ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৮ ৭/৮ পৃষ্ঠা ২২-২৫
  • ডেঙ্গু—এক কামড়েই জ্বর

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ডেঙ্গু—এক কামড়েই জ্বর
  • ১৯৯৮ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ডেঙ্গু কী?
  • “বিশ্বের জনসংখ্যার দুই পঞ্চমাংশ” ঝুঁকির মুখে
  • ডিএইচএফ এর নির্দিষ্ট বিপদগুলি
  • আপনার পরিবারকে রক্ষা করা
  • প্রতিরোধের উপায়গুলি
  • কেন এই পুনরুদয়?
    ২০০৩ সচেতন থাক!
  • পোকামাকড় বাহিত রোগব্যাধি বৃদ্ধিরত এক সমস্যা
    ২০০৩ সচেতন থাক!
  • আপনার বাচ্চার যখন জ্বর হয়
    ২০০৪ সচেতন থাক!
  • ম্যালেরিয়া সম্বন্ধে আপনার যা জানা উচিত
    ২০১৫ সচেতন থাক!
১৯৯৮ সচেতন থাক!
g৯৮ ৭/৮ পৃষ্ঠা ২২-২৫

ডেঙ্গু—এক কামড়েই জ্বর

ফিলিপাইনের সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক

ছোট্ট মেয়েটির হাতের উপর যে একটি মশা বসেছে তা কেউই লক্ষ্য করেননি। পতঙ্গটি দ্রুত তার চামড়াকে সূক্ষ্মরূপে ছিদ্র করে ফেলে এবং প্রবাহিত রক্তে মৃদু আঘাত করে। কয়েক মুহূর্ত পর, মা তার মেয়ের দিকে এক ঝলক তাকান আর মশাটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাড়িয়ে দেওয়ার ফলে সেটি চলে যায়। এখানেই কি শেষ? সম্ভবত নয়। মশাটি হয়ত চলে যেতে পারে কিন্তু শিশুটির প্রবাহিত রক্তে ক্ষণিক আক্রমণের ফলে রোগ উদ্রেককারী অপ্রত্যাশিত জীবাণু এটি রেখে গিয়েছে।

দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশুটি সর্দিকাশি, মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, গিঁটে প্রচণ্ড ব্যথা ও প্রচণ্ড জ্বরে ভুগতে থাকে। অসুস্থতা যতই গুরুতর হয়, তার শরীরে লাল লাল ছোট ফুসকুড়ির মত হয় ও সে সম্পূর্ণরূপে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তার ডেঙ্গু হয়েছে, একটি মশার কামড় থেকেই এই জ্বর।

কিন্তু, শিশুটির যদি বিশেষভাবে আগেই ডেঙ্গু সংক্রামক রোগ থাকত তবে সে হয়ত আরও অধিক গুরুতর প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত হত যেটিকে বলা হয় ডেঙ্গু রক্তক্ষরণজনিত জ্বর (ডিএইচএফ)। এটি কৈশিক শিরাগুলিকে ছিদ্র করে ফেলে যার দরুন চামড়ায় রক্তক্ষরণ হয়। অন্তঃদেশেও রক্তপাত হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা ছাড়া, রোগী হয়ত রক্ত চলাচলে গোলযোগ এবং সংবহন নিষ্ক্রিয়তা ভোগ করতে পারেন যা দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

ডেঙ্গু আসলে কী? এটি কি আপনাকে ক্ষতি করতে পারে? আপনি কিভাবে নিজেকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে পারেন? আসুন আমরা এক নিবিড় দৃষ্টি দিই।

ডেঙ্গু কী?

ডেঙ্গু, যেটিকে ডেঙ্গুপ্তরও বলা হয় তা হল মশার কামড় থেকে উদ্ভূত অনেক রোগের মধ্যে একটি। রোগটির প্রকৃত কারণ হল এক প্রকারের ভাইরাস। একটি সংক্রামিত মশা (যেটি ইতিমধ্যেই এক ডেঙ্গু রোগীকে কামড়েছে) এর লালাগ্রন্থিতে এই ভাইরাসটি বহন করে। রক্ত পান করার জন্য একজন ব্যক্তিকে কামড় দেওয়ার সময় এটি মানুষের মধ্যে ভাইরাসটিকে প্রবাহিত করে।

চার প্রকারের ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে। এক প্রকার ভাইরাসের সংক্রমণ অন্য তিন প্রকারের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে না। একবার সংক্রমণের পর, সংক্রামিত ব্যক্তিকে যদি অন্য প্রকার ভাইরাস বহনকারী মশা কামড় দেয় তবে এর ফলে ডিএইচএফ হতে পারে।

“বিশ্বের জনসংখ্যার দুই পঞ্চমাংশ” ঝুঁকির মুখে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুএইচও) অনুসারে, ডেঙ্গু ২৫০ কোটি লোক অর্থাৎ, “বিশ্বের জনসংখ্যার দুই পঞ্চমাংশ লোকেদের” জন্য হুমকিস্বরূপ। এশিয়াউইক বিবৃতি দিয়েছিল: “১০০টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ ডেঙ্গু প্রার্ভোব সম্বন্ধে জানায় আর প্রতি বছর এভাবে আক্রান্ত হওয়ার কোটি কোটি রিপোর্ট রয়েছে যাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই শিশুরা সংক্রামিত হচ্ছে।”

বিশ্বের প্রেক্ষাপটে কখন প্রথম ডেঙ্গু শনাক্তিকৃত হয়েছিল সেই বিষয়টি অস্পষ্ট। ১৭৭৯ সালে কায়রোর “নী ফিভার” এর উপর বিবৃতিটি হয়ত আসলে ডেঙ্গু সম্বন্ধে উল্লেখ করেছিল। সেই সময় থেকেই ডেঙ্গু বিশ্বের নজরে আসে। বিশেষভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মানব স্বাস্থ্যের উপর ডেঙ্গু এক লক্ষণীয় প্রভাব ফেলছে, যা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন প্রকারের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল আর এটিই অধিক বিপদজনক প্রকৃতির রক্তক্ষরণের দিকে পরিচালিত করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রকাশনা বলে: “এশিয়ায় রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের প্রার্ভোব প্রকৃতপক্ষে প্রথমে ১৯৫৪ সালে ম্যানিলায় শনাক্তিকৃত হয়েছিল।” এরপর অন্যান্য দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষভাবে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিতে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর প্রাথমিক প্রার্ভোবের সময় মৃত্যুর হার ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ছিল কিন্তু এই রোগটি সম্বন্ধে যতই জানা গিয়েছিল ততই এর হার কমে এসেছিল।

১৯৬০ এর দশক থেকে, এই ভাইরাস বহনকারী মশাকে ধ্বংস করার কাজে শিথিলতা ডেঙ্গুর বৃদ্ধিতে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিএইচএফ-ও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৭০ সালের আগে কেবল ৯টি দেশে এই মহামারীটি ছিল কিন্তু ১৯৯৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা ৪১টিতে পৌঁচেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হিসাব করে যে বাৎসরিক ৫,০০,০০০ জন ডিএইচএফ আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাইরে রোগটি কম পরিচিত হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পর্যটকগণ যেখানে এটি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে ভ্রমণ করার দরুণ সংক্রামিত হয়ে পড়েছেন এবং তাদের সঙ্গে রোগটিকে নিজেদের দেশে বহন করে এনেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৬ সালের শেষের দিকে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের—ম্যাসাচুসেটসে, নিউ ইয়র্ক, ওরিগোন ও টেক্সাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছিল।

ডিএইচএফ এর নির্দিষ্ট বিপদগুলি

পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিএইচএফ হল ডেঙ্গুর জীবন-সংশয়কারী রূপ। ডিএইচএফ এর একটি বিপদ হল যে লোকেরা ভুলভাবে এটিকে এতটা গুরুতর বলে মনে করেন না। অনেকে এটিকে সর্দি-জ্বর ভেবে ভুল করেন। কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়ায় দেরি করা হয়ত রোগটিকে আরও গুরুতর অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে যখন রক্তের মোট অনুচক্রিকাগুলি প্রচণ্ডভাবে প্রশমিত হতে থাকে, রক্তক্ষরণ শুরু হয় (অভ্যন্তরে অথবা দাঁতের মাঢ়ী, নাক অথবা চামড়া দিয়ে) এবং রক্তের চাপ কমে যায়। রোগী হয়ত সম্পূর্ণরূপে নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারেন। আত্মীয়েরা যখন বুঝতে পারেন যে অবস্থা গুরুতর, তখন তিনি ইতিমধ্যেই কঠিন সংকটজনক অবস্থায় চলে গিয়েছেন। তারা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দেখতে পান যে তিনি ইতিমধ্যেই রক্তসংবহন নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছেন। আশংকাজনক অবস্থার কারণে শিরার মধ্যে দিয়ে তরল পদার্থ প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আপনার পরিবারকে রক্ষা করা

এই রোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য কী করা যেতে পারে? পরিবারটি যদি এমন একটি জায়গায় বাস করে যেখানে ডেঙ্গু বিদ্যমান এবং পরিবারের কোন সদস্য একদিনের বেশি স্থায়ী প্রচণ্ড জ্বরে ভোগেন তবে বিজ্ঞতার সঙ্গে পরিবারটি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যদি অসুস্থ ব্যক্তিটির মধ্যে ডেঙ্গুর অন্যান্য লক্ষণগুলি দেখা যায় যেমন, ছোট ছোট ফুসকুড়ি, পেশীতে ও ব্ধগটে অথবা চোখের পিছনে ব্যথা হয়।

চিকিৎসক হয়ত রক্ত পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন। অরক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গুর জন্য হয়ত সাধারণ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা যদি ডিএইচএফ হয়েছে বলে শনাক্ত করে তবে চিকিৎসক হয়ত সযত্নে তরল পদ্ধতির সুপারিশ করতে পারেন। এর অন্তর্ভুক্ত হয়ত তরল মৌখিক রিহাইড্রেশন দ্রবণগুলি যেগুলি ডায়ারিয়া হলে ব্যবহার করা হয় অথবা অধিক গুরুতর অবস্থায় রিঙ্গারের দ্রবণ, স্যালাইন দ্রবণ এবং আরও অন্যান্য কিছু ব্যবহার করে শিরার অভ্যন্তরে তরল পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। আশংকাজনক অবস্থায়, চিকিৎসকেরা হয়ত রক্ত চাপ বৃদ্ধি এবং অনুচক্রিকা স্তরকে পুনর্স্থাপন করার জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।

যদি লক্ষণীয়ভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকে তবে চিকিৎসকেরা হয়ত রক্তগ্রহণের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কেউ কেউ হয়ত বিকল্প ব্যবস্থা সম্বন্ধে বিবেচনা করা ছাড়াই দ্রুত এটি সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু ঈশ্বরের আইনের বিরুদ্ধে যাওয়া ছাড়াও এটি সাধারণত অপ্রয়োজনীয়। (প্রেরিত ১৫:২৯) অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে রোগটির শুরু থেকেই, তরল পদার্থ ক্রমাগতভাবে দিতে থাকার ব্যবস্থা চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সহযোগিতা রক্তগ্রহণের বিষয়টির সম্মুখীন হওয়া এড়াতে সাহায্য করবে। এই সমস্তকিছুই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বের উপর জোর দেয় যখন একজন ব্যক্তি ডিএইচএফ হয়েছে বলে সন্দেহ করে থাকেন।—“লক্ষণগুলি কী?” নামক বাক্সটি দেখুন।

প্রতিরোধের উপায়গুলি

ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বহনকারীদের মধ্যে একটি হল এইডিস এইজিপ্‌টি মশা। এই প্রজাতিটিকে বিশ্বের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলিতে সচরাচর দেখা যায়। (সঙ্গের মানচিত্রটি দেখুন।) এইডিস এইজিপ্‌টি মশাগুলি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় বংশবৃদ্ধি করে। রোগ নিয়ন্ত্রণ করার চাবিকাঠির মধ্যে একটি হল মশা ধ্বংস করা।

বিশ্বব্যাপী মশা ধ্বংস করা সহজ কাজ নয়। তবুও কিছু বিষয় রয়েছে যা আপনি আপনার বাড়ির চতুর্দিকে ঝুঁকি কমানোর জন্য করতে পারেন। স্ত্রী মশা জলে ডিম ছাড়ে। এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় জল ধরে রাখে এমন যে কোন আধারেই শূককীট বেঁচে থাকতে পারে, যেমন পরিত্যক্ত রবারের চাকা, ফেলে দেওয়া পাত্র, বোতল অথবা খোলা নারকেলের খোল। এইধরনের পাত্রগুলি পরিষ্কার করা মশার বংশবৃদ্ধির স্থানকে ধ্বংস করবে। এছাড়াও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, আপনি যেন আপনার বালতি বা নৌকার উপরের ভাগটি নিচের দিক উপুড় করে রাখেন। এছাড়াও গর্তে জমে থাকা জল জমে থাকতে না দেওয়াও সাহায্য করবে। আগ্রহের বিষয় যে, ১৯৯৭/১৯৯৮ বিদ্যালয় বছরের শুরুতে, ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগ এই কারণে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ফুলের টব ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করেছে।

গৃহে কেউ যদি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তিনি যেন অন্য মশার কামড় এড়াতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিন, নতুবা তা অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে। যথার্থরূপে পর্দা আচ্ছাদিত অথবা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অট্টালিকাও একটি সুরক্ষা হতে পারে।

প্রতিষেধক সম্বন্ধে কী বলা যায়? উপযুক্ত প্রতিষেধক এখনও প্রাপ্তিসাধ্য হয়নি। একটি প্রতিষেধক তৈরি করার জন্য গবেষণা করা হচ্ছে কিন্তু এই কারণে এটি জটিল যে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধের জন্য চার প্রকারের ডেঙ্গুর আক্রমণকেই প্রতিরোধ করার প্রয়োজন হবে। এক প্রকার ভাইরাসের জন্য প্রতিষেধক প্রকৃতপক্ষে ডিএইচএফ এর ঝুঁকিকে বৃদ্ধি করতে পারে। তবে গবেষকগণ আশাবাদী যে পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে তারা কার্যকারী প্রতিষেধক পেয়ে যাবেন।

কিছু গবেষক অন্যভাবে চেষ্টা করছেন। জীনতাত্ত্বিক প্রকৌশলী বিদ্যা ব্যবহার করে তারা মশার লালায় ডেঙ্গু ভাইরাসের বৃদ্ধি রোধ করতে পারবেন বলে আশা করেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি কাজ হয়, তবে এইধরনের জীনতাত্ত্বিক প্রকৌশল পদ্ধতিতে মশাগুলি ডেঙ্গু প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে তাদের বংশধরদের মধ্যে প্রবাহিত করবে। যদিও কিছু উন্নতি হয়েছে কিন্তু এটি কতটা সফল হবে তা দেখার বিষয়।

বর্তমানে ডেঙ্গুকে সমূলে ধ্বংস করা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবসম্মত পূর্বসতর্কতা গ্রহণ আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনকে ডেঙ্গু অর্থাৎ একটি কামড় থেকেই জ্বরের জীবন-সংশয়কারী জটিলতাগুলি এড়াতে সাহায্য করবে।

[২৩ পৃষ্ঠার বাক্স]

লক্ষণগুলি কী?

ডেঙ্গু জ্বর ও ডেঙ্গু রক্তক্ষরণজনিত জ্বর (ডিএইচএফ) উভয় রোগের লক্ষণগুলি

• হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর

• প্রচণ্ড মাথাব্যথাa

• চোখের পিছনে ব্যথা

• ব্ধগট ও পেশীতে ব্যথা

• লসিকা গ্রন্থিগুলির স্ফীতি

• ছোট ছোট ফুসকুড়ি

• কর্মশক্তি লোপ

ডিএইচএফ এর সাধারণ লক্ষণগুলি

• অকস্মাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়া

• চামড়ায় রক্তক্ষরণ

• সাধারণ রক্তক্ষরণ

• শীতল, সেঁতসেঁতে চামড়া

• অস্থিরতা

• দুর্বল নাড়ীজনিত আঘাত (ডেঙ্গু আঘাতের লক্ষণ)

লক্ষণগুলি দেখা গেলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করবেন না। বিশেষভাবে সন্তানেরা ঝুঁকির সম্মুখীন

[পাদটীকা]

a চিকিৎসাবিদ্যা কর্তৃপক্ষগণ অ্যাস্‌পিরিন সেবন এড়াতে বলেন কারণ এটি হয়ত রক্তক্ষরণের প্রকোপ বৃদ্ধি করতে পারে

[২৪ পৃষ্ঠার বাক্স]

পর্যটকদের জন্য পরামর্শ

কখনও কখনও, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে পরিদর্শনকারী পর্যটকগণ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন কিন্তু ডেঙ্গু রক্তক্ষরণজনিত জ্বর কদাচিৎ ঘটে কারণ এটি সাধারণত দ্বিতীয় ডেঙ্গু সংক্রমণের পর হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য এখানে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হল:

• লম্বাহাতা শার্ট ও লম্বা প্যান্ট পরুন

• মশা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করুন

• অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে বাস করুন

• এমন বাসস্থানে বাস করুন যেখানে আপনি জানালা বন্ধ করতে ও মশাগুলি বের করতে পারবেন

• দেশে ফেরার পর যদি আপনার জ্বর আসে তবে কোথায় গিয়েছিলেন তা চিকিৎসককে বলুন

[২৪ পৃষ্ঠার মানচিত্র/চিত্র]

সারিবদ্ধ এইডিস এইজিপ্‌টি মশা, একটি ডেঙ্গু বহনকারী মশা

ডেঙ্গু বিদ্যমান সাম্প্রতিক অঞ্চলগুলি

ডেঙ্গু মহামারীর ঝুঁকির সম্মুখীন এলাকাগুলি

[সজন্যে]

উৎস: Centers for Disease Control and Prevention, 1997

© Dr. Leonard E. Munstermann/Fran Heyl Associates, NYC

[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

সম্ভাব্য বংশবৃদ্ধির স্থানগুলি হল (১) পরিত্যক্ত রবারের চাকা, (২) বৃষ্টির জলপূর্ণ গর্ত, (৩) ফুলের টব, (৪) বালতি অথবা অন্যান্য পাত্রগুলি, (৫) ফেলে দেওয়া পাত্র, (৬) পীপা

[২২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

© Dr. Leonard E. Munstermann/Fran Heyl Associates, NYC

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার