রি’ এম’ কথা থেকে সরে গেছে। ল্যাক্সিওগ্রাফার লাটভিক কোহেলার এবং ভালটার বাউম গারটেনার দেখান যে এর অর্থ “বন্য ষাড়” যার বৈজ্ঞানিক সনাক্তিকরণ হল বোস প্রিমিজেনিয়াস। ইহা হল “বড় শৃঙ্গ বিশিষ্ট জাতির উপজাতি।” দ্যা অ্যানসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ব্যাখ্যা করে:
“পুরাতন নিয়মের কিছু কবিতার ছন্দে লেখা অংশ নির্দ্দেশ করে এক বলিষ্ঠ এবং সুন্দর প্রাণীর যার নাম রি’ এম’। এই শব্দটিকে অনুবাদ করা হয়েছে ‘ইউনিকন’ অথবা ‘গণ্ডার’ বলে, কিন্তু অনেক নব্যদিনের অনুবাদকেরা ইহাকে ‘বন্য ষাড়’ বলতে পছন্দ করে, যা হল ইব্রীয় রি’ এম’ কথার সঠিক অনুবাদ।”
যেহেতু বর্তমানদিনের ইংরাজিতে বলদ কথার অর্থ হচ্ছে যাকে নপুংসক করা হয়েছে, সেইজন্য দ্যা নিউ ওয়ার্ল্ড ট্র্যানশলেশন অফ দ্যা হোলি স্ক্রিপটারস নিয়মিতভাবে রি’ এম’ কথার অনুবাদ করেছে “বন্য ষাড়”। এরোকাস (বন্য ষাড় অথবা বৃষ) এরা ১৭ শতাব্দীতে নিরবংশ হয়, কিন্তু বৈজ্ঞানিকরা বুঝতে পেরেছেন যে তা পৌরানিক গল্পের ইউনিকর্ণের থেকে অনেক আলাদা। প্রাচীন এই এরোকাসদের শরীরের উচ্চতা ছিল ১.৮ মিটার দৈর্ঘে ৩ মিটার। তাদের ওজন হতে পারত ৯০০ কিলোগ্রাম অবধি, আর তাদের যে শৃঙ্গ ছিল তা ৭৫ সেন্টিমিটার পর্য্যন্ত লম্বা হতে পারত।
বাইবেল যে রি’ এম’ অথবা বন্য ষাড়ের উল্লেখ করে তার সাথে এর মিল আছে। তারা তাদের শক্তি ও বশ না মানার যে চরিত্র তার জন্য পরিচিত ছিল (ইয়োব ৩৯:১০, ১১) এবং তার দ্রুতার জন্য। (গণনাপুস্তক ২৩:২২; ২৪:৮) বস্তুত তাদের দুইটি শৃঙ্গ ছিল, পৌরণিক কাহিনীর ইউনিকর্ণ্দের মত একটি শৃঙ্গ নয়। মোশি এর ব্যবহার করেন যখন তিনি বলতে চাইছিলেন যে যোষেফের দুই পুত্র বৃহৎ দুই জাতিতে পরিণত হবে।—দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:১৭.
তাই বাইবেল পৌরাণিক কাহিনীতে যে বিখ্যাত ইউনিকর্ণ্দের বর্ণনা আছে তা সমর্থন করে না। ইহা যদিও দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেই বৃহৎ এবং ভিতি-উৎপন্নকারী এরোকাসদের উপর, অথবা বন্য ষাড়দের উপরে যারা জীবিত ছিল বাইবেলের সময় এবং আমাদের সময় থেকে খুব পূর্বে নয়। (w92 6/1)
[পাদটীকাগুলো]
a প্রফেসার পল হপ্ট ব্যাখ্যা করেন: ‘মধ্যযুগে গণ্ডার অথবা বৃহৎ দন্তযুক্ত তিমিবিশেষের শৃঙ্গকে মনে করা হত একশৃঙ্গ প্রাণী।’
[৩০ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Treasury of Fantastic and Mythological Creatures: 1,087 Renderings from Historic Sources, by Richard Huber/Dover Publications, Inc.