ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯১ ১১/১ পৃষ্ঠা ১৫-২০
  • রাজ্য ও ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করতে থাকুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • রাজ্য ও ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করতে থাকুন
  • ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • প্রর্থনা যা ঈশ্বরকে খুশি করে
  • স্বর্গে ধন সঞ্চয় করুন
  • বিশ্বাস যা দুশ্চিন্তাকে দূর করে
  • ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধার্ম্মিকতা অর্জন করা
  • ধার্ম্মিকতা মৌখিক পরম্পরাগত প্রথার মাধ্যমে নয়
    ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বাক্যের কার্য্যকারী হোন, কেবল শ্রোতামাত্র নহে
    ১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • মৌখিক নিয়ম—কেন এগুলো লেখা হয়েছিল?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিশুর বাক্যগুলো কি আপনার প্রার্থনার ওপর প্রভাব ফেলে?
    ২০০৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯১ ১১/১ পৃষ্ঠা ১৫-২০

রাজ্য ও ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করতে থাকুন

“তোমরা প্রথমে তাহার রাজ্য ও তাহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদের দেওয়া যাইবে।”—মথি ৬:৩৩.

১, ২. যে কাজগুলি ভাল ছিল অধ্যাপকেরা ও ফরীশীরা সেগুলি কিসে পরিণত করে, এবং যীশু তার শিষ্যদের কি সাবধানবাণী দেন?

অধ্যাপক ও ফরীশীরা ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করে তাদের নিজেদের পথে, যা ঈশ্বরের পথ ছিল না। কেবল তাই নয়, যখন তারা সেই কর্ম্মগুলি করে যেগুলি ভাল ছিল, তারা সেগুলি এমন কপটভাবে করত যাতে লোকেরা তা দেখতে পায়। তারা সেবা করছিল, ঈশ্বরকে নয় কিন্তু তাদের অর্থহীন কাজকে। যীশু তার শিষ্যদের ঐইরূপ নাটক করা থেকে বিরত থাকতে সবধান করেন: “সাবধান, লোককে দেখাইবার জন্য তাহাদের সাক্ষাতে তোমাদের ধর্ম্মকর্ম্ম করিও না, করিলে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার নিকটে তোমাদের পুরস্কার নাই।”— মথি ৬:১.

২ যিহোবা তাদের উপলব্ধি করেন যারা দরিদ্রদের দান করে—কিন্তু তাদের নয় যারা ফরীশীদের মত দান করে। যীশু তার শিষ্যদের তাদের অনুকরণ করা থেকে সাবধান করেন: “অতএব তুমি যখন দান কর, তখন তোমার সম্মুখে তূরী বাজাইও না, যেমন কপটীরা লোকের কাছে গৌরব পাইবার জন্য সমাজ গৃহে ও পথে করিয়া থাকে; আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা তাহাদের পুরস্কার পাইয়াছে।”—মথি ৬:২.

৩. (ক) কিভাবে অধ্যাপকেরা ও ফরীশীরা তাদের দানের পূর্ণ প্রাপ্তি পেয়ে যায়? (খ) দানের ব্যাপারে যীশুর মান কি করে আলাদা ছিল?

৩ গ্রীকদের ভাষায় যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ‘তাহা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে’ এই কথার জন্য তা হল (আ. পি‘ খো) এই কথাটি ব্যবসায় যখন আপনাকে কোন কিছুর জন্য রিসিপ্ট দেওয়া হয় তাতে লেখা থাকত। সেই জন্য এর ব্যবহার পার্বত্য উপদেশে বোঝায় “তাহারা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে,” এর অর্থ, “তারা তাদের পুরস্কারের যে রিসিপ্ট তা সই করেছে: তাদের পুরস্কার পাওয়ার অধিকার তারা পেয়ে গেছে, যেন তাদের রিসিপ্ট দেওয়া হয়ে গেছে।” (দ্যা এক্সপোজিটারি ডিক্সনারী অফ নিউ টেষ্টামেন্ট ওয়ার্ডস, বাই ডাব্‌লু. ই. ভাইন) দরিদ্রদের জন্য যে দান তা বাস্তায় প্রকাশ্যে ঘোষিত হত। সমাজগৃহে যারা দান করছে তাদের নাম ঘোষণা করা হত রব্বিদের পাশে বসতে দিয়ে। তারা দান করত যাতে লোকে তা দেখতে পায়, লোকেরা তাদের দেখত ও তাদের গৌরব করত তাই, তারা তাদের দানের জন্য যে রিসিপ্ট পুরস্কারসরূপ যেন তা মোহরিত করত, “সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে।” যীশুর মান কতইনা আলাদা ছিল! দাও “গোপনে; তাহাতে তোমার পিতা যিনি গোপনে দেখেন তিনি তোমাকে ফল দিবেন।”—মথি ৬:৩, ৪; হিতোপদেশ ১৯:১৭.

প্রর্থনা যা ঈশ্বরকে খুশি করে

৪. কেন ফরীশীদের প্রার্থনা যীশুকে পরিচলিত করে সেই লোকদের করটী বলতে?

৪ যে প্রার্থনা যিহোবার প্রতি পরিচালিত তা তিনি উপলব্ধি করেন—কিন্তু ফরীশীরা যেরূপ প্রার্থনা করত তা নয়। যীশু তার অনুগামীদের বলেন: “আর তোমরা যখন প্রার্থনা কর, তখন কপটীদের ন্যায় হইও না; কারণ তাহারা সমাজগৃহে ও পথের কোণে দাঁড়াইয়া লোক দেখান প্রার্থনা করিতে ভালবাসে, আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে।” (মথি ৬:৫) ফরীশীদের অনেক প্রার্থনা ছিল যা তাদের প্রত্যেকদিন করতে হত, বিশেষ সময়, তা সে তারা যেখানেই থাক না কেন। তাত্ত্বিক দিক দিয়ে, তাদের ইহা অপ্রকাশ্যে করা উচিত কিন্তু এমনভাবে তারা তা করত, যে “সমাজগৃহে ও পথের কোনে,” করবার পরিস্থিতি সৃষ্টি করত, যাতে যখন প্রার্থনার সময় উপস্থিত হয় তখন তারা এমন জায়গায় থাকে যেখানে চারিপাশে লোক চলাফেরা করছে।

৫. (ক) আর কি কাজের জন্য ঈশ্বর ফরীশীদের প্রার্থনা শোনেন না? (খ) যীশু তার নমুনারূপ প্রার্থনায় কোন বিষয়গুলিকে প্রথম স্থান দেন, আর আজ লোকেরা কি তার সাথে একমত?

৫ মিথ্যা পবিত্রতা দেখাতে গিয়ে, তারা “কপট ভাবে লম্বা লম্বা প্রার্থনা করে।” (লূক ২০:৪৭) একটি মৌখিক পরম্পরাগত বিধি বলে: “যে আগের দিনের বিজ্ঞ ব্যক্তিরা তেফিলা [প্রার্থনা] করার আগে প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করত।” (মিসনাহ) এই সময়ের মধ্যে সকলে তাদের ঈশ্বরভক্তি দেখে অবাক হতে শুরু করেছে! সেই প্রার্থনা তাদের মস্তকের চেয়ে উপরে যায়নি। যীশু বলেন গোপণে প্রার্থনা করতে, ও পুনঃ পুনঃ একই কথা না বলতে, তিনি তাদের এক সহজ নমুনা দেন। (মথি ৬:৬-৮; যোহন ১৪:৬, ১৪; ১ পিতর ৩:১২) যীশু যে প্রার্থনার নমুনা দেন তাতে প্রথম জিনিষকে প্রথম স্থান দেন: “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক। তোমার রাজ্য আইসুক, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক।” (মথি ৬:৯-১৩) খুব কম লোক আজ ঈশ্বরের নাম জানে, তার থেকেও কম লোক চায় তা পবিত্র বলিয়া মান্য হোক। সেইজন্য তারা তাকে নামহীন ঈশ্বরে পরিণত করে। তোমার রাজ্য আইসুক? অনেকে মনে করে তা এখানে এখনই আছে, তাদের মধ্যে। তারা হয়ত প্রার্থনা করে তার ইচ্ছা পূর্ণ হবার জন্য, কিন্তু বেশীর ভাগ তাদের নিজেদের ইচ্ছা পালন করে।—হিতপদেশ ১৪:১২.

৬. কেন যীশু যিহূদীদের উপবাসকে অর্থহীন বলেন?

৬ উপবাস যিহোবার কাছে গ্রাহ্য—কিন্তু ফরীশীরা যেভাবে তা করে সেইভাবে নয়। যেমন দরিদ্রদের দান করে প্রার্থনা করে এই অধ্যাপক ও ফরীশীরা মনে করত, যীশু তাদের উপবাসকে অর্থহীন বলেন: “আর তোমরা যখন উপবাস কর, তখন কপটীদের ন্যায় বিষন্ন বদন হইও না, কেননা তাহারা লোককে উপবাস দেখাইবার নিমিত্ত আপনাদের মুখ মলিন করে, আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা তাহাদের পুরস্কার পাইয়াছে।” (মথি ৬: ১৬) তাদের পরম্পরাগত বিধি বলে যে উপবাস কালে ফরীশীরা স্নান করবে না বা তৈল দেবে না কিন্তু মাথায় চাই দিয়ে ঘুরবে, যখন উপবাস করছে না, তখন যিহৃদীরা নিয়মিত স্নান করবে ও শরীরে তৈল মখবে।

৭. (ক) যীশুর শিষ্যরা উপবাসকালে কিরূপে নিজেদের দেখবে? (খ) যিশাইয়ের দিনে উপবাস না করে যিহোবা কি চান?

৭ উপবাস সম্বন্ধে যীশু তার শিষ্যদের বলেন: “যখন উপবাস কর, তখন মাথায় তৈল মাখিও, ও মুখ ধুইও, যেন লোকে তোমার উপবাস না দেখিতে পায়, কিন্তু তোমার পিতা যিনি গোপণে বর্ত্তমান, তিনিই দেখিতে পান।” (মথি ৬: ১৭, ১৮) যিশাইয়ের দিনে বিপথগামী যিহৃদীরা তাদের উপবাসকালে আনন্দ পায়, তাদের আত্মায় কষ্ট পায়, তাদের মস্তক নিচু, এবং চট পরিধান করে ও চাইয়ে বসে। কিন্তু যিহোবা চেয়েছিলেন যে তারা যারা পীড়িত তাদের স্বাধীন করুক, ক্ষুধার্তদের খাদ্য দিক, গৃহহীনদের স্থান দিক, ও যারা নগ্ন তাদের বস্ত্র দিক।—যিশাইয় ৫৮:৩-৭

স্বর্গে ধন সঞ্চয় করুন

৮. কি অধ্যাপক ও ফরীশীদের ঈশ্বরের অনুমোদনের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেয়, এবং কোন নীতি, যা পরে পৌল বর্ণনা করেন, তারা এড়িয়ে যায়?

৮ তাদের ধার্ম্মিকতার পশ্চাৎধাবনে, অধ্যাপক ও ফরীশীরা ঈশ্বরের অনুগ্রহের কথা ভুলে গিয়ে তাদের দৃষ্টি মানুষের শ্রদ্ধাভক্তির উপর দেয়। তারা পরম্পরাগত বিধির দ্বারা এত জড়িত যে ঈশ্বরের যে লিখিত বাক্য তা উপেক্ষা করে। তারা পার্থিব পদের উপর হৃদয়কে রাখে স্বর্গে ধন সঞ্চয় না করে। তারা যে সহজ সত্যটি উপেক্ষা করে সেই সম্বন্ধে একজন ফরীশী যিনি পরে খ্রীষ্টান হন অনেক বৎসর পরে লেখেন: “যাহা কিছু কর, প্রাণের সহিত কার্য্য কর, মানুষ্যের কর্ম্ম নয়, কিন্তু প্রভুরই কর্ম্ম বলিয়া কর; কেননা তোমরা জান প্রভু হইতে তোমরা দায়াধিকাররূপ প্রতিদান পাইবে।”—কলসীয় ৩:২৩, ২৪.

৯. কি বিপদগুলি পার্থিব সম্পদের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু কি সত্য সম্পদকে সুরক্ষিত রাখবে?

৯ যিহোবা আগ্রহী আপনার ঈশ্বর ভক্তি তার উপরে, ব্যাঙ্কে আপনার কত টাকা আছে তার উপর নয়। তিনি জানেন আপনার হৃদয় সেখানে যেখানে আপনার ধন আছে। মরিচা ও কীটে কি আপনার ধন নষ্ট করতে পারে? চোরে কি মাটির দেওয়ালে সিঁধ কেটে তা চুরি করতে পারে? অথবা বর্ত্তমানদিনের এই অর্থ নৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে, মুদ্রাস্ফীতি কি তার কেনার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বা স্টক- মার্কেটের বিপর্য্যয় কি তা মুছে ফেলতে পারে? অপরাধের যে দারুন বৃদ্ধি ঘটছে তা কি আপনার সম্পত্তিকে চুরি করবে? তা করতে পারবে না যদি আপনার চোখ যা সমস্ত শরীরকে আলোকিত করে—তা সাধারণ হয়, তার দৃষ্টি থাকে ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধার্ম্মিকতার উপর। ধন অনেক ভাবে মিলিয়ে যেতে পারে। “ধন সঞ্চয় করিতে অত্যন্ত যত্ম করিও না, তোমরা নিজ বুদ্ধি হইতে ক্ষান্ত হও। তুমি ধনের দিকে চাহিতেছ? তাহা আর নাই; কারণ ঈগল যেমন আকাশে উড়িয়া যায়, তেমনি ধন আপনার জন্য নিশ্চয়ই পক্ষ প্রস্তুত করে।” (হিতোপদেশ ২৩:৪, ৫) তাই ধনের জন্য কেন আমরা নিদ্রাহীন হব? “ধনবানের পূর্ণতা তাহাকে নিদ্রা যাইতে দেয় না।” (উপদেশক ৫:১২) যীশুর সাবধানবাণী মনে রাখবেন: “তোমরা ঈশ্বর এবং ধন উভয়ের দাসত্ব করতে পার না।”—মথি ৬:১৯-২৪.

বিশ্বাস যা দুশ্চিন্তাকে দূর করে

১০. কেন ইহা এত জরুরী যে আপনি আপনার আস্থা ঈশ্বরের উপরে রাখেন জগতিক সম্পদের উপরে নয়, যীশু কি উপদেশ দেন?

১০ যিহোবা চান আপনার বিশ্বাস তার উপরে হোক জাগতিক বিষয় বস্তুর উপরে নয়। “কিন্তু বিনা বিশ্বাসে প্রীতির পাত্র হওয়া কাহারও সাধ্য নয়; কারণ যে ব্যাক্তি ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহার ইহা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে ঈশ্বর আছেন, এবং যাহারা তার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কার দাতা।” (ইব্রীয় ১১:৬) যীশু বলেন: “কেননা উপচিয়া পড়িলেও মানুষ্যের সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না।” (লূক ১২:১৫) ব্যাঙ্কে লক্ষ লক্ষ টাকা অসুস্থ্য ফুশফুশ বা ক্লান্ত হৃৎপিণ্ডকে বাঁচিয়ে রাখবে না। সেইরূপ “এইজন্য আমি তোমাদিগকে বলিতেছি,” যীশু বলে চলেন তার পার্বত্য উপদেশে: “কি ভোজন করিব কি পান করিব বলিয়া প্রাণের বিষয়, কিম্বা কি পরিব বলিয়া শরীরের বিষয় ভাবিত হইও না। ভক্ষ্য হইতে প্রান ও বস্ত্র হইতে শরীর কি বড় বিষয় নয়?”—মথি ৬:২৫.

১১. যীশু তার উদাহরণের অনেকগুলি কোথায় পান, এবং পার্বত্য উপদেশে কি ভাবে আমরা তার প্রদর্শন পাই?

১১ যীশু মৌখিক উদাহরণ দেওয়ার ব্যপারে এক দক্ষ শিক্ষক ছিলেন। তিনি যেখানে দৃষ্টিপাত করেন সেখানে সেইগুলির বিষয় চিন্তা করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে একজন স্ত্রীলোক দীপ জ্বালিয়ে দীপাধারে রাখছে এবং তিনি সেই বিষয়কে উদাহরণে রূপান্তরিত করেন। তিনি লক্ষ্য করেন মেষপালক মেষ হইতে ছাগ আলাদা করছে; এবং তাহা একটি উদাহরণ হয়। তিনি লক্ষ্য করেন যে চকে ছেলেলেয়েরা খেলছে; আর তাহা উদাহরণে রূপান্তরিত হয়। আর পার্বত্য উপদেশেও তাই হয়। তিনি উদাহরণ খুঁজে পান উড়ন্ত পাখিগুলিতে ও পাহাড়ের গায়ে যে সুন্দর পুস্পগুলি হয়েছিল যা পাহাড়কে যেন গালিচায় ঢেকে রেখেছিল, তাতে। পাখিরা বুনেও না কাটেও না? না। ঈশ্বর তাদের তৈয়ারি করেছেন, আর তিনি তাদের যত্ন নেন। আপনারা, যাহাহোক, এই পাখিগুলি ও পুস্পগুলি থেকে আরও বেশী দামী। (মথি ৬:২৬, ২৮-৩০) তিনি তার পুত্রকে দিয়েছেন আপনাদের জন্য, তাদের জন্য নয়।—যোহন ৩:১৬.

১২. (ক) পক্ষীদের ও ফুলের উদাহরণ কি এই বোঝায় যে যীশুর শিষ্যদের কাজ করতে হবে না? (খ) যীশু কর্ম্ম এবং বিশ্বাস সম্বন্ধে কি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন?

১২ যীশু তার শিষ্যদের বলছিলেন না যে তাদের খাদ্য ও বস্ত্রের জন্য কাজ করতে হতে না। (দেখুন উপদেশক ২:২৪; ইফিষীয় ৪:২৮; ২ থিষলনীকীয় ৩:১০-১২) সেই বসন্তের সকালে, পাখিগুলি তাদের খাদ্যের জন্য ঘুরছিল, প্রণয় করছিল, বাসা বাঁধছিল, ডিমে তা দিচ্ছিল, ও তাদের ছোটদের খাওয়াচ্ছিল। তারা কাজ করছিল কোন দুশ্চিন্তা ছাড়া। ফুলগুলিও ব্যস্ত ছিল তাদের গুড়িকে মাটিতে প্রবেশ করাতে যাতে তা জল ও অন্য খনিজ পদার্থগুলিকে উপরের দিকে উঠায় যাতে তা সূর্য্যের আলো পেতে পারে। তাদের পরিপক্ক হতে হবে ও প্রস্ফুটিত হতে হবে এবং তার বীজ ছড়িয়ে যেতে হবে মরে যাবার আগে। তারা কাজ করছিল কিন্তু দুশ্চিন্তা ছাড়া। ঈশ্বর এই পাখি ও পুস্পগুলির জন্য সবকিছু প্রদান করেন। ‘তাহলে তোমাদের জন্য কি আরও বেশী করবেন না, হে অল্প বিশ্বাসীরা?’—মথি ৬:৩০.

১৩. (ক) কেন ইহা সঠিক ছিল যখন যীশু একজনের জীবন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই সম্বন্ধে বলতে গিয়ে এক হস্তমাত্র কথা ব্যবহার করেন? (খ) কি করে আপনি অপনার জীবনকে যেন, শত শত মাইল বৃদ্ধি করতে পারেন?

১৩ বিশ্বাস রাখুন। দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হবেন না। দুশ্চিন্তা কোন কিছু পরিবর্ত্তন করতে পরে না। “আর তোমাদের মধ্যে কে”, যীশু জিজ্ঞাসা করেন, “ভাবিত হইয়া আপন বয়স এক হস্তমাত্র বৃদ্ধি করিতে পারে?” (মথি ৬:২৭) কিন্তু কেন জীবনের জন্য আক্ষরিক দূরত্ব মাপের মাধ্যমে এক হস্তমাত্র, ব্যবহার করেন? হয়ত এই জন্য কারণ বাইবেল প্রায়ই মনুষ্য জীবনকে যাত্রার সাথে তুলনা করেছে, যেমন এই সব উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে “পাপীদের পথে,” “ধার্ম্মিকের পথে,” ‘ধ্বংসে যাইবার প্রশস্ত দ্বার’ এবং ‘জীবনে যাইবার সঙ্কীর্ণ দ্বার।’ (গীতসংহিতা ১:১; হিতোপদেশ ৪:১৮; মথি ৭:১৩, ১৪) বলতে গেলে দুশ্চিন্তা একজন ব্যক্তির জীবন, “এক হস্তমাত্র” বৃদ্ধি করতে পারে না। কিন্তু যেন একটি উপায় আছে আপনার জীবনকে বৃদ্ধি করার, শত শত মাইল। তাহা দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়ে ও এই বলে নয়: “কি ভোজন করিব?” অথবা “কি পরিব?” কিন্ত বিশ্বাস রেখে এবং যীশু আমাদের যা বলচ্ছেন তা করে: “তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্য তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।”—মথি ৬:৩১-৩৩.

ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধার্ম্মিকতা অর্জন করা

১৪. (ক) পার্বত্য উপদেশের মূল বিষয়বস্তু কি? (খ) ফরীশী ও অধ্যাপকেরা কি ভুল উপায়ে রাজ্যের ও ধার্ম্মিকতার চেষ্টা করে?

১৪ যীশু তার পার্বত্য উপদেশের শুরুতে বলেন, যে ঈশ্বরের রাজ্য তাদের জন্য যারা তাদের আত্মিক বিষয়ে সচেতন। চতুর্থ বাক্যে, তিনি বলেন যে যারা ধার্ম্মিকতার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত করছে তাদের পূর্ণ করা হবে। এখানে যীশু রাজ্য ও যিহোবার ধার্ম্মিকতাকে প্রথম স্থান দেন। এইগুলি ছিল পার্বত্য উপদেশের প্রধাণ বিষয়। তাহা ছিল সকল মানুষের চাহিদার উত্তর। কিন্তু কি উপায়ে এই ঈশ্বরের রাজ্য ও ধার্ম্মিকতা লাভ করা যায়? কিভাবে তারা সেইগুলির ক্রমাগত অন্বেষণ করতে পারে? ফরীশী ও অধ্যাপকেরা যে ভাবে করেছিল সেইভাবে নয়। তারা রাজ্য ও ধার্ম্মিকতার অন্বেষণ করে মোশির আইনের মাধ্যমে, যার মধ্যে তারা দাবি করে মৌখিক পরম্পরাগত বিধিও অন্তর্ভূক্ত ছিল, কারণ তারা বিশ্বাস করত যে মোশির আইন এবং পরম্পরাগত বিধি উভয় ঈশ্বর মোশিকে সিনয় পর্বতে দিয়েছিলেন।

১৫. (ক) যিহূদীদের মত অনুসারে তাদের মৌখিক পরম্পরাগত বিধি কখন শুরু হয় এবং কি করে তারা তা মোশির লিক্ষিত আইনের উপরে স্থাপন করে? (খ) এই পরম্পরাগত বিধী আসলে কখন শুরু হয়, আর তা মোশীর আইনের উপর কি প্রভাব ফেলে?

১৫ তাদের পরম্পরাগত বিধি এই সম্বন্ধে বলে: “মোশি আইন পান [ফুটনোটে, “মৌখিক আইন”] সীনয় থেকে এবং তা যিহোশূয়কে দেন, তিনি তা প্রাচীনদের, আর প্রাচীনরা ভাববাদীদের, এবং ভাববাদীরা তাহা গ্রেট সিনাগগের লোকদের দেন।” সময়ের প্রবাহে এই মৌখিক আইনকে লিখিত আইনের উপরে স্থান দেওয়া হয়: “[যদি] সে [লিখিত] আইনের বিরুদ্ধাচরণ করে, সে নিন্দনীয় নয়,” কিন্তু যদি “সে অধ্যাপকদের কথার [মৌখিক পরম্পরাগত বিধির] সাথে কিছু যোগ করে, তবে সে নিন্দনীয়।” (মিসনাহ) মৌখিক পরম্পরাগত বিধি সীনয়ে অরাম্ভ হয়। বস্তুতপক্ষে, তা একত্রিত হতে শুরু করে খ্রীষ্টের দুই শতাব্দী পূর্বে। তা যোগ করে, বিয়োগ করে, এবং লিখিত মোশির আইনকে অর্থহীন করে।—তুলনা করুন দ্বিতীয় বিবরণ ৪:২; ১২:৩২.

১৬. মানুষের জন্য ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতা কি ভাবে আসে?

১৬ ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতা তা আসে আইনের মাধ্যমে নয় কিন্তু তা ছাড়াই: “যেহেতুক ব্যবস্থার কার্য্য দ্বারা কোন প্রানী তাহার সাক্ষাতে ধার্ম্মিক গণিত হইবে না, কেননা ব্যবস্থার দ্বারা পাপের জ্ঞান জন্মে। কিন্তু এখন ব্যবস্থা ব্যতিরেকেই ঈশ্বর-দেয় ধার্ম্মিকতা প্রকাশিত হইয়াছে, আর ব্যবস্থা ও ভববাদীগণ কর্ত্তৃক তাহার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হইতেছে। ঈশ্বর-দেয় সেই ধার্ম্মিকতা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা যাহারা বিশ্বাস করে, তাহাদের সকলের প্রতি বর্ত্তে।” (রোমীয় ৩:২০-২২) সেইজন্য ঈশ্বরের যে ধার্ম্মিকতা তাহা আসে যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস হেতু—আর এই সম্বন্ধে “ব্যবস্থা ও ভাববাদীগণ সাক্ষ্য দিয়াছেন।” মশীহ সম্বন্ধে ভাববাণী সকল যীশুতে পূর্ণ হয়। তিনি ব্যবস্থাও পূর্ণ করেন; এবং তাকে তিনি পথ থেকে সরিয়ে দেন যাতনা দণ্ডে পেরেক বিদ্ধ হয়ে।—লূক ২৪:২৫-২৭; ৪৪-৪৬; কলসীয় ২:১৩, ১৪; ইব্রীয় ১০:১.

১৭. প্রেরিত পৌলের কথা অনুসারে, কি করে যিহূদীরা ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতা জানায় অকৃতকার্য হয়?

১৭ সেইজন্য, প্রেরিত পৌল ধার্ম্মিকতার খোঁজে যিহৃদীদের ব্যর্থতার সম্বন্ধে লেখেন: “কেননা আমি তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতেছি যে, ঈশ্বর বিষয়ে তাহাদের উদ্যোগ আছে, কিন্তু তাহা জ্ঞান অনুযায়ী নয়। ফলতঃ ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতা না জানায় এবং নিজ ধার্ম্মিকতা স্থাপন করিবার চেষ্টা করায়, তাহারা ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার বশীভূত হয় নাই; কেননা ধার্ম্মিকতার নিমিত্ত প্রত্যেক বিশ্বাসীর পক্ষে, খ্রীষ্টই ব্যবস্থার পরিণাম।” (রোমীয় ১০:২-৪) পৌল আরও যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে লেখেন: “যিনি পাপ জানেন নাই , তাহাকে তিনি আমাদের পক্ষে পাপস্বরূপ করিলেন, যেন আমরা তাহাতে ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতাস্বরূপ হই।”—২ করিন্থীয় ৫:২১.

১৮. “খ্রীষ্টের যাতনা দণ্ডে মৃত্যুকে” যিহুদী ঐতিহ্যবাদীরা, গ্রীক দার্শনিকরা, এবং যারা “আহূত” কি ভাবে দেখেন?

১৮ যিহৃদীরা মৃত্যুগামী মশীহকে এক দুর্বল ও কিছুর মধ্যে গণ্য নয় মনে করে। গ্রীক দার্শনিকরা এইরূপ মশীহের ঠাট্টা করে ও মুর্খতা ভাবে। যাহাহোক, তাহা ঠিক সেইরূপ যেমন পৌল ঘোষণা করেন: “কেননা যিহূদিরা চিহ্ন চায়, এবং গ্রীকেরা জ্ঞানের অন্বেষণ করে; কিন্তু আমরা যাতনা দণ্ডে বিদ্ধ্য খ্রীষ্টকে প্রচার করি; তিনি যিহূদীদের কাছে বিঘ্ন ও পরজাতিয়দের কাছে মুর্খতাসরূপ, কিন্তু যিহূদী ও গ্রীক, আহৃত সকলের কাছে, খ্রীষ্ট ঈশ্বরেরই পরাক্রম ও ঈশ্বরেরই জ্ঞানস্বরূপ কেননা ঈশ্বরের যে মুর্খতা, তাহা মনুষ্যদের অপেক্ষা অধিক জ্ঞানযুক্ত, এবং ঈশ্বরের যে দুর্বলতা, তাহা মনুষ্যদের অপেক্ষা অধিক সবল।” (১ করিন্থীয় ১:২২-২৫ NW) যীশু খ্রীষ্ট হচ্ছেন ঈশ্বরের শক্তি ও প্রজ্ঞার অভিব্যক্তি এবং ধার্ম্মিক ও বাধ্য মানবজাতির জন্য অনন্ত জীবন পাওয়ার ঈশ্বরের মাধ্যম। “আর অন্য কাহারও কাছে পরিত্রাণ নাই; কেননা আকাশের নীচে মনুষ্যদের মধ্যে দত্ত এমন আর কোন নাম নাই, যে নামে আমাদিগকে পরিত্রাণ পাইতে হইবে।”—প্রেরিত ৪:১২.

১৯. পরবর্ত্তী প্রবন্ধ কি দেখাবে?

১৯ পরবর্ত্তী প্রবন্ধ, দেখাবে যে যদি আমরা ধ্বংস থেকে বেঁচে গিয়ে অনন্ত জীবন চাই, আমাদের এখন তাহলে ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধার্ম্মিকতার খোঁজ করতে হবে। তা কেবল যীশুর কথাগুলি শোনার দ্বারা নয় কিন্তু সেগুলি পালন করে।

পুনরালোচনার প্রশ্ন

◻ যীহূদী ধর্মীয় নেতারা তাদের অনুগ্রহের দান, প্রর্থনা, এবং উপবাসকে কিসে পরিণত করে?

◻ আপনার ধন সঞ্চয় করার সব থেকে উত্তম স্থান কোথায়?

◻ কেন আমরা আমাদের দৈহিক চাহিদাগুলির জন্য দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হব না?

◻ যিহূদীরা তাদের মৌখিক পরম্পরাগত বিধি সম্বন্ধে কি মিথ্যা দাবী করে?

◻ কিসের মাধ্যমে ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধার্ম্মিকতা আসে?

[Pictures on page 16]

ফরীশীরা রাস্তার এমন এক কোণায় দাড়িয়ে প্রার্থনা করে, যাতে লোকেরা তাদের দেখতে পায়

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার