ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯১ ১১/১ পৃষ্ঠা ১০-১৫
  • ধার্ম্মিকতা মৌখিক পরম্পরাগত প্রথার মাধ্যমে নয়

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ধার্ম্মিকতা মৌখিক পরম্পরাগত প্রথার মাধ্যমে নয়
  • ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • দুই ধরণের ধার্ম্মিকতা
  • “মনুষ্যের সাক্ষাতে ধার্ম্মিকতা” যথেষ্ট নয়
  • “তোমরা শুনিয়াছ পূর্বকালীয় লোকদের নিকটে উক্ত হইয়াছিল”
  • রাজ্য ও ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করতে থাকুন
    ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • মৌখিক নিয়ম—কেন এগুলো লেখা হয়েছিল?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “আমার কাছে শিক্ষা কর”
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বাক্যের কার্য্যকারী হোন, কেবল শ্রোতামাত্র নহে
    ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯১ ১১/১ পৃষ্ঠা ১০-১৫

ধার্ম্মিকতা মৌখিক পরম্পরাগত প্রথার মাধ্যমে নয়

“কেননা আমি তোমাদিগকে কহিতেছি অধ্যাপক ও ফরীশীদের অপেক্ষা তোমাদের ধার্ম্মিকতা যদি অধিক না হয়, তবে তোমরা কোন মতে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে না।”—মথি ৫:২০।

১, ২. যীশু তার পার্বত্য উপদেশে দেবার পূর্বে কি হয়?

যীশু তার রাত্রি যাপন করেন পর্বতে। তার মাথার উপরে তারকাময় আকাশ বিস্তারিত রয়েছে। আর ছোট নিশাচর প্রাণীদের শব্দ ঝোপগুলি থেকে শোণা যাচ্ছে। গালীল সমুদ্রের জল পূর্বদিকের তীরে এসে আছড়ে পড়ছে। কিন্তু যীশু কেবল মৃদুভাবে তার চারিপাশ এই শন্তিময়, সুন্দর পরিবেশ সম্বন্ধে অবহিত আছেন। তিনি সমস্ত রাত্রি ব্যয় করেছেন তার পিতা যিহোবার কাছে, প্রার্থনায়। তার পিতার পরিচালনা তার খুব প্রয়োজন। কারণ তার পরের দিন ছিল প্রামাণিক।

২ পূর্বদিকের আকাশ আলোকিত হল। পাখিরা উড়তে ও আস্তে আস্তে আওয়াজ করতে শুরু করে। আর বনফূলগুলি হাওয়ায় দুলতে থাকে। যেই সূর্য্যের প্রথম কিরণ দিগন্তে দেখা দেয়, যীশু তার শিষ্যদের ডাকলেন এবং তাদের মধ্যে থেকে ১২ জনকে মনোণীত করলেন। এরপর, তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পর্বত থেকে নামতে লাগলেন। এরই মধ্যে দেখা যেতে লাগল যে বিরাট ভিড় গালীল, সোর ও সীদোন, যিহৃদা এবং যিরূশালেম থেকে আসছে। তারা আসছে তাদের ব্যাধি থেকে আরোগ্য পাওয়ার জন্য। যিহোবার শক্তি যীশুর নিকট থেকে বের হয়েছিল কারণ অনেকে তাকে স্পর্শ করার দ্বারা আরোগ্য লাভ করছিলেন। তারা তার কথাও শুনতে এসেছিল যা তাদের ব্যথিত প্রাণের জন্য আরোগ্যকারী ঔষধের ন্যায় ছিল।—মথি ৪:২৫; লূক ৬:১২-১৯.

৩. কেন শিষ্যরা ও সেই বিরাট জনতা আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে যখন যীশু কথা বলতে আরাম্ভ করেন?

৩ রব্বিরা যখন তাদের রীতিসিদ্ধ প্রথা অনুযায়ী শিক্ষা দিতেন, তারা স্বাধারণতঃ বসে তা দিতেন, আর ৩১ খ্রীষ্টাব্দের এই বিশেষ বসন্তের সকালে পর্বতের এক উচু সমতল স্থানে যীশু ঠিক তাই করলেন। যখন তার শিষ্যরা এবং সেই বিরাট জনতা তা দেখলেন, তারা বুঝতে পারলেন বিশেষ কিছু ঘটতে চলেছ, তাই উৎসুক হয়ে তারা তার চারিপাশে একত্র হলেন। যখন তিনি কথা বলতে লাগলেন, তারা মনোযোগ সহকারে তা শুনলেন; কিছু পরে যখন তিনি কথা বলা শেষ করেন, তারা যা শুনেছিলেন তাতে আশ্চর্য্য বোধ করলেন। আসুন দেখি কেন।—মথি ৭:২৮.

দুই ধরণের ধার্ম্মিকতা

৪. (ক) কি দুই ধরণের ধার্ম্মিকতার উপরে বিচার হয়? (খ) পরম্পরাগত রীতির কি উদ্দেশ্য ছিল, এবং তা কি বাস্তবে উপলব্ধি করা গিয়েছিল?

৪ তার পার্বত্য উপদেশে, যা আমরা পাই উভয় পুস্তকে মথি ৫:১–৭:২৯ এবং লূক ৬:১৭-৪৯, যীশু দুই শ্রেনীকে তুলনা করেন: ফরীশী ও শদূকীদের এবং যে সাধারণঃ লোকদের তারা পীড়ন করত তাদের। তিনি দুই ধরনের ধার্ম্মিকতার কথাও বর্ণনা করেন; যাহল ফরীশীদের কপট ধার্ম্মিকতা ও ঈশ্বরের সত্য ধার্ম্মিকতা। (মথি ৫:৬, ২০) ফরীশীদের যে আত্ম ধার্ম্মিকতা তার মূলে ছিল মৌখিক পরম্পরাগত প্রথা। যা শুরু হয় দ্বিতীয় খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে, যা “এক বেড়া স্বরূপ ছিল আইনের চারিদিকে” যাতে গ্রীক রীতিনীতি প্রবেশ করতে না পারে। এইগুলিকে আইনের এক অঙ্গ ধরা হয়। বাস্তবপক্ষে অধ্যাপকেরা এই মৌখিক পরাম্পরাগত প্রথাকে লিখিত আইনের উপর স্থান দেয়। দ্যা মিসনাহ বলে: “বেশী কঠোরতার সাথে অধ্যাপকরা মৌখিক কথা পালন করতে হবে [মৌখিক পরম্পরাগত প্রথা] লিখিত আইনের কথাগুলি পালন করা অপেক্ষা।” সেই কারণে, “আইকে রক্ষাকারী বেড়া” হওয়ার পরির্বত্তে, তাদের পরম্পরাগত প্রথা আইনকে দুর্বল করে ও বাতিল করে যেমন যীশু বলেন: “তোমাদের পরম্পরাগত বিধি পালনের নিমিত্ত তোমরা ঈশ্বরের বাক্য বিলক্ষন অমান্য করিতেছ।”—মার্ক ৭:৫-৯; মথি ১৫:১-৯.

৫. (ক) যে সাধারণ লোকেরা যীশুর কথা শুনতে আসে তাদের অবস্থা কিরূপ ছিল, অধ্যাপকরা ও ফরীশীরা তাদের কি ভাবে দেখত? (খ) কেন পরম্পরাগত বিধি কর্ম্মেরত লোকেদের কাঁধে এক ভারসরূপ ছিল?

৫ যে সাধারণ লোকেরা যীশুর কথা শোনার জন্য একত্র হোত তারা ছিল আত্মিক ভাবে দরিদ্র, “তাহারা ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন ছিল, যেন পালক বিহীন মেষপাল।” (মথি ৯:৩৬) উদ্ধত হয়ে ও গর্বে অধ্যাপকরা ও ফরীশীরা তাদের ঠাট্টা করে তাদের অ্যাম. হা. আ‘ রেটস (দেশের লোক) বলে ডাকত, ও অবজ্ঞা করত, অজ্ঞ, যারা অভিশপ্ত পাপী এবং যাদের পুনরুত্থানের কোন আশা নেই কারণ তারা মৌখিক পরম্পরাগত যে প্রথা তা পালন করেনা। যীশুর সময় এই পরম্পরাগত প্রথাগুলি এমন দীর্ঘ ও খুটিনাটি বিষয়ের উপর নিয়ম ছিল— যার সাথে অনেক সময়গ্রাহী পিড়নমূলক রীতিনীতি যুক্ত ছিল—যা কর্ম্মে রত লোকের পক্ষে রাখা সম্ভব ছিল না। সেই জন্য আশ্চর্য্য হবার নয়, কেন যীশু এই পরম্পরাগত প্রথাকে ‘মানুষ্যের কাঁধে বিরাট বোঝাস্বরূপ’ বলে বর্ণনা করেন।—মথি ২৩:৪; যোহন ৭:৪৫-৪৯.

৬. যীশুর প্রাথমিক কথাগুলি এত বিস্মময়কর কেন ছিল, এবং তা তার শিষ্য ও অধ্যাপক এবং ফরীশীদের সম্বন্ধে কি পরিবর্ত্তন বোঝায়?

৬ সেইকারণে যখন যীশু সেই পর্বতের গায়ে বসেন, যারা তার নিকটে আসে শোনার জন্য তারা হল তার শিষ্যরা ও আত্মিক ভাবে ক্ষুধিত জনতা। তারা নিশ্চয় তার প্রাথমিক কথায় বিস্মৃত হয়। ‘ধন্য যাহারা দীনহীন, ধন্য যাহারা ক্ষুধিত, ধন্য যাহারা রোদন করে ধন্য যাহারা তাড়িত।’ কিন্তু কে সুখী হতে পারে যখন সে দীনহীন, ক্ষুধিত, রোদন করছে ও তাড়িত? আর যারা ধনী, ভাল খাদ্য খাচ্ছে, হাঁসছে, এবং যাদের খুব কদর করা হয় তাদের জন্য হায়! (লূক ৬:২০-২৬) কেবল কয়েকটি কথায়, যীশু যে রীতিগত মান তা বদলে দেন এবং মানুষ্যের যে মান তা গ্রহন করেন। ইহা অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন, যীশুর পরবর্ত্তি কথার সাথে মিল রেখে: “কেননা যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে তাহাকে নত করা যাইবে; কিন্তু যে আপনাকে নত করে, তাহাকে উচ্চ করা যাইবে।”—লূক ১৮:৯-১৪.

৭. যীশু যে প্রাথমিক কথাগুলি বলেন তা আত্মিকভাবে ক্ষুধিত জনতার উপর কি প্রভাব ফেলে?

৭ অধ্যাপক ও ফরীশীদের মতন আত্ম-তুষ্ট না হয়ে, যারা সেই বিশেষ সকালে যীশুর কাছে এসেছিল তারা তাদের আত্মিক করুণ পরিস্থিতি সম্বদ্ধে সচেতন ছিল। তার প্রথম মন্তব্য নিশ্চয় তাদের আশায় পরিপূর্ণ করে: “ধন্য যাহারা আত্মিক বিষয়ে সচেতন, কারণ স্বর্গ রাজ্য তাহাদেরই।” (NW) আর তাদের আত্মা কি উৎসাহী না হয় যখন তিনি যোগ দেন: “ধন্য যাহারা ধার্ম্মিকতার জন্য ক্ষুধিত ও তৃষিত, কারণ তাহারা পরিতৃপ্ত হইবে!” (মথি ৫:৩, ৬; যোহন ৬:৩৫; প্রকাশিত বাক্য ৭:১৬, ১৭) হাঁ, ধার্ম্মিকতায় পূর্ণ, কিন্তু ফরীশীদের ধারায় নয়।

“মনুষ্যের সাক্ষাতে ধার্ম্মিকতা” যথেষ্ট নয়

৮. কেউ কেউ কেন চিন্তা করতে পারেন যে কি করে তাদের ধার্ম্মিকতা অধ্যাপক ও ফরীশীদের থেকে অধিক হতে পারে, তবুও কেন তা হওয়া উচিত?

৮ “অধ্যাপক ও ফরীশীদের অপেক্ষা তোমাদের ধার্ম্মিকতা যদি অধিক না হয়,” যীশু বলেন, “তবে তোমরা কোন মতে স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করিতে পাইবে না।” (মথি ৫:১৭-২০; দেখুন মার্ক ২:২৩-২৮; ৩:১-৬; ৭:১-১৩) কেহ কেহ হয়ত চিন্তা করেন: ‘ফরীশীদের থেকে আরও ধার্ম্মিক? তারা উপবাস করে এবং প্রার্থনা করে দশমাংশ দেয় ও দরিদ্রদের দান দিয়ে থাকে এবং তাদের জীবন ব্যয় করে আইন সম্বন্ধে শিখতে। কি করে আমাদের ধার্ম্মিকতা তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারে?’ তাদের অধিক করতে হবে। ফরীশীদের হয়ত লোকে খুব উচ্চে ধরে রাখত, কিন্তু ঈশ্বর তাদের সেইভাবে দেখতেন না। আরেক ক্ষেত্রে যীশু এই ফরীশীদের বলেন: “তোমরাই ত মনুষ্যদের সাক্ষাতে আপনাদিগকে ধার্ম্মিক দেখাইয়া থাক, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের অন্তঃকরণ জানেন, কেননা মনুষ্যদের মধ্যে যাহা উচ্চ, তাহা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ঘৃণিত।”—লূক ১৬:১৫.

৯-১১. (ক) একটি কি উপায়ে অধ্যাপক ও ফরীশীরা ভেবেছিল যে তারা ঈশ্বরের সামনে ধার্ম্মিক গনিত হবে? (খ) দ্বিতীয় কোন উপায়ে তারা ধার্মিক গণিত হতে চেয়েছিল? (গ) তৃতীয় কোন উপায়ের উপর তারা নির্ভর করে, এবং প্রেরিত পৌল কি বলেন যা দেখায় ইহা অকৃতকার্য হবে?

৯ রব্বিরা তাদের নিজের আইন স্থাপন করে ধার্ম্মিকতা লাভের জন্য। একটি ছিল অব্রাহামের বংশ হওয়ার কারণে: “যারা অব্রাহামের আমাদের পিতার শিষ্য তারা এই জগতকে উপভোগ করে এবং যে জগত আসছে তার উত্তরাধিকারী হবে।” (মিসনাহ) সম্ভবত এই পরম্পরাগত রীতির বিপক্ষতা করে যোহন বাপ্তাইজক যে ফরীশীরা তার নিকট আসে তাদের সাবধান করেন: “অতএব মনপরির্বত্তনের ফলে ফলবান হও। আর ভাবিও না যে, তোমরা মনে মনে বলিতে পার, ‘অব্রাহাম আমাদের পিতা [যেন তাহাই যথেষ্ট ছিল]।’”—মথি ৩:৭-৯; আরও দেখুন যোহন ৮:৩৩, ৩৯.

১০ দ্বিতীয় যে পথে ধার্ম্মিকতা পাওয়া যেতে পারে, তারা বলে, তা হচ্ছে দরিদ্রদের দান দিয়ে। দুইটি অপ্রামাণিক বই যার লেখকের নাম জানা নেই কিন্তু ভক্তিমান যিহূদীদের দ্বারা দ্বিতীয় খ্রীষ্টাপূর্বাব্দে লেখা, তাদের পরম্পরাগত যে দৃষ্টিভঙ্গি তার উপর আলাকপাত করে। একটি উক্তি পাওয়া যায় টোবিটে: “দরিদ্রদের দান একজনকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করে ও তার সব পাপকে ক্ষমা করে দেয়।” (১২:৯ দ্যা নিউ অ্যামেরিকান বাইবেল) সিরাকের বই (ইকলেসিয়াসটিকাস) এই সম্বদ্ধে একমত: “জল জ্বলন্ত অগ্নিকে নিভিয়ে দেয়, আর দরিদ্রদের দান পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করে।”—৩:২৯, NAB.

১১ তৃতীয় যে উপায়ে তারা ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করে তাহল আইনের কাজের মাধ্যমে। তাদের মৌখিক পরম্পরাগত বিধি শিক্ষা দেয় যে যদি মানুষের কাজগুলি বেশীরভাগ ভাল হয়, সে রক্ষা পাবে। বিচার “সেই অনুসারে হয় যে তার কাজ অতি ভাল না খুব খারাপ।” (মিসনাহ) বিচারে অনুকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়াবার জন্য, তাদের চিন্তা ছিল “সেই যোগ্যতাগুলি অর্জ্জন করা যা পাপকে অতিক্রম করবে।” যদি একজন ব্যক্তি যে খারাপ কাজ করেছে তা একটি ভাল কাজের দ্বারা এগিয়ে থাকে, সে রক্ষা পাবে—যেন ঈশ্বর তাদের নগণ্য সব কাজের হিসাব রাখেন! (মথি ২৩:২৩, ২৪) তাদের এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গিকে শুদ্রে দেবার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, পৌল লেখেন: “যেহেতু ব্যবস্থার কার্য্য দ্বারা কোন প্রাণী তাঁহার সাক্ষাতে ধার্ম্মিক গণিত হইবে না।” (রোমীয় ৩:২০) অবশ্যই, খ্রীষ্টানদের ধার্ম্মিকতা অধ্যাপকদের ও ফরীশীদের থেকে অধিক হতে হবে!

“তোমরা শুনিয়াছ পূর্বকালীয় লোকদের নিকটে উক্ত হইয়াছিল”

১২. (ক) তার পার্বত্য উপদেশে যীশু যখন ইব্রীয় শাস্ত্রের ঈপর মনযোগ করাণ তার উক্তি কেন তার সাধারণভাবে তিনি যে উক্তি করতেন সেইরূপছিল না, এবং কেন? (খ) তিনি যে ছয়বার “তোমরা শুনিয়াছ” বলে শুরু করেন তার থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

১২ যখন যীশু এর আগে তাদের কাছে ইব্রীয় শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃত করেন, তিনি বলেন: “লেখা আছে।” (মথি ৪:৪, ৭, ১০) কিন্তু তার পার্বত্য উপদেশে, তিনি ছয়বার যা মনে হয় ইব্রীয় শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি তিনি পরিচয় করান এই কথার দ্বারা: “তোমরা শুনিয়াছ”। (মথি ৫:২১, ২৭, ৩১, ৩৩, ৩৮, ৪৩) কেন? কারণ তিনি সেই শাস্ত্রীয় পদগুলির দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করছিলেন যার ব্যাখ্যা করা হত ফরীশীদের যে পরম্পরাগত বিধি ছিল যা ঈশ্বরের আজ্ঞার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় তার আলোয়। (দ্বিতীয় বিবরণ ৪:২; মথি ১৫:৩) আর ইহা স্পষ্ট হয় যীশুর এই অনুক্রমের ষষ্ট ও শেষ উক্তিতে: “তোমরা শুনিয়াছ উক্ত হইয়াছিল, ‘তোমার প্রতিবাসীকে প্রেম করিবে, এবং তোমার শত্রুকে দ্বেষ করিবে।’” কিন্ত মোশির আইন বলেনি, “তোমার শক্রকে দ্বেষ করিবে।” অধ্যাপক ও ফরীশীরা তা বলেছে। তাহা ছিল তাদের ব্যাখ্যা সেই আইনের যা বলে তোমার প্রতিবাশীকে প্রেম করিবে—তোমার যিহৃদী প্রতিবাশীকে, আর কাউকে নয়।

১৩. কি ভাবে যীশু সেই ব্যবহার শুরু করতেও মানা করেন যা হত্যায় পরিচালিত করতে পারে?

১৩ আসুন বিবেচনা করি এই অনুক্রমের ছয়টি উক্তির প্রথমটি। যীশু ঘোষণা করেন: “তোমরা শুনিয়াছ, পূর্বকালীয় লোকদের নিকটে উক্ত হইয়াছিল, ‘তুমি নরহত্যা করিও না, আর যে নরহত্যা করে, সে বিচারের দায়ে পড়িবে।’ কিন্ত আমি তোমাদিগকে বলিতেছি যে কেহ আপন ভ্রাতার প্রতি ক্রোধ করে, সে বিচারের দায়ে পড়িবে।” (মথি ৫:২১, ২২) অন্তরে ক্রোধ একজনকে খারাপ কথাবার্ত্তা বলতে পরিচালিত করতে পারে আর সেখান থেকে দোষারোপ মূলক বিচারে, আর তারপর তা পরিচালনা করতে পারে হত্যায়। অনেক সময় ধরে হৃদয়ে ক্রোধ পুষে রাখা দারুন মরাত্মক হতে পারে: “যে কেহ আপন ভ্রাতাকে ঘৃণা করে সে নরঘাতক।”— ১ যোহন ৩:১৫.

১৪. যীশু কিভাবে উপদেশ দেন সেই পথে চলা শুরু না করতে যা ব্যভিচারে পরিচালনা করে?

১৪ এরপর যীশু বলেন: “তোমারা শুনিয়াছ উক্ত হইয়াছিল, ‘তুমি ব্যভিচার করিও না।’ কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টি করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সাথে ব্যভিচার করিল।” (মথি ৫:২৭, ২৮) আপনি ব্যভিচার করতে চান না? তাহলে সেই পথে হাঁটা শুরু করবেন না সেই সম্বন্ধে চিন্তা করে। আপনার হৃদয়কে রক্ষা করুন, যেখানে থেকে এই সব বিষয় উৎপত্তি হয়। (হিতোপদেশ ৪:২৩; মথি ১৫:১৮, ১৯) যাকোব ১:১৪, ১৫ আমাদের সবধান করে: “কিন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কামনার দ্বারা আকর্ষিত ও প্ররোচিত হইয়া পরীক্ষিত হয়। পরে কামনা সর্গভা হইয়া পাপ প্রসব করে, এবং পাপ পরিপক্ক হইয়া মৃত্যুকে জন্ম দেয়।” লোকেরা কখন কখন বলে থাকে: ‘যা শেষ করতে পারবে না তা শুরু করবে না।’ কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা বলব: ‘যা আপনি বন্ধ করতে পারবেন না তা শুরু করবেন না।’ অনেক ব্যক্তিরা যারা বন্ধুকের গুলির সামনে তাদের বিশ্বস্ততা রক্ষা করেছেন পরে তাদের পতন ঘটেছে কপট যৌন অনৈতিকতার ফাঁদে।

১৫. যীশু বিবাহ বিচ্ছেদ সম্বন্ধে যা বলেন তা কি করে যিহৃদীদের পরম্পরাগত বিধী থেকে একেবারে আলাদা?

১৫ এইবার আমরা যীশুর তৃতীয় উক্তিতে আসি। তিনি বলেন: “আর উক্ত হইয়াছিল, ‘যে কেহ আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে, সে তাহাকে ত্যাগপত্র দিউক।’ কিন্তু আমি তেমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ ব্যভিচার ভিন্ন অন্য কারণে আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে, সে তাহাকে ব্যভিচারিণী করে, আর যে কেহ সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিবাহ করে [যাকে ব্যভিচার দোষ ছাড়া অন্য কোন দোষে পরিত্যাগ করা হয়েছে] সে ব্যভিচার করে।” (মথি ৫:৩১, ৩২) কিছু যিহৃদীরা তাদের স্ত্রীদের সাথে ছলপূর্বক ব্যবহার করত এবং তাদের যে কোন অজুহাত দেখিয়ে তাদের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করত। (মালাখি ২:১৩-১৬; মথি ১৯:৩-৯) মৌখিক পরম্পরাগত বিধি একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করার অনুমতি দিত যদি সে “তার খাবার খারাপ করে দেয়” অথবা “সে যদি তার থেকে আরও সুন্দরী কাউকে দেখতে পায়।”— মিশনাহ.

১৬. কেন যিহৃদীদের দিব্য করা ছিল অর্থহীন, যীশু এই ব্যপারে কি মান গ্রহণ করেন?

১৬ একইভাবে, যীশু বলে চলেন: “আবার তোমরা শুনিয়াছ, পূর্বকালীয় লোকদের নিকট উক্ত হইয়াছিল, ‘তুমি মিথ্যা দিব্য করিও না . . . কিন্ত আমি তোমাদিগকে বলিতেছি: কোন দিব্যই করিও না।” এই সময় যিহৃদীরা তুচ্ছ বিষয়গুলি নিয়ে দিব্য দিত এবং সেগুলি কিছুই সম্পাদন করত না। কিন্তু যীশু বলেন: “কোন দিব্যই করিও না . . . তোমার হাঁ, হাঁ হউক না, না হউক।” তার নিয়ম খুব সহজ ছিল: সর্বদা সত্যবাদী হও, তাতে কোন দিব্য দেওয়ার দ্বারা সেই কথার সত্যতা প্রমানের দরকার হবে না। দিব্য গরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য তুলে রাখ।—মথি ৫:৩৩-৩৭; তুলনা করুন ২৩:১৬-২২.

১৭. “চক্ষুর পরিশোধ চক্ষু দন্তের পরিশোধে দন্ত” এর চেয়ে ভাল কি শিক্ষা যীশু দেন?

১৭ যীশু এরপর বলেন: “তোমরা শুনিয়াছ উক্ত হইয়াছিল, ‘চক্ষুর পরিশোধে চক্ষু ও দন্তের পরিশোধে দন্ত।’ কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি: তোমারা দুষ্টর প্রতিরোধ করিও না, বরং যে কেহ তোমার দক্ষিণ গালে চড় মারে, অন্য গাল তাহার দিকে ফিরাইয়া দাও।” (মথি ৫:৩৮-৪২) যীশু এখানে যে চড়ের কথা বলদুছন তা আঘাত করার অভিপ্রায় নিয়ে নয় কিন্তু একজনকে অপমান করার জন্য হাতের পেছন দিক দিয়ে যে চড় মারা হয় তার কথা বলদুছন। এইরূপ অপমান বোধ করে নিজেকে ছোট করবেন না মন্দের পরিশোধে মন্দ করিও না। কিন্তু, ভাল কর এবং তার মাধ্যমে “উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাজয় কর।”—রোমীয় ১২:১৭-২১.

১৮. (ক) যিহৃদীরা প্রতিবাশীকে প্রেম করা সম্বন্ধে আইন তার কি পরিবর্ত্তন করে, যীশু কি করে তার খণ্ডন করেন? (খ) একজন আইনবিদ যখন “প্রতিবাশী” এর ব্যবহারকে সীমিত করতে চায় যীশু তাকে কি উত্তর দেন?

১৮ যষ্ঠ ও শেষ উদাহরণে, যীশু পরিষ্কার করে দেখান কিভাবে মোশীর আইন দুর্বল হয়ে পড়ে রব্বিদের পরম্পরাগত রিতীর জন্য: “তোমরা শুনিয়াছ উক্ত হইয়াছিল, ‘তোমার প্রতিবাসীকে প্রেম করিবে এবং তোমার শক্রকে দ্বেষ করিবে কিন্তু আমি তোমাদিকে বলিতেছি: তোমরা আপন আপন শক্রদিগকে প্রেম করিও, এবং যাহারা তোমাদিগকে তাড়না করে তাহাদের জন্য প্রার্থনা করিও।” (মথি ৫:৪৩, ৪৪) লিখিত মোশির আইন প্রেমের উপর কোন সীমা দেয় না: “আপনার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।” (লেবীয় পুস্তক ১৯:১৮) ফরীশীরা এই আজ্ঞা সঠিকভাবে পালন করত না তার থেকে মুক্তি পাবার জন্য তারা এই উক্তি “প্রতিবেশি” কেবল যারা পরম্পরাগত বিধি রাখে তাদের প্রতি প্রয়োগ করত। সেই কারণে যখন যীশু এক আইন আইনজ্ঞকে বলেন সেই নিয়ম সম্বন্ধে ‘তোমার প্রতিবাশীকে আপনার মত প্রেম করিও,’ সেই ব্যক্তি প্রশ্ন করে: প্রকৃতপক্ষে কে আমার প্রতিবাশী? যীশু উত্তম শমরীয় ব্যক্তির উপমা দিয়ে উত্তর দেন— তোমাকে যে ব্যক্তির প্রয়োজন তার প্রতিবাশী হও।— লূক ১০:২৫-৩৭.

১৯. যিহোবা দুষ্টদের বিপক্ষে কি করেন যা আমাদের যীশু বলেন অনুকরণ করা উচিত?

১৯ তার বক্তৃতা চালিয়ে গিয়ে, যীশু ঘোষণা করন যে ‘ঈশ্বর দুষ্টদের প্রতি দয়া প্রর্দশন করেছেন। তিনি তাদের বৃষ্টি ও রোদ্র দিয়ে থাকেন। যারা আপনাকে ভালবাসে তাদের ভালবাসা বড় বিষয় নয়। দুষ্টরাও তাই করে। তাতে পুরস্কার পওয়ার কোন কারণ নেই। আপনাদের ঈশ্বরের পুত্র বলে প্রমাণ কর। আর তার দ্বারা “তোমাদর স্বর্গীয় পিতা যেমন সিদ্ধ, তোমরাও তেমনি সিদ্ধ হও।” (মথি ৫:৪৫-৪৮) কি চেলেঞ্জকারী মান যার সাথে মিল রেখে জীবন যাপন করতে হবে! আর তা প্রমাণ করে ফরীশীদের ধার্ম্মিকতা তা কত তুচ্ছ!

২০. মোশির আইনকে সরিয়ে না দিয়ে, কিভাবে যীশু তার প্রভাবকে বৃহত ও গভীর করেন ও আরও উচ্চে স্থাপন করেন?

২০ তাই যখন যীশু আইনের কিছু অংশের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করেন ও যোগ দেন, “আমি তোমাদিগকে বলিতেছি,” তিনি মোশির নিয়মকে সরিয়ে অন্য কোনকিছু তার জায়গায় আনছিলেন না। না, কিন্তু তিনি গভীর ও প্রস্তে গিয়ে তার শক্তিকে বৃদ্ধি করছিলেন তার পেছনে যে আত্মা আছে তা দেখিয়ে। এক উচ্চ ভ্রাতৃত্বের আইন অবিরত ভাইয়ের বিরুদ্ধে কুকল্পনাকে হত্যার সমান দেখে। এক পবিত্রতার উচ্চ আইন ক্রমাগত যৌন ব্যভিচারের চিন্তাকে ব্যভিচার মনে করে। বিবাহের এক উচ্চ আইন যে কোন অজুহাতে বিবাহ বিচ্ছেদকে ও পুনরায় বিবাহকে এমন এক পথ মনে করে যা ব্যাভিচারি বিবাহতে পরিচালিত করে। সত্যের এক উচ্চ আইন দেখায় পুনঃ পুনঃ দিব্য করার কোন অর্থ হয় না। এক উচ্চ আইন কোমলতার প্রতিষোধ নেওয়া থেকে ক্ষান্ত রাখে। এক উচ্চ প্রেমের আইন ঈশ্বরীয় প্রেমের চাহিদা রাখে যার কোন সীমা নেই।

২১. যীশুর উপদেশ রব্বিদের আত্মধার্ম্মিকতা সম্বন্ধে কি প্রকাশ করে, সেই জনতা আরও কি শিক্ষা পাবে?

২১ কি দারুন প্রভাব ফেলে তাদের উপর যারা এমন বিষয় প্রথমবার শুনছিল। কি বৃথাই না তারা মনে করে সেই কপট আত্ম ধার্ম্মিকতাকে যা আসে সেই রব্বিদের পরম্পরাগত বিধি পালন করার দ্বারা কিন্তু যীশু যখন তার পার্বত্য উপদেশ চালিয়ে যান, যে বিরাট ভিড় সেখানে ক্ষুধিত ও তৃষর্নাথ ছিল ঈশ্বরীয় ধার্ম্মিকতার জন্য তারা বিশষভাবে জানতে পারে কিভাবে তা অর্জ্জন করা যায়, যেমন আমাদের পরবর্ত্তী প্রবন্ধ দেখাবে। (w90 10/1)

পুনরালোচনার জন্য প্রশ্ন

◻ যিহুদীরা কেন তাদের মৌখিক পরম্পরাগত বিধি তৈয়ারী করে?

◻ যীশু কি নাটকীয় পরিবর্ত্তন দেখান যা অধ্যাপক ফরীশী এবং সাধারণ লোকের মধ্যে?

◻ অধ্যাপকরা ও ফরীশীরা কি ভাবে ঈশ্বরের সাথে ধার্ম্মিক অবস্থায় আসবে মনে করে?

◻ যীশু ব্যভিচার ও প্রাক্‌ বিবাহ ব্যভিচার এড়াবার পথ কি বলেন?

◻ মোশির আইনের পিছনে যে আত্মা আছে তা দেখিয়ে, তিনি কি উচ্চ মান স্থাপন করেন?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার