ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯১ ১০/১ পৃষ্ঠা ১০-১৫
  • আপনি ঈশ্বর যা করেছেন তা কি উপলব্ধি করেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনি ঈশ্বর যা করেছেন তা কি উপলব্ধি করেন?
  • ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বিশ্বাস ও কাজ
  • জীবন প্রভাবিত করে
  • বাপ্তিস্ম গ্রহণের বাধা অতিক্রম করা
  • জাগতিক বস্তু
  • ঈশ্বরীয় কাজ ঈশ্বরের সাহায্যে
  • পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে?
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে কাজ করলে আপনি ধার্মিক হতে পারেন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৩
  • যিহোবার প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস করে চলুন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
  • আপনি কি সত্যিই সুসমাচারে বিশ্বাস করেন?
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯১ ১০/১ পৃষ্ঠা ১০-১৫

আপনি ঈশ্বর যা করেছেন তা কি উপলব্ধি করেন?

“কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, প্রতিদিন আপন শাস্তিদণ্ড তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাদ্গামী হউক।”—লূক ৯:২৩.

১. কিছু কি অপূর্ব দান ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন?

আমরা আমাদের জীবনের জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী। যদি তিনি মানুষকে সৃষ্টি না করতেন, আমরা কোনদিন জন্মাতাম না। কিন্তু ঈশ্বর জীবন অপেক্ষা আরও কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের নির্মাণ করেছেন যাতে আমরা অনেক কিছু উপভোগ করতে পারি: খাদ্যের স্বাদ, সূর্যের তাপ, সংগীতের ধুন, বসন্তের সতেজতা, প্রেমের মধুরতা। আরও অনেক কিছু, ঈশ্বর আমাদের শিখবার জন্য একটি মস্তিষ্ক দিয়েছেন। তিনি বাইবেল অনুপ্রাণিত করেন, যা আমাদের সঠিক পরিচালনা দেয়, প্রদর্শন করে কি করে আমরা আরও সুখী জীবন উপভোগ করতে পারি, এবং তার নতুন জগতে ধার্মিক পরিস্থিতিতে অনন্ত জীবনের আশা দেয়। ঈশ্বর তাঁর পবিত্র আত্মা দেন, তার স্থানীয় মণ্ডলীর সাহায্য দেন, এবং প্রেমপূর্ণ প্রাচীন পুরুষ ও মহিলারা যারা আমাদের সাহায্য করে তাঁর সেবায় দৃঢ় থাকতে।—আদিপুস্তক ১:১, ২৬-২৮; ২ তীমথিয় ৩:১৫-১৭; ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫; যাকোব ৫:১৪, ১৫.

২. (ক)ঈশ্বর আমাদের জন্য সব থেকে কি উল্লেখ যোগ্য কাজ করেছেন? (খ) কাজের মাধ্যমে কি আমরা পরিত্রাণ অর্জ্জন করতে পারি?

২ এই সকলের উপরে, ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রথমজাত পুত্রকে পাঠিয়েছিলেন আমাদের কাছ থেকে পিতা কী চান সে সম্পর্কে ও “রক্ত দ্বারা মুক্তি” দিতে তাদের সকলের জন্য যারা তা গ্রহণ করবে। (ইফিষীয় ১:৭; রোমীয় ৫:১৮) সেই পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, বলেন: “ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (যোহন ৩:১৬ কিং জেমস ভারসন) এই পরিত্রাণ যা সম্ভবপর হয়েছে মুক্তির মূল্যের মাধ্যমে তা এত উচ্চ যে কোন পথ নেই যে কেউ তা কোন কাজের মূল্যে দাবী করবে, অবশ্যই মোশির আইনের কাজের মাধ্যমে নয়। সেই কারণে, পৌল লেখেন: “ব্যবস্থার কার্য্য হেতু নয়, কেবল যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা মনুষ্য ধার্ম্মিক গণিত হয়।”—গালাতীয় ২:১৬; রোমীয় ৩:২০-২৪.

বিশ্বাস ও কাজ

৩. যাকোব বিশ্বাস ও কাজ সম্বন্ধে কি বলেন?

৩ পরিত্রাণ আসে বিশ্বাস দ্বারা, কিন্তু বিশ্বাস ও উপলব্ধি ঈশ্বর আমাদের জন্য যা করেছেন তাহা আমাদের কাজ করতে পরিচালিত করে। ইহা আমাদের পরিচালিত করবে সেইসব কাজ করতে যা আমাদের বিশ্বাস প্রদর্শন করে। যীশুর অর্ধ ভ্রাতা যাকোব লেখেন: “তদ্রুপ বিশ্বাসও কর্ম্মবিহীন হইলে আপনি একা বলিয়া তাহা মৃত।” তিনি আরও বলেন: “তোমার কর্ম্মবিহীন বিশ্বাস আমাকে দেখাও, আর আমি তোমাকে আমার কর্ম্ম হইতে বিশ্বাস দেখাইব।” যাকোব বলেন যে মন্দ দূতেরাও “বিশ্বাস করে এবং ভয়ে কাঁপে,” কিন্তু এই মন্দ দূতেরা কোন ঈশ্বরীয় কাজ করে না। অন্য দিকে অব্রাহামের, বিশ্বাস ও কর্ম্ম উভয় ছিল। “বিশ্বাস তাঁহার ক্রিয়ার সহকারী ছিল, এবং কর্ম্ম হেতু বিশ্বাস সিদ্ধ হইল।” যাকোব পুনরাবৃত্তি করেন: “কর্ম্মবিহীন বিশ্বাস মৃত।”—যাকোব ২:১৭-২৬.

৪. যারা তাকে অনুকরণ করতে চায় তাদের কি করতে হবে সেই সম্বন্ধে যীশু কি বলেন?

৪ যীশু সঠিক কাজের গুরুত্ব দেখান, এই বলে: “তদ্রুপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।” “কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, প্রতিদিন আপনার শস্তিদণ্ড তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাদগামী হউক।”a যদি আমরা নিজেদের “অস্বীকার” করি, আমরা আমাদের অনেক কিছু পছন্দ ত্যাগ করি। আমরা মেনে নিই যে আমাদের সব কিছুই ঈশ্বরের, তাই আমরা নিজেদের তার দাস হিসাবে দিয়ে দিই, তার ইচ্ছা কি তা পালন করার চেষ্টা করি, যেমন যীশু করেছিলেন।—মথি ৫:১৬; লূক ৯:২৩; যোহন ৬:৩৮.

জীবন প্রভাবিত করে

৫. (ক) পিতর বলেন কি আমাদের পুরো জীবনকে পরিচালিত করবে? (খ) কি উত্তম কাজ তিনি সুপারিশ করেন?

৫ পিতর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে খ্রীষ্টের “বহুমূল্য রক্ত” যা আমাদের জন্য পাতিত হয়েছে, তা এত মূল্যবান যে তার প্রতি আমাদের উপলব্ধি আমাদের সম্পূর্ন জীবনে পরিলক্ষিত হওয়া উচিত। প্রেরিত অনেক কিছু তালিকাভুক্ত করেছেন যা উপলব্ধি আমাদের করতে পরিচালিত করবে। তিনি উপদেশ দেন: “সমস্ত দুষ্টতা ত্যাগ কর।” “সেই পারমার্থিক অমিশ্রিত দুগ্ধের লালসা কর।” “যেন তাঁহারই গুণকীর্ত্তন কর, যিনি তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে আপনার আশ্চর্য্য জ্যোতির মধ্যে আহবান করিয়াছেন।” “সে মন্দ হইতে ফিরুক ও সদাচরণ করুক।” “যে কেহ তোমাদের অন্তরস্থ প্রত্যাশার হেতু জিজ্ঞাসা করে, তাহাকে উত্তর দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাক।” “যেন আর মনুষ্যদের অভিলাষে নয়, কিন্ত ঈশ্বরের ইচ্ছায় মাংসবাসের অবশিষ্ট কাল যাপন কর।”—১ পিতর ১:১৯; ২:১, ২, ৯; ৩:১১, ১৫; ৪:২.

৬. (ক) প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানেরা কি ভাবে তাদের বিশ্বাস দেখায়? (খ) ইহা আমাদের জন্য কি উদাহরণ স্থাপন করে?

৬ প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানরা তাদের বিশ্বাস অনুসারে জীবন যাপন করেছিলেন। ইহা তাদের জীবন ও চিন্তাধারা বদলে দেয়, এবং তাদের পরিচালিত করে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে তাদের জীবনকে মিলযুক্ত করতে। তারা দ্বীপান্তর, প্রস্তরাঘাত, প্রহার, কারাগার, এমনকি মৃত্যুও সহ্য করে তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করার পরিবর্তে। (প্রেরিত ৭:৫৮-৬০; ৮:১; ১৪:১৯; ১৬:২২; ১ করিন্থীয় ৬:৯-১১; ইফিষীয় ৪:২২-২৪; কলসীয় ৪:৩; ফিলীমন ৯, ১০) বিখ্যাত রোমীয় ঐতিহাসিক টেসিটাস, যার জন্ম হয় ৫৬ খ্রীষ্টাব্দে খ্রীষ্টানদের সম্বন্ধে বলেন যে “দিনের আলো শেষ হয়ে গেলে, তাদের রাত্রের আলো স্বরূপ প্তালানো হত।” তবুও তাদের নড়ানো যায়নি!—দ্যা এনালস, বই xv, প্যারাগ্রাফ ৪৪.

৭. কি অবস্থায় কিছু লোক তাদের নিজেদের পায়?

৭ কোন কোন মণ্ডলীতে আপনি হয়ত সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পাবেন যারা অনেক বৎসর যাবৎ সভায় যোগ দিচ্ছেন। তারা যিহোবার সংগঠনকে ভালবাসে, আর মনে করে যে তাঁর লোকেরা হচ্ছে সব থেকে ভাল লোক যাদের সংস্পর্শে তারা এসেছে, সত্য সম্বন্ধে ভাল মন্তব্য করে, বাইরের লোকের কাছে সত্যকে রক্ষা করে। কিন্তু কিছু তাদের বাধা দেয়, কিছু তাদের পেছনে টেনে রাখে। তারা কখনও সেই পদক্ষেপ নেয়নি যা ৩,০০০ ব্যক্তি পঞ্চাশত্তমীর দিনে নিয়েছিল, যে সম্বন্ধে সেই বিশ্বাসী ইথিয়পীয় জিজ্ঞাসা করেছিল, বা যে পদক্ষেপ অননিয় পৌলকে নিতে বলেন যখন সেই পূর্বের অত্যাচারী বুঝতে পারে যে যীশুই হচ্ছে সত্য মশীহ। (প্রেরিত ২:৪১; ৮:৩৬; ২২:১৬) এইরূপ ব্যক্তিদের আজ কিসের অভাব রয়েছে? কেন তারা সেই পদক্ষেপ নেয়নি যাকে বাইবেল “সৎসংবেদের নিবেদন” বলে? (১ পিতর ৩:২১) আপনি যদি নিজেকে এই পরিস্থিতিতে পান—সত্য জানেন অথচ কিছু করছেন না—তাহলে মনে করুন আপনাকে স্মরণে রেখে এই প্রবন্ধ প্রেমের সাথে তৈরি করা হয়েছে।

বাপ্তিস্ম গ্রহণের বাধা অতিক্রম করা

৮. যদি আপনি কখন ভাল ছাত্র ছিলেন না তবে এখন আপনার জন্য সব থেকে ভাল পদক্ষেপ কি হবে?

৮ কি আপনার পথের বাধাস্বরূপ? এর আগের সংখ্যার প্রবন্ধ দেখিয়েছে যে অনেকে হয়ত ব্যক্তিগত অধ্যয়নকে এক সমস্যা রূপে দেখতে পারেন। ঈশ্বর আমাদের অপূর্ব মস্তিষ্ক দিয়েছেন, আর তিনি আশা করেন যে আমরা তা ব্যবহার করব তাকে উপাসনা করতে। কিছু ব্যক্তিরা যারা লিখতে পড়তে জানত না নিজেদের প্রয়োগ করেছে যাতে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানতে পারে। আপনার সম্বন্ধে কী? যদি আপনি পড়তে জানেন, তবে কি সেই বিরয়া বাসীদের মত করে থাকেন, “প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করিতে লাগিল” দেখবার জন্য যে বাস্তবিক এইরূপ কিনা? আপনি কি সত্যের “প্রশস্ততা, দীর্ঘতা, উচ্চতা ও গভীরতা” তা পরীক্ষা করেছেন? আপনি কি ঈশ্বরের বাক্যের গভীরে প্রবেশ করেছেন? আপনি কি তা উৎসাহজনক পেয়েছেন? আপনি কি ঈশ্বরের ইচ্ছা কি তা জানবার চেষ্টা করেছেন? আপনার কি সত্যের জন্য সত্যই ক্ষুধা রয়েছে?—প্রেরিত ১৭:১০, ১১; ইফিষীয় ৩:১৮.

৯. যদি মণ্ডলীতে আপনার কারুর সাথে সমস্যা থাকে তবে সঠিক পদক্ষেপ কি হবে?

৯ অনেক সময় অনেকে পিছিয়ে পড়েন মণ্ডলীর কারো সাথে বাস্তবে বা কল্পিত কোন সমস্যা হওয়াতে কেউ কি দারুণ ভাবে আপনাকে মর্মাহত করেছেন? যীশুর উপদেশ অনুধাবন করুন: “তবে যাও যখন কেবল তোমাতে ও তাহাতে থাক, সেই দোষ তাহাকে বুঝাইয়া দাও।” (মথি ১৮:১৫) আপনি হয়ত জেনে আশ্চর্য হবেন যে সেই ব্যক্তি জানে না যে আপনি মর্মাহত হয়েছেন। কিন্তু সে যদি নাও জানে আপনি তাও ‘আপনার ভাই লাভ করতে পারেন’ যেমন যীশু বলেন। আপনি হয়ত তাকে অন্য কাউকে বিঘ্ন দেওয়া থেকে বিরত করতে পারেন। আর যখন আপনি সেই বিষয় সম্বন্ধে ভাবেন তখন আপনি কাকে সেবা করছেন—ঈশ্বরকে না সেই ব্যক্তিকে? আপনার ঈশ্বরের প্রতি প্রেম কি এতই কম যে আপনি মানুষের অসিদ্ধতা হেতু যে ভুল তাকে আপনার ঈশ্বরের প্রেমের প্রতি বাধা সৃষ্টি করতে দেন?

১০, ১১. যদি কোন গোপন পাপ আপনাকে পিছিয়ে রাখছে আপনার কি করা উচিত?

১০ গোপন কোন পাপ হয়ত একজনকে বাপ্তিস্ম নেওয়া থেকে বিরত করতে পারে। ইহা এমন কিছু হতে পারে যা আগে ঘটেছে, বা ইহা জীবনের এক ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি ইহাই আপনার সমস্যা হয়ে থাকে, তবে এখন কি সময় নয় তা ঠিক করার? (১ করিন্থীয় ৭:২৯-৩১) অনেক যিহোবার লোকদের তাদের জীবন পরিবর্তন করতে হয়েছে। বাইবেল বলে: “তোমরা মন ফিরাও, ও ফির, যেন তোমাদের পাপ মুছিয়া ফেলা হয়, যেন এই রূপে প্রভুর সম্মুখ হইতে তাপশান্তির সময় উপস্থিত হয়।”—প্রেরিত ৩:১৯.

১১ আপনি আগে যাই করে থাকুন না কেন, আপনি পরির্বতন করতে পারেন, পশ্চাতাপ করতে পারেন, এবং ঈশ্বরের ক্ষমা চাইতে পারেন। “অতএব তোমরা পৃথিবীস্থ আপন আপন অঙ্গ সকল মৃত্যুসাৎ কর, যথা, বেশ্যাগমন, অশুচিতা, মোহ, কুঅভিলাষ, . . . কেননা তোমরা পুরাতন মনুষ্যকে তাহার ক্রিয়াশুদ্ধ বস্ত্রবৎ ত্যাগ করিয়াছ,—এবং সেই নূতন মনুষ্যকে পরিধান করিয়াছ, যে আপন সৃষ্টিকর্ত্তার প্রতিমূর্ত্তি অনুসারে তত্বজ্ঞানের নিমিত্ত নূতনীকৃত হইতেছে।” আপনি আপনার জীবনকে তাঁর ইচ্ছার সাথে একমতে আনতে পারেন, শুদ্ধ বিবেক, এবং ধার্ম্মিক পরিস্থিতিতে অনন্ত জীবন উপভোগ করতে পারেন। এর জন্য যা প্রয়োজন তা করা কি সঠিক নয়?—কলসীয় ৩:৫-১০; যিশাইয় ১:১৬, ১৮; ১ করিন্থীয় ৬:৯-১১; ইব্রীয় ৯:১৪.

১২. যদি তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত শুরা পান, বা মাদক দ্রব্য শুদ্ধ বিবেকের জন্য বাধা স্বরূপ হয় তাহলে আপনার কি করা উচিত?

১২ তামাক ব্যবহার, সুরার অপব্যবহার, বা মাদক দ্রবের প্রতি আসক্তি কি শুদ্ধ বিবেক ও আপনার মধ্যে বাধাসরূপ? জীবন বিপন্নকারী অভ্যাস কি ঈশ্বরের জীবনের চমৎকার দানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে না? যদি এমন অভ্যাস আপনার বাধাস্বরূপ, তাহলে এখন সময় সেইগুলিকে ঠিক করার। এই অভ্যাসগুলির জন্য আপনার জীবন হারনো কি যুক্তিযুক্ত? পৌল বলেন: “আইস, আমরা মাংসের ও আত্মার সমস্ত মালিন্য হইতে আপনাদিগকে শুচি করি, ঈশ্বরভয়ে পবিত্রতা সিদ্ধ করি।” আপনি কি ঈশ্বরের পরিষ্কার ও ধার্ম্মিক পথকে যথেষ্টরূপে উপলব্ধি করেন তা করার জন্য?#—২ করিন্থীয় ৭:১.

জাগতিক বস্তু

১৩, ১৪. (ক) শাস্ত্র জাগতিক লক্ষ্য সম্বন্ধে কি বলে? (খ) কেন স্বর্গীয় বিষয় প্রথম স্থান দেওয়া দরকার?

১৩ আজ জগতে সাফল্যকে ও “জীবিকার দর্প” এইগুলিকে সব কিছুর আগে স্থান দেওয়া হয়। কিন্ত যীশু তুলনা করেন “সংসারের চিন্তা, এবং ধনের মায়া” হচ্ছে “কাঁটাবনের” ন্যায় যা ঈশ্বরের বাক্যকে চেপে রাখে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “বস্তুতঃ মনুষ্য যদি সমুদয় জগৎ লাভ করিয়া আপন প্রাণ হারায়, তবে তাহার কি লাভ হইবে?”—১ যোহন ২:১৬; মার্ক ৪:২-৮, ১৮, ১৯; মথি ১৬:২৬.

১৪ যীশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে ঈশ্বর ব্যবস্থা করেছেন পাখিদের খাদ্যের জন্য এবং সুন্দর কানুড় পুষ্পের সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “পক্ষিগণ হইতে তোমরা কত অধিক শ্রেষ্ঠ? . . . তবে [ঈশ্বর] তোমাদিগকে কত অধিক নিশ্চয় বিভূষিত করিবেন!” বিজ্ঞতার সাথে, যীশু বলেন “সন্দিগ্নচিত্ত হইও না” জাগতিক বিষয়ে। তিনি বলেন: “তোমরা বরং তাঁহার [ঈশ্বরের] রাজ্যের বিষয়ে সচেষ্ট হও, তাহা হইলে এই সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে।” তিনি দেখান আমরা যেন স্বর্গীয় বিষয়কে প্রথম স্থান দিই ‘কারণ যেখানে ধন সেখানে হৃদয়ও থাকিবে।’—লূক ১২:২২-৩১; মথি ৬:২০, ২১.

ঈশ্বরীয় কাজ ঈশ্বরের সাহায্যে

১৫. প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানরা কি উত্তম আদর্শ স্থাপন করে?

১৫ অন্যদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়া কি আপনার কাছে এক সমস্যা স্বরূপ মনে হয়? লজ্জা কি আপনাকে পিছু টানে? যদি তাই, তবে ইহা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের একই ধরনের অনুভব ছিল যা আমাদের আজ আছে। ঈশ্বর অনেক বিজ্ঞ ও শক্তিশালী, বিষয় মনোনয়ন করেননি “জগতিস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন, যেন, জ্ঞানবানদের লজ্জা দেন।” (১ করিন্থীয় ১:২৬-২৯, NW) শক্তিশালী ধর্ম্মীয় নেতারা এই “সাধারণ” লোকদের আদেশ করে যে তারা যেন প্রচার বন্ধ করে। খ্রীষ্টানেরা কি করে? তারা প্রার্থনা করেন। তারা ঈশ্বরের কাছে সাহস চায়, এবং তিনি তাদের তা দেন। ফলে কি হয়, তাদের সেই সংবাদ সমুদয় জগতে পূর্ণ হয় এবং সমুদয় জগতে ছেয়ে যায়!—প্রেরিত ৪:১-৪, ১৩, ১৭, ২৩, ২৪, ২৯-৩১; ৫:২৮, ২৯; কলসীয় ১:২৩.

১৬. ইব্রীয় ১১ অধ্যায় যে “বিরাট সাক্ষী মেঘ” বর্ণনা করা আছে তার থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

১৬ তাই, মানুষের ভীতি কখন আমাদের ও ঈশ্বরের সেবার মধ্যে আসতে পারে না। ইব্রীয় ১১ অধ্যায় আমাদের এক বিরাট “সাক্ষী মেঘের” কথা বলে যারা ভয় করত, মানুষকে নয়, কিন্ত ঈশ্বরকে। আমাদের ঠিক তেমন বিশ্বাস দেখান প্রয়োজন। প্রেরিত লেখেন: “অতএব এমন বৃহৎ সাক্ষীমেঘে বেষ্টিত হওয়াতে আইস, আমরাও সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক পাপ ফেলিয়া দিয়া ধৈর্য্যপূর্বক আমাদের সম্মুখস্থ ধাবনক্ষেত্রে দৌড়ি।”—ইব্রীয় ১২:১.

১৭. যিশাইয়ের মাধ্যমে ঈশ্বর কি উৎসাহ দেন?

১৭ ঈশ্বর তাঁর দাসদের দারুণভাবে সাহায্য করতে পারেন। বিশ্বের সৃষ্টিকর্ত্তা যিশাইয়কে বলেন: “যাহারা যিহোবাতে অপেক্ষা করে, তাহারা উত্তরোত্তর নূতন শক্তি পাইবে; তাহারা ঈগল পক্ষীর ন্যায় পক্ষসহকারে ঊর্দ্ধে উঠিবে; তাহারা দৌড়িলে শ্রান্ত হইবে না; তাহারা গমন করিলে ক্লান্ত হইবে না।”—যিশাইয় ৪০:৩১.

১৮. প্রচারে অংশ নেবার জন্য আপনার ভয় আপনি কি করে দূর করতে পারেন?

১৮ সাহসী ও সুখী যে সাক্ষীদের আপনি দেখেন স্থানীয় মণ্ডলীতে তারা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ উৎসাহী দাসদের সংগঠনের এক অংশ। তারা আনন্দ পায় সেই কাজের অংশী হয়ে যে কাজ সম্বন্ধে যীশু খ্রীষ্ট নিজে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এই কথাগুলিতে: “আর সর্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” যদি প্রচারে অংশ গ্রহণ করা আপনার জন্য সমস্যা উৎপন্ন করে যদিও আপনি তা করার যোগ্য, তাহলে যে সাক্ষী প্রচার কাজে ভাল সে পুরুষ বা মহিলা হোক তাদের জিজ্ঞাসা করুন না কেন যেন সাথে করে আপনাকে তারা প্রচারে নিয়ে যায়? ঈশ্বর সত্যই “ক্ষমতার অতিরিক্ত” শক্তি প্রদান করেন, আর আপনি হয়ত আশ্চর্য্য হবেন ইহা জেনে যে এই ঈশ্বরীয় সেবা সত্যই কি আনন্দের।—মথি ২৪:১৪; ২ করিন্থীয় ৪:৭; আরও দেখুন গীতসংহিতা ৫৬:১১; মথি ৫:১১, ১২; ফিলিপীয় ৪:১৩.

১৯. কি প্রচার কাজ করতে যীশু তার অনুগামীদের আদেশ করেন?

১৯ যীশু চান যারা রাজ্যের সংবাদ উপলব্ধি করে তারা যেন কাজ করে। তিনি বলেন: “অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও।”—মথি ২৮:১৯, ২০.

২০. আপনি যদি আত্মিকভাবে অগ্রসর হচ্ছেন, কি প্রশ্ন করা যুক্তি সঙ্গত হবে?

২০ ঈশ্বরের আশীর্বাদ, যীশুর “মহামূল্য রক্তের,” ও অনন্ত জীবনের সুন্দর আশা আপনার উপলব্ধি বোধকে কি কাজ করতে পরিচালিত করে না? (১ পিতর ১:১৯) আপনি কি আপনার জীবনকে ঈশ্বরের ধার্মিক চাহিদার সাথে একমতে এনেছেন? আপনি কি শিষ্য তৈরীর কাজে নিয়মিত অংশ নেন? আপনি কি নিজেকে অস্বীকার করেছেন ও নিজেকে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করেছেন? যদি এই সব প্রশ্নের উত্তর হাঁ হয়, তাহলে হয়ত সময় যে আপনি যে মণ্ডলীতে মেলামেশা করেন সেই মণ্ডলীর কোন প্রাচীনকে একই প্রশ্ন জিঞ্জাসা করুন যা সেই ইথিপিয় ফিলিপকে করেছিল: “আমার বাপ্তাইজিত হইবার বাধা কি?”—প্রেরিত ৮:৩৬.

[পাদটীকাগুলো]

a দ্যা যিরুশালেম বাইবেল “অগ্রাহ্য” করতে বলে। জে. বি. ফিলিপ্‌সের ভারশান বলে, “নিজের সম্বন্ধে সকল অধিকার ত্যাগ করা।” নিউ ইংলিস বাইবেল বলে “নিজেকে পেছনে ফেলিয়া দেওয়া।”

#এইরূপ অভ্যাস ত্যাগ করা সম্বন্ধে দেখুন দ্যা ওয়াচটাওয়ার, ফেব্রুয়ারী ১লা, ১৯৮১, পৃষ্ঠা ৩-১২; জুন ১লা, ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ৩৩৬-৪৩; আর আওয়েক! জুলাই ৮, ১৯৮২, পৃষ্টা ৩-১২; মে ২২, ১৯৮১, পৃষ্টা ৩-১১। এইগুলি যিহোবার সাক্ষীদের স্থানীয় মণ্ডলীর লাইব্রেরীতে পেতে পারেন।

আপনার কি মনে আছে?

◻ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেবার আমাদের বিশেষ কি কারণ থাকতে পারে?

◻ বিশ্বাস ও উপলব্ধি আমাদের কি করতে পরিচালিত করবে?

◻ আমাদের ও ঈশ্বরের বাধ্যতার মধ্যে কি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এরং আমরা এই সম্বন্ধে কি করতে পারি?

◻ অনেকে যারা এখনো বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেননি তারা নিজেদের কি প্রশ্ন করতে পারে?

[১৩ পৃষ্ঠার বাক্স]

‘আমি কি ধরনের “ভূমি”?’

যীশু এক উদাহরণ দেন একজন ব্যক্তি যে বীজ রোপণ করতে যায়। কিছু পথের পার্শ্বে পড়ে আর পাখিরা তা খেয়ে ফেলে। আর কতক পাষাণময় স্থানে পড়ল যেখানে বেশি মাটী নাই। এই সব অঙ্কুরিত হল, কিন্ত যখন সূর্য উঠল, তারা শুকাইয়া গেল। আর কিছু বীজ কাঁটা বনে পড়ল ও চাপা পড়ে গেল। যীশু বলেন এই তিন দল কি চিত্রিত করে: প্রথম, যে ব্যক্তি “রাজ্যের বিষয় শুনে কিন্তু তার অর্থ বুঝে না”; দ্বিতীয় জন, যে বাক্য গ্রহণ করে কিন্তু তার যে তাপপ্রযুক্ত “তাড়না অথবা কষ্ট হেতু” সরে যায়; আর তৃতীয়, এই ব্যক্তির জন্য “সংসারের চিন্তা, ধনের মায়া ও অন্যান্য বিষয়ের চিন্তা চাপিয়া ফলহীন করে”

কিন্তু যীশু ভাল ভূমিতে যে বীজ পড়ে সেই সম্বন্ধেও বলেন: “যাহারা সেই বাক্য শুনিয়া গ্রাহ্য করে, ও ফল দেয়।”—মথি ১৩:৩-৮, ১৮-২৩.

ভাল হবে নিজেদের জিজ্ঞাসা করা: ‘আমি কি ধরণের “ভূমি?”’

[১৪ পৃষ্ঠার বাক্স]

তারা তাদের বিশ্বাসের জন্য মৃত্যু বরণ করে

আপনি কাউকে কি চেনেন বিশ্বাস ভঙ্গ করার থেকে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করে? সহস্র সহস্র যিহোবার সাক্ষীরা এইরূপ করেছে। দ্যা নাজি ষ্টেট অ্যাণ্ড দ্যা নিউ রিলিজিয়ানস: ফাইভ কেস ষ্টাডিস ইন নন-কনফরমিটি, বইয়ে ডাক্তার. খ্রীষ্টীন ই. কিং লেখেন: “প্রত্যেক দুইজন জার্ম্মান সাক্ষীর মধ্যে একজন কারাগারে যায়, আর চারজনের মধ্যে একজন তার প্রাণ হারায়।”

যখন এই ক্যাম্প গুলির ভীতি শেষ হয় ১৯৪৫ সালে, “সাক্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তারা কোন আপোষ করেনি।” দ্যা নাজিজ পারসিকিউসন অফ দ্যা চারচেস, বইয়ে জে. এস. কনওয়ে লেখেন সাক্ষীদের সম্বন্ধে: “আর কোন দল এত দৃঢ়তা প্রর্দ্দশন করেনি গেষ্টাপো ভীতির সামনে।”

যিহোবার সাক্ষীরা এই জন্য তাড়িত হননি তাদের রজিনৈতিক দলভুক্ততার জন্য বা জাতির জন্য। বরঞ্চ, তারা তাড়িত হন তাদের ঈশ্বরের প্রতি প্রেম প্রযুক্ত ও তাদের বাইবেল দ্বারা শিক্ষিত বিবেকের আদেশ ভঙ্গ না করার জন্য।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার