স্থায়ী নিরাপত্তার এক জীবন
আপনার যদি প্রচণ্ড জ্বর হয়, তাহলে মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সম্ভবত আপনি একটি ট্যাবলেট খাবেন এবং জ্বর কমানোর জন্য মাথায় জলপট্টি লাগাবেন। ট্যাবলেট এবং জলপট্টি আপনার জ্বর ও মাথা ব্যথাকে কিছুটা কম করলেও, তা কিন্তু আপনার অসুখকে সারিয়ে দেয় না। আর আপনার শরীর যদি খুবই খারাপ হয়ে পড়ে, তাহলে আপনার একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
মানবজাতি দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তার অভাবের জ্বরে ভুগছে। আমরা এর অস্বস্তিকর বিভিন্ন উপসর্গ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অল্প সময়ের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসে এমন কিছু চিকিৎসা গ্রহণ করি কিন্তু আমাদের এই অসুখকে কেবল একজনই ঠিক করতে পারেন যিনি আমাদের অবস্থাকে পুরোপুরি পরীক্ষা করে তা বুঝতে পারেন। আর আমাদের সৃষ্টিকর্তা যিহোবা ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই মানবজাতির অবস্থা ভালভাবে জানেন না। শুধু তিনি সেই সমস্যাগুলির কথা জানেন যেগুলির কারণে আমরা আমাদের জীবনে নিরাপত্তার অভাব বোধ করি।
উত্তম সূচনা কিন্তু তারপর
ঈশ্বরের বাক্য ব্যাখ্যা করে যে যিহোবা প্রথম মানব জোড়াকে সিদ্ধ হিসাবে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাদের এক সুরক্ষিত পরিবেশে রেখেছিলেন। তাদের কোন উদ্বেগ ছিল না। ঈশ্বরের উদ্দেশ্য ছিল যে মানুষ পূর্ণ নিরাপত্তায় চিরকাল পরমদেশে বাস করবে। সেই বাগানে “সুদৃশ্য ও সুখাদ্য-দায়ক বৃক্ষ” ছিল। লক্ষ্য করুন যে তাদের শারীরিক চাহিদাকে মেটানো হয়েছিল এবং তাদের আবেগগত চাহিদাও পূরণ করা হয়েছিল, কারণ সেই পরিবেশকে “সুদৃশ্য” বলে বর্ণনা করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা বুঝিয়েছিল যে প্রথম পুরুষ ও স্ত্রীকে এমন এক পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যেখানে তাদের কোন অসুবিধা বা সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়নি।—আদিপুস্তক ২:৯.
আদম ও হবা ঈশ্বরের প্রেমপূর্ণ শাসনকে মানতে অস্বীকার করেছিল আর এর ফলেই তাদের জীবনে সন্দেহ, ভয়, লজ্জা, অপরাধ এবং নিরাপত্তার অভাবের মতো অনুভূতিগুলি এসেছিল। ঈশ্বরকে অস্বীকার করার পর, আদম স্বীকার করেছিল যে সে ‘ভীত হইয়াছিল।’ প্রথম মানুষেরা তাদের দেহ আচ্ছাদিত করেছিল এবং তাদের প্রেমময় সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে লুকিয়েছিল, যাঁর সঙ্গে এর আগে পর্যন্ত তাদের এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল আর যিনি তাদের মঙ্গল চাইতেন।—আদিপুস্তক ৩:১-৫, ৮-১০.
কিন্তু, যিহোবার আদি উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়নি। বাইবেল উল্লেখ করে যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা একজন প্রেমময় ঈশ্বর যিনি শীঘ্রই বাধ্য মানবজাতির জন্য পৃথিবীকে পরমদেশে পরিণত করবেন আর সেখানে চিরকাল নিরাপদে বাস করার রাস্তা খুলে দেবেন। ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে: “আমি নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি করি; . . . তোমরা তাহাতে চিরকাল আমোদ ও উল্লাস কর।” (যিশাইয় ৬৫:১৭, ১৮) এই নতুন আকাশমণ্ডল ও নতুন পৃথিবী সম্বন্ধে প্রেরিত পিতর বলেন: “যাহার মধ্যে ধার্ম্মিকতা বসতি করে।”—২ পিতর ৩:১৩.
এই সমস্ত কিছু কিভাবে হবে? এমন একটি সরকার এটি করবে যেটি স্বয়ং যিহোবার সরকার। এই রাজ্যের বিষয়েই যীশু খ্রীষ্ট তাঁর অনুসারীদের প্রার্থনা করতে বলেছিলেন: “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ, তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক, তোমার রাজ্য আইসুক, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক, যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক।”—মথি ৬:৯, ১০.
ঈশ্বরের সেই রাজ্য মানব সরকারগুলির জায়গা নেবে আর প্রেমের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ঈশ্বরের উদ্দেশ্যকে পূর্ণ করবে। (দানিয়েল ২:৪৪) আদমের সময় থেকে যে সন্দেহ, ভীতি, লজ্জা, অপরাধ এবং নিরাপত্তার অভাব মানবজাতিকে হয়রান করে এসেছে, সেগুলি দূর হয়ে যাবে। বাইবেল অনুসারে, সেই রাজ্য খুবই কাছে। যারা ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষী তাদের জন্য, এমনকি এখনই এই অনিশ্চিত জগতেও অন্তত কিছুটা নিরাপত্তা লাভ করা সম্ভব।
আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিকে আগে রাখুন
দায়ূদ ঈশ্বরের একজন দাস ছিলেন যিনি আতঙ্ক এবং দুর্দশার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও গীতসংহিতা ৪:৮ পদে দায়ূদ লিখেছিলেন: “আমি শান্তিতে শয়ন করিব, নিদ্রাও যাইব; কেননা, হে সদাপ্রভু তুমিই একাকী আমাকে নির্ভয়ে বাস করিতে দিতেছ।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) দায়ূদ মাঝে মাঝে বিভিন্ন সমস্যার দ্বারা জর্জরিত হলেও, যিহোবা দায়ূদকে নিরাপত্তাবোধ যুগিয়েছিলেন। এর থেকে আমরা কি কিছু শিখতে পারি? এমনকি নিরাপত্তাহীন এই জগতেও কিভাবে আমরা অন্তত কিছুটা নিরাপত্তা লাভ করতে পারি?
আদিপুস্তকের বিবরণ থেকে আদম ও হবার বিষয়টি চিন্তা করুন। কখন তারা তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি হারিয়েছিল? যে মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল আর তারা মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাপন করতে অস্বীকার করছিল, ঠিক তখনই। অতএব, যদি আমরা এর একেবারে উল্টোটা করি, যদি যিহোবার সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করি এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা এখনই অনেক বেশি নিরাপদ জীবন উপভোগ করতে পারি যা অন্য আর কোন উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
বাইবেল অধ্যয়নের মাধ্যমে যিহোবাকে জানা, আমাদেরকে জীবনের অর্থ বুঝতে সাহায্য করে। কেবল তখনই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে আমরা কারা এবং কেন আমরা এখানে রয়েছি। এক নিরাপদ জীবন তখনই সম্ভব যখন আমরা ঈশ্বরকে ভালবাসব, মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানব এবং এই উদ্দেশ্যে আমাদের জায়গা কোথায় তা বুঝব। পল কয়েক বছর আগে এই বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন।
পল, জার্মানির উপকূলবর্তী একটি দ্বীপে জন্ম গ্রহণ করেন এবং বড় হন। তার বাবামা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খুবই দুর্দশা ভোগ করেছিলেন, তাই ধর্মের প্রতি তার পরিবারের কোন আগ্রহই ছিল না। পলের মনে আছে যে যুবক বয়সে তিনি কেমন ছিলেন, তিনি বলেন: “আমি কিছুই বিশ্বাস করতাম না বা কাউকে সম্মান করতাম না। আমার দুঃখ ভোলার জন্য আমি মদের নেশায় ডুবে থাকতাম, এক সপ্তার মধ্যেই দুই তিনবার অত্যধিক পরিমাণে মদ খেতাম। আমার জীবনের কোন নিরাপত্তাই ছিল না।”
এরপর পল একজন যিহোবার সাক্ষীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। পল অনেক তর্ক করেছিলেন কিন্তু সেই সাক্ষীর একটি কথা তাকে ভাবিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন “প্রকৃতিতে কোন কিছুই এমনি এমনি হয়ে যায় না।” অন্য কথায়, আমাদের চারপাশে আমরা যা কিছু দেখি সেগুলির একজন সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছেন।
“বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক চিন্তা করেছিলাম এবং আমাকে তার সঙ্গে একমত হতেই হয়েছিল।” ফলে পল যিহোবার সাক্ষীদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করেছিলেন এবং যিহোবাকে জানতে পেরেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন: “বাবামা বাদে যিহোবাই হলেন আমার জীবনে প্রথম ব্যক্তি, যিনি আমার জন্য কিছু করেছিলেন।” পল ১৯৭৭ সালে বাপ্তিস্ম নিয়ে সাক্ষী হয়েছিলেন এবং তিনি বলেন: “এখন আমি জানি জীবনের আসল উদ্দেশ্য কী। যিহোবার ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করতে আমার ভাল লাগে। আমি নিরাপদ বোধ করি কারণ আমার ও আমার পরিবারের প্রতি এমন কিছুই ঘটবে না, যা ভবিষ্যতে যিহোবার পক্ষে দূর করা অসাধ্য।”
এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখতে পারি? পল টাকা-পয়সা দিয়ে নয় বরং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিকে মনেপ্রাণে নিজের করে নিয়ে তার নিরাপত্তার অভাব, তার মনের বোঝাকে লাঘব করেছিলেন। তিনি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে এক অটল সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। লক্ষ লক্ষ যিহোবার সাক্ষীরা একইরকম সম্পর্ক উপভোগ করে থাকেন। এটি তাদের মধ্যে এমন এক শক্তি যোগায় যা অন্যদের সঙ্গে আচরণের সময় স্বার্থপরতাকে তাদের মাঝখানে আসতে দেয় না। যিহোবার সাক্ষীরা লোকেদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের নিজেদের সময় ব্যয় করে লোকেদের সাহায্য করেন এবং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলির উপর তাদের মনোযোগ নিয়ে আসতে সাহায্য করার দ্বারা তারা অন্য লোকেদের জীবনকে বেশি নিরাপদ করে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাক্ষীরা কেবল প্রচার করার চেয়েও আরও বেশি কিছু করে থাকেন।
‘আপনাদের ঈশ্বর যিহোবাকে ডাকুন’
১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে ওডের নদীর জল যখন উত্তর ইউরোপের এক বড় অঞ্চলকে প্লাবিত করেছিল, তখন জার্মানির যিহোবার সাক্ষীরা পার্শ্ববর্তী দেশ পোল্যান্ডের অবস্থা সম্বন্ধে শুনেছিলেন। তারা কী করেছিলেন? বার্লিন ও এর আশেপাশের যিহোবার সাক্ষীরা, চমৎকার উদারতা দেখিয়েছিলেন আর স্বেচ্ছায় অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ১,১৬,০০০ মার্কিন ডলারেরও বেশি দান দিয়েছিলেন।
যে সাক্ষীরা নির্মাণ কাজে দক্ষ ছিলেন তারা—নিজেদের খরচে—ছয় ঘন্টার পথ, বার্লিন থেকে পোল্যান্ডের রক্লো অঞ্চলে গিয়েছিলেন। একটি ছোট শহরে, অনেক বাড়ি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একজন সাক্ষীর ঘরে ছয় মিটার জল উঠেছিল। আর তাদের মেয়ে পরের মাসেই বিয়ে হওয়ার ও তার স্বামীর সঙ্গে সেই ঘরেতেই থাকার কথা ছিল। ঘরটি মেরামত এবং সেই পরিবারকে সাহায্যের জন্য কী করা যেতে পারত যারা তাদের প্রায় সমস্ত কিছু হারিয়েছিলেন?
বন্যার জল কমে গেলে, একজন প্রতিবেশী বিদ্রূপ করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “কেন আপনারা আপনাদের ঈশ্বর যিহোবার নামে ডাকছেন না, ডেকেই দেখুন না তিনি সাহায্য করেন কি না?” এর পরের দিনই যখন কয়েকটি মোটর গাড়ি জার্মানি থেকে সেই সাক্ষী পরিবারের ঘরে এসে পৌঁছেছিল, তা দেখে সেই প্রতিবেশী কত আশ্চর্যই না হয়েছিলেন! বেশ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি ওই গাড়িগুলি থেকে নেমে আসেন আর বাড়ি মেরামত করতে শুরু করেন। “এই লোকেরা কারা? সমস্ত খরচ কারা যোগাচ্ছে?” প্রতিবেশী জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সাক্ষী পরিবারটি বলেছিলেন যে এরা তাদের আধ্যাত্মিক ভাই এবং তারাই ঘরটি সারানোর সমস্ত খরচ দিয়েছেন। ঘরটিকে সারানোর সময় ওই শহরের লোকেরা অবাক হয়ে তা দেখেছিলেন। আর আনন্দের বিষয় যে মেয়ের বিয়ে পূর্বপরিকল্পিত সেই তারিখেই হয়েছিল।
এই পরিবার জেনেছে যে যিহোবার সাক্ষীদের আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃসমাজের অংশ হওয়ার ফলে কেবল আধ্যাত্মিক উপকারই নয় কিন্তু এই অনিরাপদ জগতে অনেক নিরাপত্তাও পাওয়া যায়। শুধু এই পরিবারটিই এটি অভিজ্ঞতা করেছেন এমন নয়। বিধ্বস্ত এলাকার অনেক ঘর ও যিহোবার সাক্ষীদের কিংডম হল মেরামত করা হয়েছিল। আর ন-সাক্ষী প্রতিবেশীরাও বাদ পড়েননি। তাদের অনেক ঘরেও অনেক কাজ করে দেওয়া হয়েছিল আর তারজন্য তারা খুবই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
ধার্মিকতা, সুস্থিরতা এবং নিরাপত্তা
যখন জ্বর ভাল হয়ে যায় আর শরীর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়, আমরা চিকিৎসকের প্রতি কত কৃতজ্ঞই না হই যিনি আমাদের সেরে উঠতে সাহায্য করেছেন! তাই যখন নিরাপত্তার অভাবের জ্বর যা সমস্ত পৃথিবীকে কষ্ট দিচ্ছে—ঈশ্বরের রাজ্যের মাধ্যমে—চিরকালের জন্য শেষ হয়ে যাবে, তখন আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি কত কৃতজ্ঞই না হব! হ্যাঁ, তিনিই আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তিনি আমাদের “চিরকালের জন্য সুস্থিরতা ও নিঃশঙ্কতা ধার্ম্মিকতার” জীবন দেবেন। আমাদের জন্য কত চমৎকার এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে!—যিশাইয় ৩২:১৭.
[১০ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]
আমরা টাকা-পয়সা দিয়ে নয় বরং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিকে মনেপ্রাণে নিজের করে নিয়ে মনের বোঝাকে লাঘব করতে পারি
[৮, ৯ পৃষ্ঠার চিত্র]
ঈশ্বর এক নতুন জগতের বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করেন, যেখানে আমরা সকলে স্থায়ী নিরাপত্তায় বাস করব