ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯১ ১০/১ পৃষ্ঠা ১৮-২৩
  • অপনি কি আপনার বিশ্বাস দ্বারা জগতকে দোষী সাব্যস্ত করেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • অপনি কি আপনার বিশ্বাস দ্বারা জগতকে দোষী সাব্যস্ত করেন?
  • ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • নোহ ঈশ্বরের সাথে চলেছিলেন
  • ঈশ্বর এই বিধিব্যবস্থাকে কেন ধ্বংস করবেন
  • নোহের দিনে যে বিচারের নমুনা স্থাপন করা হয়
  • নোহের বিশ্বাস অনুকরণ করুন রক্ষা পাওয়ার জন্য
  • নোহের সাথে আশীর্বাদর অংশীদার
  • তিনি “ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন”
    তাদের বিশ্বাস অনুকরণ করুন
  • নোহের বিশ্বাস জগৎকে দোষী করে
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • তিনি ‘আর সাত জনের সহিত রক্ষা’ পেয়েছিলেন
    ২০১৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সকলেই নোহ—তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে গমনাগমন করতেন থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারেন
    ২০০২ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
আরও দেখুন
১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯১ ১০/১ পৃষ্ঠা ১৮-২৩

অপনি কি আপনার বিশ্বাস দ্বারা জগতকে দোষী সাব্যস্ত করেন?

“বিশ্বাসে নোহ . . . আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্ম্মাণ করিলেন, এবং তদ্বারা জগৎকে দোষী করিলেন।”—ইব্রীয় ১১:৭.

১, ২. নোহের জীবন পরীক্ষা করার দ্বারা আমরা কি শিখি?

যিহোবা নোহ ও তার পরিবারকে-কেবল আটজনকে-সহায্য করেন যারা ছিল একমাত্র মনুষ্য যারা রক্ষা পেয়েছিল প্লাবন থেকে। তাদের সময়কার আর সকল মানুষের জীবন শেষ হয় যখন তিনি তাদের সেই প্লাবনে শেষ করে দেন তাদের জলময় কবরে প্রেরণ করে। সেই কারণ নোহ হচ্ছে আমাদের সকলের সাধারণ পূর্বপুরুষ, আমারা কৃতজ্ঞ তিনি যে বিশ্বাস দেখিয়ে ছিলেন তার প্রতি।

২ আমরা তার জীবন বিচার করলে অনেক কিছু শিখতে পারব। শাস্ত্র আমাদের বলে কেন ঈশ্বর তাকে অনুগ্রহ দেখান পরিত্রানের জন্য যখন তার সময়কার বেশীরভাগ সব লোক ধ্বংস হয়। এই ঐশ্বরিক রেকর্ড দেখায় যে আমাদের দিনেও এই বংশের প্রতি একইরূপ হতে চলেছে। এই সম্বন্ধে, যীশু বলেন: “তৎকালে এরূপ মহাক্লেশ উপস্থিত হইবে, যেরূপ জগতের আরম্ভ অবধি এ পর্য্যন্ত কখনও হয় নাই কখনও হইবেও না।” (মথি ২৪:২১) নোহের বিশ্বাস কে অনুকরণ করার দ্বারা, আমরা নিশ্চিত আশা রাখতে পারি এই জগত পরিস্থিতি থেকে বেঁচে যাবার।—রোমীয় ১৫:৪; তুলনা করুন ইব্রীয় ১৩:৭.

৩. যিহোবা কেন প্লাবন নিয়ে

৩ আদমের সৃষ্টি থেকে আরম্ভ করে প্লাবন পর্য্যন্ত ১,৬৫৬ বৎসর ধরে, খুব কম ব্যক্তি ছিলেন যারা ভাল কাজ করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। নৈতিকতার মান খুব নীচে নেমে যায়। “আর যিহোবা দেখিলেন, পৃখিবীতে মানুষ্যের দুষ্টতা বড়, এবং তাহার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ।” (আদিপুস্তক ৬:৫) অরাজকতা, সুখাভিলাষের প্রতি কেবল আসক্তি, এবং সেই মনুষ্য দেহধারণকারী দূতেরা যারা মনুষ্য কন্যাদের বিবাহ করে ও দৈত্যদের জন্ম দেয়, এই সব কারণগুলি ছিল কেন ঈশ্বর সেই পুরাকালের মনুষ্যজগতের উপর তাঁর বিচারআজ্ঞা নিয়ে আসেন। নোহকে, যিহোবা বলেন: “আমার গোচরে সকল প্রাণীর অন্তিমকাল উপস্থিত, কেননা তাহাদের দ্বারা পৃথিবী দৌরাত্মে পরিপূর্ণ হইয়াছে।” সমস্ত বিশ্বের সৃষ্টিকর্ত্তা, যিনি “সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা” তার ধৈর্য্যের শেষ হয়েছে।—আদিপুস্তক ৬:১৩; ১৮:২৫.

নোহ ঈশ্বরের সাথে চলেছিলেন

৪. (ক) যিহোবা নোহকে কিভাবে দেখেন, এবং কেন? (খ) যদিও ঈশ্বরের ন্যায়বিচার দাবি করে সেই মন্দ জক কি করে দোষী করতে পারি?

৪ নোহ তার দিনের লোকদের থেকে কত আলাদা ছিলেন! তিনি “যিহোবার দৃষ্টিতে আনুগ্রহ প্রাপ্ত হইলেন।. . .নোহ একজন ধার্ম্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তার সময়কার লোকদের মধ্যে তিনি দোষ বিহীন ছিলেন। নোহ ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন।” (আদিপুস্তক ৬:৮, ৯, NW) নোহ কি করে ঈশ্বরের সঙ্গে গমনাগমন করিতেন? সঠিক কাজ করে যেমন ধার্ম্মিকতার সমন্ধে প্রচার করে ও বাধ্যতায় সেই জাহাজ নির্ম্মাণ করে। তাই, যদিও সেই পূর্বকার জগত ধংস হয় কারণ তা সম্পূর্ন নষ্টামিতে পূর্ণ হয়, ঈশ্বর “তখন আর সাত জনের সহিত ধার্ম্মিকতার প্রচারক নোহকে রক্ষা করিলেন।” (২ পিতর ২:৫) হাঁ, আমাদের প্রেমময় ও ন্যায়ের ঈশ্বর, যিহোবা, দুষ্টদের সাথে ভালদের ধংস করেননি। তিনি নোহকে এক বিরাট জাহাজ নির্ম্মাণ করতে বলেন যাতে সে ও তার পরিবার বেঁচে যেতে পারে, এবং কিছু পশুপাখি, যাতে আবার পৃথিবী পরিপূর্ণ হয় প্লাবনের পরে। আর নোহ “আজ্ঞানুসারে সকল কর্ম্ম করিলেন।”—আদিপুস্তক ৬:২২

৫, ৬. শাস্ত্র নোহের ধার্মিকতা ও বিশ্বাসের কি ভাবে বর্ণনা দেয়?

৫ জাহাজ তৈয়ারী হয়ে যাবার পরে ঈশ্বর নোহকে বলেন: “তুমি সপরিবারে জাহাজে প্রবেশ কর, কেননা এই কালের লোকদের মধ্যে আমার সাক্ষাতে তোমাকেই ধার্ম্মিক দেখিয়াছি।” পৌল এই বিষয়ে এই ভাবে বলেন: “বিশ্বাসে নোহ, যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্ম্মাণ করিলেন, এবং তদ্বারা জগৎকে দোষী করিলেন ও অপনি বিশ্বাসানুরূপ ধার্ম্মিকতার আধকারী হইলেন।”—অদিপুস্তক ৭:১; ইব্রীয় ১১:৭.

৬ নোহর অপূর্ব বিশ্বাস ছিল। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন ঈশ্বর সেই বংশকে ধ্বংস করে দেবেন বলে যা বলেছিলেন। নোহের যিহোবা সম্বন্ধে সঠিক ভয় ছিল আর তিনি বাধ্যতায় ঈশ্বরের কথামত জাহাজ নির্মাণ করেন। আরও ধার্মিকতার প্রচারক হওয়ায়, নোহ অন্যদের সেই আগত ধ্বংস সম্বন্ধে বলেন। যদিও তারা তার কথা শুনেনি, তিনি সেই মন্দ জগতকে ‘তাদের ধাঁচে তাকে গড়তে দেননি।’ (রোমীয় ১২:২, ফিলিপস) বরঞ্চ, তার বিশ্বাস দ্বারা, নোহ জগতকে দোষী সাব্যস্ত করেন ও দেখান যে তা ধ্বংস হবার যোগ্য। তার বাধ্যতা প্রমাণ দেয় যে অন্যরা বাঁচতে পারত যদি তারা তার মত একই ধার্মিকতার কাজ দেখাত জীবন পরিবর্তন করে বিশ্বাসের মাধ্যমে। নোহ, প্রদর্শন করেছে যে, নিজের অসিদ্ধতা সত্বেও, ও মন্দ জগতের চাপ থাকা সত্বেও, এবং দিয়াবল থাকলেও, ঈশ্বরকে অনন্দিত করবে এমন জীবন যাপন করা সম্ভব।

ঈশ্বর এই বিধিব্যবস্থাকে কেন ধ্বংস করবেন

৭. আমরা কি করে জানি আমরা শেষের জীবিত দিনে আছি?

৭ এই ২০শ শতাব্দীর প্রতিটি দশক দুষ্টতায় নিম্নে নেমেছ। বিশেষ করে ইহা সত্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে। মানুষ এত নিচে নেমেছে অনৈতিকতায়, অরাজকতায়, দাঙ্গায়, যুদ্ধে, ঘৃণায়, স্বার্থপরতায়, এবং রক্তের অপ্রয়োগে যে যারা সঠিককে ভালবাসে তারা চিন্তা করে পরিস্থিতি এর থেকে আরও খারাপ হতে পারে কিনা। অবশ্য, বাইবেল আমাদের বংশে দুষ্টতা অতিরিক্ত বাড়বে তা ভাববাণী করে, যা আরও প্রমাণ দেয় যে আমরা “শেষ কালে” আছি।—২তিমথীয় ৩:১-৫; মথি ২৪:৩৪.

৮. অনেকে পাপের যে বোধ জ্ঞান সেই সম্বন্ধে কি বলেছে?

৮ আজ, পাপ সম্বন্ধে চিন্তা বেশীর ভাগ লোকের মানে নেই। প্রায় ৪০ বৎসর পূর্বে, পোপ পায়াস ১২ লক্ষ্য করেন: “এই শতাব্দীর পাপ হল পাপ করার যে অনুভূতি তা হারিয়ে ফেলা।” বর্ত্তমান যুগে কেও পাপ এবং অপরাধ করেছে বলে মানতে রাজী নয়। তার বইয়ে হোয়াটএভার বিকেম অফ সিন? ডাক্তার কারল মেনিজার লেখেন: “‘পাপ’ কথাটি . . . মিলিয়ে গেছে-কথাটি তার অর্থ সমেত। কেন? আর কেউ পাপ করেনা?” অনেকে ভুল ও সঠিকের মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে গেছে। আমরা এতে আশ্চর্য্য নই, কারণ যীশু এমন হবে বলেছিলেন যখন ‘তার আগমনের চিহ্ন’ বলেছিলেন হাবে “শেষ সময়ে।”—মথি ২৪:৩; দানিয়েল ১২:৪.

নোহের দিনে যে বিচারের নমুনা স্থাপন করা হয়

৯. যীশু নোহের দিনকে কি করে তার আগমনের সাথে তুলনা করেছেন?

৯ যীশু তার রাজ্যের ক্ষমতায় আসার সময় এবং নোহের দিনের সাথে তুলনা করেন, যা শুরু হয় ১৯১৪ সালে। তিনি বলেন: “বাস্তবিক নোহের সময়ে যেরূপ হইয়াছিল, মনুষ্যপুত্রের [যীশু] আগমনেও তদ্রুপ হইবে। কারণ জলপ্লাবনের সেই পূর্ববর্ত্তী কালে, জাহাজে নোহের প্রবেশ দিন পর্য্যন্ত, লোকে যেমন ভোজন ও পান করিত, বিবাহ করিত ও বিবাহিতা হইত, এবং বুঝিতে পারিল না, যাবৎ বন্যা আসিয়া সকলকে ভাসাইয়া লইয়া গেল, তেমনি মনুষ্যপুত্রের আগমনে হইবে।”—মথি ২৪:৩৭-৩৯.

১০. সাধারণত লোকে কি করে যীশুর আগমনের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির প্রতি কোন দৃষ্টি দেয় না?

১০ ঠিক নোহের দিনের মত, লোকে আজ কোন লক্ষ্যই দেয় না। তারা প্রতিদিনের কাজে ও ব্যক্তিগত স্বার্থে খুব ব্যস্ত, তারা বিশ্বাস করতে রাজী নয় যে বর্ত্তমান সময় অন্য সময় থেকে আলাদা ও তা যীশুর দেওয়া শেষের চিহ্ন। বহু বৎসর ধরে, যিহোভার সাক্ষীরা বর্ত্তমান যুগের লোকেদের বলে চলেছে যে যীশুর মশীহ রূপে রাজারূপে স্বর্গ থেকে শাসন ১৯১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে যা একই সাথে “যুগান্তের শেষের” সময়। (মথি ২৪:৩) বেশীরভাগ লোক রাজ্যের সংবাদে ট্টাটা করে, কিন্তু এও ভবিষ্যদ্বাণী করা ছিল যখন প্রেরিত পিতর লেখেন: “শেষকালে উপহাসের সহিত উপহাকেরা উপস্থিত হইবে; তাহারা আপন আপন অভিলাষ অনুসারে চলিবে, এবং বলিবে, ‘তাহার আগমনের প্রতিজ্ঞা কোথায়? কেননা যে অবধি পিতৃলোকেরা নিদ্রাগত হইয়াছেন, সেই অবধি সমস্তই সৃষ্টির আরম্ভ অবধি যেমন, তেমনই রহিয়াছে।’”—২পিতর ৩:৩, ৪.

১১. যখন মহাক্লেশ আসবে তখন কেন এই যুগের লোকদের কিছু বলার থাকবে না?

১১ সেইকারণে, আজকের বংশের লোকদের কোন অজুহাত থাকবে না যখন মহাক্লেশ শুরু হবে। কেন? কারণ বাইবেলে পুরাকালে কি হয়েছিল ঈশ্বরের ঐশিক বিচার দিনে তার নমুনা দেওয়া আছে। (যিহূদা ৫-৭) বাইবেলের যে ভাববানী তাদের সামনে পূর্ণ হচ্ছে তা প্রমাণ করে যে তারা সময়ের প্রবাহে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। এই বংশের লোকেদের কাছে যিহোবার সাক্ষীদের কাজের রের্কড রয়েছে যে তারা নোহের মত বিশ্বস্তাতা রক্ষাকারী।

১২. কি ভাবে পিতর নোহের দিনের জগত যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল তার সাথে যে আগত ধ্বংস আসছে “বর্ত্তমান কালের আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর” উপরে তার সাথে তুলনা করেন?

১২ পিতর তাদের বিষয় ব্যাখ্যা করেন। যীশুর মত, প্রেরিত দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নোহের দিনে কি হয়েছিল সেই সম্বন্ধে বলেন: “বস্ততঃ সেই লোকেরা ইচ্ছাপূর্বক ইহা ভুলিয়া যায় যে আকাশমণ্ডল, এবং জল হইতে ও জল দ্বারা স্থিতিপ্রাপ্ত পৃথিবী ঈশ্বরের বাক্যের গুণে প্রাক্কালে ছিল; তদ্বারা তখনকার জগৎ জলে আপ্লাবিত হইয়া নষ্ট হইয়াছিল। আবার সেই বাক্যের গুনে এই বর্ত্তমান কালের আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী অগ্নির নিমিত্ত সঞ্চিত রহিয়াছে, ভক্তিহীন মনুষ্যদের বিচার ও বিনাশের দিন পর্য্যন্ত রক্ষিত হইতেছে।”—২পিতর ৩:৫-৭.

১৩. যে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি আমাদের সামনে রয়েছে তা দৃষ্টিতে রেখে, পিতরের কোন উপদেশর প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার?

১৩ এই বিচার দিন যখন আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে, আমরা যেন ভ্রান্ত না হই বা ভয় না পাই উপহাসকারীদের থেকে। আমাদের তাদের ভবিষ্যৎ ভোগ করার দরকার নেই। পিতর আমাদের উপদেশ দেন: “এইরূপে যখন এই সমস্তই বিলীন হইবে, তখন পবিত্র আচার ব্যবহার ও ভক্তিতে কিরূপ হওয়া তোমাদের উচিত! ঈশ্বরের সেই দিনের আগমনের অপেক্ষা ও আকাঙ্খা করিতে করিতে সেইরূপ হওয়া চাই, যে দিনের হেতু আকাশমণ্ডল জ্বলিয়া বিলীন হইবে, এবং মূলবস্ত সকল পুড়িয়া গিয়া গলিয়া যাইবে।”—২পিতর ৩:১১-১৩.

নোহের বিশ্বাস অনুকরণ করুন রক্ষা পাওয়ার জন্য

১৪. কোন প্রশ্নগুলি আমাদের সাহায্য করে নিজেদের বিশ্লেষণ করে দেখতে?

১৪ আজ, আমরা একই চ্যালেজ্ঞের সম্মুখীন যা নোহের পরিবার হয়েছিল যারা রক্ষা পাওয়র জন্য একমাত্র সভ্য হয়েছিল। নোহের মত, যিহোবার সাক্ষীরা জগতকে দোষী করে তাদের বিশ্বাস দ্বারা যা ভাল কাজের দ্বারা সমর্থিত। কিন্তু প্রত্যেকজন নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে: ‘আমি নিজে এই ব্যাপারে কি রকম করছি? যদি মহাক্লেশ কালকে আসে, আমি কি ঈশ্বরের বিচারে রক্ষা পাবার যোগ্য? নোহের মত, যে “তৎকালীন লোদের মধ্যে ধার্ম্মিক ও সিদ্ধ ছিলেন,” আমার সাহস রয়েছে জগতের লোকদের থেকে অন্য প্রকার হবার? অথবা কখন কখন আমার মধ্যে ও জগতের লোকের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন কারণ আমি যেভাবে ব্যবহার করি, কথা বলি, ও বেশভূষা পরি?’ (আদিপুস্তক ৬:৯) যীশু তার শিষ্যদের সম্বন্ধে বলেছিলেন: “তোমরা এই জগতের নও, যেমন আমিও এই জগতের নই।”—যোহন ১৭:১৬; তুলনা করুন ১ যোহন ৪:৪-৬.

১৫. (ক) ১পিতর ৪:৩, ৪, অনুসারে আমরা আমাদের পূর্বেকার চিন্তাধারা ও আচরণ কিভাবে দেখব? (খ) যখন আমাদের পুরাতন বন্ধুরা আমাদের বিদূপ করে তখন আমাদের কি করা উচিত?

১৫ পিতর উপদেশ দেন: “কেননা পরজাতীয়দের বাসনা সাধন করিয়া, লম্পটতা, সুখাভিলাষ, মদ্যপান, রঙ্গরস পানার্থক সভা ও ঘৃণার্হ প্রতিমাপূজারূপ পথে চলিয়া যে কাল অতীত হইয়াছে, তাহাই যথেষ্ট। এ বিষয়ে তোমরা উহাদের সঙ্গে একই নষ্টামির পঙ্কের দিকে ধাবমান হইতেছ না দেখিয়া তাহারা আশ্চর্য্য জ্ঞান করিয়া নিন্দা করে।” (১পিতর ৪:৩, ৪) আপনার আগের বন্ধুরা হয়ত আপনার সম্বন্ধে খারাপ বলবে কারণ আপনি আর তাদের মত চলেন না কিন্তু ঈশ্বরের পথে চলেন। কিন্ত, নোহের মত, আপনার ভাল কাজের দ্বারা ও বিশ্বাসের দ্বারা ভদ্রতায় তাদের ভৎসনা করুন।—মীখা ৬:৮.

১৬. ঈশ্বর নোহকে কিরূপে দেখেছিলেন, কি প্রশ্ন আমাদের সাহায্য করবে আমাদের চিন্তা ও আচারণকে পরীক্ষা করতে?

১৬ ঈশ্বর নোহকে ধার্মীক ব্যক্তিরূপে গণ্য করেছিলেন। সেই বিশ্বস্ত পিতৃকূলপতি “যিহোবার দৃষ্টিতে আনুগ্রহ প্রাপ্ত হন।” (আদিপুস্তক ৬:৮) যখন আপনি আপনার চিন্তা এবং চরিত্রকে ঈশ্বরের মানের আলোতে পরীক্ষা করেন, আপনি কি মনে করেন যে তিনি আপনি যা করছেন, এবং যে যায়গাগুলিতে আপনি যান তাতে খুশী? আপনি কি কখন কখন নোংরা যে আমোদ প্রমোদ আছে তাতে অংশ নেন, যা আজ খুব প্রচলিত? ঈশ্বরের বাক্য আমাদের বলে আমরা যেন সব সময় শুদ্ধ, উপকারী, এবং যা গড়ে তুলে এমন বিষয়ে অংশ নিই। (ফিলিপীয় ৪:৮) আপনি নিয়মিত বাইবেল অধ্যয়ন করছেন যাতে আপনার ‘নির্ণয় করার যে ক্ষমতা তাকে তৈয়ারী করতে পারেন যাতে তা ভাল ও মন্দের মধ্যে বিচার করতে পারে’? (ইব্রীয় ৫:১৪) আপনি কি ভাল সাথীদের পচ্ছন্দ করেন এবং ঈশ্বরের লোকদের সাথে মেলামেশা করতে ভালবাসেন যারা যিহোভার সেবক তাদের সাথে খ্রীষ্টীয় সভায় ও অন্য উপলক্ষে?—১করিন্থীয় ১৫:৩৩; ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫; যাকোব ৪:৪.

১৭. যিহোবার সাক্ষী হিসাবে, আমরা কি করে নোহের মত হতে পারি?

১৭ সেই জাহাজ শেষ করার পর, শাস্ত্র আমাদের বলে: “তাহাতে নোহ সেইরূপ করিলেন, ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারেই সকল কর্ম্ম করিলেন।” (আদিপুস্তক ৬:২২) সেই ঈশ্বরীয় ব্যক্তি যিহোবার বিষয় বলার জন্য সর্বদা উৎসাহী ছিলেন। নোহের মতো আপনিও যা সত্য তা বলার জন্য এক দৃঢ় প্রত্যয় বিশিষ্ট ব্যক্তি হতে পারেন যা সত্য তার জন্য এবং ধার্মিকতার প্রচারক হতে পারেন। এই মন্দ জগতের শেষ যে সন্নিকট তা প্রচার করতে ধৈর্য্য দেখিয়ে যান, যদিও খুব অল্প লোক শুনবে। সহ বিশ্বাসীদের সাথে একসাথে কাজ করে যান শিষ্য তৈয়ারী করার জন্য শেষ আসার পূর্বে।—মথি ২৮:১৯, ২০.

১৮. কিসের উপরে ভিত্তি করে যিহোবা, নির্ণয় করছেন কারা মহাক্লেশ থেকে বেঁচে যাবে?

১৮ একই ধার্মিক এবং ন্যায়সঙ্গত মানের ব্যবহার করে যা তিনি নোহের দিনে করেন, ঈশ্বর আজ ঠিক করছেন যে কারা সেই মহাক্লেশ থেকে রক্ষা পাবে ও কারা তাতে রক্ষা পাবেনা। যীশু এই বর্ত্তমান পৃথকীকরণের কাজকে মেষপালকের ছাগ ও মেষ ভাগ করার সাথে তুলনা করেন। (মথি ২৫:৩১-৪৬) যে ব্যক্তিরা তাদের জীবনকে স্বর্থপর চাহিদার উপর রেখেছে তারা চায়না যে এই মন্দ জগত শেষ হোক এবং তারা রক্ষা পাবে না। কিন্তু যারা এই জগতের নোংরামিতে অংশ নেয় না, যারা ঈশ্বরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, ও ঈশ্বরের রাজ্যের প্রচার করে যায়, যিহোবার আগত বিচার দিন সম্বন্ধে, তারা ঐশিক অনুগ্রহ পাবে এবং রক্ষা পেয়ে যাবে। যীশু বলেন: “তখন দুই জন ক্ষেত্রে থাকিবে, এক জনকে লওয়া যাইবে, এবং অন্য জনকে ছাড়িয়া যাওয়া হইবে। দুইটী স্ত্রীলোক যাঁতা পিষিবে, এক জনকে লওয়া যাইবে, এবং অন্য জনকে ছাড়িয়া যাওয়া হইবে।”—মথি ২৪:৪০, ৪১; ২থিষলনীকীয় ১:৬-৯; প্রকাশিতবাক্য ২২:১২-১৫.

নোহের সাথে আশীর্বাদর অংশীদার

১৯. কোন একত্র করার কাজ সম্বন্ধে যিশাইয় ও মীখা ভাববাণী করেছিলেন যা শেষ দিনে হবে?

১৯ তাদের প্রায় একই ধরনের ভবিষ্যদ্বানীতে যিশাইয় ও মীখা উভয়ে বর্ণনা করেন যে শেষের দিনে কি ঘটবে। তারা তা দেখেন যা আজকে আমরা ঘটছে দেখি—এক স্রোত যা হল ধার্মিক ব্যক্তিদের যারা পুরাতন জগত থেকে বেরিয়ে আসছে এবং রূপক পর্বতে সত্য উপাসনায় আসছে। অন্যদের তারা তাদের আমন্ত্রণ দেয়: “চল, আমরা যিহোভার পর্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব।” (যিশাইয় ২:২, ৩; মীখা ৪:১, ২) আপনি কি এই আনন্দিত লোকের দলের সাথে হাঁটছেন?

২০. যারা তাদের বিশ্বাস দ্বারা জগতকে দোষী করে তারা কি আশীর্বাদ উপভোগ করবে?

২০ যিশাইয় ও মীখা যে আশীর্বাদগুলি তারা ভোগ করবে যারা এই জগতকে দোষী করবে তাও বলেছেন। তাদের মধ্যে ন্যায় ও শান্তি বিরাজ করবে, আর তারা আর যুদ্ধ শিখবে না। তারা যিহোবার কাছ থেকে তাদের অধিকার পাবে “আর প্রকত্যক জন আপন আপন দ্রাক্ষালতা ও ডুমুর বৃক্ষের তলে বসিবে।” প্রত্যেককে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ মীখা দেখান যে দুইটি পথ খোলা আছে, এই বলে: “কারণ জাতিমাত্র প্রত্যেকে আপন আপন দেবের নামে চলে; আর আমরা যুগে যুগে চিরকাল আমাদের ঈশ্বর যিহোবার নামে চলিব।”—মীখা ৪:৩-৫, NW; যিশাইয় ২:৪.

২১. আপনি পৃথিবীতে অনন্তজীবনের আশীর্বাদে কি করে অংশ নিতে পারেন?

২১ শাস্ত্র পরিস্কার দেখায় যে মহাক্লেশ থেকে বাঁচতে হলে কি দরকার: দৃঢ় বিশ্বাস। নোহের এমন বিশ্বাস ছিল, কিন্তু আপনার কি এমন বিশ্বাস আছে? যদি আপনার থাকে, তাহলে আপনি “বিশ্বাসানুরূপ ধার্মিকতার অধিকারী হইলেন।” (ইব্রীয় ১১:৭) নোহ ঈশ্বরের যে বিচার আজ্ঞা তার সেই বংশের লোকদের উপরে এসেছিল তার থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। কেবল যে তিনি প্লাবনের পর ৩৫০ বৎসর বেঁচে ছিলেন তাই নয় কিন্তু পুনরুথান পাবেন চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য এই পৃথিবীত। কি অপূর্ব আশা! (ইব্রীয় ১১:১৩-১৬) আপনি এই আশায় নোহের সাথে, তার পরিবরের সাথে, ও লক্ষ লক্ষ অন্য ব্যক্তিদের সাথে যারা ধার্মিকতা ভালবাসে তাদের সাথে অংশ নিতে পারেন। কি করে? শেষ পর্য্যন্ত বিশ্বস্ত থেকে ও আপনার বিশ্বাস দ্বারা জগতকে দোষী করে। (W89 10/1)

আপনার কি স্মরণে আছে?

◻ নোহের জীবন সম্বন্ধে অধ্যয়ন করা খ্রীষ্টানদের জন্য উপকারী কেন?

◻ কি বিষয়ের প্রতি এই জগতের লোকেরা কোন ধ্যান দেয় না, যা তাদের ধ্বংসে পরিচালনা করছে?

◻ নোহের মত আমরা এই জগতকে কি করে দোষী করতে পারি?

◻ আমরা নোহের মত কি করে ধর্মিকতার প্রচারক হতে পারি?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার