দ্বিমুখী এক বিপর্যয়
মেক্সিকোর সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক
মেক্সিকো, ওয়াসাকার উপকূলে হারিকেন পোলিন আঘাত করার সময়, যিহোবার সাক্ষী এক বিবাহিত দম্পতি, গডফ্রেডো ও জিসেলা তাদের ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে তারা তাদের সুদৃঢ় পাটাতনের ঘরের ভিতরে ছিলেন। ঘূর্ণিবায়ুর ফলে পাতগুলি একটির পর একটি ধসে পড়েছিল। পরিশেষে, চালের মাত্র একটি পাত যখন বাকি ছিল তখন পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছিল।
জিসেলার কোলে আট মাসের শিশু আর অন্য তিন সন্তান তাকে ও গডফ্রেডোকে ধরেছিল, আর এভাবেই তারা দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে প্রবল ঘূর্ণিবায়ুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। একসময়, হারিকেনের প্রবলবেগ তাদেরকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিলে তারা গড়িয়ে প্রায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত, তারা সকলে বেঁচে গিয়েছিলেন।
একাপুলকোতে নেলি নামের একজন যিহোবার সাক্ষী তার ঘরের মধ্যে জল আসতে দেখেই তিনি তার পরিবারকে ঘুম থেকে উঠিয়েছিলেন। জলের স্তর অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায় আর প্রবলস্রোত নেলিকে জলের নিচে হিঁচড়ে নিয়ে যায় কিন্তু তার মেয়ে তাকে টেনে তুলেছিল। তারা জানালা আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং জল যখন তাদের গলা পর্যন্ত উঠে এসেছিল তা তারা অসহায়ভাবে দেখেছিলেন। ওই সময় তারা শুনতে পেলেন যে একজন ব্যক্তি তাদের ডাকছেন। তিনি তাদের প্রতিবেশী ছিলেন যিনি তাদেরকে উদ্ধার পেতে সাহায্য করেছিলেন ও তার ঘরে নিয়ে এসেছিলেন। সেখান থেকেই, তারা মহা আতঙ্ক নিয়ে দেখেছিলেন যে একটি গাড়ি তাদের বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে, যেখানে তারা কয়েক মিনিট আগে ছিলেন।
১৯৯৭ সালের ৮ই অক্টোবর, বুধবার বিকেলে, হারিকেন পোলিন ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে বায়ু ওয়াসাকা রাষ্ট্রের উপকূলটিকে প্রবল আঘাত করেছিল। এরপর, ৯ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরবেলায়, ওই হারিকেন গুয়েরেরোর রাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করেছিল, বিশেষভাবে একাপুলকোর শহরটি দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এবং বন্যার সৃষ্টি করেছিল ফলে ঘর-বাড়ি, গাড়ি, জীবজন্তু আর মানুষদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। প্রবল ঝড় বয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার রাস্তাগুলিতে দশ মিটারেরও বেশি গভীর খাতের সৃষ্টি হয়েছিল। দ্যা নিউজ সংবাদপত্র অনুসারে, মেক্সিকোর রেড ক্রস ওই দুটি রাষ্ট্রের একত্রে কমপক্ষে ৪০০ জনের মৃত্যু ও ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ জন গৃহহীন হওয়ার হিসাব প্রদান করেছিল। তথাপি, এই বিপর্যয়ের মধ্যেও খ্রীষ্টীয় প্রেমের মর্মস্পর্শী নমুনাগুলি দেখা গিয়েছিল।
যিহোবার লোকেরা সাড়া দেন
হারিকেন পোলিন সম্বন্ধে জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, মেক্সিকোতে যিহোবা সাক্ষীদের শাখা অফিস সমগ্র দেশের সাক্ষীদের কাছ থেকে টেলিফোন পেতে শুরু করে যারা জানতে চেয়েছিলেন যে তারা এতে কিভাবে সাহায্য করতে পারেন। অন্য দেশ থেকেও সাহায্যের প্রস্তাব এসেছিল। শীঘ্রই এক ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছিল আর অনেক টন খাদ্য, বস্ত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বিতরণ করা হয়েছিল।
এছাড়াও, নির্মাণ কাজের জন্য বস্তু সামগ্রী আনা হয়েছিল আর ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত ৩৬০টি গৃহ এবং কয়েকটি কিংডম হল মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছিল। হাজার হাজার খ্রীষ্টীয় ভাইবোনেরা দান করা, শ্রেণীবিন্যস্ত করা, প্যাকেট বাঁধাই করা, পরিবহণ করা এবং ত্রাণ সামগ্রী বন্টন করা কিংবা ক্ষতি সমূহ মেরামত করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
কিছু দোকানদার সাক্ষীদের কার্যক্রমে এতই অভিভূত হয়েছিলেন যে তারা সদয়পূর্বক খাদ্য, নির্মাণের বস্তু সামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিসপত্র দান করেছিলেন। অনেকে তাদের কাছে স্বল্প মূল্যে দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি করেছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত সাক্ষীরা তাদের প্রতি যে প্রেম দেখানো হয়েছিল তাতে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন, বিশেষভাবে তারা যখন সরবরাহকৃত সামগ্রীর সঙ্গে আসা উৎসাহমূলক চিঠিগুলি পড়েছিলেন।
দুর্ঘটনাবশত, ১৮ বছর বয়সী এক সাক্ষী জোসি ফাস্টিনো—এছাড়াও তিনজন ব্যক্তি যারা সাক্ষীদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতেন, ওই হারিকেনে মারা গিয়েছেন। তাদের আত্মীয়স্বজনেরা, বিশেষভাবে জোসির পিতামাতা, মণ্ডলী থেকে তাদের নিমিত্তে যে প্রার্থনা এবং উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল সেইজন্য তারা উপলব্ধি জানিয়েছিলেন।
কিছু ইতিবাচক ফলাফল
হারিকেন পোলিনের পর অনেক লোক আর সেইসঙ্গে সাক্ষীদের অবিশ্বাসী আত্মীয়স্বজনেরাও বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং প্রতিবেশীরা সাক্ষীদের প্রত্যাশার বার্তা শুনতে আরও আগ্রহী হয়েছিলেন। এছাড়াও, সাক্ষীরা জনসাধারণ্যে খাদ্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কাজে অংশ নিয়েছিলেন। একটি ঘটনায় একজন সাক্ষী এক ব্যক্তিকে যখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কেন তার কোম্পানির দান করা খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কাজে যিহোবার সাক্ষীদের বাছাই করে নিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি তখন উত্তর দিয়েছিলেন: “কারণ আমি জানি যে আপনারা সুসংগঠিত ও সৎ লোক। তাছাড়াও, প্রকৃতপক্ষে আপনারা জানেন যে এইক্ষেত্রে আসলে কার সবচেয়ে বেশি সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে, কারণ আপনারা আপনাদের এলাকার লোকেদের চেনেন।”
ধ্বংস যেমন ঘনিয়ে আসছে তেমনই বিশ্বব্যাপী একের পর এক বিপর্যয় ঘটছে, আর এই সময় এমনকি দুর্দশার মধ্যেও বাইবেলের নীতিসমূহ প্রয়োগ করতে দেখা সর্বদাই উৎসাহজনক।
[১১ পৃষ্ঠার চিত্র]
নির্মাণ কাজে অল্পবয়স্করা সাহায্য করে
[১২ পৃষ্ঠার চিত্র]
হারিকেন পোলিনের পর ওয়াসাকায় সাক্ষীরা একটি নতুন কিংডম হল নির্মাণ করছেন