“একজন অন্যজনের নিমিত্ত প্রার্থনা কর”
যিহোবা “প্রার্থনা-শ্রবণকারী।” (গীতসংহিতা ৬৫:২) তিনি সকল সময়ে তাঁর কাছে সমস্ত অন্তঃকরণে উৎসর্গীকৃতদের প্রার্থনা শ্রবণ করে থাকেন, এবং আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তারা যখন একজন অন্য জনের জন্য প্রার্থনা করেন তিনি শ্রবণ করেন।
কিন্তু একে অন্যের জন্য প্রার্থনার প্রয়োজন কেন? কি বিষয়ে সেই প্রকার প্রার্থনা করা উচিৎ? আর ঐশ্বরিক কোন্ গুণাবলীগুলি একে অন্যের জন্য আমাদের প্রার্থনা উন্নীত করে থাকে?
একে অন্যের জন্য প্রার্থনার প্রয়োজন কেন?
শাস্ত্র যিহোবার লোকদের একে অন্যের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহ দেয়। ঈশ্বরের কাছে প্রেরিত পৌলের আবেদনের মধ্যে অন্যদের জন্য প্রার্থনা অন্তভূর্ক্ত ছিল। (কলসীয় ১:৩; ২ থিষলনীকীয় ১:১১) অধিকন্তু, শিষ্য যাকোব লিখেছেন: “এক জন অন্য জনের নিমিত্ত প্রার্থনা কর।”—যাকোব ৫:১৬.
ঈশ্বরের অপর সেবকদের জন্য প্রার্থনা কার্য্যকরী। তিনি যেন “যিহোরার নামে তৈলাভিষিক্ত করিয়া তাহার উপরে প্রার্থনা” করিতে মণ্ডলীর প্রাচীনবর্গকে আমন্ত্রণ করেন এমন পরামর্শ যাকোব ৫:১৩-১৮ পদে আত্মিক ভাবে অসুস্থ এক খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রার্থনা শ্রবণে যতনা গ্রস্ত ব্যক্তি সবল হতে পারেন এবং প্রত্যয় লাভ করতে পারেন যে তার নিজের প্রার্থনা গুলিরও উত্তর ঈশ্বর দিবেন। (গীতসংহিতা ২৩:৫; ৩৪:১৮) প্রার্থনা ছাড়াও, তৈল সম মসৃণ শাস্ত্রীয় চিন্তাধারাগুলি বর্ণনা করার দ্বারা প্রাচীনবর্গ ব্যক্তিকে তার আত্মিক স্বাস্থ্যে পুনঃস্থাপিত করতে চেষ্টা করেন।
যাকোব যোগ দেন: “বিশ্বাসের প্রার্থনা সেই পীড়িত ব্যক্তিকে সুস্থ করিবে, এবং যিহোবা তাঁহাকে উঠাইবেন।” হ্যা, প্রাচীনদের “বিশ্বাসের প্রার্থনা” দ্বারা আত্মিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি সম্ভবতঃ সাহায্য প্রাপ্ত হবেন। অধিকন্তু যদি তিনি শাস্ত্রের দ্বারা সাহায্য লাভে ইচ্ছুক হন ঈশ্বর তাকে আত্মিক স্বাস্থ্যে উত্থিত করবেন। কিন্তু মারাত্মক পাপের ফলে যদি আত্মিক ব্যধি ঘটে তাহলে কি? বেশ, ব্যক্তি যদি অনুতপ্ত হন, যিহোবা তাকে ক্ষমা করবেন।
“অতএব,” যাকোব বলেন “তোমরা একজন অন্য জনের নিমিত্ত প্রার্থনা কর, যেন সুস্থ হইতে পার। ধার্ম্মিকের বিনতি কার্য্যসাধনে মহাশক্তিযুক্ত। এলিয়. . .প্রার্থনা করিলেন যেন বৃষ্টি না হয় এবং তিন বৎসর ছয় মাস ভূমিতে বৃষ্টি হইল না। পরে তিনি আবার প্রার্থনা করিলেন; আর আকাশ জল প্রদান করিল এবং ভূমি নিজ ফল উৎপন্ন করিল।” (১ রাজাবলি ১৭:১-৭; ১৮:১, ৪২-৪৫) ঈশ্বরের ইচ্ছার সঙ্গে মিল যুক্ত ধার্ম্মিকের প্রার্থনার শক্তি আছে।—১ যোহন ৫:১৪, ১৫.
প্রার্থনা কি বিষয়ে?
যে কোন বিষয় বস্তু এক সহ বিশ্বাসীর জন্য আমাদর প্রার্থনার অংশ হতে পারে। সুসমাচার বলায় তার দক্ষতার জন্য পৌল অন্যদের প্রার্থনা করতে অনুঅরোধ জানিয়ে ছিলেন। (ইফিষীয় ৬:১৭-২০) যদি কেউ প্রলুব্ধ হচ্ছেন আমরা জানতে পারি তাহলে কি? ‘তার দ্বারা মন্দ কিছু সংঘটিত না হওয়ার’ জন্য এবং ঈশ্বর যেন দুষ্ট জন শয়তান দিয়াবল থেকে তাকে রক্ষা করেন কিন্তু প্রলোভনে পরিত্যাগ না করেন, এ বিষয়ে প্রার্থনা করতে পারি। (২ করিন্থীয় ১৩:৭; মথি ৬:১৩) আর যদি কেউ দৈহিক ভাবে অসুস্থ হন তার ব্যাধি সহ্য করার জন্য যিহোবা যেন তাকে শক্তি দেন আমরা তাঁর কাছে অনুরোধ জানাতে পারি।—গীতসংহিতা ৪১:১-৩.
সকল সময়ে যিহোবার সহ নির্যাতিত উপাসকদের জন্য প্রর্থনা উপযুক্ত। পৌল এবং তার সথীরা তীব্র নির্যাতন পেয়েছিলেন এবং তিনি করিন্থীয় খ্রীষ্টানদের বলেছিলেন: “ইহাতে তোমরাও বিনতি দ্বারা আমাদের পক্ষে সাহায্য করিতেছ, যেন অনেকের দ্বারা যে অনুগ্রহ-দান আমাদিগকে দত্ত হইয়াছে, তন্নিমিত্ত অনেক মুখ হইতে আমাদের পক্ষে ধন্যবাদ প্রদান করা হয়।” (২ করিন্থীয় ১:৮-১১; ১১:২৩-২৭) যিহোবা “ধার্ম্মিকদের প্রার্থনা শুনেন” সকল সময়ে; স্মরণে রাখার দ্বারা, এমন কি যখন আমরা কারারুদ্ধ হই, অপর নির্যাতিত ভাইদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি।—হিতোপদেশ ১৫:২৯.
যিহোবার সংগঠনে গুরু দায়িত্ব ভার বহনকারী ভাইদের জন্য বিশেষ প্রর্থনা করতে পারি। “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস” দ্বারা বন্টিত আত্মিক খাদ্য প্রস্তুত করায় এবং সংগঠন পরিচালনায় রত ভাইদের ইহা অন্তর্ভুক্ত করে। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) উদাহরণ স্বরূপ, যিহোবার সাক্ষীদের গভর্নিং বডির সদস্যগণ আমাদের প্রার্থনার যোগ্যতা রাখেন, এবং আমরা প্রার্থনা করতে পারি ঈশ্বর যেন তাদের “প্রজ্ঞার আত্মা” দেন।—ইফিষীয় ১:১৬, ১৭.
খ্রীষ্টিয় গুনাবলী সকল উন্নীত হয়
সহ বিশ্বাসীদের জন্য প্রার্থনার দ্বারা আমরা নিজেদের দরদী, স্বার্থহীন, এবং প্রেমপূর্ণ ব্যক্তিরূপে প্রদর্শন করি। আমাদের আত্মিক ভাই এবং বোনাদর জন্য নিঃস্বার্থ, প্রেমপূর্ণ চিন্তা “প্রেম স্বার্থ চেষ্টা করে না” পৌলের এই কথার সাথে মিলযুক্ত। (১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৫) অন্যাদর জন্য প্রার্থনা “আপনার বিষয়ে নয় কিন্তু পরের বিষয়ে লক্ষ্য” রাখার একটি পথ। (ফিলিপীয় ২:৪) যখন অন্যদের আত্মিক মঙ্গলের প্রার্থনায় আমাদের চিন্তার বিষয় করে তুলি; যীশুর শিষ্যদের সনক্তকরণ চিহ্ন ভ্রাতৃ প্রেমেও আমরা তাদের নিকটবর্ত্তী হচ্ছি মক্ষ্য করি।—যোহন ১৩:৩৪, ৩৫.
যাদের জন্য আমরা প্রার্থনা করি তাদর প্রতি সমবেদনার গুণ বৃদ্ধি লাভ করে। (১পিতর ৩:৮) তাদের স্বার্থে এবং যাতনায় অংশ গ্রহণ করে, তাদর জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে। যদি মানব দেহে এক হাত ক্ষতি গ্রস্ত হয়, অপরটি সেইটির যত্ন নেয় এবং ক্ষতের দ্বারা সংঘটিত যাতনার উপশমের চেষ্টা করে। (তুলনা করুন ১করিন্থীয় ১২: ১২, ২৬) একইভাবে যাতনা গ্রস্ত ভাই এবং বোনদের জন্য প্রর্থনা তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি বৃদ্ধি করে এবং তাদের স্মরণে রাখতে আমাদের সাহায্য করে। আমরা যদি বিশ্বস্ত সহ খ্রীষ্টানদের আমাদের প্রার্থনায় অবহেলা করি ইহা আমাদের জন্য ক্ষতিকর, কেননা ঈশ্বর এবং খ্রীষ্ট তাহাদের পরিত্যাগ করেন নাই।—১পিতর ৫:৬, ৭.
আমরা অন্যদের জন্য প্রার্থনা করলে বিবিধ গুনাবলী সকল বৃধি প্রাপ্ত হয়। অমরা তাদের প্রতি অধিক বোধ সম্পন্ন এবং ধৈর্যশীল হই। সম্ভাব্য তিক্ততা উৎপাটিত করে, আমাদের প্রেমপূর্ণ এবং আনন্দিত করায় স্থান তৈরী হয়। অন্যদের জন্য প্রার্থনা যিহোবার লোকদের মধ্যে শান্তি এবং একতাত্ত উন্নীত করে।—২ করিন্থীয় ৯:১৩, ১৪.
একে অপরের জন্য প্রার্থনা কর
একজন অন্য জনের জন্য প্রার্থনা করাতে থাকুন পৌলের মত, আমরা আমাদের জন্য প্রার্থনা করতে অন্যদের অনুরোধ করতে পারি। আমাদের সাথে প্রার্থনা করা ছাড়াও, আমাদের বন্ধুরা ঈশ্বরের কাছে আমাদের জন্য একান্তে আমাদের নাম ও সমস্যা উল্লেখকরে, এবং তাঁর সাহায্য অনুরোধ করে প্রার্থনা করাতে পারেন। আর সাহায্য আসবে, কেননা “যিহোবা ভক্তদিগকে পরীক্ষা হইতে উদ্ধার করিতে জানেন।”—২ পিতর ২:৯.
সম্ভবত আমাদের থেকে অধিক যাতনামূলক—পরীক্ষা সকল তাদের প্রার্থনায় আমাদের উল্লেখকারী যিহোবার সাক্ষীগণের উপরেও আছে। তবুও, সম্ভবত এমনকি আমাদের পক্ষে অশ্রুপাতের দ্বারা, তারা অনন্তকালীন রাজার সামনে আমাদের চিন্তা সকল বহন করে। (তুলনা করুন ২ করিন্থীয় ২:৪; ২ তীমথিয় ১:৩, ৪) এই কারণে আমাদের কত কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত! অতএব, উপলদ্ধি এবং অন্যান্য কারণে আসুন আমরা এক জন অন্য জনের জন্য প্রার্থনা করি।