যীশুর জীবন ও পরিচর্য্যা
ক্ষমাশীলতায় এক শিক্ষা
যীশু এখনও আপাতরূপে কফরনাহূমের গৃহে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে আছেন। তিনি তাদের সঙ্গে কিভাবে ভাইদের মধ্যে মনোমালিন্য দূর করা যায়, এই সম্বন্ধে আলোচনা করছেন, তাই পিতর জিজ্ঞাসা করেন: “প্রভু, আমার ভ্রাতা আমার নিকটে কত বার অপরাধ করিলে আমি তাহাকে ক্ষমা করিব?” যেহেতু যিহূদী ধর্মীয় শিক্ষকরা তিনবার পর্য্যন্ত ক্ষমা করাকে স্বীকৃতি দেয়, পিতর হয়ত মনে করেন যে “কি সাত বার পর্য্যন্ত?” বলে তিনি খুবই উদারতার নিদর্শন দেখালেন।
কিন্তু এরকম হিসাব রাখার মনোভাবটি ভুল। যীশু পিতরকে সংশোধন করেন: “তোমাকে বলিতেছি না, সাত বার পর্য্যন্ত, কিন্তু সাতাত্তর বার পর্য্যন্ত।” তিনি দেখালেন যে পিতর কতবার তার ভ্রাতাকে ক্ষমা করবেন সেই সংখ্যার কোন সীমা নেই।
ক্ষমাশীল হওয়ার যে দায়িত্ব শিষ্যদের উপর আছে তা স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য যীশু তাদের একটি দৃষ্টান্ত দিলেন। সেটি এক রাজার সম্বন্ধে যিনি তাঁর ক্রীতদাসদের হিসাব নিচ্ছিলেন। একজন দাসকে তাঁর নিকট আনা হল যে তাঁর কাছে ৬০,০০০,০০০ দিনারাই (প্রায় $৫০,০০০,০০০) মূল্যের প্রচুর পরিমাণ ধার নিয়েছিল। কোন ভাবেই সে তা ফেরত দিতে পারত না। তাই, যীশু ব্যাখ্যা করলেন, রাজা আদেশ দিলেন তাকে, তার স্ত্রীকে ও তার সন্তানকে বিক্রী করে ঋণ শোধ করা হোক।
তখন সেই দাসটি তার প্রভুর পায়ে পড়ে বিনতি করে: “প্রভু, আমার প্রতি ধৈর্য্য ধরুন, আমি আপনার সমস্তই পরিশোধ করিব।”
দয়াপরবশ হয়ে সেই প্রভু তার দাসের বিশাল ঋণ ক্ষমা করলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই, যীশু বলে চললেন, এই দাস একজন সহদাসকে খুঁজে বার করল যে তার কাছে মাত্র ১০০ দিনারাই (প্রায় $৯০) ধার করেছিল। সেই লোকটি তার সহদাসের গলা চেপে ধরে বলল: “তুই যা ধারিস্, তাহা পরিশোধ কর্।”
কিন্তু সেই সহদাসের কাছে টাকা ছিল না। তাই সে যার কাছে ধার করেছিল তার চরণে পড়ে বিনতিপূর্বক বলল: “আমার প্রতি ধৈর্য্য ধর, আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করিব।” তার প্রভুর মত এই দাস দয়াবান নয় এবং সে তার সহদাসকে কারাগারে নিক্ষেপ করল।
যীশু আরও বলেন, অন্যান্য দাসেরা যারা ব্যাপারটি দেখল তারা প্রভুর কাছে গিয়ে সমস্ত বৃত্তান্ত বলে দিল। তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে সেই দাসকে ডেকে পাঠালেন। “দুষ্ট দাস,” তিনি বলেন, “তুমি আমার কাছে বিনতি করাতে আমি যেমন তোমার প্রতি দয়া করিয়াছিলাম, তেমনি তোমার সহদাসের প্রতি দয়া করা কি তোমারও উচিৎ ছিল না?” তখন সেই প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে নির্দয় সেই দাসকে পীড়নকারীদের হাতে সমর্পণ করেন যতক্ষণ পর্য্যন্ত সে ঋণ না শোধ করছে।
তারপর যীশু এই বলে শেষ করলেন: “আমার স্বর্গীয় পিতাও তোমাদের প্রতি এইরূপ করিবেন, যদি তোমরা প্রতিজন অন্তঃকরণের সহিত আপন আপন ভ্রাতাকে ক্ষমা না কর।”
ক্ষমাশীলতার কি উত্তম এক উদাহরণ। আমাদের পাপের অপেক্ষাকৃত যে বিশাল ঋণ ঈশ্বর ক্ষমা করেছেন, তার সঙ্গে তুলনায় আমাদের বিরুদ্ধে কোন খ্রীষ্টিয় ভাইয়ের পাপ অতি ক্ষুদ্র। আরও, যিহোবা আমাদের হাজার হাজার বার ক্ষমা করেছেন। প্রায়ই, তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের পাপ সম্বন্ধে আমরা এমনকি সচেতনও থাকি না। তাই আমরা কি আমাদের ভ্রাতাকে কয়েকবার ক্ষমা করতে পারি না, যদিও বা অভিযোগের যথার্থ কারণ থাকে? মনে রাখবেন, পার্বত্য উপদেশে যীশু যেমন শিক্ষা দিয়েছিলেন, ঈশ্বর “আমাদের অপরাধসকল ক্ষমা করবেন, যেমন আমরাও আপন আপন অপরাধীদিগকে ক্ষমা করিয়াছি।” মথি ১৮:২১-৩৫; ৬:১২; কলসীয় ৩:১৩.
◆ ভ্রাতার প্রতি ক্ষমাশীল হওয়ার জন্য পিতরের প্রশ্ন কিভাবে উত্থাপিত হল, ও তার মতামত সাতবারকে কেন তিনি উদারতা ভেবেছিলেন?
◆ তাঁর দাসের অনুরোধের প্রতি রাজার প্রতিক্রিয়া থেকে সেই দাসের, তার সহ-দাসের অনুরোধের প্রতিক্রিয়ার কি পার্থক্য ছিল?
◆ যীশুর দৃষ্টান্ত থোক আমরা কি শিখতে পারি? (w88 3⁄1)